পটুয়াাখালীতে ৫’শ পিচ ইয়াবাসহ কারবারি আটক

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় ৫’শ পিচ ইয়াবাসহ মোঃ মিলন হাওলাদার (৩৭) নামে এক কারবারিকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

আটক ওই যুবক উপজেলার রতনদি ইটবাড়িয়া এলাকার মৃত. লাল মিয়া হাওলাদারের  ছেলে।

সোমবার(২২ জানুয়ারি) সকাল ৭ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই সঞ্জীব কুমার সরকার সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ গোলখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডস্থ হরিদেবপুর বাসষ্ট্যান্ড থেকে আসামি মোঃ মিলন হাওলাদারকে ৫’শ পিচ ইয়াবাসহ আটক করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজমল হুদা বলেন, তার নামে সংশ্লিষ্ট আইনে গলাচিপা থানায় মামলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা মাদক নিমূর্লে বদ্ধপরিকর। আমাদের এ অভিযান চলমান থাকবে।




জেলের জালে ১৪০ কেজির পাখি মাছ, ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার কলাপাড়ায় আলীপুর মৎস্য বন্দরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ৪টি পাখি মাছ (সেইল ফিশ)। পরে মাছগুলো ডাকের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।

সোমবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এই মাছ চারটি নিয়ে আসেন ফারুক আকন নামের এক জেলে। পরে বন্দরের নাঈম নামের এক আড়তদার মাছগুলো ২৫ হাজার টাকায় কিনে নেন। এ সময় মাছগুলো দেখতে অনেকেই ভিড় জমান।

জেলে ফারুক বলেন, গত তিনদিন আগে মাছগুলো আমার জালে উঠে। এরপর আজকে আলীপুর এসে বিক্রি করেছি। বছরে দুই একবার এ ধরনের বড় মাছ জালে উঠে।

আড়তদার নাইম বলেন, এই মাছগুলো বেশ দ্রুত গতিসম্পন্ন তাই অনেকে পাখি নামেও চিনে। বেশ সুস্বাদু হওয়ায় এই মাছের চাহিদা অনেক। আজকের মাছ চারটির ওজন ১৪০ কেজি। ২৫ হাজার টাকায় কিনে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। আশা করছি, ভালো দাম পাব।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, মাছগুলো খেতে বেশ সুস্বাদু হওয়ার দেশের বাইরে এর বেশ চাহিদা রয়েছে। এর ইংরেজি নাম সেইল ফিস ও বৈজ্ঞানিক নাম Istiophorus platypterus।




পটুয়াখালীতে মাটিচাপা দেয়া নববধূর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীতে চম্পা বেগম (৩২) নামের এক নববধূকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর মাটিতে পুঁতে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্বামী বাবুল হাওলাদারের বিরুদ্ধে।

বর্তমানে বাবুল হাওলাদার এবং তার প্রথম স্ত্রী পলাতক রয়েছেন।

আজ (২২ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে কলাপাড়ার চাকামইয়া ইউনিয়নের গামরবুনিয়া বিলে মাটিচাপা দেয়া ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

কলাপাড়া থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানান, ১ জানুয়ারি চম্পা বেগমকে বিয়ে করেন কৃষক বাবুল হাওলাদার। এটি তার দ্বিতীয় বিয়ে। বাবুল হাওলাদার এবং তার প্রথম স্ত্রী পলাতক থাকায় ধারণা করা হচ্ছে দাম্পত্য কলহের জেরে চম্পাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। হত্যার পর মৃতদেহ মাটি চাপা দেয়া হয়।

মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলেই সবকিছু জানা যাবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।




তীব্র শীত ও তুষারপাতে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, ৮৩ জনের প্রাণহানি

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আবহাওয়া বেশ শীতল হয়ে উঠেছে। তুষারপাতের পাশাপাশি চলছে বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণ। দেশটিতে গত সপ্তাহে শীত-তুষারপাত ও ঝড়ে ৮৩ জনের প্রাণহাণি ঘটেছে। খবর সিবিএসের

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবহাওয়ার কারণে টেনেসিতে প্রাণ হারান ১৯ জন, ওরেগনে ১৬ জন এবং রাস্তায় চলমান একটি গাড়িতে ঝুলে পড়া বিদ্যুতের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গাড়িটির ৩ আরোহী মারা যান।

এ ছাড়া মৃত্যুর খবর আসে ইলিনয়, পেনসিলভেনিয়া, মিসিসিপি, ওয়াশিংটন, কেনটাকি, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সিসহ আরও কয়টি অঙ্গরাজ্য থেকে।

গত সপ্তাহে উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা এবং দক্ষিণের কিছু অংশে তীব্র শীত জেঁকে বসে। এ সময় বাড়িঘর ও ব্যবসায়িক দপ্তরগুলো তীব্র ঠান্ডার কারণে উষ্ণ রাখতে গিয়ে বিদ্যুত উৎপাদনে রেকর্ড পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে।




পুরুষের পোশাকের রঙ নিয়ে যা বলেছেন মহানবী সা.

