ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৬৫ জন হাসপাতালে

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক থাকলেও গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এই সময়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৬৫ জন রোগী।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে প্রকাশিত ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪ জন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪৩ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এছাড়া খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৩ জন, রাজশাহী বিভাগে চারজন, রংপুর বিভাগে দুইজন এবং সিলেট বিভাগে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৪০ জন ডেঙ্গু রোগী। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৬৭৪ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ১ হাজার ৯৫৬ জন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ নারী।

চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মোট ৪১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তুলনামূলকভাবে, ২০২৪ সালে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং ওই বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের।

স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত সচেতনতা ও পরিবেশ পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে এডিস প্রজাতির মশার বংশবিস্তার রোধে জমে থাকা পরিষ্কার পানির দিকে সবাইকে নজর দিতে হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দেশের যে দুই এলাকার বাতাস আজ স্বাস্থের জন্য অতি ক্ষতিকর

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : মানুষের জীবনধারনের জন্য অক্সিজেন একটি অতি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান । এই অক্সিজেনের একমাত্র যোগান দাতা হলো বাতাস আর দেশের বাতাসের মান দিনদিন আরো খারাপ হচ্ছে।

আজ বায়ুদূষণে বিশ্বের ১২৭টি শহরের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে ২৩২ স্কোর নিয়ে ঢাকার বাতাসের মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে।

এদিন দেশের দুইটি স্থানের বাতাস ‘দুর্যোগপূর্ণ’ পর্যায়ে রয়েছে।

সোমবার সকাল ৮টায় আইকিউএয়ারের সূচক থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার নিয়মিত বায়ুদূষণের পরিস্থিতি তুলে ধরে। একটি শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত তা এই সূচক থেকে জানা যায়।

এদিন দেশের সবচেয়ে দূষিত বাতাস বিরাজ করছে গাজীপুরের কাপাসিয়ায়।

৩৫৪ একিউআই স্কোর নিয়ে এই এলাকার বাতাসের মান ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ পর্যায়ে রয়েছে। এদিন রাজধানীর গোড়ান এলাকার বাতাসও ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। এখানে একিউআই স্কোর রয়েছে ৩৫০।

আজ ঢাকার দক্ষিণ পল্লবী (২৫৮), কল্যাণপুর (২৪৬), মাদানি সরণির বেজ এজওয়াটার (২৪৪), গুলশানের গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (২১৯) ও তেজগাঁওয়ের শান্তা ফোরাম (২১৭) এলাকায় বাতাসের মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে।

ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উপাদান হলো— বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম ২.৫-এর উপস্থিতি। আজ সকালে ঢাকার বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণার পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানদণ্ডের চেয়ে ৩১ গুণেরও বেশি রয়েছে।

আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয় বায়ুর মান। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর।

১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।




রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক জন নিহত

চন্দ্রদ্বীপ : শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে  মাতুয়াইল মেডিক্যালের সামনে কাভার্টভ্যানের ধাক্কায় শাহিন (৩৫) নামে সিএনজি অটোরিকশার এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন সিএনজি চালক ফিরোজ (৪৫)।

নিহত শাহিন যাত্রাবাড়ীর সানারপাড় এলাকার শামসুল হকের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাতুয়াইল মেডিক্যালের সামনে কাভার্টভ্যানের সঙ্গে একটি সিএনজি অটোরিকশার সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে সিএনজিতে থাকা যাত্রী শাহিন গুরুতর আহত হন। শাহিনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ২টা ৫০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ফিরোজ বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নিহতের মৃতদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।




ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দূর্ঘটনা নিহত ২

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  দেশের মহাসড়ক গুলোতে সড়ক দূর্ঘটনা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে  মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কান্দিলা এলাকায় কাভার্ডভ্যানের পেছনে ট্রাকের ধাক্কায় চালক সহ দুইজন নিহত হয়েছেন।  এতে আহত একজনকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

এ সময় মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনে কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দুই ঘণ্টা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যানচলাচল স্বাভাবিক করে।

নিহতরা হলেন—শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ট্রাকচালক সোহেল (৩৫) এবং ট্রাকে থাকা টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার হাবলা গ্রামের মৃত মালেক ভূইয়ার ছেলে ব্যবসায়ী আমিনুর ভূইয়া (৬৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জামালপুর থেকে ঢাকাগামী একটি মালবাহী ট্রাক (যাতে চাল, মুরগি ও হাঁস ছিল) সামনে থাকা কাভার্ড ভ্যনকে পেছন দিক থেকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়।

এলেঙ্গা হাইওয়ে ফাঁড়ির পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। দুর্ঘটনার পর সাময়িক যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে স্বাভাবিক হয়।




আমরা কোথায় নিরাপদ ? রান্নাঘর ও এখন যেন অগ্নিকুন্ড

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : দেশে আশংকাজনক হারে বাড়ছে গ্যাস থেকে সৃস্ট অগ্নিকান্ড আর এ আগুনে ঝলসে যাচ্ছে একেকটি পরিবার। পরিবারের বড় সদস্যদের সঙ্গে প্রতিটি দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে দগ্ধ হচ্ছে শিশুরাও।

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের তথ্যে, ২০২৪ সালে রান্নাঘরে চুলা থেকেই ৩ হাজার ৫৬টি অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

আর গ্যাস সরবরাহ লিকেজ থেকে ৪৬৫টি অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে, আগুন জ্বালিয়ে কোনো স্থানে গ্যাসের লিকেজ হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা ঠিক না। এ ক্ষেত্রে গ্যাসের লিকেজ হয়েছে সন্দেহ হলে সাবান পানি দিয়ে পরীক্ষা করে এতে বুদবুদ হচ্ছে কি না দেখা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাজধানী ঢাকায় যে গ্যাস লাইন বসানো আছে তার কিছু ৫০ বছর পুরোনো। এগুলো থেকে গ্যাস লিক হওয়ার ঝুঁকি বেশি। আবার যে লাইন দিয়ে ৫০ জন গ্রাহকের লাইনে গ্যাস আসার কথা সে লাইন দিয়ে ৫০০ জন গ্রাহককে গ্যাস দেওয়া হয়। ফলে সেই লাইনে চাপ বেড়ে যাচ্ছে। পাইপলাইনগুলো দুর্বল হওয়ার কারণে এর চাপ নেওয়ার ক্ষমতাও দিন দিন কমে যাচ্ছে। এই পাইপ লাইনগুলোতে জং ধরছে এবং যে লাইনগুলো খোঁড়াখুঁড়ির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা থেকেও গ্যাস লিক হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় ৭ ডিসেম্বর একটি বাসায় চুলার আগুন থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হন। রান্নাঘরের গ্যাস চুলার লিকেজ থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটে।

রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় একটি বাসায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের ছয়জন দগ্ধ হন।

৩০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একটি বাড়িতে চুলার গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হন।

৪ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর বিসিক এলাকায় একটি বাড়িতে গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট আগুনে শিশুসহ একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ জন।

