রোজা কি মস্তিষ্ক ও মানসিক রোগের উপশম করে?

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : পবিত্র রোজার মাসে ব্রেইন তথা মানসিক রোগে আক্রান্ত রোগীদের অভিভাবকরা রোজা নিয়ে প্রায়ই কিছু প্রশ্ন করেন যেমন- রোজা কি মানসিক রোগীর উপসর্গকে বাড়িয়ে দিবে? বা রোজায় মানসিক রোগীরা তাদের ওষুধ বা ইনজেকশন কিভাবে নেবেন?

প্রকৃতপক্ষে রোজা বা Intermittent Fasting মানসিক রোগীদের জন্য উপকারী। রোজা মানসিক রোগীদের আবেগ (Emotion) নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহায়তা করে এবং মনোযোগ (Concentration) ও মেমোরি (Memory) সুগঠিত রাখে।

রোজার সময় দেহে যে কিটোন উৎপন্ন হয়- এর মধ্যে বিএইচবি (BHB- Beta hydroxybutyrate) বিষন্নতা রোগ প্রতিকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ব্রেইনের জটিল রোগ উপশমে রোজা

রোজার সময় দেহ বা ব্রেইন গ্লুকোজের পরিবর্তে শরীরের ক্ষতিকর চর্বিকে শক্তি উৎপাদনে ব্যবহার করে ফলে উৎপন্ন হয় কিটোন বডি। পজিট্রন ইমিশন টোমোগ্রাফিক (PET Scan) করে দেখা গেছে রোজা বা ফাস্টিংয়ে ব্রেইন সেল অন্যান্য সময়ের তুলনায় প্রায় ৭-৮ গুণ বেশি কিটোন বডি ব্যবহার করে থাকে।

রোজার ফলে উৎপন্ন কিটোন বটি অটিজম (Autism), এলজিমার্স  (Alzheimer’s), এডিএইচডি (ADHD), মৃগীরোগ (Epilepsy), পারকিনসন্স ডিজিজ (Perkinsons disease) এবং ডিমেনশিয়া (Dementia) রোগীদের জন্যে উপকারী। ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরির (TBI) পর ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা রোজা ব্রেইন কোষের গঠনের জন্য উপকারী।

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা রোজা মৃগি রোগের জন্য উপকারী। দুরারোধ্য মৃগি রোগে (Treatment Resistant Epilepsy) আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় ফাস্টিং একটি কার্যকরী পদ্ধতি হিসেবে কিছু কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে।

ব্রেইন স্ট্রোক এবং হৃদরোগে রোজা
চিকিৎসা গবেষণায় বিশ্বে মানুষের মৃত্যুর দ্বিতীয় কারন ব্রেইন স্ট্রোক (Ischemic stroke); কিন্তু রোজা  ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। স্থুলতা কমিয়ে রোজা ব্রেইন স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমিয়ে আনে।

রোজায় ব্রেইনের নিউরোপ্লাসটিসিতে প্রক্রিয়া  (Neroplasticity) অধিকতর সক্রিয় হয় এবং এর মাধ্যমে ব্রেইনের কোষগুলোর মধ্যে নতুন নতুন সংযোগ স্থাপন হয়, ব্রেইন কোষ নতুনভাবে বিন্যস্ত হয়।

গবেষণা মতে, হার্ট রেইট বা হৃদ স্পন্দন ও ব্লাড প্রেশার কমানোর মাধ্যমে রোজা হৃদরোগের জটিলতা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

রোজায় (Intermitten Fasting) শরীরের অটোফ্যাগী (Autophagy) প্রক্রিয়া অধিকতর সচল হয় এবং এর মাধ্যমে শরীর থেকে পুরোনো, অকেজো কোষ দেহ থেকে বের হয়ে যায়। এ অটোফ্যাগী প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণার জন্য সম্প্রতি একজন জাপানি বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন। রোজার মাধ্যমে শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর চর্বি কমে শরীরের স্থুলতা হ্রাস পায়। ক্লান্তি বোধ কমে আসে।

মানসিক রোগের ওষুধ এবং রোজা:

মানসিক রোগের ওষুধ একবেলা কিংবা দুইবেলা হওয়ার জন্য ওষুধ সেবনে রোজাদারদের জন্যে কোন সমস্যা হয় না। ওষুধ একবেলা হলে ইফতারের পর আর দুইবেলা হলে ইফতার এবং সাহরির সময়ে সেবন করা যায়।

