বুড়াগৌরাঙ্গ নদের ভাঙন থেকে বাঁচতে শতাধিক পরিবারের আকুতি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউয়িনের বুড়াগৌরাঙ্গ নদ ঘেঁষা বেড়িবাঁধ এখন ভাঙনের মুখে। ওই ইউনিয়নের বউবাজার থেকে মিটার বাজার পর্যন্ত নির্মিত এ বাঁধটি ভাঙলে নদীগর্ভে বিলীন হবে অসংখ্য ভিটেবাড়ি ও ফসলি জমি।

ভাঙনকবলিত এলাকাবাসীর উদ্যোগে গত সোমবার দুপুরে বউবাজার এলাকার ভাঙনকবলিত বাঁধের ওপর মানববন্ধন করেছেন নদ তীরবর্তী শতাধিক নারী-পুরুষ। 

জানা গেছে, চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বউবাজার, হিন্দুগ্রাম, খেয়াঘাট ও দক্ষিণ চরমোন্তাজ গ্রামটিকে রক্ষা কবজ হিসেবে ঘিরে রেখেছে এ বাঁধটি। কিন্তু বর্ষা মৌসুম শুরু না হতেই বাঁধ ভাঙনের মুখে পড়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চার গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার।

আরো পড়ুন : অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহে পর্যটকশূন্য কুয়াকাটা

মানববন্ধনে অংশ নেয়া রাসেল খান বলেন, সাগর মোহনাসংলগ্ন বুড়াগৌরাঙ্গ নদের তীরের এ বাঁধ প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বাঁধ চার এলাকায় লবণ পানি থেকে ফসল রক্ষাসহ মানুষের জানমাল রক্ষা করে আসছে। কিন্তু প্রতি বছরই নদের তীব্র স্রোতে বাঁধ ভেঙে পড়ছে। তাই জনস্বার্থে পরিকল্পিতভাবে বাঁধটি নির্মাণ প্রয়োজন।’

ভাঙনকবলিত হিন্দুগ্রামের বাসিন্দা মিলন হাওলাদার বলেন, বার বার বাঁধ মেরামত হলেও তা টেকসই হচ্ছে না। তাই ব্লক ফেলে স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণের দাবি আমাদের।’

একই গ্রামের সুরেন সিকদার বলেন, ‘বুড়াগৌরাঙ্গ নদের ভাঙনে তিনবার তাদের বাড়িঘর সরাতে হয়েছে। পৈতৃক সম্পত্তি বলতে এখন তাদের কিছুই নেই। বর্তমানে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বাস করছেন তিনি। এখন ভাঙন তাদের দিকে ছুটে আসছে। পুরো বাঁধ ভেঙে গেলে তাদের শেষ আশ্রয়ের ঘরও ভেঙে যাবে। এলাকার লবণ পানিতে ফসলি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ১ মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৩ হাজার

এ ব্যাপারে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন জানান, চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বউবাজার এলাকায় ৫৫/৪ পোল্ডারের এ বাঁধটি দৈর্ঘ্য সাড়ে ৩২ কিলোমিটার। এর মধ্যে নদীর স্রোতে প্রায় তিন কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থান মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।




পটুয়াখালীতে ১ মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৩ হাজার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৈশাখের খরতাপে মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। মারাত্মক তাপ প্রবাহের ফলে গরমে জ্বর, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, পক্স, অ্যালার্জির মতো বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে, বিভিন্ন জেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। ফলে দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা পটুয়াখালীতে এবার ডায়রিয়া মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। জেলা-উপজেলাসহ হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের তথ্য বলছে, গত জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় ৫ হাজার ৬৯৫ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। আগের দিন সকাল ৮টা থেকে গতকাল একই সময় পর্যন্ত ১১৬ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন বিভিন্ন হাসপাতালে। এ নিয়ে এক সপ্তাহে ৭৫৮ জন এবং গত এক মাসে ২ হাজার ৮৫১ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২৬১ জন।

