ধুমপানের ক্ষতি ও মুক্তির উপায়: স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: ধুমপান বর্তমানে বিশ্বব্যাপী একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ধুমপানের ফলে শুধু ধূমপায়ীদের জীবন নয়, বরং আশেপাশের মানুষের জীবনও ঝুঁকিতে পড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ধুমপান সংক্রামক রোগ, হৃদরোগ এবং ফুসফুসের ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগের অন্যতম কারণ।

ধুমপানের স্বাস্থ্যগত ক্ষতি

ধুমপানের ফলে শরীরে যে সকল ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে তা নিম্নরূপ:

1. **ফুসফুসের স্বাস্থ্য**:
– ধুমপান ফুসফুসের কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটি ব্রঙ্কাইটিস, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD) এবং ফুসফুসের ক্যান্সার সৃষ্টি করে।
– ধূমপায়ীদের ফুসফুসের ক্ষমতা কমে যায়, যা শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা সৃষ্টি করে।

2. **হৃদরোগ**:
– গবেষণা দেখিয়েছে, ধুমপায়ীদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। সিগারেটের ধূঁয়া রক্তের ভিতরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

3. **ক্যান্সার**:
– ধূমপান ক্যান্সারের প্রধান কারণ। এটি শুধু ফুসফুসের ক্যান্সারই নয়, বরং মুখ, গলা, খাদ্যনালী এবং প্যানক্রিয়াসের ক্যান্সার সৃষ্টি করে।

4. **গর্ভাবস্থা**:
– গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ধুমপান মারাত্মক ক্ষতিকর, যা গর্ভপাত এবং অকাল প্রসবের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া শিশুর জন্মগত ত্রুটি এবং জন্মের পর শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা সৃষ্টি করে।

5. **মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি**:
– ধূমপায়ীরা বিষণ্নতা এবং উদ্বেগের মতো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগতে পারে।

পরিবেশগত ক্ষতি

ধুমপানের কারণে সৃষ্ট ধোঁয়া বায়ু দূষণের জন্য দায়ী। এটি পরিবেশে বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি বাড়িয়ে দেয় এবং বায়ুর গুণগত মানকে খারাপ করে। সিগারেটের আবর্জনা মাটি এবং জলকে দূষিত করে, যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর ৪.৫ ট্রিলিয়ন সিগারেটের তামাক খোঁজার কারণে এশিয়ার দেশগুলোর পরিবেশে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

অর্থনৈতিক ক্ষতি

ধূমপায়ীদের জন্য সিগারেট ক্রয় একটি বড় খরচ। সিগারেটের দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। চিকিৎসা খরচের কারণে স্বাস্থ্যগত সমস্যায় আক্রান্তদের অর্থনৈতিক অসুবিধারও সম্মুখীন হতে হয়। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশে বছরে ৩৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি সিগারেট ও তামাকজাত দ্রব্যের ক্রয় করা হয়, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে।

মুক্তির উপায়

ধুমপান ছাড়ার জন্য একাধিক কার্যকরী উপায় রয়েছে:

1. **সঠিক পরিকল্পনা**:
– ধুমপান ছাড়ার একটি পরিকল্পনা তৈরি করুন এবং একটি নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করুন।

2. **মানসিক প্রস্তুতি**:
– নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করুন এবং ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলুন।

3. **সমর্থন নিন**:
– বন্ধু ও পরিবারের সমর্থন গ্রহণ করুন, যা আপনাকে উৎসাহিত করবে।

4. **অভ্যাস পরিবর্তন**: 
– ধুমপান করার সময় বিকল্প কিছু করুন, যেমন হাঁটতে যাওয়া বা অন্য কিছু খাওয়া।

5. **নিকোটিন প্রতিস্থাপন থেরাপি**:
– নিকোটিন গাম বা প্যাচ ব্যবহার করে আসক্তি কমানোর চেষ্টা করুন।

6. **পেশাদার সাহায্য**:
– ডাক্তার বা কাউন্সেলরের সাহায্য নিন, যারা আপনাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দিতে পারবেন।

7. **ধূমপান বিরোধী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ**:
– বিভিন্ন ধূমপান বিরোধী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করুন।

8. **নতুন শখ ও আগ্রহ তৈরি করুন**:
– নতুন শখ গড়ে তুলুন, যা আপনাকে ধূমপানের চিন্তা থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে।

বিশেষজ্ঞদের বার্তা

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “ধুমপান ছাড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। এটি শুধু আপনার জন্যই নয়, বরং আপনার আশেপাশের সকলের জন্য নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করবে।”

দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে। ধুমপান এখন একটি সামাজিক সমস্যা, তাই সকলকে একত্রিত হয়ে এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। একটি সুস্থ জাতি গড়ার লক্ষ্যে ধুমপান ত্যাগই হবে প্রথম পদক্ষেপ।

সুতরাং, প্রত্যেক ধূমপায়ীকে আহ্বান করা হচ্ছে—এখনই সিগারেটের নেশা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য পদক্ষেপ নিন, যাতে নিজেদের এবং সমাজের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।




গ্যাস্ট্রিক সমস্যা: কারণ, প্রতিকার, এবং প্রতিরোধের উপায়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রায় অনেকেই গ্যাস্ট্রিক সমস্যার মুখোমুখি হন। পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড উৎপাদনের ফলে সৃষ্ট এই সমস্যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। কিন্তু এর মূল কারণগুলো জানা এবং প্রতিকার গ্রহণের মাধ্যমে এই সমস্যাকে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

**গ্যাস্ট্রিক সমস্যার কারণ**

গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটি পাকস্থলীর অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে হয়, যা খাদ্য হজমের প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি করে। এর কিছু প্রধান কারণ হলো:

1. **অনিয়মিত খাবার খাওয়া**: অনেকেই ব্যস্ততার কারণে সময়মতো খাবার খেতে পারেন না। দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকলে পাকস্থলী অ্যাসিড উৎপন্ন করে, যা গ্যাস্ট্রিক সমস্যা তৈরি করে।
2. **অতিরিক্ত মশলাযুক্ত ও তৈলাক্ত খাবার**: বেশি মশলা ও চর্বিযুক্ত খাবার পাকস্থলীতে অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স এবং গ্যাস্ট্রিক সমস্যা দেখা দেয়।
3. **ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল**: অতিরিক্ত চা, কফি বা অ্যালকোহল গ্রহণ পাকস্থলীতে অ্যাসিড উৎপাদনকে বাড়িয়ে দেয়।
4. **মানসিক চাপ**: উদ্বেগ এবং মানসিক চাপের কারণে হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা হয়, যা গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সৃষ্টি করে।
5. **অনিয়মিত ঘুম**: ঘুমের অভাবে পাকস্থলীর হজম প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে এবং গ্যাস্ট্রিক সমস্যা বাড়ে।

**গ্যাস্ট্রিক সমস্যার লক্ষণ**

গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:

– পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া
– বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব করা
– ঢেঁকুর তোলা
– গলা জ্বালা করা
– পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি

 **গ্যাস্ট্রিক থেকে বাঁচার উপায়**

গ্যাস্ট্রিক সমস্যার প্রতিকার এবং প্রতিরোধের জন্য কিছু কার্যকর পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে:

1. **নিয়মিত খাবার খাওয়া**: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়মতো পরিমিত খাবার খেলে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হবে না। বড় খাবার এড়িয়ে কয়েকটি ছোট ছোট খাবারের অভ্যাস করা যেতে পারে।
2. **মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা**: ঝাল, মশলাযুক্ত ও চর্বিযুক্ত খাবার কম খেলে গ্যাস্ট্রিক সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
3. **ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল পরিহার**: চা, কফি ও অ্যালকোহলের অতিরিক্ত সেবন থেকে বিরত থাকা উচিত।
4. **প্রচুর পানি পান**: দৈনিক পর্যাপ্ত পানি পান করলে পাকস্থলীর অ্যাসিড নির্গমন কম হয়।
5. **নিয়মিত ব্যায়াম**: শরীরকে ফিট রাখতে এবং হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে নিয়মিত ব্যায়াম করা প্রয়োজন।
6. **খাওয়ার পর শুয়ে না পড়া**: খাবারের পরপরই শুয়ে পড়লে অ্যাসিড রিফ্লাক্স হতে পারে। তাই খাওয়ার পর অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা বসে থাকা উচিত।
7. **ধূমপান পরিহার**: ধূমপান পাকস্থলীর অ্যাসিড নিঃসরণ বাড়ায় এবং গ্যাস্ট্রিক সমস্যা বাড়িয়ে তোলে।
8. **চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ**: প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টাসিড বা অন্যান্য ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে।

**গ্যাস্ট্রিক সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ**

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা এড়াতে দীর্ঘমেয়াদে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক চাপ কমানোর জন্য ধ্যান, ইয়োগা বা রিলাক্সেশন থেরাপির সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং পাকস্থলীর সমস্যার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও অপরিহার্য।

 

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা প্রতিদিনের জীবনের একটি অস্বস্তিকর দিক হতে পারে, তবে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত জীবনযাত্রার অভ্যাস পরিবর্তন এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে গ্যাস্ট্রিক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়।




সৈকত দেখে ফেরার পথে নিহত ৮ জনের পরিচয় মিলেছে

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকত দেখে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত আটজনের পরিচয় মিলেছে। বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) সকালে সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাজাহান কবীর নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন: শেরপুরে খোলআচার পাড়ার মোতালেব (৪৫), তার স্ত্রী সাবিনা আক্তার (৩০), মেয়ে মুক্তা (১২), ছেলে সোয়াইব (২), পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হোগলাবুনিয়া এলাকার শাওন মৃধা (৩২), তার স্ত্রী আমেনা বেগম ও তার দুই ছেলে আবদুল (৩) এবং শাহাদাৎ (১০)।

এর আগে বুধবার (৯ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পিরোজপুর-নাজিরপুর আঞ্চলিক সড়কের নূরানীগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শাওনের আত্মীয় মুরাদ জানান, প্রাইভেট কারটি পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে পিরোজপুরের নাজিরপুর হয়ে ঢাকা যাওয়ার কথা ছিলো। পথে উপজেলার নূরানীগেট এলাকায় গাড়িটি দুর্ঘটনায় পড়ে।

সদর থানার এসআই শাজাহান কবীর জানান, একটি প্রাইভেট কার কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকত থেকে পিরোজপুরের নাজিরপুর যাচ্ছিল। পথে রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার কদমতলা এলাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি রাস্তার পাশে খালে পড়ে যায়। বিষয়টি দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।

পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে একে একে শিশুসহ গাড়িতে থাকা আটজনকে উদ্ধার করেন। তাদের সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক সবাইকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মৃতদেহ ওই হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকিত হাসান জানান, প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মোতালেব নামে একজনের আইডি-কার্ড থেকে তার পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি সেনাবাহিনীর সিভিল স্টাফ ছিলেন।




নারায়ণগঞ্জের বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র কালির বাজারে আগুন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: নারায়ণগঞ্জ শহরের বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র কালির বাজারের মশলাপট্টিতে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৪ টি ইউনিট।

আজ রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুনের লেলিহান শিখা বাড়তে থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কালির বাজার মসলাপট্টিতে আগুনের খবর পান তারা। আস্তে আস্তে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে।

শহরের উঁচু দালান থেকে আগুনের কুন্ডলী দেখতে পায় মানুষ। তবে কি কারণে আগুনের সূত্রপাত, তা তাৎক্ষণিক জানা যায়নি।

কালির বাজার নারায়ণগঞ্জ শহরের বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এর একদিকে ওষুধের দোকান, কাপড়ের দোকান, অন্যদিকে খাদ্যসামগ্রীর পাইকারি দোকান রয়েছে।

এদিকে, আগুনের খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ মন্ডলপাড়া ও হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এছাড়া অনেক স্বেচ্ছাসেবী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

হাজিগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের অফিসার গোলাম মোস্তফা জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে কালির বাজারে মন্দিরের পিছনের এলাকা মশলা পট্টিতে আগুন লেগেছে। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার স্টেশন ও হাজিগঞ্জ ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি করে মোট ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে।




নানির সাথে ঘুরতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরল সাংবাদিকপুত্র

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নানির সাথে ঘুরতে বের হয়ে অটোভ্যানের সাথে ধাক্কা লেগে লাবিব ইসলাম (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

নিহত লাবিব কুয়াকাটার নবীনপুর গ্রামের বাসিন্দা জাকারিয়া জাহিদের বড় ছেলে। জাকারিয়া জাহিদ দৈনিক আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার কুয়াকাটা প্রতিনিধি এবং পর্যটন ব্যবসায়ী।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নানি জামিলা খাতুন সকালে লাবিব ও তার ছোট ভাই লিহানকে নিয়ে শরীরচর্চা করতে বের হন। সেখান থেকে একটি অটোভ্যানে বাসায় ফেরার পথে পিছন থেকে আরেকটি অটোভ্যান অতিক্রম করার সময় সামান্য ধাক্কা লেগে উল্টে যায়। এতে লাবিবের মাথায় আঘাত লাগে। তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনার বিস্তারিত জেনেছি। নিহতের পরিবার থেকে কোনো অভিযোগ নেই। পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’




ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১০১৭




পটুয়াখালীতে ডেঙ্গুতে তরুণের মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনিস নামের ২২ বছর বয়সী এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) মারা যান তিনি। এ নিয়ে গত ৯ মাসে বরিশাল বিভাগে মোট ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত নতুন ৭০ জন রোগী বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এরমধ্যে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩ জন, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮ জন, পটুয়াখালীর অন্যান্য হাসপাতালে ৭ জন, ভোলায় ১০ জন, পিরোজপুরে ৪ জন, ঝালকাঠিতে ১ জন, এবং বরগুনায় ২৭ জন।

এই ৭০ জনসহ বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে ২৩৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ২৭৩২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন ২৪৭৮ জন।

মূলত বর্ষাকালেই ডেঙ্গুর উপদ্রুপ বাড়ে দেশে। তারই অংশ হিসেবে বরিশাল বিভাগেও ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে চিকিৎসার পাশাপাশি এডিস মশা যেন না জন্মাতে পারে সেই উদ্যোগ নেওয়া উচিত। অর্থাৎ জনসচেতনতা না বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমানো সম্ভব নয় বলে মনে করেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক।




গত ২৪ ঘণ্টায় বছরের সর্বোচ্চ ডেঙ্গু শনাক্ত, মৃত্যু ৮

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : দেশে ক্রমেই বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গু নিয়ে চলতি বছরের রেকর্ড এক হাজার ২২১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৭৮৬ জনে। এ সময় নতুন করে আরও আট জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে মশাবাহিত রোগটিতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৮ জনে।

এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর রেকর্ড ৯২৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এক হাজার ২২১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায়ই ৪৩৪ জন রয়েছেন। এছাড়া ঢাকা বিভাগে ২৬৭ জন, বরিশালে ৭৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮৩ জন, খুলনায় ১৩৪ জন, ময়মনসিংহে ৪৮ জন ও রাজশাহীতে ৫৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৯ হাজার ৭৮৬ জন। এর মধ্যে ৬২ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ নারী।




বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত বাকেরগঞ্জের সাজিদ ও রাসেলের পরিবারে কান্না থামছেইনা

এস এস টি তুহিন :: মায়ের চোখের জল শুকিয়ে গেছে। সন্তানের লাশ কাঁধে নিয়ে দাফন সম্পন্ন করার পর থেকে নির্বাক বাবা। পৃথিবীর সব ভার এখন তাকে ঋজু করে দিয়েছে। ছোট্ট শিশুটিকে বুকে আঁকড়ে ধরে নিহতের স্ত্রীর আহাজারিতে আকাশ-পাতাল ভারী হয়ে ওঠে। শিশুটি আজো ডাকে বাবা বাবা বলে। শিশুর ডাকের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে মায়ের কান্না। ওকে কি করে বোঝাবে মা? ওর বাবা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। সদ্য বিধবা হওয়া মায়ের আকুতি ‘আমার কি হবে? এই বয়সে কি আমার বিধবা হওয়ার কথা ছিলো? আমার এই শিশু সন্তানের কি হবে।

বরিশালের একই গ্রামে দু’জন শহীদ পরিবারে এই চিত্র যেন সারা বাংলাদেশের ৭০৮ জন শহীদ পরিবারের কান্নার প্রতিনিধিত্ব করছে। ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থানের দিন ৫ ই আগস্ট ঢাকার সাভারে ও বাড্ডায় পুলিশ-ছাত্রলীগের গুলিতে বুকে-পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার মোট ছয়জন। তাদের মধ্যে তিনজন একই ইউনিয়নের বাসীন্দা। তাদের মধ্যে আবার দু’জনের বাড়ি একই গ্রামে।

সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত শহীদের যে পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে সেখানে দেখা যায় বাকেরগঞ্জ উপজেলাতেই ৬ জন।

বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া খেয়াঘাট থেকে বাসে গোমা ফেরীঘাট। ফেরী বা খেয়া পার হলেই ওপারে বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়ন। গোমা বাজার থেকেই ব্যবসায়ীদের মুখে মুখে শোনা গেল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ তিনজনের কথা। তবে শহীদদের নাম জানা নেই বেশিরভাগ মানুষের। হোটেল ও চা দোকানের ব্যবসায়ী মঈনউদ্দীন জানালেন, দুধল ইউনিয়নের কবিরাজ ডিকিপি স্কুল সংলগ্ন এক বাড়িতে একজন এবং এই সড়ক ধরে সোজা সামনের স্টেশনে সুন্দরকাঠী গ্রামে দুজন শহীদ এর বাড়ি। একজন তালুকদার বাড়ি আর অন্যজন একটু ভিতরে হাওলাদার বাড়ি। গোমা বাজার থেকে ইজিবাইকে সুন্দরকাঠী বাজার মাত্র ১০ মিনিটের পথ।

এখান থেকে আবার অটোভ্যানে প্রায় ২০ মিনিট চলার পর পূর্ব সুন্দরকাঠী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গরুর হাট। থেমে থেমে বৃষ্টি চলমান থাকায় সড়কে ও গরুর হাটে মানুষের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। এখানে খালের উপর সেতু পার হয়ে ওপারে হেরিংবন অর্থাৎ ইটা বিছানো পায়েচলা পথ। বৃষ্টির কারণে পিছলে যাচ্ছে পা। মাঝেমধ্যে আবার কাঁদামাটি। এভাবে কিছুদূর চলার পর ইট বিছানো পথ শেষে শুরু হলো কাঁদামাটির পিচ্ছিল পথ। এই পিচ্ছিল পথ ধরে ১০ মিনিট হাঁটার পর অনেকের কাছে জিজ্ঞেস করে করে অবশেষে যে করবটি পাওয়া গেল সেটি হাওলাদার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থান।

পাশেই হাওলাদার বাড়ি। পলিথিন ব্যবহার করে ঢেকে রাখা এই কবরটি ঢাকার বাড্ডায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ সাজিদ হাওলাদার এর। তাঁর বড় চাচা মতি হাওলাদার এলাকায় খুব পরিচিত। তিনি জানালেন, সাজিদ এর বাবা আমার মেজ ভাই মিলন হাওলাদার পরিবার নিয়ে ঢাকাতেই থাকেন। সাজিদও ঢাকায় বড় হয়েছে তাই গ্রামের মানুষ তাকে চেনেনা। আমরা যতটুকু সাজিদকে দেখেছি বা জানি, সে অত্যন্ত নিরীহ, বিনয়ী ও ভদ্র একজন যুবক। বছর পাঁচেক হয়েছে বিয়ে করেছে। স্ত্রী ছাড়াও শিশু সন্তান রয়েছে। যার বয়ছ মাত্র দুই-তিন বছর। পরিবারের সবাই ঢাকায় থাকার কারণে সাজিদ এর কবরের পাশে কোনো স্মৃতিচিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি।

একই পথে বহুকষ্টে আবার ফিরে আসা সুন্দরকাঠী বাজারে। এখানে বসতেই স্থানীয় যুবদলের নেতা সোহান তালুকদার এগিয়ে এসে পরিচিত হলেন। তার কাছেই জানাগেল, কবাই, পাদ্রী শিবপুর, চরাদিতে একজন করে মোট তিনজন এবং এই দুধল ইউনিয়নে তিনজনসহ মোট ছয়জন শহীদের কবর রয়েছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায়। কবিরাজ গ্রামের ডিকিপি স্কুল সংলগ্ন খোন্তাখালি মোল্লা বাড়িতে ওদুদ নামে একজন শহীদের কবর রয়েছে। আর এই সুন্দরকাঠী গ্রামে দুজন। সোহান নিজেই পথ দেখিয়ে নিয়ে চললেন তারই আপন চাচাতো ভাই শহীদ রাসেল তালুকদার এর কবরের কাছে।

তালুকদার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে স্পষ্ট সাইনবোর্ডে লেখা আছে। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দু মিনিট নিরবতা পালনের ফাঁকেই ঘরের ভিতর থেকে কান্না আর আহজারি স্পষ্ট হয়। শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে সামনে এসে দাঁড়ায় একজন সদ্য বিধবা মা। যার বয়স মাত্র ২২-২৩ হবে। নিহত রাসেলের বড়ভাই সোহাগ তালুকদার পরিচয় করিয়ে দিলেন, শহীদ রাসেলের স্ত্রী ও শিশু সন্তানের সাথে। তারপর জানালেন, লং মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে ঢাকার সাভারে পুলিশ ও ছাত্রলীগের গুলিতে নিহত হয়েছে আমার ভাই। ঐ দিন শিক্ষার্থীরা আহত অবস্থায় ওকে এনাম মেডিকেলে ভর্তি করে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা আমাকেই ফোন করে বিষয়টি জানায় আর বলে ‘রাসেলের বুকে ও পিঠে গুলি লেগেছে। আমরা দ্রুত ওর কাছে যাই। ৪০ মিনিট পর রাসেল মারা যায়।

এ সময় রাসেলের স্ত্রী চিৎকার করে ওঠেন, কান্নারত কণ্ঠে বলেন, এনাম মেডিকেল রাসেলকে সুচিকিৎসা দেয়নি। বিনা চিকিৎসায় ফেলে রেখেছিল। আমরা গিয়ে টাকার নিশ্চয়তা দেওয়ার পর তারা আইসিইউতে নেয়। এর আগেই যদি তারা সুচিকিৎসার নিশ্চিত করতো তাহলে হয়তো আরো অনেক প্রাণহানি কমে যেত। সন্তানকে বুকে আঁকড়ে ধরে এই মা কান্নারত কন্ঠে প্রশ্ন তোলেন, ‘আমার এই সন্তানের ভবিষ্যৎ কি হবে বলতে পারেন।

রাসেলের বাবা খলিলুর রহমান এবং মা এসে দাঁড়িয়েছেন কবরের পাশে। হাত তুলে সন্তানের জন্য দোয়া করলেন মা। তারপর বললেন, বিধবা এই বড় মেয়েটি এবং তার কোলের ছোট মেয়েটির কথা ভেবে আমাদের রাতে ঘুম হয় না। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানাবো, এদের জীবনের নিশ্চয়তা দিন। শিশু সন্তানের ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দিন।

এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বরিশালে শহীদ আবীর এর পরিবার সাথে সাক্ষাৎ শেষে জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন বলছিলেন, আন্দোলনে বরিশাল জেলায় এখন পর্যন্ত ৩০ জন শহীদের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাঁদের তালিকা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী এসব পরিবারের পাশে দাঁড়াবে সরকার। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁরা পর্যায়ক্রমে সবার পরিবারের কাছে যাবেন এবং সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সহায়তা দেবেন।

বাকেরগঞ্জের দুধল ইউনিয়নের সুন্দরকাঠী গ্রামের হাওলাদার বাড়িতে এবং কবিরাজ গ্রামের শহীদ ওদুদ এর বাড়িতে এখনো সরকারের কেউ কোনো খোঁজ নেয়নি বলে জানা গেছে।




মোবাইল চার্জে দিয়ে ঘুম, বিস্ফোরণে চিকিৎসকের মৃত্যু

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ময়মনসিংহে বিছানায় চার্জে রাখা মোবাইল বিস্ফোরণ হয়ে তারিকুল আলম নোমান (৪২) নামে এক চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।

শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে ময়মনসিংহ নগরীর জমির মুন্সি লেন এলাকার তার নিজ বাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তারিকুল আলম নগরীর জমির মুন্সি এলাকার মৃত তাহের উদ্দিনের ছেলে। শুক্রবার ভোর রাত ৪টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, মুঠোফোনটি বিস্ফোরিত হয়ে দগ্ধ হন ঘুমন্ত তারিকুল। এতে ওই চিকিৎসকের দুই হাত, বুক, নাক-মুখ পুড়ে যায়। ভোর চারটার দিকে কক্ষ থেকে পোড়া গন্ধ আসে। এ অবস্থায় পরিবারের লোকজন দরজা খুলে তারিকুল ইসলামকে পড়ে থাকতে দেখে হাসপাতালে নিয়ে যান।

নিহতের ভাই তাসরিকুল আলম অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ নেওয়ার আবেদন করেন। চিকিৎসক মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

 

 

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম খান জানান, রাত ১টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিনের মতো অস্ত্রোপচার শেষে বাসায় ফেরেন চিকিৎসক। পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরক্ত না করে তিনি আলাদা রুমে ঘুমাতে যান। বিছানার পাশে রাখা মাল্টিপ্লাগে নিজের ফোন চার্জ দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।

ওসি জানান, আমরা ধারণা করছি চার্জে থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোনটি বিস্ফোরণ হয়ে শরীরে আগুন ধরে যায়। পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কি কোম্পানির মোবাইল ছিল তা জানা যায়নি। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।