ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকরী সবজি বেগুন: চিকিৎসকের পরামর্শ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এমন কিছু সবজি রয়েছে যা সুস্থ থাকতে সাহায্য করে এবং নানা রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি কমাতে কিছু খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চিকিৎসকদের মতে, এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ সবজি হলো বেগুন। এই সবজি নিয়মিত খেলে কেবলমাত্র ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেই সহায়তা করে না, পাশাপাশি এটি ক্যানসার প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সম্প্রতি ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে একাধিক চিকিৎসক এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বেগুনের উপকারিতা
ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যা রক্তে সুগারের মাত্রা বৃদ্ধি করলে শরীরে নানা জটিল সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিসের প্রভাবে চোখ, কিডনি এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসকরা বলেন, বেগুনের মধ্যে থাকা ফাইবার সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ফাইবার হজমে সাহায্য করে এবং বেগুনে উপস্থিত গ্লুকোজ রক্তে দ্রুত মিশতে দেয় না, যা রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক। এছাড়া বেগুনে পলিফেনলস নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে, যা ইনসুলিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়াতে সহায়তা করে। এ কারণেই ডায়াবেটিসের রোগীদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বেগুন রাখতে বলেন চিকিৎসকরা।

ক্যানসার প্রতিরোধে বেগুনের ভূমিকা
বর্তমানে ক্যানসারজনিত রোগের প্রকোপ ক্রমশই বাড়ছে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও অনুপযুক্ত খাদ্যাভ্যাস ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। ক্যানসার একটি জটিল রোগ এবং এর চিকিৎসা প্রক্রিয়াও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। তবে ক্যানসার প্রতিরোধে বেগুন বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, বেগুন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে। বেগুনে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের প্রদাহ কমায় এবং ক্যানসার সৃষ্টিকারী কোষের বিকাশে বাধা দেয়। তাই ক্যানসার প্রতিরোধে খাদ্যতালিকায় বেগুন রাখা উপকারী হতে পারে।

হার্টের যত্নে বেগুনের উপকারিতা
হার্টের সুস্থতা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেগুন হার্টের জন্যও উপকারী হিসেবে প্রমাণিত। বেগুনে ফাইবার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে যা এলডিএল কোলেস্টেরল কমিয়ে শরীরে ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএল বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এটি হার্টের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।

ওজন নিয়ন্ত্রণে বেগুন
ওজন বাড়লেই শরীরে নানা জটিল সমস্যা দেখা দেয়, যেমন উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক ইত্যাদি। অতিরিক্ত ওজনের কারণে এসব রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তাই দ্রুত ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে খাদ্যতালিকায় বেগুন যুক্ত করা উপকারী হতে পারে। বেগুনে থাকা ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখে, ফলে ক্ষুধার তীব্রতা কমে যায়। এ কারণে সহজেই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়। যারা ওজন কমাতে চান, তারা নিয়মিত বেগুন খেলে উপকৃত হবেন।

স্বাস্থ্য রক্ষায় আরও কিছু পরামর্শ
চিকিৎসকরা বলেন, শুধুমাত্র বেগুনের উপর নির্ভর করে সুস্থ থাকা সম্ভব নয়। স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে সুষম খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট জিমে বা ঘরে ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করুন। বাইরের প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন এবং রেড মিটের পরিবর্তে মাছ ও সবজি খেতে পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া ধূমপান ও মদ্যপান থেকে দূরে থাকাও স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।




হার্টের সুরক্ষায় চিনির পরিমাণ কতটা কম হওয়া উচিত? বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষায় আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। বিশেষত, চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাদ্য অতিরিক্ত সেবন হার্টের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ভারতের কলকাতার বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. আশিস মিত্র সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি গণমাধ্যমে তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি জানান, শরীরের সুস্থতার জন্য দিনে কতটুকু চিনি সেবন করা নিরাপদ এবং তা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

ডা. মিত্র বলেন, অতিরিক্ত চিনি খেলে তা ওজন বাড়ায় এবং শরীরে মেদ জমতে থাকে, যা হার্টের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। প্রসেসড চিনির অতিরিক্ত সেবন রক্তে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বাড়ায়, যার ফলে হার্টের রক্তনালীগুলিতে প্লাক জমতে পারে। এছাড়া ডায়াবিটিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য চিনি সেবন আরও ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ চিনি প্রদাহ বৃদ্ধি করে যা হার্টের রোগের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়ায়।

তবে সুস্থ থাকতে চাইলে সাদা চিনির পরিবর্তে ব্রাউন সুগার, মধু বা তালমিছরির মতো বিকল্প বেছে নেওয়া যেতে পারে, যা অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিকর।

ডা. মিত্র পরামর্শ দেন, সুস্থ ব্যক্তিরা দিনে ২ চামচ চিনি গ্রহণ করতে পারেন এবং রান্নায় প্রয়োজনীয় পরিমাণে চিনি মিশিয়ে খাওয়া নিরাপদ। তবে চিনি সেবনে নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হার্টের সুস্থতা রক্ষায় কিছু পরামর্শ:
১. দৈনিক অন্তত ৩০ মিনিট শারীরিক ব্যায়াম করুন।
২. বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন।
৩. রেডমিট, ধূমপান এবং মদ্যপান বর্জন করুন।
৪. সুগার, ব্লাড প্রেশার এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন।




পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরও ক্লান্তি লাগছে? ভয়ংকর রোগের আভাস কিনা যাচাই করে নিন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় কাজের চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব পালন ও নানাবিধ চিন্তা-ভাবনা অনেক সময় আমাদের ক্লান্ত করে তোলে। অধিকাংশ মানুষই ধরে নেন, অতিরিক্ত কাজের কারণেই ক্লান্তি হচ্ছে। তাই কিছুটা বিশ্রাম বা ঘুম নিয়ে আবার কাজে লেগে পড়েন। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যখন ক্লান্তি কাটে না, তখন তা স্বাভাবিক ক্লান্তি নয় বরং ভয়ংকর কিছু রোগের সংকেত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন স্থায়ী ক্লান্তি শরীরে আয়রনের ঘাটতির কারণে হয়ে থাকে। ভারতীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ফেমিনা এ বিষয়ে জানিয়েছে যে, আয়রনের ঘাটতির কারণে রক্তাল্পতা দেখা দিতে পারে এবং শরীরে অক্সিজেন সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে।

ক্লান্তির কারণ আয়রনের ঘাটতি

মানুষের শরীরকে শক্তি যোগানোর জন্য সঠিক পরিমাণে আয়রনের প্রয়োজন। এটি হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়তা করে, যা রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন সারা শরীরে সরবরাহ করে। কিন্তু যখন আয়রনের ঘাটতি দেখা দেয়, তখন শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। ফলে সাধারণ কাজ করেও ক্লান্ত লাগতে পারে, এবং ত্বক বিবর্ণ হয়ে যায়। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সীদের ক্ষেত্রেই এই ঘাটতির প্রভাব পড়তে পারে, যা কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

আয়রনের ঘাটতির লক্ষণ

শরীরে আয়রনের অভাব হলে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, এবং ত্বকের ফ্যাকাসে ভাবের মতো সমস্যাগুলো দেখা দেয়। এছাড়া, অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা হতে পারে। অনেক নারীর ক্ষেত্রে ঋতুস্রাবের সময় এই সমস্যাগুলো মারাত্মক আকারে প্রকাশ পায়। তাছাড়া, যারা নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরও ক্লান্তি বোধ করেন, তাদের দ্রুত আয়রন পরীক্ষা করানো উচিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সঠিক সময়ে শনাক্ত করা হলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও আয়রন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করা যায়।

বিশ্লেষণ ও প্রতিকার

আয়রনের ঘাটতি দূর করতে প্রথমেই খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। পালং শাক, লাল শাক, চিড়াভাজা বাদাম, ডাল ও মাংস থেকে আয়রন পাওয়া যায়, যা শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে। এছাড়া, প্রয়োজনীয় পরিমাণে আয়রন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে হবে। খাদ্য তালিকায় আয়রনসমৃদ্ধ খাবার যোগ করার পাশাপাশি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল যেমন কমলা, পেয়ারা ইত্যাদি খেলে আয়রনের শোষণ ক্ষমতা বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়রনের ঘাটতি যদি যথাসময়ে পূরণ না করা হয়, তাহলে তা ধীরে ধীরে মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তি বা অন্যান্য লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।




বাউফলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ::পটুয়াখালীর বাউফলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মো. হেলাল গাজী (৩৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরের দিকে উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের কারখানা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত হেলাল গাজী উপজেলার কারখানা গ্রামের মৃত মো. খালেক গাজীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন হেলাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার বড় ভাই মো. রুবেল গাজীর বসতঘর থেকে ছোট ভাই সোহেল গাজীর ঘরে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে সংযোগ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

পরে স্বজনরা তাকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, নিহতের লাশ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




কুয়াকাটায় অটোভ্যান ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষে আহত ৪

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটার তুলাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোভ্যান ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন মোটরসাইকেল চালক বেলাল (২৭), মোটরসাইকেল আরোহী কাউয়ুম (৪০), অটোচালক রনি (২৮), এবং অটোযাত্রী শাহজালাল (৩২)। এদের মধ্যে সেনেটারি মিস্ত্রি কাউয়ুমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আশিকুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল ও অটোভ্যানের সংঘর্ষে আহত ৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে কাউয়ুমের মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। অটোযাত্রী শাহজালালের মতে, মোটরসাইকেলটি রং সাইড দিয়ে দ্রুতগতিতে অতিক্রম করার সময় দুর্ঘটনা ঘটে, ফলে ভ্যানটি পুকুরের পাশে পড়ে যায় এবং মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।




ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক ::বর্তমান সময়ে ডায়াবেটিস একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা শরীরে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে দৈনন্দিন জীবনে কিছু নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১. স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ: প্রতিদিন সুষম খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। শস্যজাতীয় খাবার, তাজা ফল, শাক-সবজি ও চর্বিহীন আমিষ গ্রহণে মনোযোগী হোন। বাইরের বা প্রক্রিয়াজাত খাবার, মিষ্টি স্ন্যাকস রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে, তাই এড়িয়ে চলুন।

২. নিয়মিত শরীরচর্চা: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে দৈনিক ৩০ মিনিট হাঁটা, সাইক্লিং, সাঁতার কাটা বা ভারী জিনিস বহনের মাধ্যমে শরীরচর্চা করুন। এতে শরীর সক্রিয় থাকে এবং শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণ করা অপরিহার্য। সামান্য ওজন কমালেও শরীরে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

৪. রক্তে শর্করার পরিমাপ: ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করুন। গ্লুকোজ মিটার বা গ্লুকোজ মনিটরিং সিস্টেমের মাধ্যমে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

৫. চিকিৎসকের পরামর্শ: ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা পাবেন।

৬. নিয়মিত চেকআপ: ডায়াবেটিস একবার নিয়ন্ত্রণে আসার পরও নিয়মিত চেকআপ করা জরুরি। এটি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়, তাই নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।




গরম থেকে মাথাব্যথার কারণ ও করণীয়: চিকিৎসকের পরামর্শ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: তীব্র গরমের কারণে মাথাব্যথা এখন একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম থেকে সৃষ্ট মাথাব্যথা সাধারণত ডিহাইড্রেশন ও ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতার ফলে হয়। দিল্লির সিকে বিড়লা হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ মেডিসিন বিভাগের ডিরেক্টর ডা. রাজীব গুপ্ত জানিয়েছেন, শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল বের হলে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা থেকে তীব্র মাথাব্যথা হতে পারে।

গরম থেকে মাথাব্যথা এড়াতে করণীয়:

1. হাইড্রেশন বজায় রাখা: পর্যাপ্ত পানি পান করুন, এতে শরীর তরতাজা থাকে। ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয়ও সহায়ক হতে পারে।

2. ছায়াযুক্ত পরিবেশ: সরাসরি সূর্যের তাপ এড়িয়ে শীতল জায়গায় থাকার চেষ্টা করুন।

3. পর্যাপ্ত ঘুম: ভালো ঘুম ও বিশ্রাম শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।

4. ডিহাইড্রেটিং পানীয় এড়িয়ে চলা: ক্যাফিন ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো ডিহাইড্রেশন সৃষ্টি করে।

5. সানগ্লাস ব্যবহার: সূর্যের তাপ থেকে রক্ষা পেতে বাইরে সানগ্লাস ব্যবহার করুন।

 

প্রয়োজনে তীব্র মাথাব্যথা হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।




চোখে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি পরীমণির দুই বছরের ছেলে পুণ্য

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক ::ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা পরীমণি তার সন্তানদের নিয়েই সব সময় ব্যস্ত থাকেন। তবে এবার এক দুঃসংবাদে মর্মাহত অভিনেত্রী। তার দুই বছরের ছেলে পুণ্য চোখে আঘাত পেয়ে বর্তমানে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। পরীমণি নিজেই এই খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

পুণ্যের চোখ ফুলে গেছে এবং চোখের ওপরের অংশে লাল হয়ে আছে। বুধবার (৩০ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে ছেলে পুণ্যের এমন একটি ছবি শেয়ার করেছেন পরীমণি। তবে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

কিছুদিন আগেই পরীমণি ছেলের জন্মদিন উদযাপন করেছিলেন এবং সেই মুহূর্তগুলো সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছিলেন। এর মধ্যেই হঠাৎ করে পুণ্য অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় চিন্তিত পরীমণি ও তার অনুরাগীরা। তবে কী কারণে পুণ্যকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।




ভোলার বোরহানউদ্দিনে এইচপিভি টিকা দেওয়ার পর ৬০ শিক্ষার্থী অসুস্থ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে হিউম্যান পেপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকা দেওয়ার পর জ্ঞানদা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদেরকে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা সবাই শঙ্কামুক্ত এবং বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি। সুস্থ হয়ে সকলেই বাড়ি ফিরে গেছে।

মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে পক্ষিয়া ইউনিয়নের জ্ঞানদা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ভোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশিরভাগই ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম ও ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে শিক্ষার্থীদের এইচপিভি টিকা দেওয়া হয়। টিকা দেওয়ার পর প্রথমে একজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর অসুস্থ শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়তে থাকলে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। চিকিৎসা দেওয়ার পর বেশিরভাগ শিক্ষার্থী সুস্থ হয়ে ওঠে এবং দুপুরের মধ্যে ৫৫ জন শিক্ষার্থী স্বাভাবিক অবস্থায় বাড়ি ফিরে যায়। কিন্তু পাঁচজন গুরুতর অবস্থায় থাকায় তাদের ভোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিরুপম সরকার সোহাগ বলেন, “আমি টিকা দেওয়ার সময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলাম। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসার পর বেশিরভাগ শিক্ষার্থী সুস্থ হয়ে যায়, কেউ কেউ আতঙ্কের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।”

জ্ঞানদা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নোমান বলেন, “টিকা দেওয়ার কিছুক্ষণ পর ৬০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পাঁচজনকে ভোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।”

ভোলা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক নাহিদ সুলতানা বলেন, “টিকার প্রভাবে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়েছে। যারা চিকিৎসা নিতে এসেছে, তারা সবাই সুস্থ এবং শঙ্কামুক্ত।”

ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুল ইসলাম জানান, “এটি গণমনস্তাত্ত্বিক রোগ। আতঙ্কের কারণে অসুস্থ হয়েছে, যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঠিক হয়ে গেছে।”

গত ২৪ অক্টোবর থেকে পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণির ছাত্রী এবং ১০ থেকে ১৪ বছরের কিশোরীদের বিনামূল্যে এই টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স (গ্যাভি), ইউনিসেফ এবং ডাব্লিউএইচওর সহযোগিতায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।




কেন খাবেন আমেরিকার ফল ড্রাগন?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আমেরিকার প্রসিদ্ধ একটি ফল, ড্রাগন, নানা উপকারী গুণের কারণে আমাদের দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। শরীরের জন্য এর উপকারিতা ক্রমেই বাড়াচ্ছে ড্রাগন ফলের জনপ্রিয়তা। এই ফলের চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে দেশে বাড়ছে এর উৎপাদনও। তবে আপনি কি জানেন, নিয়মিত ড্রাগন ফল কেন ডায়েট লিস্টে রাখবেন?

ড্রাগন ফল পিটায়া নামেও পরিচিত। ধারণা করা হয়, গ্রীষ্মমন্ডলীয় এ গাছের উৎপত্তি মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায়। যদিও সেখান থেকে এ গাছ এখন সারা বিশ্বে গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপক্রান্তীয় অঞ্চলে ব্যাপকভাবে চাষ করা হয়।

ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ

ড্রাগন ফলের নরম শাঁস ও মিষ্টি গন্ধ বেগুনি বা গোলাপি এবং সাদা দুই রঙের হয়ে থাকে। ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ এ ফলের ক্যালরির মাত্রা তুলনামূলক কম, তবে এতে যথেষ্ট পরিমাণে ডায়েটরি ফাইবার রয়েছে।

ক্যালোরি: ১৩৬

প্রোটিন: ৩ গ্রাম

ফ্যাট: ০ গ্রাম

ফাইবার: ৭ গ্রাম

আয়রন: ৮%

ম্যাগনেসিয়াম: ১৮%

ভিটামিন-সি: ৯%

ভিটামিন-ই: ৪%

ড্রাগন ফলের উপকারিতা

১. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ: ফ্ল্যাভোনয়েড, ফেনোলিক অ্যাসিড এবং বিটাসায়ানিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ, যা কোষগুলোকে ফ্রি র‌্যাডিক্যালের হাত থেকে রক্ষা করে।

২. ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়: এটি ফাইবার সমৃদ্ধ, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

৩. ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়: ক্যানসারবিরোধী বৈশিষ্ট্য থাকায় এটি কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।

৪. হজমের জন্য ভালো: শরীরে ভালো ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে, যা হজম ক্ষমতাকে বাড়ায়।

৫. হার্টের জন্য উপকারী: এতে থাকা ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৯ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

৬. ত্বকের জন্য উপকারী: ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ হওয়ায়, এটি ত্বককে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করে এবং চুলের জন্যও উপকারী।

৭. হাড়কে শক্তিশালী করে: এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম হাড়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

৮. চোখের জন্য উপকারী: বিটা-ক্যারোটিন চোখের সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে।

৯. গর্ভবতী নারীর জন্য উপকারী: ভিটামিন বি, ফোলেট এবং আয়রন থাকায় এটি গর্ভবতীদের জন্য আদর্শ ফল।

ড্রাগন ফলের এসব গুণাবলী এবং উপকারিতা দেখে, এটি নিশ্চিতভাবেই আপনার ডায়েট লিস্টে থাকা উচিত। এর সুস্বাদু স্বাদ এবং পুষ্টিগুণ আপনাকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করবে।