গলাচিপায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর গলাচিপায় তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে (১০) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বশির হাওলাদারকে (৪৫) মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।

সোমবার রাত ১১টার দিকে গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) গলাচিপা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে।

অভিযুক্ত বশির একই এলাকার মৃত ফজলুল হাওলাদারের ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় পরিবারের লোকজন ফার্নিচারের দোকানের মালামাল পরিবর্তন করছিল। এ সময় আসামি বশির হাওলাদার দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ভিকটিমকে একা পেয়ে মুখ চেপে ধরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনা জানাজানি হলে বশির হাওলাদারকে উত্তেজিত স্বজনরা ধরে মারধর করে পুলিশে দেন।

গলাচিপা থানার ওসি শোনিত কুমার গায়েন জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।




বইয়ের ভেতরে মিলল ২ কেজি গাঁজা, ডিবির জালে আটক ৩

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর জেলা সদরে বইয়ের মধ্য থেকে ২ কেজি গাঁজাসহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের জালে আটক হয়েছে ৩ বৃদ্ধ মাদক কারবারি।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এসআই সঞ্জীব কুমার সরকার সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ জেলা সদরের টাউন কালিকাপুরের কলাতলা রাস্তার মাথা থেকে তাদেরকে আটক করেন।

আটককৃতরা হলেন- জেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বল্লভপুর এলাকার মৃত. আজিজ তালুকদারের ছেলে মোঃ জালাল তালুকদার (৫৫), বদরপুর ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের মৃত. আসমত আলী ফরাজীর ছেলে মোঃ আলম ফরাজী (৫২) এবং চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার জট পুকুরিয়া এলাকার কাঞ্চনা গ্রামের মৃত. হরে কৃষ্ণ পালের ছেলে শ্রী ধ্রুব পাল (৫৬)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি সাদা প্লাষ্টিকের বস্তায় বিভিন্ন প্রকারের বইয়ের মধ্যে কসটেপ দ্বারা পেচানো নীল রংয়ের পলিথিনের মধ্য থেকে এ গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ একেএম আজমল হুদা বলেন, আটককৃতদের নামে সদর থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাদক নিমূর্লে আমরা বদ্ধপরিকর। আমাদের এ অভিযান চলমান থাকবে।




বরিশালে ব্লাড ডোনারর্স ক্লাব এক যুগপূতি উপলক্ষে মরণব্যাধি থ্যালাসেমিয়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য ভিন্ন ইউনিট চালু করার দাবী

বরিশাল অফিস  :: বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি আলাদা মরণব্যধি থ্যালাসেমিয়া ইউনিট চালু ও রক্ত প্রত্যারক চক্রের চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে নির্মূল করা সহ রোগী ও স্বজনদের সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়ে রক্তদান এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক

বেসরকারী সংগঠন ব্লাড ডোনার্স ক্লাব (বিবিডিসি)’র এক যুগপূর্তি উপলক্ষে নগরীতে ব্যান্ডপার্টি ঢোল বাধ্যবাজনা বাজিয়ে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা র‌্যালি,মানববন্ধন ও কেক কেটে যুগপূর্তি ও ১৩ বছরে পদার্পণ করার আয়োজনে রক্তদাতা রোগী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।

আজ বুধবার (৩১) জানুয়ারী সকাল সাড়ে ৮টায় মাঘের শীতের বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সংগঠনের প্রতিভালবাসা দায়বদ্ধতা থেকে বঙ্গবন্ধু উদ্যানে উৎসবমূখর আনন্দে সমাবেত হয়।

সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু উদ্যান থেকে এক আনন্দ উৎসব পরিবেশে আনন্দ শোভা যাত্রা বণ্যাঢ্য র‌্যালি বেড় হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নগরীর সদররোড অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বর সম্মুখ সড়ক সদররোডে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। পরে অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বরে কেক কেটে (বিবিডিসি) সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সদস্য যুগপূর্তি উৎসব কর্মসূচি পালন করে।

এসময় উপস্থি ছিলেন সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের উপদেষ্টা দিপু হাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ খেকে এক্সিকিউটি। ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আবু জাফর মজুমদার,বরিশঅল ডোনারর্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আওলাদ খান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আলিমুর রহমান,শোয়েব রহমান নাবিন,বাঁন বসু,ইমরুল কায়েস,সাব্বির আহমেদ,শামিয়া দিয়া, খায়রুল ইসলাম সহ সকলস্তরের নেতৃবৃন্দ।

এসময় ডোনারর্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আওলাদ খান বলেন,বিভাগীয় শহর বরিশাল সহ জেলায় নেই থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য কোনো বিশেষায়িত সেবা।

অথচ এই মরনব্যাধি থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত হাজার রোগী চিকিৎসার অভাবে দিন দিন মৃত্যুর দিকে দ্রæত এগিয়ে যাচ্ছে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে সরকারের প্রধানমন্ত্রী সহ স্বাস্থ্যমন্ত্রালয় দৃষ্টি দেওয়ার আহবান জানান। আওলাদ খান আরো বলেন বরিশালের মানবসেবায় একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে বিবিডিসি। এসময় তিনি আরো বলেন আমরা সবাইকে সাথে নিয়ে আরও বেশি মানুষের সেবা করতে চাই।




জাহিদ হাসানের অসুস্থতা নিয়ে যা জানালেন স্ত্রী মৌ




অনাগত শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ করা যাবে না, হাইকোর্টে নীতিমালা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  মাতৃগর্ভে থাকা সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না জানিয়ে নতুন নীতিমালা করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এতে বলা হয়েছে, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও চিকিৎসকসহ সবাইকে এ নীতিমালা মানতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অনাগত শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না মর্মে নীতিমালা করে ছয় মাস আগে জমা দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) হাইকোর্টে এ বিষয়ে শুনানি রয়েছে।

জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার পরিচালক ডা. তাহমিনা সুলতানা এ প্রতিবেদন জমা দেন। এর আগে ২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি মাতৃগর্ভে থাকাকালীন অবস্থায় শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। একই বছরের ২৬ জানুয়ারি এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।

স্বাস্থ্য সচিব, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সমাজ কল্যাণ সচিবকে এ নোটিশ পাঠান অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। নোটিশে তাদের তিন দিনের মধ্যে সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে মাতৃগর্ভের শিশুর লিঙ্গ পরিচয় জানার উদ্দেশ্যে পরীক্ষা-লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধ করতে নির্দেশনা জারি করতে বলা হয়।

এ বিষয়ে আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, আমাদের দেশে এখনো বেশির ভাগ মানুষের ছেলে সন্তানই আশা করেন। কারণ তারা মনে করেন, ছেলেরা বংশের ধারক, তারা আয় করে, বেশি শক্তিশালী। এমন কি অনেক নারীও মনে করে ছেলে সন্তান তাদের ভবিষ্যতের সুরক্ষা দেবে। এ অবস্থায় যদি পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভে থাকা সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় জানা যায় এবং তা মা-বাবার কাঙ্ক্ষিত না হলে গর্ভবতী মায়ের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। মা যদি হতাশায় ভোগেন, তবে বাচ্চার মস্তিষ্ক গঠন /বিকাশ সঠিকভাবে হয় না। চীন-ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গর্ভে থাকা সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে গর্ভে থাকা শিশুদের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধ হওয়া জরুরি।

তিনি বলেন, গর্ভবতী মা ও শিশুর কল্যাণের জন্য বা অনাগত সন্তানের সুস্থতা জানতে তারা যেকোনো পরীক্ষা করতেই পারেন। কিন্তু শুধু পেটে থাকা সন্তান ছেলে না মেয়ে তা জানার উদ্দেশ্যে ডাক্তারি পরীক্ষা বা রিপোর্টে লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ কোনোভাবেই কাম্য নয়।

মাতৃগর্ভের সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা সম্পর্কে এর আগেই আইনে নিষেধ করা হয়। তবে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সোমবার থেকে এটি তাদের নতুন নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করলো।




করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টে চলমান টিকাই কার্যকরী : স্বাস্থ্য ডিজি

 চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের বিরুদ্ধে দেশে চলমান ভ্যাকসিনই কার্যকরী বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। তিনি বলেন, করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট খুব দ্রুত ছড়ায়। তবে এনিয়ে এতো আশঙ্কার কিছু নেই।




সিজারিয়ান অপারেশনে নবজাতকের পিঠ কেটে ফেললেন ডাক্তার

বরিশাল অফিস :: বরগুনার তালতলী উপজেলায় এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় নবজাতকের পিঠ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসকের অবহেলায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করছেন স্বজনেরা।

শনিবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে উপজেলার দোয়েল ক্লিনিক এ- ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘাটে।

প্রসূতির পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলা শহরের হোটেল ব্যবসায়ী ইব্রাহিম খলিল সোহাগের স্ত্রী লিপি আক্তার প্রসবব্যথা নিয়ে শনিবার দুপুরে হাসপাতাল সড়কের দোয়েল ক্লিনিক এ- ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি হন।

পরে সন্ধ্যায় ওই ক্লিনিকের স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ রুনা রহমান সিজারিয়ান অপারেশন করার সময় নবজাতকের পিঠ কেটে ফেলে।

নবজাতকের বাবা ইব্রাহিম খলিল সোহাগ বলেন, সিজারিয়ান অপারেশন ১ ঘন্টা পরে কন্যা শিশুটির গায়ে কাপড় পেঁচিয়ে আমার হাতে তুলে দেয়। পরবর্তীতে অনবরত কান্না করতে থাকে এ সময় শিশুটির শরীরে রক্ত দেখতে পাই। পরে গায়ের কাপড় খুলে ডানবাহুর নিচে ছুরির আঘাতে কেটে যাওয়ার ক্ষত দেখতে পাই।

বিষয়টি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। এ বিষয়ে ডাঃ রুনা রহমানের কাছে জিজ্ঞাসা করলে সে সাংবাদিকদের কাছে কথা বলতে রাজি হয়নি। বরগুনা সিভিল সার্জন ডাঃ ফজলুল হক বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




বরিশালে বাসাবাড়িতেই গড়ে উঠছে হাসপাতাল-ক্লিনিক

বরিশাল অফিস :: সরকারি বিধি উপেক্ষা করে বরিশাল জেলার গৌরনদীতে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। দালাল নির্ভর এসব প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে এসে প্রতারণার শিকার হন রোগীরা। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যত ব্যবস্থা নেন না স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন।

সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন পেতে প্রয়োজনীয় ভৌত সুবিধা, সার্বক্ষণিক ডাক্তার, ডিপ্লোমা নার্স, ওয়ার্ডবয়, আয়া, ক্লিনারসহ জনবল, যন্ত্রপাতি, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ থাকা আবশ্যক। প্রথমত ১০ বেডের একটি ক্লিনিকের অনুমোদনের ক্ষেত্রে শুধু রোগীর ওয়ার্ডের জন্য প্রতি বেডে ৮০ বর্গফুট করে মোট ৮০০ বর্গফুট জায়গা লাগবে। সেই সঙ্গে অস্ত্রোপচার রুম, পোস্ট অপারেটিভ রুম, ওয়াশ রুম, ইনস্ট্রুমেন্ট রুম, লেবার রুম, ডক্টরস ডিউটি রুম, নার্সেস ডিউটি রুম, অপেক্ষমাণ রুম, অভ্যর্থনাকক্ষ, অফিস রুম, চেইনঞ্জিং রুম, স্টেরিলাইজার রুম, ভাণ্ডার রুমসহ সামঞ্জস্যপূর্ণ অন্তত ১৩টি রুম থাকতে হবে।

দ্বিতীয়ত পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা প্রয়োজনীয় সংখ্যক টয়লেট, প্রশস্ত সিঁড়ি, জেনারেটরসহ প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে (ভবন তিনতলার অধিক হলে) লিফটের ব্যবস্থা থাকতে হবে। অপারেশন রুমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, টেবিল, পর্যাপ্ত লাইট, সাকার মেশিন, অ্যানেসথেসিয়া মেশিন, ডায়াথারমি মেশিন, জরুরি ওষুধসমূহের ট্রে, রানিং ওয়াটার, অক্সিজেন, আইপিএসের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

