পটুয়াখালীতে ডায়রিয়ায় ১ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১১৬

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় তাপদাহের কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। শুধু এপ্রিলেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩১৬ জন। আর আউটডোরে চিকিৎসা নিয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে প্লাস্টিক দূষণ বন্ধের দাবিতে মানবন্ধন

রোববার রাতে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে সত্তার ফরাজী (৯০) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। আর কলাপাড়া ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬ জন।

কলাপাড়া হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. জে এইচ খান লেলিন জানান,  এ বছরের শুধু এপ্রিল মাসেই হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৩১৬ জন। এছাড়াও আক্রান্ত আরও কয়েক হাজার মানুষ আউটডোরে চিকিৎসা নিয়েছে।

তিনি আর জানান, কলাপাড়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি হওয়ার পর থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। কলাপাড়া হাসপাতালের বাইরেও উপজেলার মহিপুর ও কুয়াকাটা হাসপাতালেও পাঁচ শতাধিক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটায় বাতিল হচ্ছে হোটেল-রিসোর্টের অগ্রিম বুকিং

উপকূলে বিশুদ্ধ পানি সংকট ও তাপদাহের কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা দিনদিন বাড়লেও হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্যালাইন ও ঔষধ সরবরাহ রয়েছে বলে জানান এই চিকিৎসক।




গরমে ৫ পানীয় রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়বে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  শুধু তেষ্টা মিটলেই তো চলবে না, গরমে বাছতে হবে এমন পানীয়, যা শরীরকেও ঠান্ডা রাখবে। তা ছাড়া, গরমে ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই শরীরের প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করার দিকেও নজর দিতে হবে।

জাঁকিয়ে বসেছে গরম। সূর্যের চোখরাঙানিতে হাঁসফাঁস অবস্থা। এই গরমে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা থেকে বাঁচতে মশলা জাতীয় খাবার বাদ দিয়ে পানীয়ের উপরেই নির্ভর করতে হয় বেশির ভাগ সময়ে। কিন্তু শুধু তেষ্টা মিটলেই তো চলবে না, গরমে বাছতে হবে এমন পানীয়, যা শরীরকেও ঠান্ডা রাখবে। তা ছাড়া গরমে ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই শরীরের প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করার দিকেও নজর দিতে হবে।

আমলকির শরবত: আধ কাপ আমলকির রস একটি গ্লাসে ঢালুন। এক চামচ মধু ও স্বাদ মতো বিটনুন খুব ভাল করে মিশিয়ে নিন। এ বার পরিমাণ মতো জল মিশিয়ে দিন। খুব সহজেই তৈরি হয়ে যাবে আমলকির শরবত।

তরমুজ-অ্যালো ভেরার শরবত: কয়েক টুকরো তরমুজের রসের সঙ্গে কয়েকটি তুলসি পাতা, ২ চামচ অ্যালো ভেরার রস আর কয়েকটা বরফ দিয়ে ভাল করে মিক্সিতে ঘুরিয়ে নিন। এ বার মিশ্রণে সামান্য বিটনুন, গোলমরিচ আর লেবুর রস দিয়ে দিন। গ্লাসে তরমুজের কুচি আর পুদিনা পাতা দিয়ে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন তরমুজ-অ্যালো ভেরার শরবত।

গন্ধরাজ ঘোল: দই, জল, কিছু পুদিনা পাতা, একটু জিরেগুঁড়ো, একটু লাল লঙ্কাগুঁড়ো এবং বিটনুন দিয়ে মিক্সারে ঘুরিয়ে নিন। এ বার সেই মিশ্রণে গন্ধরাজ লেবুর রস, লেবুর নির্যাস আর কয়েকটি বরফ মিশিয়ে নিন। পরিবেশন করুন গন্ধরাজ ঘোল।

শিকঞ্জি: পুদিনা পাতা বেটে নিন। তাতে একে একে পাতিলেবুর রস, বিটনুন, চিনি আর ভাজা জিরে গুঁড়ো মিশিয়ে নিন| এ বার উপর থেকে সোডা কিংবা ঠান্ডা জল ঢেলে অল্প নেড়ে বরফ কুচি সহযোগে পরিবেশন করুন শিকঞ্জি।