ব্রেইন বা মানসিক রোগ সিজোফ্রেনিয়ার জন্য অনেক সময় সাইকিয়াট্রিস্টরা ব্রেইনের ইঞ্জেকশন নিতে পরামর্শ দেন কারণ এটি সহজলভ্য- সাধারণত প্রতি সপ্তাহে বা মাসে প্রতি একবার দিলেই হয়। এতে রোগীকে বা তাদের স্বজনকে আলাদা কোনো দুশ্চিন্তা পোহাতে হয় না।

ইসলাম ও রোজা

রোজা মুসলমানদের একটি ফরজ বিধান। আল্লাহতায়ালা সুরা বাকারায় ১৮৩ নাম্বার আয়াতে বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা পরহেজগারিতা (তাকওয়া) অর্জন করতে পার।’

আরেকটি আয়াতে বলেন, ‘কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে যেন এ মাসের রোজা রাখে’। (সূরা বাকারা: ১৮৫)।

রোজা ও প্রিয় নবী (সা.):

রাসূল সাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম সপ্তাহে দুই দিন সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা পালন করতেন।

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার আল্লাহর কাছে বান্দার আমল পেশ করা হয়। আর আমি পছন্দ করি, আমার আমল এমন সময় পেশ করা হোক, যখন আমি রোজাদার’। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৭৪৭)

আসুন সিয়াম পালনের মাধ্যমে দেহ ও মনে সুস্থতার পাশাপাশি আমরা আজীবন সব ধরনের পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার আমল করি, মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করি।

লেখক: ডা. সাঈদ এনাম, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।




আন্তর্জাতিক কিডনি দিবস আজ : ব্যয়বহুল চিকিৎসা বিপাকে রোগী

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : কিডনি বিকল হয়ে গেলে বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় কিডনি সংযোজন অথবা নিয়মিত ডায়ালাইসিস। দেশে সরকারিভাবে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানে ট্রান্সপ্লান্ট বা কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা আছে। আর সারা দেশে ২৫০টির বেশি ডায়ালাইসিস সেন্টারের মধ্যে সরকারি সেন্টারের সংখ্যা ৪৫টির মতো। সরকারি-বেসরকারিভাবে দিনে ১৫ হাজারের মতো রোগীকে ডায়ালাইসিস দেওয়া সম্ভব হয়। বাকি রোগীরা থেকে যান ডায়ালাইসিস সুবিধার বাইরে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোয় চাহিদার তুলনায় কিডনি প্রতিস্থাপন ও ডায়ালাইসিস সুবিধা কম থাকায় রোগীরা বেসরকারিতে ছুটছেন। সেখানে এ চিকিৎসা এতটাই ব্যয়বহুল যে শতকরা ১০ জন রোগী ডায়ালাইসিসের খরচ বহন করতে পারেন। এ ১০ শতাংশের মধ্যে মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশের ট্রান্সপ্লান্ট বা কিডনি প্রতিস্থাপনের অর্থনৈতিক সক্ষমতা রয়েছে। ফলে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশে প্রায় ৯০ ভাগ রোগী বিনা চিকিৎসায় অথবা আংশিক চিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন।

এমন বাস্তবতায় বিশ্বের মতো আজ (মার্চের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার) দেশেও পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক কিডনি দিবস ২০২৪। ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব নেফ্রোলজি (আইএসএন) নির্ধারিত দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘কিডনি হেলথ ফর অল অর্থাৎ সুস্থ কিডনি সবার জন্য’। এবারের থিম ‘অ্যাডভান্সিং ইক্যুইটিবল অ্যাকসেস টু কেয়ার অ্যান্ড অপটিমাল মেডিকেশন প্র্যাক্টিস’।

দেশে কিডনি রোগীর সঠিক পরিসংখ্যান নেই। বিশেষজ্ঞদের অনুমিত হিসাব অনুযায়ী ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কিডনি রোগে ভুগছেন। এর মধ্যে বছরে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষের কিডনি বিকল হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগীর হার শতকরা ১৬-১৮। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ৫০ হাজার জনগোষ্ঠীর জন্য একজন নেফ্রোলজিস্ট থাকা দরকার। ১৭ কোটি মানুষের দেশে নেফ্রোলজিস্ট প্রয়োজন ৩ হাজার ৪০০ জন। বর্তমানে রোগটির চিকিৎসায় ২২০ জনের মতো অধ্যাপক, সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপকসহ ৩৬০ জন বিশেষজ্ঞ এবং ২০০ প্রশিক্ষিত নার্স আছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রাধক্ষ্য ও কিডনি রোগবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল জানান, কিডনি বিকল রোগীর বাঁচার একটাই পথ-ট্রান্সপ্লান্ট অথবা নিয়মিত ডায়ালাইসিস। এর জন্য ৮টি সরকারি পুরোনো মেডিকেল কলেজসহ জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট হাসপাতাল (নিকডু) কুর্মিটোলা জেনারেল, কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী, মুগদা জেনারেল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং মিডফোর্ডসহ কয়েকটি চিকিৎসাকেন্দ্রে এ সুবিধা আছে। এছাড়া কিছু সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা সদর হাসপাতালে দু-একটি করে মেশিন আছে। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৪০০টির মতো ডায়ালাইসিস মেশিন রয়েছে। এ সংখ্যা রোগী অনুপাতে খুবই অপ্রতুল।

রোগটির চিকিৎসা ব্যয় সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেসরকারিভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করাতে হাসপাতালভেদে ৩ লাখ থেকে ১২ লাখ টাকা লাগে। প্রতিস্থাপন করতে না পারলে রোগীকে সাধারণত সপ্তাহে এক থেকে তিনটা ডায়ালাইসিস নিতে হয়। প্রতি সেশন ডায়ালাইসিসের জন্য বেসরকারি স্কয়ার, ইউনাইটেড ও আজগর আলী হাসপাতালে ৬ হাজার টাকা লাগে। এছাড়া বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ৫ হাজার ৩০০, ল্যাবএইড হাসপাতালে ৪ হাজার ৫০০, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল হাসপাতালে ৪ হাজার ২০০, পপুলারে ৫ হাজার, বারডেম জেনারেল হাসপাতালে ৩ হাজার ৬০০, সুপার স্পেশালাইজ হাসপাতালে ৩ হাজার ৫০০ এবং বিএসএমএমইউতে ২ হাজার ৮০০ টাকা লাগে। অন্যদিকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটি (ক্যাম্পস)’ ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০, ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনে ১ হাজার ৫০০ এবং গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ১ হাজার ১০০ টাকা গুনতে হয়। এর বাইরেও ওষুধ, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খরচ আছে।

কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটি (ক্যাম্পস) সভাপতি কিডনি রোগবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এমএ সামাদ গণমাধ্যমকে বলেন, দেশে যে ডায়ালাইসিস সেন্টার আছে, তা দিয়ে ১০-২০ ভাগ রোগীকে ডায়ালাইসিস দেওয়া যায়। এ ডায়ালাইসিস আবার এতটাই ব্যয়বহুল যে, ৯০ ভাগ রোগীই ছয় মাসের মধ্যে চিকিৎসার খরচ বহন করতে না পেরে চিকিৎসা বন্ধ করে দেন। এমন বাস্তবতায় কিডনি সুরক্ষা বিমা চালু জরুরি। এছাড়া কমপক্ষে এক হাজার ডায়ালাইসিস সেন্টার গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি কিডনি রোগ প্রতিরোধে ধূমপান ও মদ্যপান বর্জন করতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ ও কায়িক পরিশ্রম বাড়াতে হবে।




আজ দেশে ফিরছেন রাষ্ট্রপতি

চন্দ্রদীপ নিউজ: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাজ্যে তার মেডিকেল চেকআপ শেষে আজ সকালে দেশে ফিরবেন।

রাষ্ট্রপতির সফরসূচি অনুযায়ী, “রাষ্ট্রপতি ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বাণিজ্যিক বিমান সকাল ৮টা ১০টায় হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। ”

এর আগে গত ৩ মার্চ রাষ্ট্রপতি এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত বিমানে আরব আমিরাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা ত্যাগ করেন।

আমীরাত থেকে রাষ্ট্রপতি মেডিকেল চেকআপের অংশ হিসেবে ৬ মার্চ লন্ডনে পৌঁছান।




লিভার ভালো রাখতে কী খাবেন?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  লিভার ভালো রাখার জন্য খাবারের প্রতি আপনাকে আরও বেশি যত্নশীল হতে হবে। বর্তমানে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তাই আপনাকে আগেভাগেই হতে হবে সচেতন। মূলত ভুল খাদ্যাভাস, অতিরিক্ত ফাস্টফুড বা অস্বাস্থ্যকর খাবার, বেশি বেশি ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার খাওয়ার কারণে এ ধরনের সমস্যা বেশি দেখা দেয়। তাই আপনাকে বেছে নিতে হবে লিভার ভালো রাখতে সাহায্য করে এমন সব খাবার। চলুন জেনে নেওয়া যাক-



ইফতারে ভাত খাওয়া কি ভালো?

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : অনেকেই ইফতারে ভাজাপোড়া ও তেল মসলা যু্ক্ত খাবার খেতে পারেন না। এসব খেলে গ্যাসের সমস্যা বাড়ে। ইফতারের পর অস্বস্তিতে ভোগেন। তাই ইফতারের টেবিলে ভাত-তরকারিকেই বেছে নিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে ভাত দিয়ে ইফতার করা কি ভালো?

ইফতারে ভাত খেলে কী হয়?

পুষ্টিবিদ আয়শা সিদ্দিকার মতে, ইফতারে চাইলে ভাত খাওয়া যাবে। ভাতের সঙ্গে মাছ কিংবা মাংসের ঝোল ও সবজি খাওয়া যায়।

তিনি বলেন, যেসব রোগীরা ওজন স্বল্পতায় ভুগছেন তারা চাইলে ইফতারে ভাত যুক্ত করতে পারেন। ভাতের সঙ্গে মাছ, মাংস কিংবা সবজিও খাওয়া যায়।

ইফতারে কতটুকু ভাত খাবেন?

ইফতারে ভাতের পরিমানটা কম হতে হবে। খুব বেশি ভাতে খেলে শরীরের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তবে ইফতারে ভাতের বদলে সবজি খিচুড়ি ও ডিম খেলে বেশি পুষ্টি মেলে। শরীরও দ্রুত শক্তি পায়।

ইফতারে আনুন বৈচিত্র্য

পুষ্টি বিজ্ঞানীরা সব সময় ইফতারে বিভিন্ন ধরনের খাবার খেতে বলেন। একই খাবার দিয়ে রোজ ইফতার করতে বারণ করেন। অর্থাৎ এক এক দিন এক এক ধরনের খাবার খাওয়া উচিত। ইফতারে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাবার রাখা উচিত।

পুষ্টির অভাব পূরণ করুন ইফতারে

ইফতারে এমন খাবার রাখা উচিত যেগুলো সারা দিন রোজা রাখার পর শরীরের প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টির অভাব পূরণ করে। এই যেমন আপনি যদি ইফতারে ভাত খান তবে সঙ্গে রাখুন মাছ, মাংস এবং সবজি। সঙ্গে ডালও খেতে পারেন।

ভাতের সঙ্গে শসা, টমেটো ও গাজরের সালাদও খেতে পারেন। মোট কথা হচ্ছে ইফতারে ভাত খেতে বারণ নেই, তবে ভাতের সঙ্গে মাছ, মাংস ও সবজি অবশ্যই খেতে হবে। না হলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে না।

ইফতারে ভাত খেলে তার পরিমানটা কম হওয়া উচিত। ভাত কম খেয়ে মাছ, মাংস ও সবজি বেশি খেতে পারেন।




ভিটামিন ডি’র ঘাটতি মেটাবে এই ৫ ফল

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ভিটামিন ডি হলো চর্বিতে দ্রবণীয় একটি সেকোস্টেরয়েড গ্রুপ যা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফেট এর আন্ত্রিক শোষণ এবং মানবদেহে বিভিন্ন জৈবিক প্রভাব সৃষ্টির জন্য দায়ী। আমাদের শরীর নিজে থেকেই এই ভিটামিন সংশ্লেষ করতে পারে। তবে তার জন্য জরুরি পর্যাপ্ত সূর্যালোকের। খুব তীব্র নয় এমন রোদে গিয়ে ১০ থেকে ২০ মিনিট দাঁড়ালেই অনেকটা উপকার মেলে। তবে এই সময় এখনের অভাব। ভিটামিন ডি খাবারের থেকেও সংগ্রহ করা যেতে পারে‌‌। হালকা কিছু ফল ভিটামিন ডি-এর সেরা উৎস।

কিসমিস

কিসমিসের প্রতি ১০০ গ্রামে ৮০ আইইউ-এর (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট) বেশি ভিটামিন ডি রয়েছে। এছাড়াও এর মধ্যে ফাইবার ও আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে।

আলুবোখারা

আলুবোখরার প্রতি ১০০ গ্রামে ভিটামিন ডি ৩ মিলিগ্রামেরও বেশি। তাই ঐই খাবারটাও রাখতে পারেন রোজকার তালিকায়।

আমন্ড 

আমন্ডের মধ্যেও রয়েছে ভিটামিন ডি-এর গুণ। রোজ আমাদের যতটা ভিটামিন ডি জরুরি , তার প্রায় ১০ শতাংশ জোগান দেয় আমন্ড। আমন্ড খাওয়ার আগে কিছুক্ষণ জলে ভিজিয়ে রেখে দিতে পারেন।

খোবানি 

এতে প্রতি ১০০ গ্রামে ভিটামিন ডি-এর পরিমাণ ১.৫ আইইউ। এছাড়াও এতে পটাশিয়াম, আয়রন ও ভিটামিন এ রয়েছে। তাই রোজকার তালিকায় রাখতেই পারেন।

শুকনা ডুমুর

ডুমুর ফলেও ভিটামিন ডি প্রচুর পরিমাণে রয়েছে ‌। প্রতি ১০০ গ্রামে ভিটামিন ডি-এর পরিমাণ ৩ আইইউ। পাশাপাশি ডুমুরের মধ্যে ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম ফাইবার ও পটাশিয়ামের পরিমাণ অনেকটাই বেশি।

কতটুুক ফল খাবেন?

রোজ ফল খাওয়া ভালো। বিশেষত এই ফলগুলো শরীরে ভিটামিন ডি-এর চাহিদা মেটায়। কিন্তু রোজ অল্প পরিমাণ যেমন হাফ কাপের বেশি না খাওয়াই ভাল। অতিরিক্ত ভিটামিন ডি থেকে বমি, মাথা ঘোরার সমস্যা হতে পারে।




সবচেয়ে দীর্ঘ সময় রোজা পালন করবে যেসব দেশ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : পবিত্র মাহে রমজানে ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত না খেয়ে রোজা রাখেন মুসলিমরা। কিন্তু উপবাস থাকার এই সময়কাল পৃথিবীর সব স্থানে একই নয়। ভৌগোলিক কারণে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের ওপর উপবাসের সময় নির্ভর করে।

চলতি বছর রমজানের বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১৪ ঘণ্টা ২ মিনিট উপবাস থাকতে হবে।

এ বছর পৃথিবীর কোন এলাকার মানুষকে সবচেয়ে বেশি সময় উপবাস থেকে সিয়াম পালন করতে হয়, এ প্রশ্ন দেখা দেয় অনেকের মনেই। চলুন জেনে নিই সবচেয়ে বেশি সময় রোজা রাখতে হবে যেসব দেশে—

এ বছর সবচেয়ে বেশি সময় না খেয়ে থাকতে হবে গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের। সেখানে ১৭ ঘণ্টা ২৬ মিনিট উপবাস থেকে রোজা রাখতে হবে দেশটির বাসিন্দাদের।

নরডিক দেশ আইসল্যান্ডের রোজাদাররাও দীর্ঘ সময় রোজা থাকবেন। সেখানে ১৭ ঘণ্টা ২৫ মিনিট রোজা রাখতে হবে তাদের।

ফিনল্যান্ডের বাসিন্দাদেরও উপবাস করতে হবে ১৭ ঘণ্টা ৯ মিনিট।

সূত্র: গাল্ফ নিউজ




কলাপাড়ায় ভোররাতে দুর্ধর্ষ চুরি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালী কলাপাড়ায় ভোররাতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের হাঁড়িপাড়া গ্রামে শাহআলম গাজীর বাসায় আজ রবিবার (১০ মার্চ) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

শাহআলম গাজীর ছেলে সোহাগ গাজী জানান, ঘরের পিছনের লোহার দরজা কেটে তিনটি ছিটকানি খুলে ঘরে চারজন মুখোশ পরা লোক প্রবেশ করে। আমার রুমে ঢুকে রামদা ঠেকিয়ে আমাকে চিৎকার দিতে নিষেধ করে।

এসময় তারা স্টিল আলমারি, ওয়ারড্রব ভেঙে টাকা, গয়না, মোবাইল নিলে। আমি চিৎকার দিলে তারা আমার পায়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটায়। ঘরের দোতলায় থাকা আমার বাবা-মা, ভাই ঘটনা বুঝতে পারলে। তাদের ডাক চিৎকার শুনে প্রতিবেশী সোহেল মৃধা টর্চ লাইটের আলো জ্বালিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়।

প্রতিবেশী সোহেল মৃধা জানান, ভোররাতের আগে আমি চিৎকার শুনে দৌড়ে তাদের বাড়িতে গেলে সকল দরজা খোলা দেখতে পাই। আমার উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দৌড়ে পালিয়ে যায়।

শাহাআলম গাজী জানান, আমরা ঘরের দোতলায় ঘুমিয়ে ছিলাম। ছেলের চিৎকার ও শব্দ শুনে বুঝতে পারলাম ঘরে কেউ এসেছে। আমরা ডাক চিৎকার দিলে লোকজন চলে আসে। এর আগে  স্টিল আলমারি ভেঙে নগদ এক লক্ষ, বারো হাজার সাতশত টাকা, দুটি স্বর্ণের চেইন, একজোড়া রুলি, তিনটি আংটি, একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, দশটি শাড়ি নিয়ে যায়।

কলাপাড়ার থানার এসআই মোঃ গোলাম মাওলা জানান, খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে পুলিশ গেছে। আমাদের টিম কাজ করছে। আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

 




৩২ জনের করোনা শনাক্ত




মুরাদিয়ায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :‘স্বাস্থ্য সচেনতাই, সুস্থ থাকার প্রথম শর্ত’ এই স্লোগান সামনে রেখে মুরাদিয়ায় স্থানীয় জনগণের কল্যাণে দ্বিতীয়বারের মতো দুই দিনব্যাপী মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নে ৮ ও ৯ মার্চ মুরাদিয়া স্বপ্নসিড়ি সোসাইটির উদ্যোগে এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

মুরাদিয়ার আজিজ আহম্মেদ ডিগ্রি কলেজ আয়োজিত এই মেডিকেল ক্যাম্পে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্যাম্পে দুই দিনে প্রায় ১৯০০ দরিদ্র রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা পরামর্শ ও ফ্রি প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়।

মেডিকেল ক্যাম্পে ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজের সহকারি অধ্যাপক সুদিপ কুমার নাথ সমন্বয়ে ও ডা. শুভংকর বাড়ৈর নেতৃতে ২৫ জনের মেডিকেল টিম ও চক্ষু, মেডিসিন, প্রসুতি ও নারী স্বাস্থ্য, দন্ত, নাক-কান গলা, শিশু ও ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সমন্বয়ে এই সেবা প্রদান করা হয়।

মুরাদিয়া স্বপ্নসিঁড়ি সোসাইটির ১০০ সদস্যদের স্বেচ্ছাশ্রমে রোগীদের রেজিস্ট্রেশন আন্তরিক প্রচেষ্টায় এবং অক্লান্ত পরিশ্রমে এই মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে।

ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা প্রযুক্তিবিদ কামরুল হাসান সাগর (সিআইপি) বলেন, চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তাদের উদ্দেশ্য এবং ভবিষ্যতে আরও এই রকমের ক্যাম্প আয়োজন করার পরিকল্পনা আছে।

স্বপ্নসিঁড়ি সোসাইটি মানুষের সেবা দানের উদ্দেশ্যে শিক্ষা চিকিৎসা কৃষি এবং খেলাধুলা নিয়ে কাজ করে মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে এবং নেতৃত্ব তৈরি করতে স্বপ্নসিড়ি সোসাইটি কাজ করে।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি সংগঠনটি এ ধরনের মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করে। তখন ৯০০ দরিদ্র রোগীকে চিকিৎসা পরামর্শ ও বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়।