জ্বরের সময় পানি পান: উপকারী নাকি ক্ষতিকর?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: জ্বরের সময় পানি পান করা স্বাস্থ্যকর না ক্ষতিকর, এ বিষয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ঋতু পরিবর্তনের সময় অনেকেই জ্বরে আক্রান্ত হন, যা সাধারণত ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। এই পরিস্থিতিতে, চিকিৎসকেরা বেশি করে পানি পানের পরামর্শ দেন, তবে কিছু লোক মনে করেন, জ্বরের সময় পানি পান করা উচিত নয়।

ডাক্তারের মতে, জ্বরের সময় শরীরের তাপমাত্রা বাড়ে এবং বমি, পায়খানা, ও ঘামের মাধ্যমে পানি বের হয়ে যায়। এ অবস্থায় শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দেয়, যা ক্লান্তি এবং ব্লাড প্রেসার কমে যাওয়ার কারণ হতে পারে। তাই, জ্বর হলে পানির পরিমাণ বাড়ানো উচিত।

জ্বরের সময় কতটা পানি পান করা উচিত? সাধারণত, প্রতিদিনের পানির পরিমাণের থেকে ৫০ শতাংশ বেশি পানি পান করা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ দিনে ৩ লিটার পানি পান করেন, তবে জ্বরের সময় ৪.৫ লিটার পানি পান করা উচিত।

এছাড়া, শুধু পানি নয়, ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা পেতে ওআরএস পান করা উচিত। এর জন্য ১টি ওআরএস প্যাকেট পানিতে মিশিয়ে খেলে ইলেকট্রোলাইটসের ভারসাম্য বজায় থাকে। ঘরোয়াভাবে ওআরএস তৈরি করলেও উপকার পাওয়া যায়।

জ্বরের কারণে মুখের স্বাদ হারিয়ে যেতে পারে, তাই শাক-সবজি, ফলমূল, ডিম, মাছ ইত্যাদি খাবার খাওয়ার চেষ্টা করা উচিত। জ্বর দীর্ঘকাল ধরে চলতে থাকলে এবং ওষুধ সেবন করার পরও তাপমাত্রা কম না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।




অতিরিক্ত লবণে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি, কম খেলে হতে পারে মৃত্যুও

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: খাবারের স্বাদ বজায় রাখতে লবণের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে, লবণ শুধু স্বাদ বাড়ায় না, এটি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের রটগার্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল ব্রেসলিন বলেছেন, ‘লবণ আমাদের জীবনের জন্য অপরিহার্য।’

তিনি জানান, নিউরন, মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড, পেশি, ত্বক এবং হাড়সহ আমাদের সব কার্যকর কোষের জন্য লবণ গুরুত্বপূর্ণ। সোডিয়াম লবণে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা শরীর ও মনে শক্তি যোগায়। পল বলেন, “ক্যালসিয়ামের মতো আমাদের শরীর সোডিয়ামও সংরক্ষণ করতে পারে না।”

সুতরাং, শরীরে সোডিয়াম কমে গেলে, সোডিয়াম তথা লবণ খাওয়া একমাত্র সমাধান। পর্যাপ্ত সোডিয়াম গ্রহণ না করলে তা মৃত্যুর কারণও হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

শরীরে সোডিয়াম কম থাকলে হাইপোনাট্রেমিয়া দেখা দেয়, যার ফলে বিভ্রান্তি, বমি, খিঁচুনি এবং খিটখিটে মেজাজ হতে পারে, এমনকি কোমায় যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে।

লবণ কি কেবল স্বাদ বাড়ায়? লবণ খাবারের স্বাদ বাড়ায়, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি তিক্ততা লুকানোর কাজও করে, যেমন টক বা তিতাসমূহে। এছাড়া, পাউরুটি বানানোর সময় লবণ ব্যবহার না করলে তা ফ্যাকাশে দেখাবে এবং সঠিক ঘ্রাণ আসবে না। লবণ খাবারের চেহারা এবং ঘ্রাণেও প্রভাব রাখে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, একজন ব্যক্তির নিয়মিত পাঁচ গ্রাম লবণ গ্রহণ করা উচিত, যাতে শরীর দুই গ্রাম সোডিয়াম পেতে পারে। তবে, বর্তমানে ব্যক্তি প্রতি গড় লবণ গ্রহণ প্রায় ১১ গ্রাম। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ হৃদরোগ, গ্যাস্ট্রিক, ক্যান্সার, অস্টিওপোরোসিস, স্থূলতা এবং কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, লবণ বেশি গ্রহণের কারণে প্রতি বছর প্রায় ১৯ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। তবে শরীরে লবণের প্রভাব ব্যক্তির জিনগত বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে। বিশ্বব্যাপী এক বিলিয়নেরও বেশি মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে, এবং লবণ কম খাওয়া এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

 




বাদাম কি সত্যিই ওজন বাড়ায়? এর উপকারিতা ও ক্ষতিকর দিক জানালেন পুষ্টিবিদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বাদাম আমাদের সবার প্রিয় একটি খাবার। রোদ-বৃষ্টি কিংবা আড্ডা—সব ক্ষেত্রেই বাদাম থাকে আমাদের সঙ্গে। এটি আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী হলেও, বাদাম খাওয়ার সঙ্গে জড়িয়ে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকেই মনে করেন, বাদাম খেলে ওজন বেড়ে যেতে পারে। তবে পুষ্টিবিদ কোয়েল পাল চৌধুরী বলছেন, বাদামের উপকারিতা এবং সঠিক পরিমাণ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

বাদামের পুষ্টিগুণ

বাদামকে পুষ্টির খনি বলা হয়। এতে প্রচুর প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, আয়রন, ভিটামিন বি৬, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম রয়েছে। এ কারণে বাদাম খেলে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি মেটে। বাদামে উপস্থিত ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হার্ট ও ব্রেনের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

বাদাম কি আসলেই ওজন বাড়ায়?

পুষ্টিবিদ কোয়েল জানিয়েছেন, বাদাম অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার। তবে, চিনা ও কাজুবাদামের মতো কিছু বাদামে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকায়, অতিরিক্ত খেলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং, যদি কেউ নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে বাদাম খান, তবে এটি শরীরের জন্য উপকারি হবে।

কী পরিমাণ খেতে হবে?

কোয়েল বলেন, প্রতিদিন ৫০ গ্রাম বাদাম খাওয়া উপযুক্ত। সবসময় এক ধরনের বাদামের পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের বাদাম মিশিয়ে খাওয়া ভালো, যেমন চিনাবাদাম, কাজুবাদাম, আমন্ড এবং ওয়ালনাট। এতে ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমে যায় এবং আরও বেশি পুষ্টি পাওয়া যায়।

লবণযুক্ত বাদাম এড়িয়ে চলুন

লবণযুক্ত বাদাম বা তেলে ভাজা বাদাম এড়িয়ে চলা উচিত। লবণ শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ বাড়ায়, যা প্রেসার বাড়াতে পারে এবং কিডনির ক্ষতি করতে পারে। তাই, বালিতে ভাজা বাদাম খাওয়ার অভ্যাস করতে চেষ্টা করুন।

গ্যাস-অ্যাসিডিটিতে সতর্কতা

যদি বেশি পরিমাণে বাদাম খাওয়া হয়, তাহলে গ্যাস-অ্যাসিডিটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে আইবিএস বা অন্যান্য পেটের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সতর্ক থাকা উচিত।

বাদাম একটি স্বাস্থ্যকর খাবার, তবে সঠিক পরিমাণে এবং সঠিকভাবে খাওয়া উচিত। নিয়মিত এবং পরিমিত বাদাম খেলে শরীরের জন্য উপকার আসবে, তবে অতিরিক্ত খেলে অসুবিধা হতে পারে।

 




টয়লেটে ফোন ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: টয়লেটে ফোন ব্যবহার করা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে, এমনটাই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। টয়লেটের দরজার লক, ফ্লাশ, কমোড, এবং পানি ট্যাপ ইত্যাদিতে প্রচুর ব্যাকটেরিয়া জমে থাকে। যেহেতু টয়লেট বেশিরভাগ সময় ভেজা ও স্যাঁতস্যাঁতে থাকে, তাই এখানে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়াতে পারে।

২০১৬ সালে একটি জরিপে দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকার প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ টয়লেটে মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এই অভ্যাসটি বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ এটি বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। দেখে নেওয়া যাক, টয়লেটে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে শরীরে কী কী ক্ষতি হতে পারে:

১. ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের সংক্রমণ: বাথরুমের পরিবেশে প্রচুর জীবাণু, ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস থাকতে পারে, বিশেষত ই. কোলাই, সালমোনেলা এবং স্টেফাইলোকক্কাস। ফোনের মাধ্যমে এই জীবাণুগুলো শরীরে প্রবেশের সম্ভাবনা থাকে।

২. পেটের অসুখ ও খাদ্যবাহিত রোগ: টয়লেটের জীবাণু ফোনের মাধ্যমে খাদ্য বা হাতের সংস্পর্শে আসলে পেটের অসুখ বা ডায়রিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

৩. হাতের হাইজিনে অবহেলা: টয়লেট ব্যবহারের পর ফোনে মনোযোগ দিলে হাত ধোয়ার প্রক্রিয়া অবহেলিত হতে পারে, ফলে জীবাণু ফোনে এবং অন্যান্য বস্তুতে ছড়িয়ে যেতে পারে।

৪. মনের একাগ্রতা ব্যাহত হওয়া: বাথরুমে ফোন ব্যবহার করলে মনোযোগ বিভক্ত হয়ে যায়, যা দীর্ঘ সময় বাথরুমে থাকার কারণ হতে পারে এবং স্বাস্থ্যগত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

৫. ফোনের ক্ষতি: টয়লেটে ফোনের মাধ্যমে পানি বা আর্দ্রতা ঢোকার ঝুঁকি থাকে, যা ফোনের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বাথরুমে ফোন নেয়া মানসিকভাবে আরামদায়ক মনে হতে পারে, তবে এটি জীবাণু সংক্রমণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি, এবং ফোনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই বাথরুমে ফোন না নেয়াই শ্রেয়।




কাঁচা মরিচ কি সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: ঝাল খেতে পছন্দ করেন এমন অনেক মানুষের কাছে কাঁচা মরিচ অন্যতম পছন্দের খাবার। এটি শুধু যে খাবারের স্বাদ বাড়ায়, তাই নয়, কাঁচা মরিচের স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়েও রয়েছে নানা মত। অনেকেই কাঁচা মরিচের চাটনি বা আঁচারও তৈরি করেন। তবে প্রশ্ন উঠছে, কাঁচা মরিচ কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর?

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর এলাকার জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের ফার্মাকোলজি অ্যান্ড থেরাপিউটিকস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শিমু আক্তার জানিয়েছেন, কাঁচা মরিচের কিছু উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে:

1. চোখের জন্য উপকারী: কাঁচা মরিচে বিদ্যমান ভিটামিন এ চোখের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং রাতকানা রোগের চিকিৎসায় সাহায্য করে।

2. ওজন নিয়ন্ত্রণ: কাঁচা মরিচের ক্যাপাসিয়াসিন উপাদান শরীরের বিপাক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং অযাচিত ওজন কমাতে সহায়ক।

3. সর্দি-কাশির চিকিৎসা: কাঁচা মরিচের ব্যবহার নাক বন্ধ হওয়ার সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে, যা শ্বাসনালীকে খুলে দেয়।

4. হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য: কাঁচা মরিচে ভিটামিন কে থাকে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়।

5. ব্যথা নিরাময়ে সহায়তা: ক্যাপাসিয়াসিন উপাদান ব্যথা নিরাময়ে সাহায্য করে, বিশেষ করে মাথাব্যথা এবং বাতের ব্যথা কমাতে।

6. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে কাঁচা মরিচ সহায়ক, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।

 

কাঁচা মরিচের স্বাস্থ্য উপকারিতা

কাঁচা মরিচের পুষ্টিগুণ তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ এতে ক্যালরি নেই এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণাবলি বেশি। প্রতিদিন ১২-১৫ গ্রাম কাঁচা মরিচ খাওয়া যেতে পারে।

সতর্কতা

মরিচ খাওয়ার ফলে গ্যাসট্রিক-আলসারের সমস্যা হয় বলে অনেকের ধারণা, তবে সঠিক পরিমাণে খাওয়ার ফলে এই ঝুঁকি কম থাকে।

 




ডেঙ্গু জ্বরে মাড়ি থেকে রক্তপাত হলে করণীয় কী, জানালেন চিকিৎসক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: ডেঙ্গু জ্বরের সময় মাড়ি থেকে রক্তপাত হলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। চিকিৎসক ডা. সানজির হাওলাদার জানান, এটি ডেঙ্গুর অন্যতম উপসর্গ হতে পারে। সাধারণত, ডেঙ্গু জ্বরের সাথে উচ্চ তাপমাত্রা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা থাকে, কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। জ্বরের তাপমাত্রা কম থাকলেও মাড়ি থেকে রক্তপাত হতে পারে, যা অনেক সময় ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের লক্ষণ।

ডা. সানজির বলেন, ডেঙ্গু জ্বরের কারণে রক্তের প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকা কমে যায়, ফলে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে। জ্বরের সময় বা জ্বর না থাকা অবস্থায় দাঁত ব্রাশ করার সময় যদি মাড়ি থেকে রক্ত বের হয়, তাহলে ডেঙ্গুর পরীক্ষা করানো উচিত। বিশেষত, যাদের দাঁতের গোঁড়ায় পাথর জমে থাকে তাদের জন্য এই ঝুঁকি বেশি।

ডেঙ্গু ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সাথে সাথে প্লাটিলেটও আক্রান্ত হয়, যার ফলে রক্তপাত শুরু হতে পারে। ডেঙ্গু শক সিনড্রোম থেকে রক্ষা পেতে দ্রুত চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন।

ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী, জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে বেশি করে তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে এবং প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোন ব্যথানাশক খাবার খাওয়া উচিত নয়। যেকোনো সমস্যা হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।




প্রতিদিন পেস্তা বাদাম খাবেন যে কারণে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: প্রতিদিন বাদাম খাওয়ার অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, তার মধ্যে পেস্তা বাদাম দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও তেমনই সুস্বাদু। এই বাদাম অন্যান্য সাধারণ বাদামের তুলনায় অনেক বেশি পুষ্টিকর। হার্টের স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে ওজন নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত, খাদ্যতালিকায় পেস্তা আপনার সামগ্রিক সুস্থতা বাড়াতে একটি সহজ এবং সুস্বাদু সংযোজন।

### পেস্তা কেন?

পেস্তায় প্রচুর প্রয়োজনীয় পুষ্টি রয়েছে যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। ২৮ গ্রাম পেস্তায় প্রায় ১৬০ ক্যালোরি, ৬ গ্রাম প্রোটিন, ১৩ গ্রাম স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং ৩ গ্রাম ডায়েটারি ফাইবার থাকে। এটি ভিটামিন বি, ভিটামিন ই, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং পটাসিয়াম সহ বিভিন্ন ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থে পরিপূর্ণ।

### হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

হৃদরোগ বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য উদ্বেগ। প্রতিদিনের খাবারে পেস্তা যোগ করলে এটি এই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এই বাদামে মনোস্যাচুরেটেড এবং পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের উপস্থিতি খারাপ কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরলের (HDL) মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। গবেষণা দেখায় যে নিয়মিত পেস্তা খেলে ধমনী স্বাস্থ্যের উন্নতি, প্রদাহ হ্রাস এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।

### অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট

পেস্তা প্রাকৃতিকভাবে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন লুটেইন, জিক্সানথিন এবং গামা-টোকোফেরল সমৃদ্ধ। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলি শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং প্রদাহ থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা ক্যান্সার এবং হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের কারণ। ডায়েটে পেস্তা যোগ করা শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সাহায্য করে।

### ওজন নিয়ন্ত্রণ

যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তাদের জন্য প্রতিদিন পেস্তা খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পেস্তায় উচ্চ ফাইবার উপাদান ক্ষুধা নিবারণে সাহায্য করে এবং তৃপ্তি প্রদান করে। পেস্তার খোসা ছাড়িয়ে খাওয়ার ফলে খাওয়ার গতি ধীর হয়ে যায়, যা মস্তিষ্ককে পূর্ণতার অনুভূতি বুঝতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার সম্ভাবনা কমায়।

### রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ

পেস্তা বাদামের কম গ্লাইসেমিক সূচক রয়েছে, যার অর্থ এটি রক্তে শর্করার মাত্রার ওপর ন্যূনতম প্রভাব ফেলে। এই গুণ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য একটি চমৎকার পছন্দ। পেস্তায় স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফাইবার এবং প্রোটিনের সংমিশ্রণ রক্ত প্রবাহে চিনির শোষণ ধীর করতে সাহায্য করে, যা ইনসুলিন সংবেদনশীলতা এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়ক।




থাইরয়েডের জন্য ৬টি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বজায় রাখা জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান, পর্যাপ্ত ঘুম, আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, মানসিক চাপ এড়ানো এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা গুরুত্বপূর্ণ। এই অভ্যাসগুলো শক্তির মাত্রা, বিপাক এবং সামগ্রিক সুস্থতার উন্নতি করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে এই অভ্যাসগুলো থাইরয়েড রোগ প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়ক।

### ১. পানি পান করুন

থাইরয়েড রোগীদের জন্য হাইড্রেটেড থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত পানি পান সঠিক বিপাকীয় কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য, টক্সিন বের করতে সহায়ক এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল মেডিসিনে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, থাইরয়েড রোগীদের জন্য পানি পান করা উপকারী।

### ২. পর্যাপ্ত ঘুম

থাইরয়েড রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি স্ট্রেস হরমোন কমাতে সাহায্য করে, শক্তির মাত্রা বাড়ায় এবং মেটাবলিজম উন্নত করে। ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রিনোলজি অ্যান্ড মেটাবলিজম জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের অভাব থাইরয়েড ফাংশনকে খারাপ করতে পারে। তাই প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত।

### ৩. আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবার খান

থাইরয়েডের জন্য আয়োডিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি থাইরয়েড ফাংশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আয়োডিন থাইরয়েডের হরমোন সক্রিয় করতে সহায়তা করে এবং ইমিউন ফাংশন ভারসাম্য রাখে। গবেষণা অনুযায়ী, আয়োডিন গ্রহণ থাইরয়েড রোগের তীব্রতা প্রতিরোধ বা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

### ৪. মানসিক চাপ এড়িয়ে চলুন

থাইরয়েড রোগীদের জন্য মানসিক চাপ এড়ানো উচিত, কারণ এটি থাইরয়েড ফাংশন এবং হরমোনের ভারসাম্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। মানসিক চাপ কমালে এটি ইমিউন স্বাস্থ্যকে সমর্থন করে এবং শক্তি বাড়াতে সহায়ক। গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক চাপ এড়িয়ে চলতে পারলে তা থাইরয়েডের লক্ষণ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

### ৫. নিয়মিত ব্যায়াম করুন

নিয়মিত ব্যায়াম থাইরয়েড স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষভাবে উপকারে আসে। এটি বিপাক বাড়ায়, থাইরয়েড ফাংশনকে সমর্থন করে এবং শক্তির মাত্রা বাড়ায়। যোগব্যায়াম, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা এবং হাঁটা থাইরয়েডের স্বাস্থ্যকে উন্নত করতে সাহায্য করে। ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রিনোলজি অ্যান্ড মেটাবলিজম জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, মাঝারি ব্যায়াম থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা উন্নত করতে পারে।

### ৬. স্বাস্থ্যকর খাবার খান

থাইরয়েডের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াও অপরিহার্য। ফল, শাকসবজি, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং প্রোটিনের সমৃদ্ধ খাবার আপনার শরীরের জন্য উপকারী। এই খাবারগুলো শরীরের স্বাস্থ্যকে উন্নত করতে এবং থাইরয়েডের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।




পেট ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় জেনে নিন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: অনেক সময় আমরা পছন্দের খাবারটি একটু বেশিই খেয়ে ফেলি, ফলে পেট ব্যথা, বমি, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে আমরা প্রতিজ্ঞা করি যে আর কখনো অতিরিক্ত খাবো না, কিন্তু পরবর্তীতে সেই ভুল পুনরাবৃত্তি হয়। তবে কিছু ঘরোয়া প্রতিকার জানা থাকলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চলুন জেনে নিই, পেট ব্যথা থেকে দূরে থাকতে কোন খাবারগুলো খাবেন:

১. **আদা**
আদা পেট ব্যথার লক্ষণ বমি ও বমি বমি ভাব দূর করতে কার্যকরী। এটি কাঁচা বা রান্না করে খাওয়া যেতে পারে এবং তরল হিসেবে খেলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়। আদার চমৎকার হজমশক্তি ও প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা মোশন সিকনেস মোকাবেলায়ও সহায়তা করে।

২. **ক্যামোমাইল**
ঐতিহাসিকভাবে পেট ব্যথা ও অন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা যেমন গ্যাস, বদহজম, ডায়রিয়া, এবং বমি বমি ভাবের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে ক্যামোমাইল। এটি শিশুদের কোলিক উপশমে সহায়তা করে এবং অন্ত্রের প্রশান্তিদায়ক প্রভাব রাখে।

৩. **পুদিনা**
ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) হলে পেটে ব্যথা, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়া হতে পারে। পেপারমিন্ট পেটের অস্বস্তিকর উপসর্গগুলো কমাতে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের পেশীর খিঁচুনি কমায়।

৪. **কাঁচা কলা**
কাঁচা কলা ডায়রিয়ার তীব্রতা ও সময়কাল কমাতে সাহায্য করে। এর বিশেষ ধরনের ফাইবার, যা প্রতিরোধী স্টার্চ নামে পরিচিত, অন্ত্রে বাড়তি পানি শোষণ করতে উদ্দীপিত করে। কলা ভিটামিন বি৬, পটাসিয়াম ও ফোলেট সমৃদ্ধ, যা ক্র্যাম্প ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

৫. **দই**
পেটে ব্যাকটেরিয়ারের ভারসাম্যহীনতার কারণে পেটে ব্যথা হতে পারে। প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ দই ডিসবায়োসিস সংশোধন করতে সহায়তা করে। প্লেইন ইয়োগার্টে জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়া দূর করতে কার্যকর।




কলাপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সাবেক ইউপি সদস্যের মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ার সিক্সলেন সড়কে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় আহত সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম পাঁচদিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে অবশেষে মারা গেছেন। শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বড় ভাই মজিবর রহমান।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৫ অক্টোবর দুপুরে আমতলীর বান্দ্রা থেকে কলাপাড়া আসার পথে যাত্রীবাহী বাস ‘রুদ্র তূর্য’ অটোরিকশাটিকে সিক্সলেন সড়কে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশার আট যাত্রী আহত হন, এবং রফিকুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অবস্থার অবনতি ঘটলে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হলে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

কলাপাড়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ দুর্ঘটনার বিষয়ে এখনো নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।