শেষ দিকে ক্ষতির মুখে বাউফলের তরমুজ চাষিরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: রমজানের প্রথমে বাজার দর ভালো পেতে আগে ভাগে অপরিপক্ব পাকা, আধা পাকা তরমুজ বাজারজাত করছে চাষিরা। রমজানে তরমুজের চাহিদা বাড়ায় তরমুজের দাম ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তরমুজের দাম ক্রয় ক্ষমতার নাগালে না আসা পর্যন্ত তরমুজ বয়কটের ডাক দেন ভোক্তারা।  ব্যাপক সাড়াও মেলে তাতে। ফলে তরমুজের চাহিদা কমে যাওয়ায় বাজার দর পড়ে যায়। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ৬ শতাধিক তরমুজ চাষি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগের তুলনায় তরমুজের আবাদ বেড়েছে পটুয়াখালীর বাউফলের চন্দ্রদ্বীপের চরকচ্ছবিয়া, চরওয়াডেল, রায়সাহেবে, চরঈশান, মমিনপুর, বাসুদেবপাশা, চরশৌলাসহ বিভিন্ন চরে।

আরো পড়ুন : গলাচিপায় ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব

কালাইয়া শৌলা চরে প্রায় ১৮ একর জমি লিজ নিয়ে করা তরমুজ চাষি শৌলা গ্রামের বাদল গাজী (৩০) জানান, এবার ১৮ একর জমিতে তরমুজের চাষ করেছি। ক্ষেত তৈরি, বীজ, সার-ওষুধ, বছর হিসেবে জমি কেনা, পরিবহনসহ আগের তুলনায় সবকিছুর দাম বেড়েছে হু-হু করে। ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৮ একর জমিতে তরমুজ চাষে আমার ২০ লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত তরমুজ বিক্রি হয়েছে ১২-১৩ লাখ টাকার মতো। মাঠে যা আছে তাতে আরো ২-১ লাখ টাকা হাতে পেতে পারি। সবমিলিয়ে আমার ৫ লাখ টাকা ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের এখনকার উৎপাদিত তরমুজ চলে যায় রাজশাহী, বগুড়া, ঝিনাইদহ, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ এলাকায়। ওখানের নিয়মানুযায়ী আমার ক্ষেতের ১০-১২ কেজি ওজনের তরমুজ কেজি হিসেবে ৫০-৬০ টাকা দরে, মধ্যম মানের ৮-১০ কেজি ওজনের তরমুজ কেজি হিসেবে ৩০-৩৫ টাকা ও ছোট মানের তরমুজ ১৮-২৫ টাকা কেজি হিসেবে বিক্রি শুরু হইছিল। অন্যান্য এলাকার আড়তে দেড়শ’ থেকে ২শ’ টাকা পিস হিসেবেও বিক্রি হয়।

চাষিদের দাবি, মধ্যস্বত্বভোগীদের মুনাফাখোরি মানসিকতা বদলাতে হবে। দাম চড়িয়ে ভোক্তাদেরও বঞ্চিত করা যাবে না। এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা বাজারে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করেছেন। কৃষিতে একমাত্র তরমুজ চাষেরই দায়ভার সরকার নেয় না। দুঃসময়ে চাষিদের পাশে থাকতে হবে।

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় মোট ৩ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে ৩৮৯ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে।

বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস বলেন, চাষিরা বেশি লাভের আশায় পরিপক্ব তরমুজ বাজারজাত করেছে। এতে ভোক্তারা তরমুজের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ক্রেতা কমে গেছে। ফলে তরমুজের চাহিদা কমে যায়। এ কারণে দামও কমে যাওয়ায় চাষিরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কৃষি কর্মকর্তারা সবসময়ই চাষিদের খোঁজখবর নিচ্ছে।




গলাচিপায় ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপা ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত নারী-পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ১১০ জন রোগীকে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য মতে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৪৫ জন নারী, ৩২ জন পুরুষ ও ৩৩ শিশুসহ মোট ১১০ জন রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : এক টানেই জালে ১৩০ মণ ইলিশ

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. আল-আমিন জানান, ভর্তি হওয়া রোগীদের ফ্রি সালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ৭০ জন সুস্থ হয়ে নিজ নিজ বাড়িতে চলে গেছেন। বর্তমানে ৪০ জন ভর্তি রুগীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা (টিএইচএ) ডা. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, বিশুদ্ধ পানির অভাব, গরম, অতিরিক্ত তরমুজ খাওয়া, রমজানে ইফতারিতে তৈলাক্ত খাবারের প্রভাবে ডায়রিয়া ছড়াচ্ছে। এতে ভয়ের কিছু নেই। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীকে দ্রুত উপজেলা হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, পর্যাপ্ত স্যালাইন ও অন্যান্য ওষুধপত্র মজুদ আছে।




দেশে দেশে কলেরার প্রাদুর্ভাব: ডব্লিউএইচও

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কলেরার প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত অঙ্গ সংগঠন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। পানিবাহিত এই প্রাণঘাতী রোগটির প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে তাই বড় আকারের টেস্ট কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈশ্বিক এই সংস্থাটি।




শারজায় অগ্নিকাণ্ডে ৫ জন নিহত, আহত ৪৪

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সংযুক্ত আরব আমিরাতের বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে আল নাহদাতে একটি উঁচু আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৪৪ জন। এক প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম খালিজ টাইমস

প্রতিবেদনে বলা হয়, আল নাহদার একটি ৩৮ তলা আবাসিক টাওয়ারে আগুন লাগে। এ ঘটনায় ৫ জন দমবন্ধ হয়ে মারা গেছে। আহতদের মধ্যে ১৭ জন মাঝারি আঘাত পেয়েছেন। বাকিদের অবস্থা খুব গুরুতর না।

শারজাহ পুলিশ পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৭ জনকে জরুরি সেবা দেওয়া হয়েছে। ১৮ শিশুসহ ১৫৬ জন বাসিন্দাকে নিরাপদ জায়গায় সড়িয়ে নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ভবনিটির ১৮ ও ২৬ নম্বর তলায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারে আগুন থেকেই এই অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত।




পটুয়াখালীতে আগুনে ভস্মীভূত ২৩ মাছের আড়ত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর সবচেয়ে বড় মৎস্য বন্দর মহিপুরে আগুন লেগে অন্তত ২৩টি মাছের আড়ত পুড়ে গেছে।

শুক্রবার (৬ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে জাপান মৎস্য আড়ত থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

মহিপুর মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ রাজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ।

কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার ইলিয়াস হোসাইন বলেন, সড়ক সরু হওয়ার কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হলেও পাশেই নদী থাকায় খুব কম সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি জানার কাজ চলছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী জেলায় ২ হাজার কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদন

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, আমি ঘটনাস্থলে এসেছি। ক্ষয়ক্ষয়ি জানতে উপজেলা প্রশাসন থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ক্ষতিক্ষগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে টিন এবং নগদ অর্থ সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।




দুমকিতে হটাৎ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ৪৫ রোগী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:: পটুয়াখালীর দুমকিতে আবারো হটাৎ ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, হাসপাতালে বেড়েছে রোগীদের ভীড়। গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়াক্রান্ত নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ৪৫ জন রুগীকে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৫ জন নারী, ১২ জন পুরুষ, ৮ শিশুসহ মোট ৪৫ জন রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : ঋণ আত্মসাৎ মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর গ্রেফতার

উপজেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. এজিএম এনামুল হক বলেন, বুধবার সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত অন্তত ১০ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীকে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তি হওয়া রোগীদের ফ্রি স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এ পর্যন্ত ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ২৮ জন সুস্থ হয়ে নিজ নিজ বাড়িতে চলে গেছেন। বর্তমানে ৯ জন নারী, ৫ জন পুরুষ ও ১ জন শিশু রোগীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানির অভাব, প্রচন্ড গরম, রমজানে ইফতারিতে তৈলাক্ত খাবারের প্রভাবে ডায়রিয়া ছড়াচ্ছে। এতে ভয়ের কিছু নেই।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীকে দ্রুত উপজেলা হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্যালাইন ও অন্যান্য ঔষধ পত্র মজুত আছে।




একসঙ্গে ৩ ছেলে সন্তানের জন্ম দিলেন গৃহবধূ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে একসঙ্গে ৩ টি ছেলেসন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক গৃহবধূ।

বুধবার (৩ এপ্রিল) গভীর রাতে গলাচিপা উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে এই তিন নবজাতকের জন্ম হয়।

তিন শিশু জন্ম দেওয়া প্রসূতির নাম আছিয়া বেগম (১৯)। তিনি  রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের গরুভাঙ্গা গ্রামের রাজিব হাওলাদারের স্ত্রী।

দুটি শিশু সুস্থ থাকলেও একটি শিশুর শ্বাসকষ্ট রয়েছে। মা সুস্থ আছেন।

বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার রাত ৯টার দিকে রাঙ্গাবালী উপজেলার রাজিব হাওলাদারের স্ত্রী আছিয়া বেগকে ক্লিনিকে ভর্তি হয়। পরে আছিয়ার সিজার ছাড়া সন্তান প্রসবের জন্য চিকিৎসকরা অপেক্ষা করতে থাকেন। এ সময় রাত ৩টার দিকে আছিয়া বেগম পর পর তিনটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। শিশুর মা আছিয়া বেগমের সুস্থ হতে সময় লাগবে। চার জনকেই পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

আরো পড়ুন : বাউফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও চেক বিতরণ

ওই শিশুদের বাবা রাজিব হাওলাদার বলেন, ‘আমি দরিদ্র জেলে। আমার একার আয় দিয়ে সংসার চলে। স্ত্রী বুধবার দুপুরে অসুস্থ হলে গলাচিপা নিয়া আসি। এখানে আসার পর জানতে পারি তার গর্ভে একাধিক সন্তান রয়েছে। রাত ৩টায় পরপর তিনটি ছেলেসন্তান জন্ম দেয়। এখন মা ও বাচ্চাদের চিকিৎসা খরচ চালানো আমার পক্ষে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এদিকে ডাক্তাররা একটি বাচ্চার শ্বাসকষ্ট হলে তাকে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলছে। কী করব বুঝতে পারছি না।’

 




পটুয়াখালীতে ১ সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি ৫২৩ ডায়রিয়া রোগী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিল মাসে পটুয়াখালীসহ
দক্ষিণাঞ্চলে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। গরমের সঙ্গে সঙ্গে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে ৫২৩ জন রোগী আক্রান্ত হয়েছেন এতে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ডায়রিয়া রোগীর চাপে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। হাসপাতালের মেঝে থেকে শুরু করে হাঁটার পথ, বারান্দা- সবখানেই অস্থায়ী বিছানা পেতে রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে মশা-মাছি এবং নোংরা পরিবেশের কারণে ভোগান্তিতে আছেন আগত রোগী ও স্বজনরা।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী এলাকার রোগী শিশু সাবিহার মা বলেন, ‘হঠাৎ করেই পাতলা পায়খানা এবং বমি শুরু হয় সাবিহার। পরে হাসপাতালে নিয়ে এসে স্যালাইন দেই। তবে হাসপাতালে কোনো বেড পাইনি, তাই বারান্দায় ফোম বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি।’

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ট্রাকচাপায় রিকশাচালক নিহত, আটক চালক-হেলপার

একই কথা জানান হাজিখালি থেকে আসা রোগী চাঁদনী দেবনাথের মা সুস্মিতা দেবনাথ। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তি করেছি, কিন্তু কোনো সিট খালি নেই, তাই রাস্তার পাশে স্যালাইন দিতেছি। মশা-মাছির কারণে টেকা দায়। চারদিকে গন্ধ আর প্রচণ্ড গরম।’

পটুয়াখালী সিভিল সার্জন এস এম কবির হাসান বলেন, গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিগত বছর গুলোতেও এমন ভাবে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছিল। এসব বিষয় মাথায় রেখে ডায়রিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে আমাদের আগে থেকেই প্রস্তুতি রয়েছে। তবে সবার খাবার গ্রহণ এবং পানি পানের ক্ষেত্রে এই সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পরিস্থিতি এখনও আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। খাবার স্যালাইনসহ অনান্য ওষুধেরও পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

পটুয়াখালী জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত সাত দিনে জেলায় ৫২৩ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন উপজেলায় ভর্তি হয়েছেন। এরইমধ্যে ৩৫৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।




ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়,অতিষ্ঠ স্থানীয়রা

বরিশাল অফিস:: ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় বানিয়েছে গৌরনদী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন দুটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাঝখানে ট্রাকবোঝাই করে প্রতিদিন ময়লা ফেলা হচ্ছে। শুধু ময়লা ফেলেই হচ্ছে না, সেই ময়লা আগুন দিয়ে পোড়ানো হচ্ছে। এতে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকছে মহাসড়কসহ আশপাশের এলাকা। দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী পৌর কর্তৃপক্ষের সহায়তা চেয়েও কোনো প্রতিকার পাননি।

পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করতে সড়কের দুই পাশে বর্ধিতকরণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সড়কের পাশ ভরাট করতেই বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন স্থানে ময়লা ফেলছে গৌরনদী পৌর কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় বাসিন্দা আবির হাসান বলেন, বিগত ছয় মাস ধরে মহাসড়কের পাশে পৌরসভা এলাকার যত ময়লা-আবর্জনা রয়েছে তা এনে ফেলে আগুন দেওয়া হচ্ছে। আমরা বাসা-বাড়িতে থাকতে পারছি না। ধোঁয়া-দুর্গন্ধে থাকার পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে আমাদের এলাকার।

তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা সব সময়েই ময়লা ফেলছে আর আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। রাধে শ্যাম নামে এক মিস্ত্রি বলেন, উন্মুক্ত স্থানে ময়লা ফেলা আর ধোঁয়ায় বায়ু দূষণ হয়। সেই বায়ুতে যারা নিঃশ্বাস নিচ্ছি তারা সকলেই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।

শেখ টিপু নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলে তা পোড়ানোয় আশপাশে আমরা যারা বসবাস করি তারা খুব বিপদে আছি। আমরা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছি, শরীরে ব্যথা অনুভব করি সব সময়।

আক্তার হোসেন নামে আরেকজন বলেন, পৌরসভা মহাসড়কের পাশে উন্মুক্ত স্থানে ময়লা ফেলবে কেন? তাদেরতো উচিত নিরাপদ স্থানে ফেলে পোড়ানো। অথচ তারা যে কাজ করছে তাতে আমরা রোগাক্রান্ত হচ্ছি।

ভ্যানচালক রতন গাজী বলেন, শুধু ময়লা নয়, বিড়াল মরা, কুকুর মরা এনে ময়লার মধ্যে ফেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয় একটি ক্লিনিকের পরিচালক সাইদুল বাসার বলেন, পরজীবী বহনকারী মশা-মাছির উপদ্রব এত বেশি বেড়েছে যে কিছুক্ষণ টিকে থাকা কষ্টকর। ময়লা এভাবে ফেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় রোগ-জীবানু ছড়িয়ে পড়ছে। আমি মনে করি পৌর কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ময়লার ভাড়ারটি অনত্র সরিয়ে ফেলবে।

গৌরনদী পৌরসভার মেয়র হারিছুর রহমানকে পৌর ভবনে গিয়ে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে কল করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই ব্যস্ত আছেন জানিয়ে কল কেটে দেন।




বিশ্বের শক্তিশালী এমআরআই মেশিনে মস্তিষ্কের প্রথম চিত্র প্রকাশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আবিষ্কৃত হলো বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এমআরআই স্ক্যানার, ইসেলট। মানব মস্তিষ্কের স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ ছবি তুলেছে এই স্ক্যানার। সম্পূর্ণ নির্ভুল সেই ছবি। এই ছবি দেখে মস্তিষ্কের গোপনীয়তা ও রোগ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার আশা করছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।

ফ্রান্সের অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের (সিইএ) গবেষকরা ২০২১ সালে কুমড়ো স্ক্যান করার জন্য এই মেশিনটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন। তিন বছর পর দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মানুষের মস্তিষ্কের ছবির পাশাপাশি তার পুরো শরীরের ছবি তোলার জন্য এই মেশিনটিতেই সবুজ সংকেত দিয়েছেন।

গত কয়েক মাসে প্রায় ২০ জন সুস্থ মানুষের এমআরআই (ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং) স্ক্যান করা হয়েছে এই মেশিন দিয়েই। এই প্রকল্পে কাজ করা বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ভিগনাউড বলেছেন, আমরা এটিতে এমন এক লেভেলের নির্ভুলতা দেখেছি যা আগে কখনও দেখা যায়নি।

প্যারিসের দক্ষিণে মালভূমি দে স্যাক্লে এলাকায় এই গবেষণা কেন্দ্রটি অবস্থিত। নতুন যন্ত্রটির মাধ্যমে প্রচলিত এমআরআই মেশিনের তুলনায় ১০ গুণ বেশি স্বচ্ছ ছবি পাওয়া যায়।

আলেকজান্ডার ভিগনাউড বলেন, হাসপাতালগুলোতে ব্যবহৃত মেশিনগুলি সাধারণত তিনটি টেসলার বেশি হয় না। বিজ্ঞানীরা এই শক্তিশালী স্ক্যানারটির সঙ্গে একটি কম্পিউটার স্ক্রিনে তোলা ছবিগুলোকে একটি সাধারণ এমআরআই দ্বারা তোলা ছবির সঙ্গে তুলনা করেছেন। এই মেশিনের সাহায্যে সেরিব্রাল কর্টেক্সকে পুষ্ট করে এমন ক্ষুদ্র সেরিবেলামের বিবরণ দেখতে পাওয়া যায়। যা এতদিন অসম্ভব ছিল।

ফ্রান্সের গবেষণা মন্ত্রী ও পদার্থবিদ সিলভি রিটেইলিউ, নিজে একজন পদার্থবিদ। তিনি বলেন “নির্ভুলতা খুব বিশ্বাসযোগ্য। এটি বিশ্বে প্রথম মস্তিষ্কের প্যাথলজিগুলির জন্য আরও ভাল সনাক্তকরণ এবং চিকিৎসার সুযোগ দেবে। ’

শুধু ফ্রান্স নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াও এমন শক্তিশালী এমআরআই যন্ত্র তৈরিতে কাজ করছে। কিন্তু এসব যন্ত্রে এখনো রোগীকে স্ক্যান করা শুরু হয়নি।