তেঁতুলের শরবত: তেঁতুলের খোসা ও বীজ ছাড়িয়ে ক্বাথ বার করে রাখুন। গন্ধরাজ লেবুর রস বের করে নিন। এ বার মিক্সিতে একসঙ্গে তেঁতুলের ক্বাথ, লেবুর রস, বরফের কুচি, পুদিনা পাতা কুচি, নুন আর ভাজা জিরে গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। পরিবেশন করার পাত্রে তেঁতুলের শরবত ঢেলে উপর থেকে পুদিনা পাতা কুচিয়ে ও বরফ দিয়ে পরিবেশন করুন।




চেয়ারে বসে কোমরে ব্যথা? ৩ ব্যায়াম করতে পারেন




ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে স্ত্রী নিহত, স্বামী আহত

পটুয়াখালীে প্রতিনিধি :: রাজধানীর গুলিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন স্বামী। তারা দু’জনই একটি গার্মেন্টসে কাজ করতেন।

রোববার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম আয়েশা আক্তার (২০)। তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলার চারবুনিয়া গ্রামে মোশারফ পেদার মেয়ে। থাকতেন টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায়।
গুরুতর আহত হয়েছেন আয়েশার স্বামী খায়রুল ইসলাম (২০)।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা

পুলিশ জানায়, আজমেরী গ্লোরি পরিবহনের একটি বাসে গাজীপুর যাচ্ছিলেন স্বামী-স্ত্রী। পথে গুলিস্তানের জিরো পয়েন্টে আরেকটি গাড়ি তাদের বাসটিকে সজোড়ে ধাক্কা দেয়। এসময় বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক আয়েশাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. মাসুদ মিয়া জানান, মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।




বরিশালে মৌসুমের তাপদাহে দিনমজুর শ্রমিকরা ক্লান্ত

বরিশাল অফিস : মৃদু তাপদাহ বিরাজ করছে বরিশালে। শনিবার বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ৩৯.০ ডিগ্রিী সেলসিয়াস। তীব্র তাপদাহে অতীষ্ট প্রাণীকূল।

বিশেষ করে দৈনিক খেটে খাওয়া দিনমজুররা পড়েছেন বিপাকে। আগামী এক সপ্তাহ এই অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন তারা।

গত কয়েকদিনের তাপপ্রবাহে বরিশালের জনজীবন বিপন্ন। দিনের বেলা সূর্যের তাপে অতীষ্ট প্রানীকূল। অতি প্রয়োজন ছাড়া প্রখর রোদ মাথায় নিয়ে ঘরের বাইরে বের হতে চান না সাধারণ মানুষ। পেটের দায়ে কাজে নেমে হাঁসফাঁস অবস্থা দিনমজুরদের।


রিক্সাচালক আবুল হোসেন বলেন, রদ্দুরে গাড়ি চালাইতে পারতে আছি না। ২০-৩০ টাহার ভাড়া খাইট্টা ছাওয়ায় (ছায়া) বইয়া থাহি কি করমু।

কাঠুরে লোকমান মিয়া বলেন, গরমে কাজকাম করতে পারি না। ৬টা কোপ দেলে হেরপর থাহালাগে বইয়া। আগে মাল কাটতাম (লাকড়ি) ১০ থেকে ১৫ মণ। এহন ৫-৬ মনের বেশী কাটতে পারেন না।

বৃদ্ধ রহম আলী বলেন, বাইরে নামলে ছাতি মাথায় দিয়া হাটি। গাছতলায় গাছতলায় থাহি। গরমে টেকতে পারি না। মনে হয় জানডা বাইরাইয়া গেলো।

অপরদিকে নগরীর মুক্তিযোদ্ধা পার্ক সংলগ্ম কির্তনখোলা নদীতে দুরান্ত শিশুরা সহ বৃদ্ধরা নদীতে নেমে ঞন্টার পর ঘন্টা সময় ধরে গোসলের নামে শরীরটাকে শিতল করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

এছাড়া পার্কে যারা একটু শিতল হতে এসেছে তারাও বেঞ্চে বসে সময় পাড় করছে আবার কেহ কেহ ঘুমিয়ে শরীররকে শিতল করছে। এদিকে একটি বেসরকারী সংগঠনের পক্ষ থেকে নগরের পথচারীদের মাঝে স্যালাইনযুক্ত ঠান্ডা পানি সরবরাহের মাধ্যমে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।


বরিশাল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মো.মাযহারুল ইসলাম জানান, গত বছরের চেয়ে এবার অন্তত ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেড়েছে। বর্তমানে মৃদু তাপ প্রবাহ চলছে। শনিবার বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৯.০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। যা
চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড। আজ কিছুটা তাপমাত্রা কমে এসেছে রবিবার বেলা তিনটা পর্যন্ত ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়ার্স অব্যাহত রয়েছে। যা আগামী এক সপ্তাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন তিনি।

 




বরিশালে চাপকলে উঠছে না পানি বিপাকে মানুষ

বরিশাল অফিস : নগরের পর এবার বরিশালের আশপাশের গ্রামেও একে একে অকেজো হচ্ছে টিউবওয়েল। দীর্ঘসময় চাপার পরও এসব কলে উঠছে না পানি।

রবিবার বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর সঙ্গে চাপকলে পানি না ওঠার নতুন এ বিপদ যোগ হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ।

উত্তাপের বিপদ সংকেতের মধ্যেই মাইলের পর মাইল দূরে গিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংকটাপন্ন এলাকাগুলোয় ১৩০টি মেশিনে চলা পানির পাম্প বসানোর কাজ করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। তবে তাতে সংকটের ছিটেফোঁটাও মিটবে না বলছে ওইসব এলাকার জনগণ।

বরিশাল নগর থেকে ৬-৭ কিলোমিটার দূরে রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন। সেখানকার বাসিন্দা নূর ইসলাম (৫২) ছন্দ চন্দ্রদ্বীপ নিউজ কে বলেন বলেন, গত ক’দিন এখানে কোনো টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চাপার পরও একই অবস্থা।একই কথা বলেন নগরসংলগ্ন কাশিপুর ইউনিয়নের তিলক কলাডেমা এলাকার বাসিন্দা রায়হান মল্লিক।

তিনি বলেন, গরমের তীব্রতা বাড়ার আগে ২-১টা টিউবওয়েলে যাও পানি উঠত এখন আর তাও মিলছে না। আশপাশের যেসব বাড়িতে টিউবওয়েলের সঙ্গে পানি ওঠানোর পাম্প (সাবমারসিবল) লাগানো আছে তারাই কেবল পানি পাচ্ছে। আমরা যারা সাধারণ টিউবওয়েল ব্যবহার করি তাদের টিউবওয়েল অনেকক্ষণ চাপার পরও পানি ওঠে না।

জাগুয়া ইউনিয়নের হুমায়ুন কবির চন্দ্রদ্বীপ নিউজ কে বলেন, পানি না ওঠার কারণ জানতে গিয়েছিলাম উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের কাছে। তিনি বলেছেন, পানির স্তর নেমে যাওয়ার কারণে নাকি এ অবস্থা হয়েছে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা চন্দ্রদ্বীপ নিউজ কে বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর উপরিভাগ থেকে ৮-১০ ফুট নিচে থাকলে চাপকল চেপে পানি ওঠানো সম্ভব। কিন্তু বরিশাল নগরসংলগ্ন ৫টি ইউনিয়নের পানির স্তর এতটাই নিচে নেমে গেছে যে টিউবওয়েল চেপে সেই পানি ওঠানো যাচ্ছে না।

এটা ঠিক এখনও মাটির ৯১০ থেকে ৯২০ ফুট নিচেই মিলছে সুপেয় পানি। কিন্তু স্তর চাপের অবস্থান ৮-১০ ফুট থেকে নেমে চলে গেছে ২৩-২৪ ফুট নিচে। যে কারণে একই সঙ্গে বিকল হয়ে পড়েছে শত শত টিউবওয়েল। এ সমস্যা দেখা দিয়েছে নগরসংলগ্ন ৫ ইউনিয়নে। আবার এসব ইউনিয়নের যে জায়গাগুলো নগর থেকে খানিকটা দূরে সেখানে খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না।

এক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা চন্দ্রদ্বীপ নিউজ কে বলেন, সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে চরবাড়িয়া, চরকাউয়া, রায়পাশা-কড়াপুর, কাশিপুর এবং জাগুয়া ইউনিয়নে। সিটি করপোরেশন গঠিত হওয়ার সময় এসব ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকা নগরের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্ধিত এলাকা নামে পরিচিত সেসব এলাকাতেই বেশি সমস্যা হচ্ছে। বরিশাল নগর এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের নিম্নগামিতা কিন্তু আরও ভয়াবহ। মূলত তার প্রভাবই পড়ছে নগরসংলগ্ন এসব ইউনিয়নের ভূগর্ভস্থ স্তরে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান চন্দ্রদ্বীপ নিউজ কে বলেন, বরিশাল নগরে টিউবওয়েলে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে গেছে অন্তত ৮-১০ বছর আগে। অগণিত বহুতল ভবন নির্মাণ ও এসব ভবনের বাসিন্দাদের পানির চাহিদা মেটাতে অপরিকল্পিতভাবে পাম্প বসিয়ে পানি ওঠানোর কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যুগ যুগ ধরে এভাবে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে আনায় ভূ-উপরিতল থেকে মাত্র ৮-১০ ফুট নিচে থাকা পানির স্তর নেমে গেছে ৪২-৪৩ ফিট নিচে।

ফলে এখন যে কেবল টিউবওয়েলে পানি উঠছে না তা নয়, সুপেয় পানির স্তর পর্যন্ত তার ভারসাম্য হারাচ্ছে। আগে যেখানে বরিশাল নগরে ৭৫০ থেকে ৮শ ফুট নিচে গেলেই মিলত বিশুদ্ধ পানি সেখানে এখন সাড়ে ৯শ ফুট নিচে যেতে হচ্ছে। এখনই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো বরিশাল নগরে পানির হাহাকার পড়বে।

রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহম্মেদ শাহরিয়ার বাবু চন্দ্রদ্বীপ নিউজ কে বলেন, এখানে কোনো টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। পুরো ইউনিয়নে হাতে গোনা কিছু সাবমারসিবল রয়েছে। খাবার পানি সংগ্রহে সেগুলোতেই ছুটতে হয় মানুষকে।

এছাড়া গোসলসহ অন্যান্য কাজে ব্যবহার হচ্ছে পুকুর কিংবা খালের পানি। চলমান হিট অ্যালার্মে একটু খাবার পানির জন্য মানুষ যে কতটা কষ্ট করছে তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করানো যাবে না। কথা ছিল জলবায়ু প্রকল্পের আওতায় এখানে বেশ কিছু ডিপ টিউবওয়েল বসানো হবে। কিন্তু টিউবওয়েলে পানি না ওঠায় এখন নাকি তাও বসানো হবে না।

বরিশাল সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আবু সালেহ চন্দ্রদ্বীপ নিউজ কে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন। আলোচ্য ৫ ইউনিয়নে আমাদের দেড় হাজারের মতো টিউবওয়েল রয়েছে যার অধিকাংশই কাজ করছে না।

রাজস্ব খাতভুক্ত একটি প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে এসব ইউনিয়নে ১৩০টি টিউবওয়েল বসানোর কাজ চলছে। এসব টিউবওয়েলে সাবমারসিবলের পাশাপাশি জলাধার বসানোর কাজ করছি আমরা। এখানে প্রতিটি টিউবওয়েলের সাথে থাকা জলাধারেও সংরক্ষিত থাকবে পানি। আগে যেসব সাবমারসিবল বসানো হয়েছে তার সঙ্গে এগুলো যোগ হলে পানির সমস্যা অনেকটা দূর হবে বলে আশা করছি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রীষ্মকালেই মূলত সমস্যাটা বেশি হয়। বিশেষ করে গত ২-৩ বছর যাবত। এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। বর্ষাকালে কিন্তু পানির স্তর ৮-১০ ফুটের মধ্যে চলে আসে। তখন সব চাপকলই কাজ করে। এ বছর গরমের শুরু থেকেই পানি উঠছে না। সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি আমরা। আশা করি খুব শিগগিরই এই সমস্যা সমাধানে বড় ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

 




ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৩০

বরিশাল  অফিস :: মাদারীপুরে জেলার রাজৈরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যাত্রীবাহী দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন উভয় বাসের অন্তত ৩০ জন যাত্রী।

রোববার (২১ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাজৈর উপজেলার আলমদস্তা বড় ব্রিজ এলাকার মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস রাজধানীর ঢাকার দিকে যাচ্ছিল।

বাসটি রাজৈর উপজেলার আলমদস্তা বড় ব্রিজ এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা বরিশালগামী কাজী পরিবহনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় বাসের কমপেক্ষ ৩০ জন যাত্রী আহত হন।

পরে স্থানীয় লোকজন আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। মুখোমুখি সংঘর্ষে বাস দুটির চালক আটকা পড়ে।
পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
প্রত্যক্ষদর্শী টুটুল বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি বলেন, দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের পরে বাস দুটির চালক ভেতরে আটকা পড়ে যায়। পরে বাসের সামনের অংশ কেটে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা।

