জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: পটুয়াখালীতে ১০ বছরে কৃষিকাজ ছেড়েছে ৪০ হাজার পরিবার

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): বাপ-দাদার পেশা কৃষিকে আঁকড়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন ছিল নুরুল ইসলামের (৪০)। কিন্তু উপকূলে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে আবাদি জমিতে বছরের পর বছর ধরে ফলন কমে আসায় যে লোকসানের চক্রে পড়ে যান এক সময়ের স্বচ্ছল কৃষক নুরুল ইসলাম, তা থেকে আর বের হতে পারেননি তিনি। এক পর্যায়ে দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে ভিটেমাটি রেখে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয় এই কৃষক পরিবারটি।

নুরুল ইসলামের ভিটে ছিল পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পশ্চিম সোনাতলা গ্রামে। সেখানে নিজের আড়াই একর জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করতেন তিনি। এখন তিনি স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে চট্টগ্রামে থাকেন। স্যানিটারি মিস্ত্রির কাজ করেন।

নুরুল ইসলামের মতো পাশের আদমপুর গ্রামের খলিলুর রহমানও চার বছর আগে কৃষিকাজ ছেড়েছেন।
খলিলুরের ভাষ্য, তার খেতে যে ধান হতো, তার অর্ধেকটাই চিটা হয়ে যেত। অধিক তাপমাত্রার কারণে ধান পরিপক্ব হতো না। এখন তিনি কৃষিকাজ বাদ দিয়ে কলাপাড়া উপজেলা শহরে স্যানিটারি মিস্ত্রির কাজসহ দিনমজুরি করে সংসার চালান।

একই এলাকার আরেক কৃষক সেলিম খান বলেন, ‘আগের তুলনায় তাপমাত্রা দিন দিন বাড়ছেই। এ কারণে বেশির ভাগ ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে। চিটা ধান থেকে পাওয়া চাল ভালো দামে বিক্রি করা যায় না। আবার এ চালের ভাতে স্বাদ কম। তিতা লাগে। বাধ্য হয়ে তা হাঁস-মুরগিকে খাওয়াতে হয়।’
সেলিম আরও বলেন, ‘বেশি তাপমাত্রার কারণে এখন উৎপাদিত ধানের এক-তৃতীয়াংশ চিটা হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে আগের তুলনায় এখন ধানের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের এ অঞ্চলের কৃষিকাজ এখনো বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। এখন আর সময়মতো বৃষ্টি হয় না। তাই ধানসহ অন্যান্য ফসলের স্বাভাবিক চাষাবাদ প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

কৃষক নুরুল ইসলাম, খলিল ও সেলিম খানদের এমন সব ভাষ্যের সত্যতা মিলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে। পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা জানান, গত ছয় বছরে পটুয়াখালী জেলার গড় তাপমাত্রা বেড়েছে অন্তত সাড়ে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০১৭ সালে এখানে গড় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এখানকার গড় তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট পটুয়াখালীর মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সহিদুল ইসলাম খানও তাপমাত্রা বৃদ্ধিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়ে সহমত পোষণ করেন।
সহিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার আবাদযোগ্য কৃষি জমিতে আগের তুলনায় লবণাক্ততা অনেকটাই বেড়েছে। ফলে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত ফসল পাচ্ছেন না।’

এসব কারণে এ অঞ্চলে কৃষিকে এখন আর লাভজনক পেশা বলা যাচ্ছে না। অনেকেই পেশা বদল করে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানেও মিলেছে এর সত্যতা। গত বছর পটুয়াখালী জেলায় কৃষক পরিবারের সংখ্যা ছিল দুই লাখ ৬৬ হাজার ৬৩০। ১০ বছর আগে এ সংখ্যা ছিল তিন লাখ ছয় হাজার। অর্থাৎ এ সময়ে কৃষক পরিবারের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৪০ হাজার বা ১৫ শতাংশ।




ঠান্ডায় শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে যা করবেন

চন্দ্রদীপ নিউজ : ঢাকাসহ সারা দেশে শীতের প্রকোপ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগ, যেমন সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, ভাইরাল ডায়রিয়া ইত্যাদি। ফলে হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়। শীতের তীব্রতা যত বাড়ছে, তত আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। এদের মধ্যে সংখ্যায় বেশি নবজাতক।

এ সময় শিশুদের প্রচণ্ড কুয়াশা ও ঠান্ডা হাওয়া থেকে দূরে রাখতে হবে। এদের মধ্যে নিউমোনিয়া হওয়ার প্রবণতা বেশি। কেবল সন্ধ্যা নয়, এখন সারা দিন বইছে হিমেল হাওয়া। রোদ উঠলেও তীব্রতা খুব বেশি নয় বলে ঠান্ডা দূর হচ্ছে না। ফলে শিশুদের এই ঠান্ডা থেকে সাবধানে রাখার কোনো বিকল্প নেই।

একটি কথা আগেই বলে নিই, শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাসের ধরন অভিভাবকদের বুঝতে হবে। শিশু দ্রুত শ্বাস নিচ্ছে, শ্বাস নেওয়ার সময় শব্দ আর বুকের পাঁজরের নিচের অংশ দেবে যাচ্ছে। সঙ্গে আছে জ্বর, বমি। এসব লক্ষণ মারাত্মক। এমন হলে অবশ্যই হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে যত দ্রুত সম্ভব। এমন লক্ষণে নিউমোনিয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে।

শীতে ডায়রিয়া বাড়ে। এবারও বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রথম ভরসা খাওয়ার স্যালাইন। তবে মাত্রা বেশি হলে নিয়ে যেতে হবে হাসপাতালে। এ ব্যাপারে কোনো হেলাফেলা করা যাবে না।

শিশুকে খাওয়াতে হবে পুষ্টিকর খাবার। খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে মৌসুমি শাকসবজি, ফল ইত্যাদি। এগুলো থেকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন আসবে। ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মায়ের দুধ পান করাতে হবে নিয়মিত।

এ ছাড়া শিশুর শ্বাসকষ্ট বা ঠান্ডা লাগার ধাত থাকলে বাইরে যাওয়ার সময় মাস্ক পরিয়ে নিতে ভোলা যাবে না। সঙ্গে উপযুক্ত গরম পোশাক। শিশুকে শীতের পোশাক পরাতে হবে মাথা ঢেকে। তাতে শিশুর মাথায় ঠান্ডা লাগবে না। সঙ্গে হাতমোজা ও মোজা থাকতে হবে। এগুলো শরীর গরম রাখতে সহায়তা করবে। মনে রাখা উচিত, এই শীতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া শিশুদের বাইরে নিয়ে যাওয়া বা তাদের নিয়ে ঘোরাঘুরি করা যাবে না।

নবজাতককে অবশ্যই তার মায়ের বুকের সঙ্গে রাখতে হবে। এতে শিশুর শরীর গরম থাকবে। একে বলে ক্যাঙারু মাদার কেয়ার। শীতে এটি বিভিন্নভাবে নবজাতকের স্বাস্থ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। শিশুদের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে রাখা যাবে না। গোসল করাতে হবে গরম পানি দিয়ে। সমস্যা হলে স্পঞ্জ করিয়ে দিতে হবে। আর গরম জলে কাপড় ভিজিয়ে নবজাতকদের শরীর মুছিয়ে দিতে হবে।

উষ্ণ রাখার জন্য শিশুর শরীরে তেল মালিশ করতে পারেন সতর্কতার সঙ্গে। শিশুর পোশাক ভিজে গেলে দ্রুত বদলে দিতে হবে।

অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী।




২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে করোনা শনাক্তের হার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭১ জনে। এ সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যু হয়নি। ফলে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৯ হাজার ৪৭৯ জনেই রইলো।



এবার বরগুনায় প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু : ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

বরিশাল অফিস : খতনা করাতে গিয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় শিশু আয়ানের মৃত্যুর পর এবার বরগুনা জেলার বামনা উপজেলায় একটি অবৈধ বেসরকারি হাসপাতালে এক প্রসূতি ও তার নবজাতক সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। ভুল চিকিৎসায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

তারা জানান, সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে সুন্দরবন হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয় প্রসূতি মেঘলা আক্তারকে। অনুমোদনহীন এই হাসপাতালে তাকে সিজার অপারেশন করেন এক হাতুড়ে ডাক্তার। ভুল চিকিৎসায় মা ও নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গতকাল ঐ হাসপাতালটি সিলগালা করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সারাদেশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ও আশপাশে হাজার হাজার অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা অবৈধভাবে ব্যবসা করলেও স্বাস্থ্য বিভাগ ঠিকমতো মনিটরিং করছে না। উল্টো তাদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এগুলো দেখভাল করার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে অধিদপ্তর, বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়, সিভিল সার্জন কার্যালয়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তারা রয়েছেন। পাশাপাশি রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে মনিটরিং কমিটি। কিন্তু এসব কমিটি ঠিকমতো কাজ করছে না। মনিটরিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ৯০ ভাগ কর্মকর্তা নিয়মিত নির্ধারিত হারে মাসোহারা পেয়ে থাকেন। এ কারণে আয়ান ও মেঘলা আক্তারের মতো কত মানুষ যে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে তার কোন হিসাব নেই।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, দায়িত্বে অবহেলা, ভুল চিকিৎসায় যারা জড়িত এবং এসব মনিটরিং যারা করছেন না তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে, জেল-জরিমানা করে কিছুই হবে না। এদের কারণে শিশু আয়ান ও প্রসূতি মেঘলার মতো প্রতিদিনই অনেকের জীবন যাচ্ছে, এটা হত্যার শামিল। তাই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা (ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট) নিতে হবে। তাহলেই অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক করে মানুষ মারার বাণিজ্য কমে আসবে বলে তারা জানান।

এদিকে অবৈধ ও অননুমোদিত সব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্যখাতে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতে অনেক সমস্যা রয়েছে। আমি বলেছি দুর্নীতির ব্যাপারে ছাড় দেব না। এই অননুমোদিত, লাইসেন্স ছাড়া হাসপাতাল , ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এগুলো চলতে দেওয়া যাবে না। বিষয়টি আমি এক দিনে পারব না। কিন্তু আমার মেসেজ হচ্ছে যে এই অননুমোদিত ক্লিনিক, হাসপাতাল বন্ধ করে দিতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অবশ্যই নেওয়া হবে। আমি নিজেও ভুক্তভোগী এগুলোর জন্য।’




বাউফলে কম্বল বিতরণ করলেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে গরীব ও দুঃস্থ শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার উপজেলার কালিশুরী আশ্রয়ন প্রকল্পে আয়োজিত কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. নূর কুতুবুল আলম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বশির গাজীর সভাপতিত্বে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাউফলের সহকারি কমিশনার (ভূমি) প্রতীক কুমার কুন্ডু, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজিব বিশ্বাস, কালিশুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেছার উদ্দিন সিকদার প্রমুখ।




পাতলা একখান কম্বল দিয়া শীত আটকান যায় না

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): ‘এই খোলা যাগায় এত ঠান্ডার মইধ্যে রাইতে ঘুম তো দূরের কথা, বইয়াও থাকতে পারি না বাবা। খালি বাতাস আর বাতাস, হাত-পা সব ঠান্ডা হইয়া যায়। পাতলা একখান কম্বল দিয়া এই শীত আটকান যায় না।’

তীব্র শীতে কাঁপতে কাঁপতে এমনটাই বলছিলেন পটুয়াখালীর লঞ্চ টার্মিনালের থাকা ছিন্নমূল আলেয়া বেগম নামের এক বৃদ্ধা।

ঘন কুয়াশায় রাতের পটুয়াখালী শহরে ফুটপাতে, বন্ধ চায়ের দোকানের বেঞ্চে কিংবা শহরের লঞ্চ টার্মিনালের ভেতরে দেখা মেলে গৃহহীন ছিন্নমূল মানুষগুলোর। যাদের কাছে শীত মানে অভিশাপ। এদের কাছে নেই মাথা গোঁজার মতো ঠাঁই, পেটে নেই অন্ন, শরীরে নেই শীত নিবারণের মতো কোনো পোশাক।

প্রতিবছর সরকারি – বেসরকারি ভাবে এই অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত মানুষ গুলোকে শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্নভাবে সহায়তা প্রদান করা হলেও এ বছর এখন পর্যন্ত তেমন কোনো সহযোগিতা করা হয়নি।

এদিকে গত কয়েকদিন ধরেই হাঁড় কাঁপানো তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন। দেশজুড়ে জেঁকে বসেছে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীত। দক্ষিণবঙ্গ পটুয়াখালী জেলায় ঘন কুয়াশার কারণে রোদের দেখা মিলছে না বেশ কয়েকদিন। ফলে দিন ও রাতে প্রায় একই রকম শীত পড়ছে।

পটুয়াখালী জেলার আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এই তীব্র শীত আরও বেশ কিছুদিন থাকতে পারে এবং চলতি মাসের ১৭ থেকে ১৯ জানুয়ারি আকাশ মেঘলা থাকবে সেইসঙ্গে হতে পারে বৃষ্টি। বৃষ্টির পর আবার তীব্র শীতের প্রভাব থাকতে পারে। এ সময়ে দেশের দক্ষিণবঙ্গে বয়ে যেতে পারে শৈত্যপ্রবাহ।




পটুয়াখালীতে অবাধে চিংড়ি শিকার, মরছে অন্য পোনাও

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর সাগর উপকূলে অবাধে ছোট ছোট চিংড়ি শিকার করা হচ্ছে। ছোট ফাঁসের জাল দিয়ে এই চিংড়ি ধরতে গিয়ে অনান্য মাছের পোনাও মারা যাচ্ছে। সেই সাথে ধ্বংস হচ্ছে জলজ অন্যান্য প্রাণ-প্রকৃতি।

এই জালের অবাধ ব্যবহার মৎস্য খাতের জন্য হুমকি মনে করেন এই খাতের গবেষকরা।

হাজার হাজার ট্রলার নিয়ে বঙ্গোপসাগর উপকূলে ছোট জাতের চিংড়ি শিকার করতে যাচ্ছে পটুয়াখালীর জেলেরা। ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার করে অবাধে শিকার করা হয় স্থানীয়ভাবে ভুলা চিংড়ি নামে পরিচিত ছোট জাতের এই চিংড়ি। যা সাধানত শুটকি তৈরি করা হয়। তবে এই মাছ শিকার করতে যে জাল ব্যবহার করা হয় তাতে অনান্য মাছের পোনা ও জালজ প্রকৃতিও নষ্ট হচ্ছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী, গলাচিপা, কুয়াকাটাসহ বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা যায় জেলেরা সাগর থেকে যে চিংড়ি শিকার করে নিয়ে আসছেন তার সাথে ইলিশ, পোয়া, ছুড়ি, বাইলা, লইট্যাসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ ও প্রানীর পোনাও মারা গেছে।

মৎস্য খাতের গবেষকরা বলছেন, এভাবে অবাধে মাছ শিকারের ফলে মাছের খাদ্য শৃঙ্খলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেবার কথা জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।




ঘন কুয়াশাতে পটুয়াখালী – বরিশাল মহাসড়কে বাস দুর্ঘটনায় আহত ৩

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): ঘন কুয়াশায় পটুয়াখালী-বরিশাল মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রিন লাইন পরিবহনের সঙ্গে রাজিব পরিবহনের ধাক্কায় তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ১টা দিকে জেলার সদর উপজেলার বদরপুর বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পরিবহন দুটি ঢাকা থেকে ছেড়ে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন।
আহতদের উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, ঘন কুয়াশার কারণে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রিন লাইন পরিবহনটি না দেখে সরাসরি এসে রাজিব পরিবহন পেছন দিক থেকে ধাক্কা দেয়।

রাজিব পরিবহনের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায় ও গ্রিন লাইন পরিবহনের পিছনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা আহত যাত্রীদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

রাজিব পরিবহনের এক যাত্রী বলেন, ঢাকা থেকে রাজিব পরিবহন করে কুয়াকাটা যাচ্ছিলাম, তবে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রিন লাইন পরিবহনের সঙ্গে পেছন থেকে এসে আমাদের গাড়িতে ধাক্কা দেয়। আমি গাড়ির ড্রাইভারের মুখে শুধু এটুকুই শুনেছি তিনি ইন্নালিল্লাহ বলে ডাক দিয়েছেন, এর মধ্যে বিকট শব্দ হয় আমরা সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থেকে দ্রুত নেমে যাই। রাজিব পরিবহনের সামনে যারা ছিল তারা বেশি ক্ষতি হয়েছে তাদেরকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সংবাদ দিলে, তারাও এসে উদ্ধার অভিযান চালায়। তাদের গাড়িতেই আহতদের দ্রুত পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।




মহিপুরে বাবা-ছেলেকে পিটিয়ে জখম

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর মহিপুর থানায় জমি-জমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বাবা -ছেলেকে এলোপাথাড়ি ভাবে পিটিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষরা।

সোমবার সকাল ৯ টার দিকে মহিপুর থানার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্বডালবুগঞ্জ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এতে গুরুতর আহত অবস্থায় মো.বাছেদ ঘরামী (৭০) এবং তার ছেলে মো. মিজানুর ঘরামী (৩৭) কে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে বাছেদ ঘরামীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

এ ঘটনার মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আহত মো.মিজানুর ঘরামী জানান, ডালবুগঞ্জ এলাকায় তাদের পৈত্রিক জমি রয়েছে, যা দীর্ঘ ৫০/৬০ বছর ধরে আমরা ভোগ দখল করে আসছি। প্রতিবেশী সোহরাফ হোসেন গং’রা জোর পূর্বক জমি দখল করতে একাধিকবার আমাদের উপর হামলা, নির্যাতন, অত্যাচার চালিয়ে আসছে। পূর্বপরিকল্পিত ভাবে আমার এবং আমার বাবাকে হত্যার উদ্দেশে্ লাঠি সোটা নিয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে পিটিয়ে জখম করে। এ ঘটনার সাথে বারেক হাওলাদার, রহিম গাজি, খলিল গাজি, শাহা গাজি, রাব্বি মৃধা জড়িত ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে বক্তব্য নিতে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদেরকে পাওয়া যায়নি।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আনোয়ার হোসেন তালুকদার জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।




হার্ট অ্যাটাকের যেসব লক্ষণ এড়িয়ে যাবেন না 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  হার্ট অ্যাটাক হওয়ার জন্য আগে থেকেই অসুস্থ থাকাটা জরুরি নয়। বরং আপাত দৃষ্টিতে সুস্থ মানুষেরও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে, হাসপাতালে যেতে দেরি হতে পারে। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটে যেতে পারে।