তেল চিনি চাল খেজুরে ভ্যাট-শুল্ক কমিয়েছে সরকার

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে চাল, চিনি, তেল ও খেজুরে ভ্যাট ও শুল্ক কমিয়েছে সরকার। এরমধ্যে খেজুরে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ, চালে রেগুলেটরি ডিউটি ২০ শতাংশ, তেলে মূসক ৫ শতাংশ ও চিনিতে শুল্ক প্রত্যাহার করেছে রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

গত ২৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে রমজান উপলক্ষ্যে ভোজ্যতেল, চিনি, খেজুর ও চালের ওপর শুল্ক কমানোর নির্দেশ দেন সরকার প্রধান। শেখ হাসিনা বলেন, রমজানে যাতে এসব পণ্যের সরবরাহ কম না হয়।

সেই আলোকে মন্ত্রনালয়গুলো নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। মজুতদারির বিরুদ্ধে চলছে অভিযান।

উল্লেখ্য, রমজানে চিনি, তেল, খেজুর, চাল বেশি লাগে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন চালের আড়তে অভিযান চলছে।




পটুয়াখালীতে ২২৫ কোটির শুঁটকির বাজার

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): সাগরকন্যা কুয়াকাটাসহ দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষতিকর কোনো কেমিক্যাল মিশ্রণ ছাড়াই শুধু লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয় শুঁটকি মাছ।
এখানে আসা পর্যটকদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এ এলাকার বিষমুক্ত শুঁটকি। গত মৌসুমে ৪৬২ মেট্রিকটন শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত করেন শুঁটকি চাষিরা। যা থেকে তাদের আয় হয় ২২৫ কোটি টাকা।কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ও এর আশপাশের এলাকাসহ বিভিন্ন নদীর তীরে কাঁচা মাছ কেবল রোদে শুকিয়ে উৎপাদন করা হয় শুঁটকি।

শুঁটকি চাষিরা জানান, এ এলাকায় শুঁটকি উৎপাদন করার নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই। কয়েক বছর ধরে শীত মৌসুমে কুয়াকাটা সৈকত ও এর আশপাশের এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে অস্থায়ীভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। ক্রেতাদের চাহিদানুযায়ী শুঁটকি সরবরাহ করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ক্ষতিকর কোনো কেমিক্যাল মিশ্রণ ছাড়াই শুধু লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে মাছ। লেবুর বন, খাজুরা পয়েন্টসহ সৈকতের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে লবণ মেখে বাঁশের মাচা বানিয়ে রোদে শুকিয়ে তৈরি করা হচ্ছে শুঁটকি মাছ। এ পল্লীতে দেখা মেলে পোয়া শুঁটকি, সোনাপাতা, মধুফাইস্যা, রূপচাঁদা, শাপলাপাতা, চাপিলা, ফাইস্যা, লইট্রা, চিংড়ি, ছুড়ি, হাঙ্গর, ভোল, কোড়ালসহ অন্তত অর্ধশত প্রজাতির সুস্বাদু শুকনা মাছ। শুঁটকি পল্লীতে পছন্দের শুঁটকি সংগ্রহে ভিড় জমে পর্যটকসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদের।

যশোর থেকে আসা পর্যটক সাইফুল ইসলাম জানান, শুঁটকি আমাদের পরিবারের সবার খুবই প্রিয়। দেশের বিভিন্ন এলাকার শুঁটকি খেয়েছি। কুয়াকাটার শুঁটকির কথা শুনে এখানে এসেছি। বেশ কিছু শুঁটকি নিয়েছি। মেডিসিন ছাড়াই রোদে শুকানো হয় মাছ। তেমন কোনো গন্ধ নেই।

নড়াইল থেকে আসা মো. রুবেল আহসান- রোমানা ইসলাম বলেন, বহুদিন ধরে অফিস কলিগদের কাছে কুয়াকাটার শুঁটকির কথা শুনেছি। এখানে এসে দেখলাম আসলেই প্রাকৃতিকভাবে শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। লইট্টাসহ কয়েক ধরনের শুঁটকি কিনেছি। আত্মীয়স্বজনদেরও গিফট করব।

লেম্বুর বন এলাকার শুঁটকি উৎপাদনকারী হানিফ মিয়া জানান, সৈকতে প্রায় ৩০ বছর ধরে শুঁটকি মাছের ব্যবসা করছেন তিনি। প্রতি বছর            বিভিন্ন কারণে স্থান পরিবর্তন করতে হয় তাদের। এর ফলে তাদের অনেক সময় লোকসান গুনতে হয়। দোকানিদের চাহিদানুযায়ী মাছ শুকাতে পারছেন না। দোকানিরাও ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে পারে না। কুয়াকাটার একাধিক শুঁটকি দোকানিও একই কথা জানান।

জেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় মাছ শুকিয়ে শুঁটকি উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাত করেন চাষিরা। এসব এলাকায় শুঁটকি উৎপাদনে বা প্রক্রিয়াজাতকরণে মৎস্য অধিদফতরের চিন্তা আছে। প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলগুলোতে আমরা নিয়মিত ভিজিট করি। নিরাপদ মানসম্মত শুঁটকি উৎপাদন করার জন্য ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ৩৫২ শুঁটকি চাষিকে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর আগে বিভিন্ন ধরনের মাছি, পোকামাকড়ের উৎপাত থেকে বাঁচার জন্য চাষিরা কিছু ওষুধ ব্যবহার করতেন। প্রশিক্ষণের পর কোনো ওষুধ ব্যবহার না করে চাষিরা শুঁটকি উৎপাদন করছে। এখানকার শুঁটকি  আসলেই বিষমুক্ত এবং গন্ধ কম, সুস্বাদু ও মানসম্মত। এ অঞ্চলের চাষিরা গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪৬২ মেট্রিকটন শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত করে। যাতে তাদের আয় হয়েছিল ২২৫ কোটি টাকা।




রাঙ্গাবালীতে ১৫ লক্ষ টাকার অবৈধ জাল জব্দ  

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযানে ১৫ লক্ষ টাকা মূল্যের অবৈধ জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।

বুধবার দিবা গতো রাতে অভিযান চালিয়ে রাঙ্গাবালী নদী ও সাগর মোহনা থেকে এ জালগুলো জব্দ করা হয়।

উপজেলা মেরিন ফিশারিজ কর্মকর্তা এস এম শাহাদাত হোসেন  জানান, বিশেষ অপারেশনের  তৃতীয়  ধাপের দ্বিতীয় দিন বুধবার দিনভর অভিযান চালায় পুলিশ ও মৎস্য বিভাগ। যৌথ পরিচালিত এই অভিযানে উপজেলার সোনার চর, কলাগাছিয়া, চরআন্ডা এবং বঙ্গোপসাগরের মোহনা থেকে আনুমানিক ১১ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, ২১টি বেহুন্দি জাল এবং ১৭টি চরঘেরা জাল জব্দ করা হয়।
পরে জালগুলো সদর ইউনিয়নের  সামুদাবাদ স্লুইজ ঘাট এলাকায় পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। যার বাজার মূল্য আনুমানিক প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার।

তিনি আর বলেন, নিষিদ্ধ জালগুলো যদি বিক্রি করা না হতো, তাহলে জেলেরা কিনতেও পারতো না। আর ক্ষতিগ্রস্তও হতো না। এজন্য অবৈধ জাল উৎপাদন এবং বিপণন বন্ধ প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ছোট ফাঁসের এবং নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন ও বিপণন বন্ধে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এই নিষিদ্ধ জালে ধ্বংস হচ্ছে  মাছের রেনুপোনা, জলজ উদ্ভিদ ও জলজ প্রাণীও। এর ফলে দিনদিন মাছের উৎপাদন কমবে। তাই মৎস্য সম্পদ রক্ষায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা প্রয়োজন।




বারবার হাই উঠলে সতর্ক হোন 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  সুস্থ থাকতে হলে নিয়মিত ঘুমের বিকল্প নেই। কারণ সারা দিনের ক্লান্তি দূর করে ঘুম। তাই প্রতি রাতে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। তবে অনেকেরই ঘুমের সমস্যা রয়েছে। ঘুমের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।



দুমকি লূথারন হেলথ কেয়ারে ঐক্যতান অনুষ্ঠিত

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার লূথার‌্যান হেলথ কেয়ার বাংলাদেশ (এলএইচসিবি) মা ও শিশু কেন্দ্রে শ্রীরামপুর দুমকি পটুয়াখালীতে ঐক্যতান (ইউনিটি) অনুষ্ঠিত।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি রেভাঃ ডঃ চন্দ্রন পল র্মাটিন, রিজিওনাল রিপ্রেজেনটেটিভ ফর সাউথ/সাউথ এশিয়া, ইএলসিএ-জিএম বিশেষ অতিথি: পাপরি দেবী আরেং, ভাইস চেয়ারম্যান, এলএইচসিবি এক্সিকিউটিভ র্বোড , সভাপতি: গ্রনার মারাক, র্নিবাহী পরিচালক, লুথেরান হেলথ কেয়ার বাংলাদেশ এলএইচসিবি দোতলায় ট্রেনিং রুমে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এলএইচসিবি এক্সিকিউটিভ র্বোডের অন্যান্য সদস্য বৃন্দ। এলএইচসিবি’র মেডিকেল অফিসারগন ডা. অমিতাপ তরফদার, ডা. মশিউর রহমানসহ এলএইচসিব’র বিভিন্ন র্কমর্কতা র্কমচারীগন প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি গনকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়ে বরন করেন।

পরে খেলা , সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ও  র্প্রাথনা সভা শেষে নৈশ ভোজের আয়োজন করা হয়।

সভাপতি বলেন, লূথার‌্যান হেলথ কেয়ার বিভিন্ন সমস্যা সম্মুক্ষিন ছিল এখন সেটা কাটিয়ে উঠে র্পূবের অবস্থায় ফিরে যেতে চায়। লূথার‌্যান মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি জনগনের স্বাস্থ্য সেবায় এগিয়ে নিতে চাই। আমাদের সেবা বিভিন্ন ভালো কাজের মাধ্যমে পুরো দক্ষিন অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে চাই। প্রধান অতিথি সহ সকল অতিথি বৃন্দকে লূথার‌্যানে বিভিন্ন দিক ঘুরে ঘুরে দেখান। কিছুদিনের মধ্যে লূথার‌্যানের উন্নয়ন র্কাযক্রম চলবে বলে জানান।




আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় নারী ক্রিকেটে জয়ী যবিপ্রবি

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় নারী ক্রিকেট-২০২৪ এ নিজেদের প্রথম ম্যাচে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) নারী ক্রিকেট দল কে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে জয়ী যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) নারী ক্রিকেট দল।

মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে খেলা শুরু হয়। শুরুতে টসে জিতে ব্যাটিং এর সিদ্ধান্ত নেয় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) নারী ক্রিকেট দল।

দশ ওভারের খেলায় দুই উইকেট হারিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ৮৬ রান করে। এর বিপরীতে ৮৭ রানের টার্গেটে ব্যাটিং এ মাঠে নামে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) নারী ক্রিকেট দল। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পবিপ্রবি নারী ক্রিকেট দল।  নয় ওভার এক বলে (৯.১ ওভার) ৩১ রানে পবিপ্রবি’র নারী ক্রিকেট দলকে অলআউট করে সহজ জয় তুলে নেয় যবিপ্রবি’র নারী ক্রিকেট দল।

উক্ত খেলায় সর্বোচ্চ ২৭ রান সংগ্রহ করে অপরাজিত থাকেন যবিপ্রবি শিক্ষার্থী ও যবিপ্রবি নারী ক্রিকেট দলের সদস্য অরুন্ধতী রায়, ২০ রান করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেন যবিপ্রবি নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক চৈতী। ৩ টি উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর খাতায় নাম লিখান যবিপ্রবি নারী ক্রিকেট দলের সদস্য শিউলি। একই দলের কোহিনূর ও মুক্তা ২ টি করে উইকেট তুলে নেন।