আহত এক যাত্রী মারুফ হাসান বলেন, কাজী পরিবহনের যাত্রী আমি। ভুরঘাটা নামার কথা ছিল আমার। বাসটি ভালোই চলছিল। আমি মাঝামাঝি সিটে বসা। হঠাৎ সামনে থেকে হানিফ পরিবহনের বাসটি এসে গাড়ির সামনে লাগিয়ে দিলো। পরে বিকট শব্দ আর ঝাঁকিতে বাসে থাকা সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ে। আমি সিট থেকে পড়ে গেয়েছিলাম। অল্পের মধ্যে বেঁচে গেছি।

রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার বলেন, দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বেশি কিছু যাত্রী আহত হয়েছেন। তবে নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। বাস দুটির চালক ভেতরে আটকা পড়েছিল। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আমরা তাদের উদ্ধার করি।

দুর্ঘটনার পরে মহাসড়কের উভয়পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরেই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলে ফের যান চলাচল শুরু হয় জানান ওসি।




বরিশাল বিভাগে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ

বরিশাল অফিস :: তীব্র গরমে বরিশাল বিভাগের চারটি জেলায় উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে ডায়রিয়া। গত ২০ দিনে প্রায় ১৯ হাজার রোগী জেলা উপজেলার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা নিয়েছেন। অর্থাৎ গড়ে ৯৪১ জন রোগী প্রতিদিন ডায়রিয়া আক্রান্ত হচ্ছেন।

রবিবার  (২১ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

পরিসংখ্যানবিদ এএসএম আহসান কবির গণমাধ্যমকে জানান, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪১ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৭ জন, বরিশাল জেলার অন্যান্য সরকারি হাসপাতালে ১১৪ জন, ভোলায় ৮৯ জন, পিরোজপুরে ৯১ জন, বরগুনায় ১৪৭ জন। বিভাগের মধ্যে ঝালকাঠি ও পটুয়াখালীতে এখনো ডায়রিয়ার রোগী হাসপাতালে ভর্তির তথ্য পাওয়া যায়নি। এরমধ্যে ৪৩৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তিনি বলেন, ১ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত বিভাগের চার জেলায় মোট ১৮ হাজার ৮৩৭ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ভোলায় ৬ হাজার ৬৩৯ জন। এরপরেই বরিশালে ৫ হাজার ২৬০ জন। বরগুনায় ৩ হাজার ৪৭৭ জন, পিরোজপুরে ৩ হাজার ৪৬১ জন। এ ছাড়া বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই ২০ দিনে ১ হাজার ৪০৩ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ১৮ হাজার ২৫৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল গণমাধ্যমকে বলেন, ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে বিভাগে এখন পর্যন্ত কারও মৃত্যুর সংবাদ নেই। রোগীদের যেন দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায় সেজন্য পূর্ব প্রস্তুতি মূলত পর্যাপ্ত স্যালাইন সরবরাহ করা হয়েছে। বিভাগে বর্তমানে ১৭ হাজার ৯২৩ পিস আইভি স্যালাইন মজুদ রয়েছে।

তিনি বলেন, সবগুলো সরকারি হাসপাতালে নির্দেশনা দেওয়া আছে ডায়রিয়া আক্রান্তদের দ্রুত সময়ে চিকিৎসার জন্য। রোগীর সংখ্যা বাড়লে আলাদা ইউনিট করে চিকিৎসা ব্যবস্থা করার।

 




গরমে ঘেমে  যাচ্ছেন? মেনে চলুন কয়েকটি নিয়ম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ঘামের দাগে পোশাকের সৌন্দর্যও নষ্ট হয়ে যায়। যাঁদের রোজ বাইরে বেরোতে হয়, এই বিষয়ে তাঁদের নজর দেওয়া জরুরি। কিছু বিষয় মাথায় রাখলে সমস্যা হবে না।

গরমের সবে শুরু। বৈশাখের প্রথমেই দাপট দেখাতে শুরু করেছে গ্রীষ্মকাল। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, গরমের তীব্রতা আরও বাড়বে। আপাতত ঝেঁপে বৃষ্টি কিংবা কালবৈশাখীর কোনও সম্ভাবনা নেই। অগত্যা ঘামে ভিজে যাওয়া ছা়ড়া আর উপায় নেই। পোশাক ঘামে ভিজে দেখতে যেমন খারাপ লাগে, তেমনই ঠান্ডা লেগে যাওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। তা ছাড়া ঘামের দাগে পোশাকের সৌন্দর্যও নষ্ট হয়ে যায়। যাঁদের রোজ বাইরে বেরোতে হয় এই বিষয়ে তাঁদের নজর দেওয়া জরুরি। কিন্তু এত কাজের মধ্যে আর আলাদা করে ঘাম নিয়ে ভাবার অবকাশ পাওয়া যায় না। তবে ছোটখাটো কিছু বিষয় মাথায় রাখলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

১) জামা থেকে ঘামের দাগ তোলা সহজ নয়। কালো, নীল রঙের পোশাকে ঘামের দাগ অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যাঁরা খুব বেশি ঘামেন, তাঁরা গরমে এই রঙের পোশাক পরা এড়িয়ে চলুন।

২) গরমে অনেক পুরুষই জামার ভিতরে গেঞ্জি পরেন না। তাতে গরম কম লাগে ঠিকই। তবে সুতির গেঞ্জি পরে নিলে ঘামের দাগ জামায় লাগে না। ঘামে ভিজে পোশাক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কম।

৩) গরমে এমনি টি-শার্টের বদলে স্পোর্টস টি-শার্ট পরতে পারেন। এই সব টি-শার্টে ফ্যাব্রিক ব্যবহার করা হয়। যা খুব সহজেই ঘাম ত্বকের উপরিভাগে নিয়ে আসে।

৪) গরমে পা ঢাকা জুতো না পরাই শ্রেয়। রোদে পুড়ে ট্যান পড়ে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই এমন জুতো পরেন। তবে এতে পা ঘামে বেশি। গরমও বেশি লাগে।




তীব্র গরমে কী খাবেন আর কী খাবেন না

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আগামী তিন দিন তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলে দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলে হিট অ্যালার্ট বা আবহাওয়ার সতর্কবার্তাও জারি করেছে আবহাওয়া অফিস।

এমন পরিস্থিতিতে ডায়রিয়ার মতো অসুখ এড়াতে এবং নিজেদেরকে সুস্থ রাখতে খাবার-দাবারে যেসব সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

গরমে যা খাওয়া উচিত নয়
কিছু খাবার আছে, যেগুলো খেলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গরম অনুভূত হতে পারে। ল্যাবএইড হাসপাতালের পুষ্টিবিদ সামিয়া তাসনিম তেমনই কিছু খাবার সম্বন্ধে জানিয়েছেন।

মশলাজাতীয় খাবার
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ মশলা জাতীয় খাবার খেতে পছন্দ করলেও গরমের সময় ‘ভুনা মাছ বা গোশত’ খাওয়া এড়াতে হবে। কারণ এ ধরণের খাবার হজম করতে বেশি সময় লাগে। শরীরে বিপাক প্রক্রিয়া যদি বেশি সময় ধরে চলে, তখন গরম লাগতে শুরু করে।

ডিম
শরীরে প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর অন্যতম মাধ্যম ডিম। কিন্তু গরমের সময় ডিম খেলে অনেকের সমস্যা হতে পারে। সেক্ষেত্রে যাদের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, কিংবা উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাহলে তারা চাইলে ডিম এড়িয়ে চলতে পারে। ডিমের পরিবর্তে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে তারা তাদের খাদ্যতালিকায় নিয়মিত মাছ কিংবা মুরগির গোশত রাখতে পারেন।

আইসক্রিম ও কোমল পানীয়
অনেকে মনে করেন, আইসক্রিম ও ঠাণ্ডা বোতলজাত কোমল পানীয় খেলে গরম কম লাগবে। কিন্তু এগুলো খেলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেজন্যই আইসক্রিম কিংবা কোমল পানীয় খাওয়ার পরপর তৃষ্ণার্ত বোধ করে মানুষ।

ফাস্টফুড
ফাস্টফুড নিয়ে বছরের পর বছর ধরে বহু আলোচনা-সমালোচনা চললেও মানুষ বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ফ্রায়েড চিকেন, পিৎজা ইত্যাদি হরহামেশা খাচ্ছে। কিন্তু গরমের সময়ে তো বটেও, সাধারণ সময়ে এগুলো খাওয়া উচিৎ নয়। কারণ এসব খাবারে প্রচুর পরিমাণ শর্করা ও চর্বি থাকায় হজম করতে সময় লাগে। ফলে, এগুলো রক্তচাপকে প্রভাবিত করে, প্রদাহ বাড়ায়।

ডুবো তেলে ভাজা খাবার
ডুবো তেলে ভাজা খাবার ও অতিরিক্ত তেলেভাজা খাবার মুখরোচক হলেও তা শরীরের জন্য মোটেও ভালো না। এ ধরনের খাবার গরমে এড়িয়ে চলতে হবে। ভাজা-পোড়া জাতীয় খাবার শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি করে।

চা-কফি
শীতকালে শরীর গরম রাখার জন্য অনেকে চা-কফি পান করেন। তাহলে যে চা-কফি শীতকালে শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে, তা নিশ্চয়ই গরমকালেও একই ভূমিকা পালন করবে। তাই, গরমকালে অতিরিক্ত চা-কফি পান করা উচিৎ নয়। কারণ চা বা কফির ক্যাফেইন দেহকে পানিশূন্য করে ফেলে এবং শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে তোলে।

দুগ্ধজাতীয় খাবার
গরমকালে দুধ জাতীয় খাবার, যেমন মেয়োনেজ বা বিভিন্ন শেক খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ গরমের সময় এ জাতীয় খাবারে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত হয়।

স্টেক
অনেকেই রেস্টুরেন্টে গিয়ে স্টেক খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু স্টেক যদি সম্পূর্ণরূপে রান্না করা না হয়, তাহলে তার মাঝে ব্যাকটেরিয়া থেকে যেতে পারে। তাই, এক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

তেল-চর্বি জাতীয় খাবার
গরুর গোশত, হাঁসের গোশত, খাসির গোশত কার না পছন্দ? কিন্তু গরমের সময় এগুলো এড়িয়ে চলা উচিৎ। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে চর্বি থাকে। একইসাথে সুস্থ থাকার জন্য পোলাও, বিরিয়ানিতেহারি ইত্যাদি তেলযুক্ত খাবারকেও না বলা উচিৎ।

অতিরিক্ত চিনি ও লবণ
চিনি ও লবণ, এ দু’টো জিনিস এমনিতেই শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু গরমের সময় সেই ক্ষতির মাত্রাটা আরো বেশি হয়ে দাঁড়ায়। এ সময় অতিরিক্ত চিনি ও লবণ খেলে শরীরে অস্বস্তি হতে পারে। তাই, গরমে প্যাকেট জাতীয় খাবার বা প্রসেসড ফুড খাওয়া একদমই উচিৎ না।

গরমে যেগুলো খাওয়া যেতে পারে
গরমে ‘যেসব খাবার খাওয়া যাবে’, এমন খাবার সম্বন্ধেও জানিয়েছেন মিজ তাসনিম। তিনি বলেন,

কম মশলা জাতীয় খাবার
মশলা জাতীয় ভারী খাবার খেতে ভালো লাগলেও গরমের সময় কম মশলা জাতীয় খাবারের ওপর জোর দিতে হবে। কারণ এগুলো সহজে হজমযোগ্য।

শাক-সবজি
বাজারে এখন ঝিঙ্গা, চালকুমড়া, লাউ, চিচিঙ্গা, সজনেডাঁটা, শাকের ডাঁটা ইত্যাদি কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোকে যদি পাতলা ঝোল করে রান্না করে খাওয়া হয়, তাহলে এগুলো একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা জোগাবে, অপরদিকে শরীরে গরম অনুভব করাবে না।

পাতলা স্যুপ
স্যুপকে অনেকে মজা করে রোগীর খাবার বলে থাকেন। কিন্তু গরমের সময় একদম ‘ক্লিয়ার ভেজিটেবল’ স্যুপ (পাতলা করে সবজি স্যুপ) খেলে তা শরীরের জন্য উপকারী।

নিরাপদ পানি
গরমে নিরাপদ পানি পানের কোনো বিকল্প নেই। কারণ গরমের সময় ঘাম ও প্রস্রাবের সাথে শরীর থেকে সোডিয়াম, পটাশিয়াম বের হয়ে যায়। একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন লিটার বা ১২ থেকে ১৩ গ্লাস পানি পান করা উচিৎ।

ডাবের পানি
শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করতে এবং ইলেকট্রলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে ডাবের পানি খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের পক্ষেই প্রতিদিন ডাব কিনে খাওয়া প্রায় অসম্ভব একটা ব্যাপার। সেক্ষেত্রে তারা বিকল্প হিসেবে স্যালাইন পানি খেতে পারেন।

লেবু পানি
গরমের সময় লেবুর শরবত পান করলে তা শরীরের ক্লান্তি দূর করবে। সেক্ষেত্রে একদম সাধারণ পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। তবে যাদের হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ নেই, তারা স্বাদের জন্য সামান্য লবণও ব্যবহার করতে পারেন।

ফলমূল
গরমে শরীরের পানির চাহিদা পূরণ করার জন্য ফলমূল খাওয়া উচিৎ। স্ট্রবেরি, শশা, জাম ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। তবে বাংলাদেশের বাজারে এই সময়ে তরমুজে ভরপুর থাকে। তাই, গরমের ফল হিসেবে তরমুজ খাওয়া যেতে পারে। কারণ তরমুজে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পানি থাকে।

কাঁচা আমের শরবত
কাঁচা আমের মাঝে ভিটামিন-সি থাকে। কাঁচা আমের সাথে মরিচ যুক্ত না করে যদি এটিকে শরবত হিসেবে খাওয়া যায়, তাহলে গরম কম অনুভব হতে পারে।

টক দই
পাকস্থলীকে সুস্থ রাখার জন্য প্রতিদিন টকদই খাওয়া যেতে পারে। টক দই খালিও খাওয়া যায়, আবার টকদইকে পানি দিয়ে গুলিয়েও খাওয়া যায়। অথবা, টক দইয়ের সাথে শশাও খাওয়া যেতে পারে।

ডিটক্স ওয়াটার
গরমের সময় ভারী খাওয়ার পর ডিটক্স খাবার খাওয়া যেতে পারে। ডিটক্স ওয়াটার হলো পানি, লেবুর রস, শশা, গাজর, পুদিনা ইত্যাদির রসের সমন্বয়ে তৈরি একধরনের পানীয়।

তবে এক্ষেত্রে মিজ তাসনিম এও বলেন, ‘একজনের জন্য যে খাবারটি খাওয়া ভালো হবে, তা সবার জন্য নাও হতে পারে। যেমন, অনেকের শশা খেলে সমস্যা হয়।’

খাবার সংরক্ষণে সতর্কতা
গরমের সময় চারপাশে এত বেশি তাপমাত্রা থাকে, যে খাবারগুলোতে সহজেই ব্যাকটেরিয়া হতে পারে। তবে খাবার একটা নির্দিষ্ট তাপমাত্রার মাঝে থাকলে ব্যাকটেরিয়া জন্মায় না। তাপমাত্রা লিমিট ক্রস করলেই ব্যাকটেরিয়া হয়।

তাপমাত্রা পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকলে ও ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে গেলে খাবারে ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয় না।

ডায়রিয়া এড়াতে করণীয়
বাংলাদেশে প্রতি বছরই গ্রীষ্মকালে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়। এবছরও তা শুরু হয়ে গেছে।

কিন্তু গরমের সময় ডায়রিয়া এড়াতে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়ার পাশাপাশি ‘একসাথে ভরপেট না খেয়ে কিছুটা বিরতি দিয়ে’ খাবার খাওয়া উচিত।

এছাড়া, মাছি ডায়ারিয়ার সংক্রমণ ছড়াতে খুব বড় ভূমিকা পালন করে। সেজন্যে সবসময় সব খাবার ঢেকে রাখতে হবে। রাস্তার খাবার, যেমন- ফুচকা, চটপটি, লেবুর শরবত খেতেও বারণ।

এছাড়া, ডায়রিয়া প্রতিরোধে অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো হচ্ছে খাবার প্রস্তুত, স্পর্শ করা, পরিবেশন করা ও খাবার খাওয়ার আগে, টয়লেট থেকে বের হয়ে, বাইরে থেকে ফিরে এসে হাত ধুয়ে নেয়া। কারণ হাত দিয়েই মানুষ সবকিছু স্পর্শ করে এবং সবচেয়ে বেশি জীবাণু বহন করে।

ডায়রিয়ার জীবাণু ছড়ানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম হচ্ছে পানি। তাই, যে পানিই আপনি পান করবেন, তা যেন বিশুদ্ধ পানি হয়।

সূত্র : বিবিসি