চালকের গাফিলতিতে অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীতে চালকের দ্বায়িত্বহীনতার কারণে অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি আটকে রেখেছে এমন কথা ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ঢাকা কুয়াকাটা মহাসড়কে এসে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।

রোববার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর হেতালিয়া বাধঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

ঘণ্টাব্যাপী রাস্তায় বিক্ষোভ চলার কারণে সড়কের প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী থেকে অ্যাম্বুলেন্স চালক ফাঁকা রাস্তায় হুইসেল বাজিয়ে যাচ্ছিলেন।
হেতালিয়া বাধঘাট এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জন মাখন লাল অ্যাম্বুলেন্সে কোনো রোগী না থাকায় তাকে জবাবদিহির আওতায় আনেন। তার  অ্যাম্বুলেন্সের বৈধ কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্যোগ নেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সচালক মুমূর্ষু রোগী আনতে যাওয়ার কথা বললে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স রেখে তাকে ছাড়া হয় এবং রোগী নিয়ে ফেরার পথে লাইসেন্স ফেরত নেওয়ার কথা জানান।

কিছুক্ষণ পরে ড্রাইভার রোগী নিয়ে ফেরার পথে ট্রাফিক বক্সের সামনে দাঁড়ায় এবং ট্রাফিক পুলিশকে খুঁজতে থাকেন। অ্যাম্বুলেন্সে মুমূর্ষ রোগী থাকা সত্ত্বেও এভাবেই তিনি ২৫-৩০ মিনিট অপেক্ষা করেন। এ সময় চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আসা বেবি বেগম (৫৫) নামের এক মুমূর্ষ রোগী অ্যাম্বুলেন্সেই মৃত্যুবরণ করেন। মৃত বেবি বেগম পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুইয়া ইউনিয়নের কলাগাছিয়া গ্রামের শাহ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী।

পরে স্থানীয়রা জানতে চাইলে ড্রাইভার বলেন, ট্রাফিক সার্জন তাকে দাঁড় করিয়ে রাখায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় দায়িত্বরত জাকির ট্রাফিক সদস্যের ওপর হামলা করে। আহত ট্রাফিক সদস্যকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আরো পড়ুন : টকটকে লাল ও সুস্বাদু রাঙ্গাবালীর ‘রাঙা তরমুজ’

অ্যাম্বুলেন্স চালক বিজন হাওলাদার বলেন, আমি রোগী আনতে যাওয়ার সময় হুইসেল বাজিয়ে যাচ্ছিলাম তখন মাখনলাল স্যারে আমার লাইসেন্স রাইখা দেয় আর কয় যে যাওয়ার কালে লাইসেন্স লইয়া যাইতে। আমি লাইসেন্স নেওয়ার জন্য দাঁড়ায়ে ছিলাম। আর তখনই রোগী মারা যায়।

বেবি বেগমের ছেলে মেহেদী বলেন, আমি কলাগাছিয়া থেকে পটুয়াখালী পর্যন্ত আইন্নাও আমার মারে হাসপাতালে নিতে পারিনি। ড্রাইভারকে বার বার অনুরোধ করার পরও তিনি কইছে আমি এহন গেলে পরে লাইসেন্স পামু না। আমি এর বিচার চাই।

হামলার শিকার হওয়া আহত ট্রাফিক সদস্য জাকির বলেন, আজ আমার ও মাখনলাল স্যারের হেতালিয়া বাধঘাট এলাকায় ডিউটি ছিল। আমি মাগরিবের আগ মুহূর্তে বাসায় আসি এবং ইফতার ও মাগরিবের নামাজ শেষ করে আবারও ডিউটিতে যাই। আমি যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাবলিক ‘আইছে’ বলে আমার দিকে দৌড়ে আসে এবং মারধর করে। এসময় তারা আমার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করে।




পটাশিয়াম কমে যাওয়ার ৮ লক্ষণ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : আমাদের শরীরের জন্য একটি অপরিহার্য খনিজ উপাদান হচ্ছে পটাশিয়াম। শরীরে এর প্রধান ভূমিকা হলো আমাদের কোষের ভেতরে তরলের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করা। সোডিয়াম কোষের বাইরে স্বাভাবিক তরল মাত্রা বজায় রাখে, আর পটাশিয়াম পেশীকে সংকুচিত করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে এই খনিজ। এছাড়া হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের মতো কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার ঝুঁকি কমাতে পারে পটাশিয়াম। প্রতিদিন গড়ে ৪৭০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম প্রয়োজন হয় আমাদের। রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে গেলে ঝুঁকিতে পড়ে আমাদের স্বাস্থ্য। এই অবস্থাকে বলা হয় হাইপোক্যালেমিয়া। বিভিন্ন কারণে কমে যেতে পারে এই খনিজ। শরীর থেকে অতিরিক্ত পরিমাণে তরল বেরিয়ে গেলে যেমন পটাশিয়াম ঘাটতির ঝুঁকি থাকে, তেমনি অপুষ্টি, নির্দিষ্ট ওষুধের ব্যবহার কিংবা কিডনি ব্যর্থতার মতো শারীরিক সমস্যার কারণে পর্যাপ্ত পটাশিয়াম হারিয়ে ফেলতে পারে শরীর। পটাশিয়াম কমে গেলে কোন কোন লক্ষণ প্রকাশ পায় জেনে নিন।

০১. অনেক রোগেরই প্রাথমিক লক্ষণ হচ্ছে দুর্বলতা এবং ক্লান্তি। পটাশিয়ামের অভাবের লক্ষণ হিসেবেও এই ধরনের উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে। কারণ পটাশিয়াম পেশী সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। যখন রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা কম থাকে, তখন পেশী দুর্বল হয়ে যায়। ফলে ক্লান্ত লাগে।

০২. পটাশিয়াম পেশী সংকোচন করতে সাহায্য করে। রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে গেলে এই ভারসাম্য প্রভাবিত হয়। মাসল ক্র্যাম্প হতে পার এই অবস্থায়। এতে পেশীর অনিয়ন্ত্রিত এবং দীর্ঘায়িত সংকোচন ঘটতে পারে।

০৩. পটাশিয়ামের ঘাটতি পেট ফুলে যাওয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যার কারণ হতে পারে। কারণ এটি পাচনতন্ত্রের মাধ্যমে খাবারের চলাচলকে ধীর করে দেয়।

০৪. পটাশিয়াম হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রক্তে এর মাত্রা খুব কম হলে অনিয়মিত হার্টবিট দেখা দিতে পারে। এই অবস্থাকে হার্ট অ্যারিথমিয়া বলে যা একটি গুরুতর হৃদরোগের লক্ষণ।

০৫. পটাশিয়াম ফুসফুস প্রসারিত এবং সংকুচিত করতে সাহায্য করে, তাই এর অভাবের ফলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

০৬. পটাশিয়ামের ঘাটতির কারণে স্নায়ু অসাড় হয়ে পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

০৭. কিছু ক্ষেত্রে, কম পটাশিয়াম শরীরের তরল এবং ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কিডনির ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এতে প্রস্রাবের বেগ পেতে পারে ঘনঘন।

০৮. পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যখন পটাশিয়ামের মাত্রা কম থাকে, তখন কিডনি শরীরে আরও সোডিয়াম ধরে রাখে, যা রক্তচাপ বাড়াতে পারে।




কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসছে মৃত জেলিফিশ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে জোয়ারের পানির সঙ্গে ভেসে আসছে অসংখ্য মৃত জেলিফিশ। গত এক সপ্তাহ থেকে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে এসব মরা জেলিফিশ বালুতে আটকে থাকতে দেখা গেছে।

এসব মাছের মধ্যে কোনোটা আকারে ছোট, কোনোটা বড়। দেখতে অনেকটা অক্টোপাসের মতো। তবে এগুলো কী কারণে মারা যাচ্ছে এর সঠিক কারণ কেউ বলতে পারছেন না।

জেলেরা বলছেন সমুদ্রে এত পরিমাণ জেলিফিশ বেড়েছে যে তারা সাগরে জাল দিতে পারছেন না।

 

আব্দুল্লাহ আল নোমান নামের এক পর্যটক বলেন, জেলিফিশের নাম শুনেছি কিন্তু কখনো দেখিনি, এই প্রথম দেখছি। এগুলো দ্রুত সরিয়ে না নিলে পচে সৈকতের পরিবেশ দূষিত হবে। তবে জেলিফিশগুলো দেখতে খুবই সুন্দর।

স্থানীয় জেলে মো. হারিচ জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে তাদের জালে বিপুল পরিমাণ জেলিফিশ ধরা পড়েছিল। তারা জাল থেকে সমুদ্রে ফেলে দিয়েছে। শুধু তারাই নয় বর্তমানে জেলিফিশ সমুদ্রে এতটাই বেড়েছে যে, জেলেরা বাধ্য হয়ে সমুদ্র থেকে জাল উঠিয়ে নিয়ে আসছে।

আরো পড়ুন :কলাপাড়া পৌর এলাকায় ময়লা আবর্জনায় অতিষ্ঠ মানুষ

মেরিন ফিশারিজ বিভাগের গবেষকদের মতে, জেলিফিশ গভীর সমুদ্রের মাছ। সমুদ্রের পানিতে কোনো বিপর্যয় বা পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলের কাছাকাছি চলে আসাটাই শঙ্কা। জেলিফিশ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী। একটি প্রজাতি মিঠাপানিতে পাওয়া যায়। এরা সাধারণত পানির ওপর ভাগে ভাসমান অবস্থায় থাকে। গভীর সমুদ্রে জেলিফিশের হরেক রকম জাত রয়েছে। এদের বিশেষ ধরনের দংশন কোষ আছে। যাকে ইরেজিতে- jellyfish (জেলিফিশ) বলে। বহির্বিশ্বে এটার বাজারমূল্য অনেক বেশি। উন্নতমানের হোটেলে উৎকৃষ্টমানের খাবার হিসেবে বিক্রি হয় এই মাছ। তবে এগুলো স্পর্শ করলে শরীর চুলকায়, এমনকি ঘা হয়ে যেতে পারে। বিশেষ কোষের কামড়ে মানুষ মারাও যেতে পারে। কুয়াকাটা সৈকতে আটকে মরে যাওয়া জেলিফিশগুলো পচে গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দূষিত করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তাই কাঠ বা লোহা দিয়ে তুলে এ মাছগুলো বালুতে পুঁতে ফেলা উচিত।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, গত কয়েক দিন থেকে এসব জেলিফিশ উপকূলের কাছাকাছি এসে জেলেদের জালে আটকা পড়েছে। পরে জেলেরা মাছগুলো ফেলে দেওয়ায় মরা মাছ কুয়াকাটা সৈকতের বেলাভূমিতে আসতে শুরু করেছে। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তন হলে সবকিছু ঠিক হয় যাবে। জেলিফিশ সমুদ্রে বেড়ে যাওয়ায় সমুদ্র থেকে বর্তমানে জেলেরা জাল উঠিয়ে রাখছে।




দুই বছর ধরে জোড়া সেতু যেন মৃত্যুকূপ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন খালের পশ্চিম পাশে কাছিয়াবুনিয়া আর পূর্বাংশে হাপুয়াখালী গ্রাম। মাঝখানে বয়ে যাওয়া খালটির নাম আমলাভাঙা। দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মেলবন্ধনে দু’টি সেতু নির্মাণ কর হয়েছে। এই সেতু এখন গলার কাঁটা হয়ে ঝুঁলছে। গত দুই বছর ধরে সেতুর মধ্যাংশে ও পাশের রেলিং ভেঙে গেছে। ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ১৯৯৮ সালে আমলাভাঙ্গা খালের ওপর আয়রন ব্রিজ প্রকল্প থেকে সেতু নির্মাণ করা হয়।

জানা গেছে, ভাঙা সেতু পার হয়ে কাছিয়াবুনিয়া গ্রামে অবস্থিত তিনটি মাধ্যমিক ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা আসা-যাওয়া করছেন।

আরো পড়ুন :কলাপাড়া পৌর এলাকায় ময়লা আবর্জনায় অতিষ্ঠ মানুষ

রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়ন ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান মামুন বলেন, সেতুটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে নতুন সেতুর কোনো বিকল্প নেই।




সেচ পাম্পের ওপর পড়ে গিয়ে হাত হারাতে বসেছেন কলেজ শিক্ষার্থী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে একটি সেচ পাম্পের ওপর পড়ে গিয়ে হাত হারাতে বসেছে পটুয়াখালীর দশমিনা সরকারি আব্দুর রশিদ তালুকদার কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার (১৬)।

গতকাল শুক্রবার দশমিনা সরকারি আব্দুর রশিদ তালুকদার কলেজ সংলগ্ন সবুজবাগ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটে।

আহত সাদিয়া দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের যৌথা গ্রামের জাকির মৃধার মেয়ে। এ ঘটনায় সাদিয়ার সহপাঠী ও শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির বিচার দাবি করেছেন।

আরো পড়ুন :পটুয়াখালীতে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দিল স্ত্রী

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার কলেজে অর্ধবার্ষিকী বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা শেষে দশমিনা সবুজবাগ এলাকার খালপাড়ের কাঁচা সড়ক দিয়ে সাদিয়া ও তার দুই সহপাঠী নাবিল হোসেন ও জান্নাতুল মাওয়া বাড়ি ফিরছিলেন এ সময় কাঁচাসড়কে রাখা পানির সেচ পাম্পের ওপর পরে তার ডান হাতের হাড় চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়।

সাদিয়ার সাথে থাকা সহপাঠী নাবিল হোসেন ও জান্নাতুল মাওয়া জানান, সড়কে চালু করে রাখা পানির সেচ পাম্পের কাদা নর্দমায় আছড়ে পরে সেচ পাম্পের পাখায় সাদিয়ার হাত ঢুকে যায়। পরে তাদের ডাকচিৎকারে কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এসে সাদিয়াকে উদ্ধার করে দশমিনা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক জাফর হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ওই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কলেজের শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। সেই সড়কের মাঝে অবৈধভাবে একটি পানির সেচপাম্প চালু দিয়ে রাখায় সাদিয়ার মতো মেধাবী শিক্ষার্থী পঙ্গু হতে বসেছে।

এ বিষয়ে দশমিনা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: আলভি জানান, সাদিয়ার ডান হাতের হাড় ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। উন্নত চিকিৎসা না পেলে মেয়েটি চির দিনের জন্য তার হাত হারাতে পারেন।

আরো পড়ুন :রমজানে ২ টাকা লাভে পণ্য বিক্রি করছেন দুমকির টিপু



প্রিন্সেস কেট ক্যান্সারে আক্রান্ত, চলছে কেমোথেরাপি

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের প্রিন্সেস অব ওয়েলস কেট মিডলটন শুক্রবার বলেছেন, তার ক্যান্সার হয়েছে এবং কেমোথেরাপি চলছে।

বুধবার রেকর্ড করা এবং শুক্রবার প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তার অবস্থার কথা প্রকাশ করা হয়। জানুয়ারিতে তিনি পেটের অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তার অবস্থান এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরে জল্পনা-কল্পনা চলছিল।

এই অনির্দিষ্ট ক্যান্সারের চিকিত্সার সময়ে কেট সবার কাছে সময় এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ করেছেন।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি ভালো আছি। আমাকে নিরাময় করতে সাহায্য করবে এমন বিষয়গুলোর প্রতি নজর দিয়ে আমি প্রতিদিন শক্তিশালী হয়ে উঠছি।’

বড়দিনের পর থেকে ৪২ বছর বয়সী রাজকুমারী কেটকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তবে এই সপ্তাহে তার স্বামী, সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়ামের সাথে তাদের উইন্ডসরের বাড়ির কাছে একটি খামারের দোকান থেকে হেঁটে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশ হয়।

ব্রিটিশ রাজবধূ প্রিন্সেস অব ওয়েলস কেট মিডলটনের অবস্থা সম্পর্কে কেনসিংটন প্যালেস প্রথমে বিস্তারিত তেমন কিছুই জানায়নি। তারা বলেছিল যে তার অসুস্থতা ক্যান্সারের সাথে সম্পর্কিত নয়, অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে এবং সেরে উঠার সময়ে এপ্রিল পর্যন্ত তিনি সরকারি দায়িত্ব থেকে দূরে থাকবেন।

তবে রাজবধুর ক্যান্সারের খবরটি রাজপরিবারের জন্য আরেকটি ধাক্কা। কারণ গত মাসে জানা গিয়েছিল যে রাজা তৃতীয় চার্লসকে একটি অনির্দিষ্ট ধরণের ক্যান্সারের জন্য চিকিৎসা করানো হচ্ছে। এটি বর্ধিত প্রোস্টেটের চিকিৎসা চলাকালীন ধরা পড়ে।

৭৫ বছর বয়সী রাজা চার্লস ক্যান্সারের চিকিৎসার সময় সকল প্রকাশ্য ও নিয়মিত দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থেকেছেন। অবশ্য, তাকে প্রায়ই সরকারি কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে সভা করতে দেখা গেছে, এমনকি গির্জায় যেতেও দেখা গেছে।

অন্যদিকে, কেট দৃষ্টির বাইরে ছিলেন। ফলে কয়েক সপ্তাহ ধরে জল্পনা ও গুজবের জন্ম দেয়। যুক্তরাজ্যে মা দিবসে তার তিন সন্তানের সাথে হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি প্রকাশের মাধ্যমে জল্পনাকে প্রশমিত করার চেষ্টা চলেছিল। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং অন্যান্য সংবাদ সংস্থা ছবিটি প্রত্যাহার করেছিল। কারণ এতে আসল ঘটনা লুকানো হয়েছিলো।

কেট পরের দিন একটি বিবৃতিতে ছবির কারণে ‘যেকোন বিভ্রান্তির’ জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি ‘ছবি সম্পাদনা নিয়ে অনুশীলন করতে পছন্দ করেন।’ তবে সে জন্য জল্পনা-কল্পনা বন্ধ হয়ে যায়নি।




পানির স্বল্পতায় কেমিক্যাল গোডাউনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজার লাগোয়া ইসলামবাগ এলাকার কেমিক্যাল গোডাউনের আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস। শনিবার সকাল ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট। তবে পানির স্বল্পতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয়েছে।

শনিবার ভোর রাত সাড়ে ৩টায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের কারণ জানা যায়নি ও হতাহতের খর পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালেদ গণমাধ্যমকে জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় (শনিবার ভোর রাতে) চকবাজার ইসলামবাগের কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ৩টা ৩৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে আরও ৮টি ইউনিট যোগ দেয়। সকাল ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এখনো ধুয়া বের হচ্ছে। তবে আগুন লাগার কারণ ও উৎস সম্পর্কে জানা যায়নি।

তিনি জানান, পানির স্বল্পতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে ভবনের সামনে ও পেছনে লাগোয়া অনেকগুলো ভবন থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ারও একটা শঙ্কা ছিল। সর্বশেষ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে সকাল ৬টায়। আগুনের পাশাপাশি প্রচন্ড ধোয়ার কারণে প্রথমে ভেতরে প্রবেশ করতে বেগ পেতে হয় দমকলকর্মীদের।

এ ঘটনায় এখনো হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভবনটিতে জুতার কারখানা ছিল। সেখানে দাহ্য পদার্থ ছিল। ওই এলাকা ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় পাশের ভবনগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল তাদের।




চকবাজারে কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯ ইউনিট

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজার লাগোয়া ইসলামবাগ এলাকায় একটি কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট। তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের কারণ জানা যায়নি ও হতাহতের খর পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালেদ গণমাধ্যমকে জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় (শনিবার ভোর রাতে) চকবাজার ইসলামবাগের কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ৩টা ৩৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে আরও ৮টি ইউনিট যোগ দেয়। তবে আগুন লাগার কারণ এখনো জানা যায়নি।

এ ঘটনায় এখনো হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভবনটিতে জুতার কারখানা ছিল। সেখানে দাহ্য পদার্থ ছিল। ওই এলাকা ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় পাশের ভবনগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।




শেবাচিমে ১১ লিফটের ৯টিই অচল

বরিশাল অফিস:: বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১১টি লিফটের ৯টিই অচল। দুইটি লিফট দিয়ে রোগীসহ দর্শনার্থীরা চলাচল করছে। তাও আবার একটি মাঝেমধ্যে আটকে যায়। হাসপাতালটিতে প্রবেশের পর থেকে নানা ভোগান্তিতে পড়ে রোগীসহ স্বজনরা।

গণপূর্ত বিভাগের দোহাই দিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জনভোগান্তির কথা স্বীকার করলেও গণপূর্ত বিভাগ বলছে ভিন্ন কথা।সমস্যা যার সারা অঙ্গে। তার উপরে ভরসা করে প্রতিদিন চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে দুই থেকে আড়াই হাজার মানুষ। পদ্মার এপারের মানুষের আধুনিক চিকিৎসা সেবায় ভরসাস্থল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। বয়সের ভারে প্রতিনিয়তই নতুন নতুন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে হাসপাতালটিতে। চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে রোগীদের অভিযোগ থাকলেও হাসপাতালটিতে ঢোকার পর থেকে শুরু হয় নানা ভোগান্তির।

গত চার দিন আগে উজিরপুর থেকে সন্তানের চিকিৎসা করতে আসা মুক্তা জানান, সন্তানের ওষুধ কিনতে লিফটে উঠে ২০ মিনিট আটকা ছিলেন। দম বন্ধ হয়ে নিজেই মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন। তার মতোই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা পড়েছেন লিফট নিয়ে নানা বিড়ম্বনায়। ইমার্জেন্সি গেট থেকে রোগী বহন করা ট্রলি নিয়ে লিফটের সামনে দাঁড়ি থাকতে হয় বহুক্ষণ।

রোগীর স্বজন জুবায়ের বলেন, লিফটগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। হাসপাতালের পশ্চিম মাথায় একটি লিফট ভালো আছে। জরুরী ভিত্তিতে রোগী নিয়ে যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেছি লিফট ঠিক হয়েছে তার পর উপরে আসছি। এরকম একটি হাসপাতালের অবস্থা এ তো রোগীদের চাইতেও অসুস্থ। আমাদের দাবি অতি দ্রুত লিফট গুলো ঠিক হোক।

ট্রলিতে রোগী বহনকারী বয় মো. রুবেল হাওলাদার বলেন, সব লিফট নষ্ট। দুই একটা চলে তাও মাঝে মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। রোগী নিয়ে লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। পাবলিক রোগী সব এক লিফটে উঠে। কোন কোন সময় পাবলিক উঠে যায় রোগী নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। হাসপাতালের বাকি লিফটগুলো না ঠিক করলে কয়দিন পর যে দুইটা চলে তাও বন্ধ হয়ে যাবে।ইমারজেন্সি গেটের সামনের অংশে দুটি লিফট থাকলেও সচল রয়েছে একটি এবং প্রধান ফটকের মাঝের অংশে ছয়টি লিফ থাকলেও রোগী বহনকারী লিফট রয়েছে একটি। তাও মাঝে মধ্যে আটকে পড়ে। এখানে ১৯৬৮ সালের দুটি লিফটের একটি সচল রয়েছে। যাও নড়বড়ে অবস্থা। এতে ডাক্তার, স্টাফরা চলাচল করে। বাকি লিফটগুলোর অবস্থা বেহাল।

শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক ডা. এ এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ভবন এবং লিফটগুলো অনেক পুরনো হাওয়ায় বেশি ভাগই অচল। তবে লিফটগুলোর দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের হাওয়ায় পত্র প্রেরণ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। গনপূর্তের খামখেয়ালীর কারণে লিফট অচল হয়ে থাকলেও তাদের দেখা মেলে না। চিঠির পর চিঠি দেওয়া হলেও তারা তাদের মতো করেই কাজ করেন। তিনি জন ভোগান্তির কথা স্বীকার করলেও নিরুপায়।

দীর্ঘদিন ধরে লিফটগুলো অচল থাকার কথা স্বীকার করে, শিগগিরই এ সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের এই নির্বাহী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম।

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের উন্নত চিকিৎসার জন্য ৫৬ বছর আগে ১৯৬৮ সালে নির্মাণ করা হয় ৫শ শয্যার বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতাল। ২০০৬ সালে হাসপাতালটি ১০০০ শয্যায় উন্নতি করা হয়েছে। এরপর থেকে প্রতিদিনই এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকছেন প্রায় তিনগুণ রোগী।




হাড় মজবুত করতে খেতে হবে?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  হাড় ভালো রাখার জন্য যে আলাদা করে যত্ন নিতে হয়, একথা আমাদের বেশিরভাগেরই অজানা। আমাদের শরীরে ভারসাম্য ধরে রাখতে কাজ করে হাড়। তাই এর যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সচেতনতার অভাবে একটা সময় হাড় দুর্বল হতে শুরু করে। বর্তমানে বয়স ত্রিশ পার হলেই অনেকের শরীরে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি এর ঘাটতি দেখা দেয়। যে কারণে হাড় আরও দুর্বল হতে শুরু করে।