রিজার্ভ কমলো ১৩২ কোটি ডলার




বাউফলে দুই ব্যাটারিচালিত গাড়ির সংঘর্ষে একজন নিহত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে সেলিম সরদার (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১০ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বাউফল-কালাইয়া সড়কে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন অপর আরও তিনজন। সবার বাড়ি উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ব্যাটারিচালিত একটি অটো গাড়ি যাত্রী নিয়ে কালাইয়া থেকে বাউফলের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। বাউফল-কালাইয়া সড়কের ফায়ার সার্ভিস এলাকায় পৌঁছলে অপরদিক থেকে আসা আরেকটি অটো যাত্রীবাহী গাড়িটিকে ধাক্কা দিলে ছিটকে পাশে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এক বৃদ্ধ। আহত হন এক নারী ও শিশুসহ তিনজন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

গুরুতর আহত অবস্থায় মাহফুজা বেগম (৩২) ও সিদ্দিক সরদারকে (৭৯) বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফাতেমা আক্তার বলেন, একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। অপর দুইজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বরিশাল শের- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।




বগুড়ায় রথযাত্রায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৫ জনের মৃত্যু, আহত অর্ধশতাধিক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বগুড়ায় রথযাত্রায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৫ জনের মৃত্যু এবং অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন।
বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, রোববার বিকেল সাড়ে ৫ টায় বগুড়া শহরের সেউজগাড়ী এলাকায় রথযাত্রার সময় রথের চূড়ার সাথে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, রঞ্জিত, নরেশ, আতশী, অলক ও সবিতা।

বগুড়া সদর থানার ওসি সাইহান আহমেদ জানান, আহতদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে নেয়ার পর ৪ জন এবং মোহাম্মদ আলী হাসপাতলে ১ জনের মৃত্যু হয়।

রোববার বিকাল ৫টায় সনাতন ধর্মের রথ যাত্রার উদ্বোধন করেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রাগবুল আহসান রিপু, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম ও জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী। উদ্বোধনের ২০ মিনিট পর রথযাত্রা শুরু করে বনানী শিবমন্দিরে যাবার প্রাক্কালে সেউজগাড়ী এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।




রোগী ও ডাক্তার উভয়কেই সুরক্ষা দেয়া হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বরিশাল অফিস :: স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন রোগী ও ডাক্তার উভয়কেই সুরক্ষা দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, রোগী যাতে যথাযথ চিকিৎসাসেবা পায় সেটা দেখা যেমন সরকারের দায়িত্ব তেমনি ডাক্তাররাও যাতে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে সুরক্ষা পায় সেটা দেখাও তাদের দায়িত্ব।

চটগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে কর্তব্যরত ডাক্তারদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। আজ এক তথ্যবিবরণীতে একথা বলা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চটগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে বিদ্যমান সকল ধরনের সমস্যার সমাধান করা হবে। এ হাসপাতালে এমআরআই মেশিন, সিটি স্ক্যান নষ্ট এটা শুনতে খারাপ লাগে। ঢাকার পর চট্টগ্রাম বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। তাই জরুরি ভিত্তিতে সকল সমস্যার সমাধান করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, দেশে উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা থাকা সত্ত্বেও মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশ চলে যায়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিজেই দেশে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। একইভাবে সংসদ সদস্যরা যার যার স্থানীয় হাসপাতালে গিয়ে যদি চিকিৎসাসেবা নেন তাহলে দেশের সকল হাসপাতালে চিকিৎসার মান উন্নত হবে এবং চিকিৎসার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরে আসবে। ফলে মানুষ চিকিৎসা সেবার জন্য আর বিদেশ যাবে না।
মন্ত্রী প্রাইভেট হাসপাতালের উদ্দেশ্যে বলেন, একটা হাসপাতালে যদি ইমার্জেন্সি ডাক্তার না থাকে, অক্সিজেন সিলিন্ডার খালি থাকে তাহলে তারা রোগীকে কি সেবা দেবে? প্রাইভেট ক্লিনিক অবশ্যই চলবে, আমি তার বিরুদ্ধে নই। কিন্তু তাদেরকে সব নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে।

পরিদর্শনের শুরুতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ বার্ন ইউনিটের সাইট পরিদর্শন করেন। পরে তিনি ইউরোলজি, পেডিয়াট্রিক, শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ বিভাগে ভর্তিকৃত শিশু ও তাদের অভিভাবকদের সাথে কথা বলেন। এছাড়া এ বিভাগের কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সদের সাথেও তিনি চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সাহেনা আক্তার, চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস চৌধুরীসহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।




রাঙ্গাবালীতে সেতু ভেঙে আহত পথচারী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে সেতু ভেঙে খালে পড়ে সুজন হাওলাদার নামের এক যুবক আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আমলাভাঙ্গা খালের ওপর নির্মিত সেতুটি ভেঙে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত ওই যুবক উনিশ নম্বর (রাঙ্গাবালী) গ্রামের সালাম হাওলাদারের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ১৮ থেকে ২০ বছর আগে আমলাভাঙ্গা খালের ওপর এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়।

খালের পশ্চিম পাড়ে কাছিয়াবুনিয়া এবং পূর্ব পাড়ে রাঙ্গাবালী গ্রাম ফলে প্রতিদিন সেতুটি দিয়ে কয়েকশত মানুষ এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে আসা যাওয়া করতো। দীর্ঘদিন ধরে ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় ছিলো সেতুটি। এমনকি সেতুটির মাঝখানে ঢালাই সরে গিয়ে রড বের হয়েছিলো। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কারো নজরে আসেনি। শুক্রবার সকালে সেতুটি ভেঙে গিয়ে একজন আহত হন।

আহত যুবকের পরিবারের সদস্যরা জানায়, শুক্রবার সকালের মহিষ নিয়ে খালপাড় হচ্ছিল সুজন। এ সময় মহিষের একটি বাচ্চা সেতুর ওপর উঠে গেলে মহিষটাকে নামাতে সেতুতে সুজনও উঠে। তবে, মহিষ দ্রুত নেমে পড়লেও সুজন মাঝামাঝি থাকা অবস্থায় সেতটিু ভেঙে পড়ে।
এ সময় তার মাথায় আঘাত লাগে। হাত ও পিঠে মারাত্মক জখম হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে আনা হয়েছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ৩ যাত্রীবাহী বাস থেকে ২৬ মণ সামুদ্রিক মাছ জব্দ, জরিমানা

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এটি একটি পুরাতন ব্রীজ ছিল। অনেক আগে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে করা হয়েছিল।

ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ সাইনবোর্ড সাঁটানো জন্য তালিকাও করেছি। এর মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে গেছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না। তবে খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মু. সাইদুজ্জামান মামুন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় ছিলো। ইতোমধ্যে এলজিইডিকে অবহিত করা হয়েছে। ওখানে নতুন একটা সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া চলমান।




গলাচিপায় ফ্যান ছিঁড়ে শিক্ষার্থী গুরুতর আহত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় বুধবার মাথায় শ্রেণিকক্ষের সিলিং ফ্যান ছিঁড়ে পড়ে প্রিয়াংকা পাল নামে এক ছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। তাৎক্ষণিক ওই ছাত্রীকে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এতে তার মাথায় ৫/৬টি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, প্রিয়াংকা গলাচিপা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের একটি জরাজীর্ণ কক্ষে ১৮ জন ছাত্রী পরীক্ষা দিচ্ছিল। এ সময় ফ্যান ছিঁড়ে নিচে পড়ে। তখন প্রিয়াংকার পাশে থাকা এক শিক্ষার্থী তাকে ধাক্কা দেয়। তাই সরাসরি মাথার ওপর না পড়ে কানের কাছে ফ্যানের পাখা লাগলে প্রিয়াংকা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। দুই বছর আগেও একই ভবনে আরেক ছাত্রী এভাবে আহত হয়েছিল বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান।

আরো পড়ুন : রাঙ্গাবালীতে গৃহবধূকে মারধর করায় আদালতে মামলা

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আলমগীর হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, গলাচিপা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে প্রিয়াংকাকে বাসায় নেওয়া হয়েছে। সব চিকিৎসা খরচ স্কুল কর্তৃপক্ষ বহন করেছে।




বরিশালে হাসপাতালগুলোতে ৬ মাসে ৫৩ হাজার ডায়রিয়া রোগী

বরিশাল অফিস ::  বছরের প্রথম ৬ মাসেই ডায়রিয়া সহ নানা ধরনের পেটের পীড়া নিয়ে বরিশালের সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রায় ৫৩ হাজার রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। ইতোমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের।

অপরদিকে বর্ষার আগমনের সাথে ডেঙ্গুও হানা দিতে শুরু করেছে বরিশাল অঞ্চলে। গত একমাসে বরিশালের সরকারি হাসপাতালেই ১০৬ ডেঙ্গু রোগী ভর্তির খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এনিয়ে সরকারি হাসপাতালেই প্রায় ৩৯ হাজার ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার কথা জানিয়ে ২১৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর। মে মাসেও প্রায় দেড়শ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিল হসপাতালগুলোতে।অপরদিকে গত এপ্রিলে ১২ হাজার এবং মে মাসে সাড়ে ৮ হাজারের পরে জুন মাসেও সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রায় ৮ হাজার ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করে বরিশারেল সরকারি হাসপাতালে।

তবে একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সহ সাধারন চিকিৎসকদের মতে, বরিশালে যে সংখ্যক ডায়রিয়া ও ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয় বা চিকিৎসা গ্রহণ করে, তার কয়েকগুন চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বাড়ীতে চিকিৎসা গ্রহণ করছে। ফলে এ অঞ্চলে ডায়রিয়া ও ডেঙ্গু রোগীর প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয় করা সম্ভব না। তবে সব চিকিৎসকরাই পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয় বলে জানিয়ে অবিলম্বে ডেঙ্গুর বিষয়ে বিশেষ নজরদারী সহ সুষ্ঠু কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সিটি করপোরেশন সহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন। তা না হলে পরিস্থিতি গতবছরের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে বলেও শংকা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।

গত বছরও বরিশালের সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রায় ৭২ হাজার ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। যে সংখ্যাটা আগের বছর ছিল ৭৭ হাজারেরও বেশী। আর ২০২১ সালে করোনা মহামারীর সর্বোচ্চ সংক্রমনের মধ্যেও বরিশালে প্রায় ৮০ হাজার ডায়রিয়া রোগী সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার জন্য আসেন। চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসেই প্রায় ৫৩ হাজার ডায়রিয়া রোগী সরকারি হাসপাতালে আসায় বছর শেষে সংখ্যাটা সাম্প্রতিক বছরগুলোর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে।

এদিকে ফেব্রয়ারীর শেষ থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও মে থেকে ধীরে ধীরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। তারা এ ব্যাপারে নজরদারী সহ জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণেরও তাগিদ দিয়েছেন।

অপরদিকে বিশুদ্ধ পানি ও স্যনিটেশন ব্যবস্থার অনেক উন্নতির পরেও ডায়রিয়া প্রবন বরিশাল অঞ্চলে এ রোগ প্রতিরোধ সম্ভব হচ্ছে না। তবে এর পেছনে পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার চেয়ে এখন পথ খাবারের দোকানের নিম্নমানের মুখরোচক খাবারকে দায়ী করছেন চিকিৎসকরা। বরিশাল মহানগরীতে সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত ও অননুমোদিত পথ খাবারের দোকানের সংখ্যাই এখন কয়েক হাজার। এসব দোকানের নিম্নমানের এবং বাসি ও মুখরোচক খাবার নগরবাসীর পেটের পীড়াকে ক্রমাগত বৃদ্ধি করে চললেও তা নিয়ে জনসচেতনতার অভাবের সাথে এসব খাবার বিক্রি বন্ধে নগর ভবনের কার্যকরি কোন পদক্ষেপ নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ সব ব্যাপারে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বার্তা২৪.কমকে বলেন, ডায়রিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবিড় কার্যক্রমের কোন বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে পথ খাবারের দোকানের খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন এ কর্মকর্তা। পাশাপাশি ডেঙ্গুর একমাত্র বাহন এডিস মশা নিধনেও তিনি অবিলম্বে ‘জিরো টলারেন্স’ নিয়ে সবগুলো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে মাঠে নামার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। পাশাপাশি ডায়রিয়া ও ডেঙ্গু সহ যেকোন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

ডায়রিয়া চিকিৎসায় বরিশালে ১ হাজার ও ৫শ এম এল-এর  প্রায় ৩০ হাজার ব্যাগ আইভি স্যালাইন ছাড়াও বিপুল সংখ্যক এ্যন্টিবায়োটিক ক্যাপসুল ও মেট্রোনিডাজল ট্যাবলেট সহ সব ধরনের চিকিৎসা সামগ্রীর মজুতের কথাও জানিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক।



দশমিনায় ট্রলি ও অটোরিকশার সংঘর্ষে আহত ৪

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দশমিনায় ট্রলি ও অটোরিকশার সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছেন।মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে উপজেলা হাসপাতালের সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার হাসপাতাল সড়কের সামনে বাংলাবাজার থেকে গাছবাহী ট্রলি পৌঁছায়। এ সময় আটোরিকশাটি মূল সড়কে ওঠার সময় সংঘর্ষ হয়। এতে করে ট্রলি উল্টে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলে ট্রলিটির চালক জাকির, সহযোগী জাহির, হেল্লাল ও বশার আহত হন। পরে আহতদের স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভর্তি করা হয়।

আরো পড়ুন : এক সপ্তাহ পর ফের উৎপাদনে পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ঘটনার বিষয় শুনে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। গাড়ি দুটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।




বর্ষাকালে যেসব খাবার এড়িয়ে চলতে হবে




আমতলীতে থামছেই না মৃত্যুর মিছিল – এক সপ্তাহে ১২ প্রাণহানি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বরগুনার আমতলীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। গত এক সপ্তাহে পৃথক কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন।

সবশেষ গতকাল রবিবার (৩০ জুন) বরিশাল থেকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে কলাপাড়া যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। আমতলী- পটুয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের ডাক্তারবাড়ী নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন, আহত হন আরো একজন।

এর আগে গত শুক্রবার (২৮ জুন) একই সড়কে আমতলীর মহিষকাটা বাজারে মোটরসাইকেল ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন মাছ ব্যবসায়ী নিহত হন। আহত হন আরো চারজন।

একইদিন আমতলীর ঘটখালীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে আহত হন পাঁচজন।

গত ২২ জুন বৌভাতে যাওয়ার পথে হলদিয়াহাট লোহার সেতু ভেঙে মাইক্রোবাস খালে পড়ে নারী ও শিশুসহ ৯ জন নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় আহত হন আরো অন্তত আটজন।

এছাড়াও গত এক সপ্তাহে উপজেলার আমতলী- তালতলী সড়কসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কে পৃথক মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক দুর্ঘটনায় আরো অন্তত ২৬ জন আহত হয়েছেন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে বঙ্গোপসাগর উত্তাল – ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত

এ বিষয়ে আমতলীর প্রবীণ সাংবাদিক খান মতিয়ার রহমান বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলের সড়কপথে যানবাহনের চাপ অনেক বেড়ে গেছে। সে অনুযায়ী যানবাহন চলাচলের জন্য সড়ক প্রশস্থ করা হয়নি। এছাড়া গাড়ির চালকদের অদক্ষতা, অসচেতনতা ও আঞ্চলিক মহাসড়কের সড়ক অব্যবস্থাপনাই প্রাণহানির প্রধান কারণ। তবে পটুয়াখালী-আমতলী ও কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নতি করা প্রয়োজন, তা নাহলে সড়ক দুর্ঘটনা ঠেকানো অসম্ভব হয়ে যাবে।’

সচেতন মহল অবিলম্বে পটুয়াখালী-আমতলী ও কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কটি চারলেন ও হাইওয়েতে পুলিশ দেওয়ার জোর দাবি জানান। না হলে মৃত্যুর মিছিল থামানো যাবে না বলে মত তাদের।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, ‘আমরা ট্রাফিক বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এছাড়া সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে আইনি প্রক্রিয়াও যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছি।’

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, ‘চালকদের চোখে পড়ে এমন রোড সাইন, রোড পোস্ট এবং মার্কিং করা জরুরি। প্রয়োজনে আমতলীতে দ্রুত হাইওয়ে পুলিশের ব্যবস্থা করা দরকার। হাইওয়ে পুলিশ থাকলে সড়কে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে যাবে।