ডেঙ্গুতে একদিনে বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যু, শনাক্ত আরও ১০৭৯

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত (একদিনে) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছর একদিনে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মৃত্যু। এই সময়ে ভাইরাসটি আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১০৭৯ জন।

রোববার (২৪ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১১ জনের মধ্যে ৯ জনই ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের বাসিন্দা। এর মধ্যে পাঁচ জন উত্তর সিটির, চার জন দক্ষিণ সিটির। বাকি দুই জন খুলনা বিভাগের।

এতে বলা হয়েছে, হাসপাতালে নতুন ভর্তি হওয়াদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৯৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩৩ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ২৭২ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৯৪ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১২১ জন, খুলনা বিভাগে ১৪৩ জন রয়েছেন। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৫৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৫ জন, রংপুর বিভাগে ১৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ৯ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

এদিকে গত এক দিনে সারাদেশে ১২৩০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮২ হাজার ৬১২ জন।




মাতৃত্বে প্রথমবার: শিশুর যত্নে করণীয়

প্রতিটি নারীর জন্য মাতৃত্ব একটি আবেগময় অধ্যায়। বিশেষত, প্রথমবার মা হলে সেই আনন্দ ও দায়িত্বের অনুভূতি দ্বিগুণ হয়ে যায়। তবে নবজাতকের সঠিক যত্নের অভাবে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই নতুন মায়েদের কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।

শিশুর যত্নে যে বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিতে হবে:

প্রথমত, নবজাতকের চোখে কাজল লাগানো এড়িয়ে চলুন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাজল শিশুর চোখের টিয়ার নালি আটকে দিতে পারে এবং ধুলো-ময়লা জমিয়ে অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে। তাই এই অভ্যাস থেকে বিরত থাকুন।

ছয় মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ান। বুকের দুধ শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করে। তবে যদি দুধ উৎপাদনে সমস্যা হয় বা শিশুর হজমে অসুবিধা হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

শিশুর ত্বক সংবেদনশীল হওয়ায় দীর্ঘ সময় ডায়াপার ব্যবহার না করাই ভালো। এর বদলে তুলো বা নরম কাপড়ের ন্যাপি ব্যবহার করুন। ত্বক ফুসকুড়ি থেকে বাঁচাতে কয়েক ঘণ্টা পরপর ডায়াপার পরিবর্তন করুন।

নবজাতকের জন্য ব্যবহৃত শ্যাম্পু, লোশন, বডি অয়েল ইত্যাদি পণ্য খুব সাবধানে নির্বাচন করুন। কেনার আগে মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ এবং উপাদান পরীক্ষা করুন। প্রাকৃতিক উপাদানযুক্ত পণ্য ব্যবহার করাই ভালো।

শিশুর যত্নে আরও কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। নবজাতককে স্পর্শ করার আগে হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। ঠান্ডা থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা নিন। শিশুর কান্নার কারণ শনাক্ত করার চেষ্টা করুন এবং খাওয়ানোর পরে পিঠে হালকাভাবে চাপ দিন, যাতে শিশুর আরাম হয়।

নতুন মায়েদের জন্য এই ছোট ছোট বিষয়গুলির যত্ন নেওয়া খুবই প্রয়োজনীয়। সঠিক যত্নই শিশুর সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



লবঙ্গ: মুখের দুর্গন্ধ ও মাড়ির সমস্যার প্রাকৃতিক সমাধান

মুখের দুর্গন্ধ বা মাড়ির সমস্যার কারণে অনেকেই অস্বস্তিতে পড়েন। এর সহজ সমাধান হতে পারে পরিচিত মসলা লবঙ্গ। এটি শুধু রান্নার স্বাদ বাড়ায় না, পাশাপাশি প্রাকৃতিক মাউথ ফ্রেশনার হিসেবে কাজ করে।

মুখের দুর্গন্ধ দূর করে

লবঙ্গের ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী উপাদান মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে কার্যকর। কয়েকটি লবঙ্গ চিবিয়ে খেলে মুখের দুর্গন্ধ কমে যায় এবং মুখের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এটি নিয়মিত ব্যবহার করলে মুখে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বন্ধ হয়।

মাড়ির সমস্যায় উপকারী

দাঁতের মাড়ির যন্ত্রণা বা ক্ষয়রোধে লবঙ্গ অত্যন্ত কার্যকর। মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বা যন্ত্রণা হলে কয়েকটি লবঙ্গ চিবিয়ে খেলে উপশম হয়। এছাড়া লবঙ্গের তেলও দাঁতের যন্ত্রণায় ব্যবহার করা যেতে পারে।

হজম শক্তি উন্নত করে

হজমের সমস্যা থেকেও মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। লবঙ্গ হজমে সহায়ক এনজাইম ক্ষরণ করে এবং গ্যাস, পেট ফাঁপা দূর করতে সাহায্য করে। নিয়মিত লবঙ্গ চা পান করলে হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

পুষ্টিবিদের পরামর্শ:

মুখের দুর্গন্ধ বা মাড়ির সমস্যায় দ্রুত সমাধানের জন্য লবঙ্গ একটি সহজলভ্য উপায়।

লবঙ্গ তেল প্রয়োগের সময় সরাসরি মাড়িতে লাগানোর আগে পেশাদার পরামর্শ নেওয়া ভালো।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ভাত খাওয়ার নিয়ম: ওজন নিয়ন্ত্রণের সহজ উপায়

বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, ভাত খেলে ওজন বেড়ে যায়। ফলে যারা ওজন কমাতে চান, তারা ডায়েট থেকে ভাত বাদ দেন। কিন্তু পুষ্টিবিদেরা বলছেন, পরিমাণমতো ভাত খেলে ওজন বাড়ার ভয় নেই। ভাতে রয়েছে আয়রন, ফাইবার, প্রোটিন এবং সামান্য ফ্যাট। এটি প্রোবায়োটিক হিসেবে কাজ করে এবং ত্বক ও চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে।

ভাত হজমের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে অতিরিক্ত ভাত খেলে ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য ভাত খাওয়ার নিয়ম জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সঠিক নিয়মে ভাত খাওয়ার পদ্ধতি

১. কার্বোহাইড্রেটের ভারসাম্য বজায় রাখুন:
ভারসাম্যপূর্ণ ডায়েটে ভাত বা রুটির মতো কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার রাখা উচিত। সকাল এবং দুপুরে ভাত খাওয়া যেতে পারে। তবে ওজন কমাতে চাইলে রাতে ভাত এড়িয়ে চলুন।

২. বয়সভিত্তিক পরিমাণ ঠিক করুন:

১৭-৩০ বছর বয়সে: আড়াই থেকে তিন কাপ ভাত পুষ্টির জন্য যথেষ্ট।

৩৬ বছরের বেশি হলে: সারাদিনে আড়াই কাপের বেশি ভাত না খাওয়াই ভালো।

৪২ বছরের পর: দিনে দুই কাপ ভাত খাওয়াই যথেষ্ট।

৩. প্রোটিনের সঙ্গে মিল রাখুন:
ভাতের সঙ্গে মাছ, মাংস, ডিম, সয়া, ডাল বা পনিরের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যোগ করুন। এতে পুষ্টি নিশ্চিত হবে।

4. ফাইবারযুক্ত শাক-সবজি খান:
ভাতের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণ শাক-সবজি খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।

পুষ্টিবিদের পরামর্শ

পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন বলেন, “ভাত খাওয়ার অন্তত ২০ মিনিট পরে পানি পান করুন। এতে হজমশক্তি উন্নত হয়। খাবারের মাঝে প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত পানি পান করবেন না।”

ভাত সঠিক নিয়মে এবং পরিমিত পরিমাণে খেলে এটি শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



খারাপ বসের অধীনে কাজ: কর্মজীবনে বিপদ

চাকরিজীবনে একজন খারাপ বসের অধীনে কাজ করার অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। এই অভিজ্ঞতা কেবল কর্মক্ষেত্রেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একজন খারাপ বস সাধারণত কর্মীদের কাজের প্রশংসা করেন না এবং অনেক সময় তাদের সাফল্যের কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করেন। নেতৃত্ব উন্নয়নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও কর্মক্ষেত্রে এখনও খারাপ বসের অধীনে কাজ করতে হয় বহু কর্মীকে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৫৬ শতাংশ আমেরিকান কর্মী খারাপ বসের অধীনে কাজ করেন। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের জরিপে বলা হয়, ৭৫ শতাংশ কর্মী শুধুমাত্র বসের কারণে কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপ অনুভব করেন। গ্যালাপের আরেক গবেষণায় দেখা যায়, প্রতিজন কর্মীর মধ্যে অন্তত একজন বসের কারণেই চাকরি ছেড়ে দেন।

জাতীয় কর্মক্ষেত্র বিশেষজ্ঞ লিন টেলর বলেন, “একজন খারাপ বস শুধু কর্মজীবনে সমস্যার সৃষ্টি করেন না; এটি ব্যক্তিগত জীবনেও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।” গবেষণায় আরও বলা হয়, খারাপ বসের অধীনে কাজ করা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

স্বাস্থ্যঝুঁকি

সুইডেনের এক জরিপে দেখা যায়, খারাপ বসের অধীনে কাজ করা কর্মীরা স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এবং কার্ডিওভাসকুলার সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ৬০ শতাংশ ঝুঁকিতে থাকেন। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিক হেলথ-এর গবেষণায় বলা হয়েছে, ক্ষতিকর কাজের পরিবেশে দীর্ঘ সময় কাজ করলে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

এছাড়া, খারাপ বসের সঙ্গে কাজ করার মানসিক প্রভাবও গুরুতর হতে পারে। চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পরেও সেই মানসিক চাপ কাটিয়ে উঠতে একজন কর্মীর প্রায় ২২ মাস সময় লেগে যেতে পারে।

করণীয়

খারাপ বসের সঙ্গে কাজের প্রভাব এড়াতে নিজেকে মনে করিয়ে দিন, এটি একটি সাময়িক অবস্থা। কাজের বাইরে আনন্দের উৎস খুঁজুন এবং যোগব্যায়াম কিংবা ধ্যানের মতো শিথিলকরণ প্রক্রিয়া চর্চা করুন। পর্যাপ্ত ঘুম ও ব্যায়ামের মাধ্যমে শারীরিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন।

একইসঙ্গে কর্মক্ষেত্রে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলুন। একজন ভালো পরামর্শদাতা বা প্রশিক্ষক খুঁজে নিন, যিনি আপনাকে সমস্যা সমাধানের পথ দেখাতে পারেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন দিতে হবে, নতুন ইসিকে ফয়জুল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম নতুন নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “দেশে জুলুম, অত্যাচার, অবিচার এবং পেশি শক্তির ব্যবহার বন্ধ করতে আগামী নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন দিতে হবে। যেখানে ভোট কোনো ব্যক্তিকে না দিয়ে, প্রতীককে দেওয়া হবে।”

শনিবার (২৩ নভেম্বর) বিকালে ভোলার চরফ্যাশন বাজারে ফ্যাশন স্কয়ারে ইসলামী আন্দোলন ভোলা জেলা দক্ষিণের আয়োজনে অনুষ্ঠিত গণ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশটি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণহত্যার বিচার, দুর্নীতিবাজদের গ্রেফতার ও সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে সংসদ নির্বাচন দেয়ার দাবিতে আয়োজন করা হয়।

ফয়জুল করীম বলেন, “এ দেশের মানুষ শুধুমাত্র একটা নির্বাচনের জন্য আন্দোলন বা সংগ্রাম করেনি, তারা তাদের মুক্তি, অধিকার ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য এবং বৈষম্যহীনভাবে বসবাস করার জন্য জীবন দিয়েছে। কিন্তু একদল এই সুযোগে জুলুম, অত্যাচার, মিথ্যা মামলা, দখলদারি ও চাঁদাবাজি শুরু করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে বারবার সরকার পরিবর্তন হয়েছে, দল পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বহু শাসক দেখেছি, কিন্তু নীতি ও আদর্শের পরিবর্তন হয়নি। তেঁতুল গাছ লাগিয়ে মিষ্টি ফলের আশা করা যায় না, তেমনি চোরের মাধ্যমে চুরিমুক্ত দেশ হতে পারে না।”

এছাড়াও, ফয়জুল করীম ইসলামি হুকুমত কায়েমের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, “ইসলামি হুকুমত কায়েম হলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশের সকল গরিব দরিদ্রসীমার উপরে চলে যাবে। সেখানে সবাই সমঅধিকার নিয়ে বসবাস করবে, এবং কোনো ধরনের জুলুম বা বৈষম্য থাকবে না। আমরা এমন একটি সমাজ গঠন করতে চাই, যেখানে শাসকরা জনগণের খাদেম হবে।”

সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন ভোলা জেলা দক্ষিণের সভাপতি আলাউদ্দিন তালুকদারের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সিরাজুল ইসলাম। গণসমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দও বক্তব্য দেন।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

বরিশালের দুই উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে উজিরপুর উপজেলায় ইটবোঝাই ট্রলির সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে রুমান হাওলাদার রুপম (২২) নামে একজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে গৌরনদী উপজেলার টকরী নিলখোলা এলাকায় নিয়ন্ত্রণহীন বাসের চাপায় ভ্যানযাত্রী সাইদুল হাওলাদার (৩৭) নিহত হয়েছেন।

শনিবার (২৩ নভেম্বর) উজিরপুরের দিঘিরপাড় এলাকায় রুপম সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। একই দিনে দুপুরে গৌরনদী উপজেলার টকরী এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বাসচাপায় ভ্যানযাত্রী সাইদুল হাওলাদার নিহত হন। এই দুর্ঘটনায় ভ্যানচালকসহ কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন।

উজিরপুরের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত রুপমের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, রুপম শনিবার সকাল ১০টায় মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে পুরান শিকারপুরের উদ্দেশে রওনা হন। পথে দিঘিরপাড় এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইটবোঝাই ট্রলির সঙ্গে রুপমের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জ্যোতির্ময় হালদার জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রলিচালক পালিয়ে যান। নিহত রুপমের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় সুরতহাল শেষে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অন্যদিকে গৌরনদীতে বাস দুর্ঘটনার ব্যাপারে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার বিপুল হোসেন জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বরগুনাগামী শ্রাবণী পরিবহণের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী ভ্যানকে চাপা দিয়ে দোকান ভেঙে খাদে পড়ে যায়। এতে ভ্যানচালকসহ পাঁচ যাত্রী ও বাসের এক শিশু আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সাইদুল হাওলাদারকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত ভ্যানচালক জাহিদ বিশ্বাসকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রহমান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বাসযাত্রী সাথী বেগম জানান, চলন্ত অবস্থায় বাসচালক তার আত্মীয় এক যাত্রী সঙ্গে কথা বলছিলেন, যা যাত্রীদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। কিছু সময় পরই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভ্যানকে চাপা দিয়ে দোকান ভেঙে খাদে পড়ে যায়। এই ঘটনায় তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও, অনেক যাত্রী আহত হয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের পরামর্শ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছেন সংস্কার কমিশনের মতবিনিময়ে আসা সুধীজনরা। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচনি সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. তোফায়েল আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি নিজেও এর পক্ষে আছেন বলে জানান।

শনিবার (২৩ নভেম্বর) ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, নাগরিক সমাজের অভিমত হচ্ছে স্থানীয় নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের আগে হওয়া উচিত। কারণ, স্থানীয় নির্বাচন করার ফলে আমাদের কমিশনের সক্ষমতা বাড়বে। টেস্ট হয়ে যাবে। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে যে সাপোর্ট দরকার হবে, তাও নিশ্চিত হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন একটা, আর স্থানীয় নির্বাচন পাঁচটা। পাঁচটার মধ্যে তিনটা হলো ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা। জাতীয় নির্বাচন ন্যাশন-ওয়াইড হয়। আর সিটি হয় লোকালাইজড। জেলা পরিষদে আসলে কোনো নির্বাচন হয় না। এখন স্থানীয় নির্বাচনের পূর্বে যদি জাতীয় নির্বাচনে যাই, তাহলে যে সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে তা ঝুলে যাবে। কারণ এখন আমাদের যে চিন্তা-ভাবনা, স্থানীয় নির্বাচন যেটা আছে সেটা কোনো সিস্টেম না। আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠান, আলাদা আলাদা আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। কোনো কমপ্রিহেন্সিভ সিস্টেম নাই। এই সংস্কারের বড় কাজ হবে একটা সিস্টেম ডেভেলপ করে দেওয়া। এখন সিস্টেম কী হবে? যে সিস্টেম আছে সেটা আইয়ুব খানের ভাবনায় রেখে করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের ১০ বছর পরে উপজেলা, তার ১০ বছর পর উপজেলা পরিষদ হয়েছে। এতে কম্প্রিহেন্সিভ কিছু হয়নি। এই সিস্টেম করার জন্য এখন মোক্ষম সময়। কেননা, বেশিরভাগ স্থানীয় সরকার কিন্তু নেই। কেবল ইউপি আছে। কাজেই ছবি আঁকার এটাই সময়। আমরা যদি সিস্টেম করতে পারি যে, একটা কম্প্রিহেন্সিভ আইন হবে। সেই আইনের মধ্যে সব প্রতিষ্ঠান চলে আসবে। এতে একটা তফসিল দিয়ে সবগুলো নির্বাচন করতে পারব।




সড়ক দুর্ঘটনায় পরীমনির সাবেক স্বামী ইসমাইল হোসেনের মৃত্যু

চিত্রনায়িকা পরীমনির সাবেক স্বামী ইসমাইল হোসেন এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। শিবচর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাকিল আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার (২২ নভেম্বর) ভোররাতে ঢাকা-ভাঙ্গা মহাসড়কের মাদারীপুরের শিবচরের পাচ্চর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তা এখনও পরিষ্কার হয়নি। তবে এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিন, ইসমাইল হোসেন তার বন্ধু মনিরকে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। ভোরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে পেছন থেকে একটি ট্রাক তাদেরকে ধাক্কা দেয়, এতে ইসমাইল ও তার বন্ধু মনির গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ইসমাইলকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে, মনিরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আগারগাঁও পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে মনিরের একটি পা কেটে ফেলা হয়।

ইসমাইল হোসেনের মৃত্যুর পর শুক্রবার রাতেই তার লাশ বাড়িতে নিয়ে আসা হলে এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার জানাজার পর, ছোট শৌলা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে এলাকাবাসী শোকাবহ পরিবেশে ডুবে গেছে।

এদিকে, ২০১২ সালের ২৮ এপ্রিল পরীমনির সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল।

সূত্র :: চ্যানেল 24
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কোমর ব্যথা: কারণ, প্রতিকার ও সতর্কতা

দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে কোমর ব্যথায় ভুগে থাকেন। এটি হতে পারে স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি। সঠিক চিকিৎসা ও নিয়ম মেনে চললে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই ব্যথা দ্রুত উপশম হয়। তবে অবহেলা করলে সমস্যা জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

কোমর ব্যথার কারণ

কোমরের ব্যথা সাধারণত বয়স, বংশগত সমস্যা, বা আঘাতের কারণে হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি কারণ হলো লাম্বার স্পনডোলাইসিস। এটি বয়সের কারণে কোমরের হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার ফল। এছাড়া পিএলআইডি (পোস্টারিওর লম্বার ইন্টারভেন্ট্রাল ডিস্ক) নামের সমস্যাটি ২৫-৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। ডিস্ক সরে গিয়ে স্নায়ুর ওপর চাপ ফেললে এটি কোমর থেকে পায়ে ব্যথা ছড়িয়ে দিতে পারে।

সতর্ক সংকেত

কোমর ব্যথার সঙ্গে যদি নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে তা অবহেলা করা উচিত নয়:

কোমর ব্যথার পাশাপাশি জ্বর, ওজন হ্রাস বা অতিরিক্ত ঘাম।

ব্যথা পায়ের দিকে ছড়িয়ে পড়া।

প্রস্রাব বা পায়খানার সমস্যা।

মলদ্বারের আশপাশে বোধশক্তি কমে যাওয়া।

পায়ে অবশ ভাব বা মাংসপেশির দুর্বলতা।

করণীয়

প্রাথমিক পর্যায়ে কোমর ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে যা করবেন:

শক্ত ও সমান বিছানায় ঘুমান।

ফোমের বিছানা ও নরম সোফায় দীর্ঘক্ষণ বসা এড়িয়ে চলুন।

ভারী জিনিস তোলার সময় কোমরে চাপ না দিয়ে সঠিক ভঙ্গিতে তুলুন।

নিয়মিত হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যায়াম করুন।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

ঘুম থেকে ওঠার সময় সোজা হয়ে ওঠার পরিবর্তে কাত হয়ে উঠুন।

চিকিৎসা ও ফিজিওথেরাপি

হালকা ব্যথা হলে প্রাথমিক চিকিৎসায় গরম ভাপ বা মলম ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে মালিশ করবেন না। ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে অর্থোপেডিকস বা ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ব্যথার জন্য ফিজিওথেরাপি কার্যকর হলেও সঠিক নির্দেশনা মেনে নেওয়া জরুরি।

ওষুধের সঠিক ব্যবহার

ব্যথানাশক ওষুধ সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন কোনো ওষুধ নেই যা মাংসপেশি শক্তিশালী করতে পারে। সুতরাং, ওষুধের পরিবর্তে সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করাই শ্রেয়।

লেখক- অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস সালাম, অর্থো সার্জন, নিটোর, ঢাকা।
“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”