বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, হাসপাতাল প্রস্তুতের নির্দেশ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : চলতি মাস শেষ হতে এখনও ১১ দিন বাকি। এর মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়েছে। এদের মধ্যে মারা গেছেন ২০ জন। দেশে কোনো বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস) ডেঙ্গুর এমন ভয়াবহ রূপ আর কখনো দেখা যায়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য–উপাত্ত বলছে, দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে গত বছর সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ওই বছরের প্রথম তিন মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছিল ৯ জনের। আক্রান্ত হয় ৮৪৩ জন। আর ২০২২ সাল থেকে ২০০৫ সালে পর্যন্ত বছরের প্রথম তিন মাসে কারও মৃত্যু তথ্য দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৫৬৬ জন। এর মধ্যে ঢাকায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫২৭ জন এবং ঢাকার বাহিরে ১ হাজার ৩৯ জন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২০ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ৭ জন এবং ঢাকার বাহিরে আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ জন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্যকর এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিতে না পারলে এবারও ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এডিস মশা নির্মূলে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি দেশের সব হাসপাতাল প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।

মঙ্গলবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়রের সঙ্গে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া প্রতিরোধমূলক সমন্বয় সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এমন কথা বলেন।

ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, সব হাসপাতাল প্রস্তুত রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে রোগীকেও দ্রুত হাসপাতালে আসার অনুরোধ থাকবে। কেননা দেরি করলে ঝুঁকি বাড়ে। সমন্বয় যেন ভালো হয় তাই এ সভার আয়োজন করা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, গত বছর বিটিআই আমদানির ঠিকাদারি দেওয়া হয়েছিল তবে তারা সঠিকভাবে কাজ করেনি। তারা মিসডিক্লারেশন করেছে। এজন্য আমরা নিজস্বভাবে আমদানি করব। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে বিটিআই বায়োলজিক্যালি উত্তম। এডিস মশার জন্য প্রতিটি দফতর ও সংস্থাকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

সভায় ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দক্ষিণের মেয়র ফজলে নূর তাপস বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত সব রোগীর সময় মতো চিকিৎসা সেবা দিতে হবে। কোনো রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে পাঠানো যাবে না। ২০২৩ সালের ডেঙ্গুতে নারী ও শিশু বেশি কেন মারা গেল সেটি নিয়ে গবেষণা করে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর, মানুষকে সঠিক তথ্য জানাতে হবে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, করোনার মতো ডেঙ্গু প্রতিরোধে এ বছর আমরা আগেভাগেই এই সমন্বয় সভার আয়োজন করেছি। আশা করছি, এ বছর সম্মিলিত ভাবে কাজ করে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুহার অনেক কমিয়ে আনতে পারবো।




বরিশালে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাসহ ৩ জন কারাগারে

বরিশাল অফিস:: বরিশালে ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতিকে কুপিয়ে জখমের মামলায় মহানগরের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদকসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) বরিশাল মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির হয়ে তারা উচ্চ আদালতের দেওয়া জামিন বাড়ানোর আবেদন করেন।

মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম মো. আশরাফউদ্দিন আবেদন নামঞ্জুর করে সবাইকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে জিআরও এনামুল হক জানিয়েছেন।

কারাগারে যাওয়া নেতারা হলেন, বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাস, তার অনুসারী হাসান ও অপু।

মামলার বরাতে জিআরও এনামুল হক জানান, বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি মেহেদি হাসান মিথুনকে ১৯ জানুয়ারি কুপিয়ে জখম করা হয়। এ ঘটনায় মিথুনের শ্বশুর বাদশা চৌধুরী নামধারী চারজনসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচজনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করে। ওই মামলার আসামি হিসেবে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা প্রদীপ দাসসহ নামধারী ৪ আসামি। এর মধ্যে প্রদীপসহ তিন আসামি হাজির হয়ে জামিন বাড়ানোর আবেদন করেন। তবে মামলার অপর আসামি ছাত্রলীগ নেতার ভাই রাধেশ্যাম দাস আদালতে হাজির হননি।




সাগরে নিখোঁজ ২৫ জেলের সন্ধান আজো মেলেনি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

চার মাস আগের ঝড়ের ঘটনা, পেটের তাগিদে গভীর সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির ঝড়ের কবলে নিখোঁজ হয় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ২৫ জেলে। যাদের সন্ধান আজো মেলেনি। এখন পরিবারের আকুতি-নিখোঁজ জেলেদের ভাগ্যে কি ঘটেছে? তা জানতে চান তারা।

জানা গেছে, গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে গত বছরের ১৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় মিধিলির কবলে পড়ে নিখোঁজ হয় ২৫ জেলে। ঘটনার চার মাস হয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে তিন বোনের তিন ছেলে রয়েছে।
তারা হলেন- উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের জিসান, নয়াভাঙ্গুনি গ্রামের তামিম ও কামরুল।
ওই ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের বাসিন্দা হাসান জোমাদ্দারের ট্রলারে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তিন খালাতো ভাই। কিন্তু ঝড়ের পর বাড়ি ফেরা হয়নি তাদের। তাই দিশেহারা তাদের পরিবার।

নিখোঁজ তিন জেলের মামা শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘প্রশাসনকে জানিয়েছি। আমরা ট্রলার নিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। ওরা বেঁচে আছে নাকি নাই তাও জানতে পারছি না।’

শুধু এ তিন জেলে পরিবারের এমন হতাশা নয়-বাকি ২২ জেলে পরিবারের ভাষ্যও এক।

তারা বলছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। সুন্দরবন, মংলায় খোঁজাখুঁজি ছাড়াও ভারতেও খোঁজ নেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো কিছুতেই তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।’

সংশ্লিষ্টদের তথ্যানুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির পর থেকে নিখোঁজ হয় উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের বাসিন্দা হাসান জোমাদ্দারের ট্রলারের জিসান, তামিম, কামরুলসহ আটজন জেলে, মৌডুবী ইউনিয়নের কাজিকান্দা দিদার মৃধার ট্রলারের আটজন জেলে এবং একই এলাকার হিমু হাওলাদারের মালিকানাধীন ট্রলারের ৯ জন জেলে।

উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া মৎস্য সমিতির সভাপতি জহির উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘জেলেদের নিখোঁজের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেছি। সুন্দরবন, মংলা এবং ভারতের বর্ডারেও ট্রলার নিয়ে খোঁজাখুঁজি করেছি। কিন্তু কোথাও তাদের কোনো সন্ধান পাইনি আমরা।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘নিখোঁজদের বিষয়ে আমরা এখনও কোনো তথ্য পাইনি। তাদের সন্ধানে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। কোস্টগার্ড বিষয়টি অবগত রয়েছে।




রোজায় শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে করণীয়

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বিভিন্ন খাবারের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানলে এবং খাবার গ্রহণে সতর্ক থাকলে রোজায় সতেজ ও প্রাণবন্ত থাকা যাবে।

সতেজ থাকতে করণীয়: সাহরিতে খুব দেরিতে ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়া করে না খেয়ে, একটু আগে উঠতে হবে।

এক গ্লাস হালকা গরম পানি খেয়ে পেট পরিষ্কার করে হালকা হাঁটাহাঁটি করলে এবং ধীরে ধীরে চিবিয়ে বিভিন্ন রঙের খাবার যেমন—তিন-চার রঙের সবজি, দু-তিন রকমের ফল ইত্যাদি গ্রহণ করলে খাবার সহজে হজম হবে।

রোজাদারদের শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে একটি নিয়ম বানিয়ে ফেলতে হবে। যেমন—সাহরিতে তিন গ্লাস, ইফতারিতে পানি ও শরবত মিলিয়ে তিন গ্লাস, তারাবির নামাজের আগে ও পরে দুই গ্লাস, রাতের খাবারের পরে দুই গ্লাস, ঘুমানোর আগে বা সাহরিতে হাফ গ্লাস বা এক গ্লাস দুধ (রোগ ও বিশেষ অবস্থার জন্য ডায়েটিশিয়ানের নির্দেশনা অনুযায়ী এই নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে)।

রোজা ভেঙে অনেক বেশি খাবার একবারে খাওয়া যাবে না। সারা দিন পাকস্থলী বা হজমের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত অঙ্গগুলো প্রায় নিষ্ক্রিয় থাকে। হঠাৎ করে বেশি খাবার পেলে সেগুলোর কাজের গতি বেড়ে যায়। যার দরুন রোজাদারদের অস্বস্তি সৃষ্টি হতে পারে।

তাই ইফতারের খাবার হওয়া চাই সহজপাচ্য। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যক্তিভেদে খাবার গ্রহণের পরিমাণও নির্দিষ্ট হতে হবে। ডায়াবেটিস, কিডনি রোগী এবং অন্যান্য বিশেষ রোগীর ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী খাবার তালিকা প্রস্তুত করা উচিত। 

খাবারের পরিমাণের পাশাপাশি খাবার তৈরির পদ্ধতি, রান্নার তেলের মান, খাবার রান্নার পাত্র, পরিবেশনের পাত্র, খাবার প্রস্তুতের পরে সেটা ঢেকে রাখা হচ্ছে কি না, খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না, সালাদ বা ফল কতক্ষণ বাইরে রাখা হয়েছে ইত্যাদি ব্যাপার অবশ্যই পর্যবেক্ষণ করা উচিত। শরবতে চিনির ব্যবহার এড়িয়ে যাওয়া ভালো।

 

ব্যবহার করলেও কম পরিমাণে করতে হবে। প্রাকৃতিক চিনি স্টেভিয়া ব্যবহার করা যেতে পারে। ফল জুস করে না খেয়ে স্বাভাবিকভাবে চিবিয়ে খাওয়া ভালো। অবশ্যই খাবারের আগে ও পরে হাত ধোয়া অর্থাৎ ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার দিকে খেয়াল রাখা উচিত।

মোটকথা, আপনার কী ধরনের খাবার প্রয়োজন সেটা একজন অভিজ্ঞ ডায়েটিশিয়ানের কাছ থেকে জেনেবুঝে গ্রহণ করতে পারেন। কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে রোজার সময় ওষুধের ডোজের মাত্রা কেমন হবে, কখন কখন খেতে হবে, সেগুলো ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত।

পরামর্শ দিয়েছেন ফাতিম তুজ জুহুরা, মেরিন হেলথকেয়ার হসপিটাল, খিলক্ষেত, ঢাকা।




কীর্তনখোলায় লঞ্চের পাখায় কাটা পড়ে নিখোঁজ জেলের পা উদ্ধার

বরিশাল অফিস::  কীর্তনখোলা নদীতে বরিশাল নৌ-বন্দরের পন্টুনে থামানো লঞ্চের পাখায় আটকেপড়া জাল ছাড়াতে গিয়ে কাটা পড়ে এক জেলে নিখোঁজ হয়েছেন।

সোমবার (১৮ মার্চ) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে সদর নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল জানান।

নিখোঁজ জেলের একটি কাটা পা উদ্ধার করা হয়েছে। শরীরের অন্যান্য অংশ উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা তল্লাশি করছেন।

নিখোঁজ ওই জেলে হলো-আবেদ আলী (৩০) বরিশাল নগরের রসুলপুর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোহরাব সর্দারের ছেলে। সে বেঁদে সম্প্রদায়ের জেলে। নিখোঁজ জেলে আবেদ তিনমাস বয়সী কন্যার জনক।

জেলে আবেদের স্ত্রী রুমা জানান, স্বামী, সে ও ভাগিনা ইয়াসিনকে নিয়ে কীর্তনখোলা নদীর নৌ-বন্দর এলাকায় জাল ফেলেন। স্রোতের টানে জাল গিয়ে নৌ-বন্দরে থাকা বরিশাল-ঢাকা রুটের এমভি পারাবাত-১১ লঞ্চের ইঞ্জিনের পাখায় আটকে যায়। লঞ্চের পেছনে থাকা এক কর্মচারীকে বলে পাখা থেকে জাল ছাড়াতে যায় স্বামী আবেদ। জাল ছাড়ানোর সময় ইঞ্জিন চালু দেয়। তখন কর্মচারীদের বললেও তারা বলে তাদের করার কিছু নেই।

বরিশাল সদর নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে লঞ্চের পাখায় কাটা পড়ে জেলে আবেদ নিহত হয়েছেন। পাখায় কাটা পড়া একটি পা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি অংশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএ যৌথভাবে তল্লাশি করছে।

ওসি জলিল বলেন, উদ্ধার করার পর পরিবারের সিদ্বান্ত অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পারাবাত লঞ্চের সুপারভাইজার মো. সেলিম জানান, লঞ্চের নিচে একজন জেলে জাল ছাড়াতে গিয়েছে কেউ বিষয়টি জানায়নি। ঘাটে লঞ্চ সরানোর জন্য ইঞ্জিন চালু করে। দুর্ভাগ্যক্রমে এ ঘটনা ঘটেছে। চিৎকার শুনে বিষয়টি জানতে পেরে ইঞ্জিন বন্ধ করা হয়েছে।

বরিশাল নৌ-বন্দর কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, খবর শুনে ফায়ার সার্ভিস ও নৌপুলিশ পাঠানো হয়েছে। তারা উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। উদ্ধারের পর পরবর্তী সিদ্বান্ত নেওয়া হবে।




ট্রলি-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে আহত তিন

পটুয়াখালী প্রতিনধি :

দশমিনায় ট্রলি ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষে তিনজন আহতের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (১৮ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের ঠাকুরের হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- দশমিনা সদর ইউনিয়নের উত্তর লক্ষীপুর গ্রামের বাবুলের ছেলে আবদুল গনি (২০), রফিক গাজীর ছেলে মো. রাকিব (১৮) এবং মো. আলাউদ্দিনের ছেলে মো . সোহাগ (২০)।

জানা যায়, পটুয়াখালী থেকে একটি মোটরসাইকেল বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের ঠাকুরের হাট ব্রিজের ঢালে আসলে মালবাহী একটি ট্রলির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলের চালক সহ দুজন আহত হয়। আহত একজনের ডান পা ভেঙ্গে যায়। ট্রলি চালক পালিয়ে যায়। আহতদের স্থানীয়রা দশমিনা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. মিঠুন চন্দ্র হালদার বলেন, আহত তিনজনের মধ্যে আবদুল গনি ডান পা ভেঙেছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বলা হয়েছে।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ট্রলি উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। ট্রলি চালককে পাওয়া যায়নি। পরবর্তী কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

 




কুমিল্লায় বিজয় এক্সপ্রেসের ৪ বগি লাইনচ্যুত

চন্দ্রদীপ ডেস্ক :কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। রবিবার (১৭ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের তেজের বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর জানা যায়নি।

এদিকে দুর্ঘটনার বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে ট্রেনটির কয়েকটি বগি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।




নির্মাণাধীন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছাদের একাংশে ধস

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

নির্মাণাধীন ৫০ শয্যা বিশিষ্ট পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দার ছাদ ঢালাইয়ের সময় ধসে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বলছে, ঢালাই শ্রমিকদের সেন্টারিং ত্রুটির কারণে ঘটনাটি ঘটেছে।  

প্রত্যক্ষদর্শী নির্মাণ শ্রমিকরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নির্মাণাধীন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে বারান্দা অংশের ছাদ ঢালাই দেওয়া হচ্ছিল। শেষ মুহূর্তে ঢালাই চলাকালীন সময়েই বারান্দার অংশের সেই ছাদ ধসে পড়ে। তবে এতে হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু ছাদ ঢালাইয়ের শ্রমিকদের মধ্যে তখন আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

ওইদিন রাতেই সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বারান্দার অংশের ছাদ ধসে পড়ে আছে। সেখান থেকে রড সরিয়ে নিচ্ছে নির্মাণ শ্রমিকরা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাউকে সেখানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। আর সন্ধ্যায় কেন ঢালাই দেওয়া হচ্ছিল, এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজটি দেখভালের দায়িত্বে থাকা রাহাত হোসেন বলেন, ‘হাসপাতালের পুরো ছাদটি ১০ হাজার স্কয়ার ফুট। এরমধ্যে বারান্দার অংশটুকু শুধু ২২ ফুট। আমরা সবাই যখন ইফতারি করতে যাই। তখন আমাদের না বলেই বারান্দার সেই অংশটুকু ঢালাই দেওয়া শুরু করে শ্রমিকরা। এ সময় সেন্টারিং ভালভাবে না হওয়ায় এই ঘটনা ঘটে।’

জানা গেছে, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এইচইডি) অধীনে পটুয়াখালীর প্রাইম কনস্ট্রাকশন নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজটি করছিল। প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজটি পায় এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। গত বছরের জুলাই মাসে কাজটি শুরু করে তারা।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘দুর্বল সেন্টারিংয়ের কারণে সামনের বারান্দার অংশটির ছাদ ধসে পড়েছে। তারাহুরো করে কাজটি করতেছিল মিস্ত্রীরা। তাই ঢালাই দেওয়ার পরপরই পড়ে গেছে। আমরা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেওয়ার পর মূল ঘটনাটি সম্পর্কে জানা যাবে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




দশমিনায় ধসে পড়া সেতু সংস্কারের উদ্যোগ নেই

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

নদীর ওপর ঝুলছে সেতু। কিন্তু সেই সেতু কাজে আসছে না। ১৫০ ফুট সেতুর অংশ বিশেষ ধসে পড়ায় তা ব্যবহার হচ্ছে না। তাই খেয়া নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপারে সময়-অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে। সেতু ধসের দুই মাস পেরিয়ে গেছে। সংস্কারের উদ্যোগ না নেয়ায় চরম ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীরা খেয়া নৌকায় নদী পারাপার হচ্ছে।

সাত বছর তিন মাস আগে পটুয়াখালীর দশমিনার খারিজা বেতাগি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সুতাবাড়িয়া শাখা নদীর উপর লোহার সেতুটি বিধ্বস্ত হলেও এখনো মেরামত কিংবা নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেই।

জানা যায়, বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সুতাবড়িয়া শাখা নদী। নদীর পূর্ব পাড়ে মরদানা, গরমআলী, জাফরাবাদ গ্রামসহ খারিজাবেতাগী ও তফালবাড়ীয়া গ্রামের একাংশ। আর পশ্চিমপাড়ের গ্রামগুলো হচ্ছে রামবল্লভ, দাবাড়ি, চিংগরীয়া, চন্দ্রাবাজসহ খারিজাবেতাগীর এবং তফালবাড়ীয়ার অপর অংশ। এ অবস্থায় ১১ গ্রামবাসীর সরাসরি উপজেলার সাথে সহজ যোগাযোগ, লেখাপড়া, জরুরি স্বাস্থ্য সেবাসহ সব কার্যক্রম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় জানায়, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে উপজেলার ঠাকুরের হাট সংলগ্ন পরিত্যাক্ত লোহার সেতুটি সড়িয়ে এনে বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের জমির মৃধা বাজার এলাকায় স্থাপনে ব্যয় হয় ১০ লাখ টাকা।

বদ্যালয়ে পাঠদান নিতে শিক্ষার্থীরা ছোট্ট একটি ডিঙ্গি খেয়া নৌকায় নদী পাড় হচ্ছে।

অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মনিরা আক্তার বলে, ইউনিয়নের একমাত্র মাধ্যমিক স্কুল। সেতু ভেঙে পরায় ঝুঁকি নিয়ে নদী পাড় হয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক হিরন আহমেদ বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২০০ শিশু শিক্ষার্থী রয়েছে। সেতুটি যখন ভেঙে পরেছিল তখন একটি শিশু মারা যায়।

বেতাগিসানকিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মসিউর রহমান ঝন্টু বলেন, নতুন করে একটি সেতুর জন্য দশমিনা উপজেলা পরিষদ ও এলজিইডি কার্যালয়ে অবহিত করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মকবুল হোসেন বলেন, বালু ভর্তি কার্গোর ধাক্কায় লোহার সেতুটি বিধ্বস্ত হয়। স্থান পরিবর্তন করে আরসিসি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু মাটি পরিক্ষা করে দেখা যায় ব্রিজ নির্মানের উপযোগী নয় স্থানটি।

 




নেভি-জলদস্যু গোলাগুলি, তবুও উদ্ধার করা যায়নি নাবিকদের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ভারত মহাসাগরে সোমালিয়া জলদস্যুদের কবলে পড়া ২৩ বাংলাদেশি নাবিককে উদ্ধার করতে নেভির একটি জাহাজ তাদের পিছু নিয়েছে। এসময় জলদস্যু ও নেভির মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। একপর্যায়ে জিম্মি বাংলাদেশিদের হত্যার হুমকিও দেয় জলদস্যুরা। এরপর কোনো উপায় না থাকায় পিছু হটে নেভির জাহাজটি।