শীতকালীন সর্দি-কাশি ও গলা ব্যথার ঘরোয়া সমাধান

শীতের শুরুতেই সর্দি-কাশি এবং গলা ব্যথার মতো সাধারণ সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। ঋতু পরিবর্তনের কারণে এই সমস্যাগুলো দেখা দিলেও তা বেশ অস্বস্তিকর হতে পারে। বিশেষ করে, গলা ব্যথা হলে স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়াও কষ্টকর হয়ে ওঠে। এসব সমস্যার সমাধানে ঘরোয়া উপাদানই হতে পারে কার্যকর। বিশেষ করে হলুদ ও মধু একসঙ্গে গ্রহণে দ্রুত আরাম পাওয়া সম্ভব।

হলুদে রয়েছে কারকিউমিন নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌগ, যা প্রদাহ কমায় এবং শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-সেপটিক, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য সহজেই ক্ষত সারাতে এবং অ্যালার্জির বিরুদ্ধে কাজ করতে সক্ষম। অন্যদিকে, মধু প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে পরিচিত, যা ব্যাকটেরিয়া এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর।

হলুদ ও মধু একসঙ্গে খাওয়ার উপকারিতা:
১. প্রদাহ কমায়
২. হজমশক্তি বাড়ায়
৩. ব্যথা উপশম করে
৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
৫. অ্যালার্জির বিরুদ্ধে কাজ করে
৬. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে
৭. সর্দি-কাশি নিরাময় করে

বিশেষ মিশ্রণ তৈরি ও সেবন প্রক্রিয়া:
১/৪ কাপ কাঁচা মধু, ১ চামচ হলুদ এবং ২ ফোঁটা লেবুর এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে একটি পাত্রে সংরক্ষণ করুন। প্রতিদিন আধা চা চামচ করে এই মিশ্রণ দিনে তিনবার গ্রহণ করলে সর্দি-কাশি এবং গলা ব্যথা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”



শীতে ত্বকের ব্রণের সমস্যা দূর করার কার্যকর উপায়

শীতের সময় ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যাওয়ার কারণে অনেকের ত্বকে ব্রণ দেখা দেয়। এটি শুধু তৈলাক্ত ত্বক নয়, শুষ্ক ত্বকেও হতে পারে। ঠান্ডা বাতাস ত্বক শুষ্ক করে তোলে এবং এই শুষ্কতা থেকে বাঁচার জন্য ত্বক সিবাম উৎপাদন শুরু করে। সিবাম অতিরিক্ত হয়ে গেলে ত্বকের ছিদ্র আটকে গিয়ে ব্রণ সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে ত্বক আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সঠিক যত্নের মাধ্যমে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

বারবার মুখ স্পর্শ করবেন না
ত্বকে ব্রণ দেখা দিলে বারবার মুখ স্পর্শ না করাই ভালো। হাতের জীবাণু ব্রণের সংক্রমণ বাড়াতে পারে। সেইসঙ্গে ত্বকের শুষ্কতা রোধ করতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন। নিয়মিত হাইড্রেটেড থাকলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং ব্রণের সমস্যা কমে। শীতের সময় হিটার, ব্লোয়ার, বা গরম পানি দিয়ে মুখ ধোয়া এড়িয়ে চলুন। এসব কারণে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।

অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করুন
শীতে ব্রণের সমস্যার সহজ সমাধান হতে পারে অ্যালোভেরা জেল। রাতে ঘুমানোর আগে ত্বকে অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে নিন এবং সকালে তা ধুয়ে ফেলুন। এটি শুধু ব্রণই দূর করবে না, ত্বকের অন্যান্য সমস্যাও কমাবে। তবে কারও যদি অ্যালোভেরায় অ্যালার্জি থাকে, তবে এটি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন
ব্রণের সমস্যা দূর করার জন্য প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি ফেসপ্যাক কার্যকর হতে পারে। এক চামচ দারুচিনির গুঁড়া, মেথির গুঁড়া, এক চামচ মধু এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। মিশ্রণটি ব্রণের স্থানে লাগিয়ে ২-৩ ঘণ্টা রেখে দিন বা সারারাত রাখুন। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

শীতের সময় ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান, সঠিক খাবার গ্রহণ এবং প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে ত্বককে সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখা সম্ভব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীর গলাচিপায় ট্রলার চালু করতে গিয়ে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া বাজারে ট্রলার চালু দিতে গিয়ে গলার মাফলার মেশিনের হুইলে পেঁচিয়ে মিরাজ (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবক মিরাজ রতনদী তালতলী ইউনিয়নের নিমহাওলা গ্রামের আমির হাওলাদারের ছেলে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মিরাজের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিরাজ ও তার সহকর্মীরা উলানিয়া বাজারে বরফ নিতে একটি ট্রলার নিয়ে যান। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ট্রলারে বরফ নিয়ে মেশিন চালু করতে গেলে মিরাজের গলার মাফলার মেশিনের হুইলে পেঁচিয়ে গিয়ে তার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় লোকজন মিরাজকে উদ্ধারের আগেই ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, “মেশিন চালু দিতে গিয়ে মিরাজের মৃত্যু হয়েছে। তার লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শিশুর দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস দূর করার ৫টি কার্যকরী পদ্ধতি

দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস শুধু বিরক্তিকর নয়, এটি স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুরা না বুঝে এই অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ে। নখে জমে থাকা ময়লা ও জীবাণু মুখে গেলে তা শরীরে নানা রোগ সৃষ্টি করতে পারে। শিশুর এই বদভ্যাস দূর করতে নিচের পদ্ধতিগুলো কাজে লাগাতে পারেন:

১. বোঝানোর কৌশল

শিশুকে সহজ ভাষায় বোঝান যে দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস ভালো নয়। তাদের স্বাস্থ্যের কী ক্ষতি হতে পারে এবং নখ কাটলে কী ধরনের জীবাণু পেটে যেতে পারে তা চিত্রের মাধ্যমে বা গল্পের আকারে বোঝানোর চেষ্টা করুন।

২. নখ ছোট করে কেটে রাখুন

শিশুর নখ সবসময় ছোট এবং পরিষ্কার রাখুন। স্নানের সময় নখ ভালো করে পরিষ্কার করে দিন। নখে যেন ময়লা জমতে না পারে, তা নিশ্চিত করুন।

৩. শিশুকে ব্যস্ত রাখুন

যখনই দেখবেন শিশু মুখে হাত দিচ্ছে, তখনই তাদের অন্য কাজে ব্যস্ত করুন। খেলাধুলা, বই পড়া, ঘরের ছোট কাজ বা গাছের পরিচর্যার মতো কাজে যুক্ত করুন। ব্যস্ত থাকলে তারা মুখে হাত দেওয়া ভুলে যাবে।

৪. তেতো কিছু লাগান

যদি শিশুর অভ্যাস কিছুতেই না ছাড়ে, তবে তাদের নখে তেতো কিছু লাগিয়ে দিন। উদাহরণস্বরূপ, নিম পাতার বাটা ব্যবহার করতে পারেন। এই ধরনের স্বাদ পছন্দ না হওয়ায় তারা নখ মুখে দেওয়া বন্ধ করবে।

৫. বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন

যদি দেখেন শিশু শুধু নখ কাটছে না, বরং সবসময় বিমর্ষ থাকে, খেলাধুলা করছে না বা একা থাকতে পছন্দ করছে, তবে মনোবিদের সঙ্গে পরামর্শ করুন। আতঙ্ক, ভয় বা উদ্বেগ থেকে এমন অভ্যাস হতে পারে। তাই সতর্ক থাকা জরুরি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



নারীদের জন্য অপরিহার্য ৬টি ভিটামিন

২৫ বছর পার করার পর নারীদের জীবনে আসে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এই সময়টায় কাজ, ব্যক্তিগত দায়িত্ব আর স্বাস্থ্য সামলানোর ব্যস্ততায় প্রায়ই অবহেলিত হয় পুষ্টির বিষয়টি। কিন্তু স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং শরীরের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে ভিটামিনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভিটামিন ডি

শক্তিশালী হাড় ও দাঁতের জন্য ভিটামিন ডি অপরিহার্য। ২৫-এর পর কর্মব্যস্ত জীবনে পর্যাপ্ত সূর্যালোকের অভাবে এই ভিটামিনের ঘাটতি হয়। এই অভাব পরবর্তীতে হাড় দুর্বল করে অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়। ফোর্টিফাইড দুধ, ডিম ও স্যামনের মতো খাবারে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। তবু ঘাটতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট খাওয়া যেতে পারে।

ভিটামিন সি

ভিটামিন সি শুধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় না, এটি উজ্জ্বল ত্বকের জন্যও অপরিহার্য। এটি কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে, যা ত্বককে তারুণ্য ধরে রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও এটি শরীরের আয়রন শোষণে সাহায্য করে, যা মাসিকের সময় নারীদের জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়। সাইট্রাস ফল, স্ট্রবেরি, বেল মরিচ ও ব্রোকলি থেকে ভিটামিন সি পাওয়া যায়।

ভিটামিন বি১২

যদি কাজের প্রতি মনোযোগ হারিয়ে ফেলেন বা সহজেই ক্লান্ত বোধ করেন, তবে এর কারণ হতে পারে ভিটামিন বি১২-এর অভাব। এটি রক্ত ​​কণিকার উৎপাদন ও স্নায়ুর কার্যকারিতায় সহায়ক। ডিম, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য ভিটামিন বি১২-এর ভালো উৎস। নিরামিষভোজীদের জন্য সাপ্লিমেন্ট হতে পারে বিকল্প।

ভিটামিন ই

ত্বককে উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর রাখতে ভিটামিন ই অপরিহার্য। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং UV রশ্মি ও দূষণ থেকে ত্বককে রক্ষা করে। বাদাম, বীজ, পালং শাক ও সূর্যমুখী তেলে ভিটামিন ই পাওয়া যায়।

ফোলেট (ভিটামিন বি৯)

ফোলেট প্রজননের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কোষের বৃদ্ধি এবং জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। পাতাযুক্ত শাকসবজি, মটরশুটি ইত্যাদিতে ফোলেট পাওয়া যায়।

ভিটামিন কে

রক্ত ​​জমাট বাঁধা এবং হাড়ের শক্তি বৃদ্ধিতে ভিটামিন কে-এর ভূমিকা অসামান্য। ব্রোকলি, পালং শাক প্রভৃতি খাবারে এটি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরিশালে ছবি তুলতে গিয়ে নদীতে পড়ে কলেজছাত্রের মৃত্যু

বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে ছবি তোলার সময় পা পিছলে পড়ে কলেজছাত্র আবির হাসান হিরার (১৭) করুণ মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (৮ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের বিনোদনকেন্দ্র ভাঙ্গা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজের দেড় ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার লাশ উদ্ধার করে। বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আবির হাসান হিরা বরিশাল নগরীর অমৃত লাল দে কলেজের একাদশ মানবিক বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তার বাড়ি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নাছনাপাড়া মদিনাবাদ গ্রামে। তিনি মো. রাশেদের ছেলে।

আবিরের সহপাঠী হৃদয়ের ভাষ্যমতে, তারা চারজন বন্ধু মিলে ঘুরতে গিয়েছিলেন। ছবি তোলার সময় আবির ব্লকের ওপর উঠলে পা পিছলে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন।

খবর পেয়ে বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বজন এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

বরিশাল সদর নৌ-পুলিশের ওসি সনাতন চন্দ্র সরকার জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে শিশু হাসপাতালের কাজ ৭ বছরেও শেষ হয়নি, ভোগান্তিতে শিশুরা

দক্ষিণাঞ্চলের শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০১৭ সালে বরিশালের আমানতগঞ্জে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হলেও, দীর্ঘ ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও সেটি এখনো অসমাপ্ত। এর ফলে আধুনিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বরিশালের অসংখ্য শিশু।

২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই হাসপাতালটি ২০১৯ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর ছেলে সুকান্ত বাবুর নামে নামকরণ করা এই হাসপাতালটির কাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে থমকে আছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, হাসপাতালের নির্মাণকাজের দায়িত্ব বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টুর প্রতিষ্ঠানকে প্রভাব খাটিয়ে দেওয়া হয়। তারা অভিযোগ করেন, দায়িত্বশীলতা এবং পরিকল্পনার অভাবেই কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হয়নি।

বরিশালের বাসিন্দা জসিম হাওলাদার বলেন, “প্রতিদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে হচ্ছে। এই হাসপাতালটি চালু হলে আমাদের অনেক সুবিধা হতো।”

আফরোজা জাহান ইভা বলেন, “ঢাকায় ছুটতে হচ্ছে, অথচ বরিশালেই যদি হাসপাতালটি চালু হতো, তাহলে চিকিৎসা সহজ হয়ে যেত।”

বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান জানান, “প্রতিমাসে গড়ে এক হাজারেরও বেশি শিশু চিকিৎসা নিতে আসে। নতুন এই হাসপাতালটি চালু হলে চিকিৎসাসেবার মান অনেক উন্নত হবে।”

বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফরসাল আহমেদ বলেন, “কাজ শেষ করতে বিলম্ব হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে। তবে শিগগিরই হাসপাতালের কাজ সম্পন্ন হবে।”

বরিশালের মানুষ দ্রুত এই হাসপাতালের কাজ শেষ করে আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, হাসপাতালটি চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের শিশুদের চিকিৎসার জন্য আর ঢাকায় যেতে হবে না এবং চিকিৎসার মানের উন্নয়ন হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভ্যাপিং: ইলেকট্রনিক সিগারেটের ক্ষতিকর দিকগুলো

ভ্যাপিং, বা ইলেকট্রনিক সিগারেট, আধুনিক ধূমপানের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। সাধারণ সিগারেটের তুলনায় এর গন্ধ কম হওয়ায় এবং “কম ক্ষতিকর” ধারণা থেকে এটি অনেকের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু বাস্তবে এটি শরীরের জন্য সমান ক্ষতিকর।

ভ্যাপ কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে

ভ্যাপ একটি ব্যাটারি চালিত ডিভাইস যা অ্যারোসেল তৈরি করে। আমেরিকার টেক্সাস হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস-এর তথ্য মতে, অ্যারোসেল দেখতে জলীয় বাষ্পের মতো হলেও এতে নিকোটিন, ফ্লেভারিং, এবং ৩০টিরও বেশি ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে।

ব্যবহারকারী যখন ভ্যাপ টানেন, ডিভাইসের ব্যাটারি একটি হিটিং এলিমেন্ট সক্রিয় করে। এই হিটিং এলিমেন্ট ই-লিকুইড নামে একটি তরল পদার্থ গরম করে, যা বাষ্পে রূপান্তরিত হয়। এ বাষ্পে নিকোটিনসহ ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে, যা ধূমপায়ীর শরীরে প্রবেশ করে।

ভ্যাপের প্রযুক্তি

ভ্যাপ ডিভাইসে একাধিক অংশ থাকে, যেমন:

ব্যাটারি: রিচার্জেবল ব্যাটারি ডিভাইস চালায়।

হিটিং এলিমেন্ট: ই-লিকুইডকে গরম করার জন্য ছোট একটি কয়েল।

অ্যাটোমাইজার: এখানে ই-লিকুইড বাষ্পে রূপান্তরিত হয়।

সেন্সর: তাপমাত্রা এবং ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ করে।

ই-লিকুইড: এতে নিকোটিন ও ফ্লেভারিংসহ বিভিন্ন রাসায়নিক থাকে।

ভ্যাপিং-এর ক্ষতিকর প্রভাব

ভ্যাপিং ডিভাইসের জটিল প্রযুক্তি সত্ত্বেও এটি শরীরের জন্য নিরাপদ নয়।

1. স্বাস্থ্য ঝুঁকি: ভ্যাপিং-এর মাধ্যমে ক্ষতিকর রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করে।

2. নিকোটিন আসক্তি: নিকোটিনের কারণে ভ্যাপিং ধূমপানের মতোই আসক্তিকর।

3. শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের ক্ষতি: নিয়মিত ভ্যাপিং শ্বাসযন্ত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

4. দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব: দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ এবং অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে।

সতর্কবার্তা

ভ্যাপিং সিগারেটের বিকল্প মনে হলেও এটি স্বাস্থ্যের জন্য সমান ক্ষতিকর। তাই ভ্যাপিং এড়িয়ে চলা এবং ধূমপানের অভ্যাস পরিত্যাগ করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মুখের ক্যান্সার: প্রাথমিক লক্ষণ ও প্রতিরোধে সতর্কতা

মুখের ক্যান্সার একটি মারাত্মক রোগ, যা মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা, মাড়ি, লালা গ্রন্থি এবং গলায় হতে পারে। অন্যান্য ক্যান্সারের তুলনায় এর মৃত্যুর হার বেশি, কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি শেষ পর্যায়ে ধরা পড়ে। প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত হলে চিকিৎসার কার্যকারিতা অনেক বেশি। চলুন মুখের ক্যান্সারের কিছু সাধারণ লক্ষণ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই:

১. মাড়ির রক্তপাত:
অস্বাভাবিক বা গুরুতর মাড়ির রক্তপাত মুখের ম্যালিগন্যান্সির লক্ষণ হতে পারে। মাড়ির রক্তপাত দেখলে অবহেলা না করে দ্রুত দাঁতের ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

২. দীর্ঘস্থায়ী ঘা:
মুখের ঘা যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় বা সহজে সারে না, তবে এটি মুখের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। এই ঘা থেকে রক্তপাতও হতে পারে।

৩. চোয়ালে ব্যথা:
চোয়ালের অস্বাভাবিক ব্যথা বা চিবানো ও গিলতে অসুবিধা মুখের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। এটি দাঁতের সমস্যার কারণও হতে পারে।

৪. সাদা বা লাল দাগ:
মুখের ভেতরে লাল বা সাদা দাগ দেখা দিলে এটি মুখের ক্যান্সারের ইঙ্গিত হতে পারে। নিয়মিত দাঁতের ডাক্তারকে মুখের অভ্যন্তরের পরিবর্তন সম্পর্কে জানান।

৫. ঘন ঘন গলা ব্যথা:
যদি গলার ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়, গিলতে কষ্ট হয় বা কিছু আটকে থাকার অনুভূতি হয়, তবে তা মুখের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।

প্রতিরোধের উপায়:

নিয়মিত মুখ পরীক্ষা করান।

তামাকজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন।

দাঁতের ডাক্তারকে বছরে অন্তত একবার দেখান।

প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিন। সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঝালকাঠির নলছিটিতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত

ঝালকাঠির নলছিটিতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার ষাটপাকিয়া এলাকার ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ঝালকাঠি সদর উপজেলার নথুল্লাবাদ ইউনিয়নের বারুইয়ারা গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মফিজুর রহমান (৮৫) এবং মাদারীপুর সদরের বাসিন্দা ও মোটরসাইকেল চালক মো. আল-আমীন সিরাজ (৪৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাস্তা পারাপারের সময় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পথচারী মফিজুর রহমানকে ধাক্কা দেয়। এর পরপরই মোটরসাইকেলটি সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ঝালকাঠি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান এবং নলছিটি থানার ওসি আব্দুস সালাম জানান, দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। তারা আরও জানান, এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা, যা নিয়ন্ত্রণহীন মোটরসাইকেল চালনার কারণে ঘটেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম