হবিগঞ্জে নিহত পাঁচজনের চারজনই পটুয়াখালীর এক পরিবারের

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: হবিগঞ্জের মাধবপুরে ট্রাক ও প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ প্রাইভেট কারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

নিহত পাঁচজনের মধ্যে একই পরিবারের চারজন। নিহতরা হলেন- পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের মৌজালী মৃধার ছেলে জামাল মৃধা (৪২) ও খোকন মৃধা (৩৫), নিহত জামাল মৃধার স্ত্রী কামরুন নাহার (৩০) ও ছেলে কাওসার (১২)। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে ড্রাইভারও মারা গেছে। এ ঘটনায় নিহতের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে।

বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হরিতলা নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

আরো পড়ুন : একদিকে রেকর্ড ভাঙা গরম, অন্যদিকে গাছ কাটছে বন বিভাগ

পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত জামাল মৃধা ঢাকার সাভারে পরিবার নিয়ে থাকতেন। জামাল মৃধার ইলেকট্রিক্যাল দোকান ছিল এবং খোকন মৃধা গার্মেন্টসকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। ৭ম শ্রেণিতে পড়ুয়া কাওসারের মানত থাকায় সপরিবারে সিলেট শাহজালাল মাজারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার আগে সর্বশেষ রাত ১১টার দিকে নিহত জামাল মৃধা তার মায়ের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন।

গলাচিপা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. ফেরদৌস আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতদের মরদেহ হবিগঞ্জ থানা পুলিশের হেফাজতে আছে। আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। মরদেহ পটুয়াখালীতে কখন আনা হবে সে বিষয়ে এখনো তথ্য পাইনি।




নখ দেখেই যাবে রোগ চেনা!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:   শরীরে কোনও সমস্যা দেখা দিলেই তা কী কী কারণে ঘটছে, তা জানার জন্য আমরা অনেক সময়ই খরচ করে নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার করিয়ে থাকি। অথচ স্বাস্থ্যের অবস্থা কী, তা জানতে আপনার ত্বক, গলার স্বর, চুল কিংবা নখের দিকেও লক্ষ রাখা খুব জরুরি। বিশেষ করে নখের উপর তো এমনিতে আমরা তেমন নজরই দিই না। শুধু সৌন্দর্য বাড়ানো বাদ দিলে, নখ নজরদারিতে প্রায় বাতিলের খাতায় পড়ে থাকে। অথচ শরীরের অধিকাংশ জটিলতা প্রথমেই প্রতিফলিত হয় আমাদের নখেই।

আপনার নখ স্বাস্থ্যকর হলে দেখতে হয় মসৃণ এবং নখের রংও থাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে নখ কিছুটা ভঙ্গুর হতেই পারে এবং ঔজ্জ্বল্যও হারাতে পারে ক্রমশ। কিন্তু বয়স বৃদ্ধি ছাড়াও আরও বিভিন্ন কারণে নখের স্বাস্থ্য যে কোনও সময়ে বিগড়ে যেতেই পারে। নখের আকার, ধরন এবং বিশেষ করে রঙের দিকে বিশেষ করে নজর রাখা জরুরি।

নখের আকার ও রঙের পরিবর্তনগুলি কোন কোন রোগের ইঙ্গিত দেয়

১. নখের স্বাভাবিক গঠন যখন বিগড়ে গিয়ে চামচের মতো দেখায়, তখন বুঝতে হবে শরীরে আয়রনের ঘাটতি হয়েছে।

২. অনেক সময়ই দেখা যায়, নখ কোনও রকম আঘাত ছাড়াই চামড়া থেকে উঠে যাচ্ছে। সোরিয়াসিস (ত্বকের রোগ), ছত্রাকের সংক্রমণ, হাইপার থাইরয়েডিজ়মের কারণে কিন্তু এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৩. ভারী কিছু পড়েও যায়নি নখের উপর, নখে ব্যথাও নেই, কিন্তু নখের রং কালচে হয়ে গিয়েছে? তখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ কিডনির সমস্যায় এমন হতে পারে। যকৃতের সমস্যাও হতে পারে এর কারণ।

৪. নখের রং ধীরে ধীরে হলুদ হয়ে যাচ্ছে? এ ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। লিম্ফিডেমা (পরজীবী সংক্রান্ত এক ধরনের জটিলতা, কয়েকটি জেনেটিক ব্যাধিতেও দেখা যায়) নামক রোগে এমনটা হয়। এ ছাড়াও ফুসফুসের নানা সমস্যাতেও পায়ের নখের রং হলদে হয়ে যেতে পারে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তির সমস্যা হলেও পায়ের নখের রং ধীরে ধীরে হলুদ হয়। জনডিস হলেও তাই। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

৫. নখের উপরে অনেক সময় সাদা ছোপ দেখতে পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রেও সতর্ক হতে হবে। মানসিক আঘাত লাগলে, শরীরে জিঙ্কের ঘাটতি হলে কিংবা ছত্রাকের সংক্রমণ হলেও এই ধরনের উপসর্গ দেখা যায় নখে।

বয়স বৃদ্ধি ছাড়াও আরও বিভিন্ন কারণে নখের স্বাস্থ্য যে কোনও সময়ে বিগড়ে যেতেই পারে। ছবি: সংগৃহীত।

নখের আর কোন কোন উপসর্গ দেখে সতর্ক হবেন?

১. নখের উপরিভাগ পাতলা হয়ে যাওয়া।

২. নখ হঠাৎ ঘন ঘন ভাঙতে শুরু হওয়া।

৩. নখের চার পাশে ফোলাভাব দেখতে পাওয়া।

৪. নখের পাশ থেকে রক্তপাত হওয়া।

৫. নখের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যাওয়া।




হঠাৎ উত্তাল বঙ্গোপসাগর, নিখোঁজ জেলে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলার থেকে পড়ে মো. হাসান (৪৫) নামের এক জেলে নিখোঁজ হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গোপসাগরের রামনাবাদ চ্যানেলের দক্ষিণে বয়া এলাকা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুর্ঘটনার শিকার ট্রলারমালিক মো. বেল্লাল হোসেন কাজী।

নিখোঁজ জেলে হাসান ভোলা জেলার চরফ্যাশনের চর আফজাল এলাকার হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি পটুয়াখালীর মৎস্য বন্দর আলীপুরের এফবি তিমুল ফারজানা ট্রলারে মিস্ত্রির (ইঞ্জিন চালক) কাজ করেন।

জানা যায়, ৫ দিন আগে আলীপুর থেকে মাছ শিকারের উদ্দেশে বঙ্গোপসাগরে যান ১৪ জেলে। এরপরে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্নস্থানে মাছ শিকার করে তারা। মঙ্গলবার কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর সাগরে পৌঁছালে হঠাৎ সমুদ্র উত্তাল হলে ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারের কিনারে বসে থাকা জেলে হাসান সমুদ্রে পড়ে তলিয়ে যান।

এফবি তিমুল ফারজানার মালিক মো. বেল্লাল হোসেন কাজী বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আমরা চার-পাঁচটা অতিরিক্ত ট্রলার জেলে হাসানকে খুঁজতে পাঠানো হয়। সারারাত খোঁজাখুঁজি করা হয়। আজ সকালে আরও একটি ট্রলার পাঠিয়েছি কিন্তু এখনও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। ওই জেলের স্বজনরা এসেছেন, তারা থানায় সাধারণ ডায়রি করেছেন।’

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার জানান, জেলে নিখোঁজের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। আমরা কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশের সহায়তায় নিখোঁজ ব্যক্তিকে খোঁজার চেষ্টা করছি।




পটুয়াখালীতে বজ্রপাতে ৩ গরুর মৃত্যু

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গভীর রাতে বজ্রপাতে এক কৃষকের তিনটি গরু মারা গেছে। মঙ্গলবার (৩০ মে) রাত ২টার দিকে উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তীব্র গরমের কারণে গরুগুলো রাতে মাঠেই বেঁধে রাখা হয়েছিল। এ সময় বজ্রপাতে দরিদ্র কৃষক মো. আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের (রাজা মিয়া) তিনটি গরু এক সঙ্গে মারা যায়।

চম্পাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহাবুব আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, যার গরু মারা গেছে তিনি গরিব কৃষক। মারা যাওয়া গরুগুলোর বর্তমান বাজার মূল্য আনুমানিক আড়াই লাখ টাকার বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত ওই কৃষককে সহায়তা দেওয়া হবে।




মির্জাগঞ্জে গাছ থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে গাছ থেকে পড়ে এক গাছ কাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পিপঁড়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

শ্রমিক মো: মামুন আকন (৩২) পিপড়াখালী গ্রামের মো: হাসেম আকনের ছোট ছেলে। মামুন আকনের এক ভাই কিছুদিন আগে সেচ দেয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।

আরো পড়ুন : তীব্র গরমে হাতপাখা বিক্রির হিড়িক

জানা যায়, উপজেলা পিঁপড়াখালী গ্রামের নিজ বাড়ি-সংলগ্ন একটি গাছের ডাল কাটতে যান মামুন। ওই সময়ে অসাবধানতাবশত পা ফসকে গাছ থেকে পড়ে যান তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: হাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে এবং পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।




শুধু গরমে নয়, আয়রনের ঘাটতিতেও হয় প্রচণ্ড দুর্বলতা ও হার্ট ফেইলিওর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : এই গরমে সুস্থ থাকাটাই এখন চ্যালেঞ্জের। এ সময় অনেকেই শারীরিক বিভিন্ন সমস্যায় বিশেষ করে দূর্বলতা, ক্লান্তি ও মাথা ঘোরার মতো লক্ষণে ভুগছেন। শুধু গরমের কারণে নয়, শরীরে আয়রনের অভাবে ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি আয়রনের অভাবে হার্ট ফেইলিওর হতে পারে।

আয়রনকে শরীরের প্রতিরক্ষামূলক ঢাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি শক্তি দেয় ও শরীরকে অনেক রোগ থেকে রক্ষা করে। আয়রন হিমোগ্লোবিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা লোহিত রক্তকণিকায় পাওয়া যায়। হিমোগ্লোবিনের কাজ হলো ফুসফুস থেকে অন্য অঙ্গে অক্সিজেন পরিবহন করা। কাজেই, আয়রনের ঘাটতি হলে পুরো ব্যবস্থাই নড়ে যায়।

যেহেতু আয়রন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, তাই এর ঘাটতি অনেক রোগের কারণ হয়। এটি মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শরীরে কম আয়রনের কারণে ক্লান্তি সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গ। শরীরের বিভিন্ন অংশে অপর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন পৌঁছানোর কারণে ক্লান্তি অনুভূত হয়। এতে দুর্বলতা ও মাথা ঘোরার মতো সমস্যা হতে পারে।

শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে হিমোগ্লোবিন কমে যায়। এমন পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাব হয়, যে কারণে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। ব্যায়াম, হাঁটা বা দৌড়ানোর সময় এই সমস্যা বাড়ে।

আয়রন শুধু শারীরিক স্বাস্থ্য নয় মানসিক স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করতে পারে। এর অভাবে মাথাব্যথার সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় আয়রনের ঘাটতির কারণে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি কমে যেতে পারে, কারণ এমন পরিস্থিতিতে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন পায় না।

সেরোটোনিন ও ডোপামিন উভয়ই শরীর ও মস্তিষ্ককে শিথিল রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমোন। আয়রনের মাত্রা কম হলে শরীরে এই দুটি হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ঘুমের ওপর। ফলে অনেক সমস্যা হতে পারে।

হাত পা প্রায়ই ঠাণ্ডা থাকলে সতর্ক থাকুন, কারণ এটি আয়রনের ঘাটতির লক্ষণও হতে পারে। আয়রনের ঘাটতির কারণে যখন শরীরে অক্সিজেন ঠিকমতো পৌঁছায় না, তখন এ ধরনের সমস্যা দেখা যায়।

সূত্র: এবিপি নিউজ




পটুয়াখালী‌তে ক্লাস চলাকালীন ২ শিক্ষার্থী অসুস্থ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী‌তে তীব্র তাপদা‌হের ম‌ধ্যে ক্লাস চলাকালীন সম‌য়ে হঠাৎ বিদ্যুৎ চ‌লে গে‌লে দুইজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হ‌য়ে পড়েছে।

সোমবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ৯টার দি‌কে কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ‌্যাল‌য়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ক‌ক্ষে এ ঘটনা ঘ‌টে।

অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হ‌লেন- মোছা. কারীমা বেগম ও মো. ইমান ইসা।

আরো পড়ুন : ভাইরাল ভিডিও নিয়ে কুয়াকাটা পৌর ছাত্রলীগের সংবাদ সম্মেলন

বিষয়‌টি নি‌শ্চিত ক‌রে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো. ওবায়দুর রহমান জানান, আহত‌দের প্রাথ‌মিক চি‌কিৎসা ক‌রি‌য়ে তা‌দের নিজ নিজ বাড়ি‌তে পৌঁ‌ছে দেয়া হ‌য়ে‌ছে। বর্তমা‌নে তারা মোটা‌মুটি সুস্থ র‌য়ে‌ছে। ত‌বে অন্যান্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ম‌ধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

তি‌নি জানান, অনেক দিন পর স্কুল খুল‌লে শিক্ষার্থীরা হাসিখুশি ম‌নেই ক্লাস কর‌ছিল। কিন্তু বাই‌রে তাপদা‌হের মধ্যে ক্লাস শুরু হ‌লে হঠাৎ বিদ‌্যুৎ চ‌লে যায়। এসময় ওই দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হ‌য়ে প‌রে। এ অবস্থা দে‌খে যতক্ষণ পর্যন্ত বিদ‌্যুৎ না ছিল ততক্ষণ পর্যন্ত শিক্ষার্থী‌দের নিরাপদে রাখার চেষ্টা ক‌রে‌ছি।




২৯ এপ্রিলের ভয়াল সেই স্মৃতি আজও ভুলতে পারেনি উপকূলবাসী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ভয়াল ২৯ এপ্রিল আজ। স্বজন হারাদের আঁতকে ওঠার দিন। এখনও স্বজনরা ডুকরে ডুকরে কাঁদে প্রিয়জনের স্মরণে। গণহারে কবর হয়েছিল, লাখে লাখে মরেছে মানুষ। মানুষের লাশ আর লাশ ভেসে এসেছে সেদিন।

১৯৯১ সালের এদিনে দিনগত মধ্যরাতে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনাসহ দেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ১২ থেকে ২০ ফুট উচ্চতায় জ্বলোচ্ছাসে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ‘হারিকেন’। লাশের পরে লাশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল চারদিকে। নদী-নালা, ডোবায়, খাল-বিল, সমুদ্রে ভেসেছিল মানুষের লাশ আর লাশ। গরু, মহিষ, ভেড়ার মরদেহের স্তুপ যেন ভয়াল এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য।

আরো পড়ুন : ভাইরাল ভিডিও নিয়ে কুয়াকাটা পৌর ছাত্রলীগের সংবাদ সম্মেলন

বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়েছিল। দেশের মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে সেদিন প্রত্যক্ষ করেছিল প্রকৃতির করুণ এই আঘাতের নিদারুণ দৃশ্য। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এতবড় অভিজ্ঞতার মুখোমুখী এদেশের মানুষ এর আগে আর কখনো সম্মুখীন হয়নি।

পরদিন বিশ্ববাসী অবাক হয়ে গিয়েছিল সেই ধ্বংসলীলা দেখে। নির্বাক হয়ে তাকিয়ে ছিল জাতি। স্বজনহারানোর অস্থিরতায় বোবা কান্নায় ডুকরে ডুকরে কেঁদেছিল সমগ্র দেশ।

বাংলাদেশে আঘাত হানা ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে নিহতের সংখ্যা বিচারে পৃথিবীর ভয়াবহতম ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে অন্যতম। ঘূর্ণিঝড় এবং তার প্রভাবে সৃষ্ট ২০ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে আনুমানিক ১ লক্ষ ৩৮ হাজার মানুষ নিহত এবং প্রায় এক কোটি মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছিল। তবে বেসরকারি হিসাবে এর সংখ্যা আরও বেশি। মারা যায় ২০ লাখ গবাদিপশু। ক্ষতি হয়েছিল ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদ।

ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা ক্ষয়ক্ষতির কারণ সম্পর্কে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হয়েছিল আগে থেকেই। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সতর্কবার্তা প্রচার হয়েছিল। সেসময় অনেকেই ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা বুঝতে পারে নি বলে সাইক্লোন সেন্টারে যায় নি। বার বার মাইকিং করা সত্ত্বেও বাড়ি ঘর ছেড়ে যেতে চায় নি’। এটাও ঠিক যে তখন সাইক্লোন সেন্টারও যথেষ্ট ছিল না। যাবেই বা কোথায়? পরিবারে বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। শেষ সময়ে অনেকে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়ে যাবার সময় বৃদ্ধ মা-বাবাকে নারিকেল গাছের সাথে বেঁধে গেছেন। বাতাসের তীব্র গতিতে গাছের সাথে দুলতে দুলতে কেউ কেউ বেঁচেও গিয়েছিলেন, আবার ভেসেও গেছেন এমন দুঃখের কথাও আমরা শুনেছি রাঙ্গাবালী, গলাচিপা, কুয়াকাটা, কলাপাড়ার মানুষের কাছে।

কুয়াকাটার বাসিন্দা জয়নাল মৃর্ধা বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের পরে তখন আমরা যা দেখেছি পুরো উপকূল মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। এলাকায় ফিরে গিয়ে দেখি তখন এক কবরে একাধিক নারী পুরুষ শিশুকে কাফন ছাড়া দাফন করা হচ্ছে। হাটে ঘাটে নালা নর্দমা পুকুরে লাশের সারি। ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসের আগে নারীরা বলেছিলেন আমরা গরু-ছাগল হাঁস-মুরগি রেখে যাই কেমন করে? এটা নিয়ে অনেকে হেসেছিলেন, কিন্তু ওদের কথায় এটা পরিষ্কার ছিল যে পরিবার বলতে ওদের কাছে শুধু মানুষ নয়, ঘরের পশুপাখিও তাদের পরিবারের অংশ। তাদের ফেলে যাবেন এমন স্বার্থপর তারা নন। সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে গবাদিপশু রাখার ব্যবস্থা তখন ছিল না, এখনও নেই। শুধু মানুষ বাঁচানোর চেষ্টা। আবার এই মানুষ যখন অন্য প্রাণীর জন্যে আকুল হয় তখন তাদের সচেতনতার অভাবের কথা বলা হয়।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী তীব্র তাপদাহে ফসলের উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কা

উপকূলবাসী আজও ভুলতে পারেনি সেই রাতের দুঃসহ স্মৃতি। প্রলয়ঙ্করী এই ধ্বংসযজ্ঞের ৩৩ বছর পার হতে চলেছে। এখনও স্বজনহারাদের আর্তনাদ থামেনি। গৃহহারা অনেক মানুষ এখনও মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিতে পারেনি।

রাঙ্গাবালী দ্বীপের বাসিন্দা আলম মিয়া ওই রাতের স্মৃতি উল্লেখ করে বলেন, সে ভয়াল রাতের কথা মনে পড়লে চোখে পানি চলে আসে। সেই রাতের কথা কোনো ভাবেই ভুলে যাওয়ার নয়। সেই উপকূল এখনো অরক্ষিত।




দুমকীতে ড্রামের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকীতে বাথরুমে রাখা প্লাস্টিকের ড্রামে পড়ে মুনতাহা নামের দুই বছরের একটি মেয়ে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার(২৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মুরাদিয়া ইউনিয়নের উত্তর মুরাদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মুনতাহা স্থানীয় ইউনুস মোল্লার ছোট ছেলে সুমন মোল্লার মেয়ে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ভেসে এসেছে টর্পেডো সাদৃশ্য বস্তু

জানা যায়, ফজরের নামাজের পরে মুনতাহাকে ঘুমে রেখে বাবা-মা বাড়ির পাশেই নিজ জমিতে মুগডাল তুলতে যায়। এসময় দাদা-দাদীর চোখের আড়ালে মুনতাহা ঘুম থেকে উঠে বসত ঘরের পেছনে পুকুর পাড়ে চলে যায়। বাড়ির লোকজন ডেকে এনে মুনতাহাকে বাসায় দিয়ে যায়। এঘটনার কিছুক্ষন পরেই মুনতাহাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুজি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে রিফাত নামে মুনতাহা’র ফুফাতো ভাই ওই বাসার বাথরুমে রাখা প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে পানি তুলতে গিয়ে দেখতে পায়। সাথে সাথে উদ্ধার করে দুমকী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুনতাহকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরো পড়ুন : নিখোঁজের ১৭ ঘন্টা পর শ্রমিকের লাশ উদ্বার

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেক মো. আবদুল হান্নান বলেন, এ ধরনের খবর আমরা পাইনি।




নিখোঁজের ১৭ ঘন্টা পর শ্রমিকের লাশ উদ্বার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বালুবাহী বলগেট জাহাজ থেকে নদীতে পড়ে শাকিল গাজী (২৩) নামের এক নিখোঁজ শ্রমিকের লাশ ১৭ ঘন্টা পর উদ্ধার করা করা হয়েছে।

রবিবার (২৮ এপ্রিল) বেলা ৩টায় কলরাপাড়া পৌর শহরের বাদুরতলী এলাকায় আন্ধারমানিক নদী থেকে মৃতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোজ শাকিল গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া এলাকার জাকির গাজীর ছেলে।

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় বালুর জাহাজ থেকে ছিটকে পড়ে শ্রমিক নিখোঁজ

কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশর অফিসার ইলিয়াস হোসাইন জানান, শনিবার রাতে তিশা-তাপসি নামের বলগেটটি বালু নিয়ে পায়রা বন্দর বন্দর সংলগ্ন এলাকা থেকে আন্ধারমানিক নদীর কলাবাড়ি এলাকায় পৌছায়।
এসময় বলগেটটি নোঙ্গর করতে গিয়ে ডান্ডি চুকানের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ওই শ্রমিক নদীতে পড়ে নিখোজ হন। পরে রাতেই উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস।