ভেপিং: সিগারেট ছাড়ার সমাধান নাকি নতুন ঝুঁকি?

ধূমপানের আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে ভেপিং অনেকের জন্য কার্যকর মনে হলেও এটি কিশোর ও তরুণদের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ভেপের কাজের প্রক্রিয়া

ভেপ বা ই-সিগারেটে তামাকের পরিবর্তে থাকে নিকোটিন সমৃদ্ধ তরল পদার্থ। এটি গরম হয়ে ধোঁয়া তৈরি করে, যা সিগারেটের মতো ক্ষতিকারক উপাদান থেকে মুক্ত বলে অনেকে মনে করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ভেপ সিগারেটের তুলনায় কম ক্ষতিকর, কারণ এতে কার্বন মনোক্সাইডের মতো উপাদান নেই।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিষেধাজ্ঞা

দীর্ঘমেয়াদে ভেপিংয়ের ক্ষতি নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকলেও বিশেষজ্ঞরা এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তরুণদের মধ্যে এটি সিগারেট আসক্তির প্রবণতা বাড়াতে পারে। এ কারণে বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশ ভেপ নিষিদ্ধ করেছে।

ধূমপান ছাড়ার বিকল্প, কিন্তু সতর্কতা জরুরি

চেইন স্মোকারদের জন্য ভেপ ধূমপান ছাড়ার একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে। তবে তরুণ ও কিশোরদের এর প্রতি আসক্তি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সচেতনতা বাড়িয়ে তাদের এ অভ্যাস থেকে দূরে রাখা প্রয়োজন।

করণীয়

ভেপিং নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এর সীমিত ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। ধূমপান রোধে এটি উপকারী হতে পারে, তবে এর যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”



মহিপুরে নসিমন উল্টে গৃহবধূর মৃত্যু

পটুয়াখালীর মহিপুরে নলকূপের পাইপবোঝাই একটি নসিমন উল্টে গিয়ে মিনারা বেগম (২৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে, ধূলাসার ইউনিয়নের চরচাপলী গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূ মিনারা বেগম স্থানীয় বাসিন্দা ছগির হাওলাদারের স্ত্রী ছিলেন এবং তিনি দুই সন্তানের মা। স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, মিনারা বেগম সকাল বেলা বাড়ির পাশের পুকুরঘাটে থালা-বাসন ধোয়ার সময় নলকূপের পাইপবোঝাই নসিমনটি রাস্তায় উল্টে গিয়ে তার ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয়রা দ্রুত খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না আসায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরিশালে ট্রাক পুকুরে, প্রাণ গেল দুইজনের

বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশালের গৌরনদীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাক পুকুরে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) রাত সোয়া ১০টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের তারাকূপি আরিফ ফিলিং স্টেশন এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ট্রাকচালক মুকুল (৩৫) এবং ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার চুমুরদি গ্রামের ব্যবসায়ী বাদল মোল্লা (৪০)। দুর্ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। তবে চালকের বিস্তারিত পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

কীভাবে ঘটলো দুর্ঘটনা:
বরিশাল গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মো. আমিনুর রহমান জানান, ট্রাকটি বরিশাল থেকে মালামাল বিক্রি করে ফরিদপুরের দিকে খালি অবস্থায় যাচ্ছিল। পথে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়ক থেকে ছিটকে পুকুরে পড়ে যায়।

বরিশাল গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. বিপুল হোসেন জানান, দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকচালক ও আরোহীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের লাশ হাইওয়ে থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উদ্ধার কার্যক্রম চলমান:
ট্রাকটি পুকুর থেকে উদ্ধারের কাজ চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ১৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১৮ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে পদাধিকারবলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, মুখ্য সংগঠক ও মুখপাত্র এ কমিটির সদস্য থাকবে।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

১৮ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যরা হলেন- মো. মাহিন সরকার, রশিদুল ইসলাম রিফাত, নুসরাত তাবাসসুম, লুৎফর রহমান, আহনাফ সাঈদ খান, তারেকুল ইসলাম (তারেক রেজা), তারিকুল ইসলাম, মো. মেহেরাব হোসেন সিফাত, আসাদুল্লাহ আল গালিব, মোহাম্মদ রাকিব, সিনথিয়া জাহিন আয়েশা, আসাদ বিন রনি, নাইম আবেদীন, মাহমুদা সুলতানা রিমি, ইব্রাহিম নিরব, রাসেল আহমেদ, রফিকুল ইসলাম আইনী, মুঈনুল ইসলাম হাসনাত।

এর আগে ২২ অক্টোবর সমন্বয়ক টিম বিলুপ্ত করে ৪ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

কমিটিতে হাসনাত আবদুল্লাহকে আহ্বায়ক, আরিফ সোহেলকে সদস্যসচিব, আবদুল হান্নান মাসউদকে মুখ্য সংগঠক ও উমামা ফাতেমাকে মুখপাত্র করা হয়। এই কমিটি দিয়েই এতদিন সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।




প্রশাসনে ফ্যাসিবাদী ৬৯ জন কর্মকর্তার অপসারণে গড়িমসি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: প্রশাসনে ঘাপটি মেরে বসে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসর দলবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এখনো অপসারণ-অব্যাহতি প্রদান করা হয়নি। প্রায় ৪২০০ জন কর্মকর্তা ন্যায়বিচার ও বঞ্চনা নিরসনের আবেদন করেছে। কমিটি যাচাই-বাছাই করে ১৫৪৬ জনের আবেদনকে প্রাথমিকভাবে আমলে নিয়ে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে। এসব দুষ্ট ক্ষতগুলো সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সরকারকে বিব্রত ও বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। কেউ কেউ গোপনে বিগত স্বৈরাচারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের ইন্ধন যোগাচ্ছে। এ কারণে শত চেষ্টা সত্ত্বেও সরকারের বিভিন্ন দফতরে কাজে গতিশীলতা আসছে না, জনমনে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে। মাঠ প্রশাসনে কর্মরত ৩৪ জন বিতর্কিত জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার, বিতর্কিত ১৬ জন কর্মকর্তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল এবং সাবেক ফ্যাসীবাদী সরকারের দোসর, ছাত্র-জনতা হত্যায় জড়িত সেচ্ছাচারী, দুর্নীতিবাজ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ কাজে লিপ্ত ১৯ জন কর্মকর্তাকে অবিলম্বে প্রত্যাহারপূর্বক আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরাম। দলবাজ, অদক্ষ ও সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের অপসারণ-অব্যাহতি প্রদান গত ৫ আগস্টের পর দীর্ঘদিনের বঞ্চিত কর্মরত যে সমস্ত কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়েও এখনো পদায়ন পাননি তাঁদেরকে দ্রুত উপযুক্ত পদে পদায়ন করতে হবে। জনপ্রশাসনকে দ্রুত সচল করতে ছাত্র-জনতার আকাক্সক্ষার সাথে সংগতিপূর্ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন করতে হবে। মাঠ প্রশাসনে কর্মরত বিতর্কিত জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করে নিরপেক্ষ, সৎ, দক্ষ কর্মকর্তাকে পদায়ন করা এবং বৈষম্যের শিকার ও পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের ভূতপেক্ষ জ্যেষ্ঠতা ও আর্থিক সুবিধা প্রদানসহ পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে জারির দাবিতে গতকাল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের মাধ্যমে দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রধান উপদেষ্টাকে দেয়া হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরামের আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধি দল এ স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরামের দাবি জানিয়ে যে আবেদন করেছে তা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে আমরা সেটা বাস্তবায়ন করবো।




আয়রন বাড়ানোর সহজ উপায়: প্রাকৃতিক পানীয়

আয়রন আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। এটি হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে ভূমিকা রাখে, যা শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। আয়রনের অভাবে শরীরে ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। তবে এই ঘাটতি পূরণের জন্য সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর না করে প্রাকৃতিক কিছু পানীয় গ্রহণ করেও সমস্যার সমাধান সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের জন্য স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ১৩.৮-১৭.২ জি/ডিএল এবং নারীদের জন্য ১২.১-১৫.১ জি/ডিএল হওয়া উচিত। এই মাত্রা বজায় রাখতে নিম্নোক্ত পানীয়গুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বিটরুট এবং গাজরের রস:
বিটরুট এবং গাজর আয়রন এবং ভিটামিন এ-এর চমৎকার উৎস। বিটরুট রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে কার্যকর, আর গাজরের ভিটামিন এ আয়রন শোষণে সাহায্য করে। এই পানীয়তে এক চামচ লেবুর রস মেশালে তা ভিটামিন সি-এর মাধ্যমে আয়রনের কার্যকারিতা আরও বাড়িয়ে তোলে।

পালং শাক স্মুদি:
পালং শাক আয়রনের একটি প্রাকৃতিক উৎস। এতে থাকা নন-হিম আয়রন হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সহায়ক। কমলা বা আনারসের মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলের সঙ্গে পালং শাক ব্লেন্ড করলে আয়রন শোষণের মাত্রা বেড়ে যায়। স্মুদির ক্রিমি টেক্সচার পেতে এর সঙ্গে বাদাম যোগ করা যেতে পারে।

ডালিমের রস:
ডালিমে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি রক্ত ​​সঞ্চালন বাড়ায় এবং হিমোগ্লোবিনের মাত্রা উন্নত করে। ডালিমের রসের সঙ্গে খেজুর বা কিশমিশ যোগ করলে এর পুষ্টিগুণ আরও বেড়ে যায়।

কুমড়ার বীজ স্মুদি:
কুমড়ার বীজে প্রচুর আয়রন এবং জিঙ্ক থাকে, যা শক্তি উৎপাদন এবং রক্ত তৈরির জন্য প্রয়োজনীয়। কুমড়ার বীজ, কলা, দই এবং মধু মিশিয়ে একটি পুষ্টিকর স্মুদি তৈরি করা যায়। এটি শরীরকে সতেজ রাখার পাশাপাশি ক্লান্তি দূর করে।

শরীরকে সুস্থ এবং সতেজ রাখতে প্রাকৃতিক উপায়ে আয়রনের ঘাটতি পূরণের জন্য এই পানীয়গুলোকে আপনার খাদ্যতালিকায় যোগ করুন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ক্লান্তি: শারীরিক না মানসিক? বিশেষজ্ঞের বিশ্লেষণ

সারাদিনের ব্যস্ততার পর ক্লান্তি অনুভব করা আমাদের জীবনের একটি সাধারণ চিত্র। অফিস, সংসার, আর্থিক চাপ এবং মানসিক উদ্বেগ—সবকিছু মিলিয়ে যেন ক্লান্তির এক অসীম চক্রে আটকে গেছি আমরা। এমনকি ছুটির দিনেও আমরা বিশ্রামের পর হাঁপিয়ে উঠি। তবে কি এই ক্লান্তি কেবল শারীরিক, নাকি এর পেছনে মানসিক কারণও জড়িত? এ বিষয়টি নিয়ে ব্রিটিশ সাইকোথেরাপিস্ট ও লেখিকা মোয়া সার্নার তার বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন, যা প্রকাশিত হয়েছে দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে।

মোয়া সার্নার বলেন, ক্লান্তি দুই ধরনের হতে পারে—শারীরিক এবং মানসিক। শারীরিক ক্লান্তি সাধারণত ঘুম বা বিশ্রামের মাধ্যমে দূর হয়। কিন্তু অনেক সময় আমরা দেখছি, দীর্ঘ বিশ্রামের পরেও ক্লান্তি থেকে যায়। এর কারণ হলো আবেগ এবং মানসিক চাপ। আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে করতে আমরা মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ি।

সার্নারের মতে, নিজের রাগ, দুঃখ, লজ্জা বা ভয়কে দীর্ঘ সময় ধরে দমিয়ে রাখা আমাদের মনের ভেতর শূন্যতার সৃষ্টি করে। এই শূন্যতা আমাদের আরও ক্লান্ত করে তোলে। তিনি বলেন, “নিজের আবেগগুলোকে স্বীকার করতে শিখুন এবং প্রকাশ করুন। এটি মানসিক ক্লান্তি দূর করে, আমাদের আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।”

শুধু শারীরিক নয়, মানসিক বিশ্রামও গুরুত্বপূর্ণ। সার্নার জানান, নিজের আবেগ এবং মানসিক অবস্থাকে বোঝার চেষ্টা করুন। এটি সময়সাপেক্ষ হতে পারে, তবে এটি মানসিক ক্লান্তি দূর করার একটি কার্যকর উপায়।

শারীরিক ক্লান্তি সহজেই কাটিয়ে ওঠা গেলেও মানসিক ক্লান্তি দূর করতে নিজেকে এবং নিজের আবেগকে বুঝতে হবে। তাই শারীরিক বিশ্রামের পাশাপাশি মানসিক বিশ্রামকেও গুরুত্ব দিন। নিজের মনের সঙ্গে সময় কাটান এবং আবেগ প্রকাশ করুন। এতে শুধু ক্লান্তি দূর হবে না, আপনি হবেন আরও প্রাণবন্ত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কোলেস্টেরল: স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য জরুরি তথ্য

কোলেস্টেরল একটি মোম জাতীয় পদার্থ, যা শরীরে ভালো (এইচডিএল) ও খারাপ (এলডিএল) দুই ধরনের থাকে। ভালো কোলেস্টেরল শরীরের জন্য উপকারী হলেও খারাপ কোলেস্টেরলের কারণে রক্তনালিতে প্লেক জমে, যা রক্ত চলাচল ব্যাহত করে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।

খারাপ কোলেস্টেরলের প্রভাব

জীবনযাত্রায় অনিয়ম ও বিশেষ কিছু খাবার খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায়। এর ফলে শরীরে নানা গুরুতর অসুখের ঝুঁকি দেখা দেয়।

মাখন

পাউরুটির সঙ্গে মাখন খাওয়া অনেকের অভ্যাস। তবে মাখনে প্রচুর স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) বাড়ায়। উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলে ভুগলে মাখন এড়িয়ে চলা উচিত।

চিজ

পিৎজা, পাস্তা বা স্যান্ডউইচের স্বাদ বাড়াতে চিজ অতুলনীয়। তবে এটি উচ্চ কোলেস্টেরল রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। চিজেও স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায়।

ডিমের কুসুম

ডিম পুষ্টিকর হলেও এর কুসুমে প্রায় ২০০ এমজি কোলেস্টেরল থাকে। উচ্চ কোলেস্টেরলে ভুগলে পুরো ডিম সপ্তাহে একটির বেশি খাওয়া উচিত নয়। তবে ডিমের সাদা অংশ নিরাপদ।

ঘি

ঘি’র অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। তবে এটি ক্যালোরি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটে ভরপুর। ফলে এটি রক্তনালিতে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায়।

ভাজা খাবার

মুখোরোচক ভাজাপোড়া খাবার খারাপ কোলেস্টেরলের অন্যতম উৎস। বাইরের ভাজা খাবার এড়িয়ে সরিষার তেল ব্যবহার করলে কিছুটা স্বাস্থ্যকর হতে পারে।

খাদ্যাভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক পদ্ধতি মেনে চললে খারাপ কোলেস্টেরলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শীতের কাপড় ব্যবহারের আগে যা করবেন

দিনের বেলা আবহাওয়া গরম থাকলেও সন্ধ্যা নামতেই শীতের অনুভূতি শুরু হচ্ছে। এখনই সময় আলমারি বা বাক্সে রাখা গরম কাপড় বের করার। তবে দীর্ঘদিন ধরে রাখা জামাকাপড় ব্যবহারের আগে পরিষ্কার করার কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি।

দীর্ঘ সময় বাক্সে রাখা কাপড়ে ধুলা এবং ভ্যাপসা গন্ধ জমে যায়। এসব দূর করতে উলের তৈরি সোয়েটার, মাফলার বা শীতের পোশাক একবার ধুয়ে নেওয়া উচিত। তবে উলের পোশাক ধোয়ার সময় অন্য পোশাকের সঙ্গে মেশাবেন না। শুকানোর সময় চড়া রোদে না দিয়ে হালকা ছায়ায় শুকানো ভালো, নইলে পোশাকের রং মলিন হয়ে যেতে পারে।

বাক্সবন্দি কাঁথা ব্যবহারের আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। কাঁথা ধোয়ার আগে ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। পরে ধুয়ে শুকানোর জন্য কড়া রোদে দিন।

লেপ বা কম্বলও পরিষ্কার রাখতে রোদে মেলে দেওয়া প্রয়োজন। তুলার লেপ বা কাঁথার ক্ষেত্রে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার কভার বদলে পরিষ্কার করুন। যদি কম্বল তুলার না হয়, তাহলে শ্যাম্পু মিশ্রিত পানিতে ধুয়ে নিলে তা নরম এবং পরিষ্কার থাকবে।

শীতের পোশাক ব্যবহারের আগে এসব নিয়ম মেনে চললে কাপড় দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং স্বাস্থ্যকর থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শীতের দিনে ত্বক সুস্থ রাখতে যা করবেন

শীতের আগমন মানেই ত্বকে শুষ্কতা, ফাটা ও চুলকানির মতো সমস্যা বাড়ে। শীতের বাতাসে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার ফলে যেসব সমস্যা দেখা দেয়, সেগুলোর সমাধান করতে প্রয়োজন সঠিক যত্ন। শীতের এই সময়টাতে ত্বক ভালো রাখতে কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক ত্বক শুষ্কতা কমাতে কীভাবে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনবেন।

১. পানি বেশি পান করুন
শীতের সময়ে আর্দ্রতা কমে যাওয়ার কারণে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দিনে তিন থেকে চার লিটার পানি খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে ত্বকে আর্দ্রতা বজায় থাকবে এবং শুষ্কতা কমে যাবে।

২. তরল খাবার খান
শীতকালে ত্বক আর্দ্র রাখতে ডায়েটে তরল খাবারের পরিমাণ বাড়ান। ডাব, দুধ, ফলের রস, স্যুপ ইত্যাদি খাবার নিয়মিত খাবারের তালিকায় রাখলে ত্বক থাকবে মোলায়েম ও সুস্থ।

৩. সঠিক সাবান ও বডি ওয়াশ ব্যবহার করুন
তবে বাইরে বের হওয়ার সময় ত্বককে শুষ্কতা থেকে রক্ষা করতে অ্যালোভেরা সমৃদ্ধ সাবান বা বডি ওয়াশ ব্যবহার করুন। ত্বক পরিষ্কার করার জন্য কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা ভালো।

৪. গোসলের পর ত্বক মসৃণ রাখুন
গোসলের পানিতে গ্লিসারিন এবং গোলাপজল মেশান। গোসলের পর ভেজা ত্বকে নারিকেল বা অলিভ অয়েল দিয়ে মালিশ করুন। এতে ত্বক শুষ্ক হবে না বরং আরও মসৃণ ও জেল্লাদার হয়ে উঠবে।

শীতকালে ত্বক সুস্থ রাখতে সহজ কিছু অভ্যাস পরিবর্তনই যথেষ্ট। প্রতিদিনের রুটিনে এই পরিবর্তনগুলো আনলে ত্বক থাকবে কোমল, সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম