‘আব্বু আমার খুব বিপদ, আমার জন্য দোয়া কইরো’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন বরগুনার নাঈম

এস এল টি তুহিন, বরিশাল :: ছেলেটার স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা শেষে চাকরি করে সংসারে সচ্ছলতা ফেরাবে। ডিগ্রিতে ভর্তির টাকা জোগাড় করতে এক মাস আগে ঢাকায় যায়। মার্চে তার ডিগ্রিতে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল। গত মঙ্গলবার ঢাকার বেইলি রোডের ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্তোরাঁয় নিরাপত্তাকর্মীর কাজ নেয়। তিন দিনের মাথায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই ভবনে আগুন লেগে ছেলে মারা যায়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না গ্রামের নান্টু হাওলাদার। বেইলি রোডের আগুনে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর ছেলে নাঈম হাওলাদারসহ ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। নাঈম ওই ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্তোরাঁয় নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি নিয়েছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় সর্বশেষ ছেলের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন নান্টু হাওলাদার।

নান্টু হাওলাদার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফোন দিয়ে সে কান্দন লইছে। সে বলে, “আব্বু আমার খুব বিপদ, আমার জন্য দোয়া কইরো। আমার মার্কেটে আগুন লাগছে। আমি ছাদের ওপর আছি। আমার জন্য দোয়া কইরো।” আমি বললাম, লাইন কাটিস না। আমার কথা শোন, ছাদে উঠছো ছাদে থাক। আল্লায় একটা ব্যবস্থা করবেই। ছাদে তো আরও মানুষ আছে। সে বলে, “আমার ফোনে টাকা নাই।” আমি বলি, টাকা না থাকলে তুই ফোন কাইট্যা দে। আমি ফোন ব্যাক করতেছি। আমার সাথে কথা বললে তোর মনে সাহস বাড়বে। কিন্তু ফোনটা কেটে দেওয়ার পর আমি ফোন দিলে আর রিসিভ হয় না। শুধু রিং বাজে।’

 

একপর্যায়ে কেঁদে ফেলেন নান্টু হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘পরে টিভিতে খবরে দেখলাম ফায়ার সার্ভিস আইস্যা আগুন নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ছাদ থেকে লোকজন নামাইতেছে। তখন আশা নিয়া বসেছিলাম, আমার ছেলেও তো ছাদে আছে। ছাদের সব লোক নামাইছে কিন্তু আমার ছেলেকে তো কোথাও দেখি না। আধা ঘণ্টা পরে দেখি হঠাৎ কইরা দু-তিনজন আমার ছেলেকে ধরে ট্রলিতে শোয়াইয়্যা নিতেছে। তখন আমি চিৎকার মারছি, ওই আমার আব্বুকে নিয়া যায়। আমার আব্বু আর পৃথিবীতে নাই।’

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা মা লাকি বেগম। ছেলের শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনিএকমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা মা লাকি বেগম। ছেলের শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি


নাঈমের বাবা ভ্যানে সবজি বিক্রি করেন আর মা অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ও নিজের পড়াশোনার খরচ জোটাতে নাঈম কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁয় কাজ নিয়েছিলেন। ছেলেকে হারিয়ে মা-বাবার আহাজারি থামছে না। নাঈমের বাবা শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। অভাবের সংসারে সামনের দিনগুলো কীভাবে চলবে, সেই দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।

নান্টু হাওলাদার বলেন, ‘আগুন আমার ছেলেটার স্বপ্ন পুড়িয়ে দিয়েছে। এখন আমাদের বেঁচে থাকার ইচ্ছাও হারিয়ে গেছে। আমি অসুস্থ। আমাদের দেখাশোনার মতো আর কেউ থাকল না। আশা ছিল, ছেলেটা বড় হয়ে আমাদের দুর্দশা দূর করবে। সেই ছেলেটাই পৃথিবী থেকে চলে গেল। দেনায় জর্জরিত আমরা। ছেলের জন্য যে দোয়া অনুষ্ঠান করব, সে জন্যও অন্যের কাছে হাত পাততে হবে।’

ছেলেকে হারিয়ে বাক্‌রুদ্ধ হয়ে গেছেন নাঈমের মা লাকি বেগম। তিনি ছেলের সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেছেন বৃহস্পতিবার বিকেলে। লাকি বেগম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেলে ছেলেকে কল দিয়া বলি, এ গেদু তুই তো কাইলও একটু কল দিলি না। ও বলে, “মা একটু ব্যস্ত ছিলাম। একটা মার্কেটে কাজ নিছি। তুমি টেনশন করবা না। আমি সাবধানেই আছি। রাইতে ভিডিও কলে কথা বলমু আনে, বলে ফোন কাইট্যা দেছে।” এই পর্যন্ত আমার সোনা বাবার সাথে আমার কথা হয়। এই শেষ কথা ওর সাথে। আমার আব্বায় আর কথা কয় নাই।’

লাকি বেগম বলেন, ‘এই রকম হইবে বুঝলে আমি কইতাম, তুমি ওইখান দিয়া এখনই যাও। আমি যা কইতাম হেইআই আমার ময়নাডা শোনতে। হের আগে যেহানে ছিলা অনেক শান্তিতে ছিলা। ডেইলি দুইফির তিনফির ফোন দিয়া কথা কইছে। কইছে, “মা আমি শান্তিতে আছি। তুমি টেনশন করবা না। তোমার আর কষ্ট করা লাগবে না। আমি আইছি কামাই (কাজ) করতে। তোমাগো আর কষ্ট লাগবে না। যত মানে (লোকে) টাহা পয়সা পায়, সব আমি শোধ করমু।”’ তিনি বলেন, ‘এখন কেডা দেখবে আমাগো। আর জিগাইন্যা মানুও নাই।




আগুন থেকে বাঁচতে নিচে পড়ে মারা যান পটুয়াখালীর জুয়েল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : রাজধানীর বেইলি রোডে বহুতল ভবনে আগুনের লেলিহান শিখা থেকে প্রাণ বাঁচাতে নিচে নামার চেষ্টা করেছিলেন এমবাসিয়া নামের খাবারের দোকানের কর্মচারী জুয়েল।

বৃহস্পতিবার ভবনে আগুন লাগার পর জীবন বাঁচাতে সাততলা থেকে নামতে গিয়ে তিনি জানালার পাশে এসির ওপর দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে নিচে পড়ে মারা যান জুয়েল। জুয়েলের ভাগ্নে রাকিব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জুয়েল রানা গাজী (৩০) পটুয়াখালীর কলাপাড়ার পশ্চিম মধুখালী গ্রামের ইসমাইল গাজীর ছেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম জুয়েলের মা-বাবা ছাড়াও এক ভাই, তিন বোন, স্ত্রী রেবেকা সুলতানা, ছয় বছরের মেয়ে তাসনিয়া ও তিন বছরের ছেলে তাইফুর রয়েছে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

শ্রমজীবী পরিবারের ছেলে জুয়েল ও তার বড় ভাই আল আমিন ঢাকায় কাজ করতেন। প্রায় তিন বছর আগে জুয়েল ঢাকায় যান। মাঝখানে করোনার কারণে জুয়েল বেকার ছিলেন।

প্রতিবেশী মতিউর রহমান জানান, ওরা ছাদে ছিল। নিচে আগুন দেখে নামার জন্য জীবন বাঁচাতে জুয়েল রানা ভাগ্নে রাকিবসহ একজন বাবুর্চি জানালা ভেঙে ওয়াই-ফাইসহ ডিশের বিভিন্ন তার ধরে নিচে নামার পরিকল্পনা করে। প্রথমে রাকিব নিচে নামতে সক্ষম হয়। পরে ওই বাবুর্চি নামেন। এরপর নামার জন্য জুয়েল এসির ওপর দাঁড়ালে সেটি ভেঙে পড়ে। তার শরীর দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। দরিদ্র সংসারে জুয়েলের উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল ছিল তার পরিবার।

জুয়েলের মরদেহ শুক্রবার বিকালে কলাপাড়ায় নিজ বাড়িতে পৌঁছালে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। এলাকার শত শত মানুষ তাদের বাড়িতে ভিড় করে। সন্ধ্যায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে জুয়েলকে দাফন করা হয়।

এর আগে কলাপাড়ার ইউএনও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েলের বাড়ি গিয়ে তার বাবা ইসমাইল গাজীর কাছে সরকারের দেয়া ২৫ হাজার টাকার চেক ও নিজ উদ্যোগে নগদ পাঁচ হাজার টাকা হস্তান্তর করেন।
তিনি জুয়েলের পরিবারকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।




ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসক ও ওষুধ সঙ্কট, দুর্ভোগে রোগীরা

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্স সঙ্কটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। পাশাপাশি প্রিন্টার নষ্ট থাকায় এক্স-রে মেশিন বন্ধ রয়েছে। জ্বালানি সমস্যায় অ্যাম্বুলেন্স সেবাও বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।

গুরুত্বপূর্ণ এ সেবাগুলো বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। হাসপাটালটিতে রয়েছে ওষুধ সঙ্কটও।

এদিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন হাসপাতালটি উদ্বোধন হলেও সেবা কার্যক্রম এখনো চালু হয়নি। তবে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ বলছেন শিগগিরই এসব সমস্যা সমধান করা হবে।

জানা যায়, ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ মোট চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৩৬টি। এরমধ্যে আছেন ১৭ জন। তাদের মধ্যে অন্য হাসপাতালের পাঁচজন চিকিৎসক এখানে সংযুক্ত হয়ে কাজ করছেন। সিনিয়র স্টাফ নার্সের মধ্যে প্রয়োজনীয় পুরুষ নাস কম থাকায় জরুরি সেবায় বিঘ্ন ঘটে। রয়েছে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারিরও সঙ্কট।

১০০ শয্যার ঝালকাঠির সদর হাসপাতালে প্রতিদিন ৮০০ থেকে এক হাজার মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। এরমধ্যে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন রোগী এই হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল অফিসার ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন সাধারণ মানষ। এই হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরে শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় অহরহ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা। এছাড়া চক্ষু বিশেষজ্ঞের পদটিও দীর্ঘদিন ধরে শূণ্য থাকায় এখানে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এসব রোগীদের পার্শবর্তী বরিশালে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতালটিতে রয়েছে ওষুধ সঙ্কটও।
সব ধরণের ওষুধ নেই দীর্ঘদিন ধরে।

জেলা সদরের এই হাসপাতালের প্যাথলজিতে আধুনিক কোনো যন্ত্রপাতি নেই। এর ফলে এখানে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। অধিকাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাহিরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে করাতে হয় রোগীদের। এতে করে সরকারি ধার্যকৃত টাকার চেয়ে কয়েকগুন বেশি টাকা গুনতে হয় তাদের। গত ছয় মাস ধরে হাসপাতালটির এক্সরে মেশিন বিকল হয়ে পড়ে আছে।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত সেটিকে সচল করার কোনো পদক্ষেপ নেননি তারা। ঝালকাঠি সদর হাসপালে কে এমসি কর্নার নেই। এনআইসিউ না থাকায় নবজাতক শিশুদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে স্বজনদের। বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও তত্ত্বাবধায়কের চাপিয়ে দেয়া নিয়মের কারণে অ্যাম্বুলেন্সের জ্বালনি ক্রয় বন্ধ রয়েছে। এর ফলে গত ছয় মাস ধরে রোগীরা নিজ ব্যবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সের খরচ বহন করছেন।

এদিকে ২৫০ শয্যার জন্য ৯ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ হলেও জনবল কাঠামো অনুমোদন না হওয়ায় এখনি চালু হচ্ছে না ২৫০ শয্যার কার্যক্রম। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে রোগীদের এক্স-রেসহ সকল সেবা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা চাঁদকাঠি এলাকার শিউলী আক্তার বলেন, আমার ছেলের ঘাড়ে সমস্যা। এখানে এসেছিলাম চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে। কিন্তু বিশেষজ্ঞ কোনো চিকিৎসক পেলাম না। এখানের চিকিৎসকরা বরিশালে গিয়ে এই সমস্যার যারা চিকিৎসা দিচ্ছেন, তাদের কাছে যেতে বলেছেন।

নলছিটি উপজেলার মগড় গ্রামের আলতাফ হোসেন বলেন, আমার ছেলের হাঁটুতে ব্যাথা, তাই সদর হাসপাতালে এলে চিকিৎসক এক্স-রে করাতে বলেন। হাসপাতালের এক্সে-রে মেশিনটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল, তাই বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে বেশি টাকা দিয়ে করাতে হয়েছে। এই হাসপাতালে সব ধরণের প্যাথলজিও নেই। শুধু ডা. আবুয়াল হাসান ও ডা. ইমাম হোসেন জুয়েল ছাড়া ভালো কোনো চিকিসক নেই। এই দু’জনের কক্ষে ভিড় লেগে আছে। যত রোগী, তারাই সামলাচ্ছেন।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুয়াল হাসান বলেন, চিকিসক ও নার্স সঙ্কট অনেক আগে থেকেই। ২৫০ শয্যার নতুন ভবনটি উদ্বোধন হওয়াতে রোগীর চাপ বেড়েছে। কিন্তু নতুন হাসপাতালের কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। আমরা এক্স-রে মেশিনের প্রিন্টার সারানোর জন্য কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। শিগগিরই এসব সমস্যা সামাধান হয়ে যাবে।




মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, জাল-নৌকা তুলে নিচ্ছেন জেলেরা

বরিশাল অফিস :: ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে এ নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে। জেলেরা নদী থেকে জাল, নৌকা ও ট্রলারসহ মাছ শিকারের সরঞ্জাম নদী থেকে উঠিয়ে নিচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক জেলে নিষেধাজ্ঞার জন্য নৌকা ও ট্রলার তীরে নিয়ে এসেছেন। জালসহ মাছ শিকারের সকল উপকরণ গুছিয়ে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। আবার কোনো কোনো জেলে ভোর থেকে নদীতে দল বেঁধে মাছ শিকার করছেন।

তুলাতুলি এলাকার নাছির মাঝি জানান, দুই মাসের জন্য সরকার নদীতে সবধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এজন্য নৌ ও ট্রলারসহ সবকিছু নিয়ে তীরে ফিরে এসেছি। দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে আবার নদীতে গিয়ে মাছ ধরবো।

মো. লিটন মাঝি জানান, অভিযানের সময় সরকারিভাবে যে চাল বিতরণ করা হয় সেটি এক সপ্তাহের মধ্যে বিতরণ ও দুই মাসের জন্য বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক থেকে নেওয়া কিস্তি আদায়ও বন্ধের জন্য দাবি করেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় ইলিশসহ সবধরনের মাছ শিকারের নিষোধাজ্ঞা চলবে। এ বছর নিষেধাজ্ঞা কঠোর করার জন্য সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলেদের ভিজিএফের চাল মার্চ মাসের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, ভোলার সাত উপজেলায় সরকারি নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন এক লাখ ৬৮ হাজার ৩৭৫ জন। এদের মধ্যে ভিজিএফের চাল পাচ্ছেন ৮৯ হাজার ৬০০ জন।




আগুন লাগার ‘গুজবে’ লাফ দিয়ে আরেক ট্রেনে কাটা পড়ে বহু হতাহত

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ভারতের ঝাড়খণ্ডের কালাজারিয়া রেলস্টেশনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সন্ধ্যায় এই স্টেশনটিতে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে বহু মানুষ আহত ও নিহত হয়েছেন। খবর এনডিটিভির

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি ট্রেনে আগুন লাগার ‘গুজবে’ পর রেললাইনে লাফিয়ে পড়েন যাত্রীরা। তখন আরেকটি ট্রেন তাদের ওপর দিয়ে চলে যায়।

ঠিক কতজন মানুষ আহত বা নিহত হয়েছেন সেই সংখ্যা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

নিহত ও আহতরা ভগলপুর থেকে বেঙ্গালুরুগামী অঙ্গা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী ছিলেন। এই যাত্রীরা ট্রেনে আগুন লাগার ‘গুজবে’ জীবন বাঁচাতে রেললাইনে নেমে গিয়েছিলেন। ঠিক তখনই আরেকটি ট্রেন তাদের চাপা দেয়। এতে অনেকে কাটা পড়েন।

একজন আধিকারিক জানান, আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে জামতারায় আনতে মেডিকেল টিম, চারটি অ্যাম্বুলেন্স এবং তিনটি বাস পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘটনার সূত্রপাত একটি গুজবকে কেন্দ্র করে। ডাউন অঙ্গ এক্সপ্রেসে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ে। ভয়ে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় ওই ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে। আগুনের হাত থেকে রক্ষা পেতে ইমারজেন্সি চেন টেনে ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়েন যাত্রীরা। সেই সময় উল্টো দিক থেকে আসা ঝাঁঝা-আসানসোল লোকাল ট্রেনের নিচে কাটা পড়েছেন শতাধিক যাত্রী।

দুর্ঘটনার পর জামতাড়ার এসডিএম জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত আমরা দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছি। একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করার জন্য আমরা রেলকে অনুরোধ জানিয়েছি। কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা তদন্তের পর জানা যাবে।

জামতাড়ার বিধায়ক ইরফান আনসারি জানিয়েছেন, ‘আমি এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। যারা গুজবের পেছনে রয়েছে তাদের যত দ্রুত সম্ভব খুঁজে বের করা হবে। আমরা এই ঘটনার বিষয়টি বিধানসভায় তুলব। যারা মারা গেছেন তাদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

এদিকে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র বলেন, ‘অঙ্গ এক্সপ্রেসে আগুন লেগেছিল বলে একটি গুজব ছড়ায়। ট্রেনের ভিতরে কেউ চেন টানেন। জামতাড়ার কাছে অঙ্গ এক্সপ্রেস দাঁড়িয়ে যায়। সেই সময় উল্টো দিকের লাইন ধরে একটি লোকাল ট্রেন আসছিল। সেই ট্রেনে লাইন ধরে হাঁটা দুই ব্যক্তি কাটা পড়েন।’




কলাপাড়ায় ইউপি সদস্যকে পিটিয়ে জখম

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জাকির হোসেন দুলাল (৫০) নামের এক ইউপি সদস্যকে পিটিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।

আজ মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর বারোটার দিকে উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের চৌরাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেছে। আহত দুলাল মহিপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

আহত দুলাল জানান, সে বারোটার দিকে মহিপুর থেকে কলাপাড়া উপজেলার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এ সময় চৌরাস্তা এলাকায় পৌঁছলে স্থানীয় জাকিরের নেতৃত্বে ৫/৭ জন তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তার মাথা ফেটে যায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত প্রাপ্ত হয়। তিনি আরও জানান, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোয়াজ্জেমপুর গ্রামে দুটি মসজিদ রয়েছে। এই দুই মসজিদে মুসুল্লী যাওয়াকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই জাকিরের সঙ্গে ইউপিস সদস্য দুলালের বিরোধ হয়। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে তার উপর হামলা চালানো হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাকির হোসেন বলেন, মসজিদ নিয়ে তার সঙ্গে কোন বিরোধ নেই। তবে পাশাপাশি দুটি মসজিদ হওয়ায় তার বাড়ির মসজিদের মুসুল্লীদের সে সরকারী ত্রান সহায়তা দেয়। অন্য মসজিদে যারা যায় তাদের সঙ্গে ব্যবহার ভালো করেনা। আর আমি দুলাল মেম্বরকে মারি নাই। সে নিজেই আমার উপর হামলা চালিয়েছে। আমি আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি।

মহিপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন তালুকদার জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।




বরিশালে জ্বর ও ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ

বরিশাল অফিস : বরিশালের বিভিন্ন স্থানে বেড়েছে জ্বর ও ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। একই ঘরে আক্রান্ত হচ্ছেন একাধিক সদস্য। চিকিৎসকরা বলছেন, দিন ও রাতের তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এখন ভাইরাসজনিত জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। এই জ্বর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে ছড়াচ্ছে। সাধারণত তিন থেকে সাতদিন জ্বর, সর্দি ও কাশির তীব্রতা থাকছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি।

অসুস্থ হওয়ার অন্যতম উপসর্গ জ্বর। সাধারণ জ্বর হলে দু-তিনদিনের মধ্যে এমনিতেই সেরে যায়। কিন্তু জ্বর তিনদিনের বেশি থাকলে চিকিৎসাসেবা নেওয়াটা জরুরি বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

সরেজমিনে নগরির মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, এই হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগে রোগীদের ভিড়। সবচেয়ে বেশি ভিড় মেডিসিন বিভাগে। হাসপাতালের তথ্যে জানা যায়, অন্য সাধারণ সময়ের তুলনায় রোগী বেড়েছে ২৫ শতাংশ। তাদের বেশিরভাগই জ্বর-ঠান্ডাজনিত রোগী।

একই পরিবারের ১১ বছরের শিশু রুকাইয়া ও পাঁচ বছরের শিশু রুশাইদা। দুজনেরই তিনদিন ধরে জ্বর, সঙ্গে সর্দিও লেগে আছে। সাধারণ প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছিল তাদের। এক পর্যায়ে সর্দি থেকে কানে সমস্যা দেখা দেয় রুকাইয়। এরপর তাকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। রুকাইয়া মা শামসুন নাহার বলেন, ‘সাধারণ সর্দি-জ্বর মনে করেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ ওর কানে ব্যথা শুরু হয়। ডাক্তারের কাছে নিয়ে এসেছি। বলছেন, কানের পর্দায় সমস্যা হয়েছে। ড্রপ দিয়েছেন। এখন দেখি…।’

বরিশালের একাধিক ফার্মেসিতে (ওষুধের দোকান) খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শীতকালীন সময়ে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে মোনাস, ফেক্সো বা এজাতীয় অন্য ওষুধ। তবে ঠান্ডা একটু কমে যাওয়ার পর থেকে প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধ নাপা, এইস ও সর্দির ওষুধ বিক্রি অনেক বেড়েছে।

সদর রোডের একজন বিক্রয় প্রতিনিধি জানান, শীতকালীন সময়ের তুলনায় এখন জ্বর ও ঠান্ডাজনিত রোগের ওষুধ বিক্রি বেড়েছে। সাধারণত শীতকালে রোগের প্রকোপ একটু কম থাকে। শীত কমার সঙ্গে সঙ্গে জ্বর-সর্দির মতো অসুখ বেড়ে যায়।

হাসপাতালের চিকিৎসক জানান , সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রায় ৯০ জন রোগী দেখেছি। গত সপ্তাহ থেকে রোগী বাড়ছে। বেশিরভাগই জ্বর, ঠান্ডা-কাশি, ডায়রিয়া, অ্যাজমা, হাঁপানি, নিউমোনিয়া, ব্রংকিওলাইটিস ও শ্বাসকষ্টের রোগী। অনেকের চর্মরোগের সমস্যাও অনেক বেড়েছে। ২-৩ শতাংশ করোনা রোগীও পাওয়া যাচ্ছে।বেশিরভাগ শিশুর শুরুতেই তীব্র জ্বর আসছে। ১০৪-১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠছে। সাধারণ জ্বর তিনদিন পর এমনিতেই সেরে যায়। কিন্তু সর্দি-কাশি বা অন্য উপসর্গ থাকছে অনেকের, তাই জ্বর দ্রুত কমছে না। হাসপাতালে এখন এ ধরনের রোগীর সংখ্যাই বেশি।

তিনি বলেন, দিন ও রাতের তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এখন ভাইরাসজনিত জ্বর হচ্ছে। এই জ্বর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে ছড়াচ্ছে। তিনদিনের বেশি জ্বর থাকলে অবহেলা করা উচিত নয়। পরীক্ষা করানো উচিত। যেহেতু এখন আবার নতুন করে করোনা হাতছানি দিচ্ছে। এছাড়া ডেঙ্গুও পুরোপুরি যায়নি। বিশেষত, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও ক্রনিক রোগীদের বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া উচিত। জ্বরের সঙ্গে ঘাড় বা শরীরে ব্যথা, উচ্চ তাপমাত্রা, বমি করা বা খাবার খেতে না পারা, তিনদিনের বেশি জ্বর থাকা, শুধু রাতে জ্বর আসা, শরীরে র‌্যাশ বের হওয়া, চোখ শুকিয়ে যাওয়া ও খিঁচুনি হওয়া ইত্যাদি লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।




রাজধানীতে প্রেমিকের সঙ্গে ‘মদ্যপানে’ তরুণীর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক : রাজধানীর হাজারীবাগে প্রেমিক ও তার বন্ধুর সঙ্গে মদ্যপানে রুবি আক্তার (১৮) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে হাজারীবাগের কালুনগর পানির পাম্প এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, রুবি আক্তারের বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকায়। বর্তমানে তিনি ধানমন্ডির এক বাসায় ভাড়া থাকতেন।

হাসপাতালে নিয়ে আসা রুবির প্রেমিক মো. রিফাত বলেন, আমার আর রুবির চার মাসের সম্পর্ক। রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঘোরাফেরা শেষে গভীর রাতে আমার বন্ধু আরমানের হাজারীবাগের কালিনগরের বাসায় নিয়ে যাই। রাতে মদ খাওয়ার পর হঠাৎ রুবি অচেতন হয়ে পড়ে। পরে সোমবার সকালের দিকে তাকে ঢামেকে আনা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরমান বলেন, ‘গতরাতেই রুবি ও রিফাত আমার বাসায় আসে। রাতে মদ খেয়ে রুবি অচেতন হয়ে পড়ে। পরে অচেতন অবস্থায় আমি, রিফাত ও শাওন মিলে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এলে দায়িত্বরত চিকিৎসক জানায় রুবি আর বেঁচে নেই।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আমাদের ধারণা অতিরিক্ত মদ্যপানে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এই ঘটনায় আরমান, রিফাত ও শাওন নামে তিনজনকে পুলিশ ক্যাম্পে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পরে তাদের হাজারীবাগ থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।




চোখের যে সমস্যা ক্যানসারের ইঙ্গিত দেয়

অনেকেই ক্যানসারের নাম শুনলেই ভয়ে গুটিয়ে পড়েন। আসলে এ রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজন সঠিক জ্ঞান ও সচেতনতা। এই রোগ নিয়ে যত কম কথা বলবেন, ততই কিন্তু সবাই এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যানসার অসুখটি এখন বাড়ছে। আমাদের জীবনযাত্রার কিছু ভুলত্রুটি এই সমস্যা ডেকে আনছে। তাই প্রতিটি মানুষকে অবশ্যই এই রোগ নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

যেহেতু ক্যানসার একবার ধরা পড়লে তার চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদী হয়ে থাকে। তাই যত দ্রুত রোগটি শনাক্ত করা যাবে, ততই রোগীর সুস্থতা নিশ্চিত হবে। ক্যানসার শরীরে বাসা বাঁধলে বেশ কয়েকটি লক্ষণ শরীরে দেখা দেয়। যা সাধারণ ভেবে অনেকেই অবহেলা করেন।

তাই শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে যে কোনো সমস্যা দেখা দিলে অবহেলা করবেন না। এর মাধ্যমেই কিন্তু আপনি প্রাথমিক পর্যায়েই ক্যানসার শনাক্ত করতে পারবেন।

জানেন কি, শরীরে ক্যানসার বাসা বাঁধলে চোখেও এর প্রভাব পড়ে। এ কারণেই চোখে বেশ কয়েকটি লক্ষণ ফুটে ওঠে। এক্ষেত্রে বহু মানুষের চোখের দৃষ্টি ঝপসা হয়ে যেতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ফুসফুসে টিউমার হলেও চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়। এমনকি চোখে ব্যথাসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

২০২০ সালের একটি গবেষণা বলছে, চোখের বেশ কিছু সমস্যা যেমন- চোখে কম দেখা, চোখে ঝপসা দেখা, ব্যথা, চোখে কোনো স্পট ঘুরে বেড়ানো, চোখে ফুলে যাওয়া, চোখ জ্বালা করা ইত্যাদি দেখা দিলে কেউ অবহেলা করবেন না। কারণ চোখের এই ৬ লক্ষণ শরীরের কোনো ক্যানসার টিউমারের কথাও বলতে পারে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ফুসফুসের ক্যানসারের মতোই ব্রেস্ট ক্যানসার হলেও চোখে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে চোখ জ্বালা করা, চোখ থেকে ক্রমাগত পানি পড়া, চোখ গোলাপি হয়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি প্রোস্টেট ক্যানসারেও এই লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাই চোখের কোনো সমস্যাকে অবহেলা করবেন না।

ক্যানসার হলে চোখে সমস্যা দেখা দেওয়ার মূল কারণ হলো অপরিবটাল মেটাস্টিটিস। এক্ষেত্রে বেশ কিছু ক্যানসার বেড়ে গেলে চোখের আশপাশেও প্রভাব ফেলে। তখন দেখা দেয় নানা সমস্যা।

যদিও এসব ক্ষেত্রে ক্যানসার হয়তো চোখে ছড়ায় না, তবে এর লক্ষণ পৌঁছায়। সাধারণত স্তন, ফুসফুস ও প্রোস্টেট ক্যানসারের ক্ষেত্রে সমস্যা চোখে পৌঁছে যায়। তবে সবার ক্ষেত্রেই যে সবগুলো লক্ষণ প্রকাশ পাবে তা কিন্তু নয়।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া




বাউফলে চেতনা নাশক স্প্রে ব্যবহার করে চুরি ছিনতাই

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায় হঠাৎ অভিনব কায়দায় বেড়েছে চেতনা নাশক স্প্রে ব্যাবহার করে চুরি ছিনতাই। ফলে আতঙ্ক বিরাজ করছে জনমনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চুরি-ছিনতাই ব্যাপক ভাবে বেড়ে গেছে। সন্ধ্যার আগে কৌশলে রান্না ঘরের জানালা দিয়ে খাবারে এবং রুমের মধ্যে চেতনানাশক স্প্রে করে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। রাতে ঘরের লোকজন অচেতন হয়ে পড়লে জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে পড়ে চোরের দল। এ সময় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।

সূর্যমনি ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহজালাল হাওলাদার জানান,
রাতে খাবার খাওয়ার পরে পরিবারের সকলে অচেতন হয়ে গেলে তার ঘর থেকে নগদ ৭ লক্ষ টাকা ও প্রায় ১১ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

অচেতন হয়ে পড়া ওই পরিবারের শিশু বাচ্চা সহ পাঁচজন সদস্যকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

একই কায়দার পার্শ্ববর্তী আরো কয়েকটি বাসাতে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর একটি সূত্র জানান, অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহৃত চেতনানাশক কোনো ওষুধ পানির সাথে মিশিয়ে স্প্রে করলে অজ্ঞান হয়ে পড়া স্বাভাবিক। মাঝেমধ্যে এসব রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, সবগুলো রোগীর ধরণ একই।

এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের আসামি করে বাউফল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন শাহজালাল হাওলাদার।