বর্ষায় ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়া থেকে বাঁচার ঘরোয়া উপায়




মির্জাগঞ্জে পায়রার ভাঙ্গনের মুখে প্রাথমিক বিদ্যালয়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: মির্জাগঞ্জের পিপঁড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পায়রার ভাঙ্গনের কবলে পড়ায় অন্যত্র সরিয়ে নেয়ায় ব্যপারে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গত ২৪ জুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরের প্রতিষ্ঠান প্রধানের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয় ভবনটি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার রক্ষা ও পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য এবং বিদ্যালয়টি অন্যত্র স্থানান্তরে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনারকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট্য কমিটি গঠন করা হয়।

সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে বিদ্যালয়ের ভবন পায়রা নদী গর্ভে চলে গেলে স্থানীয় দ্বন্দ্ব ও জমি নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে গত চার বছর পর্যন্ত বিদ্যালয়ের পাঁকা ভবন নির্মিত ব্যহত হওয়ার জটিলতা দেখা দেয়। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পায়রা নদীর বেড়িবাঁধের পাশে তিন কক্ষ বিশিষ্ট্য একটি টিনশেড ঘরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা।

এছাড়া পায়রা নদী তীরবর্তী একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গনের ঝুকিঁর মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে টিনশেড ঘরটিও যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন প্রধান শিক্ষক। পায়রা নদী থেকে বিদ্যালয়টি ছয় থেকে সাত ফুট ফুট দূরে রয়েছে। বিদ্যালয়ের নেই কোনো বিদুৎ ব্যবস্থা। এতে শিক্ষার্থীরা জিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থায় পিছিয়ে রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের পিপঁড়াখালী গ্রামে বিদ্যালয়টি ১৯২৬ সালে প্রতিষ্টা করা হলে তা ১৯৮৮ সালে এডিপির মাধ্যমে পাকা ভবন নির্মাণ করা হয় এবং ২০১৮ সালে পায়রা নদীতে বিলীন হয়ে যায় ভবনটি। এ বিদ্যালয়ে সাতজন শিক্ষককের স্থানে প্রধান শিক্ষকসহ কর্মরত আছেন তিনজন শিক্ষক। প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়সহ অফিসের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। দুইজন শিক্ষক দিয়ে চলছে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৪১ জন। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্টালগ্নের সময়ে পূর্বদিকে প্রায় দেড় কিলোমিটার জমি এবং মানুষের বসতঘড় ছিল। কিন্তু পায়রা নদীতে আস্তে আস্তে সব বিলীন হয়ে গেছে। পায়রা নদীর তীরবর্তী এবং দুর্গম এলাকা বিধায় কোনো শিক্ষক এখানে আসতে চায় না।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে সমবায়ের ৮০ লাখ টাকা ঋণের চেক বিতরণ

শিক্ষার্থীরা বলেন, সব সময়ে ভয়ে ভয়ে ক্লাশ করতে হয়। কখন যেন নদীতে বিলীন হয়ে যায় বিদ্যালয়টি। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের সামনে পায়রা নদীর পাড় হঠাৎ করে ভেঙে যায়। বেশি কষ্ট হয় বর্ষার সময়ে তখন চলাচল করাই দায় হয়ে যায়। নেই খেলার মাঠ। আমাদের এখানে একটি বিদ্যালয় ভবন নির্মান হলে সকল শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতো।

অভিভাবকরা বলেন, পায়রায় ভাঙ্গনের কারণে জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে এখানকার বহু পরিবার। নদীতে মাছ ধরে ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা ও আমাদের জীবন চলে। ছেলে-মেয়েকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়েও ভয়ে থাকতে হয়। এখানে একটি ভবন নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার মান বাড়বে এবং নদী তীরবর্তী মানুষ ঝড়ের সময়ে আশ্রয় নিতেও পারবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু সুজিৎ মজুমদার বলেন, বিদ্যালয়টি পায়রার ভাঙ্গনে গত ২০১৮ সালে ভেঙে যায়। এরপর ছোট্ট একটি টিনশেড ঘরে চলে শিক্ষা কার্যক্রম। স্থানীয় কিছু জটিলতা ও বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য জমি নিয়ে জটিলিতা দেখা দেয়ায় নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি। ঘূর্ণিঝড় রেমালে পর পায়রা নদীর ভাঙ্গন আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। এদিকে পায়রার ভাঙ্গনের কারণে পিপঁড়াখালী বাজারসহ গ্রামটি সম্পূর্ন নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও এই নদী ভাঙ্গনের কারণে এ এলাকার বহু লোক তাদের ভিটাবাড়ি ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: রিয়াজুল হক বলেন, বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার পরে নতুন ভবন বরাদ্ধ হয়েছিল। স্থানীয় জটিলতার কারণে ভবন নির্মান হয়নি। বরাদ্ধ এলেই বিদ্যালয়ের কাজ শুরু হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: তরিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়টি ভাঙ্গনের মুখে পড়ায় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে বিদ্যালয়টি সুবিধাজনক স্থানে স্থানান্তর ও দ্রুত মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে এবং পাশের একটি মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান থাকবে। পরে সুবিধাজনক জমি পাওয়া গেলে সেখানে বিদ্যালয়টি পূনঃস্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে।




বরিশালের চিকিৎসা সমস্যা হাসপাতালকে দালাল ও সিন্ডিকেট মুক্ত করার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

বরিশাল অফিস  :: বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে দালাল ও সিন্ডিকেট মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন বরিশাল ৫ আসনের সংসদ সদস্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল অবঃ জাহিদ ফারুক শামীম। ২৮ জুন শুক্রবার রাতে  জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত নাগরিক মতবিনিময় সভায় তিনি এই ঘোষণা দেয়ার পাশাপাশি হাসপাতালের বিদ্যমান চিকিৎসা সমস্যা নিয়ে নাগরিকদের দেয়া বিভিন্ন পরামর্শ  অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণেরও প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় আগামী তিনমাসের মধ্যে পুনরায় মতবিনিময় সভার মাধ্যমে কাজের অগ্রগতি ও ছয়মাসের মধ্যে তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক।
গত ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেছেন। দায়িত্ব পাওয়া মাত্রই তিনি দুটি হাসপাতালের বিদ্যমান চিকিৎসা সমস্যা নিয়ে নাগরিক মতবিনিময় সভার আহ্বান জানান। তার এই আহ্বানে মুগ্ধ ও বিস্মিত বরিশালবাসী দলমত নির্বিশেষে ছুটে আসেন শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে। শুধু বরিশাল নয়, বিভাগের ছয় জেলা থেকেই সাধারণ মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের কাছে  আলোচিত হয়ে ওঠে জাহিদ ফারুকের এই আহ্বান। কেননা এরকম কিছু বরিশালের জন্য এটাই প্রথম ঘটনা । ১৯৬৪ সালে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠার পর অসংখ্য সভাপতি দায়িত্ব পালন করছেন এই হাসপাতালে। কোনোদিন কেউ এমন কিছু করেননি বলে স্পষ্ট মুগ্ধতা প্রকাশ করেন আগত ব্যক্তিবর্গের অনেকেই। যে কারণে  শুক্রবার বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত নাগরিক মতবিনিময় সভায় সাধারণ জনগণ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপচে পরা ভিড় চোখে পড়ে।  এমনকি মিলনায়তনে স্থানসংকুলানের অভাব দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত জায়গা না পেয়ে বাহিরে অপেক্ষমান ছিলেন অনেকে।
শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ সাইফুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে এ সময় দুটি হাসপাতালের বিদ্যমান চিকিৎসা সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় করেন বরিশালের আইনজীবী, রাজনৈতিক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ। ব্যবসায়ী সমাজ ছাড়াও হাসপাতালের নার্স ও ডাক্তাররাও তুলে ধরেন তাদের সমস্যা। আলোচনায় উঠে আসে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও এম্বুলেন্সসহ নানাবিধ সমস্যা। গুরুত্ব পায় দালাল চক্রের দৌরাত্ম এবং এম্বুলেন্স সিন্ডিকেট।  আলোচনায় অংশ নেন জাসদ নেতা সাইফুর রহমান মিরন সিনিয়র আইনজীবী তপন কুমার চক্রবর্তী,  নগর চিন্তাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাজী মিজানুর রহমান, বাসদ নেত্রী ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী, উন্নয়ন সংস্থার প্রধান  কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, মহিলা পরিষদের সভাপতি পুষ্পা চক্রবর্তী, চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান মুন্না, সাংবাদিক নেতা এসএম জাকির,  সাংবাদিক সোহাগ হাসান সহ আরো অনেকে মতবিনিময় করছেন।
এ সময় ডাঃ মনীষা হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি রেডিওথেরাপি মেশিন, এমআরআই মেশিন এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসক না থাকা নিয়ে কথা বলেন।
কাজী মিজানুর রহমান পুরো হাসপাতালের অভ্যন্তরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, কর্মীদের ইউনিফর্ম ব্যবহার এবং পরিচালকের দায়িত্বে সামরিক বাহিনীর লোক নিয়োগের প্রস্তাব করেন।  হাসপাতালে নিরাপত্তা প্রহরী ও দর্শনার্থীদের সাউন্ড সিস্টেম ও ইন্টারকমের আওতায় আনার প্রস্তাব করেন হাসপাতালের একজন চিকিৎসক ডাঃ সৌরভ। সাংবাদিক নেতা এসএম জাকির ডায়ালাইসিস ও আইসিইউ সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। তুলে ধরেন এম্বুলেন্স সিন্ডিকেট ও হাসপাতালের ৩০০ গজের ভিতর কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টার না থাকার বিষয়টি।
সকলের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি সমস্যাগুলো লিখিত নোট গ্রহন করেন দুটি হাসপাতালের নতুন সভাপতি এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম এমপি।
তিনি সবাইকে আশ্বস্ত করেন এবং বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে বরিশালের দুটি হাসপাতালের চিকিৎসা ও সেবার মানে অনেক পরিবর্তন ঘটবে। আমি মনে করি বরিশালের  মানুষের সেবা করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান এই হাসপাতাল। তাই এই দুটি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে আমার অন্যতম দায়িত্ব। আমি এখানে কথা দিলাম, আগামী তিনমাসের মধ্যে আপনারা এই পরিবর্তন দেখতে পাবেন।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, প্রতি তিনমাস পর পর আমাদের এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং ছয়মাসের মধ্যে কাজের উন্নতি দৃশ্যমান হবে ইনশাআল্লাহ।
সভাপতি ডাঃ সাইফুল ইসলাম ছাড়াও এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান তমাল পারভেজ, সিভিল সার্জন  ডাঃ মারিয়া হাসান, উপপুলিশ কমিশনার আলী আশরাফ ভুইয়াসহ আরো অনেকে।



আবারও কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো মৃত ডলফিন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আবারও ৮ ফুট লম্বা একটি মৃত ইরাবতী ডলফিন ভেসে এসেছে। এর পুরো মাথার অংশে আঘাতের চিহ্নসহ শরীরের বেশ কিছু স্থানে চামড়া উঠানো।

মঙ্গলবার বিকালে কুয়াকাটা সৈকতের পূর্ব দিকে ঝাউবন এলাকায় ডলফিনটি দেখতে পান স্থানীয় জুয়েল রানা নামের এক যুবক।

তিনি জানান, বিকালে সৈকত থেকে পূর্বদিকে ঝাউবনের দিকে যাওয়ার পথে ডলফিনটি জোয়ারের পানিতে ভেসে আসতে দেখে ডলফিন রক্ষা কমিটিকে অবহিত করি। তবে এই ডলফিনটি মারা যাওয়া অন্যগুলোর চেয়ে অনেকটা তাজা ছিল। দেখে মনে হচ্ছিল এটির মৃত্যু অল্প সময় হয়েছে।

উপকূল কুয়াকাটায় ডলফিন রক্ষা কমিটি সূত্র জানায়, চলতি বছরে জীবিত দুটি এবং মৃত ৮টি ডলফিনের দেখা মিলেছে। এর আগের বছর মোট ১৫টি মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে।

আরো পড়ুন : মির্জাগঞ্জে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান তরুণীর -আত্মহত্যার হুমকি

কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র উপকূলের নিকটে ও নদী মোহনাতে এবং নদীতে এদের বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যায়। খবর পাওয়ার সাথে সাথে পরিদর্শন শেষে বনবিভাগ ও ব্লু-গার্ডের সদস্যদের খবর দিচ্ছি। আমরা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেও ডলফিন মারা যাওয়ার কারণ নিশ্চিত হতে পারছি না। যে পরিমাণে ডলফিন আসছে তা সমুদ্র ও পরিবেশের জন্য অদূর ভবিষ্যতে হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। কুয়াকাটায় যদি এই পরিমাণ মৃত ডলফিন ভেসে আসে তবে উপকূলজুড়ে যেখানে লোক সমাগম নেই সে-সব স্থানের অবস্থা কেমন সেই তথ্য আমাদের জানা নেই। বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক।

সমুদ্রের নীল অর্থনীতি, উপকূলের পরিবেশ-প্রতিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান (ওয়ার্ল্ডফিশের ইকোফিশ-২) বাংলাদেশ প্রকল্পের সহযোগী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরে যে পরিমাণ জীবিত ও মৃত ডলফিন আসছে তাতে মনে হচ্ছে সমুদ্র তার আগের পরিবেশ হারাচ্ছে। আমরা এদের মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছি। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে পারলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। এভাবে চলতে থাকলে সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে, যা আমাদের জন্য মোটেও কল্যাণকর নয়।

পটুয়াখালী বনবিভাগ মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম জানান, খবর পেয়ে আমাদের বনবিভাগের সদস্যদের পাঠিয়ে দ্রুত মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।




গরমে সতেজ থাকতে যে ৪ খাবার খাবেন




কলাপাড়ায় পানিতে ডুবে ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পানিতে ডুবে জুনায়েদ (৭) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের পক্ষিয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশু জুনায়েদ পক্ষিয়াপাড়া গ্রামের শিমুল হাওলাদারের ছেলে।

আরো পড়ুন : দেয়ালে পানি দিতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে কৃষকের মৃত্যু

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে শিশু জুনায়েদ খেলতে গিয়ে সবার অগোচরে বাড়ির পার্শ্ববর্তী পুকুরে পড়ে যায়। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পুকুর থেকে তাকে উদ্ধার করে। পরে চিকিৎসার জন্য কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুনায়েদ কে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় কলাপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী দায়ের করা হয়েছে।




দেয়ালে পানি দিতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে কৃষকের মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে নতুন ভবনের দেয়ালে পানি দিতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার উপজেলার মাধবখালি ইউনিয়নের মাধবখালি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মৃত কৃষকের নাম মো. শাহ আলম সরদার (৬৮)। তিনি মাধবখালী গ্রামের মৃত্যু ওয়ারেচ আলী সরদারের ছেলে।

মাধবখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. সিরাজুল ইসলাম নান্নু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহ আলম সরদারের ঘরের সামনে তাঁর প্রতিবেশী লিটন সিকদার এক মাস আগে একটি নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। মঙ্গলবার সকালে কাউকে না বলে শাহ আলম সরদার ওই ভবনের দেয়ালে পানি দিতে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুতায়িত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক উমর ফারুক জাবির তাঁকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

আরো পড়ুন : তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনকবলে দেশের বৃহৎ বীজবর্ধন খামার

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. উমর ফারুক জাবির বলেন, শাহ আলম সরদারকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর ইসিজি করে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




বিষধর সাপে কামড়ালে প্রাথমিকভাবে যা যা করবেন




সাপে কাটা রোগীকে অভয় দিন, নড়াচড়া করতে দেবেন না

 

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দেশে রাসেলস ভাইপারসহ বিভিন্ন সাপের প্রকোপ, অ্যান্টিভেনম ইনজেকশনের প্রয়োজনীয়তা, প্রাপ্তি ও প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে  কথা বলেন টক্সিকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক এবং মেডিসিনের অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ। বিশেষ এ সাক্ষাৎকার।

প্রশ্ন: রাসেলস ভাইপার নিয়ে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আপনি দীর্ঘদিন সর্প দংশন ও প্রতিকার নিয়ে জনসচেতনতা তৈরি এবং গবেষণামূলক কাজ করছেন। সম্প্রতি সারাদেশে সাপের কাটা নিয়ে যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে, এ বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?

উত্তর: রাসেলস ভাইপার নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিবেদন, তথ্য-উপাত্ত আমার চোখেও পড়েছে। এ সাপ সম্পর্কে কিছু কিছু তথ্য সঠিক, আবার কিছু বিভ্রান্তিমূলক তথ্যও ছড়িয়ে পড়ছে।

রাসেলস ভাইপার সাপটি নতুন কোনো সাপ নয়। যারা কৃষিকাজ, বাগানবাড়ি কিংবা মাছ ধরাসহ বিভিন্ন পেশায় জড়িত তাদের কাছে এ সাপটি চন্দ্রবোড়া/উলুবোড়া নামে পরিচিত। বিগত বছরগুলোতেও এ সাপের দংশনে দুর্ভাগ্যবশত বেশ কিছু সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত কিংবা মারা গেছেন। তবে এটা ঠিক অন্য বছরের তুলনায় এ বছর রাসেলস ভাইপারে দংশনের কথা বেশি শোনা যাচ্ছে।

প্রশ্ন: কোন সাপের দংশনে রোগীর মৃত্যু হচ্ছে তা নির্ণয়ের ব্যবস্থা কি আমাদের রয়েছে? তাছাড়া দেশে কোন কোন অঞ্চলে সাপের প্রকোপ বেশি রয়েছে?

উত্তর: আমাদের দেশে সাপ সংক্রান্ত সেই অর্থে বড় কোনো জরিপ নেই অর্থাৎ দেশে মোট কয় ধরনের সাপ রয়েছে, কোন সাপ কোথায় আছে, কোন মানুষকে কোন সাপ দংশন করেছে সেটি নিশ্চিত করে বলা যায় না।

তবে সর্বশেষ ২০২২ সালে পরিচালিত জাতীয় জরিপ অনুসারে দেশে প্রতি বছর সাপের কামড়ে আনুমানিক ৪ লাখ মানুষ আক্রান্ত হন ও দুর্ভাগ্যবশত প্রায় সাড়ে ৭ হাজার মানুষ মৃত্যবরণ করেন।

দেশের সর্বত্রই কমবেশি সাপ থাকলেও জাতীয় জরিপ অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি সাপে কাটার ঘটনা খুলনা ও বরিশাল বিভাগে। এরপর রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় সাপের দংশন বেশি হয়।

প্রশ্ন: তাহলে চিকিৎসা কীভাবে দেওয়া হচ্ছে? রাসেলস ভাইপার দংশন করেছে কি না তা কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে

উত্তর: শুধু রাসেলস ভাইপারই নয়, যে কোনো ধরনের বিষাক্ত সাপের দংশনে কেউ আক্রান্ত হয়েছেন কি না তা চিকিৎসক উপসর্গ দেখে সিদ্ধান্ত নেন। তবে রাসেলস ভাইপার দংশনে বিষক্রিয়া উপসর্গের সঙ্গে চিকিৎসকরা ২০ ডব্লিউ বি. সি. টি (২০ মিনিট হোল ব্লাড ক্লটিং টেস্ট) নামক এক ধরনের রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে বিষক্রিয়া হয়েছে কি না সিদ্ধান্ত নেন।

বিষাক্ত রাসেলস ভাইপার দংশন করলে রক্ত জমাট বাঁধায় ব্যাঘাত ঘটে এবং ২০ ডব্লিউ বি. সি. টি পজিটিভ আসে অর্থাৎ রাসেলস ভাইপার দংশন করেছে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া যায়। এ পরীক্ষায় উন্নত যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না। উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা এটি সহজেই শনাক্ত করতে পারেন।

প্রশ্ন: আমাদের দেশে অ্যান্টিভেনম ইনজেকশনের সহজলভ্যতা ও দাম কেমন? এছাড়া রাসেলস ভাইপার দংশনের জন্য কি পৃথক কোনো ইনজেকশন ব্যবহার করতে হয়?

উত্তর: আমাদের দেশে যে অ্যান্টিভেনমটি ব্যবহৃত হয় এটি চার প্রজাতির সাপের বিষ থেকে তৈরি হয়। সাপগুলো হলো কোবরা, ক্রেইট, এস এ ডব্লিউ স্কেইলড ভাইপার এবং রাসেলস ভাইপার।

বাংলাদেশে যে কোনো বিষাক্ত সাপের দংশনে (কোবরা, ক্রেইট এবং রাসেলস ভাইপার) ভারতের মতো একই ইনজেকশন ব্যবহৃত হয়। রাসেলস ভাইপার দংশনের চিকিৎসার জন্য পৃথক ইনজেকশন এখন নেই।

দেশে যে অ্যান্টিভেনম সরকারিভাবে কেনা হচ্ছে, তার এক ডোজের (১০ ভায়াল) ইনজেকশনের দাম প্রায় ১৪ হাজার টাকা। কয়েক বছর আগেও এ ইনজেকশনের দাম ছিল ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। ফলে একজন সাপে কাটা রোগীর ইনজেকশনের জন্য সরকারের ১৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়, যা সরকারিভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে।

উপজেলা, জেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চাহিদা অনুসারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (এনসিডিসি) ও ই.ডি.সি.এল (এসেনশিয়াল ড্রাগ কোম্পানি লিমিটেড) এর মাধ্যমে অ্যান্টিভেনম কেনা হয়।

প্রশ্ন: সাপে কাটা থেকে বাঁচতে সতর্কতামূলক কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে?

উত্তর: সাপের দংশন থেকে বাঁচতে সরকারিভাবে মার্চ ও এপ্রিল থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করতে হবে। বিশেষ করে বর্ষাকালে সাপ আশ্রয়ের খোঁজে বাসা-বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তবে আশার কথা হলো সব সাপই কিন্তু বিষধর নয়। দেশে সর্প দংশনের মাত্র ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বিষধর সাপের দংশন।

সাপের কামড় থেকে বাঁচতে অন্যতম উপায় হচ্ছে সাবধানে হাঁটা (আলো, লাঠি ও বুট জুতা ব্যবহার), চৌকি-মশারি (খাটের ওপরে মশারি ব্যবহার করে শোয়া), মেঝেতে না শোয়া, বসতবাড়ি, প্রাণী ও খাবার সামগ্রী উন্মুক্ত না রাখা। কারণ এসব ওদের আকর্ষণ করে। ফলে সাপ ঢুকতে পারে।

এছাড়া বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা, শস্য পাহারা ও মাছ ধরায় সাবধানতা, স্তূপাকৃত ও জমাকৃত সামগ্রী সাবধানে নাড়াচাড়া করা ও গর্তে হাত দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রশ্ন: সাপ কামড়ালে জরুরি প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও নিয়মাবলি কী কী?

উত্তর: সাপে কাটা রোগীকে অভয় দিয়ে আশ্বস্ত করতে হবে। পায়ে দংশন করলে বসে যেতে হবে, হাঁটা যাবে না। হাতে দংশন করলে হাত নাড়াচাড়া করা যাবে না। যত দ্রুত সম্ভব দংশিত অঙ্গ থেকে আংটি, চুড়ি, তাবিজ ও তাগা খুলে ফেলতে হবে।

দংশিত অঙ্গ হাড় ভেঙে গেলে যেভাবে স্প্লিন্টের সাহায্যে নড়াচড়া প্রতিরোধ করা হয় সেভাবে কাপড় ও কাঠ বা বাঁশের কঞ্চি দিয়ে পেঁচিয়ে নিতে হবে, যাতে গিঁরা নড়াচড়া না করে। গিঁরা নড়াচড়ায় মাংসপেশির সংকোচনের ফলে বিষ দ্রুত রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে গিয়ে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

তাছাড়া দংশিত স্থানে রক্তক্ষরণ হতে থাকলে চাপ দিয়ে ধরে রাখতে হবে। যথাসম্ভব দ্রুত মোটরযানে রোগীকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

রোগীকে যাত্রাপথে একপাশে কাত করে রাখতে হবে। যদি শ্বাস-প্রশ্বাস না থাকে তাহলে মুখে বায়ু ঢোকার নল ব্যবহার করতে হবে, প্রয়োজন হলে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করতে হবে।

সাপ মারবেন না। সাপ প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে ও মানুষের উপকার করে। তবে কেউ সাপ মেরে থাকলে শনাক্তকরণের জন্য সাপটি হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারেন।

প্রশ্ন: বিষধর সাপে কাটার লক্ষণগুলো কী কী?

উত্তর: দংশিত স্থান দ্রুত ফুলে যাওয়া, ফোসকা পড়া, চামড়ার রং পরিবর্তন, কালচে হওয়া, ব্যথা, পচন ধরা, ক্রমাগত রক্তপাত, ঘুম ঘুম ভাব, চোখের উপরের পাতা ভারী হওয়া বা বুজে আসা, চক্ষু গোলক নড়াচড়া করতে না পারা, ঝাপসা দেখা বা একটি জিনিসকে দুটি দেখা, জিহ্বা জড়িয়ে আসা, কথা বলতে অসুবিধা হওয়া, ঢোক গিলতে অসুবিধা হওয়া, খাওয়ার সময় নাক দিয়ে পানি আসা, হাঁটতে অসুবিধা হওয়া, হাত ও পা অবশ হওয়া, ঘাড় দুর্বল হওয়া, কালো রঙের প্রস্রাব হওয়া ও প্রস্রাব কমে যাওয়া।

প্রশ্ন: কাউকে সাপে কাটলে পরে কী কী করা উচিত নয়?

উত্তর: দংশিত অঙ্গে কোনো রকম গিঁট না দেওয়া, দংশিত স্থানে কাঁটাছেঁড়া না করা, সুঁই না ফুটানো বা কোনো প্রলেপ না দেওয়া, ওঝা বা বৈদ্য দিয়ে চিকিৎসা ও ঝাড়ফুঁক করে সময়ক্ষেপণ না করা, হাসপাতালে নেওয়ার পথে রোগীর কথা বলতে অসুবিধা হলে, নাকে কথা বললে কিংবা মুখ থেকে লালা ঝরলে রোগীকে কিছু খেতে না দেওয়া, দংশিত স্থানে রাসায়নিক পদার্থ, অ্যালকোহল জাতীয় কিছু না দেওয়া, তেল, ঘি, মরিচ ও গাছ-গাছালির রস ইত্যাদি খাইয়ে বমি করানোর চেষ্টা না করা, ব্যথা উপশমের জন্য অ্যাসপিরিন না দেওয়া

 




বাঁধের ভাঙন ঠেকাতে পারছে না জিও ব্যাগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: গলাচিপার তেঁতুলতলা গ্রামের পাশে ভাঙছে রাবনাবাদ নদীর তীর। সেখানে ফেলা জিও ব্যাগও ধসে পড়ছে।

ফলে রাবনাবাদ নদীর ভাঙনে ঝুঁকিতে পড়ছে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধের একটি অংশ। এতে উপজেলা সদরের সঙ্গে পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে বেড়িবাঁধ ও এর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সড়ক রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এতেও ভাঙন থামছে না। উল্টো বেশকিছু জিও ব্যাগ ধসে পড়ছে নদীতে।

এলাকাবাসী জানায়, ঘূর্ণিঝড় রিমাল আঘাত হানার পর বাঁধের একটি অংশ ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকে যায়। এ সময় প্লাবিত হয় ইউনিয়নের আটখালী, ডাকুয়া ও হোগলবুনিয়া গ্রাম।

আটখালীর কৃষক বাদল মৃধা বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারে লবণপানি ঢুকে পড়েছিল। এতে তাঁর ৫ কুড়ি পানের বরজ নষ্ট হয়ে যায়।

ডাকুয়ার তাজুল ইসলামের ভাষ্য, জোয়ারের নোনাপানি বাঁধ উপচে বাড়িঘর ও ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ছে। ফলে আগামী মৌসুমে চাষবাস করাই কঠিন হয়ে পড়বে।
জোয়ারে রাবনাবাদ নদীর তীব্র ঢেউ বাঁধে আছড়ে পড়ে। এতে ভেঙে যাওয়া অংশ পুরো ধসে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন আটখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক দীপক নারায়ণ ভূঁইয়া।
তাঁর ভাষ্য, বিশেষ করে অমাবশ্যা-পূর্ণিমার প্রভাবে জোয়ারের প্রবল চাপ থাকে। ভাঙন ঠেকাতে বালুর বস্তা ফেলা হলেও এ সময়কে ঝুঁকিমুক্ত বলা যাবে না। ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতেও সম্প্রতি ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

পটুয়াখালী পাউবো ও এলজিইডি সূত্র জানায়, ১৯৭৬-১৯৭৭ অর্থবছরে গলাচিপায় ৪৬ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করে পাউবো। ৫৫/১ পোল্ডারের বাঁধটি গলাচিপা পৌর এলাকা থেকে শুরু হয়েছে গলাচিপা সদর ইউনিয়ন, পানপট্টি, রতনদী-তালতলী ইউনিয়ন, ডাকুয়া পর্যন্ত গেছে। ১৯৯৫-১৯৯৬ অর্থবছরে ওই বেড়িবাঁধের ওপর সড়ক নির্মাণ করে এলজিইডি। গলাচিপা থেকে বকুলবাড়িয়া ­ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার অংশে কার্পেটিং করা হয়। এ সড়কটি গলাচিপা উপজেলা সদরের সঙ্গে ডাকুয়া, কলাগাছিয়া, চিকনিকান্দি, গজালিয়া ও বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ সহজ করে দেয়। এ ছাড়াও সড়কটি দিয়ে পটুয়াখালী জেলা সদর, দশমিনা ও বাউফল উপজেলায় সহজে যাতায়াত করা হয়। ফলে এটি এখন জেলার ব্যস্ততম একটি সড়ক।

আরো পড়ুন : পরকীয়ার অপবাদে আ. লীগ নেতাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

ডাকুয়া এলাকার বাসিন্দা গাজী গোলাম মোস্তফা সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা। তাঁর আশঙ্কা, যেভাবে বাঁধের পাশাপাশি সড়কের অংশ নদীতে ভেঙে পড়ছে, এতে তাদের এলাকা সদর থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন তিনি।

ডাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটিও ভাঙনঝুঁকিতে আছে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ রায়। তাঁর ভাষ্য, তেঁতুলতলা বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ঘরবাড়ির পাশাপাশি মসজিদ-মন্দির, দুটি বিদ্যালয়, প্রাচীন একটি জমিদারবাড়ি, সাংবাদিক নেতা আলতাফ মাহমুদের কবরস্থানটিও হুমকির মুখে। সড়কটি নদীতে ধসে পড়লে পাঁচ ইউনিয়নের দেড় লাখ মানুষ ভোগান্তিতে পড়বে। তাই নদীশাসন ও খনন করে গতিপথ বদলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এলজিইডির গলাচিপা উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, সম্প্রতি তাঁর দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ভাঙনঝুঁকিতে থাকা সড়কটি পরিদর্শন করেছেন। শুরুতে বাঁধ মেরামত করে পরে কার্পেটিং সড়ক নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এখন বাঁধের কাজ চলছে। তা শেষ হলেই সড়ক নির্মাণ শুরু করা যাবে।

রাবনাবাদের জোয়ারে তেঁতুলতলায় বাঁধের ১০০ মিটার ভাঙনের কবলে পড়েছে জানিয়ে পটুয়াখালী পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মিরাজ গাজী বলেন, ঘূর্ণিঝড় রিমাল ও পূর্ণিমার জোয়ারে ১০ মিটার অংশ ধসে পড়েছে। সঙ্গে সড়কও ভেঙেছে। ভাঙন রোধে তারা জিওব্যাগ ফেলছেন।

তাঁর দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ হোসেন জানান, ভাঙন রোধে প্রাথমিকভাবে ৫০ হাজার জিওব্যাগ ফেলে নদী সংরক্ষণকাজ শুরু হয়েছে। এতে এক কোটি ৭২ লাখ টাকা খরচ ধরা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১২ হাজার ব্যাগ ফেলা হয়েছে।