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে আদাম সন্তান! আমরা তোমাদেরকে পোশাক-পরিচ্ছদ দিয়েছি তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করার জন্য এবং শোভা বর্ধনের জন্য।

আর তাক্বওয়ার পোশাক হচ্ছে সর্বোত্তম। ওটা আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে একটি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। ’ ( সুরা আরাফ, আয়াত,২৬)

পোশাক পরিধানের ক্ষেত্রে হাদিসে বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। পুরুষদের পোশাক বিষয়েও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট বিধান দিয়েছেন।

এক সাহাবি মহানবী  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাকে জিজ্ঞাসা করেন, আমার শখ হলো, আমার কাপড় উন্নতমানের হোক, আমার জুতা জোড়া অভিজাত হোক—এটা কি অহংকারপ্রসূত? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লা বললেন, ‘নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহ সৌন্দর্য পছন্দ করেন (সৌন্দর্যের প্রকাশ অহংকার নয়)। ওই ব্যক্তি অহংকারী, যে সত্যের সামনে ঔদ্ধত্য দেখায় আর মানুষদের তুচ্ছজ্ঞান করে, অবজ্ঞা করে। ’ (মুসলিম, হাদিস, ১৪৭)

পোশাক পরিধানের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে সাদৃশ্য অবলম্বনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। বিষয়গুলো হলো:

১. কাফির-মুশরিকদের পোশাক গ্রহণ করা যাবে না।

২. ফাসেক-পাপাচারীদের মতো পোশাক পরিধান করা যাবে না।

৩. বিপরীত লিঙ্গের মতো পোশাক ধারণ করা যাবে না। অর্থাৎ পুরুষের জন্য নারীদের ন্যায় আর নারীদের জন্য পুরুষের মতো পোশাক পরিধান করা জায়েজ নয়।

৪. পোশাক হতে হবে ঢিলেঢালা। আরামদায়ক।

পুরুষদের জন্য রেশমি কাপড় পরিধানও বৈধ নয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে পুরুষদের জন্য রেশমি কাপড় এবং স্বর্ণ ব্যবহার করা হারাম; কিন্তু নারীদের জন্য তা হালাল। ’ (তিরমিজি, হাদিস, ১৭২০)

পুরুষদের জন্য একেবারে লাল ও হলুদ রঙের পোশাক না পরা কথা বলা হয়েছে। তাদের জন্য একেবারে গাঢ় লাল রঙের পোশাক পরিধান করা মাকরুহ। তবে হালকা লাল রঙের পোশাক পরিধান করা বৈধ। (রদ্দুল মুহতার : ৬/৩৫৮, কাশফুল বারি : কিতাবুল লেবাস : ২০৯)

আর পোশাকের ক্ষেত্রে বিশেষ লক্ষণীয় হলো- বিলাসিতা প্রকাশ পায় এমন পোশাক পরিহার করা। কারণ, সীমাতিরিক্ত বিলাসিতার গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেওয়া কাফিরদের অভ্যাস।

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘বিলাসিতা পরিহার করো। আল্লাহর নেক বান্দারা বিলাসী জীবনযাপন করে না। ’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২২১০৫)




কলাপাড়ায় প্রতিবন্ধী জুয়েলের বাঁচার আকুতি

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের মম্বীপাড়া গ্রামের বধির প্রতিবন্ধী মো. ইউসুফের পুত্র জুয়েল (১৮)। ইচ্ছা ছিল সমাজের আরও পাঁচজন সুস্থ মানুষের মতো জীবনযাপন করা। কিন্তু গত দু’বছর ধরে অজানা এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে দিনদিন নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে।

জানা যায়, চার ভাইবোনের মধ্যে জুয়েল দ্বিতীয় সন্তান। ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে তার  পেটে ব্যাথা, বমি থেকে শুরু হয় জুয়েলের অসুস্থতা। অক্ষর জ্ঞানহীন বাবা-মা একদিকে সংসারের খরচ মিটানো, অন্য দিকে ছেলের চিকিৎসা নিয়ে খুবই চিন্তিত। এলাকার তরুণদের সহযোগিতা এবং পরিবারের প্রচেষ্টায় নামে মাত্র টাকা দিয়ে চলছে জুয়েলের চিকিৎসা। এখন বাড়ির শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে নিঃস্ব জুয়েলের পরিবার। তাই সমাজের বিত্তবানদের কাছে ছেলের চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আবেদন করেছেন জুয়েলের পিতা-মাতা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েকজন যুবক জুয়েলকে বাঁচাতে বিভিন্ন দোকান হাট-বাজার এবং মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে চিকিৎসকরা বলছেন অজানা  কোনো বড় ধরনের রোগে ভুগছে জুয়েল। যে কারণে প্রয়োজন  মোটা অংকের টাকা।

জুয়েলের বাবা ইউসুফ বলেন, আমি কানে শুনি না তাই আমাকে অনেকে কাজে নিতে চায় না। ছেলেটি যখন কাজ করতো তখন আমি দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতাম। অসুস্থ হওয়ার পর আমি মানুষের কাছে গিয়ে হাত পাতি ওর চিকিৎসার জন্য। যখন যে কাজ পাই তা করি। কিন্তু আমার পক্ষে এখন মৃত্যু ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।

মা লাইলী বেগম জানান, আমার সন্তানের চিকিৎসার জন্য এলাকার সকলের কাছে সহযোগিতা চাই। পরিবারের তিনবেলা খাবার মেটানোর জন্য আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সকলের কাছে হাত পেতে সংসার চালাই।

কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দ আশিকুর রহমান আশিক বলেন, জুয়েলের শারীরিক অবস্থা প্রাথমিক ভাবে দেখে মনে হচ্ছে তার খাদ্যনালীতে বড় ধরনের সমস্যা। অথবা ক্যান্সারজনিত সমস্যায় সে ভুগতে পারে। উন্নত পরীক্ষা- নিরীক্ষা ছাড়া কোন কিছু বলা যাচ্ছে না। সে কারণে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাতে  প্রেরণ করা হয়েছে।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শিলা রানী দাস জানান, এসব অসুস্থ রোগীর চিকিৎসার  ক্ষেত্রে উপজেলা কার্যালয় অথবা  জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করলে আমরা বিষয়টি  দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।




অর্গানিক খাদ্য কতটা অর্গানিক? 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  স্বাস্থ্যের ব্যাপারে বেশ সচেতন সৈয়দ নাজমুস সাকিব। ফল হোক বা সবজি— অর্গানিক কেনা চাই। সুপার শপ থেকে বেছে বেছে সতেজ আর অর্গানিক সব পণ্য কেনেন তিনি। শুধু কি কাঁচা খাবার? চাল, ডাল থেকে শুরু করে হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া সবকিছুই অর্গানিক দেখে কেনেন তিনি। দাম কিছুটা বেশি পড়লেও সুস্বাস্থ্যের কথা ভেবে তা মেনে নেওয়া যায়- এমনটাই দাবি তার।



শরীর উষ্ণ রাখবে যেসব খাবার

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : প্রচণ্ড শীতে কাবু দেশ। শীতের আমেজের বদলে হু হু করে কাঁপার মধ্যেই যেন সবাই। তবে এই হি হি করে কাঁপার সঙ্গে রয়েছে উত্তাপ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। শীতে সামান্য উত্তাপের আশায় থাকে অনেকে। এক্ষেত্রে শরীর গরম করে এমন খাবারও খোঁজেন অনেকে। তবে সহজপাচ্য ও দ্রুত শরীর গরম করে এমন খাবার খুঁজে বের করা কঠিন কি? আদতে নয়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে থার্মোজেনেসিস নামে কিছু খাবার আছে যা শরীরকে দ্রুত গরম করে। হেলদি ফ্যাট বা স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন ও জটিল কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার অল্প পরিমাণে খেলেও শরীর গরম থাকে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে চারটি হলো:

