বরিশালে সরিষার বাম্পার ফলন, লাভের আশা কৃষকের

বরিশাল অফিস :: বরিশালের গ্রামীণ জনপদে এখন হলুদের সমারোহ। যতদূর চোখ যায় দেখা যাবে শুধু সরিষার আবাদ। অনাবাদী জমিতেও এবার সরিষা চাষ করেছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এবার ভালো ফলন ঘরে তুলে লাভের আশা করছে সরিষা চাষিরা।

অনাবাদি জমিতে সরিষার ব্যাপক চাষকে তেল ফসল আবাদের বিজয় হিসেবে দেখছে বরিশাল কৃষি বিভাগ।

৮ হাজার ৬শ’ মেট্রিক টন তেলের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় এবার ১৭ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করেছেন কৃষকরা। গতবারের চেয়ে এবারে ৭৭১ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। যার বেশীরভাগই ছিলো অনাবাদি জমি।

স্বল্প সময়ে বাড়তি লাভ হচ্ছে বলে এ অঞ্চলের কৃষকরা তেল ফসল চাষে ঝুঁকছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ।
কৃষকরা জানান, সরিষা চাষ করে অপেক্ষাকৃত স্বল্প খরচে অধিক লাভ করতে পারছেন তারা। বর্তমান বাজারে তেলের অধিক মূল্যের ধকল সামলাতে পারছেন নিজেদের উৎপাদিত সরিষার তেল দিয়ে। বাজারে বিক্রি করেও অধিক মুনাফা পাচ্ছেন তারা।

তবে তেল ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হলে আরও বেশি লাভ হতো বলে জানিয়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা।

সদর উপজেলার চরকাউয়ার কৃষক আলাউদ্দিন জানান, এক বিঘা (৩৩ শতাংশ) অনাবাদি জমিতে সরিষা চাষে খরচ হয় ৫ হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে ৫ থেকে ৬ মণ সরিষা উৎপাদিত হয়। যা বিক্রি করে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা আয় করতে পারছেন তারা। ভরা মৌসুমে সরিষার ন্যায্য মূল্য আরও লাভবান হতেন তারা।

বাবুগঞ্জের কৃষক মো. আরিফ জানান, বাজারে সব ধরনের ভোজ্য তেলের বাজার উর্ধ্বমুখি। নিজেদের উৎপাদিত সরিষা দিয়ে পরিবারের ভোজ্য তেলের চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্টাংশ বাজারে বিক্রি করতে পারছেন তারা।

কৃষকরা জানান, তেল ফসল অত্যন্ত নাজুক কৃষি। এই ফসলের ফলন প্রাপ্তি নির্ভর করে আবহাওয়ার উপর। সামান্য দুর্যোগেই ফসলহানির আশংকা থাকে। এবার বৃষ্টির কারণে সরিষা চাষ বিলম্বিত হওয়ায় ফলনেও বিলম্ব হচ্ছে। তাদের মতে, মৌসুমের এই সময়ে জমিতে সরিষার ফুল ঝড়ে ফল আসার কথা ছিলো। কিন্তু বৃষ্টির কারণে জো (উপযুক্ত সময়) দেরিতে আসায় চাষ হয়েছে বিলম্বে। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি ভালো থাকায় ভালো ফলনের আশা করছেন তারা।

বরিশাল জেলা কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের উপ-পরিচালক মো. মুরাদুল হাসান জানান, সরিষা চাষ থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা প্রদান করেন তারা। এখন ক্রাস মেশিন দিয়ে কৃষক ঘরে বসেই উৎপাদিত সরিষা থেকে তেল উৎপাদন করে বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছে। কৃষিতে সব সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় গত দুই বছরে বরিশাল জেলায় ৩ হাজার হেক্টর অনাবাদী জমিতে সরিষা চাষ বেড়েছে। এতে দেড় হাজার টন সরিষা তেলের উৎপাদন বেড়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ উৎপাদিত সরিষা বিক্রির সুযোগও তৈরী করে দিয়েছে বলে তিনি জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. শওকত ওসমান জানান, এ অঞ্চলে আগে আমন চাষের পর প্রচুর জমি অনাবাদি থাকতো। কৃষি বিভাগ অনাবাদি জমিতে তেল ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়। এ কারণে বরিশাল অঞ্চলে আগের চেয়ে সরিষার উৎপাদন বেড়েছে। ৭০ থেকে ৮০ দিনের মধ্যে ফলন ঘরে ওঠায় এ অঞ্চলের কৃষকরাও সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে ভোজ্য তেলের ঘাটতি অনেকাংশে দূর হবে বলে আশা করেন তিনি।

বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় এবার ১৯ হাজার ৯শ’ ২৪ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। সর্বাধিক ৮ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে ভোলায় এবং দ্বিতীয় সর্বাধিক সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে।




মুমিনের ঘুম যখন সওয়াবের কাজ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য। নিন্দাহীনতা এক প্রকারের শারীরিক অসুস্থতা, যা মানবদেহে বহু রোগব্যাধির জন্ম দেয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ঘুমকে তাঁর অনুগ্রহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) দ্রুত সময়ে রাতে ঘুমিয়ে যেতে বলেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী। রাত্রিকে করেছি আবরণ।’ (সুরা : নাবা, আয়াত : ৯-১০)

মুমিনের ঘুম ইবাদতের অংশ

মুমিন যখন নিয়মানুযায়ী ঘুমায়, তখন তার ঘুম ইবাদতে পরিণত হয়। মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বলেন, আমি রাতের প্রথমাংশে শুয়ে পড়ি এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ঘুমিয়ে উঠে পড়ি। এরপর আল্লাহ আমাকে যতটুকু তাওফিক দেন তিলাওয়াত করতে থাকি।

এতে আমি আমার ঘুমের অংশকেও সওয়াবের বিষয় বলে মনে করি, যেমন আমার দাঁড়িয়ে তিলাওয়াতকেও সওয়াবের বিষয় বলে মনে করি। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৩৪৪)

মুমিন কখন ঘুমাবে

কোরআনে রাতকে ঘুমের সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হাদিসে দিনের বেলা সামান্য সময় বিশ্রামের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় যাকে ‘কাইলুলা’ বলা হয়।

আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই স্বীয় রহমতে তোমাদের জন্য রাত ও দিন করেছেন, যাতে তোমরা তাতে (রাতে) বিশ্রাম গ্রহণ করো ও (দিনে) তার অনুগ্রহ অন্বেষণ করো এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৭৩)।

বিনা প্রয়োজনে রাত-জাগা অপছন্দনীয় : আবু বারজা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এশার আগে ঘুমানো এবং এশার পর অহেতুক আলাপচারিতায় লিপ্ত হওয়া অপছন্দ করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৬৮)।

মুমিন যেভাবে ঘুমায় 

মুমিন তার জীবনের সব ক্ষেত্রে নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহর অনুসরণ করে। আর ঘুমের কতিপয় সুন্নত হলো—

১. ঘুমের আগে অজু করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন তুমি বিছানায় যাবে তখন নামাজের অজুর মতো অজু করে নাও। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৪৭)

২. ঘুমের আগে বিছানা ঝাড়া : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন তোমাদের কেউ বিছানায় শয্যা গ্রহণ করতে যায়, সে যেন তার চাদরের ভেতরের দিক দিয়ে নিজ বিছানা ঝেড়ে নেয়।

৩. ঘুমের আগে আগুন নিভিয়ে দেওয়া : মহানবী (সা.) বলেন, তোমরা যখন ঘুমাতে যাবে ঘরে আগুন জ্বেলে রাখবে না। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ; ২০১৫)

৪. খাবারের পাত্র ঢেকে রাখা : নবীজি (সা.) বলেন, তোমরা রাতে বাসনগুলো ঢেকে রাখবে, মশকগুলোর মুখ আটকে রাখবে। কেননা বছরে একটি রাত এমন আছে, যে রাতে মহামারি অবতীর্ণ হয়। যেকোনো খোলা পাত্র এবং বন্ধনহীন মশকের ওপর দিয়ে তা অতিবাহিত হয়, তাতেই সে মহামারি নেমে আসে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫১৫০)

৫. ঘরবাড়ির দরজা বন্ধ করা : নবীজি (সা.) বলেন, তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে দরজা বন্ধ করবে। কেননা শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৩০৪)

৬. ঘুমের আগে দোয়া বা অজিফা পাঠ করা : আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি রাতে যখন বিছানায় যেতেন, তখন তিনি সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠ করে দুই হাত একত্র করে তাতে ফুঁক দিতেন। অতঃপর যতদূর সম্ভব সমস্ত শরীরে হাত বুলাতেন। মাথা ও মুখ থেকে শুরু করে তাঁর দেহের সম্মুখ ভাগের ওপর হাত বুলাতেন এবং তিনবার তিনি এরূপ করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫০১৭)

পাশাপাশি ঘুমানোর আগে ও ঘুম থেকে ওঠে হাদিসে বর্ণিত নির্দিষ্ট দোয়া পড়া।

৭. ডান কাত হয়ে শোয়া : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন তুমি শোবার বিছানায় যেতে চাও তখন তুমি নামাজের অজুর মতো অজু করো; এরপর ডান পার্শ্বদেশের ওপর কাত হয়ে শুয়ে পড়ো। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪৮৮)

আল্লাহ সবাইকে জীবনের সর্বত্র দ্বিন মেনে চলার তাওফিক দিন। আমিন।




দুমকিতে দুই প্রতিবন্ধী পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত হেমন্ত বিশ্বাসের প্রতিবন্ধী মেয়ে হরিবালা বিশ্বাস (৫০) ও তার একমাত্র বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী সহদর হেমলাল বিশ্বাসের (৪৮) পাশে নেই কেউ।

সহায় সম্বলহীন সংখ্যালঘু ভাইবোন পৈতৃক সূত্রে মাত্র দেড় শতাংশের ভিটিতে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে হেলে পড়া জরাজীর্ণ ঝুপড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেয়া কর্মক্ষমহীন ভাইবোন এলাকাবাসীর কাছে চেয়েচিন্তে খেয়ে না খেয়ে শীত, বর্ষায় কষ্ট করে চরম দুর্বিসহ জীবন কাটাচ্ছেন।

একসময় পরিবারটির জমিজমা অর্থবিত্তে ভরপুর থাকলেও আজ তারা চরম অসহায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সিকদার বলেন, আসলেই পরিবারটি খুবই অসহায়। বসবাসের জন্য একটা ঘর প্রয়োজন। আমি পরিষদের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে কিছু খাদ্য সহায়তা দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় নগন্য। পরিবারটিকে স্থায়ী পুনর্বাসন করা প্রয়োজন। সহায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী পরিবারটির সহায়তায় দেশের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।




জুয়েলকে সুস্থ করতে আর্থিক সাহাযের প্রয়োজন

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): দীর্ঘ দুই বছর ধরে বিছানায় পড়ে আছেন জুয়েল (১৯)। খেতে না পারা, বারবার বমি-পায়খানা করে দিন দিন নিস্তেজ হয়ে পড়ছে তার শরীর। অর্থের অভাবে ভালো চিকিৎসা এমনকি রোগটাও শনাক্ত করতে পারেনি পরিবার। এখন সরকার ও সামর্থ্যবানদের দিকে তাকিয়ে আছেন তারা।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের গঙ্গামতি গ্রামের শ্রবণ প্রতিবন্ধী মো. ইউসুফের ছেলে জুয়েল (১৯)। চার ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় সে।

জানা যায়, ২০২১ সালে হঠাৎ করেই পেটে ব্যথা, বমি, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলাসহ নানা সমস্যা শুরু হয় জুয়েলের। অক্ষর জ্ঞানহীন বাবা-মা ছেলের সুস্থতার জন্য নিজেদের সর্বশেষ থাকা সম্বল নিজের বাড়ির গাছ, হাঁস-মুরগি ও দশটি ছাগল বিক্রি করে দেয়। তাতেও ছেলে সুস্থ হচ্ছে না। স্থানীয় কিছু যুবক জুয়েলের চিকিৎসার জন্য মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে বেড়াচ্ছে।

জুয়েলকে সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া জুয়েল রানা বলেন, ‘ঢাকা পিজি হাসপাতালের ডাক্তার বলেছে, লিভার ও খাদ্যনালিজনিত সমস্যার কারণে ওর শরীর দিন দিন নিস্তেজ হচ্ছে। দুই বছর ধারাবাহিক চিকিৎসা করালে কিছুটা সুস্থ হবে।’

জুয়েলের বাবা ইউসুফ বলেন, ‘আমি কানে শুনি না, তাই আমাকে অনেকে কাজে নিতে চায় না। মানুষের কাছে গিয়ে হাত পাতি ওর চিকিৎসার জন্য।’

জুয়েলের মা লাইলী বেগম বলেন, ‘আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সবার কাছে হাত পেতে সংসার চালাই। ছেলের চিকিৎসার জন্য যখন যে যা বলে সেই পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেছি। কিন্তু ছেলেটা সুস্থ হচ্ছে না। আল্লাহর কাছে বলি ছেলেকে সুস্থ দেখে যেন মরতে পারি।’

কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার সৈয়দ আশিকুর রহমান বলেন, জুয়েলের শারীরিক অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে তার খাদ্যনালিতে বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে। ওর লম্বা সময় চিকিৎসা দরকার।’

পটুয়াখালী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শিলা রানী দাস বলেন, ‘এ ধরনের রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে উপজেলা কার্যালয় অথবা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করলে আমরা বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেব।’




পটুয়াখালীতে মাদক মামলায় ৭ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড  

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীতে মাদক মামলায় সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এসএম এরশাদুল আলম এ রায় দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বাদল।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মো. মোশাররফ শিকদার, মো. বাদল খান, মো. ইলিয়াস সরদার, মো. জহির সরদার, মো. আলামিন, মো. কালা ফারুক ও মো. সোহরাব মাঝি। এরা সবাই কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটার গঙ্গামতি সৈকত দিয়ে পাঁচ লাখ পিস ইয়াবার চালান নিয়ে আসছিলেন আসামিরা। এ সময় কোস্ট গার্ড খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ সাতজনকে আটক করে কলাপাড়া থানায় হস্তান্তর করলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বাদল বলেন, দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে তিনজন কারাগারে ছিলেন এবং তাদের কখনো জামিন‌ হয়নি। এ ছাড়া বাকি চারজন জামিনে ছিলেন এবং আজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।




ভোলায় ইপিআই ভ্যাকসিন সংকট, টিকা কার্যক্রম ব্যাহত

বরিশাল অফিস :: ভোলায় দুই মাস ধরে নিউমোনিয়া ও পোলিও টিকাসহ বিভিন্ন রোগের ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিনই অভিভাবকরা তাদের শিশুদের নিয়ে টিকা কেন্দ্রে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট সময় টিকা দিতে না পেরে উদ্বিগ্ন তারা। এনিয়ে ক্ষোভ ঝরছে তাদের কণ্ঠে। টিকার জন্য ঢাকায় চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

টিকা নিতে আসা অভিভাবক মিজি বাড়ির নাহিদা লায়লা নাসরিন, ফাতেমা জানান, শিশুর টিকার জন্য এক কেন্দ্র থেকে আরেক কেন্দ্র ছুটছেন সন্তানের বাবা-মা। এরপরও মিলছে না টিকা। তাই ফিরতে হচ্ছে হতাশ হয়েই। দুই মাস ধরে ভোলায় নিউমোনিয়া ও পোলিও টিকাসহ বিভিন্ন রোগের ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তাই নির্দিষ্ট তারিখে শিশুদের টিকা নিতে এসে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে অভিভাবকরা। ইউনিয়নের টিকা কেন্দ্র থেকে শুরু করে সরকারি হাসপাতালেও মিলছে না এই টিকা।

আকলিমা বেগম বলেন, আমার মেয়ের তিনটি টিকা দেয়া হয়েছে। ৪র্থ ধাপের টিকার জন্য স্থানীয় স্যাটেলাইট ক্লিনিকে গেলেও টিকা মেলেনি। পরে হাসপাতাল এসেছি, সেখানেও নেই। এতে আমরা খুব চিন্তার মধ্যে আছি। সঠিক সময়ে যদি টিকা না দিতে পারি তাহলে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। এতে দুভোর্গ পোহাতে হচ্ছে তাদের। তাই দ্রুত টিকার ব্যবস্থা করার দাবি অভিভাবকদের।

