বরিশালে ১২ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন

সারা দেশের ন্যায় বরিশাল বিভাগেও ১২ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে। ক্যাম্পেইনের প্রথম ১০ কার্যদিবস প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে টিকা প্রদান করা হবে। এরপর বিভিন্ন ইপিআই সেন্টার, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রে টিকাদান চলবে।

এ তথ্য বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (বিডিএস) এর আয়োজিত এ্যাডভোকেসি সভায় জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ রায়হান কাওছার।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ভ্যাকসিনেশন অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টিকা পাবার যোগ্য সকলকে ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশু এই টিকা গ্রহণ করবে।

সভায় আরও জানানো হয়, টাইফয়েড টিকায় সাধারণত কোন বড় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। তবে টিকা নেওয়ার পরে বমি ভাব, টিকা গ্রহণস্থলে লালচে ভাব বা সামান্য জ্বর হতে পারে। এগুলো স্বাভাবিক এবং কোনো স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ নয়। গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা টিকা নিতে পারবে না।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল। বিশেষ অতিথি ছিলেন রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ মঞ্জুর মোর্শেদ আলম, পরিবার পরিকল্পনার বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক লুসিকান্ত হাজং। বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




টাক পড়ার কারণ শুধুই চুলের অযত্ন ? নাকি কিছু রোগও দায়ী!

চল্লিশ পেরোলেই অনেক পুরুষের মাথায় টাক পড়ার শুরু হয় ।একসময় ঘন চুল হঠাৎই পাতলা হয়ে যেতে থাকে, যা মন খারাপ হওয়ার বিষয়। সাধারণত মনে করা হয়, টাক পড়ার পেছনে শুধু বংশগত কারণ বা চুলের যথাযথ যত্নের অভাব দায়ী। কিন্তু এর পিছনে যে আমাদের শারীরিক রোগ একটা বড় কারন তা আমরা কি জানি ?

পুরুষদের শরীরে বয়সের সাথে সাথে হরমোনের ওঠানামা শুরু হয়, যার ফলে বিভিন্ন রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে থাকে। এই রোগগুলোর মধ্যে অনেক সময় চুল পড়া বা টাক পড়া একটি প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়। তাই চুল পড়াকে অবহেলা না করে শারীরিক সমস্যার দিক থেকেও খেয়াল রাখা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুল পড়া হলে শুধু চুলের যত্ন নেয়া নয়, শরীরের হরমোনের ভারসাম্য, পুষ্টির অভাব, থাইরয়েড সমস্যা, কিংবা অন্য কোনো রোগের উপসর্গ আছে কিনা তা পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। কারণ মূল কারণ শনাক্ত করলেই সঠিক চিকিৎসা সম্ভব।

সুস্থ শরীর ও মাথার ঘন চুলের জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সঠিক যত্ন প্রয়োজন।

) আয়রনের ঘাটতি
আয়রনের ঘাটতিতে কেবল যে নারীরাই ভোগেন তা নয়, পুরুষের শরীরেও আয়রনের ঘাটতি হলে চুল উঠতে শুরু করে। ফেরিটিন নামে এক ধরনের প্রোটিন আছে যা আয়রন সঞ্চয় করে রাখে। এই প্রোটিনের তারতম্য হলে আয়রনের ঘাটতি হতে থাকে। ৪০-এর পরে ছেলেদের টাক পড়ার একটি কারণই হলো শরীরে আয়রনের ঘাটতি।

) থাইরয়েড
থাইরয়েড হরমোনের তারতম্য হলে চুল পড়ার সমস্যা বাড়ে। থাইরয়েড হরমোন আয়রন, ক্যালশিয়ামের মতো খনিজ শোষণ করে। এই খনিজগুলো চুলের বৃদ্ধির জন্য উপকারী। হাইপোথাইরয়েডিজম ও হাইপারথাইরয়েডিজম- উভয় রোগের ক্ষেত্রেই চুল ঝরতে শুরু করে।

) অটোইমিউন রোগ
কোনো এক অজ্ঞাত কারণে শরীরের নিজস্ব ইমিউন সিস্টেম অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা মাথার হেয়ার ফলিকলদের শত্রু মনে করে। আর এই কারণে সেগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে চুল তো ঝরে পড়েই, নতুন করে চুল গজাতেও পারে না। এই রোগকে বলে ‘অ্যালোপেশিয়া অ্যারেটা’। যাদের পরিবারে থাইরয়েডের সমস্যা, শ্বেতি, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, লুপাস অথবা আলসারেটিভ কোলাইটিস আছে তাদের এই সমস্যা কিছুটা বেশি দেখা যেতে পারে।

) হরমোনের গোলমাল
পুরুষের অ্যান্ড্রোজেন হরমোনও এর জন্য দায়ী। অ্যান্ড্রোজেন হরমোন ক্ষরণের তারতম্যে চুল উঠতে থাকে। এই হরমোনটির তারতম্য হলে চুলের গোড়া দুর্বল হতে থাকে। একে বলে ‘অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়া’।

) হদ্‌রোগও কি কারণ?
‘জার্নাল অফ মেডিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড হেল্‌থ’-এ প্রকাশিত তথ্য অনুসারে অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়া হার্টের রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে। যেহেতু অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের গোলমাল শুরু হয়, তাই তার থেকে মেটাবলিক সিনড্রোম ও হৃদ্‌রোগের আশঙ্কা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ৩০ বছর বয়সের পরেই যাদের চুল উঠে টাক পড়ার সমস্যা দেখা দিয়েছে, তাদের মেটাবলিক সিনড্রোম বা হাইপারটেশন, স্থূলত্ব বা শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা অত্যন্ত বেশি। আর এ সবই হার্টের উপর প্রভাব ফেলে।

 

তথ্য সুত্র :  আনন্দবাজার




শেবাচিম-কোডেক চক্ষু সেবায় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী রোগীদের জন্য চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং সহজলভ্য সেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক) শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অপথালমোলজি অ্যান্ড হসপিটালের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।

রোববার রাতে বরিশাল নগরের হোটেল গ্র্যান্ড পার্কে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সিবিএম গ্লোবাল ডিজএবিলিটি ইনক্লুশনের প্রতিনিধি এবং কোডেকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কোডেকের সমঝোতা স্মারকের উদ্দেশ্য তুলে ধরেন কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ সাপোর্ট ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, “দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী রোগীদের জন্য সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য ক্যাটারাক্ট সার্জারি, রিফ্র্যাকটিভ এরর সংশোধন, চশমা এবং সহায়ক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হবে। এছাড়া স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক ও কমিউনিটি ভলান্টিয়ারদের অন্তর্ভুক্তিমূলক চক্ষু স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে এবং হাসপাতাল রেফারেল সিস্টেমকে শক্তিশালী করা হবে।”

তিনি আরও জানান, সার্ভে, মনিটরিং, অ্যাক্সেসিবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট এবং নীতিগত সংলাপের মাধ্যমে জাতীয় চক্ষুস্বাস্থ্য উন্নয়নে শেবাচিম ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অপথালমোলজি অ্যান্ড হসপিটালের সঙ্গে সহযোগিতা করা হবে। যৌথ সেবা, অ্যাডভোকেসি এবং জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক চক্ষুস্বাস্থ্য সেবা মডেল তৈরি করা হবে এবং জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে বহু-পক্ষীয় সমন্বয় গড়ে তুলে দীর্ঘমেয়াদে সেবাটি সংহত করা হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অপথালমোলজি অ্যান্ড হসপিটালের পরিচালক প্রফেসর ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরী, শেবাচিম পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এস.এম. মশিউল মুনীর, বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল, বাংলাদেশ চক্ষু বিজ্ঞান সমিতির বৈজ্ঞানিক উপকমিটির সদস্য সচিব সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেন আলম মৃধা, সহকারী অধ্যাপক ডা. জুয়েল এলিয়াস রব, বরিশাল সিভিল সার্জন ডা. এস.এম. মঞ্জুর-ই-এলাহী, সিনিয়র জনস্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ জলিল, সিবিএম গ্লোবাল ডিজএবিলিটি ইনক্লুশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান, প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. ফিরোজ রহমান, কোডেকের উপ-নির্বাহী পরিচালক কামাল সেনগুপ্ত ও অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ক্যানসার ভ্যাকসিনে রাশিয়ার যুগান্তকারী সাফল্য

প্রাণঘাতী ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক ঐতিহাসিক অগ্রগতি অর্জন করেছে রাশিয়া। দেশটির তৈরি নতুন ভ্যাকসিন “এন্টারোমিক্স” ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছে এবং এখন রোগীদের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত বলে ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়ার ফেডারেল মেডিকেল অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল এজেন্সি (এফএমবিএ)।

রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইস্টার্ন অর্থনৈতিক ফোরামে এফএমবিএর প্রধান ভেরোনিকা স্কভোর্টসোভা এ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বহু বছর ধরে চলা গবেষণা এবং তিন বছরের প্রাক-ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে এই ভ্যাকসিন নিরাপদ ও কার্যকর।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এন্টারোমিক্স ভ্যাকসিনটি তৈরি হয়েছে এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যে প্রযুক্তি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরির মাধ্যমে। তবে ক্যানসারের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

এই ভ্যাকসিন দুর্বল ভাইরাস ব্যবহার না করে মানব শরীরের কোষগুলোকে প্রোটিন তৈরির নির্দেশনা দেয়। ওই প্রোটিনগুলো শরীরে প্রবেশের পর ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে সেগুলোকে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, বারবার ডোজ দেওয়ার পরেও এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো—ভ্যাকসিন নেওয়া রোগীদের মধ্যে অনেকের টিউমারের আকার ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছোট হয়েছে অথবা টিউমারের বৃদ্ধি অনেকাংশে কমে গেছে।

এছাড়া, ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটি এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।

প্রাথমিকভাবে এ ভ্যাকসিনটি কোলন ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হবে। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা গ্লিওব্লাস্টোমা (এক ধরনের মস্তিষ্কের ক্যানসার) এবং বিভিন্ন ধরনের মেলানোমা (গুরুতর ত্বকের ক্যানসার, যার মধ্যে চোখের মেলানোমাও রয়েছে) মোকাবিলায় নতুন ভ্যাকসিন তৈরির কাজও এগিয়ে নিচ্ছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসার চিকিৎসা জটিল, ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এই ভ্যাকসিন সেটিকে সহজ ও কার্যকর করার সম্ভাবনা জাগিয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গৌরনদীতে ডোবার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

বরিশালের গৌরনদীতে ডোবার পানিতে ডুবে আরহাম হাওলাদার (৫) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উত্তর বিজয়পুর এলাকার হোমিওপ্যাথিক কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশু আরহাম উজিরপুর উপজেলা সদরের টেম্পুস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা সজীব হাওলাদারের ছেলে। ঘটনার সময় সে নানা বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা সৌরভ ডাক্তার জানান, শুক্রবার আরহাম তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। পরদিন দুপুরে খেলার ছলে কলেজ মাঠে নির্মাণকাজের কারণে সৃষ্ট ডোবার পানিতে পড়ে যায় সে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর স্বজনরা আরহামকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়রা জানান, অব্যবস্থাপনার কারণে ওই ডোবার সৃষ্টি হয়েছে, যা এখন শিশু ও পথচারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের দুর্ঘটনা আর না ঘটে সেজন্য দ্রুত ডোবা ভরাটের ব্যবস্থা নিতে হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ১৫

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার ম্যালকাই এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মোস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা ইমরান পরিবহনের একটি বাস ম্যালকাই এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ইউনিক পরিবহনের বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতায় প্রায় ২০ মিনিট পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ওসি মিজানুর রহমান আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ভোলার সাগর মোহনায় ট্রলার ডুবি, এক জেলে নিখোঁজ

ভোলার সাগর মোহনার ভাসান চর এলাকায় ঢেউয়ের আঘাতে একটি ট্রলার ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা ৮ মাঝি-মাল্লার মধ্যে ৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও মিজানুর রহমান নামে একজন জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টায় প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি ডুবে যায়। নিখোঁজ মিজান চরফ্যাশন উপজেলার হাজিরগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং রফিজলের ছেলে। ট্রলার মালিক ও মাঝি-মাল্লাদের সবাই ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় থাকেন।

চরফ্যাশন শামরাজ মাছ ঘাটের আড়ত মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন জানান, শুক্রবার বিকালে খোরশেদ মাঝির ট্রলার মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সাগরে যায়। সোমবার রাতের ঢেউয়ের আঘাতে নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসান চর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার পূর্বে ট্রলারটি ডুবে যায়।

উদ্ধার হওয়া ৭ জন জেলে অন্য জেলেদের সহায়তায় নিরাপদে ফিরেছেন। ট্রলারটি জাল ও অন্যান্য মালামালসহ স্রোতে ভেসে গেছে। মুহূর্তেই নিখোঁজ মিজানকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তিনি উদ্ধারে সরকারি সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলার মনপুরায় বজ্রপাতে কাঁকড়া শিকারি ও ৮ গরু-মহিষের মৃত্যু

মনপুরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে, যাতে এক কাঁকড়া শিকারি নিহত হয়েছেন এবং ৮টি গরু-মহিষের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলার বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের কাজীর চরে কাঁকড়া শিকারের সময় বজ্রপাতের আঘাতে মৃত্যু হয় জীবন দাস (৫০) নামে এক শিকারির। তিনি ওই ইউনিয়নের হিন্দু আবাসনের বাসিন্দা ছিলেন।

অপরদিকে বজ্রপাতের কারণে উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ইয়াসিন ও জাকিরের দুটি গরু, হাজিরহাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন গ্রামের জিয়া উদ্দিনের তিনটি গরু, একই ইউনিয়নের চৌধুরী বাজার এলাকার শামসুদ্দিনের একটি মহিষ এবং কলাতলী ইউনিয়নের একটি মহিষও মারা গেছে।

মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান কবির জানান, বজ্রপাতে কাঁকড়া শিকারি ও গরু-মহিষের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফজলে রাব্বি জানান, বজ্রপাতে একজন মানুষের মৃত্যু ছাড়াও বেশ কয়েকটি গরু-মহিষের মৃত্যু ঘটেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে ডেঙ্গুর থাবা: সরকারি হাসপাতালে ভর্তি সাড়ে ১০ হাজার, মৃত ১৯

বরিশালের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ আবারও বেড়েছে। আগস্টের শেষভাগে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা ফের উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত বরিশালের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১০ হাজার ৪৪১ জন রোগী। এর মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে।

শুধু আগস্ট মাসেই নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৩১০ রোগী, মারা গেছেন দুজন। ইতোমধ্যে ১০ হাজার ১২০ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও বর্তমানে তিন শতাধিক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩ জন এবং জেলার অন্যান্য হাসপাতালে ১৪ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মোট মৃত্যুর ১১ জনই শেবাচিম হাসপাতালে হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি হাসপাতালের বাইরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেশি। এ কারণে স্বাস্থ্য বিভাগ আশঙ্কা করছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এবার শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় সংক্রমণ বেশি। বরিশাল অঞ্চলের প্রায় ৬৮ শতাংশ বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু নিয়ে বিশেষ সতর্কতা থাকে। তবে চলতি বছরের পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নিয়েছে। এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে মে মাসের মধ্যভাগেই সংক্রমণ বাড়তে থাকে এবং জুনের শেষ নাগাদ সাড়ে চার হাজার মানুষ আক্রান্ত হন। তখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছিল ১২ জনের। জুলাই মাসে সংক্রমণ অব্যাহত থেকে মাসের প্রথম ১৫ দিনেই দুই হাজারের বেশি রোগী ভর্তি হন। মাস শেষে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৮ হাজার ১৩১ জনে। এক মাসের ব্যবধানে তা সাড়ে ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিস মশা ও এর লার্ভা ধ্বংসের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। আর্থিক সংকট, ফগার মেশিন ও হ্যান্ড স্প্রেয়ারের ঘাটতি এবং জনবল সংকটের কারণে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে ডেঙ্গু মোকাবিলায় মূল ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রাকৃতিক পরিস্থিতি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলায় মসজিদে টাইলস লাগাতে গিয়ে পড়ে মিস্ত্রির মৃত্যু

ভোলা সদর উপজেলায় নির্মাণাধীন মসজিদে টাইলস লাগানোর সময় ওপর থেকে পড়ে মো. লোকমান হোসেন (৫০) নামে এক টাইলস মিস্ত্রি নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের আলগী গ্রামের তালুকদার বাড়ি মসজিদে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত লোকমান একই উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদে টাইলস লাগানোর কাজে যান লোকমান হোসেন। দ্বিতীয় তলার দেয়ালে কাজ করার সময় তিনি অস্থায়ী বাঁশের মাচায় ওঠেন। একপর্যায়ে মাচা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভোলা সদর মডেল থানার ওসি আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