প্রক্রিয়াজাত খাবার বাড়াচ্ছে কিডনি স্টোনের ঝুঁকি

বর্তমান যুগে ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রচলন যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে কিডনি স্টোন বা কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত পানি পান না করা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও কিছু নির্দিষ্ট খাবারের অতিরিক্ত গ্রহণ কিডনিতে পাথর তৈরি হওয়ার অন্যতম কারণ। কিডনিতে পাথর হলে যন্ত্রণা এতটাই তীব্র হতে পারে যে, তা অনেক সময় সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায়।

ভারতের ল্যাপারোস্কোপি সার্জন ডা. উৎকর্ষ গুপ্ত জানিয়েছেন, দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন এনে এই কষ্টদায়ক রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব। বিশেষ করে এমন কিছু খাবার রয়েছে যা কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়—

প্রথমত, অক্সালেটসমৃদ্ধ খাবার যেমন বাঁধাকপি, বিট, রাঙা আলু, ঢেঁড়শ ও বাদাম। এসব খাবারের অক্সালেট ক্যালশিয়ামের সঙ্গে মিশে পাথর তৈরি করতে পারে।

দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত মাছ-মাংস খাওয়া, বিশেষ করে রেড মিট, মুরগি ও ফ্যাটযুক্ত মাছ। এগুলো ইউরিক অ্যাসিড এবং প্রস্রাবে ক্যালশিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়।

তৃতীয়ত, বেশি লবণ খাওয়া। লবণ মাখানো বাদাম, আচার, চিপস বা রেস্টুরেন্টের খাবারে থাকা অতিরিক্ত সোডিয়াম কিডনিকে বেশি ক্যালশিয়াম তৈরি করতে বাধ্য করে, ফলে পাথরের ঝুঁকি বাড়ে।

চতুর্থত, মিষ্টি পানীয় যেমন কোক, ফলের জুস ও এনার্জি ড্রিঙ্ক। এতে থাকা ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপ ক্যালশিয়াম জমিয়ে পাথর তৈরি করে।

পঞ্চমত, ক্যাফেইন ও মদ্যপান। চা, কফি বেশি খেলে শরীরের আর্দ্রতা কমে যায়, মদ্যপানের ক্ষেত্রেও একই প্রভাব দেখা যায়।

ষষ্ঠত, অতিরিক্ত ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ। প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন সি অক্সালেটের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

সবশেষে, পর্যাপ্ত পানি পান না করা। দিনে অন্তত ২-৩ লিটার পানি পান করলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

তাই কিডনি সুস্থ রাখতে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত পানি পান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সচেতন জীবনযাপনই কিডনি স্টোনের মতো যন্ত্রণাদায়ক রোগ থেকে রক্ষার সেরা উপায়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে পিঠ ও কোমরের ব্যথা

আজকের ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনযাপনে পিঠ ও কোমরের ব্যথা অনেকের জন্যই নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে যেখানে এই সমস্যা মূলত বয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন তা ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণদের মাঝেও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা, মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার, এবং একই ভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় কাজ করার ফলে মেরুদণ্ড ও পিঠের পেশিতে অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়ে, যা ধীরে ধীরে ব্যথা ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যার জন্ম দেয়।

বিশেষজ্ঞরা জানান, একই ভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় বসে থাকা শুধু কোমর ও পিঠ নয়, চোখ, ঘাড় ও পুরো শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এতে রক্ত সঞ্চালন ধীর হয়ে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও মানসিক চাপের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই ঝুঁকি থেকে বাঁচতে নিয়মিত বিরতিতে উঠে হাঁটা, স্ট্রেচিং করা এবং সঠিক ভঙ্গিতে বসা অপরিহার্য।

চেয়ারে বসার সময় মেরুদণ্ড সোজা রাখা, হাঁটু ৯০ ডিগ্রিতে বাঁকানো এবং পা মেঝেতে সমানভাবে রাখা উচিত। পিঠের নিচে একটি ছোট বালিশ ব্যবহার করলে চাপ কমে। ভুলভাবে বসা, দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে থাকা, শারীরিক ব্যায়ামের অভাব, ভারী ওজন তোলা, এবং হঠাৎ ঝুঁকে কাজ করা—এসব অভ্যাস কোমর ও পিঠের ব্যথা আরও বাড়িয়ে দেয়।

মেঝেতে বসার অভ্যাসও অনেক সময় উপকারী হতে পারে। পাতলা চাদর ব্যবহার করে বসলে মেরুদণ্ডের চাপ কমে এবং পিঠের পেশি স্বাভাবিকভাবে প্রসারিত হয়। প্রতিদিন অন্তত ১০-১৫ মিনিট মেরুদণ্ডের ব্যায়াম করাও কার্যকর। যেমন—ক্যাট-কাউ স্ট্রেচ মেরুদণ্ডের নমনীয়তা বাড়ায়, চাইল্ড’স পোজ পেশি শিথিল করে, এবং ব্রিজ এক্সারসাইজ কোমরের পেশি শক্তিশালী করে।

ভারী কিছু তুলতে হলে পিঠ বাঁকানোর পরিবর্তে হাঁটু ভেঙে তুলতে হবে এবং জিনিস শরীরের কাছাকাছি রাখতে হবে। দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র ব্যথার ক্ষেত্রে অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে এমআরআই করে সমস্যার উৎস নির্ণয় করা যেতে পারে।

এ ছাড়া প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে হাঁটা, স্ক্রিন চোখের সমান উচ্চতায় রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ—এসব অভ্যাস শুধু কোমর ও পিঠ নয়, পুরো শরীরের জন্য উপকারী।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোলায় ৮ মাসে পানিতে ডুবে ১২০ শিশুর মৃত্যু

ভোলায় চলতি বছরের প্রথম আট মাসে পানিতে ডুবে ১২০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছরই পরিবারের অসচেতনতায় প্রায় ২০০ শিশুর মৃত্যু হয়, তবে এ বছর আগস্টের আগেই প্রাণ হারিয়েছে এত শিশু।

উপজেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়— চরফ্যাশনে ৩৭ জন, ভোলা সদর উপজেলায় ২৬ জন, বোরহানউদ্দিনে ২৪ জন, লালমোহনে ১২ জন, তজুমদ্দিনে ১০ জন, মনপুরায় ৮ জন এবং দৌলতখানে ৩ জন শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে। বর্ষা মৌসুমে নদী-নালা ও পুকুর পানিতে পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় শিশুরা খেলার ছলে পানির ধারে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

শিশু বিশেষজ্ঞরা জানান, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে এসব দুর্ঘটনা বেশি ঘটে, কারণ এসময় অভিভাবকরা রান্না বা ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকেন। এ সময় শিশুদের সরাসরি তত্ত্বাবধান জরুরি। সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, বাড়ির পাশের পুকুরে জাল বা বাঁশের বেড়া দেওয়া, শিশুদের বয়স ৪-৫ বছর হলেই সাঁতার শেখানো—এগুলোই মৃত্যুহার কমানোর কার্যকর উপায়।

শিশুমৃত্যু রোধে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ভোলায় ৫০টি সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু হয়েছে, যেখানে ২০ হাজার শিশুকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশিক্ষকরা দাবি করেছেন, মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই শিশুরা মৌলিক সাঁতার দক্ষতা অর্জন করে, যা ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়।

এদিকে, শিশু রাইসা (৮), খাদিজা (৩) ও রেদোয়ান (৫)-এর মতো হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলো পরিবারগুলোকে শোকাহত করেছে এবং সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ব্যায়ামে কমে ক্যানসারের ঝুঁকি

নিয়মিত ব্যায়াম শুধু দেহকে সুস্থ রাখে না, বরং ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার একদল বিজ্ঞানীর সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, মাত্র একবারের শরীরচর্চাও ক্যানসার কোষের বৃদ্ধির হার কমিয়ে দিতে সক্ষম। তাদের গবেষণা অনুযায়ী, এক সেশন ব্যায়াম ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি অন্তত ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যায়ামের এই উপকারিতা শুধুমাত্র স্তন বা ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ক্ষেত্রেই নয়, বরং কোলন ক্যানসারের ঝুঁকিও কমিয়ে আনে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ক্যানসার সম্মেলনে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্টেজ ২ ও ৩ কোলন ক্যানসারের রোগীদের মধ্যে যারা অপারেশন ও কেমোথেরাপির পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা করেছেন, তাদের পুনরায় ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অন্যদিকে যারা ব্যায়াম করেননি, তাদের ক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তির হার তুলনামূলক বেশি ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, কোষকে সুস্থ রাখে এবং একাধিক ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস করে। এ কারণে ক্যানসার রোগীসহ সুস্থ ব্যক্তিদেরও দৈনন্দিন জীবনে ব্যায়াম অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়, রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং (RT) ও হাই-ইন্টেনসিটি ইন্টারভ্যাল ট্রেনিং (HIIT) ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিংয়ের মধ্যে ডাম্ববেল, কেটলবেল, ভারোত্তোলন, স্কোয়াট, পুশ-আপ, প্ল্যাঙ্ক ও বাইসেপস কার্লের মতো ব্যায়াম অন্তর্ভুক্ত। অপরদিকে HIIT ব্যায়ামে স্বল্প সময়ে তীব্র শরীরচর্চা ও সংক্ষিপ্ত বিশ্রামের সংমিশ্রণ থাকে—যেমন ৩০ সেকেন্ড জাম্পিং জ্যাকের পর ১৫ সেকেন্ড বিশ্রাম, তারপর ৩০ সেকেন্ড বার্পি।

বিশেষজ্ঞরা সুপারিশ করেছেন, সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ২০-৩০ মিনিট ব্যায়াম করতে হবে। এই অভ্যাস শুধু শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



উজিরপুরে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় শিক্ষক নিহত

বরিশালের উজিরপুরে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৮ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বামরাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আবু তালেব (৪৫) উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের কালিহাতা মাহমুদিয়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর উজিরপুর উপজেলা শাখার কর্মপরিষদের সদস্যও ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবু তালেব নিজ বাড়ি মোড়াকাঠী গ্রাম থেকে মোটরসাইকেলে করে জুমার নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন। বামরাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে একটি বেপরোয়া গতির মাইক্রোবাস তার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের কর্মস্থলের অধ্যক্ষ মাওলানা মুখতার হোসাইন জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে ঘাতক মাইক্রোবাসটি আটক করেছেন। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





২০ বছর পার হলে একবার কোলেস্টেরল পরীক্ষা করান: হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে ডাক্তারদের পরামর্শ

কোলেস্টেরল শরীরের জন্য একধরনের প্রয়োজনীয় লিপিড বা চর্বি, যা কোষের গঠন বজায় রাখা, হরমোন উৎপাদন ও লিভারে পিত্তরস তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তা হতে পারে নীরব ঘাতক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ মাত্রার এলডিএল (LDL) বা ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ধমনী ব্লকেজের মতো প্রাণঘাতী সমস্যার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই সময় থাকতেই সচেতন হওয়া জরুরি।

কোলেস্টেরল পরীক্ষা: কখন শুরু করবেন?

ভারতের খ্যাতিমান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নবীন ভামরির মতে, ২০ বছর বয়সেই প্রথমবার কোলেস্টেরল পরীক্ষা করানো উচিত। এই পরীক্ষা সাধারণত লিপিড প্রোফাইল নামে পরিচিত এবং এটি উপবাস অবস্থায় করা হয়।

যদি প্রথম পরীক্ষায় সবকিছু স্বাভাবিক থাকে, তবে প্রতি ৪ থেকে ৬ বছর পরপর রুটিন অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি আরও ঘন ঘন করা প্রয়োজন।


কারা আগে কোলেস্টেরল পরীক্ষা করাবেন?

ডা. ভামরি যাদেরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোলেস্টেরল পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন:

  • পরিবারের কারও অল্প বয়সে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে
  • ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপে ভুগলে
  • স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন থাকলে
  • ধূমপায়ী বা কম শারীরিক পরিশ্রমকারী হলে
  • নারীদের ক্ষেত্রে যাদের পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) রয়েছে

কেন সচেতনতা জরুরি?

উচ্চ কোলেস্টেরলের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো—এটি সরাসরি কোনো লক্ষণ তৈরি করে না। একে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। একমাত্র রক্তপরীক্ষার মাধ্যমেই এটি শনাক্ত করা সম্ভব। তাই সময়মতো পরীক্ষা না করলে অজান্তেই হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়।

ডা. ভামরি বলেন, “অল্প বয়সেই জীবনযাত্রায় স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন আনা ভবিষ্যতে হৃদরোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর।”


প্রতিরোধের উপায় কী?

✅ স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা
✅ ট্রান্স ফ্যাট ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা
✅ সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ধরণের ব্যায়াম করা
✅ ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন করা
✅ ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ও নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

 

কোলেস্টেরল পরীক্ষা এখন আর কেবল অসুস্থ হলে করানোর বিষয় নয়। এটি একটি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ, যা হৃদরোগসহ নানা জটিলতা থেকে রক্ষা করতে পারে।

👉 আপনি যদি ইতিমধ্যে ২০ বছর অতিক্রম করে থাকেন, তবে আজই কোলেস্টেরল পরীক্ষা করান। আর যদি আপনি ঝুঁকির তালিকাভুক্ত হন, তাহলে দেরি না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।


মো. আল-আমিন, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪

 




আমতলীতে মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহে সচেতনতামূলক র‌্যালি ও আলোচনা

বরগুনার আমতলীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৫। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
এতে সহায়তা করে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন ও এনএসএস (ন্যাশনাল সাপোর্ট সোসাইটি)।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর থেকে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হল রুমে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার।
বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক জাকির হোসেন, নার্সিং সুপারভাইজার শিখা রানী দাস, হেলথ ইন্সপেক্টর লাভলী ইয়াসমিন, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সাবেরা পারভীন, ওয়াস ফ্যাসিলিটেটর আহম্মদ রফিক ও কমিউনিটি প্রতিনিধি শাহিদা পারভীন।

বক্তারা বলেন, শিশুর জন্য মায়ের দুধই হচ্ছে সবচেয়ে পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য। শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব অপরিসীম।
তারা জন্মের পরপরই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

সাপ্তাহিক এই কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোই ছিল মূল লক্ষ্য বলে জানান আয়োজকরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মেহেন্দিগঞ্জে নদীতে গোসলে নেমে শিশুর মৃত্যু, নিখোঁজ ২

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার মেঘনা ও গজারিয়া নদীতে গোসলে নেমে তিন শিশুর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে, আর বাকি দুইজন এখনো নিখোঁজ রয়েছে। বুধবার (৬ আগস্ট) সকাল থেকে ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

জানা যায়, মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেলে পৃথক ঘটনায় তিন শিশু নদীতে গোসলে নামে। এর মধ্যে গজারিয়া নদীতে নিখোঁজ ছয় বছর বয়সী আবিদা ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সে উপজেলার চরএককরিয়া ইউনিয়নের কোলচর গ্রামের বাসিন্দা বাদশা দেওয়ানের মেয়ে এবং শান্তিরহাট ফোরকানিয়া মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

এদিকে মেঘনা নদীতে নিখোঁজ রয়েছে আরও দুই শিশু—একজন তাহসিন দেওয়ান (৬), পিতা আব্দুর রশীদ দেওয়ান; অপরজন রেজাউল করিম (৭), পিতা শহিদ বিশ্বাস। তারা দুজনেই একই ইউনিয়নের উত্তর দাদপুরচর এলাকার কেরাতুল কোরআন মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র।

মেহেন্দিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফখরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। তিনি বলেন, “নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

বরিশাল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মো. আলী আশরাফ জানান, “৯৯৯ এর ফোন পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডুবুরি দল নিয়ে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছি। নিখোঁজ দুই শিশুকে উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।”

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশুদের পরিবার ও স্থানীয়দের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে নদীর পাড়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো নিখোঁজ জেলের লাশ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ভেসে এসেছে বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ হওয়া একটি মাছ ধরার ট্রলার ও এর এক জেলের লাশ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুয়াকাটার ট্যুরিজম পার্ক সংলগ্ন সৈকতে ট্রলারটি ভেসে এলে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। উদ্ধার হওয়া মৃত জেলের নাম ইদ্রিস হাওলাদার (৫০)। তার পরিচয় শনাক্ত করেছেন জামাতা সাগর ইসলাম।

স্থানীয় সূত্র এবং নৌ-পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুলাই গভীর সমুদ্রের শেষ বয়া থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার ভেতরে মাছ ধরতে গিয়ে ১৫ জেলে নিয়ে ডুবে যায় ‘এফবি সাগরকন্যা’ নামের একটি ট্রলার। দুর্ঘটনার পর টানা ৪ দিন সমুদ্রে ভেসে থাকার পর উদ্ধার করা হয় ১০ জেলেকে। এরপর ১ আগস্ট সৈকতের মীরা বাড়ি পয়েন্টে ভেসে আসে নজরুল ইসলাম নামের এক জেলের মরদেহ। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৩ জেলে।

বৃহস্পতিবার সকালে ইদ্রিস হাওলাদারের মরদেহসহ ভেসে আসা ট্রলারটি দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মনিরুজ্জামান জানান, লাশসহ ট্রলারটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, সমুদ্রে মাছ ধরার সময় বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটলেও জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান বা অনুসন্ধানেও তেমন গতি দেখা যায় না। তাই এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে।

এখনো নিখোঁজ তিন জেলের পরিবারদের আহাজারিতে ভারি হয়ে আছে কুয়াকাটা উপকূলীয় অঞ্চল। তারা মরদেহ উদ্ধার বা অন্তত কোনো খোঁজ পাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




উজ্জ্বল হাসি ও সুস্থ দাঁতের জন্য এড়িয়ে চলুন এই ৩টি জিনিস

উজ্জ্বল হাসি কেবল সৌন্দর্যই নয়, বরং এটি সুস্থ জীবনের প্রতীকও। সুস্থ দাঁত ও মাড়ি আমাদের সামগ্রিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের অনেকেরই খাদ্যাভ্যাস দাঁতের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়, বিশেষ করে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিনিযুক্ত খাবার, কোমল পানীয় ও স্টার্চযুক্ত খাবার নিয়মিত গ্রহণ দাঁতের এনামেল ক্ষয়, গহ্বর (ক্যাভিটি), সংবেদনশীলতা ও মাড়ির সমস্যার অন্যতম কারণ। ভারতের খ্যাতনামা অর্থোডন্টিস্ট ডা. জৈনীল পারেখের মতে, দাঁতের সুস্থতা বজায় রাখতে আমাদের সচেতন খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

🛑 দাঁতের ক্ষতি করে এমন ৩টি সাধারণ খাবার ও পানীয়:

১. চিনিযুক্ত খাবার:

চিনিযুক্ত ক্যান্ডি, চকোলেট, মিষ্টি পানীয় ইত্যাদি মুখের ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে বিক্রিয়া করে অ্যাসিড তৈরি করে। এই অ্যাসিড দাঁতের ওপরের স্তর এনামেল ধ্বংস করে দেয়, যা দাঁতের ক্ষয় ও গহ্বর সৃষ্টি করে।

২. কোমল পানীয়:

সোডা, ফ্লেভারড জুস, এনার্জি ড্রিংকস ইত্যাদিতে থাকা অ্যাসিড দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে। নিয়মিত এসব পানীয় পান করলে দাঁত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে হলদে হয়ে যায়।

৩. স্টার্চযুক্ত খাবার:

আলুর চিপস, প্রেটজেল, সাদা পাউরুটি ইত্যাদি মুখে গিয়ে চিনিতে রূপান্তরিত হয়। এসব খাবার দাঁতের সঙ্গে লেগে থেকে ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিশে প্লাক তৈরি করে, যা দাঁতের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।


✅ করণীয় কী?

দাঁতকে সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখতে নিচের বিষয়গুলো অবশ্যই অনুসরণ করুন:

  • দিনে অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করুন (বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে)
  • ফ্লস ব্যবহার করে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবারের কণা পরিষ্কার করুন
  • চিনিযুক্ত ও অ্যাসিডিক খাবার ও পানীয় যতটা সম্ভব পরিহার করুন
  • ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য থেকে বিরত থাকুন
  • প্রতি ৬ মাসে অন্তত একবার ডেন্টিস্টের কাছে দাঁতের পরিদর্শন করুন
  • দাঁতে ব্যথা, রক্তপাত বা যেকোনো অস্বাভাবিকতা থাকলে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন

😊 সুস্থ দাঁতের জন্য সচেতন থাকুন

সুস্থ দাঁত আপনার ব্যক্তিত্বের প্রকাশ এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। তাই খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, সঠিক নিয়মে ব্রাশ ও নিয়মিত চিকিৎসা পরিদর্শনের মাধ্যমে আপনি পেতে পারেন একটি উজ্জ্বল, সুস্থ ও আকর্ষণীয় হাসি।


আল-আমিন, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪.কম | হেলথ ডেস্ক