স্বাস্থ্য সহকারী জান্নাতুল নাঈম ও মো. হোসেন জানান, শিশুদের পিসিভি, আইপিভি, পেন্টাভ্যালেন্ট এই তিনটি ভ্যাকসিন না থাকায় শিশুদের নিয়মিত টিকা দিতে পারছেন না তারা। এতে টিকা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামান আহমেদ জানান, টিকার জন্যে আমরা চাহিদা পাঠিয়েছি। যেন দ্রুত টিকা আসে। তবে টিকা দিতে কিছুটা বিলম্ব হলেও তা শিশু স্বাস্থ্যের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ভোলা জেলায় এক বছরে ৬৪ হাজার শিশুকে টিকা দিতে হয়। জেলার ৬৭টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে ২৪টি টিকা কেন্দ্রে মাসে একবার করে টিকা দেয়া হয়। এছাড়াও রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও জেলা সদর হাসপাতালে ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন টিকা দেয়া হয়। বর্তমানে ১০টি রোগের টিকার মধ্যে কেবল ৩টি টিকা মজুদ রয়েছে।




সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সময়সূচি প্রকাশ




মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, এগিয়ে মেয়েরা

চন্দ্রদীপ নিউজ: সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার পাসের হার ৪৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সে মোতাবেক পাস করেছে ৪৯ হাজার ৯২৩ জন। এদের মধ্যে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছেন।

রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) মহাখালীর পুরাতন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিল্ডিংয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন।

মন্ত্রী জানান, পরীক্ষায় পাস নম্বর পূর্ববর্তী বছরের মতো ৪০ শতাংশ নির্ধারিত ছিল। এর ভিত্তিতে মোট ৪৯ হাজার ৯২৩ জন ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। এবারের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষ প্রার্থী ছিল ২০ হাজার ৪৫৭ জন যা উত্তীর্ণ প্রার্থীর ৪০ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

[contact-form][contact-field label=”Name” type=”name” required=”true” /][contact-field label=”Email” type=”email” required=”true” /][contact-field label=”Website” type=”url” /][contact-field label=”Message” type=”textarea” /][/contact-form]




ক্যান্সার আক্রান্ত পটুয়াখালীর রশিদের জন্য সাহায্য চাই

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : গলায় ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে যন্ত্রণা ভুগছেন পটুয়াখালী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়ির আব্দুর রশিদ হাওলাদার (৪৭)। জীবনের শেষ সম্বলটুকু নিজের চিকিৎসার পেছনে খরচ করে এখন টাকার অভাবে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে, অসুস্থ রশিদ হাওলাদার টাকার অভাবে ওষুধ না কিনতে পেরে ব্যাথায় কাঁদছেন। যন্ত্রণায় কখনো কখনো বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া পথচারীদের কাছে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করছেন। তার গলার বাম পাশ থেকে টিউমার ফুলে ফেটে রক্ত পড়ছে। তিনি কথা পর্যন্ত বলতে পারছেন না।

রশিদ হাওলাদার এখন নড়বড়ে টিনের ঘরে একটি বিছানা ও কিছু হাঁড়ি পাতিল ছাড়া কিছুই নেই। প্রতিবেশীদের দেওয়া দুবেলা খাবার খেয়ে কোনোমতে বেঁচে আছে। গলার টিউমারে মশা, মাছি যেন বসতে না পারে এইজন্য গামছা দিয়ে বেঁধে রেখেছেন। ব্যাথার যন্ত্রনায় বালিশে শুয়েও থাকতে পারেন না তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২ বছর আগেও ফেরি করে বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে পপকন বিক্রি করতেন তিনি। একটি ১২ বছরের ছেলে রাসেল ও ১০ বছরের লামিয়া নামে কন্যাসন্তান রয়েছে তার। রশিদ হাওলাদার অসুস্থ হওয়ার পর থেকে পড়াশুনা বাদ দিয়ে রাসেল কাজের খোঁজে ঢাকায় চলে যায়। আর তার স্ত্রী জেসমিন আক্তার দুই সন্তান ও অসুস্থ স্বামী রশিদ‌ হাওলাদারকে রেখে বাপের বাড়ি চলে যান। আর ফিরে আসেনি। এরপর থেকেই কষ্টের দিন শুরু হয় রশিদের। রাস্তার পাশে নিজের ছোট একটি টিনের ঘর আছে তার। শেষ সম্বল এই জায়গাটুকু ছাড়া আর কিছু নেই। উন্নত মানের ব্যয়বহুল চিকিৎসা করাতে পারলে রশিদ হাওলাদার পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবে বলে জানান তার ছোট মেয়ে লামিয়া।

প্রতিবেশী সৈয়দ বেল্লাল হোসেন পাভেল বলেন, আমরা যখনি এই ঘরের কাছ থেকে চলাচল করি তখনি তার কান্নার আওয়াজ শুনতে পাই। আমাদের রশিদ ভাই অনেক কষ্টে আছেন। ওষুধ কিনতে পারছেন না। তাই যন্ত্রণায় কাঁদছেন। আমাদের এলাকার পক্ষ থেকে  যতটুকু পেরেছি সহযোগিতা করেছি।

রশিদ হাওলাদারের বোন সালেহা বেগম বলেন, আমার ভাইয়ের বউ তাকে ফেলে রেখে চলে গেছে। আমার তো আপন ভাই আমি তো‌ ফালাইয়া দিতে পারি না। আমার ভাইটা অনেক কষ্ট পাচ্ছে। তাকে আমরা ওষুধ কিনে খাওয়াতে পারি না‌ টাকার অভাবে। আপনারা আমার ভাইকে একটু ওষুধ খাওয়ার টাকা দিয়ে সহযোগিতা করুন। দিন দিন ফুলে যাচ্ছে তার গলার টিউমার, মানুষে তার টিউমার দেখলে ভয় পায়। আমার ভাইকে একটু সহযোগিতা করুন।

রশিদ হাওলাদারের ছোট মেয়ে লামিয়া বলেন, আমার বাবার কেউ নেই। আমার বাবাকে একটু সহযোগিতা করুন। তাকে ভালো অপারেশন করাতে পারলে সে সুস্থ হয়ে যাবে। আমার বাবা ছাড়া কেউ নেই।

অসুস্থ রশিদ হাওলাদার বলেন, আমি অনেক অসুস্থ, আমার আর কিছু নাই যা দিয়ে চিকিৎসা করাব। আমার আত্বীয় স্বজন কেউ নেই, জায়গা জমি কিছু নেই যে‌ বিক্রি করব। আপনারা যদি কেউ সাহায্য সহযোগিতা করেন তাহলে আমি ওষুধ কিনে খেতে পারি। আমার গলার এই টিউমার দেখলে মানুষ ভয় পায়।

পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। এই রশিদ ভাইয়ের বিষয়টি জানা ছিল না। আমি খুব তাড়াতাড়ি তাকে আর্থিক সহায়তা করতে তার বাড়িতে যাব। এছাড়া তার ছোট মেয়ের পড়াশুনার জন্য সহযোগিতা করব।




ঝালকাঠিতে গাঁজাগাছ-ইয়াবাসহ আটক ২

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠিতে আটটি গাঁজা গাছসহ শাহারুম হাওলাদার (৫০) ও ১৫ পিস ইয়াবাসহ কবির হাওলাদার (৫১) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পৃথক অভিযানে চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আটক শাহারুম হাওলাদার ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার দক্ষিন চেচরী এলাকার মৃত মুজাহার আলী হাওলাদারের ছেলে ও কবির হাওলাদার নলছিটি উপজেলার ডুবিল এলাকার মৃত আব্দুল আজিজ ওরফে আব্দুল হাওলাদারের ছেলে।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জাগো নিউজকে জানান, কাঁঠালিয়া উপজেলার চেচরী রামপুর ইউনিয়নের দক্ষিন চেচরী এলাকার শাহারুমের মরিচ ক্ষেতের মধ্যে থেকে আটটি গাঁজা গাছ ও নলছিটি উপজেলার ডুবিল এলাকা থেকে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তাদের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রাতে নলছিটি ও কাঁঠালিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। মাদক মুক্ত সামজ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।