তৃতীয়ত সাধারণ বর্জ্য, ধারালো বর্জ্য, জীবাণুযুক্ত বর্জ্য, তরল বর্জ্যসহ সব ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও থাকা অত্যাবশ্যকীয়। জনবল কাঠামোতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, তিন জন ডিউটি ডাক্তার, ছয় জন ডিপ্লোমা নার্স, ওয়ার্ডবয়, আয়া, ক্লিনারসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকতে হবে সার্বক্ষণিক।

কিন্তু এসবের কোনো নিয়মই মানছে না গৌরনদী উপজেলার হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার না রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলেও গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আধা কিলোমিটারের মধ্যেই ১০ থেকে ১২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক রয়েছে। এ ছাড়া গৌরনদী বন্দর রোড, টিএন্ডটি মোড়, বাটাজোর হাট, বাকাই হাট ও হোসনাবাদ লঞ্চঘাট এলাকায় ছোট বড় প্রায় ৪০টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। আর অলিগলিতে ব্যাঙের ছাড়ার মতো গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালের উত্তর ও পশ্চিম প্রান্তের প্রাচীর ঘেঁষেই ৮ থেকে ১০টির মতো ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেরই প্রয়োজনীয় ভৌত (কক্ষ) সুবিধা ও প্যাথলজিক্যাল পরিবেশও নেই। অধিকাংশ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিবেশ, ফায়ার সার্ভিস ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লাইসেন্স নেই।

প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ডিউটি ডাক্তার, ডিপ্লোমা নার্স, টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রয়োজনীয় জনবল নেই। ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ।

উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, সরকারি বিধান না মেনেই বাসা-বাড়িতে ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। অনুমোদনের যে-সব বৈশিষ্ট্য পূরণ করতে হয় তার বালাই নেই। এরমধ্যে অনেকে অনুমোদন পেয়েছে, আবার নিয়ম না মেনে আবেদন করে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন।

নড়াইলে খেজুরের রস খেয়ে অসুস্থ ৬ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি
গৌরনদী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল ওহাব শিকদার বলেন, গৌরনদীর বেসরকারি ১৬টি হাসপাতাল ও ১৪টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য। সরকারি বিধিমোতাবেক যে সব হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাগজপত্র সঠিক আছে তাদেরকেই আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য করা হয়। সরকারি নিয়ম নীতি অনযায়ী ঢাকার পপুলার হাসপাতালও চলতে পারে না। সেখানে উপজেলা পর্যায়ে সম্পূর্ণ সঠিকভাবে চলা সম্ভব না। তার দাবি, উপজেলা পর্যায়ে পোস্ট অপারেটিভ রুম থাকার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে আমরা চেষ্টা করি ভালো সেবা দেওয়ার। রোগীর অবস্থা গুরুতর দেখলে তা দ্রুত বরিশাল পাঠানোর পরামর্শ দেই।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামান জানান, রেজিস্ট্রেশন ও নবায়নবিহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ রাখার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা রয়েছে। নরপোটিক্স লাইসেন্স, টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, পোস্ট অপারেটিভ রুম না থাকায় ৩ ডিসেম্বর গৌরনদী গ্রিন লাইফ হসপিটালকে ২০ হাজার টাকা ও বাটাজোর নিউ পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ডক্টরস চেম্বারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া অনুমোদন ছাড়া যেগুলো রয়েছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 




বরিশালে ঘরের কাছে স্মার্ট স্বাস্থ্য সেবা

এস এল টি তুহিন, বরিশাল:: যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন সন্তানসম্ভবা শাবনুর আক্তার। তার স্বামী হৃদয় মিয়া কী করবেন, বুঝতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে শাবনুরের শাশুড়ি খোদেজা বেগম তার পুত্রবধূকে নিকটস্থ পশ্চিম বেজহার কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) গায়ত্রী রানী পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, শাবনুরের এটি প্রসবব্যাথা নয়; এটি গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা। এরপর তিনি শাবনুরকে কিছু ওষুধ দিয়ে বাড়ি যেতে বলেন। সেই ওষুধ খাওয়ার পরেই শাবনুরের ব্যাথা কমে আসে।

ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত পশ্চিম বেজহার গ্রামের। গ্রামের অসংখ্য নারী গর্ভকালীন বিভিন্ন ধরনের ব্যাথাকে প্রসবব্যাথা বলে মনে করলেও আসলে তা প্রসবব্যাথা নয়। তা ফল্স পেইন। যেমনটি শাবনুরের বেলায় ঘটেছে। এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিকেও স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও পুষ্টিসেবা দেওয়া হচ্ছে। সেইদিনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে শাবনুর আক্তার বলেন, সাধারণত কোন হাসপাতাল কিংবা বেসরকারি ক্লিনিকে যেকোন সমস্যা নিয়ে গেলে প্রথমেই চিকিৎসকরা বিভিন্ন পরীক্ষার করাতে দিয়ে থাকেন। ওই পরীক্ষা করাতে গিয়েই রোগী প্রথমপর্যায়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এরপর চিকিৎসকদের ভিজিট দেওয়ার পরে দেখা যায় সাধারণ রোগীরা চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধই ক্রয় করতে পারছেন না। সেখানে পুরোটাই উল্টোচিত্র কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে। এখান থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আমরা যেকোন ধরনের সাধারণ রোগের চিকিৎসা ও বিনামূল্যে ওষুধ পাচ্ছি। অথচ কিছুদিন পূর্বেও ছোটখাটো রোগের চিকিৎসা নিতে উপজেলা সদরের সরকারি হাসপাতাল কিংবা বেসরকারি ক্লিনিককে যেতে হতো। যা এখন আর লাগে না। বর্তমানে হাতের কাছে ও ঘরের পাশে স্মার্ট কমিউনিটি ক্লিনিক বদলে দিয়েছে গ্রামীণ জনগোষ্ঠির স্বাস্থসেবার মান। প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপথে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়ে অসহায় সাধারণ মানুষের জীবনে এনে দিয়েছে স্বস্তি। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় যে উন্নতি সাধন করেছে, তাতে কমিউনিটি ক্লিনিকের বড় ভূমিকা রয়েছে।

ভীমেরপাড় কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা অন্তঃসত্ত্বা মাসুদা বেগম বলেন, এ ক্লিনিকটি থাকায় আমরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পাচ্ছি। একইসাথে আমাদের বেশ কয়েক ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। যারমধ্যে রয়েছে ৩০টি আয়রন ট্যাবলেট, ৩০টি ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স ট্যাবলেট ও ৩০টি ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট। মাসুদা বেগম আরও বলেন, আমার স্বামী দিনমজুর। সংসারে অর্থ কষ্ট রয়েছে। সন্তান প্রসব নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। বিনামূল্যে ওষুধ ও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেয়ে বর্তমানে আমরা অনেকটা চিন্তা মুক্ত হয়েছি।

পশ্চিম বেজহার কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি গায়ত্রী রানী ও ভীমেরপাড় কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি আশীষ কুমার বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে মাতৃত্বকালীন পাঁচটি বিপদের আশঙ্কা, গর্ভবর্তী মায়ের স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি মায়ের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা এবং মা ও শিশুর শারীরিক যত্নসহ স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন সুবিধা পাচ্ছেন গ্রামীণ জনপথের নারীরা। সিএইচসিপি গায়ত্রী রানী বলেন, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০ জন করে রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।

এরমধ্যে সাধারণ রোগী সেবা, বাচ্চাদের শুন্য থেকে পাঁচবছর পর্যন্ত সেবা, গর্ভবতী মায়েদের ডেলিভারী সেবাসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা সেবা রয়েছে। সিএইচসিপি আশীষ কুমার বলেন, বর্তমানে বিনামূল্যে ২৭ প্রকারের ওষুধ বিতরণ করা হয়। প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত এসব স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হচ্ছে। আর রোগীর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সবধরনের পরামর্শমুলক স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার কল্যাণ সহকারী প্রত্যেকে ন্যূনতম তিন দিন কমিউনিটি ক্লিনিকে উপস্থিত থেকে সেবাদান করেন। তিনি আরও বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকে গ্রামীণ মানুষের চাহিদা অনুযায়ী বিনামূল্যে স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও পুষ্টিসেবা দেওয়া হয়। ক্লিনিকের নারীরা প্রসবপূর্ব (গর্ভকালীন), প্রসবকালীন ও প্রসব-উত্তর (প্রসবের পরবর্তী ৪২ দিন) অত্যাবশ্যকীয় সেবা প্রদান করেন। সদ্য প্রসূতি মা (ছয় সপ্তাহের মধ্যে) এবং শিশুদের (বিশেষত মারাত্মক পুষ্টিহীন, দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া ও হামে আক্রান্ত) ভিটামিন-‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হয়। এছাড়াও নারী ও কিশোরীদের রক্তশূন্যতা চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানের পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ দেওয়া হয়। কমিউনিটি ক্লিনিকে শিশুদের প্রতিষেধক এবং ১৫-৪০ বছর বয়সী নারীদের ধনুষ্টংকারের টিকা দেওয়াসহ ১৫ বছরের কম বয়সের শিশুদের মধ্যে সন্দেহজনক এএফপি (হাত-পা বা যেকোনো অঙ্গ হঠাৎ অবশ হওয়া বা দুর্বল হওয়া) শনাক্ত করার পর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

নবজাতকের অত্যাবশ্যকীয় সেবাদানসহ আগ্রহী নারীদের আই.ইউ.ডি স্থাপন, প্রথম ডোজ গর্ভনিরোধক ইনজেকশন প্রদান এবং জন্মনিরোধকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ সংকট, বেতন বন্ধসহ প্রজেক্টের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে কাজ করা সিএইচসিপিসহ অন্যান্যরা প্রতিনিয়ত চাকরির অনিশ্চয়তার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপক কাজ করছে। বিশেষ করে প্রত্যন্তগ্রামাঞ্চলের সবার কাছে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রধান ভূমিকা রাখছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম এই উদ্যোগ গ্রামাঞ্চলে এখন ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে। ক্লিনিকগুলোতে আন্তরিক পরিবেশে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে সম্পূর্ণ সরকারিভাবে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের মাধ্যমে পল্লী অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নত করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সূত্রমতে, সম্প্রতি সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও কমিউনিটি ক্লিনিক সহায়তা ট্রাস্টের সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী বরিশালের বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করেছেন। ওইসময় তিনি কমিউনিটি গ্রুপ ও কমিউনিটি সাপোর্ট গ্রুপের নিয়মিত সভা আয়োজন বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কর্মীদের নানা দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

পরবর্তীতে তিনি বরিশাল বিভাগের সকল সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে বলেছিলেন, স্মার্ট কমিউনিটি ক্লিনিক হচ্ছে প্রান্তিক জনগণকে স্মার্ট করা। আমাদের মূল পিলার হচ্ছে সরকার প্রধান শেখ হাসিনা। যিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পর এবার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার ব্রত গ্রহণ করেছেন।

সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী আরও বলেছেন, বিশ্বের অনেক দেশই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেখানো পথে কমিউনিটি ক্লিনিকের আদলে তাদের নিজ নিজ দেশের প্রান্তিক জনগোষ্টির জন্য স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারীদের ক্ষমাতয়ন করেছেন উল্লেখ করে ডাঃ মোদাচ্ছের আলী বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারীদেরও কমিউনিটি ক্লিনিকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এতে করে নারীরা একদিকে যেমন অর্থ উর্পাজন করতে সক্ষম হয়েছেন, তেমনি ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সম্মানিত হয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছর বরিশাল জেলার ১০টি উপজেলার ২৭৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে সর্বমোট প্রায় ৩ লাখ ৬৩ হাজার পুরুষ, ৮ লাখ ৫ হাজার নারী এবং ৯০ হাজার ৩শ’ শিশুকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানসহ বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, পরিবার-পরিকল্পনা ও পুষ্টি বিষয়ক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে ক্লিনিকগুলোতে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণকারীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে দেশে অন্তঃস্বত্ত্বা মা ও শিশু মৃত্যুহার হ্রাস পেয়ে মানুষের গড় আয়ুবৃদ্ধি পেয়েছে। সচেতন নাগরিক কমিটির বরিশাল জেলার সদ্য সাবেক সভাপতি প্রফেসর শাহ্ সাজেদা বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের সুফল প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় ঝাড়-ফোক-তাবিজ-কবিরাজি ইত্যাদি অপচিকিৎসা অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। গ্রামের মানুষ এখন বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে অবহেলিত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে।

বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মারিয়া হাসান বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা নারী ও শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি। এসব রোগীরা মুলত গর্ভবর্তী মায়ের স্বাস্থ্যসেবা, শিশু স্বাস্থ্য ও সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসেন। বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ পেয়ে সাধারণ মানুষ খুব খুশি। গ্রামীণ জনপদের দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের ছয়টি জেলার ৪২টি উপজেলার ৩৫২টি ইউনিয়নের পল্লী অঞ্চলে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিক। বরিশাল, ঝালকাঠী, ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলার পিছিয়ে পড়া গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর শতভাগ স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করেছে এক হাজারেরও বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক। প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের এখন আর অপচিকিৎসার শিকার হয়ে অকালে প্রাণ দিতে হচ্ছেনা। তাই এ অঞ্চলের প্রায় এক কোটি বাসিন্দাদের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রথমস্থান হচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিক।

সূত্রে আরও জানা গেছে, বিভাগের ছয় জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ৩১টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে। এরমধ্যে বরিশালে ২৭৫টি, ভোলায় ২১১টি, পটুয়াখালীতে ১৮৪টি, পিরোজপুরে ১৫৪টি, বরগুনায় ১২০টি ও ঝালকাঠীতে ৮৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এ ছাড়া বিভাগের জন্য আরো ১২৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হবে বলেও সূত্রটি নিশ্চিত করেছেন।




ফেব্রুয়ারিতে বাড়তে পারে করোনা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  শীতে ফ্লু ভাইরাস, রাইনোভাইরাস এবং শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাসের মতো অন্যান্য মৌসুমি ভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যায়। এর মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে করোনার নতুন উপধরন জেএন.১। গত ডিসেম্বরে (২০২৩) করোনায় সংক্রমণের হার বেড়েছে চার গুণের বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনার মূল চিত্র এর থেকেও বেশি। শীত কমলে চলতি বছরের (২০২৪) ফেব্রুয়ারি মাসে করোনা সংক্রমণ কয়েক গুণ বাড়তে পারে। তবে, করোনার নতুন ধরন নিয়ে আতঙ্ক হওয়া কিছু না থাকলেও সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারাদেশে শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। শনাক্ত রোগীদের ৩২ জনই ঢাকা মহানগরে এবং একজন করে কক্সবাজার ও চাঁদপুরে। তবে, এসময়ে আক্রান্তদের মধ্যে কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সারাবিশ্বে করোনা সংক্রমণের প্রায় অর্ধেকেই নতুন এ ধরনের সংক্রমণ দ্বারা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও) এটিকে কড়া নজরে রেখেছে এবং করোনার এ উপধরনকে ‘ভ্যারিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট’ বা ‘আগ্রহের বৈকল্পিক’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করেছে। নতুন ধরন জেএন.১-এর লক্ষণ আগের ধরনগুলোর মতোই (যেমন জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা, মাথাব্যথা, স্বাদ বা গন্ধ হারানো ও ক্লান্তি ইত্যাদি)। এছাড়া গুরুতর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা, ডায়রিয়া ও বিভ্রান্ত বোধ করা।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, করোনার মূল চিত্র অনেক বেশি। সাধারণ মানুষ ঠান্ডা জ্বর মনে করে নিয়মিত পরীক্ষা করছেন না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত (২৬ জানুয়ারি ২০২৪) দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা ২০ লাখ ৪৬ হাজার ৯৩৫ জন। মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৪৮১ জনে। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ৯১ শতাংশের বয়স ৪০ বছরের বেশি। মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৬৪ শতাংশ, ৩৬ শতাংশ নারী। আর মোট আক্রান্তের ৫১ শতাংশ ও মৃতের ৩০ শতাংশ ঢাকা মহানগরের। ঢাকার পর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে ২০ শতাংশ ও খুলনা বিভাগে ১২ শতাংশ।

দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। এ বছর শনাক্ত হয় ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫১০ জন। মারা যায় ৭ হাজার ৫৫৯ জন। এর পরের বছর ২০২১ সালে শনাক্ত হয় ১০ লাখ ৭২ হাজার ২৯ জন। মারা যায় ২০ হাজার ৫১৩ জন। এ বছরের ২৮ জুলাই সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জন শনাক্ত হয়। ২০২২ সালে শনাক্ত হয় ৪ লাখ ৫১ হাজার ৫৮৬ জন। মারা যায় এক হাজার ৩৬৮ জন। আর গত ২০২৩ সালে শনাক্ত হয় ৯ হাজার ১৮৯ জন। মারা গেছে ৩৭ জন।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা মুশতাক হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, শীতকালে বাংলাদেশে করোনা রোগী কিছুটা কম থাকে। তবে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি শীত কমলে সংক্রমণ বাড়তে পারে। বর্তমানে করোনার নতুন উপধরন জেএন.১-এর কারণে সংক্রমণ হারও বেড়েছে।

নতুন এ উপধরন সম্পর্কে তিনি বলেন, নতুন উপধরন মারাত্মক না হলেও সংক্রমণ হার অনেক বেশি। আমদের মনে রাখতে হবে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য করোনা মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তাই ষাটোর্ধ্ব ও কোমরবিডি (দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা) রোগাক্রান্তদের জন্য হুমকি হতে পারে। তাই এ সংক্রমণ থেকে বাঁচতে বেশি প্রয়োজন সচেতনতা।

নতুন এ ধরনের বিরুদ্ধেও করোনা টিকা কার্যকর জানিয়ে মুশতাক হোসেন বলেন, যারা মেডিকেল বা হাসপাতালে কাজ করেন। যাদের বয়স ৬০ এর বেশি, কোমরবিডিটি আছে তাদের মাক্স পরা জরুরি। এছাড়া যারা এখনো চতুর্থ ডোজের টিকা নেননি তাদের দ্রুত টিকা নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের গত ২৫ জানুয়ারির তথ্যমতে, ২৩১ দেশে একদিনে ১৩ হাজার ৩৮০ জনের করোনা শনাক্ত এবং মৃত্যু ১০৯ জনের। এসময়ে সবচেয়ে বেশি নয় হাজার ২৫২ শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, আর মৃত্যু হয়েছে ৪৮ জনের। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত ১ হাজার ৮৩৫ জন, জার্মানিতে ৮৬১ জন, পোল্যান্ডে ৫৯৪ জন। আর ভারতে শনাক্ত ১৯৮ জন ও মৃত্যু একজনের।

বাংলাদেশে ফের করোনা সংক্রমণের শঙ্কা দেখা দেওয়ায় দেশব্যাপী নতুন করে তৃতীয় ও চতুর্থ ডোজ টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফাইজার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কার্যক্রমের প্রথম, দ্বিতীয় এবং বুস্টার ডোজ বিতরণ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর ৯টি জায়গায় দেওয়া হচ্ছে করোনা টিকা।

নির্দেশনা অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মিটফোর্ড হাসপাতাল), শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতাল, ফুলবাড়িয়া সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে দেওয়া হচ্ছে টিকা।

এর পরবর্তী ধাপে ঢাকার বিভিন্ন বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট ও সরকারি হাসপাতাল, ঢাকার বাইরের সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ভ্যাকসিন বিতরণের মাধ্যমে কোডিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

আড়াই কোটি ডোজ টিকা সংগ্রহ
সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) সূত্রে জানা গেছে, আড়াই কোটি ডোজ টিকা সংগ্রহ নিশ্চিত করেছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে চতুর্থ ডোজ হিসেবে এসব টিকা দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স বিভাগের সদস্যসচিব ডা. মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, আমরা প্রয়োজনীয় টিকাকেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়েছি। টিকা কার্যক্রম চলছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মী, ৬০ বছর এবং তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠী, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ১৮ বছর এবং তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠী, স্বল্প রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রাপ্ত বয়স্ক (১৮ বছর এবং তদূর্ধ্ব) জনগোষ্ঠী ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের প্রাধান্য দিয়ে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সবাইকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।