বাউফলে মাদক কারবারিকে ৬ মাসের কারাদণ্ড

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর বাউফলে এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করে ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা অর্থদণ্ডের সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার রাতে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের বড় ডালিমা এলাকায় মাদক কারবারিকে এই সাজা দেয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. বশির গাজী।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি একাধিক মাদক মামলার আসামি। তার নাম সাগর শিকদার (৩৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাগরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ের বাউফল থানার ৭টি মাদক মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। শুক্রবার রাতে মাদক সেবনরত অবস্থায় তাকে আটক করে পুলিশ। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি ঘটনা স্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের আওতায় আসামিকে ৩৬ এর ১৯ (ক) ধারায় ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা অর্থদণ্ডের সাজা প্রদান করেন।

সাগর শিকদার বাউফল উপজেলার বড় ডালিমা গ্রামের মৃত. দেলোয়ার শিকদারের ছেলে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শোনীত কুমার গায়েন বলেন, ‘সাগর শিকদার নিয়মিত মাদক কারবারিকে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। শুক্রবার রাতে মাদক সেবনরত অবস্থায় তাকে আটক করে পুলিশ। বিষয়টি আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আসামিকে আইনের আওতায় নিয়ে আসেন।’




চিলিতে দাবানলে ১০ জনের মৃত্যু

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  চিলিতে দাবানলের ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। দাবানল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দমকলের কর্মীরা। গত শুক্রবার দাবানলের সূত্রপাত হয়। এরপর থেকেই পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে। সে কারণে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করতে বাধ্য হয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক। খবর এএফপির।

চিলির ভিনা দেল মার এবং ভালপারাইসো এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে শত শত বাড়ি-ঘর। আগুন আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই বহু মানুষ নিজেদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।

ভালপারাইসোর কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রতিনিধি সোফিয়া গঞ্জালেস কর্টেস বলেন, আমাদের কাছে প্রাথমিক তথ্য রয়েছে যে বেশ কয়েকজন মারা গেছে। এই সংখ্যা প্রায় ১০ জন বলে জানা গেছে।

রাজধানীর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এস্ট্রেলা এবং নাভিদাদ শহরে আগুনে প্রায় ৩০টি বাড়ি পুড়ে গেছে। সেখানকার লোকজনকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

৬৩ বছর বয়সী ইয়েভোনি গুজম্যান বলেন, আমি এর আগে এ ধরনের কোনো ঘটনা দেখিনি। দাবানলের আগুন যখন তাদের বাড়ির কাছে চলে আসতে শুরু করে তখন তিনি তার বয়স্ক মাকে সঙ্গে নিয়ে পালাতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, এটা খুবই কষ্টের কারণ আমরা নিজেদের বাড়ি ছেড়ে এসেছি কিন্তু আমরা এখনও নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারিনি।

নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেক লোক একসঙ্গে রাস্তায় নেমে আসায় যানবাহনের চাপও বেড়ে গেছে। ফলে দীর্ঘ সময় একই জায়গায় তাদের অসহায় ভাবে বসে থাকতে দেখা গেছে।

প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দাবানল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের কৌশল ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যেই সব বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

চিলির জাতীয় বন অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুধুমাত্র ভালপারাইসো এলাকায় দাবানলে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। সেখানকার দাবানল পরিস্থিতিকে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।




গলাচিপায় শ্যালকের হাতে দুলাভাই খুন

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর গলাচিপায় শ্যালকের লাঠির আঘাতে দুলাভাই জহিরুল আলমের (৪১) মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে শ্যালক তরিকুল ইসলামকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জহিরুল পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের মৃত সিরাজুল আলমের ছেলে।

সূত্র জানায়, ৩১ জানুয়ারি দুপুরে জহিরুল তার শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যায়। বিকেলে পারিবারিক কলহের জেরে শ্যালক তরিকুলের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়।
এক পর্যায়ে জহিরুলকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন তরিকুল। মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয়রা জহিরুলকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।




বরিশালে স্বাস্থ্য সচেতনতায় গানের কনটেন্ট তৈরি করবে সিরাক

বরিশাল অফিস :: কিশোর-কিশোরীদের পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করার লক্ষ্যে বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় জারিগানে কনটেন্ট নির্মাণ করবে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিরাক বাংলাদেশ।

এ লক্ষ্যে বরিশাল নগরীর বটতলা এরিয়ার হোটেল ‘রোজ ইন’ এর মিলনায়তন কক্ষে বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সাড়ে দশটায় ‘কনটেন্ট ভ্যালিডেশন’ শীর্ষক একটি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়।

ইউএসআইডির অর্থায়নে জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিগরি সহায়তায় ‘নলেজ সাকসেস’ শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য ও পরিচিতি পর্ব পরিচালনা করেন, সিরাক বাংলাদেশের উপ-পরিচালক মো.সেলিম মিয়া। বিষয়ভিত্তিক প্রকল্প উপস্থাপন করেন সিরাক বাংলাদেশ এর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার নুসরাত শারমিন রেশমা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবার পরিকল্পনার বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক মো. নিয়াজুর রহমান বলেন, সরকার সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজনন স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে। এটি খুবই জরুরি একটি বিষয়। আর সচেতনতা তৈরির মাধ্যম হিসেবে বক্তব্য ও সাধারণ কথার চেয়ে আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত জারিগান, পথ নাটক বা পুঁথিপাঠ প্রভাবশালী মাধ্যম।

তিনি আরও বলেন, এসব কনটেন্টের মাধ্যমে সহজেই সহজ ভাষায় কৈশোর ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়গুলোকে মানুষের সামনে উপস্থাপন করা যাবে। সিরাক-বাংলাদেশ আঞ্চলিক ভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে যে প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছে তা সকল অঞ্চলের কিশোর-কিশোরীদের তথ্য প্রাপ্তির মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টিকে আরো ত্বরান্বিত করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিবার পরিকল্পনার বরিশাল জেলা এর সহকারী পরিচালক মো. নকিবুল হাসান ও মো. সাইদুর রহমান, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুপ্রভাত হালদার, বরিশাল জেলা প্রশাসকের সহকারী কমিশনার দেবজামিকর, সভাপতির বক্তব্য রাখেন পরিবার পরিকল্পনা উপপরিচালক মো: মিজানুর রহমান। সমাপনী বক্তব্য রাখেন সিরাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এসএম সৈকত।

সিরাক-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এসএম সৈকত সমাপনী বক্তব্যে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সব মানুষের দোরগোড়ায় পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক পরিষেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের পাশাপাশি এই উন্নয়ন পরিকল্পনা আরো ত্বরান্বিত করতে দেশের ৫ জেলায় (বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী) কিশোর-কিশোরীদের পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক অডিও এবং ভিডিও কনটেন্ট তৈরিতে কাজ করছে। তবে এবার আঞ্চলিক ভাষায় (জারি, গম্ভীরা, পালা, ধামাইল, গীতিনাট্য) গানে কনটেন্ট তৈরিতে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিরাক বাংলাদেশ।

উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সিরাক-বাংলাদেশের বিভাগীয় সমন্বয়কারী মো. নাঈম হোসেন খান, এবং বরিশালের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, সিরাক-বাংলাদেশ ১৯৯১ সালে এর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মানবাধিকার, বাল্যবিবাহ ও যৌন সহিংসতা রোধ, নারী, শিশু ও তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক সচেতনতা, কর্মমুখী শিক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা, স্বাস্থ্য অধিকার, নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকারের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সারাদেশে সুনামের সাথে বিভিন্ন প্রকার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

এছাড়াও জাতিসংঘের ইসিওএসওসির সাথে বিশেষ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তরুণদের নীতি ও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সিরাক বাংলাদেশ সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতে নিবন্ধিত একটি সংস্থা।




আগুনে নিহত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরীর সিএন্ডবি রোড এলাকায় সোমবার( ৩০ জানুয়ারী) দিবাগত রাত ৩টার দিকে অগ্নিকান্ডে ৪টি দোকান পুড়ে ছাঁই হয়ে গেছে। এ সময় একটি দোকানের ভেতরে থাকা বাকেরগঞ্জ উপজেলার নাঙ্গলিয়া গ্রামের বাসিন্দা সজীব জমাদ্দার নিহত হন।

বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অফিস কক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত সজিবের বাবা আবুল কালাম জমাদ্দার কে ২৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক বরিশাল শহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা রনজিত কুমার সরকার, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান।

সজিব ইনফ্রা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেক্ট্রনিক বিভাগের পঞ্চম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি পার্সের দোকানে ম্যানেজার হিসেবে চাকুরি করতেন বলে জানা যায়।




ক্ষমা চাইলেন মার্ক জাকারবার্গ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : অনলাইনে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের শুনানির সময় ক্ষতিগ্রস্ত বাবা-মায়েদের দিকে তাকিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন মেটার প্রধান নির্বাহী (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ। এদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যৌন নিপীড়ন বা হয়রানির শিকার হয়ে মারা যাওয়া সন্তানদের ছবি নিয়ে সিনেট ফ্লোরে এসেছিলেন বাবা-মায়েরা।

জাকারবার্গ বলেন, আপনারা যা কিছুর মধ্য দিয়ে গেছেন, এ জন্য আমি দুঃখিত। আপনাদের পরিবার যে ক্ষতির শিকার হয়েছে, এ রকম হওয়া উচিত নয়। আর এ কারণে আমরা এত বিনিয়োগ করি। যেন এমনটি যেন আর কারও সঙ্গে না হয়। আর এ জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

বুধবার কংগ্রেসে ‘বিগ টেক অ্যান্ড দ্য অনলাইন চাইল্ড সেক্সুয়াল এক্সপ্লয়টেশন ক্রাইসিস’ শীর্ষক শুনানিতে যে পাঁচজন নির্বাহীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, তাদের একজন জাকারবার্গ। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন- এক্স-এর লিন্ডা ইয়াকারিনো, টিকটকের শো জি চিউ, স্ন্যাপের ইভান স্পিগেল এবং ডিসকর্ডের জেসন সিট্রন।

মার্কিন জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো অনলাইনে যৌন হয়রানি থেকে শিশুদের রক্ষায় যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে না। তারা আরও কঠোর আইন চান। একই সঙ্গে এখন পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপ বিষয়ে নির্বাহীদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চান মার্কিন জনপ্রতিনিধিরা।

মার্কিন সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, অনলাইনে শিশু যৌন নিপীড়ন বা হয়রানির অভিযোগ  তদন্তের জন্য এ শুনানি ডাকা হয়েছে।




সরিষায় ক্ষতিকর কিছু নেই: ভোজ্য তেলের চাহিদার ৪০ ভাগ সরিষায় পূরণের টার্গেট

অনলাইন ডেস্ক : দেশে ভোজ্য তেলের যে চাহিদা রয়েছে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে সেই চাহিদার ৪০-৫০ শতাংশ মেটানো হবে সরিষার তেল দিয়ে। আর এই লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে গতবছর থেকেই সরিষার চাষ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কৃষিবিভাগ ইতিমধ্যে ১২ লাখ কৃষককে বীজ, সারসহ নানামুখী প্রণোদনাও দিয়েছে, যাতে কৃষকরা সরিষা আবাদে আগ্রহী হয়।

কৃষি বিভাগের এই উদ্যোগের প্রভাব পড়েছে মাঠেও। আমন আবাদের পর মাঠ জুড়ে সরিষার আবাদ দেখা যাচ্ছে দেশ জুড়ে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ধানের উৎপাদন না কমিয়েই আগামী ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের মধ্যে স্থানীয়ভাবে ১০ লাখ টন তেল উৎপাদন করা হবে, যা চাহিদার শতকরা ৪০ ভাগ। এর ফলে তেল আমদানিতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (গবেষণা) ড. আবদুল্লাহ ইউছূফ আখন্দ বলেন, সরিষার ক্ষতিকর দিক হিসেবে যা বলা হচ্ছে তা ঠিক নয়। এই তেলে অনেক গুনাগুন রয়েছে। যুগ যুগ ধরে আমাদের দেশে সরিষার তেল খাওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ক্ষতি হচ্ছে এমন কোনো প্রমাণ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ সরিষা কেন খাচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, সে দেশে প্রচুর সয়াবিন, সূর্যমুখী আবাদ হয়। এ কারণে তারা সেটা গ্রহণ করছে। সরিষা ক্ষতিকর এ কারণে তারা সয়াবিন খাচ্ছে এটা ভুল ধারণা।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) গতবছর জানিয়েছে, দক্ষিণ এশীয়রা হৃদযন্ত্রের সক্রিয়তা বজায় রাখতে সহায়তা করে এমন খাদ্য উপাদানের পরিবর্তে ইউরিক এসিড এবং ফ্যাটি এসিডযুক্ত খাবার বেশি গ্রহণ করে থাকে। সরিষার তেলে প্রচুর পরিমাণে ইউরিক অ্যাসিড রয়েছে।

তথ্য বলছে, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশ রান্নার ক্ষেত্রে কতটুকু সরিষার তেল গ্রহণ বা ব্যবহার করা যাবে তার ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে ভারতে লিপিড অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (এলএআই) সরিষার তেলকে হৃদযন্ত্রের জন্য স্বাস্থ্যকর হিসেবে সুপারিশ করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে সরিষা নিয়ে গবেষণা করছেন কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোবারক আলী। তিনি বলেন, শীর্ষ কিছু জার্নালে সরিষা তেলের অপকারিতা সম্পর্কে বললেও তারা একই সঙ্গে বলেছে ‘ক্ষতি হতে পারে। তবে ক্ষতি হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ নেই।’ আবার এসব জার্নালে ব্যাবসায়িক প্রপাগান্ডাও থাকে বলে জানান এই গবেষক।




পটুয়াখালীতে বাড়ছে গোলপাতার গুড়ের কদর

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার কলাপাড়া উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে দেখা মিলল ৯৪ বছর বয়সি হোসেন আলী মুন্সির। তার বাড়ি সংলগ্ন বেড়িবাঁধের বাইরে গোল গাছের সারি।

জানালেন ব্রিটিশ আমল থেকেই গোল চাষের সঙ্গে যুক্ত আছেন তিনি। গাছ থেকে আহরণ করেন গোলের রস। সে রস থেকে তৈরি হয় সুস্বাদু গুড়। খেজুর রস বা আখের রস থেকে গুড় উৎপাদনের খবর সবার জানা থাকলেও গোলের গুড় সম্পর্কে অনেকেরই জানা নেই। কিন্তু সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে গোল পাতার গাছ থেকে গুড় তৈরি হওয়ার ব্যাপারটি বেশ পুরোনো। পটুয়াখালী বা এর আশপাশের অঞ্চলে এই গুড় বহুল পরিচিত।

গোল গুড় তৈরির প্রক্রিয়া অনেকটা খেজুর গুড় তৈরির মতোই। ভাদ্র-আশ্বিন মাসে গোল গাছ পরিষ্কার করে ছড়া (গাছের যে অংশে ফল ধরে) নিচু করে বেঁধে দিতে হয়। এরপর আরও দেড় মাস ছড়া প্রতিদিন ঘষে ঘষে আরও নিচু করে দিতে হয়। কারণ ছড়া যত নিচু হবে রস আহরণে তত সুবিধা। অগ্রহায়ণ মাসের শেষের দিকে রস আহরণের সুবিধার্থে টানা ৭-৮ দিন দিনে দুই বেলা করে ছড়া কেটে দিতে হয়। এরপর ছড়ায় রস আসতে শুরু করে। কেটে দেওয়া প্রতিটি ছড়ায় পাত্র বেঁধে দেওয়া হয়। এক-একটি ছড়া থেকে আধা কেজি থেকে এক কেজি পর্যন্ত রস পাওয়া যায়। লবণাক্ত মাটিতে জন্মানো সত্ত্বেও গোল গাছের রস অন্য যেকোনো রসের চেয়ে বেশি ঘন আর মিষ্টি। রোজ সকালে গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন চাষিরা। বাড়িতে রস জ্বাল দেওয়া হয়। রস জ্বাল দেওয়া বিশেষ পাত্রের নাম ডোঙ্গা। সেই ডোঙ্গায় ৪-৫ কেজি রস জ্বাল দিলে এক কেজি গুড় পাওয়া যায়।

এই এলাকায় বর্ষীয়ান গুড় চাষিদের একজন হোসেন আলী মুন্সি। তিনি নামেও মুন্সি আর কাজেও রেখেছেন মুন্সিয়ানার ছাপ। তার কাছ থেকে জানা গেল, গোল চাষ করতে প্রচুর লবণাক্ত পানি লাগে। পানি বেশি পেলে রস ভালো হয়। তার মতো অনেক বর্ষীয়ান গুড় চাষির হাত ধরেই গোল গুড়ের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। গুড় বিক্রি করে চলে তাদের সংসার। তার দেখাদেখি তার ভাই, তার ছেলে-মেয়েরাসহ আশপাশের অনেকেই গুড় চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

নিজের তৈরি করা গুড় নিয়ে কারিগর হোসেন আলী মুন্সি বলেন, ‘আমাগো গুড়ে কোনো ভেজাল নাই। আগে বাজারে লইয়া যাইতাম, এহন বাড়ি আইয়া মাইনসে গুড় কিন্যা লইয়া যায়। এ বছর ১৮০-২০০ টাকা দরে গুড় বেচতাছি। আমার ২০ কানি বাগান, যে রস পাই হেয়াতে প্রতিদিন ৫-৬ কেজি গুড় হয়। এইয়া দিয়াই সংসার চলে।’

গোল চাষের সীমাবদ্ধতা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে হোসেন আলী মুন্সি বলেন, ‘আগে খালগুলা ছাড়া আছেলে এহন জায়গায় জায়গায় বান দিয়া পানি চলাচল বন্ধ কইরা ফালাইছে। অনেক জায়গায় খাল ভরাট হইয়া গেছে। ক্ষেতে ঠিকমতো পানি আয়ে না। হের লইগ্যা সেচ দেওয়া লাগে। সেচ দেতে অনেক খরচ হইয়া যায়। সরকার যদি এদিক নজর দেতে হেইলে আমাগো অনেক সুবিধা হইতো।’

জানা যায়, কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী ও গলাচিপা উপজেলার প্রায় ১০টি ইউনিয়নে হয় গোলের চাষ। বর্তমানে মিঠাগঞ্জে শতাধিক পরিবার গোল চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। গোল গাছ থেকে শুধু রস বা গুড়ই নয়, গোলপাতা ঘরের ছাউনি বা বেড়া তৈরিতে লাগে। গোলপাতা বিক্রি করে বাড়তি আয় করেন চাষিরা। এ ছাড়া গোল ফল বা গাবনা তালের শাঁসের মতো খাওয়া যায় এবং এর অবশিষ্টাংশ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পানি প্রবাহ ঠিক রাখাসহ সরকারের তরফ থেকে বীজের সুবিধা পেলে এসব এলাকায় গোল চাষ আরও ত্বরান্বিত হবে।

একই এলাকার গোল গুড় উৎপাদক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যে গুড় বানাই তাতে কোনো ভেজাল নাই। গুড় বানাইতে কোনো কেমিক্যাল দেই না। এই গুড়ের স্বাদ অন্য গুড়ের চেয়ে ভিন্ন। এই গুড়ের কারণে আমাগো এলাকায় অনেক মানুষ আসে। খাঁটি গুড়, এহন অনলাইনেই কাস্টমার বেশি।’

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গোল গাছ লবণাক্ত পানিতে হয়। তাই এই গুড় কিছুটা নোনা এবং খনিজ উপাদানে ভরপুর। গোল চাষ সম্প্রসারণে উপকূলীয় অঞ্চলে নদী তীরে ১০ লাখ চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ।




জিরা ভেজানো পানি পান করলে ত্বকের যে ৫ উপকার হয়




আজ ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালকের দায়িত্ব নেবেন পুতুল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বৈশ্বিক মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. সায়েমা ওয়াজেদ পুতুল আজ (বৃহস্পতিবার) আগামী ৫ বছরের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালকের (আরডি) দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। গত ১ জানুয়ারি সংস্থাটির আঞ্চলিক কমিটির অধিবেশনে তাকে এ পদে মনোনীত করা হয়।