ঘি

ঘি আমাদের জন্য এক ঐতিহ্যবাহী খাবার। শুধু সুনামে নয়, পুষ্টিমান থেকেও অন্যান্য চর্বির তুলনায় এটি ভালো। ঘিয়ের মিডিয়াম চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড উপাদান সরাসরি লিভার শোষণ করে নেয় এবং শরীরে শক্তি জোগানোর স্বার্থে দ্রুত পুড়ে যায়। তাছাড়া ঘিতে বিউটারিক অ্যাসিড আছে যা একটি শর্ট চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড। এই শর্ট ফ্যাটি অ্যাসিড হজম সহজ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

তিল
কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করার ক্ষেত্রে তিলের জুড়ি নেই। পাশাপাশি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে তিল বীজ। শীতকালে ব্যথা এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে তিলের বীজে থাকা বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ।

ভেষজ চা
শীতে ঘরেই ভেষজ চা বানিয়ে নেওয়া যেতে পারে। চিনি ছাড়া আদা, যষ্টিমধু ও তুলসী দিয়ে বানিয়ে ফেলতে পারেন চা। আদা হজমের জন্য ভালো যা থার্মোজেনেসিসকে উদ্দীপিত করতে পারে। এটি একটি ডায়াফোরটিক, যা আপনার শরীরকে ভেতর থেকে গরম রাখতে সাহায্য করে। যষ্টিমধুতে গ্লাইসিরিজিন নামক একটি রাসায়নিক রয়েছে— যা ভেষজটিকে এর মিষ্টি স্বাদের পাশাপাশি প্রদাহরোধী, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য দেয়। তুলসী শীতকালীন রোগ নিরাময়ে সহায়তা করে।

রাগি
ফিঙ্গার মিলেট আমাদের কাছে এত পরিচিত না। অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর রাগি বা ফিঙ্গার মিলেটে ফ্লাভোনয়েড, লিগনিন এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট রয়েছে। এটি আমাদের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে, ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করে এবং শীতকালে উষ্ণ থাকতে সাহায্য করে।




দক্ষিণাঞ্চলে ঠান্ডাজনিত রোগ ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে

বরিশাল অফিস :: বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলে গত কয়েকদিনের শীতের দাপটে ঠান্ডাজনিত নানা সংক্রমক রোগে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগ ছড়াচ্ছে। বছরজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে ডেঙ্গু অনেকটা নিয়ন্ত্রনে এলেও মৃত্যুর মিছিল থামছে না। শনিবার দুপুরেও বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর।

এনিয়ে শুধু সরকারি হাপসাতালে ২১৪ জনের মৃতুর সাথে আক্রান্তের সংখ্যাও সাড়ে ৩৮ হাজারে পৌঁছল। নতুন করে করোনার চোখ রাঙানি উদ্বেগ তৈরী করলেও টেষ্ট কিটের অভাবে এ অঞ্চলের কোথাও কোভিড পরীক্ষার কোন ব্যবস্থা নেই। বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ও ভোলা জেনারেল হাসপাতালে দুটি পূর্ণাঙ্গ ‘করোনা টেষ্ট ল্যাব’ থাকলেও জনবল প্রায় শূনের কোটায়। এছাড়া প্রতিটি উপজেলা সদরেও কোভিড-১৯’এর প্রাথমিক শনাক্তের সুবিধা থাকলেও কীটের অভাবে দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও এখন আর করোনা শনাক্তের ব্যবস্থা নেই। এমনকি এ অঞ্চলে করোনা প্রতিরোধি ভ্যাকসিন এর ৩ ডোজ গ্রহণের হার এখনো ৬০ ভাগের নিচে। গত প্রায় ৬মাস ধরে ভ্যাকসিন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

তবে খুব দ্রুত টেষ্টকীট সরবরাহ সহ জনবল নিয়োগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জরুরী বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে বরিশালের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক জানিয়েছেন। বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডলের মতে ‘টেষ্ট কীট পাওয়া গেলে আমরা প্রতিটি উপজেলা পর্যায়েও কোভিড রোগী শনাক্তে পরীক্ষা কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।

২০২৩ সালে দক্ষিণাঞ্চলে করোনা প্রায় নিয়ন্ত্রনেই ছিল। ২০২২ এর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ অঞ্চলে শনাক্ত ৫৫ হাজার করোনা রোগীর মধ্যে ৬৯৩ জনের মৃত্যু হয়। যারমধ্যে বরিশাল মহানগরীতেই দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। পুরো করোনাকালীন সময়ে এ নগরী ছিল কোভিডের আতুর ঘর। আক্রান্তের শীর্ষেও ছিল এ মহানগরী।

করোনার মত ডায়রিয়া সহ ঠান্ডাজনিত সব রোগীর শীর্ষে বরিশাল মহানগরী। এরপরেই দ্বীপজেলা ভোলার অবস্থান।

গত বছর প্রায় ৭২ হাজার ডায়রিয়া আক্রান্ত নারী-পুরুষ ও শিশু দক্ষিণাঞ্চলের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা গ্রহণের পরে নতুন বছরের প্রথম ২০ দিনেও আরো প্রায় আড়াই হাজার এ রোগ নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। প্রতিদিনই গড়ে শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু ডায়রিয়া নিয়ে সরকারি হাসপাতালে এলেও বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা এর তিনগুনেরও বেশী। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসদের মতে, এখন মুমূর্ষু অবস্থায় না পৌঁছলে কেউ সরকারি হাসপাতালের স্মরণাপন্ন হয়না। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, গত বছর দক্ষিণাঞ্চলের সরকারি হাসপাতাল সমূহে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৭২ হাজার। যা ২০২২ সালে ছিল ৭৮ হাজারের মত এবং ২০২১ সালে ৭৭ হাজারের কিছু বেশী।

এদিকে শীতের শুরু থেকেই এ অঞ্চলে নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগের প্রকোপও ক্রমশ বাড়ছে। সদ্য সমাপ্ত বছরে এ ধরনের ৭৭ হাজারেরও বেশী রোগী বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে এলেও নতুন বছরের গত ২০ দিনে আরো প্রায় আড়াই হাজার রোগী ঠান্ডাজনিত নানা উপসর্গ নিয়ে সরকারি হাসপাতালে এসেছেন। এদের মধ্যে মৃত্যুও হয়েছে ১ জনের। গত বছর সরকারি হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে ১৫ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর। আর গত ১ মাসে শুধু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত প্রায় দেড় হাজার রোগী সরকারি হাসপাতালে এসেছে বলে জানা গেছে। তবে এসব ক্ষেত্রে আরো অন্তত তিনগুন রোগী বিভিন্ন বেসরকারী ক্লিনিক ও চিকিৎকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে বলা হয়েছে।

বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের সবগুলো সরকারি হাসপাতালের শিশু এবং মেডিসিন ওয়ার্ডগুলো নিউমোনিয়া ও ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের ভীড়ে ঠাসা। দক্ষিণাঞ্চঞ্চেলের সর্ববৃহৎ সরকারি চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান, শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই মাত্র ৩৬ শয্যার শিশু বিভাগে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগী সহ পৌনে ৩শ শিশু চিকিৎসাধীন থাকছে। অনুমোদিত ১ হাজার শয্যার এ হাসপাতালে শিশু বিভাগের জন্য বরাদ্দকৃত বেড সংখ্যা এখনো মাত্র ৩৬। যার মধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড রয়েছে। ১ হাজার শয্যার বিশাল এ হাসপাতালে শিশু বিভাগের জন্য স্বল্পসংখ্যক বেড নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

এদিকে শনিবার শেষরাত থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মেঘনা অববাহিকা সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল ঘন কুয়শায় ঢেকে ছিল। সকালে তাপমাত্রার পারদ ১৩ থেকে ১৪ ডিগ্রীর মধ্যে থাকলেও আগামী তিনদিনে শীতের তীব্রতা আবারো বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।




বাউফলে ধর্ষণের শিকার ৭ বছরের শিশু

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার বাউফলে ৭ বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. সেলিমকে (৫৫) গ্রেপ্তার করছে বাউফল থানা পুলিশ।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনমজুর বাবার শিশুসন্তানটি তার নানির বাড়িতে থাকত। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার পৌর শহরের ৯নং ওয়ার্ডের শের-ই-বাংলা সড়কের বালুর মাঠে অন্যান্য শিশুর সঙ্গে খেলছিল। দুপুর ১২টার দিকে সেলিম শিশুটির হাত ধরে টেনে পাশের ঝোপের ভেতর নিয়ে ধর্ষণ করে। তখন শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্ত সেলিম পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে।

একই এলাকার বাসিন্দা অভিযুক্ত সেলিম ২ সন্তানের বাবা।

ধর্ষণের শিকার শিশুর নানি খালেদা বলেন, সেলিম আমার নাতনির ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিয়েছে। আমি সেলিমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি শোনিত কুমার গায়েন বলেন, অভিযুক্ত সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পটুয়াখালী পাঠানো হয়েছে।