পটুয়াখালীতে ট্রাকচাপায় রিকশাচালক নিহত, আটক চালক-হেলপার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী শহরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অটোরিকশাকে একটি দ্রুতগামী ট্রাক ধাক্কা দিলে অটোরিকশার চালক ট্রাকের নিচে পড়ে নিহত হয়েছেন।

বুধবার বিকেলে শহরের পুরাতন হাসপাতাল মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রিকশাচালক আব্দুর রাজ্জাক মৃধা (৩০) সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের শিয়ালী গ্রামের মালেক মৃধার ছেলে। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে কালিকাপুর ইউনিয়নের ডিবুয়াপুর গ্রামে শ্বশুর রফেজ মৃধার বাড়িতে বাস করতেন।
দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করে। আটক করা হয় ট্রাকের চালক মামুন খান ও হেলপার মারুফকেও। জব্দ করা হয়েছে ট্রাকটি। এ ব্যাপারে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। তাদের বাড়ি আমখোলার রামানন্দ ও বাঁশবাড়িয়া গ্রামে।

ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা পটুয়াখালী সদর থানার উপ-পরিদর্শক মো. জুয়েল জানান, বিকেলে পটুয়াখালী শহরের রেজিস্ট্রি পুল মোড় থেকে বেপরোয়া গতিতে একটি ট্রাক পুরাতন হাসপাতাল সড়ক মোড় অতিক্রমকালে রাস্তার পাশে দাঁড়ানো একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে রিকশাটির চালক ট্রাকের চাকায় চাপা পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় মুমূর্ষু অবস্থায় রিকশাচালককে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়। মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ১৩ বছরের শিশু ধর্ষনের অভিযোগে ধর্ষক গ্রেফতার

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনের বেলা শহরের মধ্যে ট্রাক চলাচল নিষেধ থাকা সত্ত্বেও বেপরোয়া গতির ট্রাকটির কারণে প্রাণ গেল রিকশাচালক আব্দুর রাজ্জাকের।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম জানান, পুরাতন হাসপাতাল মোড়ে ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকা অটোরিকশাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পথে জেলা প্রশাসকের বাংলার মোড়ে ট্রাকটিকে আটক করা হয়। ট্রাকের চালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়েছে। ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে ট্র্যাকটি। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
দিনের বেলায় শহরে যাতে ট্রাক প্রবেশ করতে না পারে, সে ব্যাপারে পুলিশ আরও কঠোর নজরদারি করবে বলেও তিনি জানান।




দুমকিতে হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব 

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকিতে হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়া সংক্রান্ত রোগে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ৩৮ জনকে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উপজেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত (২৬ এপ্রিল) থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২২ জন নারী, ১০ জন পুরুষ ও ৬ শিশুসহ মোট ৩৮ জন রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : ৬ মাসের মধ্যে চালু হবে পায়রা বন্দর – ১ম জেটি তৈরির কাজ শেষের পথে

উপজেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. সাজ্জাদুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টার মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত অন্তত ১০ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীকে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তি হওয়া রোগীদের ফ্রি স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ২৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন। বর্তমানে ১১ জন ভর্তি রোগীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা (টিএইচএ) ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীন বলেন, বিশুদ্ধ পানির অভাব, প্রচণ্ড গরম, রমজানে ইফতারিতে তৈলাক্ত খাবারের প্রভাবে ডায়রিয়া ছড়াচ্ছে। এতে ভয়ের কিছু নেই।




সারাহর কিডনি গ্রহীতা দ্বিতীয় নারীও মারা গেল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সারাহ ইসলামের কিডনিগ্রহীতা অপর নারীও মারা গেছেন। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামীমা আক্তার (৩৪) নামে ওই নারীর মৃত্যু হয়।

ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল শামীমার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, সারাহর কিডনি নেওয়া প্রথমজন ফুসফুসের সংক্রমণে মারা গেছেন। এবার দ্বিতীয়জনও চলে গেলেন। এটি আমাদের জন্য খুবই কষ্টের।

এর আগে গত বছরের অক্টোবরে সারহার কিনডি নেওয়া হাসিনা আক্তারের মৃত্যু হয়।

গত বছরের জানুয়ারিতে সারাহ ইসলামের অঙ্গদানের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো ‘ব্রেইন ডেড’ মানুষের কিডনি নিয়ে অন্য রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা দেশব্যাপী আলোচনার সৃষ্টি করেছিল।

অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, শামীমা শেষ ৬ মাস আমাদের তত্ত্বাবধায়নের বাইরে ছিল। সম্প্রতি তার ভাই জানায়, শামীমার ক্রিটিনিন বেড়েছে, একেবারে শুকিয়ে গেছে। ৩ সপ্তাহ আগে তাকে ফের বিএসএমএমইউতে ভর্তি করানো হয় তাকে। শুরুর দিকে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও ক্রিটিনিন ফের বাড়ায় তাকে ওয়ার্ড থেকে কেবিনে আনা হয়। এরপরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ৪ দিন আগে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল।

শামীমার মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার সি ভাইরাস ও বিরল নিউমোনিয়া ধরা পড়েছিল। সে অনুযায়ী ডায়ালাইসিসও শুরু করেছিলাম আমরা। একদিন বাইরের হাসপাতালেও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানেই আজ রাত ৯টার দিকে শামীমা মারা যায়।

কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও বিশিষ্ট কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হারুন অর রশিদ জানান, সারাহর কিডনি নেওয়া হাসিনা আক্তার অক্টোবর কিডনি ফাউন্ডেশনে মারা যায়। তার সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল।

এদিকে দ্বিতীয়বারের মতো যে দুজনের শরীরে ‘ব্রেইন ডেড’ মানুষের কিডনি প্রতিস্থাপন (ক্যাডাভেরিক কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট) করা হয়েছিল, তাদের একজন মারা গেছেন। ৭ বছর ধরে কিডনি সমস্যায় ভোগা এক ব্যক্তির শরীরে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি ওই কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। গত ৪ ফেব্রুয়ারি ৪৪ বছর বয়সী ওই রোগী মারা যান। অপর রোগী এখনও সুস্থ আছেন।




আজ বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস : ৭২ শিশুর ছবি প্রধানমন্ত্রীর ঈদের শুভেচ্ছা কার্ডে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সরকারের হিসাবমতে দেশে ৮৪ হাজারের বিশে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বা অটিস্টিক মানুষ আছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই সংখ্যা ২ লাখেরও বেশি। এখনো সরকারের তালিকাভুক্ত হয়নি অনেকে। পরিবার ও অটিস্টিক শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে তাদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ জরুরি বলে মন্তব্য করেন বিজ্ঞজনেরা। তবে আর দশটা শিশুর চেয়ে তাদের শিক্ষাব্যয় ও সময় অনেক বেশি লাগে, তাই সরকারি ও বেসরকারিভাবে এইসব উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা; কারণ দেশে এখনো এমন শিশুদের এগিয়ে নিতে আয়ের জায়গাকে সেভাবে আমলে নিচ্ছে না কোনো পক্ষই—এমন বাস্তবতার মধ্যে আজ ২ এপ্রিল ‘সচেতনতা-স্বীকৃতি-মূল্যায়ন: শুধু বেঁচে থাকা থেকে সমৃদ্ধির পথে যাত্রা’ প্রতিপাদ্য করে পালিত হচ্ছে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস।

