ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে প্রাইভেটকারে বাসের ধাক্কায় ৫ জন নিহত

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে একটি প্রাইভেটকারকে বাসের ধাক্কায় ৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে ধলেশ্বরী টোল প্লাজা এলাকায়।

প্রাথমিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি, তবে দুর্ঘটনার ফলে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, সকালে মাওয়াগামী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারটিকে ধাক্কা দেয়। এর ফলে, প্রাইভেটকারটির সাথে একটি মোটরসাইকেলও দুর্ঘটনায় পড়ে।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের উপ সহকারী পরিচালক সফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসসহ স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দুর্ঘটনায় বাইকে থাকা এক শিশুর মৃত্যু হয়, আর হাসপাতালে পাঠানোর পথে আরও ৪ জন মারা যান। মোট ৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্ধার কাজে দ্রুত সহায়তা করে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রাথমিক উদ্ধার কাজ শেষে, দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো সরিয়ে নেওয়া হলে এক সময় সেখানে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




কালকিনিতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বোমা বিস্ফোরণ, ইউপি সদস্য ও তাঁর ছেলে নিহত

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আক্তার শিকদার (৪২) এবং তাঁর ছেলে মারুফ শিকদার (২০)। আজ শুক্রবার ভোরে উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের মধ্যেরচর এলাকায় সংঘর্ষের সময় হাতবোমার বিস্ফোরণে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।

নিহত আক্তার শিকদার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে মধ্যেরচর এলাকায় ফকির এবং শিকদার বংশের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর আক্তার শিকদার এলাকা ছেড়ে চলে যান। আজ ভোররাতে তিনি তাঁর লোকজন নিয়ে মধ্যেরচরে ফেরার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে জলিল ফকিরের দল ওই এলাকায় মাইকিং করে লোকজন জড়ো করে এবং সংঘর্ষ শুরু হয়।

এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষ দেশী অস্ত্রসহ একে অপরকে আক্রমণ করে এবং কয়েকটি হাতবোমা বিস্ফোরিত হয়। এর মধ্যে আক্তার শিকদার ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার ছেলে মারুফ শিকদার গুরুতর আহত হন এবং শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মৃত্যুবরণ করেন।

এ ছাড়া, এই সংঘর্ষে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং তারা বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাঁশগাড়ী এলাকায় পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা জানান, পুলিশের যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে এবং আসামিদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা অমিত সেনগুপ্ত জানান, মারুফ শিকদারকে সকাল ৯টার দিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীর রক্তাক্ত ছিল এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মাদারীপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।

বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আক্তার শিকদারের বিরুদ্ধে ৩৫টি মামলা ছিল, যার মধ্যে ৫টি হত্যা মামলা রয়েছে। তিনি সরকার পতনের পর এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পর নতুন করে এলাকা প্রবেশের চেষ্টা করেন, যার ফলশ্রুতিতে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

মধ্যেরচর এলাকার বাসিন্দা রাজন হোসেন জানান, শিকদার বংশের লোকজন প্রায় ২০০ জন নিয়ে প্রথমে ফকির বংশের লোকজনের বাড়িতে হামলা চালায়, পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।

এ ঘটনায় আসামিদের ধরতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মস্তিষ্কের ক্ষতি করে যেসব অভ্যাস

মস্তিষ্ক আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা শরীরের সব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। চিন্তা-ভাবনা, আবেগ নিয়ন্ত্রণসহ দৈনন্দিন জীবনের সব কাজই মস্তিষ্কের ওপর নির্ভরশীল। তবে কিছু অভ্যাস মস্তিষ্কের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে, যা আমরা অনেক সময় গুরুত্ব দেই না। মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে এসব ক্ষতিকর অভ্যাস দ্রুত ত্যাগ করা জরুরি।

সকালের খাবার বাদ দেওয়া

সকালের খাবার শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টি এবং গ্লুকোজের অভাবে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে যায়, যা মানসিক চাপ বাড়ায় এবং মনোযোগ ও স্থিরতায় সমস্যা তৈরি করে। তাই প্রতিদিন পুষ্টিকর সকালের খাবার গ্রহণ করা উচিত।

একসাথে অনেক কাজ করা

একই সঙ্গে একাধিক কাজ করলে মস্তিষ্কের উপর চাপ বৃদ্ধি পায়। এতে মনোযোগ বিভক্ত হয় এবং গভীর চিন্তা বা জটিল কাজ করার ক্ষমতা কমে যায়। মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে কাজের সময় একমুখী মনোযোগ বজায় রাখা জরুরি।

উচ্চ আওয়াজে হেডফোন ব্যবহার

উচ্চ আওয়াজে হেডফোন ব্যবহারে কানে এবং মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এতে শ্রবণ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং স্মৃতিভ্রমসহ মানসিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ সময় উচ্চ আওয়াজে হেডফোন ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিত।

ঘুমের অভাব

ঘুমের সময় মস্তিষ্ক ক্ষতিপূরণ করে এবং তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শেখার ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নীল আলোতে অতিরিক্ত সময় ব্যয়

মোবাইল ও কম্পিউটারের নীল আলো মস্তিষ্ক ও চোখের জন্য ক্ষতিকর। এটি ঘুমের রুটিন নষ্ট করে, যা সরাসরি মনোযোগ ও স্মৃতি সংরক্ষণ ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে। তাই নীল আলোর এক্সপোজার সীমিত রাখা উচিত।

মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে এই অভ্যাসগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ত্যাগ করা প্রয়োজন। মস্তিষ্ককে যত্নে রাখলেই শরীরের সব কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি গঠন

আজ বৃহস্পতিবার সাত সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়। সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রশাসন ও শৃঙ্খলা শাখার এক অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।

অফিস আদেশে বলা হয়, কমিটি প্রয়োজনে এক বা একাধিক সদস্য যুক্ত (কো-অপ্ট) করতে পারবে। কমিটি আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।

কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ খালেদ রহীম। তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন)। সদস্যসচিব গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি (যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার নিচে নয়)।




শীতে ভিটামিন সি পেতে যেসব ফল খাবেন

শীতকালীন ঠান্ডা, সর্দি-কাশি ও নানা রোগের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে শরীরে ভিটামিন সি-এর ঘাটতি পূরণ অত্যন্ত জরুরি। এই ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে সহজে অসুস্থ হওয়া থেকে রক্ষা করে। শীতে প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল রাখুন। জেনে নিন এই মৌসুমে ভিটামিন সি পেতে যেসব ফল আপনার খাবারের তালিকায় থাকা উচিত।

১. নাশপাতি
একটি মাঝারি সাইজের নাশপাতিতে ৫.৫৮ গ্রাম ফাইবার থাকে। ফাইবার শরীরের ভালো ব্যাকটেরিয়ার বিকাশে সাহায্য করে এবং ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে। নাশপাতি ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা রোধ করে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক।

২. আনারস
আনারস হলো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি জনপ্রিয় ফল। এক কাপ আনারসে ৭৮.৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন, যা স্নায়ু এবং হজম তন্ত্রের জন্য উপকারী।

৩. ক্র্যানবেরি
ক্র্যানবেরি কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। এক কাপ কাঁচা ক্র্যানবেরিতে ১৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে। শীতে এটি খাওয়ার মাধ্যমে আপনার শরীর সুস্থ থাকবে।

৪. কমলা
কমলায় প্রায় ৮২ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি এবং ৩.৭ গ্রাম ফাইবার থাকে। আস্ত কমলা খেলে শরীরে পুষ্টিগুণ বেশি পাওয়া যায়। শীতে নিয়মিত কমলা খাওয়ার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৫. জাম্বুরা
জাম্বুরা ভিটামিন সি-এর আরেকটি ভালো উৎস। এক জাম্বুরায় ৪৩.৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় এবং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে।

৬. ডালিম
এক কাপ ডালিমে ১৭.৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি এবং ৭ গ্রাম ফাইবার থাকে। ডালিম ভিটামিন কে-এরও ভালো উৎস, যা হাড় মজবুত করে এবং রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

৭. কিউই
একটি কিউই ফলে ৫৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি এবং ৩০.২ মিলিগ্রাম ভিটামিন কে থাকে। প্রতিদিন কিউই খেলে শীতে শরীরের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে সহায়তা করে।

শীতে শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই ফলগুলো যোগ করুন। এটি শুধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে না, বরং শরীরকে সতেজ ও শক্তিশালী রাখবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে প্রাইভেটকার-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ২ জন আহত

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের মধ্যে সংঘর্ষে দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাউফল-নুরাইরপুর সড়কের বাংলারহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতরা হচ্ছেন হারুন গাজী (৫৫) ও আব্দুল জলিল গাজী (৩৫), যারা চাচা-ভাতিজা। তাদের বাড়ি উপজেলার কেশপুর ইউনিয়নের ভরিপাশা গ্রামে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি মোটরসাইকেল বাউফলগামী পথে যাচ্ছিল, হঠাৎ বিপরীত দিক থেকে আসা প্রাইভেটকারটির (ঢাকা মেট্রো-গ ২২-৫৫৮২) সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলের চালক আ. জলিল গাজী এবং তার চাচা হারুন গাজী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাম্মি আক্তার জানান, আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং তাদের গভীর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশাল প্রেসক্লাব নির্বাচনে খসরু-জাকির প্যানেলের জয়

বরিশাল প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন আমিনুল ইসলাম খসরু ও এসএম জাকির হোসেন প্যানেল। গতকাল, ২৪ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

ভোটগ্রহণের শুরু হয় বিকেল ৫টা থেকে এবং রাত ৮টায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়। এরপর নির্বাচন কমিশনার দেবাশীষ চক্রবর্তী ও নাসিমুল হকের উপস্থিতিতে সিনিয়র সাংবাদিক সাইফুর রহমান মিরণ প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত ফলাফলে, দৈনিক সংগ্রামের বরিশাল ব্যুরো প্রধান অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম খসরু সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। তিনি ৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশের প্রকাশক-সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদ, যিনি পেয়েছেন ২২ ভোট, এবং আজকের প্রথম সকালের প্রকাশক-সম্পাদক কাজী আল মামুন, যিনি পেয়েছেন ১৯ ভোট।

সহ-সভাপতি পদে বিপ্লবী বাংলাদেশের সিনিয়র রিপোর্টার জাকির হোসেন ৬৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, এবং এটিএন বাংলার স্টাফ রিপোর্টার হুমায়ুন কবির ৬২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জিয়াউদ্দিন বাবু পেয়েছেন ১৯ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক পদে এসএম জাকির হোসেন ৫০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী ছিলেন আজকের বার্তার সম্পাদক কাজী আবদুল্লাহ আল রাসেল, যিনি পেয়েছেন ২২ ভোট।

সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে দৈনিক সময়ের আলোর ব্যুরো চিফ এম মোফাজ্জেল ৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী এম লোকমান হোসাইন পেয়েছেন ২৭ ভোট।

এছাড়া, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে দৈনিক কালবেলার ব্যুরো চিফ আরিফিন তুষার ৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ক্রীড়া সম্পাদক পদে সাম্প্রতিক দেশকালের খান রুবেল ৪১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

কার্যনির্বাহী সদস্য পদে সাতজন নির্বাচিত হয়েছেন। সর্বোচ্চ ৭০ ভোট পেয়ে এম জহির নির্বাচিত হন, এরপর ৬৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন কমল সেনগুপ্ত। এছাড়া, ৫৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় আব্দুর রাজ্জাক ভূইয়া ও পুলক চ্যাটার্জি নির্বাচিত হন।

নির্বাচনে ১৭টি পদের বিপরীতে দুটি প্যানেল এবং স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে কোষাধ্যক্ষ পদে একুশে টিভির সুখেন্দু এদবর, পাঠাগার সম্পাদক পদে বরিশালের আজকালের কে এম নয়ন এবং দপ্তর সম্পাদক পদে যুগান্তরের নাছির উদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




লবঙ্গ কেন খাবেন? কিভাবে খাবেন?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: লবঙ্গ আমাদের রান্নাঘরের পরিচিত একটি মশলা। এটা খাবারে স্বাদ ও ঝাঁজ এনে দেয়। তবে রান্নার বাইরেও লবঙ্গের রয়েছে অসাধারণ ভেষজ গুণ। সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত লবঙ্গের উপকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।

লবঙ্গে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, ভিটামিন কে, ও প্রচুর পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ। ম্যাঙ্গানিজ মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং হাড় শক্ত রাখতে সাহায্য করে।

লবঙ্গে ইউজেনল নামে একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট আছে। এটা শরীরের ফ্রি র‌্যাডিক্যালস কমায়।

ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ক্যান্সারসহ সব ধরনের রোগের বিরুদ্ধে একটা সুরক্ষা বলয় তৈরি করে লবঙ্গের ইউজেনল।
লবঙ্গে নাইজেরিসিন নামে একটা উপাদান আছে। এটা ইনসুলিন উৎপাদন করতে সক্ষম।

ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে নাইজেরিসিন কার্যকর ভূমিকা রাখে।
লবঙ্গের আছে অ্যান্টি-ব্যাকটিরিয়াল গুণ। দাঁত, মাড়ি ব্যাথ্যা দ্রুত উপশম করে লবঙ্গ। সাইনাসের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে লবঙ্গ। লবঙ্গ তেলও দাঁতের ব্যথা উপশমে কার্যকর।

লবঙ্গ পাকস্থলীর সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। এটা গ্যাসট্রিক মিউকাস উৎপাদনে সাহায্য করে। পেপটিক আলসার প্রতিরোধে গ্যাসট্রিক মিউকাস বিশেষভাবে কার্যকরী। এছাড়া লবঙ্গ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে এবং অস্টিয়োপোরোসিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

কীভাবে লবঙ্গ ব্যবহার করবেন?

সর্দি-কাশিতে লবঙ্গ দিয়ে চা পান করতে পারেন। এ ছাড়া গরম পানিতে লবঙ্গ ফুটিয়ে পান করতে পারেন। কাঁচা লবঙ্গ চিবিয়ে বা মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়।

সতর্কতা
ডায়াটিশিয়ানদের মতে, অতিরিক্ত লবঙ্গ খাওয়া বিপজ্জনক। এটা রক্ত পাতলা করে, ফরে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে। হাইপোগ্লাইসিমিয়া বা রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। লবঙ্গ বা এর তেলে অনেকর অ্যালার্জি হতে পারে।

লবঙ্গ শুধু রান্নার মশলা নয়, এটি রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ে কার্যকর একটি প্রাকৃতিক ওষুধ। তবে লবঙ্গের ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিত এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োগ করা উচিত।




চিনি বেশি খাওয়ার বিপদ

আমাদের প্রতিদিনের খাবারে নানা উপায়ে চিনি ঢুকে পড়ছে। বিশেষ করে আধুনিক খাদ্যাভ্যাসে চিনির ব্যবহার বেড়েই চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ জীবনযাপনের জন্য চিনি খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ শরীরের জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে। আসুন, জেনে নিই অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার ফলে কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

প্রথমত, চিনি খাওয়ার পর শরীরে শক্তির ওঠানামা ঘটে। প্রথমে কিছুক্ষণ বাড়তি শক্তি পাওয়া গেলেও দ্রুতই শক্তি হ্রাস পেতে থাকে। এর কারণ হলো, চিনি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায় এবং তা দ্রুত কমিয়ে দেয়, ফলে ক্লান্তি বোধ হয়।

দ্বিতীয়ত, মুখ ফুলে যাওয়ার সমস্যার জন্যও চিনি দায়ী হতে পারে। অতিরিক্ত চিনি এবং সোডিয়াম শরীরে পানি জমার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা মুখের স্বাভাবিক গঠনকে ব্যাহত করে।

তৃতীয়ত, পেটফাঁপা সমস্যা বাড়িয়ে তোলে চিনি। এটি পাচনতন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। ফলে, শরীরে অস্বস্তি বাড়তে থাকে।

অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার আরেকটি বড় প্রভাব হলো ঘুমের সমস্যা। চিনি রক্তে শর্করার মাত্রা পরিবর্তন ঘটিয়ে ঘুমের চক্র ব্যাহত করে। নিয়মিত চিনি খেলে আরামদায়ক ঘুমের সুযোগ কমে যায়।

সবশেষে, ত্বকের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত চিনি প্রদাহ সৃষ্টি করে, যার ফলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমে যায়। এর ফলে ত্বকে অকাল বলিরেখা, ফুসকুড়ি এবং তেলতেলে ভাব দেখা দেয়।

সুস্থ থাকতে হলে যতটা সম্ভব চিনি থেকে দূরে থাকা জরুরি। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে এবং প্রাকৃতিক খাবার বেছে নিয়ে আপনি সহজেই এই ঝুঁকি এড়াতে পারেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গলাচিপায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৩ বসতঘর পুড়ে ছাই

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া ছনখলা গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। রোববার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাওলাদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘরগুলোর মালিক আলী হাওলাদারের দুই ছেলে সাগর (৩৫) ও সাদ্দাম (৩৮), এবং রুস্তম হাওলাদারের ছেলে আনিস হাওলাদার (৪০)। পরিবারের সদস্যরা পেশায় শ্রমজীবী এবং ঘটনার সময় তারা ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। বাড়িতে থাকা তাদের বৃদ্ধ পিতা-মাতা ও স্ত্রীরা অল্পের জন্য রক্ষা পান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সাগরের স্ত্রী রান্নার সময় গ্যাস সিলিন্ডারের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। ফায়ার সার্ভিস দলটি দূরত্বের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করে। তবে এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় আরও তিনটি ঘর রক্ষা করা সম্ভব হয়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার মো. কামাল হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার বা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। তবে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। আগুনে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য রেফাবুল্লা ইসলাম জানান, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেছেন, “ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং তাদের ঘর নির্মাণে টিন সরবরাহ করা হবে।”

এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তারা পুনর্বাসনের জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম