কুয়াকাটায় ডেঙ্গুতে আবারও দুইজনের মৃত্যু, আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও দুই ব্যক্তি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এ নিয়ে এলাকায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ জনে।

রবিবার (২৬ অক্টোবর) রাতে রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খাজুরা এলাকার নুরজামাল ফকির ও মিশ্রীপাড়া এলাকার হাবিব। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লতাচাপলী ইউনিয়নের নারী ইউপি সদস্য রাহিমা আক্তার রূপা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারা প্রথমে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনেরই মৃত্যু হয়।

এর আগে গত ১৩ অক্টোবর মহিপুর এলাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুই নারী, এক শিশু ও এক অন্তঃসত্ত্বাসহ চারজনের মৃত্যু হয়। অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন।

বর্তমানে মহিপুর ও আশপাশের এলাকায় অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন,
“ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রচারণা চালাচ্ছি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছি। সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের খবর মহিপুর ও কুয়াকাটা এলাকা থেকে আসছে।”

অপরদিকে, কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাওসার হামিদ জানান,
“ডেঙ্গুতে মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধন কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বাড়িঘর ও ড্রেন পরিষ্কার রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে, এলাকাজুড়ে ডেঙ্গু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কুয়াকাটা ও আশপাশের অঞ্চলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আরও বিস্তৃত হতে পারে।


আল-আমিন



পটুয়াখালী জুড়ে অনুমোদনহীন ক্লিনিকের রাজত্ব, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে লাখো মানুষ

পটুয়াখালী জেলায় স্বাস্থ্যসেবার নামে চলছে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির মহোৎসব। জেলায় দিন দিন গজিয়ে উঠছে অসংখ্য বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। কিন্তু এর বড় একটি অংশই পরিচালিত হচ্ছে সরকারি অনুমোদন বা নবায়ন ছাড়াই। ফলে প্রতিদিন হাজারো মানুষ পড়ছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পটুয়াখালীতে বর্তমানে ২৪০টি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৮১টির লাইসেন্স বৈধ। বাকি ১৫৯টি প্রতিষ্ঠান কোনো অনুমোদন ছাড়াই বছরের পর বছর রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের অধিকাংশই সরকারি চিকিৎসক বা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রভাবশালী কর্মকর্তারা। সরকারি দায়িত্বে থেকে ব্যক্তিগত ক্লিনিক চালিয়ে তারা গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদ, বিলাসবহুল বাড়ি এবং অ্যাপার্টমেন্ট।

সরকারি হাসপাতালে রোগীরা গেলে, অনেক চিকিৎসক নানা অজুহাতে তাদের নিজেদের ক্লিনিকে পাঠান। সেখানে চিকিৎসা বা সিজার অপারেশনের নামে গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা। এতে একদিকে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাও ধীরে ধীরে অকার্যকর হয়ে পড়ছে।

পটুয়াখালী পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় “পটুয়াখালী ইসলামী চক্ষু হাসপাতাল” নামের একটি প্রতিষ্ঠান কোনো অনুমোদন ছাড়াই তিন বছর ধরে চোখের অপারেশন করছে। মাসে ৩০ থেকে ৫০ জন রোগীর চোখের সার্জারি করা হয় বলে স্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া শহরের বাধঘাট এলাকায় অবস্থিত “পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার”-এ এমবিবিএস চিকিৎসক না থাকলেও একজন ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী নারী রোগী দেখছেন, প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন এমনকি অ্যান্টিবায়োটিকও লিখছেন। ল্যাব টেকনিশিয়ান বা টেকনোলজিস্টও সেখানে স্থায়ীভাবে পাওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. সুমন বলেন, “আমরা ছোট পরিসরে ব্যবসা করছি। আত্মীয় এমবিবিএস পাশ করেছে, তাকে বসাবো শিগগিরই।”

গলাচিপা উপজেলা হাসপাতাল রোডে “নিউ লাইফ ক্লিনিক” নামের প্রতিষ্ঠানের ভবনের সামনে দুর্গন্ধযুক্ত নর্দমা সংলগ্ন পুকুর রয়েছে। পাশাপাশি এটির অনুমোদনের মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে গত অর্থবছরে।

রোগী হামিদা বেগম বলেন, “বাধঘাটের পপুলার ডায়াগনস্টিকে রক্ত পরীক্ষা করাই, রিপোর্ট ভুল আসায় ঢাকায় গিয়ে দেখি সেটি ভুয়া। এতে আমি বিপাকে পড়েছি।”

গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে অনিয়ম পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনুমোদনহীনভাবে রোগী ভর্তি বা চিকিৎসা আইন লঙ্ঘন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. খালিদুর রহমান মিয়া জানান, “আমরা ইতোমধ্যে চারটি উপজেলার তথ্য সংগ্রহ করেছি। বাকিগুলোর কাজ শেষ করেই অভিযানে নামবো। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

পটুয়াখালী জুড়ে এভাবে অনুমোদনবিহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বেপরোয়া কার্যক্রমের কারণে সাধারণ মানুষ আজ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে অভিযানের মাধ্যমে এসব অনিয়ম বন্ধ না হলে স্বাস্থ্যসেবা খাত পুরোপুরি অরাজকতায় নেমে যেতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সকালের ৫টি ভুল অভ্যাসে নষ্ট হচ্ছে কিডনি! জেনে নিন এখনই

মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো কিডনি, যা শরীর থেকে বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে। কিন্তু আধুনিক জীবনযাপনের কিছু ছোট ছোট ভুল অভ্যাস নিঃশব্দে কিডনির ক্ষতি করছে— যা অনেক সময় আমরা টেরই পাই না। চিকিৎসকরা তাই কিডনির সমস্যাকে বলেন ‘নিঃশব্দ ঘাতক’।

ভারতের প্রখ্যাত ইউরোলজিস্ট ডা. ভেঙ্কট সুব্রামণিয়াম জানিয়েছেন, “আপনার কিডনি সারারাত কাজ করে শরীরকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখে। তাই সকালে এমন কিছু করা উচিত নয়, যা তাদের ওপর বাড়তি চাপ ফেলে।” তাঁর মতে, কয়েকটি সাধারণ সকালের অভ্যাস পরিবর্তন করলে কিডনিকে সহজেই সুস্থ রাখা যায়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ৫টি সকালের অভ্যাস, যা অজান্তেই কিডনির ক্ষতির কারণ হয়ে উঠছে—

১️⃣ পানি না খেয়ে চা/কফি পান করা
অনেকে ঘুম থেকে উঠেই চা বা কফি পান করেন, যা কিডনির ওপর বাড়তি চাপ ফেলে। সকালে প্রথমেই এক গ্লাস পানি পান করলে শরীরের পানিশূন্যতা দূর হয় এবং কিডনি স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে।

২️⃣ প্রস্রাব আটকে রাখা
অলসতার কারণে অনেকে সকালে প্রস্রাব আটকে রাখেন। এতে মূত্রনালিতে সংক্রমণ হতে পারে, যা ধীরে ধীরে কিডনি ক্ষতির দিকে নিয়ে যায়। তাই ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে প্রস্রাব করে ফেলাই উচিত।

৩️⃣ ব্যায়ামের পর পানি না খাওয়া
ব্যায়ামের সময় শরীর থেকে প্রচুর তরল বেরিয়ে যায়। ব্যায়ামের পর পর্যাপ্ত পানি বা ইলেক্ট্রোলাইটযুক্ত পানীয় পান না করলে কিডনি ডিহাইড্রেশনে আক্রান্ত হয়। এটি দীর্ঘমেয়াদে কিডনি বিকলতার ঝুঁকি বাড়ায়।

৪️⃣ খালি পেটে ব্যথানাশক সেবন
খালি পেটে পেইনকিলার খাওয়া কিডনির জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর। এই ওষুধ কিডনির ফিল্টারিং প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায়। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বা খালি পেটে কোনো ব্যথানাশক খাওয়া উচিত নয়।

৫️⃣ সকালের নাস্তা এড়িয়ে যাওয়া
ব্যস্ততার কারণে অনেকেই সকালে নাস্তা করেন না। এতে শরীর দুর্বল হয়, রক্তে সুগার লেভেল কমে যায় এবং কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। তাই সকালে প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ নাস্তা করা অত্যন্ত জরুরি।

এই সহজ ৫টি অভ্যাস পরিবর্তন করলে কিডনিকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা সম্ভব। মনে রাখবেন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই কিডনির প্রকৃত সুরক্ষা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সকালের শুরু হোক এক মুঠো ভেজানো ছোলায়

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই দিন শুরু করেন এক কাপ চা বা কফি দিয়ে। কিন্তু জানেন কি, খালি পেটে এক মুঠো ভেজানো কাঁচা ছোলা খাওয়ার অভ্যাস আপনার শরীরের জন্য হতে পারে প্রাকৃতিক ওষুধের মতো? দামে কম হলেও গুণে ভরপুর এই ছোলা শুধু শক্তি জোগায় না, বরং শরীরের ভেতর-বাহিরে আনে আশ্চর্য পরিবর্তন।

পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়মিত ভেজানো ছোলা খেলে শরীর পায় প্রচুর প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন এবং খনিজ। এটি শুধু পেট ভরায় না, বরং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, রক্তে চিনি নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি দূর করে।

ছোলায় থাকা ফাইবার ও প্রোটিন দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা দমন করে, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। একই সঙ্গে এর কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ধীরে বাড়ায়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ উপকারী। এতে থাকা আয়রন হিমোগ্লোবিন বাড়ায়, শরীরে রক্তের ঘাটতি পূরণ করে এবং গর্ভবতী নারীদের পুষ্টির ঘাটতি দূর করে।

তবে শুধু অভ্যন্তরীণ নয়, বাহ্যিক সৌন্দর্যেও ছোলার প্রভাব চোখে পড়ার মতো। এতে থাকা ভিটামিন A, B6, জিঙ্ক এবং ম্যাঙ্গানিজ চুলের গোড়া মজবুত করে, চুল পড়া রোধ করে এবং আগা ফাটা প্রতিরোধ করে। নিয়মিত ছোলা খেলে চুল হয় ঘন, মজবুত ও প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল।

ত্বকের জন্যও ছোলা এক অনন্য উপাদান। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের বলিরেখা, দাগ ও বয়সের ছাপ পড়া প্রতিরোধ করে। ছোলা নিয়মিত খেলে ত্বক হয় তরতাজা, উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।

এছাড়া ছোলায় থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমায়, ফলে হার্ট সুস্থ থাকে। এটি শরীরের রক্তনালীকে মজবুত করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

ভেজানো ছোলা এক কথায় প্রাকৃতিক শক্তির ভাণ্ডার। এটি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীর পাবে ভরপুর শক্তি, মন থাকবে সতেজ, আর সারাদিন জুড়ে কাজের উদ্যম বজায় থাকবে।

তাই প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক মুঠো ভেজানো কাঁচা ছোলা খাওয়ার অভ্যাস করুন। এই সামান্য পরিবর্তন আপনার জীবনে আনবে বিশাল ইতিবাচক প্রভাব—ওজন কমানো থেকে শুরু করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ত্বক ও চুলের যত্ন—সবকিছুতেই মিলবে সুস্থতার পরশ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে অবৈধ ট্রলির ধাক্কায় সেনা সদস্যসহ তিনজন আহত

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় একটি অবৈধ ট্রলির ধাক্কায় সেনা সদস্যসহ তিনজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাউফল-বগা-বরিশাল মহাসড়কের বাউফল পাবলিক মাঠের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন— বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য কাওসার আহমেদ (২৬), ব্যবসায়ী রুমান আহমেদ (২৭) এবং অটোরিকশা চালক বেল্লাল আহমেদ (৩০)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাওসার ও রুমান একটি অটোরিকশায় করে পাবলিক মাঠ এলাকায় যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি অবৈধ ট্রলি তাদের অটোরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং তিনজনই গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সেনা সদস্য কাওসার আহমেদ ও ব্যবসায়ী রুমান আহমেদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতারুজ্জামান সরকার জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আল-আমিন


 




রাজধানীতে আগুনে পুড়ল আরো একটি তৈরী পোশাক কারখানায়

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:  রাজধানীর পল্লবীতে কালশীর চন্দ্রবিন্দুর মোড়ের কাছে অবস্থিত একটি তৈরি পোশাকের কারখানায়, আজ শুক্রবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রাত ১০টার দিকে ছয়তলা একটি বাণিজ্যিক ভবনের ছয়তলাতে  আগুন লাগে।  ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ করছে।

রাত সোয়া ১০টার ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্তব্যরত কর্মকর্তা রাকিব আল হাসান বলেন, রাত ১০টার দিকে কালশীর চন্দ্রবিন্দু মোড়ের কাছে ছয়তলা ভবনের ছয় তলায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গেছে।

শুক্রবার থাকায় কারখানা বন্ধ ছিল। রাত ১০টার ঘটনাস্থল থেকে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, কমিউনিটি সেন্টারে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তখনো ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। ভবনটির নিচে শত শত উৎসুক মানুষ ভিড় করে আছে।

 




বাউফলে নিখোঁজের একদিন পর ডোবায় মিলল শিশুর মরদেহ

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর নাহিদ মৃধা (৭) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের উত্তর পাকডাল গ্রামে।

স্থানীয়রা জানান, দুপুর দেড়টার দিকে উত্তর পাকডাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে একটি ডোবায় শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখতে পান তারা। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে পরিবারের কাছে খবর দেন।

নিহত নাহিদ মৃধা উত্তর পাকডাল এলাকার নিজাম মৃধা ও সালমা বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। সে স্থানীয় উত্তর পাকডাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে নাহিদ ঘর থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের সহায়তায় রাতভর খোঁজাখুঁজি চালানো হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে পরদিন দুপুরে বিদ্যালয়ের পাশের ডোবায় শিশুটির মরদেহ ভেসে উঠলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

এদিকে স্থানীয়রা ধারণা করছেন, শিশুটি খেলার সময় দুর্ঘটনাবশত ডোবার পানিতে পড়ে মারা যেতে পারে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুন, ফায়ার সার্ভিসের ৩০ ইউনিট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ৩০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন ফায়ার স্টেশন থেকে আরও ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে রওনা দিয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরাও।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তাহলা বিন জসিম। তিনি জানান, “বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের আগুন নিয়ন্ত্রণে আমাদের ৩০টি ইউনিট কাজ করছে, আরও ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলের পথে রয়েছে। এখন পর্যন্ত আগুন লাগার কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি।”

এদিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুটি ফায়ার ইউনিট এবং নৌবাহিনীর সদস্যরাও কাজ করছে। এছাড়া সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষও আগুন নিয়ন্ত্রণে সম্পৃক্ত হয়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুন মূলত কার্গো ভিলেজ এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। যাত্রী টার্মিনালের কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য বিকল্প ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কার্গো ভিলেজের একটি গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ঘটনাস্থলে আগুনের ধোঁয়া চারপাশে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তেঁতুলিয়া নদীতে নিখোঁজ যুবকের লাশ তিন দিন পর উদ্ধার

পটুয়াখালীর বাউফলে তেঁতুলিয়া নদীতে নৌ–পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ঝাঁপ দেওয়া নিখোঁজ যুবক রাসেল খানের (৩২) লাশ তিন দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল এলাকার বাতিঘর পয়েন্টে নদীর ভাসমান অবস্থায় লাশটি দেখতে পেয়ে স্বজনরা শনাক্ত করেন।

জানা যায়, গত শনিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাসেল খান চার বন্ধুকে নিয়ে একটি ট্রলারে তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ কিনতে যান। ওই সময় নৌ–পুলিশের টহল দল তাদের ধাওয়া করলে আতঙ্কে নদীতে ঝাঁপ দেন তিনি। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ মেলেনি।

ঘটনার পরদিন থেকেই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল টানা উদ্ধার অভিযান চালালেও তাকে পাওয়া যায়নি। অবশেষে তিন দিন পর মঙ্গলবার সকালে নদীতে ভেসে ওঠে তার নিথর দেহ।

নিহত রাসেল খান উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামের ইউসুফ খানের ছেলে। তিনি স্থানীয় বড় ডালিমা ব্রিজ এলাকায় একটি দর্জির দোকান চালাতেন। তাঁর স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতারুজ্জামান সরকার বলেন, “লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে লাশ হস্তান্তর করা হবে।”

স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ইলিশ শিকার ও ক্রয়-বিক্রয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে। প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগকে আরও নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সকালে খালি পেটে অ্যাপল সিডার ভিনেগার পান করার উপকারিতা ও সতর্কতা

বর্তমান সময়ের স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে অ্যাপল সিডার ভিনেগার (Apple Cider Vinegar) অন্যতম জনপ্রিয় প্রাকৃতিক উপাদান। শুধু রান্নার স্বাদ বৃদ্ধি করে না, বরং শরীরের বিপাক, হজম এবং পুষ্টি শোষণেও সাহায্য করে। বিশেষ করে খালি পেটে নিয়মিত এটি পান করলে স্বাস্থ্য উপকারিতা আরও বৃদ্ধি পায়।

খালি পেটে অ্যাপল সিডার ভিনেগার পান করার উপকারিতা

১. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে
অ্যাপল সিডার ভিনেগারে থাকা অ্যাসিটিক অ্যাসিড শরীরে কার্বোহাইড্রেট ভাঙার গতি কমিয়ে দেয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে।

২. ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
এটি ক্ষুধা কমায়, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়। নিয়মিত পান করলে ওজন কমানো এবং বিপাকক্রিয়া উন্নত করতে সহায়তা করে।

৩. হজমশক্তি বাড়ায়
অ্যাপল সিডার ভিনেগার পেটের অ্যাসিড নিঃসরণে সহায়তা করে, যা খাবার ভালোভাবে ভাঙতে সাহায্য করে। এতে খাবারের পর পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি কমে। পাশাপাশি অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রেখে সামগ্রিক হজম স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

৪. কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
নিয়মিত পান করলে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমে। এটি হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখে এবং রক্তনালির সুরক্ষা বাড়ায়।

৫. ত্বকের জন্য উপকারী
এর প্রাকৃতিক অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। খালি পেটে এটি পান করলে শরীর থেকে টক্সিন বের হয়, ফলে ত্বক উজ্জ্বল ও সতেজ থাকে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা

  • দাঁতের এনামেল ক্ষয়
  • বুক জ্বালা বা পেটের অস্বস্তি
  • গলায় জ্বালা

কিছু ওষুধের (যেমন ইনসুলিন, মূত্রবর্ধক বা হার্টের ওষুধ) সঙ্গে প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পরামর্শ: খালি পেটে ১–২ চামচ অ্যাপল সিডার ভিনেগার পানি বা লবণমুক্ত জুসের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়াই নিরাপদ। অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করবেন না।

 

আল-আমিন