কলাপাড়ায় বালুর জাহাজ থেকে ছিটকে পড়ে শ্রমিক নিখোঁজ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বালুর জাহাজ থেকে ছিটকে পানিতে পড়ে মো. শাকিল (২৩) নামের এক শ্রমিক নিখোঁজ হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ মেলেনি।

শনিবার (২৭ এপ্রিল) মধ্যরাতে কলাপাড়া পৌরশহরের নাচনাপাড়া এলাকার গরুর বাজার সংলগ্ন আন্দারমানিক নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ শাকিল পার্শ্ববর্তী উপজেলা গলাচিপার গজালিয়া এলাকার জাকির গাজীর ছেলে।

দুর্ঘটনার সময় কলাপাড়া পৌরসভার কেরামত আলী খান মালিকানাধীন এমভি তিশা-তাপসী জাহাজে চারজন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন।

আরো পড়ুন : এক ফসলি জমি চার ফসলিতে রূপান্তর

ফায়ার সার্ভিস খেপুপাড়া স্টেশন অফিসার মো. ইলিয়াস হোসাইন বলেন, পায়রা বন্দর থেকে বালু নিয়ে কলাপাড়ায় পৌঁছে জাহাজটি নোঙ্গর করার আগ মুহূর্তে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই শ্রমিক ছিটকে পানিতে পড়লে বাকি তিনজন শ্রমিক তাকে খোঁজার চেষ্টা করে, না পেয়ে আমাদের খবর দেয়।

তিনি আরো বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি। আমাদের একটি টিম অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও তার কোনো হদিস পায়নি। রাত হওয়ায় উদ্ধার অভিযানে কিছুটা বিঘ্নতা ঘটেছে। তবে সকালে পটুয়াখালী থেকে ডুবুরি আসছে, তাদের সহযোগিতা নিয়ে আবার উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে।




তীব্র দাবদাহে শরীরে দেখা দিতে পারে পানিশূন্যতা

বরিশাল অফিস :: চলমান তীব্র দাবদাহে জনজীবন যখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই বেশ কিছু এলাকায় আগাম রোপিত বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিদিন অসহনীয় গরমের মধ্যে কাজ করা দিনমজুররা ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে যাচ্ছেন। ঘামের সাথে শরীরের প্রয়োজনীয় পানি বের হওয়ার পর সেই ঘাটতি পূরণ না হওয়ায় অনেকের শরীরে দেখা দিয়েছে পানিশূন্যতা। প্রচন্ড দাবদাহের কারণে ডায়রিয়া, বমি ও জ¦রে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এসব রোগীদের শরীরেও দেখা দিয়েছে পানির ঘাটতি। অনেক সময় অতিরিক্ত শরীরচর্চার কারণেও পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ মোঃ মাহাবুব আলম মির্জার মতে, শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিলে পানির পাশাপাশি খনিজ পদার্থেরও ঘাটতি হয়। তাই এ সময় ডাব ও স্যালাইন পান করতে পারেন। আবার পটাশিয়ামের অভাব পূরণের জন্য নিয়মিত পাকা কলাও খেতে পারেন। তবে এড়িয়ে চলতে হবে কফি খাওয়া। অতিরিক্ত কফি শরীরে পানিশূন্যতার সৃষ্টি করে। তাই গরমে কফি ও তেলে ভাজা খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। তবে বেশ কিছু ফল রয়েছে, যা আপনার শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম।

লেবু ॥ গরমে প্রশান্তি পেতে কমবেশি সবাই লেবুর শরবত পান করেন। ভিটামিন সি যুক্ত এই ফলের রস আপনাকে সতেজ অনুভূতি দেবে সারাদিন। তবে লেবুর শরবতে খুব বেশি চিনি মেশাবেন না। লেবুতে থাকা পটাশিয়াম শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ঘামের কারণে শরীরে খনিজের যে ঘাটতি তৈরি হয়, তার অনেকটাই পূরণ করে লেবু। লেবুর প্রায় ৮৮ শতাংশই পানি।

তরমুজ ॥ গ্রীস্মকালীন ফল তরমুজ। বাজারে বেশ সহজলভ্য ফলটি। গরমে একটু স্বস্তি পেতে খেতে পারেন এই ফল। এটি শরীরে জলের অভাব পূরণ করে। তরমুজে শতকরা ৯০ ভাগের বেশি পানি থাকে। ফলে পানিশূন্যতারোধে এটি হতে পারে একটি উপকারী খাবার। সাথে রয়েছে-ফাইবার, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট লাইকোপিন ও ম্যাগনেসিয়াম। যা তীব্র গরমেও আপনাকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। তরমুজ ফ্রিজে রেখেও খেতে পারেন। তবে তরমুজ খাওয়ার পরপরই পানি পান করবেন না।

টমেটো ॥ টমেটো এখন প্রায় সারাবছরই পাওয়া যায়। টমেটো রান্না কিংবা কাঁচা, যেভাবেই খাবেন তা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি। তবে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায় কাঁচা টমেটো খেলে। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি ২, ভিটামিন সি, ক্রোমিয়াম, ফোলেট, ফাইবার, পটাশিয়াম ও ফাইটোকেমিক্যালের উপকারী পুষ্টি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত টমেটো খেলে ক্যান্সার, হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

শসা ॥ গরমের আরেকটি সেরা ফল হল শসা। এটি পানিশূন্যতারোধ করতে সাহায্য করে। শসায় রয়েছে ভিটামিন কে, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম। শসার প্রায় ৯৫ শতাংশই পানি। এই ফলের সবচেয়ে উপকারী গুণ হলো, এতে ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম। নিয়মিত শসা খেলে দূর হয় শরীরে জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ। এটি ত্বককে ভেতর থেকে পরিসকার রাখে। শসা খেলে গরমে শরীর ঠান্ডা থাকে।

ডাব ॥ শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করতে এবং ইলেক্ট্রলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে ডাবের পানি খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের পক্ষেই প্রতিদিন ডাব ক্রয় করে খাওয়া প্রায় অসম্ভব একটা ব্যাপার। সেক্ষেত্রে তারা বিকল্প হিসেবে স্যালাইন পানি পান করতে পারেন।

ডাঃ শাহনাজ রুবি’র মতে, গরমের সময় ভারি খাওয়ার পর ডিটক্স পানি পানি করা যেতে পারে। ডিটক্স ওয়াটার হলো-পানি, লেবুর রস, শশা, গাজর, পুদিনা ইত্যাদির রসের সমন্বয়ে তৈরি একধরনের পানিয়। এ ছাড়া মশলা জাতীয় ভারি খাবার খেতে ভালো লাগলেও গরমের সময় কম মশলা জাতীয় খাবারের ওপর জোর দিতে হবে। কারণ এগুলো সহজে হজমযোগ্য। বাজারে এখন ঝিঙ্গা, চালকুমড়া, লাউ, চিচিঙ্গা, সজনেডাঁটা, শাকের ডাঁটা ইত্যাদি কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোকে যদি পাতলা ঝোল করে রান্না করে খাওয়া হয়, তাহলে একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা জোগাবে, অপরদিকে শরীরে গরম অনুভব কম হবে।

গরমে নিরাপদ পানি পানের কোন বিকল্প নেই জানিয়ে ডাঃ মণীষ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, গরমের সময় ঘাম ও প্রসাবের সাথে শরীর থেকে সোডিয়াম ও পটাশিয়াম বের হয়ে যায়। একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন কমপক্ষে তিন থেকে সাড়ে তিন লিটার বা ১২ থেকে ১৩ গ্লাস পানি পান করা উচিৎ। পাশাপাশি এখন দেশের সর্বত্রই কাঁচা আম পাওয়া যাচ্ছে। কাঁচা আমের মাঝে ভিটামিন-সি থাকে। কাঁচা আমের সাথে মরিচ যুক্ত না করে যদি এটিকে শরবত হিসেবে খাওয়া যায় তাহলে গরম কম অনুভব হবে। এ ছাড়া প্রচন্ড গরমে পাকস্থলীকে সুস্থ রাখার জন্য প্রতিদিন টকদই খাওয়া যেতে পারে।

প্রতিদিন বাড়ছে তাপমাত্রা। বাড়ছে গরম। এ সময় পিপাসায় গলা শুকিয়ে যায়। পানির চাহিদা বেশি থাকে। তাই নরমাল পানির চেয়ে ফ্রিজের পানির প্রতি চাহিদা বেশি থাকে। পাওয়া মাত্রই খাওয়া শুরু করে দেন অনেকেই কিন্তু এটা শরীরের জন্য ক্ষতিকর জানিয়ে ডাঃ কাজী শিউলী বলেন, রোদ থেকে ঘুরে এসে ঢক ঢক করে ঠান্ডা পানি খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য একেবারেই ভালো নয়। এতে সাময়িক আরাম পাওয়া গেলেও শরীরের উপর এর বিরূপ প্রভাব পরে। হঠাৎ করে শরীরে ঠান্ডা পানি প্রবেশ করার ফলে রক্তনালীগুলো সঙ্কুচিত হয়ে পরে। বিশেষ করে ঠান্ডা লেগে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে।




কুয়াকাটায় সমুদ্রের তলদেশে কাটা পড়েছে ফাইবার ক্যাবল – দেশব্যাপী ইন্টারনেটের ধীরগতি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: কুয়াকাটায় সমুদ্রের তলদেশে কাটা পড়েছে ফাইবার ক্যাবল, বন্ধ দেশের দ্বিতীয় কুয়াকাটা সাবমেরিন ক্যাবল, দেশব্যাপী ইন্টারনেটের ধীরগতি।

সিঙ্গাপুর থেকে ইন্দোনেশিয়া অভিমুখের জলসীমায় সমুদ্রের তলদেশে কাটা পড়েছে ফাইবার ক্যাবল। তাই পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটায় স্থাপিত দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে গত এক সপ্তাহ ধরে দেশব্যাপী ইন্টারনেটের ধীরগতি পাচ্ছে গ্রাহকরা। এ বিচ্ছিন্ন সংযোগ ঠিক করতে এক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে বিএসসিপিএলসি।

আরো পড়ুন : গলাচিপার সু-স্বাদু মুগডাল যাচ্ছে জাপানে

কুয়াকাটা সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের উপ-মহা ব্যবস্থাপক তরিকুল ইসলাম বলেন, কুয়াকাটা সাবমেরিন ক্যাবলের বিচ্ছিন্ন সংযোগ ঠিক করতে কাজ করছে বিএসসিপিএলসি। তবে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কক্সবাজার সাবমেরিন ক্যাবল সিমিউই-৪ এর ব্যান্ডউইথের পরিমাণ বাড়িয়ে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা চলছে।




দুমকীতে ২৪টি কেউটে সাপের বাচ্চা হত্যা ও মা সাপ উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলায় একটি বসত ঘর থেকে ২৪টি বাচ্চাসহ একটি বিষধর কেউটে সাপ ধরা পড়েছে।বাচ্চাগুলোকে হত্যা করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে দুমকী গ্রামের গাজী আব্দুল হামিদ এর মেয়ে নাসিমা বেগমের বসত ঘর থেকে এই বাচ্চা ও মা সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।

নাসিমা’র ভাই আবু বকর গাজী জানান, সকাল ৮ টার দিকে তার ছেলে ও ভাগ্নী বোনের বাসার সামনের বারান্দায় খেলা করতে গিয়ে কেউটে সাপের বাচ্চা চলাচল করতে দেখে। এ কথা তাকে জানালে বাসার খাটের নিচে ও শোকেসের আড়াল খোঁজ করে কেউটে সাপের বাচ্চা গুলো বের করে আনা হয়। তাৎক্ষণিক স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাচ্চাগুলো মেরে ফেলা হয়। পরে জেলা শহর থেকে সাপুড়েরা এসে চেষ্টা চালিয়ে বিকেলে মা সাপকে জীবিত অবস্থায় ধরতে সক্ষম হয়। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় সাপ আতংক বিরাজ করছে।

আরো পড়ুন : আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিশ্ববাজারে পটুয়াখালীর মৃৎ শিল্প

এ সময় সকলকে সচেতন হতে বলে তিনি আরও বলেন, বাসার চিপাচাপা সহ বিভিন্ন কোনাকানায় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বিশেষ করে বাসার মা-বোন ও বাচ্চাদের সতর্ক হতে হবে। প্রতি বছর এ সময় বিষাক্ত সাপের ছোবলে অনেকেই নিহত হন।




বরিশালে চাপকলে উঠছে না পানি বিপাকে মানুষ

নগরের পর এবার বরিশালের আশপাশের গ্রামেও একে একে অকেজো হচ্ছে টিউবওয়েল। দীর্ঘসময় চাপার পরও এসব কলে উঠছে না পানি। শনিবার বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর সঙ্গে চাপকলে পানি না ওঠার নতুন এ বিপদ যোগ হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ।

উত্তাপের বিপদ সংকেতের মধ্যেই মাইলের পর মাইল দূরে গিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংকটাপন্ন এলাকাগুলোয় ১৩০টি মেশিনে চলা পানির পাম্প বসানোর কাজ করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। তবে তাতে সংকটের ছিটেফোঁটাও মিটবে না বলছে ওইসব এলাকার জনগণ।

বরিশাল নগর থেকে ৬-৭ কিলোমিটার দূরে রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন। সেখানকার বাসিন্দা নূর ইসলাম (৫২) বলেন, গত ক’দিন এখানে কোনো টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চাপার পরও একই অবস্থা।

একই কথা বলেন নগরসংলগ্ন কাশিপুর ইউনিয়নের তিলক কলাডেমা এলাকার বাসিন্দা রায়হান মল্লিক। তিনি বলেন, গরমের তীব্রতা বাড়ার আগে ২-১টা টিউবওয়েলে যাও পানি উঠত এখন আর তাও মিলছে না। আশপাশের যেসব বাড়িতে টিউবওয়েলের সঙ্গে পানি ওঠানোর পাম্প (সাবমারসিবল) লাগানো আছে তারাই কেবল পানি পাচ্ছে। আমরা যারা সাধারণ টিউবওয়েল ব্যবহার করি তাদের টিউবওয়েল অনেকক্ষণ চাপার পরও পানি ওঠে না।

জাগুয়া ইউনিয়নের হুমায়ুন কবির বলেন, পানি না ওঠার কারণ জানতে গিয়েছিলাম উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের কাছে। তিনি বলেছেন, পানির স্তর নেমে যাওয়ার কারণে নাকি এ অবস্থা হয়েছে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর উপরিভাগ থেকে ৮-১০ ফুট নিচে থাকলে চাপকল চেপে পানি ওঠানো সম্ভব। কিন্তু বরিশাল নগরসংলগ্ন ৫টি ইউনিয়নের পানির স্তর এতটাই নিচে নেমে গেছে যে টিউবওয়েল চেপে সেই পানি ওঠানো যাচ্ছে না।

এটা ঠিক এখনও মাটির ৯১০ থেকে ৯২০ ফুট নিচেই মিলছে সুপেয় পানি। কিন্তু স্তর চাপের অবস্থান ৮-১০ ফুট থেকে নেমে চলে গেছে ২৩-২৪ ফুট নিচে। যে কারণে একই সঙ্গে বিকল হয়ে পড়েছে শত শত টিউবওয়েল। এ সমস্যা দেখা দিয়েছে নগরসংলগ্ন ৫ ইউনিয়নে। আবার এসব ইউনিয়নের যে জায়গাগুলো নগর থেকে খানিকটা দূরে সেখানে খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না।

এক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে চরবাড়িয়া, চরকাউয়া, রায়পাশা-কড়াপুর, কাশিপুর এবং জাগুয়া ইউনিয়নে। সিটি করপোরেশন গঠিত হওয়ার সময় এসব ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকা নগরের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্ধিত এলাকা নামে পরিচিত সেসব এলাকাতেই বেশি সমস্যা হচ্ছে। বরিশাল নগর এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের নিম্নগামিতা কিন্তু আরও ভয়াবহ। মূলত তার প্রভাবই পড়ছে নগরসংলগ্ন এসব ইউনিয়নের ভূগর্ভস্থ স্তরে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান বলেন, বরিশাল নগরে টিউবওয়েলে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে গেছে অন্তত ৮-১০ বছর আগে। অগণিত বহুতল ভবন নির্মাণ ও এসব ভবনের বাসিন্দাদের পানির চাহিদা মেটাতে অপরিকল্পিতভাবে পাম্প বসিয়ে পানি ওঠানোর কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যুগ যুগ ধরে এভাবে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে আনায় ভূ-উপরিতল থেকে মাত্র ৮-১০ ফুট নিচে থাকা পানির স্তর নেমে গেছে ৪২-৪৩ ফিট নিচে।

ফলে এখন যে কেবল টিউবওয়েলে পানি উঠছে না তা নয়, সুপেয় পানির স্তর পর্যন্ত তার ভারসাম্য হারাচ্ছে। আগে যেখানে বরিশাল নগরে ৭৫০ থেকে ৮শ ফুট নিচে গেলেই মিলত বিশুদ্ধ পানি সেখানে এখন সাড়ে ৯শ ফুট নিচে যেতে হচ্ছে। এখনই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো বরিশাল নগরে পানির হাহাকার পড়বে।

রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহম্মেদ শাহরিয়ার বাবু বলেন, এখানে কোনো টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। পুরো ইউনিয়নে হাতে গোনা কিছু সাবমারসিবল রয়েছে। খাবার পানি সংগ্রহে সেগুলোতেই ছুটতে হয় মানুষকে।

এছাড়া গোসলসহ অন্যান্য কাজে ব্যবহার হচ্ছে পুকুর কিংবা খালের পানি। চলমান হিট অ্যালার্মে একটু খাবার পানির জন্য মানুষ যে কতটা কষ্ট করছে তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করানো যাবে না। কথা ছিল জলবায়ু প্রকল্পের আওতায় এখানে বেশ কিছু ডিপ টিউবওয়েল বসানো হবে। কিন্তু টিউবওয়েলে পানি না ওঠায় এখন নাকি তাও বসানো হবে না।

বরিশাল সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আবু সালেহ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন। আলোচ্য ৫ ইউনিয়নে আমাদের দেড় হাজারের মতো টিউবওয়েল রয়েছে যার অধিকাংশই কাজ করছে না।

রাজস্ব খাতভুক্ত একটি প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে এসব ইউনিয়নে ১৩০টি টিউবওয়েল বসানোর কাজ চলছে। এসব টিউবওয়েলে সাবমারসিবলের পাশাপাশি জলাধার বসানোর কাজ করছি আমরা। এখানে প্রতিটি টিউবওয়েলের সাথে থাকা জলাধারেও সংরক্ষিত থাকবে পানি। আগে যেসব সাবমারসিবল বসানো হয়েছে তার সঙ্গে এগুলো যোগ হলে পানির সমস্যা অনেকটা দূর হবে বলে আশা করছি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রীষ্মকালেই মূলত সমস্যাটা বেশি হয়। বিশেষ করে গত ২-৩ বছর যাবত। এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। বর্ষাকালে কিন্তু পানির স্তর ৮-১০ ফুটের মধ্যে চলে আসে। তখন সব চাপকলই কাজ করে। এ বছর গরমের শুরু থেকেই পানি উঠছে না। সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি আমরা। আশা করি খুব শিগগিরই এই সমস্যা সমাধানে বড় ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।




খাবার খেতে খেতে পানি পান করলে কী হয়?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  খাবার খেতে খেতে অনেকেই পানি পান করেন। তবে এই অভ্যাস না একেবারেই ভালো না, এমনটিই মত অনেকের। তবে সত্যিই কি খাওয়া মধ্যে পানি পান করলে সমস্যা হয়? অনেকেই ধারণা করেন, খাবার খাওয়ার মধ্যে পানি পান করলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে।

আবার কারও মতে, এই অ্যভাসের কারণে হজমের সমস্যা হতে পারে। এমনকি খাবারের মাঝে পানি পান করলে খাবারের পুষ্টিগুণ শরীর ঠিকমতো শুষে নিতে পারে না। এছাড়া ওজন বেড়ে যেতে পারে, এমন অনেক মত আছে নানান জনের। তবে আসল সত্য কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, আদতে এই ধারণাগুলোর সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। কোনো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাও হয়নি। ২০১৪ সালের একটি গবেষণা অনুযায়ী, জিইআরডি রোগে ভুক্তভোগীদেরই খাওয়ার সময় পানি পান করতে বারণ করেন বিশেষজ্ঞরা।

এর কারণ পানি পান করলে পেটে মোট খাবারের পরিমাণ বেড়ে যায়। যা উপরের দিকে চাপ তৈরি করে। তবে জিইআরডি অর্থাৎ গ্য়াস্ট্রোএসোফেগাল রিফ্লাক্স ডিজিজের সমস্যা তো আর সবার থাকে না। তাই এই নিয়ম মেনে চলার নেপথ্যেও আছে যুক্তির অভাব।

পেটের অ্যাসিড উপরের দিকে উঠে এলে জিইআরডির সমস্যা হয়। এই রোগে পেটের অ্যাসিড খাদ্যনালী বরাবর গলার কাছে উঠে আসে। যাকে আমরা বুক জ্বালা, গলা জ্বালার সমস্যা বলে থাকি। এই সমস্যা থাকলে খাবারের মাঝে পানি পান না করাই ভালো।

সূত্র: এবিপি নিউজ




হিট স্ট্রোকের লক্ষণ জেনে নিন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  তীব্র গরম কেবল অস্বস্তিদায়ক অনুভূতিই দেয় না, এটি বাড়িয়ে দেয় হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিও। গত কয়েক বছর ধরে এপ্রিল মাস থেকেই শুরু হচ্ছে তাপপ্রবাহ। এটি আমাদের স্বাস্থ্যের নানাভাবে ক্ষতি করতে পারে। তাই এই সময়ে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। গবেষকরা বলছেন, বিগত পঞ্চাশ বছরে সতের হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন হিট স্ট্রোকের কারণে। এ ধরনের আবহাওয়ায় বেলা এগারোটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে নিষেধ করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এসময় বাইরে বের হলে শরীরে পানির অভাব দেখা দিতে পারে। সেখান থেকেই বাড়তে পারে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি।



বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে মরিশাসের প্রতি আহ্বান তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে মরিশাসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।

বুধবার সকালে মরিশাসের পররাষ্ট্র, আঞ্চলিক সংহতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রী মনিশ গোবিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠককালে তিনি এ আহ্বান জানান। সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও মরিশাসের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ে মরিশাসের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী।

নৃতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে বাংলাদেশ ও মরিশাসের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে উল্লেখ করে দুই দেশের সম্পর্ককে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন বলে মরিশাসের পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে জানান তথ্য প্রতিমন্ত্রী।

বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে মরিশাসে আরও বেশি শ্রমিক ও পেশাজীবীদের নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন।

এছাড়া মরিশাসে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা যাতে দ্রুত দেশে রেমিটেন্স পাঠাতে পারে সে ব্যাপারে মরিশাস সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন মোহাম্মদ আলী আরাফাত।

মরিশাস আফ্রিকা মহাদেশের প্রবেশদ্বার হওয়ায় মরিশাসে বাংলাদেশের বিনিয়োগের মাধ্যমে আফ্রিকা মহাদেশে বাংলাদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা বৈঠকে তুলে ধরেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী।

বৈঠক শেষে মরিশাসের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মনিশ গোবিনকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান প্রতিমন্ত্রী।

পশ্চিম ভারত মহাসাগর অঞ্চলে মাদক পাচার এবং মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার নিয়ে প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য বর্তমানে মরিশাসে অবস্থান করছেন মোহাম্মদ আলী আরাফাত।




গলাচিপায় পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় পৃথক ঘটনায় ঈসা (২) ও সুমাইয়া (৩) নামের দুইটি শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ঈসার বাড়ি দশমিনা উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সেন্টার বাজার নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

শামিম বয়াতির দুই ছেলের মধ্যে ঈসা ছোট ছেলে।

জানা গেছে, শামিম বয়াতীর ঘরের সামনে উঠানে ঈসা খেলা করছিল। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে উঠানের সাথেই পুকুরে পড়ে যায়। খোঁজাখুঁজির একপর্যায় ঈসাকে দেখে পানি থেকে তীরে তুলে তাৎক্ষণিক গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করে।

আরো পড়ুন : পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকার খামখেয়ালিপনায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

দশমিনা উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: নজির আহমেদ সরদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

অপর দিকে গলাচিপা উপজেলায় রতনদী তালতলী ইউনিয়নের উলানিয়া গ্রামের রাকিব মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া (৩) নামের শিশু পানিতে পড়ে মারা যাবার খবর পাওয়া গেছে। সুমাইয়াকে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত্যু ঘোষণা করে।




বাউফলে ডায়রিয়ার প্রকোপ, হাসপাতালে স্যালাইনের সংকটসহ নানা সমস্যা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: তীব্র গরমে হঠাৎই পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এরই জেরে হাসপাতালে দেখা দিয়েছে স্যালাইনের সংকট। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা খরচা করে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে হচ্ছে রোগী এবং তাদের স্বজনদের।

ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুন বেশি রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বেড সংকট থাকায় বাধ্য হয়ে মেঝেতে ঠাঁই নিচ্ছেন বহু রোগী।

এদিকে, অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় দখলদার মুক্ত হলো মাছের পাইকারি বাজার

গত সোমবার রাতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়। নাম রিনা, বয়স ৭ বছর। সে উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের মাঝপাড়া গ্রামের রহিম গাজীর মেয়ে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক মো. মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুটি তিন দিন আগে ডায়রিয়ার আক্রান্ত হয়। পরিবারের লোকজন হাসপাতালে না এনে বাড়িতে রাখেন। সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়। মারা যাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। যথাসময়ে চিকিৎসা পেলে শিশুটি বেঁচে যেত।’ 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, মার্চের মাঝামাঝি থেকে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়তে থাকে। গত এক মাসে ৩৮৫ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত সাত দিনে ভর্তি হয়েছেন ৯৬ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতালের বর্হিবিভাগ ও জরুরি বিভাগ থেকে গত সাত দিনে দেড় শতাধিক রোগীর চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গছে। এসব রোগীর প্রায় ৭০ শতাংশই শিশু ও বয়স্ক।

তবে উপজেলায় ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আরও তিনগুণ বেশি বলে দাবি করেছেন একাধিক চিকিৎসক।
তাদের ভাষ্যমতে, হাসপাতালে বেড সংকট থাকায় অনেক রোগী হাসপাতালে আসছেন না। তারা স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বিভিন্ন চিকিৎসকদের কাছ থেকে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।

আজ, (বুধবার) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতীয় তলায় শিশু, নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডে বেড খালি না থাকায় মেঝেতে অনেকেই বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মেঝেতেও জায়গা না হওয়ায় এক শিশুসন্তানকে স্যালাইন দেওয়া অবস্থায় কোলে করে দাঁড়িয়ে আছেন এক মা।

উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ থেকে আসা মরিয়ম বেগম (২৬) নামে ওই নারী জানান, সোমবার থেকে তার আড়াই বছরের শিশুসন্তান বারবার পাতলা পায়খানা করছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসক তার সন্তানকে স্যালাইন দেন। তবে হাসপাতালে জায়গা না থাকায় সন্তান নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।

মেঝের নোংরা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে গাদাগাদি করে অবস্থান নিতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের। তীব্র গরমে ফ্যান না থাকায় হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন রোগীর স্বজনরা। এতে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন তারা।

সমীর শীল নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘কোনো বেড থালি না থাকায় মেঝেতেই বিছানা পেতে থাকছি। তবে মেঝের চারপাশে নোংরা পরিবেশ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করছেন। এতে একদিকে দুগর্ন্ধ, অন্য তীব্র গরমে রোগীর অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।’

আরো পড়ুন : বুড়াগৌরাঙ্গ নদের ভাঙন থেকে বাঁচতে শতাধিক পরিবারের আকুতি

হঠাৎ করে উপজেলা জুড়ে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্যালাইনের সংকটও দেখা দিয়েছে। সরকারি হাসপাতালে চাহিদার তুলনায় কম স্যালাইন সরবরাহ থাকায় বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে হচ্ছে রোগীদের। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্যালাইনের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে চড়া দামে স্যালাইন বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোগীর স্বজনরা বলছেন, হাসপাতাল থেকে দুই একটি স্যালাইন দেওয়া হয়। বাকি স্যালাইন বাইরে থেকে কিনতে হয়। এতে স্যালাইনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ফার্মেসি ব্যবসায়ীরা ১০০ টাকার স্যালাইন ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করছেন।

এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, ‘হাসপাতালে কলেরা স্যালাইন সরবরাহ না থাকায় সংকট দেখা দিয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ২০০ ব্যাগ স্যালাইন দিয়েছি। তা দিয়েই চিকিৎসা চলছে। আরও ২০০ ব্যাগ অর্ডার দিয়েছি। সংকটের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নেবেন।’