২০১০ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর পবিত্র ঈদুল ফিতর, পবিত্র ঈদুল আজহা, শুভ নববর্ষ, শুভ বড়দিন এবং খ্রিষ্টীয় নববর্ষ শুভেচ্ছা কার্ডে স্থান পায় প্রতিবন্ধী শিশুদের আঁকা ছবি। এযাবৎ ২ হাজার ৪০৩ প্রতিবন্ধী শিশুর ছবি স্থান পায় শুভেচ্ছা কার্ডে। তার মধ্যে ৭২ জন অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুর ছবিও আছে। তাদের একজন আল মুনতাসির সাওম—সাওমের মা  আফসানা মিমি বলেন, তার দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে সাওম সবার বড়। তাদের অনেক কষ্টে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনছেন তারা। দিনাজপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন ছেলেকে নিয়ে। সাওম তৈরি ফাউন্ডেশনের স্কুল ফর গিফটেড চিলড্রেনের শিক্ষার্থী। তৈরি ফাউন্ডেশনের পরিচালক মারুফা হোসেন বলেন, তাদের অর্থনৈতিক দিকগুলো বিবেচনা করে এমন উদ্যোগ আরো বেশি হতে পারে।

এই কার্যক্রম পরিচালনা করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিষ্ঠান অধিশাখা-২-এর উপপরিচালক মো. রেজাউর রহমান জানান, ‘আমরা সারা দেশ থকে ছবি আহ্বান করি। যারা প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে কাজ করে, তারা আমাদেরকে ছবি পাঠান। উৎসবগুলোর সঙ্গে সংগতি রেখে ছবি মনোনয়ন করা হয়। এ বছর আটটি প্রতিষ্ঠানের ৯৩টি ছবি জমা পড়ে। ৬৮টি ছবি মনোনয়ন করে আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাই। এই সুযোগ থেকে বাদ পড়ে না প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুরাও।’




পায়রা বন্দরে শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরে বারেক আঁকন (৩৫) নামের এক শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল দুপুরে লালুয়া ইউনিয়নের চিংগড়িয়া এলাকার প্রথম টার্মিনাল সংলগ্ন নির্মাণাধীন ব্রিজ প্রকল্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত বারেক পার্শ্ববর্তী তালতলী উপজেলার পূর্ব ঝারাখালী এলাকার সত্তার আঁকনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে বারেক তার বাড়ি থেকে ওই প্রকল্প এলাকায় শ্রমিকের কাজ করতে আসে। সেখানে নদীতে কাজ করার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এসময় বন্দর কর্তৃপক্ষ পুলিশকে অবহিত না করেই লাশ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। পরে স্বজনরা তার বুকে আঘাতের চিহ্ন দেখে পুলিশে অবহিত করলে আজ সকালে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে অটোরিকশা উদ্ধার, চোর চক্রের হোতা আটক

মৃত বারক আঁকনের বড় ভাই আ: খালেক আঁকন জানান,আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। কারন তারা তাড়াহুড়ো করে লাশ বাড়িতে নিয়ে এসেছে। আমরা তার বুকে আঘাতের চিহ্ন না দেখলে বুকতেই পারতাম না। তারা লাশ থানায় না নিয়ে তাড়াহুড়ো করে বাড়িতে নিয়ে আসলো কেন? আমরা তাই এ হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।

তার ভাগিনা সোহাগ জানান, আমার মৃত মামার ছোট ছোট দুটি বাচ্চা রয়েছে, এখন তার পরিবার অসহায়।

পায়রা বন্দরের ওই প্রকল্প এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী মোহিমিনুল চৌধুরী জানান, ওই শ্রমিকের লাশ বাড়ি পাঠানোর পর আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। যার কারনে আর পুলিশে অবহিত করা হয়নি।

কলাপাড়া থানার ওসি আলী আহম্মেদ বলেন, ওনারা আমাদের না জানিয়ে লাশ তালতলী বাড়ী পাঠিয়ে দেয়,আবার না জানিয়েই লাশ থানায় নিয়ে আসে। আজ সোমবার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে।




১ সপ্তাহে পটুয়াখালীর হাসপাতালে ভর্তি ২৬৪ ডায়রিয়া রোগী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে হঠাৎ করে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। গত এক সপ্তাহে প্রায় তিনশ রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। তবে দিন যত যাচ্ছে গরমের সঙ্গে সঙ্গে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।
প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিল মাসে পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। গত এক সপ্তাহে ২৬৪ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ডায়রিয়ায় আক্রন্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন এমন রোগীর সংখ্যাও কম নয়।

এদিকে ডায়রিয়া রোগীর চাপে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। হাসপাতালের মেঝে থেকে শুরু করে হাঁটার পথ, বারান্দা সবখানেই অস্থায়ী বিছানা পেতে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এরমধ্যে মশা-মাছি এবং নোংরা পরিবেশের কারণে ভোগন্তিতে আছেন আগত রোগী এবং তাদের স্বজনরা।

আরো পড়ুন : স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় যুবক কারাগারে

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী এলাকার রোগী আয়শা বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই পাতলা পায়খানা এবং বমি শুরু হয়। রাতে পাঁচ থেকে ছয়বার টয়লেটে যাওয়ার পর সকালে আর দাঁড়ানোর শক্তি ছিল না। এরপর সরাসরি পটুয়াখালী হাসপাতালে এসে ভর্তি হই। সেই থেকে স্যালাইন চলছে। এখন শরীর কিছুটা ভালো। তবে হাসপাতালে কোনো বেড পাইনি, তাই বারান্দায় ফোম বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। আমাদের বাড়িতে আরও কয়েকজনের এমন পরিস্থিতি হয়েছে। তবে তারা বাড়িতেই চিকিৎসা করাচ্ছে।

একই কথা জানান কলাপাড়া থেকে আসা রোগী ইসমাইল ফরাজী। তিনি বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হইছি, কিন্তু কোনো সিট খালি নেই। রাস্তার পাশে ছিট লাইচ্চা স্যালাইন ফুরতেছি। স্যালাইন-ওষুধ হাসপাতালই দেছে। তয় মশা মাছির কারণে টেকতে পারছি না। চার দিকে গন্ধ আর প্রচণ্ড গরম, ভোগান্তির যেন শেষ নাই।

পটুয়াখালী জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত সাত দিনে জেলায় ২৬৪ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন উপজেলায় ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে বাউফল উপজেলায় ২৯ জন, দশমিনা উপজেলায় ২৬ জন, দুমকি উপজেলায় ১৮ জন, মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ১২ জন, কলাপাড়া উপজেলায় ৩২ জন, গলাচিপা উপজেলায় ৩৪ জন এবং পটুয়াখালী সদরে ১১৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

আরো পড়ুন : ডাকাতিসহ ১২ মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

এছাড়া গত ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত জেলায় ২১০৩ জন রোগী ডায়রিয়া আক্রন্ত হয়ে চিকিৎসা নিলেও কোনো রোগী ডায়রিয়া আক্রন্ত হয়ে মারা যাননি।

পটুয়াখালী সিভিল সার্জন এস এম কবির হাসান বলেন, গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিগত বছরগুলোতেও এমন ভাবে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছিল। এসব বিষয় মাথায় রেখে ডায়রিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে আমাদের আগে থেকেই প্রস্তুতি রয়েছে। তবে সকলের খাবার গ্রহণ এবং পানি পানের ক্ষেত্রে এই সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পরিস্তিতি এখনও আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। খাবার স্যালাইনসহ অনান্য ওষুধেরও পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

অপরদিকে ডায়রিয়ার পাশাপাশি জেলায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে ১৬২ জন নিউমোনিয়ায় আক্রন্ত হয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন। তবে ডায়রিয়া কিংবা নিউমোনিয়ায় এ বছর জেলায় কোনো রোগী এ পর্যন্ত মারা যাননি।




বাসায় ২৫ দিন শেকলে বেঁধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ : তরুণীর ৯৯৯ নম্বর থেকে ফোন পেয়ে উদ্ধার, তিন আসামি পলাতক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় একটি বাসায় ২৫ দিন শেকলে বেঁধে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ। পরে জাতীয় জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বর থেকে ফোন পেয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় গত শনিবার তিন যুবক ও এক নারীর নাম উল্লেখ করে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী তরুণী। তারা হলেন- সান (২৬), হিমেল (২৭), রকি (২৯) ও সালমা ওরফে ঝুমুর (২৮)।

তবে গতকাল রবিবার রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিযুক্তদের কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান এ তথ্য দেন।

তিনি বলেন, শনিবার ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত আছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদপুরের নবীনগরে চার তলার এক ফ্ল্যাটে টানা ২৫ দিন আটক রাখার ঘটনায় ওই নারীর সহায়তা করা এবং ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করার অভিযোগও করা হয়েছে মামলায়।

মামলার এজাহারে ওই তরুণী বলেন, বাবা-মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ এবং পরে তারা অন্যত্র বিয়ে করায় ওই তরুণী তার মেঝ বোনের বাসায় থাকছিলেন। সে সময় ভগ্নিপতির মাধ্যমে মাসুদ নামের এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তার মাধ্যমে এক প্রবাসীর স্ত্রী সালমা ওরফে ঝুমুরের সঙ্গে পরিচয় হয় তরুণীর।

একপর্যায়ে বোনের বাসা ছেড়ে সালমার সঙ্গে নবীনগরের ভাড়া ফ্ল্যাটে ওঠেন ওই তরুণী। পরে ঝুমুরের মাধ্যমে সান নামের এক যুবকের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নবীনগরের ওই বাসায় গত ২৩ ফ্রেব্রুয়ারি প্রথম ধর্ষণ করে সান বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়। সর্বশেষ ২৭ ফ্রেব্রুয়ারি একইভাবে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করার পর বিয়ের জন্য চাপ দিলে সান তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিয়ের আশ্বাস দেয়। বিয়ে না করলে থানায় গিয়ে মামলা করার কথা বললে সান যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ৫ মার্চ দুপুরে দুই বন্ধু হিমেল ও রকিকে নিয়ে ওই বাসায় এসে সান তাকে সারপ্রাইজ দেবে বলে চোখ বন্ধ করতে বলে। সালমা এ সময় খাবার আনার কথা বলে রুম থেকে বের হয়ে যায়। সানের কথায় চোখ বন্ধ করলে তারা তিনজন মিলে তার হাত, পা ও চোখ বেঁধে ফেলে এবং মুখে কসটেপ লাগিয়ে ফেলে। পরে সালমার কথায় হিমেলকে পাহারায় রেখে অন্যরা শেকল আনার জন্য বাইরে চলে যায়। এ সময় একা পেয়ে হিমেল তাকে ধর্ষণ করে।

সেই দিন থেকে শেকল দিয়ে তার হাত ও পা বেঁধে রাখা হয় দাবি করে ওই তরুণী মামলায় অভিযোগ করেন, একদিন পর ৭ মার্চ রকি বাসায় এসে তাকে ধর্ষণ করে। খাবার এবং বাথরুমে যাওয়ার সময় বাসায় থাকা সালমা শুধু পায়ের শেকল খুলে দিত। পরদিন সানের ধর্ষণের চিত্র ভিডিও তার মোবাইল ফোনে ধারণ করে সালমা। এরপর থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ওই তিনজন তাকে ধর্ষণ করেন এবং একে অপরের ভিডিও করেন। এ সময় সালমা তাদের সহায়তা করে। গত ৩০ মার্চ (শনিবার) রাতে বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে জানালা দিয়ে চিৎকার করে স্থানীয় এক ব্যক্তির দৃষ্টি কারতে সক্ষম হন নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী। পরে ওই ব্যক্তি ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে পুলিশ এগিয়ে আসে।




অস্টিয়োপোরেসিসের সমস্যা! সুস্থ থাকতে ৩ পরামর্শ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বয়স বাড়লেই নানা শারীরিক সমস্যা হানা দিতে শুরু করে। বিশেষ করে, অস্থিসংক্রান্ত সমস্যা বেশি হয়। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, বিশ্বে বয়সজনিত কারণে হাড়ে যে সমস্যাগুলো দেখা দেয়, তার মধ্যে অস্টিয়োপোরেসিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাই বেশি থাকে। বয়স ৩০-এর কোঠা পেরোলেই এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে ঝুঁকি এড়াতে জীবনধারায় কিছু বদল আনা জরুরি।

১) নিয়মিত হাঁটাহাঁটি, ব্যায়াম করার অভ্যাস হাড়ের যত্ন নিতে সাহায্য করে। হাড়ের ক্ষয় হ্রাস করে। বয়স নির্বিশেষে সকলের নিয়মিত শরীরচর্চা করা জরুরি। শুধু অস্টিয়োপোরেসিস নয়, হাড়ের অন্যান্য সমস্যা দূর করতেও ব্যায়াম করা একান্ত প্রয়োজন।

২) হাড়ের যত্ন নিতে ক্যালশিয়ামের ভূমিকা অপরিহার্য। ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালশিয়াম শোষণে সাহায্য করে। হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও বহু ভূমিকা পালন করে ভিটামিন ডি। শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি তৈরি হলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার এবং হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ভিটামিন ডি-এর সর্বোত্তম উৎস হলো সূর্যালোক। এ ছাড়াও দুগ্ধজাত দ্রব্য, ডিম, বিভিন্ন মরসুমি ফল, মাছের মতো ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার অস্টিয়োপোরেসিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমায়।

৩) বিভিন্ন প্রকার মাছ, বাদাম, ব্রকোলির মতো ক্যালশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার হাড়ের ঘনত্ব তৈরি করতে সাহায্য করে। শরীরে ক্যালশিয়ামের মাত্রা হ্রাস পেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে হাড়ে। ক্যালশিয়াম অস্টিয়োপোরেসিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা




বাংলাদেশে সফল প্লাস্টিক সার্জারি ভুটানের তরুণীর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ভুটানের তরুণী কারমা দেমা (২৩)। ৮/১০ বছর আগে তার নাকে ক্যান্সার হয়েছিল। ভারতের বিখ্যাত টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে তিনি ভর্তি হন। সেখানে তার নাকে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। পোস্ট রেডিয়েশনের কারণে তার নাকের ভিতরে পচন ধরে যায়। পরে বাম হাত থেকে মাংস ও বাম পাজরের হাড় নিয়ে প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়। দুই বার অস্ত্রোপচার (প্লাস্টিক সার্জারি) করেও সুফল পাননি। এক পর্যায়ে অপারেশনের পর তার নাকের ভিতরে কিছু কিছু জায়গায় পচন ধরে। অর্থাৎ অপারেশন ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে এসে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ নাক ফিরে পেলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ ও ভুটান সরকার যৌথভাবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে থিম্পুতে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের মাধ্যমে একটি প্লাস্টিক সার্জারি ক্যাম্পের আয়োজন করেছিলেন। বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন ১৪ সদস্যের এই চিকিৎসক দলের নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি বার্ন ইনস্টিটিউটগুলোর জাতীয় সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন করছেন। সাত দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে ১৬টি জটিল অস্ত্রোপচার হয়েছিল। ওই ক্যাম্পে নাকের চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন কারমা দেমা।

প্লাস্টিক সার্জনরা তাকে দেখে বলেন, এখানে চিকিৎসা সেবা দেওয়া এই সময়ের মধ্যে সম্ভব না। দীর্ঘ সময় লাগবে। তবে আমাদের দেশে এটি সম্ভব। তখন ডা. সামন্ত লাল সেনকে অনুরোধ করে তারা। ওই দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীও কথা বলেন। দেশে গিয়ে সরকারের সঙ্গে কথা বলে জানানোর আশ্বাস দেন ডা. সামন্ত লাল সেন। বিদেশি নাগরিককে জাতীয় প্রতিষ্ঠানে এনে চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু আইনি জটিলতা আছে। এরপর ভুটান ও বাংলাদেশ সরকার কারমার চিকিৎসা শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে করার বিষয়ে একমত হয়। গত ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি কারমার অস্ত্রোপচার হয়েছে। তাঁর শরীরের ডান হাত থেকে মাংস ও ডান পাজরের হাড় নিয়ে নাক পুনর্গঠন করা হয়েছে। অস্ত্রোপচারে সময় লেগেছিল আট ঘণ্টা। ডা. সামন্ত লাল সেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই অস্ত্রোপচারে নেতৃত্বে ছিলেন ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. প্রদীপ চন্দ্র দাস। নাক সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন করতে আরও একবার ছোট অপারেশন করতে হবে। এ জন্য কারমাকে দুই মাস পরে আসতে বলা হয়েছে। নাকের বাকা অংশগুলো সোজা করে দেবে, নাক আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কেউ বুঝতে পারবে না, তার নাকে ক্যান্সার হয়েছিল। কিছু দিন টুকটাক সমস্যা হলেও পরবর্তীতে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবেন তিনি।

ভুটানি এই রোগীকে দেশে আনা থেকে চিকিৎসা দেওয়া-সবকিছুর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ডা. সামন্ত লাল সেন। মন্ত্রিত্ব গ্রহণের পরদিন মন্ত্রণালয়ের কাজ সেরে দুপুরে তিনি শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে এসেছিলেন কারমাকে দেখতে। সেখানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটি এই জন্য বড় ঘটনা যে বিদেশি রোগী আমাদের দেশে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। দুই দেশের সরকার এই চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত। আমাদের দেশের চিকিৎসাসেবা নিশ্চয়ই উন্নত হয়েছে।’

কারমা দেমা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ভর্তি হওয়ার পর ডাক্তারদের একটি বোর্ড গঠন করা হয়। অপারেশনে নেতৃত্ব দেন ডা. প্রদীপ চন্দ্র দাস। তার পুরো চিকিৎসা সেবার চিফ কোর্ডিনেটর ছিলেন ডা. সামন্ত লাল সেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ রাখা হয় এই বোর্ডে। তান নাম অধ্যাপক ডা. অনিল রঞ্জন। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অপারেশন হয়েছে। সম্প্রতি ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগেল ওয়াংচুক চার দিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন। তিনি ইনস্টিটিউটে চিকিত্সাধীন কারমা দেমাকে সুস্থ দেখে অভিভূত হন। রাজা বাংলাদেশি চিকিৎসক দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, যেটা আশা করতে পারিনি, সেটা আপনারা করে দেখিয়েছেন। আপনাদের ধন্যবাদ। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের মডেলে ভুটানে একটি হাসপাতাল করার জন্য অনুরোধ করেন রাজা। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন হাসপাতাল করার জন্য সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

গতকাল কারমা দেমার ছাড়পত্র হাতে নেন তার ভাই। এ সময় ভাই-বোনের মুখে ছিল হাসি। অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে কারমা দেমা বলেন, এভাবে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাব, কখনো কল্পনাই করিনি।

কারমা দেমার মতো অনেক জটিল রোগীর অপারেশন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে বিনামূল্যে করা হয়েছে। এই অপারেশন করতে বিদেশে দুই কোটি টাকার উপরে খরচ হয়। দেশেও ব্যয়বহুল এর চিকিত্সা। বেসরকারি হাসপাতালে এই চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা অনেক মধ্যবিত্তের পক্ষেই সম্ভব হবে না। অথচ এখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। কারমা দেমার আগে আরেকটি জটিল রোগীর এখানে সফল অপারেশন হয়েছে। তিনি হলেন সাতক্ষীরার এনামুল হক। ৩৭ বছর যাবত্ তার নাকে-মুখে গর্ত হয়ে বিকৃত চেহারা তৈরি হয়। নাক-মুখ দিয়ে পোকা বের হতো। এর আগে তার ১০ বার অপারেশন হয়েছে। কোন সুফল পাননি। বিএসএমএমইউয়ে ভর্তি হলে, তারা পোকা মারে, কিন্তু অপারেশন করতে পারেনি। তার এক ছেলে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের ছাত্র। বিএসএমএমইউ যখন বললো, অপারেশন করা সম্ভব না, তখন আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে যোগাযোগ করেন ওই রোগীর ছেলে। তবে রোগীর কেস স্টাডি দেখে তারাও বলে দেয়, সম্ভব না। তবে একটি দেশ বলেছিল, সম্ভব হতে পারে। অপারেশনের জন্য খরচ হবে বাংলাদেশি দুই কোটি টাকা। তবে তার পরিবার এতো টাকা কোথায় পাবে? পরিবারের পক্ষ থেকে অর্থ সহযোগিতার জন্য ডা. সামন্ত লাল সেনের কাছে যান। রোগীর সব কিছু দেখে ডা. সামন্ত লাল সেন তাদের বলেন, রোগীকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করতে। পরে তিনি ভর্তি হলে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সফল অপারেশনের মাধ্যমে ওই রোগীকে সুস্থ করে তোলা হয়।

জোড়া শিশু তোফা-তহুরাও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করছে। অথচ তাদের সিঙ্গাপুর ফেরত পাঠিয়েছিল। এমন অনেক উদাহরণই আছে। বর্তমান সরকার চিকিৎসা খাতে ব্যাপক অবদান রেখেছে। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়। ৯৮ ভাগেরই প্লাস্টিক সার্জারি করতে হয়। এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা দেশের মধ্যবিত্তের পক্ষেও সম্ভব না। অথচ এখানে বিনামূল্যে হচ্ছে। এটা দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানে বড় সফলতা। এতো বড় ইনস্টিটিউট বিশ্বের কোথাও নেই।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার কারণে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। ব্যয়বহুল চিকিৎসা এদেশের সকল শ্রেণীর মানুষ বিনামূল্যে পাচ্ছে। কারমা দেমার চিকিৎসা সফল হওয়ায় তিনি মেডিক্যাল টিমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।




বরগুনায় অদ্ভুত আকৃতির শিশুর জন্ম

বরিশাল অফিস :: বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের গোয়ালবাড়ি গ্রামে অদ্ভুত আকৃতির এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়েছে।

শনিবার (৩০ মার্চ) রাত ২টার দিকে এ সন্তানের জন্ম হয়। এই নবজাতক গোয়ালবাড়ি গ্রামের লামিয়া ও আক্তারুজ্জামান দম্পতির সন্তান।

নবজাতক শিশুর ডান চোখ এবং মুখ ঝুড়ে টিউমার আকৃতিরস অস্বাভাবিক একটি চিহ্ন রয়েছে। অদ্ভুত এই মানব সন্তানটিকে দেখতে লামিয়ার বাবার বাড়িতে গ্রামবাসী ভিড় করছেন।

গৃহবধূ লামিয়া জানান, সে বেতাগী ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছে। দেড় বছর হয় তার বিয়ে হয় দক্ষিণ বেতাগী গ্রামের সোলায়মানের সাথে। তিনি ঢাকার সাভারে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। এটি তাদের প্রথম সন্তান। এই সন্তান পেয়েই সে খুশী। তার সন্তান সুস্থ আছে, স্বাভাবিক শ্বাস প্রশাস নিচ্ছেন। আল্লাহ যা দিয়েছেন এতে সে তার পরিবার খুশী।

বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ফাহমিদা বার্তা২৪.কমকে বলেন, ছবিতে বুঝা যাচ্ছে জন্মগত ত্রুটি এটি। তবে কি কারণে হয়েছে তা শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলতে পারবেন।