আরো পড়ুন : তীব্র দাবদাহে কুয়াকাটায় হোটেল বুকিং বাতিলের হিড়িক

গত এক সপ্তাহে আক্রান্তের এ হিসাবে স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এরই মধ্যে বরিশাল বিভাগের মধ্যে পটুয়াখালী ডায়রিয়ার হটস্পটে পরিণত হয়েছে। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকেও। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও কেন এত বেশি মানুষ ডায়রিয়া আক্রান্ত হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) একটি প্রতিনিধি দল পটুয়াখালী আসছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল এসব তথ্য নিশ্চিত করলেও পটুয়াখালীকে বিভাগে ডায়রিয়ার ‘হটস্পট’ মানতে নারাজ।
গতকাল তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর এ মৌসুমে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ে। বিগত বছরের চেয়ে এবার তাপমাত্রা অস্বাভাবিক। যে কারণে পুরো বিভাগেই ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। তার মধ্যে পটুয়াখালীতে সবচেয়ে বেশি।’ এ পর্যন্ত ডায়রিয়ায় বরিশাল বিভাগে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে আব্দুস সত্তার ফরাজি (৯০) নামে এক বৃদ্ধ গত রোববার মারা যান। চর বালিয়াতলী গ্রাম থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। যদিও জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম কবির হাসানের দাবি, সত্তার ফরাজি বয়সজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। শুধু ডায়রিয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বিষয়টা এমন নয়।

আরো পড়ুন : গলাচিপা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র দাখিল

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা ২১টি। গতকাল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বর্তমানে রোগী রয়েছেন ৪৮ জন। শয্যার অতিরিক্ত রোগীদের ঠাঁই হয়েছে মেঝেতে।




গরমে গোসলের পানিতে নিমপাতা মেশাবেন যে কারণে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  তাপমাত্রা অসহনীয় হয়ে উঠছে। গরমে সবার প্রাণই হাসফাঁস করছে যেন। কী করলে একটু স্বস্তি মিলবে তার নানা উপায় খুঁজে বেড়াচ্ছেন প্রায় সবাই। বারবার গোসল করা, ঘর ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা করা, সহজে পরিপাক হয় এমন খাবার খাওয়া, ঢিলেঢালা ও আরামদায়ক পোশাক পরা, প্রচুর পানি পান করাসহ নানা উপায় তারা মেনে চলছেন। এই গরমে আপনার গোসলের পানিতে নিমপাতা মিশিয়ে নিলেও পাবেন উপকার। কীভাবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক-



পটুয়াখালীতে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব, অনুসন্ধানে আইইডিসিআর টিম

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী দিন দিন তীব্র হচ্ছে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব। প্রতিবছর এমন ডায়রিয়ার প্রকোপে স্বাস্থ্য বিভাগসহ উদ্বিগ্ন সরকার।

ডায়রিয়ার এ প্রাদুর্ভাব অনুসন্ধানে পটুয়াখালীতে এসে পৌঁছেছেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাত সদস্যদের প্রতিনিধি দল।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার দিলরুবা ইয়াসমিন লিজার নেতৃত্ব প্রতিনিধি দল তাদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেন।

আরো পড়ুন : জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমে চাল বিতরণে অনিয়ম

সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন– আইইডিসিআরের মেডিকেল অফিসার ও প্রতিনিধি দলের দলনেতা ডা. মো. মাইনুল হাসান, আইইডিসিআরের সহকারী অধ্যাপক (এপিডেমিওলজিস্ট) ডা. মো. মুঈদুর রহমান, মেডিকেল এপিডেমিওলজিস্ট ডা. সাদিয়া সুলতানা, ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুমাইয়া আক্তার সুমাসহ মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা।

প্রতিনিধি দলের দলনেতা ডা. মো. মাইনুল হাসান জানান, আমরা আগামী তিনদিন পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক তথ্য, খাবার পানি ও দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত পানির উৎস, আক্রান্তের সময় ও ধরণ ইত্যাদি বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য ও স্যাম্পল সংগ্রহ করবো। পরে পরীক্ষা নিরীক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত কারণ ও ফলাফল সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে দাখিল করবেন বলেও জানান তিনি।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে হিট স্ট্রোকে পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