বরগুনা রঙিন স্বপ্নে আগাম তরমুজের চাষ

বরিশাল অফিস:: উপকূলীয় জেলা বরগুনা। এই জেলার চারদিকে নদী থাকায় কৃষিকাজে রয়েছে বাড়তি সুবিধা। জেলার আমতলী উপজেলা উৎপাদন হয় প্রচুর রসালো তরমুজ। আর সুস্বাদু তরমুজের জন্য বিখ্যাত উপজেলাটি। অল্প সময়ে বেশি লাভ পাওয়া যায় বলে দিন দিন তরমুজ চাষে ঝুঁকছে এখানকার বেশিরভাগ কৃষক। তরমুজ চাষের জন্য উপজেলার কৃষক পরিবারের সবাই ব্যস্ত সময় পার করছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আমতলী সদর, আঠারোগাছিয়া, গুলিশাখালী, কুকুয়া, হলদিয়া, চাওড়া ইউনিয়নে এ বছর ৫ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তরমুজ চাষে কৃষকরা মাঠে কাজ করছে। মাঠের পর মাঠ তরমুজের চারা রোপণের জন্য গর্ত তৈরি করছে। কেউ কেউ চারা রোপণ করছে।

সাহেববাড়ি এলাকার কৃষক মো. বাহাদুর বলেন, ‘গত বছর ভালো ফলন পাওয়ায় এবারও তরমুজ চাষের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। কারও দম ফেলার অবস্থাও নেই। এ বছর ৯ একর জমিতে তরমুজ চাষ করছি।’ কুকুয়া এলাকার কৃষক মো. ইউসুফ বলেন, ‘এ বছর ১৬ একর জমিতে তরমুজ চাষ করছি। ঘরের নারীরাও সাহায্য করছে। সবাই এখন ব্যস্ত।’

পুরুষের পাশাপাশি পরিবারের নারী সদস্যরাও কাজ করছে মাঠে। বেতমোড় গ্রামের রিজিয়া বেগম বলেন, ‘গত বছর বৃষ্টিতে তরমুজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের অনেক লোকসান গুনতে হয়েছে। তাই এ বছর আগাম চাষ শুরু করেছে কৃষকরা। আমরাও কাজে সহযোগিতা করছি। আশা করি এবার লাভবান হব সবাই।’

হলদিয়া এলাকার রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর দুই বিঘা বেশি জমিতে তরমুজ চাষ করছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে লাভবান হব। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। নারী-পুরুষ সবাই মিলে মাঠে কাজ করছি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ঈসা বলেন, ‘এ বছর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ৫ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যেকোনো সমস্যায় কৃষি অফিস কৃষকদের পাশে রয়েছে। সুপারভাইজাররা নিয়মিত খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু সৈয়দ মো. জোবায়দুল আলম বলেন, ‘কৃষি বিভাগের সহায়তা ও পরামর্শে আমতলীসহ বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় কম খরচে ভালো ফলনের মাধ্যমে লাভবান হওয়ায় তরমুজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। চলতি মৌসুমে তরমুজের বীজ রোপণ শুরু করেছে কৃষকরা। জমি তৈরি থেকে মৌসুম শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রায় চার মাসের মতো সময় লাগে তরমুজ বিক্রি করতে। এ ছাড়া তরমুজ উচ্চফলনশীল হওয়ায় অনেকেই পরীক্ষামূলক তরমুজ চাষ শুরু করেছে। আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে তরমুজ চাষের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটবে। সঠিক পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে কৃষকদের পাশে সব সময় আছি।’




ধর্ষণের এক যুগ পর রায়, যুবকের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

বরিশাল অফিস :  আগৈলঝাড়া উপজেলায় এক যুগের বেশি সময় পূর্বে স্কুল ছাত্রী ধর্ষনের মামলায় যুবককে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে আসামীর অনুপস্থিতিতে বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইয়ারব হোসেন এ রায় দেন বলে বেঞ্চ সহকারী মো. হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন। দ-িত যুবক শাওন আকন আগৈলঝাড়া উপজেলার দক্ষিন গৈলা (বড়ইতলা) এলাকার আলাম আকনের ছেলে।

মামলার বরাতে বেঞ্চ সহকারী হুমায়ুন কবির বলেন, দক্ষিন গৈলার (বড়ইতলা) গ্রামের নানা বাড়ীতে থেকে পড়াশুনা করতো অষ্টম শ্রেনী পড়–য়া ছাত্রী। ২০১১ সালের ২ ফেব্রুয়ারী বিকেলে নানাবাড়িতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে একটি সালিস বৈঠক হয়। তখন ছাত্রীকে একই বাড়ীর শাওনের ঘর থেকে একটি ফিরি (কাঠ দিয়ে তৈরি বসার আসন) আনতে পাঠানো হয়। ঘরে একা থাকা শাওন ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে হাত বেধে ধর্ষন করে। এছাড়াও ছাত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে।

ছাত্রীর ফিরতে দেরি হওয়ায় তার খালা ওই ঘরে যায়। তখন শাওন পালিয়ে যায়। অসুস্থ অবস্থায় ছাত্রীকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওই রাতে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা করে। ওই বছরের ৫ নভেম্বর আগৈলঝাড়া থানার এসআই জহুরুল ইসলাম একমাত্র শাওনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট জমা দেয়। বেঞ্চ সহকারী হুমায়ুন বলেন, মামলার ১৪ জনের মধ্যে ৭ জনের স্বাক্ষ্য নিয়ে রায় দেয়া হয়েছে। মামলার আসামী শাওন জামিন নিয়ে ফেরারী হয়েছে।




চিকিৎসক ও জনবল সংকটে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর মানুষের উন্নত চিকিৎসার একমাত্র প্রতিষ্ঠান পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। প্রতিষ্ঠানটি আগের ২৫০ শয্যা হাসপাতালের অবকাঠামো ও জনবল দিয়েই চলছে চিকিৎসা সোবার কার্যক্রম। অথচ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে কর্মকর্তা – কর্মচারীদের যে মঞ্জুরকৃত পদ রয়েছে, তার অধিকাংশ পদই খালি। আর এর মধ্যে সব থেকে বেশি খালি রয়েছে চিকিৎসকদের পদ।

এ ছাড়া তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেনীর পদে জনবল সংকট চরমে। মামলা জটিলতার কারনে মাষ্টাররোলেও জনবল নিতে পারছেনা কর্তৃপক্ষ। ফলে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আশা রোগীরা কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে চিকিৎসকদের ৫৮টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২৩ জন চিকিৎসক, বাকি ৩৫ জন চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন যাবত খালি।
একই অবস্থা অন্যান্য পদগুলোতেও। হাসপাতালে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণি মিলিয়ে সর্বমোট  ৩৩০টি পদ থাকলেও এর মধ্যে ১০৩টি পদ দীর্ঘদিন যাবত খালি রয়েছে ।
হাসপাতালে চিকিৎসকদের যে সব পদ খালি রয়েছে তার মধ্যে আছে সহকারী পরিচালক, সিনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু), সিনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), সিনিয়র কনসালটেন্ট (ইএনটি), সিনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেস্থেশিয়া), সিনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু), সিনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন), সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি), সিনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক),জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু), জুনিয়র কনসালটেন্ট (রেডিওলজি ও ইমেজিং), জুনিয়র কনসালটেন্ট (প্যাথলজি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন), জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), আবাসিক ফিজিসিয়ান, আবাসিক সার্জন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার, অ্যানেস্থেটিস্ট (৩ জন), প্যাথলজিস্ট, রেডিওলজিস্ট, মেডিকেল অফিসার, সহকারী রেজিস্ট্রার (৭টি), ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার (৪টি) ও ডেন্টাল সার্জন (১টি)।

এ ছাড়া সেবা তও্বাবধায়কের ১টি, উপ-সেবা তও্বাবধায়করে ১টি, পরিসংখ্যান কর্মকর্তার ১টি, নার্সিং সুপারভাইজারের ২টি, সিনিয়র স্টাফ নার্স/ স্টাফ নার্স ৪টি, সহকারী নার্স ৩টি, সহকারী হিসাব রক্ষক ১টি, অফিস সহায়ক কাম কম্পিউটার অপারেটর ১টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট(ফার্মা) ১টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) ১টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিও), মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ফিজিওথেরাপি), মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (বায়োকেমিস্ট), মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইসিজি) ৩টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (অ্যানেস্থেশিয়া) ৩টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডায়ালাইসিস) তিনটি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (বায়োমেডিকেল) তিনটি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইকো) তিনটি এবং কার্ডিওগ্রাফারের ২টি পদ খালি রয়েছে।

এছাড়া কম্পিউটার অপারেটর, স্টুয়ার্ড, ওয়ার্ড মাস্টার, রেকর্ড কিপার, লিলেনকিপার, টিকিটক্লার্ক, ড্রাইভার, স্টেরিলাইজার কাম মেকানিক, জুনিয়র মেকানিক কাম পাম্প অপারেটর, ক্যাশ সরকার, অফিস সহায়ক ১৩ জন, ডোম, বাবুর্চি ১ জন, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ১০ জন ও ইলেকট্রিসিয়ান ১ জন, ওয়ার্ড বয় ২ জন, আয়া ৭ জন, দারেয়ান ৯ জন, মালি ১ জন ও সুইপার ৪ জনের পদ খালি রয়েছে।এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহিঃবিভাগসহ হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন বর্তমানে কর্মরতরা।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হসপিটালের সুপার ডাঃ দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা জানান, প্রতিদিন হাসপাতালে গড়ে সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী ভর্তি থাকার পাশপাশি জরুরি বিভাগ থেকে প্রতিদিন গড়ে আড়াইশো থেকে তিনশো এবং বহিঃবিভাগে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। প্রতিদিন হাজারের অধিক রোগী চিকিৎসা নেয় এখানে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হলেও ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জনবল দিয়েই কাজ চালাতে। যে কারনে হাসপাতালে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, পয়ঃনিস্কাসনের চিত্র অত্যান্ত ভঙ্গুর। সমস্ত বাথরুম গুলি ব্যবহারের অযোগ্য। যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা পুরো হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা হুমকিতে ফেলেছে স্বাস্থ্য সেবা। অসাস্থ্যকর পরিবেশ ভুক্তভোগী রোগীরা আরো অসুস্থ হচ্ছে।
এরপরও ২৫০ শয্যা হাসপাতালের যে জনবল বরাদ্দ আছে তারও অধিকাংশ পদ খালি। প্রতি মাসে আমরা এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করে চিঠি লিখছি। ২৫০ শয্যার বিপরীতে চিকিৎসকদের যে পদগুলো আছে সব পদে চিকিৎসক থাকলে কিছুটা হলেও কাঙ্খিত সেবা দেওয়া সম্ভব হতো। এছাড়া হাসপাতালের ক্লিনার, সুইপারের যেসব পদ রয়েছে সেসব পদেও কর্মচারী না থাকায় হাসপাতালকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, এমনিতে বিপুল সংখ্যক রোগী, এরসঙ্গে যুক্ত হচ্ছে রোগীর আত্মীয়-স্বজন। সব মিলিয়ে হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষের সমাগাম হচ্ছে। ফলে এত মানুষের সৃষ্ট ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করাও এখন বড় একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।




কলাপাড়ায় বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে রাজমিস্ত্রী নিহত

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার কলাপাড়ায় সেচ মেশিন চালু করতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে এক রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

রোববার সকাল নয়টার দিকে কলাপাড়ার কলেজ বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রুবেল সরদার (২৮) ধানখালীর সুলতান সরদারের ছেলে।

নিহতের স্বজনরা জানায়, সকালে রুবেল ধানখালী কলেজ বাজারের ইউপি সদস্য জসিম মৃধার নির্মাণাধীন দোকানের ইটে পানি দেওয়ার জন্য সেচ মেশিন চালু করার সময় অসাবধানতায় বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে ছিটকে পড়ে অচেতন হয়ে যান । তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহমেদ জানান, বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর খবর পেয়েই পুলিশ হাসপাতালে গেছে। নিহতের স্বজনদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।