তার আগে চলতি বছরের ২৪ মার্চ রাজধানীর বাড্ডার একটি আবাসিক ভবনে রান্নার চুলার গ্যাস থেকে আগুন ধরে দুই শিশুসহ একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের তথ্য মতে, সারা দেশ থেকে মাসে অন্তত ৫০০ আগুনে পোড়া রোগী এই হাসপাতালে ভর্তি হন। এর এক-পঞ্চমাংশেরই মৃত্যু হয় এবং এর মধ্যে ৪০ শতাংশই গ্যাসের আগুনে দগ্ধ হন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, গ্যাস লিকেজের মতো ঘটনায় গ্রাহকদের গা-ছাড়া ভাবের কারণে অনেক সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যায়। মাসে অন্তত একবার হলেও সবাইকে ঘরে গ্যাস লিক হচ্ছে কি না তা নিরাপত্তার স্বার্থে তদারকি করা প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় কোনো স্থানে বাতাস চলাচলের পথ বন্ধ থাকলে এবং সেখানে কোনো গ্যাস লিকেজ থাকলে সেটি তখন জমাটবদ্ধ গ্যাসে পরিণত হয়। তখন যে কোনো স্পার্ক বা ম্যাচের কাঠি জ্বালানো হলেই তা বিস্ফোরণে পরিণত হয়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, শহরে অসংখ্য অবৈধ লাইন আছে যে স্থানে ছোট-বড় লিকেজ হচ্ছে। পুরো পাইপলাইন সার্ভে করে অবৈধ সংযোগের মতো বিপজ্জনক পয়েন্ট চিহ্নিত করতে হবে এবং পুরোনো লাইনগুলোও একই সঙ্গে পরিবর্তন করতে হবে। আর এমনটি করা না গেলে কেউই বিপদমুক্ত হতে পারবে না।




মাথা ব্যাথা উপশমে ঘরোয়া উপায়ই সবচেয়ে কার্যকর

মাথাব্যথা আজকাল এমন এক স্বাস্থ্য সমস্যা, যা প্রায় সবাইকেই ভোগায়। অফিস, পড়াশোনা বা দৈনন্দিন কাজের মাঝে হঠাৎ মাথাব্যথা শুরু হলে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক চাপ, পানিশূন্যতা, ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহারের কারণে মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে। যদিও অনেকেই ওষুধ সেবনের মাধ্যমে তা কমাতে চান, তবে প্রকৃতির কিছু সহজ উপায় মেনে চললে মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

পানিশূন্যতা শরীরে ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ। দিনে পর্যাপ্ত পানি না খেলে মাথা ভারী হয়ে যায়। তাই নিয়মিত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করলে আধঘন্টার মধ্যেই আরাম মেলে। একইভাবে আদা চা শরীর ও মস্তিষ্ককে সতেজ রাখতে দারুণ কার্যকর। আদার উপাদান প্রদাহ কমায় এবং মাইগ্রেনের ব্যথাও প্রশমিত করে।

অন্যদিকে ক্যাফেইন নিয়ে রয়েছে ভিন্ন মত। অতিরিক্ত ক্যাফেইন যেমন মাথাব্যথার কারণ হতে পারে, তেমনি অল্প পরিমাণে এটি ব্যথা প্রশমনে সাহায্য করে। তাই চা–কফি গ্রহণের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি।

ঘুমের অভাবও মাথাব্যথার একটি বড় কারণ। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে স্নায়ু উত্তেজিত হয় এবং মাথা ব্যথা করে। তাই প্রতিদিন কমপক্ষে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। অনেক সময় ক্যাফেইন গ্রহণের পর অল্প সময় ঘুমালে ব্যথা দ্রুত কমে যায়।

মাথাব্যথা লাঘবে ঠাণ্ডা পানির সেঁকও দারুণ কার্যকর। বিশেষ করে মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে বরফের প্যাক মাথায় রাখলে রক্তনালী সংকুচিত হয়ে ব্যথা উপশম হয়। একইভাবে প্রেসার পয়েন্টে হালকা ম্যাসাজ করলেও রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক হয় এবং ব্যথা অনেকটাই কমে যায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করলে অনেক সময় ওষুধ ছাড়াই মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তাই জীবনযাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন এনে, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম, সুষম খাবার ও স্ক্রিন টাইম কমিয়ে মাথাব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ডেঙ্গুতে মৃত্যুর তালিকা দিন দিন দীর্ঘ হচেছ

চন্দ্র্রদ্বীপ নিউজ : নীরব এক ঘাতকের নাম ডেঙ্গু প্রতি নিয়ত বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৮৭ হাজার ৭১২ জনে পৌঁছেছে।

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৬ জন মারা গেছেন। একই সময় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ৭৮৮ জন। মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে তিনজন রাজশাহী বিভাগের বাসিন্দা। পাশাপাশি শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৮৭ হাজার ৭১২ জনে পৌঁছেছে।বুধবার (১৯ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৮৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০৮ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৩০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৬৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৮৬ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৫৪ জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৮৮ জন এবং সিলেট বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) তিনজন।গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৭৩ ডেঙ্গুরোগী। এ নিয়ে চলতি বছর আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৭০ জন। আর চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৪০ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৬০ শতাংশ নারী।




জব্দ করা বিপুল বিস্ফোরক বিস্ফোরণ, জম্মু-কাশ্মীরে নিহত ৭

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স:  শুক্রবার রাতে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরে জব্দ করা বিপুল বিস্ফোরক একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়ে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও ২৭ জন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর এনডিটিভির।

নিহতদের বেশিরভাগই পুলিশ সদস্য ও ফরেনসিক বিভাগের কর্মকর্তা। বিস্ফোরক পরীক্ষা করতেই তারা নওগাম থানায় অবস্থান করছিলেন। নিহতদের মধ্যে শ্রীনগর প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা, একজন নায়েব তহশিলদারও রয়েছেন।

আহতদের ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৯২ বেস হাসপাতাল এবং শের-ই-কাশ্মীর ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (এসকেআইএমএস) ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা পৌঁছেছেন এবং পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, থানার পুলিশ সদস্যরা ওই এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী জইস-ই-মোহাম্মদের পোস্টার লাগানোর বিষয়টির সুরাহা করেছিল। পোস্টারের সূত্র ধরে তারা ব্যাপক বিস্ফোরক উদ্ধার করার দাবি করে। এছাড়া কয়েকজন চিকিৎসককেও গ্রেফতার করার কথা জানান।




ঢাকা বরিশাল মহসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারালেন বাসচালক, নিহত ১

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : সড়ক দুর্ঘটনা যেন মহাসড়ক গুলোকে মৃত্যু ফাদে পরিনত করেছে ।  এরই ধারাবাহিকতায়  মাদারীপুরের কালকিনিতে একটি অটোভ্যানকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঈগল পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস গাছের উপর সজোরে আছরে পরে যাতে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পৌর এলাকার ভূরঘাটা কুন্ডুবাড়ি নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তি বাসের হেলপার বলে জানা গেছে। তবে তার নাম পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে বরিশাল যাচ্ছিল ঈগল পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস। পথিমধ্যে কুন্ডুবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে একটি অটোভ্যান বাসের সামনে এসে পড়ে। ওই ভ্যানটিকে বাঁচাতে গিয়ে চালক বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে থাকা গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা মারেন। এতে বাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং একজন নিহত হয়। আহত হয় কমপক্ষে ১০ জন। এ সময় বাসের সামনের অংশের চাপা পড়ে আটকে থাকে সুপার ভাইজার।




পেরুতে সড়ক দূর্ঘটনায় বাস খাদে পড়ে নিহত ৩৭

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স:দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে যাত্রীবাহী একটি বাস খাদে পড়ে অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। বুধবার (১২ নভেম্বর) ভোরের দিকে আরেকুইপার ওকোনা জেলায় প্যানআমেরিকানা সুর মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। খবর রয়টার্সের।

আরেকুইপার আঞ্চলিক স্বাস্থ্যপ্রধান ওয়ালথার ওপোর্তো বলেছেন, বাস দুর্ঘটনায় ৩৬ জন ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের প্রাণহানি ঘটেছে। দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত দমকলকর্মীদের বরাত দিয়ে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাসটি প্রথমে একটি ভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা খায়, এরপর রাস্তা থেকে ছিটকে গভীর খাদে পড়ে যায়।

আরেকুইপার আঞ্চলিক সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আহত ২৬ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তবে দুর্ঘটনার পরপরই দেশটির হাইওয়ে পুলিশের প্রাথমিক এক প্রতিবেদনে ১৬ জনের প্রাণহানির তথ্য জানানো হয়েছিল।