লিভার সুস্থ রাখতে যেসব অভ্যাস বদলানো জরুরি

লিভার আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি শরীরের রক্ত ​​পরিশোধন, হজম সহায়তা এবং শক্তি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু কিছু সাধারণ অভ্যাস ধীরে ধীরে লিভারের ক্ষতি করতে পারে, যা প্রথমে বোঝা যায় না। জেনে নিন এমন কিছু ক্ষতিকর অভ্যাস সম্পর্কে যা আপনার লিভারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে—

প্রথমত, অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন লিভারের অন্যতম প্রধান শত্রু। অ্যালকোহল লিভারের বিষাক্ত পদার্থ অপসারণের ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করে এবং প্রদাহ ও ফ্যাটি লিভারের কারণ হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, ডিহাইড্রেশন লিভারের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে লিভারের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। বিশেষত, সকালে পানি পান করা শরীরকে ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে।

তৃতীয়ত, ঘুমের অভাব সরাসরি লিভারের ওপর প্রভাব ফেলে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে লিভার অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের শিকার হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে বিপজ্জনক হতে পারে।

চতুর্থত, বেশি চিনি খাওয়া লিভারের ফ্যাটি রোগের অন্যতম কারণ। চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয়তে থাকা অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ লিভারের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

পঞ্চমত, অনিরাপদ যৌনতা হেপাটাইটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। হেপাটাইটিস লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। তাই সবসময় নিরাপদ যৌন অভ্যাস অনুসরণ করা জরুরি।

সবশেষে, ব্যায়ামের অভাব লিভারের সুস্থতায় বাধা দেয়। নিয়মিত ব্যায়াম না করলে শরীরের প্রাকৃতিক ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, যা লিভারের ওপর বাড়তি চাপ ফেলে।

সুস্থ লিভারের জন্য এই অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শীতে মাথাব্যথার কারণ ও প্রতিকার

শীতকাল এলেই অনেকেই বাইরে বের হলে মাথাব্যথায় ভোগেন। ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে শারীরিক ও পরিবেশগত পরিবর্তনের ফলে এই সমস্যা বৃদ্ধি পায়। শীতে মাথাব্যথার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে সাইনাসের সমস্যা, ডিহাইড্রেশন, রক্তনালি সংকোচন, টেনশন ও স্ট্রেস এবং নাক বন্ধ হওয়া।

সাইনাসের সমস্যা
শীতে ঠান্ডা বাতাস ও সর্দি-কাশির কারণে সাইনাসে প্রদাহ বা সংক্রমণ হতে পারে, যা সাইনোসাইটিস নামক রোগ সৃষ্টি করে। সাইনাসের মধ্যে মিউকাস জমে গিয়ে চাপ সৃষ্টি হলে এটি মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। এই ব্যথা সাধারণত মুখের চারপাশে, চোখের নীচে বা মাথার উপরের দিকে অনুভূত হয়।

ডিহাইড্রেশন
শীতকালে অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করতে পারেন না, ফলে শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দেয়। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায় এবং পানিশূন্যতা সৃষ্টি হয়, যা মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।

রক্তনালি সংকোচন
ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরের রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়ে যায়, যার ফলে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ কমে যায় এবং মাথাব্যথা হতে পারে।

টেনশন ও স্ট্রেস
শীতকালে সূর্যের আলো কম পাওয়ার কারণে শরীরে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি হতে পারে, যা মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে টেনশন হেডেক দেখা দিতে পারে।

নাক বন্ধ হওয়া
শীতকালে সর্দি বা ইনফেকশনের কারণে নাসাল কনজেশন বা শ্বাসনালির বন্ধ হওয়া ঘটতে পারে, যা অক্সিজেনের প্রবাহ কমিয়ে মাথাব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।

হরমোনের পরিবর্তন
শীতে শরীরের অভ্যন্তরীণ হরমোনের পরিবর্তন হতে পারে, বিশেষ করে সেরোটোনিনের মাত্রা কমে যেতে পারে, যার ফলে মাথাব্যথা হতে পারে।

শীতে মাথাব্যথা প্রতিকার

শরীরের ডিহাইড্রেশন কমাতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

সাইনাসের সমস্যা এড়াতে গরম পানি ও স্টিম ব্যবহার করতে পারেন।

ঠান্ডা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য গরম পোশাক পরুন, যাতে রক্তনালিগুলো সংকুচিত না হয়।

ভিটামিন ডি’র অভাব রোধে সাপ্লিমেন্ট বা সূর্যের আলো নিন।

মাথাব্যথা গুরুতর হয়ে উঠলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে অযথা ব্যথার ওষুধ খাওয়া উচিত নয়, এতে হীতে বিপরীত হতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দেশে প্রথম রিওভাইরাস শনাক্ত, কি জানা উচিত

দেশে প্রথমবারের মতো রিওভাইরাস (রেসপিরেটরি এন্টারিক অরফান ভাইরাস) শনাক্ত হয়েছে। ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলোজি ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ (আইইডিসিআর) পাঁচ জনের শরীরে এই ভাইরাসটি চিহ্নিত করেছে। রিওভাইরাস মূলত হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়।

বিশ্বে প্রথম রিওভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল ১৯৫০ সালে। এই ভাইরাসটি সাধারণত অন্ত্রের সংক্রমণ সৃষ্টি করে এবং পানির মাধ্যমে ছড়াতে পারে। শিশুদের ডায়রিয়া এবং জ্বরের কারণও হতে পারে রিওভাইরাস। ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশের ৩-৬ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়, তবে এটি তুলনামূলকভাবে কম ভয়াবহ এবং সাধারণত সহজেই চিকিৎসা করা যায়।

রিওভাইরাসের লক্ষণ:

ডায়রিয়া: পানি জাতীয় পাতলা মল, যা শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

জ্বর: শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়।

বমি: খাবার খাওয়ার পর বমি হতে পারে।

পেটে ব্যথা: অন্ত্রের অস্বস্তি বা পেটের ব্যথা।

শক্তি কমে যাওয়া: শরীর দুর্বল বা ক্লান্ত অনুভূত হতে পারে।

এ ভাইরাস সাধারণত মারাত্মক নয়, তবে এটি গুরুতর ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। সঠিক চিকিৎসা না পেলে এটি জীবনহানির কারণ হতে পারে, তবে যথাসময়ে চিকিৎসা নিলে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাসটি নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কের প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে।

প্রতিরোধের উপায়: রিওভাইরাসের প্রতিরোধের জন্য টিকা (রিওভাইরাস ভ্যাকসিন) রয়েছে, যা শিশুদের জন্য দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া, হাত ধোয়া, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং খাবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা ভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে সহায়ক।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

 




মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখার সহজ কিছু নিয়ম

আপনার মস্তিষ্কের সুস্থতা নিশ্চিত করা আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মস্তিষ্ক ভালো রাখতে প্রতিদিন কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। চলুন, জেনে নিই কোন নিয়মগুলি আপনার মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করবে।

ঘুমের গুরুত্ব
মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে সঠিক এবং পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি। একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলুন যা আপনার ঘুম উন্নত করতে সাহায্য করবে। ঘুমানোর আগে মন শান্ত রাখুন, ঘর অন্ধকার করুন এবং আরামদায়ক বিছানায় ঘুমাতে যান। ঘুমানোর আগে কুসুম গরম পানিতে গোসল করলে মনের অস্থিরতা কমে যেতে পারে, যা আপনার মস্তিষ্কের জন্য উপকারী।

শিথিলায়ন চর্চা করুন
আপনার মানসিক ও শারীরিক অস্থিরতা চিহ্নিত করে শিথিলায়ন প্রশিক্ষণ নিন। ঘুমানোর আগে মিউজিক শোনাও একটি ভালো শিথিলায়ন কৌশল হতে পারে। এটি আপনাকে সমস্যা মোকাবিলার দক্ষতা শিখতে সাহায্য করবে।

নতুন চিন্তা করুন
প্রতিদিন নতুন কিছু শিখুন। নতুন ভাষা বা বাদ্যযন্ত্র শেখার চেষ্টা করুন। নতুন কিছু শেখা আপনার মস্তিষ্কের চিন্তা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন
ওমেগা-৩ ও ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার, ফল এবং শাকসবজি নিয়মিত খেতে চেষ্টা করুন। স্বাস্থ্যকর খাবার আপনার মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন
নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। যারা শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকেন, তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৪০ শতাংশ কম।

সামাজিকতা বাড়ান
আপনার মা-বাবার সঙ্গে নিয়মিত কথা বলুন, পরিচিতজনদের সঙ্গে আড্ডা দিন এবং দূরবর্তী বন্ধুদের সঙ্গে ভিডিও চ্যাট করুন। সামাজিক সম্পর্কগুলি মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্রিয়জনের মানসিক স্বাস্থ্য বুঝুন

অনেক সময় প্রিয়জনের আচরণ অপ্রত্যাশিত হয়ে ওঠে, যার পেছনের কারণ বুঝতে না পেরে আমরা হয়তো তাদের ভুলভাবে বিচার করি। এটি তাদের মানসিক অবস্থাকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে। ভারতের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ঊর্মি চট্টোপাধ্যায় এক সাক্ষাৎকারে মানসিক সমস্যার লক্ষণগুলো চিহ্নিত করেছেন, যা আমাদের প্রিয়জনের মানসিক অবস্থা বুঝতে সাহায্য করবে।

দূরে সরে আসা
মানসিক চাপে ভোগা মানুষরা প্রায়ই নিজেদের গুটিয়ে ফেলে। তারা মানুষের ভিড় এড়িয়ে চলতে চায় এবং নানা অজুহাতে যোগাযোগ বন্ধ করে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে প্রিয়জনকে নিয়ে কাছাকাছি কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করুন।

ঘুমের পরিবর্তন
ঘুমানোর অভ্যাসে পরিবর্তন দেখা দিলে তা মানসিক চাপে ইঙ্গিত করতে পারে। হয়তো তারা ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে তাদের সঙ্গে কথা বলুন, সমস্যা ভাগ করার চেষ্টা করুন।

পছন্দের কাজের প্রতি আগ্রহ হারানো
যদি কোনো ব্যক্তি তার পছন্দের কাজগুলোতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, তবে বুঝতে হবে মানসিক সমস্যা গভীর। এ অবস্থায় তাদের পাশে দাঁড়ান, তাদের কাজের প্রশংসা করুন এবং উৎসাহ দিন।

আবেগের পরিবর্তন
প্রিয়জন যদি হঠাৎ করেই অতিরিক্ত রাগ, কান্না, চেঁচামেচি, বা অতিরিক্ত হাসি দেখায়, তবে তা হতাশার লক্ষণ হতে পারে। এসময় তাদের কঠোর না হয়ে বোঝার চেষ্টা করুন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করুন।

নিজের সমালোচনায় মুখর
মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিরা প্রায়ই নিজেদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর হন এবং সামান্য ভুলেও নিজেদের সমালোচনা করতে থাকেন। তাদের প্রতি সহমর্মী হয়ে তাদের দোষারোপ না করে সমর্থন দিন।

উপরোক্ত কোনো লক্ষণ দেখা দিলে প্রিয়জনকে সময় দিন এবং প্রয়োজনে একজন মানসিক বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চীনে ছড়াচ্ছে নতুন ভাইরাস ‘এইচএমপিভি’, আতঙ্ক বাড়ছে

কোভিড-১৯ এর পর চীনে এবার দেখা দিয়েছে নতুন ভাইরাস ‘এইচএমপিভি’। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, চীনের হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড় বাড়ছে।

এইচএমপিভি কী?

এইচএমপিভি বা হিউম্যান মেটাপনিউমোভাইরাস একটি শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাস। এটি মূলত শিশু, বয়স্ক এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য বিপজ্জনক। ভাইরাসটি ২০০১ সালে প্রথম সনাক্ত করা হয়।

উপসর্গগুলো কী কী?

এইচএমপিভির উপসর্গ ফ্লু বা সাধারণ সর্দি-কাশির মতো হলেও, এটি গুরুতর শ্বাসকষ্টের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এর সাধারণ উপসর্গগুলো হলো:

কাশি

জ্বর

নাক বন্ধ

শ্বাসকষ্ট

গুরুতর ক্ষেত্রে এটি ব্রঙ্কাইটিস বা নিউমোনিয়া তৈরি করতে পারে। ইনকিউবেশন পিরিয়ড সাধারণত ৩-৬ দিন।

কীভাবে ছড়ায় এইচএমপিভি?

এই ভাইরাস ছড়ায় সাধারণত:

হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে নিঃসৃত কণা

হাত মেলানো বা স্পর্শ করা

সংক্রমিত স্থান স্পর্শ করে চোখ, মুখ বা নাক স্পর্শ করা

প্রতিরোধে কী করবেন?

এইচএমপিভি প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। বারবার হাত ধোয়া, ভিড় এড়িয়ে চলা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই হতে পারে কার্যকর প্রতিরোধ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবন খুলেছে, কাজে ফিরছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ১১ দিন আগে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবন আংশিক খুলে দেওয়া হয়েছে। নয়তলা ভবনের পুড়ে যাওয়া চারটি ফ্লোর বাদে বাকি পাঁচটি ফ্লোরে রোববার (৫ জানুয়ারি) থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিস শুরু করেছেন।

আগুনের ঘটনার পর থেকেই সচিবালয়ে প্রবেশে ছিল কঠোর বিধিনিষেধ। উপদেষ্টা এবং সচিব ছাড়া অন্য কারও গাড়ি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে আজ থেকে অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাড়িও সচিবালয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সচিবালয়ে কার্যক্রম অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে।

সরাসরি পরিদর্শনে দেখা গেছে, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ৭ নম্বর ভবনের ফ্লোরগুলোতে এখন সবাই প্রবেশ করতে পারছেন। তবে ভবনের পঞ্চম তলার ওপরে, যেখানে গণপূর্ত বিভাগের কাজ চলছে, সেখানে তাদের কর্মকর্তাদের ছাড়া অন্য কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

ভবনের বিভিন্ন অংশে এখনো ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের চিহ্ন রয়ে গেছে। দ্বিতীয় তলার মেঝেতে ছাইয়ের কালো দাগ স্পষ্ট। লিফট এখনো চালু হয়নি, তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রয়েছে। পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর, সরকারি ছুটির দিন রাতের বেলায় সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এটি সচিবালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ড বলে ধরা হচ্ছে। আগুনে ভবনের চারটি তলা সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এসব ফ্লোরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অফিস ছিল।

অগ্নিকাণ্ডের পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভবনের প্রবেশ সীমিত করে দেয়, যেখানে শুধু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রবেশের অনুমতি পেতেন। তবে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। ভবনের বিভিন্ন ফ্লোর পুনর্গঠনের কাজ চললেও, স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত চালু করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।




ভাত নাকি রুটি: কোনটি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো?

ভাত ও রুটি, উভয়ই আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তবে কোনটি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী, এই প্রশ্ন প্রায়ই সামনে আসে। বিশেষত, ওজন কমানো বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ভাত ও রুটির মধ্যে তুলনা করা হয়। চলুন দেখে নেওয়া যাক, কোনটি আপনার জন্য বেশি উপকারী হতে পারে।

ভাত বনাম রুটি: পুষ্টিগুণ
ভাত ও রুটি দুটোতেই কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকে। তবে রুটিতে ফাইবারের পরিমাণ বেশি, যা ভাতে নেই। ফাইবার সমৃদ্ধ রুটি পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং হজমেও সহায়ক। ভাত দ্রুত হজম হয়, ফলে বারবার খিদে পেতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য
ভাত খাওয়ার পর ব্লাড সুগার দ্রুত বেড়ে যেতে পারে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। অন্যদিকে, রুটির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় এটি রক্তে সুগারের মাত্রা স্থিতিশীল রাখে। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য রুটি নিরাপদ বিকল্প।

ওজন কমানোর জন্য
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে রুটি ভাতের তুলনায় কার্যকর। রুটিতে ফাইবার থাকায় এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং খাবারের পরিমাণ কমায়। তবে ব্রাউন রাইসও একটি ভালো বিকল্প হতে পারে, কারণ এতে ফাইবার ও অন্যান্য পুষ্টিগুণ বিদ্যমান।

হজমের জন্য
রুটিতে ফাইবার থাকায় এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এটি বদহজম ও অ্যাসিডিটি প্রতিরোধে সাহায্য করে। তবে একনাগাড়ে রুটি খেলে অনেকের পেটের সমস্যা হতে পারে। সেক্ষেত্রে ভাত বা ব্রাউন রাইস খাওয়া যেতে পারে।

পরামর্শ

ওজন কমানোর জন্য ভাতের পরিবর্তে রুটি খেতে পারেন।

ডায়াবেটিস রোগীরা ভাত বাদ দিয়ে রুটি বেছে নিন।

দীর্ঘদিন এক ধরনের খাবার খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে। তাই ভাত ও রুটি পরিবর্তন করে খেতে পারেন।

ব্রাউন রাইস একটি ভালো বিকল্প। এটি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং হজমেও সহায়ক।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যু

পটুয়াখালীর কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কে বরিশালগামী মাছবোঝাই পিকআপের ধাক্কায় মো. ইউসুফ হাওলাদার (৬৫) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার সকাল ৮টার দিকে নীলগঞ্জ টোলপ্লাজা সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইউসুফ হাওলাদার নীলগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত তাহের হাওলাদারের ছেলে। তিনি কলাপাড়ার সত্তার মুদির দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শী মোটরসাইকেল চালক মাহবুব জানান, ইউসুফ প্রতিদিনের মতো বাইসাইকেলযোগে বাসা থেকে পৌর শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। মহিপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি মাছবোঝাই পিকআপ নীলগঞ্জ টোলপ্লাজার কাছে তাকে ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কলাপাড়া হাসপাতালে এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল ইসলাম জানান, “দুর্ঘটনার পর চালককে আটক করা হয়েছে। মরদেহ শেরে বাংলা মেডিকেলে রয়েছে। এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হাত-পা ঠান্ডা থাকার কারণ ও সমাধান

শীতকালে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার সমস্যা খুব সাধারণ মনে হলেও এটি কখনো কখনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। শীতল আবহাওয়ায় হাত-পা খোলা রাখার কারণে ঠান্ডা লাগতে পারে, তবে গরম কাপড় পরেও যদি এই সমস্যা হয়, তাহলে তা অগ্রাহ্য করা উচিত নয়। কারণ এটি হতে পারে একাধিক গুরুতর রোগের ইঙ্গিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতে হাত-পা ঠান্ডা থাকার বিষয়টি অবহেলা না করাই ভালো। এটি হতে পারে নিচের রোগগুলোর লক্ষণ:

ডায়াবেটিস:
যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে না, তাদের ক্ষেত্রে পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি দেখা দিতে পারে। এতে পায়ের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা রক্তপ্রবাহে সমস্যা সৃষ্টি করে। এছাড়া ডায়াবেটিস থেকে পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজও হতে পারে, যার ফলে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়।

হাইপোথাইরয়েডিজম:
থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা থাকলে শরীরে প্রয়োজনীয় হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এ কারণে শরীর গরম রাখতে সমস্যা হয় এবং হাত-পা প্রায়ই ঠান্ডা থাকে।

রেনৌডস ডিজিজ:
এ রোগে হাত-পায়ের ছোট রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে গরম রক্ত পৌঁছাতে পারে না, এবং হাত-পা ঠান্ডা থাকে।

হাই কোলেস্টেরল:
রক্তনালিতে কোলেস্টেরল জমে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে হাত-পায়ে ঠান্ডা লাগতে পারে।

দুশ্চিন্তা:
দুশ্চিন্তার কারণে শরীরে এপিনেফ্রিন হরমোনের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। এর ফলে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়।

সমাধান:

1. পর্যাপ্ত পানি পান করুন। পানিশূন্যতা দূর হলে শরীরের রক্তপ্রবাহ ঠিক থাকবে।

2. শীতের দিনে গরম কাপড় ব্যবহার করুন এবং হাত-পা ঢেকে রাখুন।

3. মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান বা যোগব্যায়াম করুন।

4. চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিন।

 

শীতে হাত-পা ঠান্ডা হওয়ার কারণ বুঝতে হলে লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

 

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম