রাজধানীতে আতশবাজি ফোটাতে গিয়ে শিশুসহ দগ্ধ ৫

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: রাজধানীতে থার্টিফার্স্ট নাইটে আতশবাজি ফোটাতে গিয়ে পৃথক ঘটনায় শিশুসহ পাঁচ জন দগ্ধ হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে দগ্ধ অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে আনা হয়। দগ্ধরা হলেন– ফারহান (৮), সিফান মল্লিক (১২), সুমাত (২০), সেন্টু (৪৫) ও তফসির (৩)।

বুধবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান।




নতুন বছরে ধূমপান ত্যাগের প্রতিজ্ঞা করুন

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, তা জানা সত্ত্বেও অনেকেই এটি ত্যাগ করতে পারেন না। তবে নতুন বছরের শুরুতে ধূমপান ত্যাগের প্রতিজ্ঞা করে আপনি নিজেকে ও প্রিয়জনদের জন্য একটি সুস্থ জীবন উপহার দিতে পারেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতিবছর ধূমপানের কারণে ৭ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ ধূমপায়ী বাস করেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে, যেখানে স্বাস্থ্যসেবার অভাব প্রকট। ধূমপান ফুসফুস, কোলন, জরায়ু, মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারসহ বিভিন্ন গুরুতর রোগের কারণ হতে পারে। এমনকি এটি ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) নামক মারাত্মক রোগেরও জন্ম দেয়।

তাহলে কিভাবে ধূমপান ছাড়বেন? এখানে কয়েকটি কার্যকর উপায় উল্লেখ করা হলো:

নিকোটিন প্রতিস্থাপন থেরাপি গ্রহণ করুন

ধূমপান ত্যাগে এটি একটি জনপ্রিয় ও কার্যকর পদ্ধতি। নিকোটিন প্যাচ, গাম ও লজেঞ্জ ব্যবহার করে ধূমপানের ইচ্ছা কমানো সম্ভব। এগুলো সহজলভ্য এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়াই পাওয়া যায়।

ট্রিগার এড়িয়ে চলুন

যে মুহূর্তগুলোতে ধূমপানের প্রবল ইচ্ছা হয়, সেই সময়গুলো চিহ্নিত করুন। ব্যস্ত থাকুন এবং সেই পরিস্থিতি এড়িয়ে চলুন। একাকী সময় কাটানো, আড্ডা বা চা পানের সময় ধূমপানের ইচ্ছা হলে অন্য কোনো কাজে মন দিন।

মানসিক চাপ সামলান

ধূমপানের অন্যতম কারণ মানসিক চাপ। চাপ কমানোর জন্য ধূমপানের বদলে গভীর শ্বাস নেওয়া, যোগব্যায়াম, পেশী শিথিলকরণ বা সঙ্গীত শোনা চেষ্টা করুন। এটি মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

অ্যাপ ব্যবহার করুন

কিছু অ্যাপ যেমন Kwit, MyQuit, এবং Smoke Free ধূমপান ত্যাগে সহায়ক হতে পারে। এই অ্যাপগুলো ধূমপান ছাড়ার টিপস, গেমস এবং অনুপ্রেরণামূলক তথ্য প্রদান করে।

২০২৫ সাল হোক আপনার জীবনের এক নতুন অধ্যায়, যেখানে ধূমপানমুক্ত একটি সুস্থ জীবন আপনাকে সমৃদ্ধ করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ডাস্ট অ্যালার্জি থেকে মুক্তির কার্যকরী উপায়

শীতের সময় সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট ও অ্যালার্জি জনিত সমস্যা বেড়ে যায়। ধুলাবালি ও বাতাসে জীবাণুর আধিক্য বাড়ার ফলে ত্বকে অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দেয়। ডাস্ট অ্যালার্জির কারণে হতে পারে হাঁচি-কাশি, চোখ-নাক দিয়ে পানি পড়া, ত্বকে চুলকানি ও লালচে ভাব, র‍্যাশ এবং শ্বাসকষ্ট। এ সমস্যা দূর করতে অনেকেই ওষুধের পাশাপাশি ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করেন।

টকদইয়ের উপকারিতা
টকদইয়ে থাকা প্রো-বায়োটিক অ্যালার্জি প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এটি অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রেখে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন নিয়মিত টকদই খাওয়ার অভ্যাস করুন।

আপেল সিডার ভিনেগার
এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে দিনে দুই থেকে তিনবার পান করলে ডাস্ট অ্যালার্জি প্রতিরোধ করা যায়।

ভাপ নেওয়া
ডাস্ট অ্যালার্জি কমাতে স্টিম নেওয়া একটি প্রমাণিত পদ্ধতি। গরম পানির বাষ্প নাক ও মুখ দিয়ে গ্রহণ করলে নাকের বন্ধভাব দূর হয়। ১০ মিনিট স্টিম নিলে তাৎক্ষণিক উপকার পাওয়া যায়।

মধুর কার্যকারিতা
মধু প্রাকৃতিক অ্যালার্জেনের সঙ্গে শরীরকে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করে। এটি প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য অ্যালার্জির ফুসকুড়ি ও প্রদাহ কমাতে কার্যকর।

ঘি ও গুড়
অ্যালার্জি প্রতিরোধে ঘি এবং গুড় খাওয়ার অভ্যাস করুন। আধা চা চামচ ঘি ও গুড় মিশিয়ে খেলে অনিয়ন্ত্রিত হাঁচি ও শ্বাসকষ্ট কমে যায়।

অ্যালোভেরা জেল
অ্যালোভেরা জেল অ্যালার্জির উপসর্গ কমাতে সহায়ক। ৩-৪ টেবিল চামচ অ্যালোভেরার রস পানিতে মিশিয়ে দিনে দুইবার পান করুন। এটি প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ। নিয়মিত অ্যালোভেরার রস খেলে ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ডাস্ট অ্যালার্জি থেকে মুক্তি পেতে ঘরোয়া এই উপায়গুলো অনুসরণ করুন। শীতের দিনে সুস্থ থাকতে সঠিক অভ্যাস গড়ে তুলুন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

 




পটুয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজছাত্রের মৃত্যু, আহত দুই

পটুয়াখালীতে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নেয়ামুল হক নাফিজ (১৭) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তার দুই বন্ধু সাফিন ও ফারাবী।

দুর্ঘটনার বিবরণ

শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে মির্জাগঞ্জ সড়কের ২ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন সিকদার বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নাফিজ ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি পটুয়াখালীর মুন্সেফ পাড়া এলাকার বাসিন্দা আইনজীবী নাজমুল হকের ছেলে।

আহতদের মধ্যে সাফিনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফারাবীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

কীভাবে হলো দুর্ঘটনা?

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে পায়রাকুঞ্জে ঘুরতে আসেন সাফিন ও ফারাবী। পরে তাদের নিয়ে মোটরসাইকেলে পায়রাকুঞ্জ থেকে পটুয়াখালী শহরে ফিরছিলেন নাফিজ। মির্জাগঞ্জ সড়কের ২ নম্বর ব্রিজ এলাকায় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে। এতে নাফিজ ও সাফিন গুরুতর আহত হন।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক নাফিজকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সাফিনকে বরিশালে স্থানান্তর করা হয়।

পুলিশি বিবৃতি

পটুয়াখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে দুর্ঘটনায় তিন আরোহী আহত হন। এর মধ্যে নাফিজ মারা গেছেন। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শীতে সর্দি-কাশি ও গলাব্যথার ঘরোয়া সমাধান

শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে ছোট-বড় সবাই কমবেশি সর্দি-কাশি ও গলাব্যথার সমস্যায় ভুগছেন। এই মৌসুমে জীবাণু বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা গলা খুসখুস ও ব্যথার মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। তবে ঘরোয়া কিছু উপাদানের মাধ্যমে সহজেই এই সমস্যা দূর করা সম্ভব।

ঘরোয়া সমাধান:

১. আদা চা:
গলা ব্যথায় আদা চা অত্যন্ত কার্যকর। আদায় থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট দ্রুত গলার যে কোনো সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করে। চায়ের সঙ্গে মিশ্রিত আদার উপকারিতা গলার সংক্রমণ দূর করে আরাম দেয়।

২. আদা, গুড় ও জোয়ান:
সর্দি, কাশি ও গলা খুসখুসে ভাব দূর করতে আদা, গুড় ও জোয়ানের মিশ্রণ খুবই উপকারী। এক চিমটি গুড়ের সঙ্গে আদা কুচি এবং জোয়ান মিশিয়ে খেলে গলার সমস্যা দ্রুত সেরে যায়।

৩. হলুদ দুধ:
হলুদ দুধের স্বাস্থ্য উপকারিতা অপরিসীম। হলুদের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। গরম দুধের সঙ্গে কাঁচা হলুদ মিশিয়ে খেলে গলাব্যথা ও গলার খুসখুসে ভাব দূর হয়।

৪. লবণ পানি:
গলাব্যথা কমাতে লবণ পানি অত্যন্ত কার্যকর। হালকা গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে দিনে দুই থেকে তিনবার গার্গল করলে গলার ব্যথা দ্রুত সেরে ওঠে।

এগুলো ছাড়াও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং গরম পানীয় পান করার মাধ্যমে শীতে সর্দি-কাশি ও গলার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সুস্থ শরীরের জন্য দাঁত নয়, জিহ্বাও পরিষ্কার করুন

মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শুধুমাত্র দাঁত ব্রাশ করাই যথেষ্ট নয়। নিয়মিত দাঁতের পাশাপাশি জিহ্বা পরিষ্কার করাও অত্যন্ত জরুরি। ভারতের আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডা. নিতিকা কোহলি জানিয়েছেন, প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করার পর একটি রূপালি বা তামার ইউ-আকৃতির টাং স্ক্র্যাপার দিয়ে জিহ্বা পরিষ্কার করা উচিত। এটি শুধু মুখের স্বাস্থ্য নয়, পুরো শরীরের জন্য উপকারী।

ডা. কোহলি ব্যাখ্যা করেন, নিয়মিত জিহ্বা পরিষ্কার করলে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর হয় এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়। মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর হওয়ার পাশাপাশি নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধও চলে যায়। এটি হজমশক্তি বাড়ায় এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গের কার্যকারিতা ভালো রাখতে সহায়ক।

জিহ্বা পরিষ্কারের উপকারিতা:

১. ব্যাকটেরিয়া দূরীকরণ: জিহ্বা থেকে জমে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া পরিষ্কার হলে মুখের রোগ ও দুর্গন্ধ দূর হয়।
২. শরীরের রোগ নির্ণয়: জিহ্বার রং বদলে যাওয়া শরীরের বিভিন্ন রোগের ইঙ্গিত দেয়।
৩. স্বাস্থ্য উন্নতি: আয়ুর্বেদ মতে, জিহ্বা ও অন্ত্রের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, যা শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্য প্রভাবিত করে।

জিহ্বা পরিষ্কারের সঠিক পদ্ধতি:

১. একটি পরিষ্কার টাং স্ক্র্যাপার ব্যবহার করুন।
২. দিনে দু’বার, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে এটি করুন।
৩. ভালো মানের স্ক্র্যাপার কিনুন যা মসৃণ প্রান্তযুক্ত।
৪. হালকা চাপ দিয়ে জিহ্বা পরিষ্কার করুন, যেন কেটে বা ছিঁড়ে না যায়।
৫. জিহ্বায় সাদা দাগ বা ক্ষত থাকলে স্ক্র্যাপ করা বন্ধ করুন।

ডা. পুনীত আরও জানান, জিহ্বার পৃষ্ঠে জমে থাকা শ্লেষ্মা আস্তরণ এবং খাদ্যকণাগুলো পরিষ্কার না করলে তা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের বিভিন্ন সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই নিয়মিত জিহ্বা পরিষ্কার করা স্বাস্থ্যবিধির অপরিহার্য অংশ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন পবিপ্রবি শিক্ষক

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আবু হানিফ ট্রাক-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন। তিনি পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার মাছুয়াখালী গ্রামের আমজাদ আলী মৃধার ছেলে।

গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে বরিশাল পটুয়াখালী মহাসড়কের দপদপিয়া জিরো পয়েন্ট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, আবু হানিফ মোটরসাইকেল যোগে দুমকী থেকে বরিশাল যাচ্ছিলেন। তিনি দপদপিয়া জিরো পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছালে হাইওয়ে রাস্তার পাশে গাছ ভর্তি একটি ট্রাকের ওপর আঁচড়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

তার মৃত্যুতে পবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম ও দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন মাহমুদ শোক জানিয়েছেন। শনিবার সকাল ৯টায় পবিপ্রবি কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজার পর তাকে তার গ্রামের বাড়ি দশমিনায় নিয়ে যাওয়া হয়।

আবু হানিফ পটুয়াখালী জেলা রোভার স্কাউটের সাধারণ সম্পাদক এবং দুমকী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে যে কারণে ২০২৪ ছিলো আলোচনার বছর

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, ভারসাম্যহীন বাজারদর, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নৌ ও সড়ক পথের দুর্ঘটনা নিয়ে ২০২৪ সাল ছিলো বরিশালের আলোচনার বছর।

সরকার পতনের আগে জুলাই মাসে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দক্ষিণাঞ্চল তথা বরিশালে সবচেয়ে বেশি সরব ছিল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তবে সময়ের সাথে সাথে যৌক্তিক এ আন্দোলনে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বরিশালের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে, যাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

যদিও প্রকাশ্যে অস্ত্রধারীদের মহড়া ও একাধিক হামলার ঘটনা রাজপথে আন্দোলনকারীদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিলো। তবে শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম কোনোভাবেই দমাতে পারেনি। কৌশলী আন্দোলনে পুলিশের বুলেট, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেডের বিস্ফোরণ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলার মধ্য দিয়ে বরিশালে কোনো নিহত হওয়ার ঘটনা না ঘটলেও আহত হয়েছেন অনেকেই।

সব মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধ থেকে আন্দোলন অব্যাহত রেখে ৫ আগস্ট বরিশালের রাজপথসহ সর্বত্র বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠেন ছাত্র-জনতা।

এরইমধ্যে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি ব্রজমোহন কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে নগরবাসী কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পরেছিলেন।

রাজনৈতিক মামলা :
বছরের শুরুতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট বর্জন নিয়ে বিএনপির বরিশালের নেতাকর্মীরা যেমন মামলার শিকার হয়েছেন, তেমনি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পাশে থাকায় হামলার শিকার হওয়ার পাশাপাশি জুলাইয়ে মামলার শিকার হন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

অন্তর্র্বতী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় ২২ আগস্ট প্রথম মামলা দায়ের করেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক।

যে মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী, দুইজন সাবেক সিটি মেয়র, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, এফবিসিআই’র পরিচালকসহ ১ হাজার ৮১ জনকে আসামি করা হয়।

এছাড়াও জেলার প্রতিটি উপজেলার সাবেক সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং ওয়াকার্স পার্টির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওইসব মামলার অধিকাংশ আসামিদের গ্রেপ্তারের পর জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

যারমধ্যে বরিশাল-২, বরিশাল-৩, বরিশাল-৪, বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনে নিজ দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীদের হিমশিম খেতে হয় নির্বাচন নিয়ে।

বিদ্রোহীদের দমাতে বরিশাল সদর আসনে ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা, বরিশাল-২ আসনে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা, ১২টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে ফেলার মতো ঘটনা ঘটিয়ে আলোচনার সৃষ্টি করেন নৌকার কর্মী-সমর্থকরা।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর উপজেলা ও পৌরসভার উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের ব্যাপক ভরাডুবির ঘটনাও ছিলো বরিশালজুড়ে আলোচিত।

এছাড়াও বছরজুড়ে আলোচনার মধ্যে ছিলো-বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে বা গোপনে রাজনৈতিক কর্মকান্ড না চালানো এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের ঘোষণা ছিল উল্লেখযোগ্য।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




শীতে শিশুদের সুস্থ রাখবে যেসব খাবার

শীতকাল এলেই শিশুদের সর্দি-কাশি এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যা বেড়ে যায়। আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এ ধরনের সমস্যা বেশি হয়। তাই শিশুদের শীতকালে সুস্থ রাখতে সঠিক পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি। শীতকালীন ফল, শাকসবজি এবং পুষ্টি-সমৃদ্ধ খাবার এই সময় শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

দুধ:

শীতকালে শিশুদের নিয়মিত কুসুম গরম দুধ খাওয়ানো উচিত। এতে রয়েছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা শিশুদের শরীরকে শক্তিশালী করে এবং সর্দি-কাশি থেকে সেরে উঠতে সহায়তা করে।

দই:

দই শিশুদের ইমিউনিটি শক্তিশালী করে। এতে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রে সক্রিয় হয়ে শরীরকে দ্রুত সর্দি-কাশি থেকে সেরে উঠতে সাহায্য করে।

কমলা:

শীতকালীন এই ফল ভিটামিন সি-তে ভরপুর। প্রতিদিন কমলা খেলে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং সর্দি-কাশির মতো অসুখ সহজে হয় না।

মাছ:

শীতকালে শিশুর ডায়েটে মাছ থাকা জরুরি। মাছ ভিটামিন ও মিনারেলে পরিপূর্ণ, যা ইমিউনিটি বাড়ায় এবং শরীরে শক্তি জোগায়। তবে বড় সাইজের মাছের পরিবর্তে ছোট ও মাঝারি সাইজের মাছ খাওয়ানো নিরাপদ।

শীতকালীন ফল ও শাকসবজি:

শীতের সময় দেশীয় মৌসুমি ফল ও শাকসবজি শিশুর ডায়েটে যোগ করুন। এগুলো শরীরকে পুষ্টি জোগায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

শীতকালে শিশুদের এই খাবারগুলো খাওয়ালে তাদের শরীর সুস্থ থাকবে এবং সর্দি-কাশিসহ অন্যান্য রোগ থেকে সুরক্ষা মিলবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পর্যাপ্ত পুষ্টি না খেলে শরীরের ক্ষতি

শরীরের সুস্থতা বজায় রাখতে সঠিক পুষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য খাবার কমিয়ে দেন, কিন্তু এতে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি না পৌঁছালে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। শরীরে পর্যাপ্ত খাবার যাচ্ছে কি না, তা বোঝার জন্য কয়েকটি লক্ষণ আছে যা সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।

ওজন ও ক্লান্তি:
যদি বয়স এবং উচ্চতার তুলনায় ওজন কম থাকে, তবে বুঝতে হবে খাবারের ঘাটতি রয়েছে। এতে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি সারাদিন ক্লান্তি ও অবসন্নতা অনুভব করলে খাওয়ার পরিমাণ এবং পুষ্টিগুণ যাচাই করা উচিত।

চুল পড়া:
অকারণে চুল পড়া শরীরে প্রোটিন, বায়োটিন এবং আয়রনের ঘাটতির সংকেত। এই উপাদানগুলো যথাযথভাবে না পেলে চুলের স্বাস্থ্য নষ্ট হতে পারে।

অতিরিক্ত খিদে:
সবসময় খিদে পেলে বা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে খিদে মরে গেলে বুঝতে হবে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাচ্ছে না।

হরমোনের ভারসাম্য:
পর্যাপ্ত খাবার না খাওয়ার ফলে নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এর ফলে গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ত্বকের সমস্যা:
পুষ্টির ঘাটতিতে ত্বক পাতলা হয়ে যায়, বলিরেখা পড়ে এবং চামড়া উঠতে পারে। এ ছাড়া শীতকাতুরে হওয়া বা ঠান্ডা বেশি লাগাও হতে পারে পুষ্টির অভাবে।

বারবার অসুস্থ হওয়া:
শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি না পৌঁছালে ঘন ঘন অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

পর্যাপ্ত খাবারের গুরুত্ব

এই সমস্যাগুলো এড়াতে সুষম খাবারের প্রতি মনোযোগ দেওয়া জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যথেষ্ট পরিমাণ প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন, এবং মিনারেল রাখা উচিত। শরীরের প্রয়োজন বুঝে সঠিক পুষ্টি গ্রহণ করলেই সুস্থতা বজায় থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম