প্রক্রিয়াজাত খাবার বাড়াচ্ছে কিডনি স্টোনের ঝুঁকি

বর্তমান যুগে ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রচলন যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে কিডনি স্টোন বা কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত পানি পান না করা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও কিছু নির্দিষ্ট খাবারের অতিরিক্ত গ্রহণ কিডনিতে পাথর তৈরি হওয়ার অন্যতম কারণ। কিডনিতে পাথর হলে যন্ত্রণা এতটাই তীব্র হতে পারে যে, তা অনেক সময় সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায়।
ভারতের ল্যাপারোস্কোপি সার্জন ডা. উৎকর্ষ গুপ্ত জানিয়েছেন, দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন এনে এই কষ্টদায়ক রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব। বিশেষ করে এমন কিছু খাবার রয়েছে যা কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়—
প্রথমত, অক্সালেটসমৃদ্ধ খাবার যেমন বাঁধাকপি, বিট, রাঙা আলু, ঢেঁড়শ ও বাদাম। এসব খাবারের অক্সালেট ক্যালশিয়ামের সঙ্গে মিশে পাথর তৈরি করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত মাছ-মাংস খাওয়া, বিশেষ করে রেড মিট, মুরগি ও ফ্যাটযুক্ত মাছ। এগুলো ইউরিক অ্যাসিড এবং প্রস্রাবে ক্যালশিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়।
তৃতীয়ত, বেশি লবণ খাওয়া। লবণ মাখানো বাদাম, আচার, চিপস বা রেস্টুরেন্টের খাবারে থাকা অতিরিক্ত সোডিয়াম কিডনিকে বেশি ক্যালশিয়াম তৈরি করতে বাধ্য করে, ফলে পাথরের ঝুঁকি বাড়ে।
চতুর্থত, মিষ্টি পানীয় যেমন কোক, ফলের জুস ও এনার্জি ড্রিঙ্ক। এতে থাকা ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপ ক্যালশিয়াম জমিয়ে পাথর তৈরি করে।
পঞ্চমত, ক্যাফেইন ও মদ্যপান। চা, কফি বেশি খেলে শরীরের আর্দ্রতা কমে যায়, মদ্যপানের ক্ষেত্রেও একই প্রভাব দেখা যায়।
ষষ্ঠত, অতিরিক্ত ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ। প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন সি অক্সালেটের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
সবশেষে, পর্যাপ্ত পানি পান না করা। দিনে অন্তত ২-৩ লিটার পানি পান করলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।
তাই কিডনি সুস্থ রাখতে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত পানি পান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সচেতন জীবনযাপনই কিডনি স্টোনের মতো যন্ত্রণাদায়ক রোগ থেকে রক্ষার সেরা উপায়।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