পটুয়াখালী মেডিকেলের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বলেন, বর্তমান সময়ে বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী পটুয়াখালীতে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশন করতে আইইডিসিআর থেকে টিম এসেছেন। আমরা প্রতিনিধি দলকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছি।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়ে জেলায় বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১১০ জন রোগী। গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৭৯ জন, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৭০ জন। চলতি বছরের শুরু থেকে ভর্তি হয়েছেন ৫৭৯৪ জন এবং এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫৩৪৫ জন। এর মধ্যে অর্ধেক আক্রান্ত হয়েছে গত এক মাসে। জেলায় এখনও প্রায় তিন হাজার ব্যাগ আইভি স্যালাইন মজুদ আছে।




সাবধানতা অবলম্বন করেই হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করা সম্ভব

বরিশাল অফিস :: হিটস্ট্রোক ঝুঁকি সম্পর্কে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের আয়োজনে বিশেষ সায়েন্টিফিক সেমিনারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলেছেন-‘অতিরিক্ত গরম এবং পানিশূন্যতা এড়ানোর জন্য সাবধানতা অবলম্বন করে হিটস্ট্রোক ঝুঁকি হ্রাস করা সম্ভব।

মঙ্গলবার সকাল দশটায় মেডিক্যাল কলেজের কনফারেন্স রুম অনুষ্ঠিত সায়েন্টিফিক সেমিনারে বক্তারা আরও বলেন, হিটস্ট্রোকে সবচেয়ে বেশি শিশু, বয়স্ক, যারা ডায়বেটিস, কিডনিসহ বিভিন্ন ক্রনিক রোগে ভুগছেন তাদের জন্য ঝুঁকি বেশি। তাই তাদেরকেই সবচেয়ে বেশি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডাঃ জিএম নাজিমুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্তরা আরো বলেন, বর্তমানে দেশজুড়ে মৃদু থেকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে। এতে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই হিটস্ট্রোক ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য সকলকে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। খুব প্রয়োজন না হলে রোদে যাওয়া যাবে না।

হিটস্ট্রোক প্রতিরোধের জন্য ঢিলেঢালা, হালকা, হালকা রঙের পোশাক পরতে হবে, ঠান্ডা তরল খাবার খেতে হবে। ডিহাইড্রেশন হওয়া প্রতিরোধ করতে হবে। অ্যালকোহল এরিয়ে চলতে হবে,ডিহাইড্রেশন যাতে না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে, লবণ মিশ্রিত পানি খেলে ভালো হয়, বিশেষ করে স্যালাইন খেতে হবে। এছাড়া যেসব শ্রমিকরা কাজ করেন তাদের কিছু সময় পরপর ছায়ার মধ্যে আসতে হবে।

সেমিনারে বিশেষ আলোচকের বক্তব্যে মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ কাজল কান্তি দাস বলেন, হিট স্ট্রোকের মূল ঝুঁকি মূলত যারা দীর্ঘসময় রোদে থাকেন তাদের। দীর্ঘসময় গরমে থাকার কারণে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে প্রবল। এ অবস্থায় শরীরের তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে গেলে হিটস্ট্রোক হয়।

অতিরিক্ত গরমে পেশী বাঁধা, ভারী ঘাম, চরম দুর্বলতা, বিশৃঙ্খলা, মাথা ব্যাথা, বমি, রেসিং হার্টবিট, গাঢ় রঙের প্রসাব ও চামড়া ফ্যাকাশে হলেই দ্রুত নিকটতম স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বা চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আজিজুল হক, শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাঃ উত্তম কুমার সাহা, মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ এজেটএম ইমরুল কায়েস, ডাঃ স্বপন কুমার সরকার, ডাঃ অমিতাব সরকার, ডাঃ এফআর খান, ডাঃ সৌরভ সুতার প্রমুখ।




পটুয়াখালীতে হিট স্ট্রোকে পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে হিট স্ট্রোকে মোহাম্মদ শাহ-আলম (৫০) নামের একজন পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। তিনি পুলিশের ঢাকা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) কর্মরত ছিলেন।

জানা গেছে, গত শনিবার (২০ এপ্রিল) তিনি ছুটিতে গ্রামের বাড়ি বাউফলে আসেন। সোমবার (২২ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ অবস্থায় তাকে বাউফল হাসপাতালে নেয়া হলে সেখান থেকে তাকে বরিশালে পাঠানো হয়৷ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আরো পড়ুন : দুমকী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন – প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সম্ভব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা

নিহতের মেয়ে শিমু আক্তার জানান, তিনি হিটস্ট্রোকে মারা গেছেন বলে তাদের জানিয়েছেন ডাক্তার।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সাহা জানান, তিনি শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশালে পাঠানো হয় বলেও জানান তিনি।




মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর লাঠির আঘাতে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীর লাঠির আঘাতে আয়শা মনি (০৪) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ভিকিখালি গ্রামে এই নির্মম ঘটনা ঘটে।

সোমবার ভোর রাত ২ টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এর আগে রবিবার বিকেল ৫ টার দিকে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

আরো পড়ুন : দুটি ইজিবাইকসহ চোর চক্রের ৩ সদস্য আটক

স্থানীয় ও স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, একই বাড়ির সম্পর্কে দাদি হনুফা বেগম(৫২) ১০-১২ বৎসর যাবত মানসিক ভারসাম্যহীন সমস্যায় ভুগতে ছিলেন। প্রচন্ড গরম লাগার কারণে নিহত আয়েশার মা ঘটনার সময় আয়েশা মনিকে বসতঘরের সামনে শুয়াইয়া রাখে। এ সময় অভিযুক্ত মানসিক ভারসাম্যহীন হনুফা ষলাকনি জাতীয় কাঠের টুকরা দিয়ে হনুফার মাথায় বাড়ি দিলে গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

অভিযুক্ত হনুফা বেগম একই গ্রামের মুজিবুর রহমানের স্ত্রী।

মির্জাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনা ঘটার পরপর ঘটনা স্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এখন পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ করেনি অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।




তীব্র দাবদাহের ত্বকের সুরক্ষা দিবে পাচঁ প্রসাধনী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  শুধু জল নয়, শরীরের পাশাপাশি ত্বকের খেয়াল রাখতে রাখতে হবে প্রয়োজনীয় কিছু প্রসাধনী। তা হলে খানিকটা হলেও তাপপ্রবাহের সঙ্গে ল়ড়াই করা সম্ভব হবে।

এপ্রিলের কলকাতায় তাপমাত্রার পারদ ছাড়িয়েছে ৪০ ডিগ্রি। বাইরে বেরোলেই ঝলসে যাচ্ছে চোখমুখ। সেই সঙ্গে ঘামে ভিজে চুপচুপে হয়ে যাচ্ছে শরীর। এই তীব্র দহনেও বাড়ি থেকে বেরোতে হচ্ছে অনেককেই। নিয়মিত অফিস যেতে হচ্ছে। চিকিৎসকেরা ব্যাগে একটা জলের বোতল রাখার কথা বলছেন। তবে শুধু জল নয়, শরীরের পাশাপাশি ত্বকের খেয়াল রাখতে রাখতে হবে প্রয়োজনীয় কিছু প্রসাধনী। তা হলে খানিকটা হলেও তাপপ্রবাহের সঙ্গে ল়ড়াই করা সম্ভব হবে।

ফুট স্প্রে

রোদচশমা পরে, মাথা সহ মুখে ওড়না জড়িয়ে, ছাতার তলায় আশ্রয় নিয়ে ত্বকের খেয়াল তো রাখছেন। এ দিকে গরমে পায়েরও যে ক্ষতি হচ্ছে, সে কথা মাথায় থাকে না। ঘাম জমে পায়ের পাতায় সংক্রমণ হতে পারে। তেমনই পায়ের পাতার ত্বকও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তা ছাড়া পা ঘেমে দুর্গন্ধ তো আছেই। সেক্ষেত্রে ফুট স্প্রে ব্যবহার করুন। উপকার পাবেন।

ফেস মিস্ট

গরমে ঘেমে মুখ তেলেতেলে হয়ে যায়। ফলে চটচট ভাব দূর করতে সব সময় মুখ ধুতে ইচ্ছা করে। আবার অত্যধিক রোদে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গিয়ে জ্বালা করে। ত্বকের আর্দ্রতা কমে যা। তাই ব্যাগে রেখে দিন ফেস মিস্ট। প্রয়োজনে মুখে স্প্রে করে নিন। ত্বক তরতাজা দেখাবে।

অ্যালো ভেরা জেল

গরমে ব্যাগে অ্যালো ভেরা জেল না রাখলেই নয়। ত্বক একটু শুষ্ক হয়ে গিয়েছে মনে হলেই মেখে নিন। তা ছাড়া রোদে পোড়া, র‌্যাশ, ব্রণ— গরমের যেকোনও সমস্যায় ত্বকের জ্বালা ভাব কমিয়ে ঠান্ডা রাখতে পারে অ্যালো ভেরা জেল। তাই ব্যাগে অবশ্যই এটা রাখুন।

সানস্ক্রিন

গরমের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রসাধনী। বাইরে বেরোনোর আগে ত্বকে সানস্ক্রিন লাগাবেন তো বটেই। তবে সঙ্গেও রাখতে ভুলবেন না। রোদের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে ত্বক সুরক্ষিত রাখতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।

সুগন্ধি

বাইরে বেরোলেই ঘামে ভিজে যাচ্ছে শরীর। ঘাম জমে দুর্গন্ধও হচ্ছে। ঘাম এবং দুর্গন্ধের অস্বস্তি কাটাতে সুগন্ধি ব্যবহার করতে ভুলবেন না। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় তো মেখে আসবেন বটেই। তবে সঙ্গেও রাখতে হবে।




ওজন কমাতে লেবুর সাথে পান করুন তিন উপাদান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  লেবুতে থাকা ফাইবারের কারণে পেটভার হয়ে থাকে। তখন অন্য কিছু খাওয়ার ইচ্ছে কমে যায়, তা ছাড়া এই পানীয় বিপাকহার বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। তাই সব মিলিয়ে ওজন ঝরাতে এই পানীয় বেশ কার্যকর। শুধু লেবু জল না খেয়ে আর কী কী ভাবে পানীয়ের গুণ বৃদ্ধি করতে পারেন, রইল হদিস।

এক গ্লাস জল আর গোটা একটা পাতিলেবু। ফিটনেস নিয়ে যাঁরা সচেতন, তাঁদের অধিকাংশের ডায়েটের প্রথম সারির পানীয় এটি। শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে এই পানীয় অনেকের ক্ষেত্রেই বেশ কার্যকর। অনেক ফিটনেসবিদও খাদ্যতালিকায় এই পানীয় রাখার পরামর্শ দেন।

লেবুতে ভরপুর মাত্রায় ফাইবার ও অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট থাকে। লেবু জল নিয়ম করে খেলে এতে থাকা ফাইবারের কারণে পেটভার হয়ে থাকে। তখন অন্য কিছু খাওয়ার ইচ্ছে কমে যায়, তা ছাড়া এই পানীয় বিপাকহার বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। তাই সব মিলিয়ে ওজন ঝরাতে এই পানীয় বেশ কার্যকর। শুধু লেবু জল না খেয়ে আর কী কী ভাবে পানীয়ের গুণ বৃদ্ধি করতে পারেন, রইল হদিস।

১) শসা দিয়ে লেবু জল: লেবু জলে শসা মিশিয়ে দিলে তার কার্যকারিতা আরও বেড়ে যায়। শসায় ভরপুর মাত্রায় জল থাকে আর এতে ক্যালোরিও থাকে না। তাই গরমের দিনে শরীরে জলের ঘাটতি পূরণ করতে এ পানীয় খেতেই পারেন।

২) পুদিনা পাতা দিয়ে লেবু জল: সাধারণ লেবু জলে কয়েকটি পুদিনা পাতা মিশিয়ে দিলে তার স্বাদ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তবে কেবল স্বাদ বৃদ্ধি করতেই নয়, পুদিনা পাতা কিন্তু হজমেও সাহায্য করে। এ ছাড়া বিপাকহার বৃদ্ধি করতেও পুদিনা বেশ উপকারী। সব মিলিয়ে লেবু জলে পুদিনা মিশিয়ে দিলে ওজন ঝরানোর কাজ তরান্বিত হয়।

৩) আদা দিয়ে লেবুর রস: লেবুর রসে এক চা চামচ আদা কুচি মিশিয়ে দিতে পারেন। আদা কিন্তু হজমের জন্য বেশ উপকারী। তা ছাড়া লেবু জলে মিশিয়ে দিলে তার স্বাদও বেড়ে যায় কয়েক গুণ। তাই রোগা হওয়ার ডায়েটে এই পানীয় রাখতেই পারেন।

তবে কেবল ওজন কমাতেই নয়, রোজ লেবু জল খাওয়ার অভ্যাস কিন্তু প্রত্যেকের জন্যই ভাল। বিশেষ করে, এই গরমে লেবু জল খাওয়া জরুরিও বটে। চিকিৎসকদের মতে, শুধু সকালেই নয়, লেবু জল খেতে পারেন দিনের যে কোনও সময়। তবে লেবুর অ্যাসিডিক মাত্রা বেশি বলে অনেক চিকিৎসকই তা বেশি খেতে নিষেধ করেন। গরম জলে লেবু মিশিয়ে খেলে অ্যাসিডিটি আক্রমণ করতে পারে না। লেবুর মধ্যে থাকা ভিটামিন সি ও তার অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট আপনাকে বাঁচাতে পারে অনেক অসুখ থেকেও। লেবু শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে। লেবুতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। এটি চুলের পুষ্টি জোগাতেও সাহায্য করে।

চেহারায় বয়সজনিত ছাপ রুখে দিতে পারে লেবুর রস। লেবু প্রাকৃতিক স্ক্রাবার। তাই রস বার করে নেওয়ার পর লেবুর খোসাও ঘষতে পারেন ত্বকে। এতে ত্বক পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি মৃত কোষ নষ্ট হয়ে গিয়ে ত্বক আরও ঝকঝকে হয়ে ওঠে। প্রতি দিন লেবুর রস কিন্তু আপনার বদহজম কমিয়ে দিতে সক্ষম। তাই মুখের দুর্গন্ধ রোধেও লেবু জল উপকারী। লেবু জলে কুলকুচি করলে স্বাদকোরক সতেজ ও সুস্থ থাকে। লেবু শরীরের টক্সিক পদার্থ বার করে দেয়। তাই যে কোনও অসুখে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে। এর বাইরে, অনেক রোগজীবাণুকে ধ্বংসও করতে পারে লেবু জল।




সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বরিশালে মহাসড়কে অভিযান

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল :: অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণসহ যাত্রী ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে মহাসড়কে অভিযান পরিচালনা করেছে বরিশাল জেলা প্রশাসন। এ সময় রুট পারমিট বিহীন ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রভৃতি অপরাধে ১৭ মামলায় ১৩ হাজার আটশ’ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়কের জেলার গৌরনদী, উজিরপুর, বাবুগঞ্জ, বরিশাল সদর ও বাকেরগঞ্জ উপজেলায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

সূত্রমতে, অভিযানের সময় স্পিডমিটার দিয়ে গাড়ির গতিসীমা পরীক্ষা করার পাশাপাশি দূরপাল্লার গাড়িগুলোকে মহাসড়কে গতিসীমা মেনে চলতে সতর্ক করা হয়। একই সময় রুট পারমিট বিহীন গাড়ি, ফিটনেস বিহীন গাড়ি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রভৃতি অপরাধে ১৭টি মামলায় ১৩ হাজার আটশ’ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

মহাসড়কের গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডে অভিযান পরিচালনা করে চারটি পরিবহন থেকে মোট পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবু আবদুল্লাহ খান বলেন, যাত্রী ও সড়ক নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, অতিসম্প্রতি ঝালকাঠির গাবখান ব্রিজের টোল প্লাজায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত, বাকেরগঞ্জে মামা-ভাগ্নে নিহত ও উজিরপুরে হানিফ পরিবহনের ধাক্কায় সিএনজি যাত্রী গোলাম কিবরিয়া রানা নিহত হয়েছেন।