বিশ্বব্যাপী জীবনরক্ষাকারী ওষুধ সহায়তা বন্ধ যুক্তরাষ্ট্রের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : গরীব দেশগুলোতে এইচআইভি, ম্যালেরিয়া, টিউবারকিউলোসিস এবং সদ্যোজাত শিশুদের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএইড) এসব সহায়তা প্রদান করত।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) থেকে ইউএসএইডের কন্ট্রাক্টর ও সহযোগীরা এই নির্দেশনা পেতে শুরু করে। তাদের অনতিবিলম্বে কার্যক্রম বন্ধ করতে বলা হয়েছে। গত ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা নিয়েই নির্বাহী আদেশে বিশ্বব্যাপী মার্কিন সহায়তা বন্ধ করেন ট্রাম্প। এই ওষুধ সরবরাহ বন্ধ সেই নির্বাহী আদেশের অংশ। যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশে সহায়তা করত সেগুলো পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। পর্যবেক্ষণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত আগামী ৯০ দিন সহায়তাগুলো বন্ধ থাকবে।

এই ধরনের একটি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে চেমোনিকসের কাছে। তারা ইউএসএইডের হয়ে বিশ্বব্যাপী এইচআইভি, ম্যালেরিয়াসহ প্রাণঘাতি বিভিন্ন রোগের ওষুধ সহায়তা পাঠাত।




পুরুষদের ফার্টিলিটি বাড়াতে খাবারের গুরুত্ব

ফার্টিলিটি শুধু নারীদের জন্য নয়, পুরুষদের জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের পুষ্টির যোগান প্রজনন ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে, খারাপ খাদ্যাভ্যাস শুক্রাণুর গুণমান কমাতে এবং টেস্টোস্টেরনের মাত্রা হ্রাস করতে পারে, যা পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে, সঠিক খাদ্য নির্বাচন করলে ফার্টিলিটি বাড়ানো সম্ভব। জেনে নিন, পুরুষদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাবার যা তাদের ফার্টিলিটি বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

১. জিঙ্ক
টেস্টোস্টেরন উৎপাদন এবং শুক্রাণু বিকাশের জন্য জিঙ্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ঘাটতি শুক্রাণুর সংখ্যা এবং গতিশীলতা কমিয়ে দেয়। তাই, চর্বিহীন মাংস, কুমড়োর বীজ, ছোলা এবং ডিম খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

২. ভিটামিন সি
ভিটামিন সি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শুক্রাণুর ক্ষতি প্রতিরোধ করে এবং জারণ চাপ কমায়। লেবু, স্ট্রবেরি, বেল পেপার এবং ব্রোকলি ভিটামিন সি-এর চমৎকার উৎস। এই খাবারগুলো নিয়মিত খাওয়ার চেষ্টা করুন।

৩. ভিটামিন ডি
ভিটামিন ডি-এর অভাব টেস্টোস্টেরন হ্রাস এবং শুক্রাণুর গুণমান কমিয়ে দিতে পারে। সূর্যের আলো, স্যামন, ফোর্টিফাইড দুধ এবং ডিমের কুসুম ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে পারে। তবে, সাপ্লিমেন্ট নেবার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৪. ফোলেট
ফোলেট শুক্রাণু উৎপাদন এবং ডিএনএ সংশ্লেষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফোলেটের ভালো উৎস হিসেবে পাতাযুক্ত সবুজ শাক, মটরশুটি, মসুর ডাল এবং ফোর্টিফাইড সিরিয়াল রয়েছে।

৫. ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শুক্রাণুর আকৃতি এবং গতিশীলতা উন্নত করতে সাহায্য করে। স্যামন, ম্যাকেরেল, সার্ডিন, আখরোট এবং তিসির বীজের মতো খাবারগুলো খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

আপনার প্রজনন ক্ষমতা ভালো রাখতে সঠিক পুষ্টির সঙ্গে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা জরুরি।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মধ্যরাত থেকে সারা দেশে বন্ধ হতে পারে ট্রেন চলাচল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  মূল বেতনের সঙ্গে রানিং অ্যালাউন্স যোগ করে পেনশন প্রদান এবং আনুতোষিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে জটিলতা নিরসন না হওয়ায় কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন রেলওয়ের রানিং স্টাফরা। ফলে সোমবার (২৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা থেকে সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ হতে পারে। এ কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতি।

বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কারভাবে কিছু জানায়নি রেলপথ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রানিং স্টাফদের দাবি নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

রেলওয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী একজন রানিং স্টাফ (চালক, সহকারী চালক, গার্ড, টিকিট চেকার) ট্রেনে দায়িত্ব পালন শেষে তার নিয়োগপ্রাপ্ত এলাকায় (হেডকোয়ার্টার) হলে ১২ ঘণ্টা এবং এলাকার বাইরে (আউটার স্টেশন) হলে ৮ ঘণ্টা বিশ্রামের সুযোগ পান। রেলওয়ের স্বার্থে কোনো রানিং স্টাফকে তার বিশ্রামের সময়ে কাজে যুক্ত করলে বাড়তি ভাতা-সুবিধা দেওয়া হয়। যা রেলওয়েতে ‘মাইলেজ’ সুবিধা হিসেবে পরিচিত।

২০২১ সালের ৩ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় মাইলেজ সুবিধা সীমিত করতে রেল মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়। ওই চিঠিতে আনলিমিটেড মাইলেজ সুবিধা বাদ দিয়ে তা সর্বোচ্চ ৩০ কর্মদিবসের সমপরিমাণ করার কথা জানানো হয়। এ ছাড়া বেসামরিক কর্মচারী হিসেবে রানিং স্টাফদের পেনশন ও আনুতোষিক ভাতায় মূল বেতনের সঙ্গে পাওয়া ভাতা যোগ করার বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়। এরপরই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন রানিং স্টাফরা।

মাইলেজ সুবিধা পুনর্বহালের দাবিতে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছেন রানিং স্টাফরা। কয়েক দফায় অতিরিক্ত কাজ থেকে বিরত থাকাসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। তবে বিভিন্ন সময়ে তৎকালীন রেলওয়ের মহাপরিচালক, রেলসচিব, রেলমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশ্বাসে তারা আন্দোলন থেকে সরে আসেন।

এ বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে আবারও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত জানতে চাইলে সর্বশেষ গত ২৩ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয় রেলপথ মন্ত্রণালয়কে জানায়, ‘২০২২ সালের ২১ আগস্ট অর্থ বিভাগের ৯১নং স্মারকে জারি করা পত্রের (খ) অনুচ্ছেদটি অপরিবর্তিত রাখা হলো এবং (ক) অনুচ্ছেদটি নিম্নরূপে সংশোধন করা হলো।’

সংশোধনে বলা হয়, ‘রানিং স্টাফ হিসেবে চলন্ত ট্রেনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ভ্রমণ ভাতা বা দৈনিক ভাতার পরিবর্তে রেলওয়ে এস্টাবিলিশমেন্ট কোডের বিধান অনুযায়ী রানিং অ্যালাউন্স প্রাপ্য হবেন। চলন্ত ট্রেনে দায়িত্ব পালনের জন্য রানিং অ্যালাউন্স ছাড়া অন্য কোনো ভাতা প্রাপ্য হবেন না এবং মাসিক রানিং অ্যালাউন্সের পরিমাণ প্রাপ্য মূল বেতনের চেয়ে বেশি হবে না।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এ মত জানার পর আরও ফুঁসে ওঠেন রানিং স্টাফরা। তারা বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৮ ঘণ্টার বেশি আমরা কাজ করব। আমরা তো সবাই টাকার জন্যই কাজ করি। ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে যদি টাকাই না দেয়, তাহলে আমরা কাজ করব কেন?

বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতি জানিয়েছে, কর্মচারীদের অবসরোত্তর ৭৫ শতাংশ মাইলেজ মূল বেতনের সঙ্গে যোগ করে পেনশন নির্ধারণের বিধান প্রায় ১৬০ বছর ধরে চলমান ছিল। কিন্তু ২০২০ সালে রেলওয়ের কোডিফাইড রুল অমান্য করে রানিং স্টাফদের পার্ট অব পে হিসেবে গণ্য মাইলেজ, যা যুগ যুগ ধরে বেতন খাতের অংশ ছিল, সেখান থেকে সরিয়ে টিএ খাতে নেওয়ার ফলে জটিলতা তৈরি হয়। এরপর ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ রেলওয়ের রানিং স্টাফদের মাইলেজ যোগ করে পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানায়।

কর্মচারী সমিতি আরও জানিয়েছে, ২০২২ সালের ৪ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১০ এপ্রিল রানিং স্টাফদের কর্মবিরতিতে সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে অর্থ মন্ত্রণালয় ১৩ এপ্রিল চিঠিটি প্রত্যাহার করে নেয়। পরে তৎকালীন রেলমন্ত্রী ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে এ সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। যার ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ১১ জুন তৎকালীন রেলওয়ের মহাপরিচালক স্পষ্ট করে রানিং স্টাফদের মাইলেজ যোগে পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু ওই বছর ১৮ জুন অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আবারও আপত্তি জানায়। ফলে রানিং স্টাফদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

 




হঠাৎ বুক ধড়ফড় করলে কী করবেন?

বুক ধড়ফড় করা একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে গুরুতর অসুস্থতার কারণ। অনেকেই হঠাৎ বুক ধড়ফড়, অস্বস্তি, বা চিনচিনে ব্যথার অভিজ্ঞতা লাভ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা যেমন কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়া, ব্র্যাডিঅ্যারিদমিয়া, বা ট্যাকিঅ্যারিদমিয়ার লক্ষণ হতে পারে এটি। এই সমস্যাগুলোর কারণ এবং সমাধান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি মিনিটে ৭২ বার হয়ে থাকে। তবে অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অতিরিক্ত কাজের চাপ, কিংবা অন্যান্য স্বাস্থ্যগত কারণ হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক সঙ্কোচন-প্রসারণকে ব্যাহত করতে পারে।

কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়ার ধরন ও ঝুঁকি

কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়া সাধারণত দুই ধরণের হতে পারে।

1. ব্র্যাডিঅ্যারিদমিয়া: এই অবস্থায় হৃদস্পন্দন ৬০-এর নিচে নেমে যায়। ফলে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়ে হার্ট ব্লকের ঝুঁকি দেখা দেয়।

2. ট্যাকিঅ্যারিদমিয়া: এতে হৃদস্পন্দন ১০০-এর ওপরে উঠে যায়। এই অবস্থায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি ১০০০ জনে ৫ জনের এমন সমস্যা দেখা যায়। বিশেষত, বয়স ৬০ পার হলে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা দিতে পারে।

কখন সতর্ক হবেন?

সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

হঠাৎ বুক ধড়ফড় শুরু হওয়া।

সামান্য পরিশ্রমেই শ্বাসকষ্ট।

মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।

অস্বাভাবিক ক্লান্তি।

যদি এ ধরনের সমস্যা বারবার ঘটে, দ্রুত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ইসিজি, হল্টার মনিটরিং, লুপ রেকর্ডার ইত্যাদি পরীক্ষার মাধ্যমে এর কারণ নির্ণয় করা সম্ভব।

প্রতিকার ও করণীয়

ডিপ ব্রিদিং অনুশীলন করুন: বুক ধড়ফড় করলে শান্ত থাকুন এবং ধীরে ধীরে শ্বাস টেনে ছাড়ুন।

খোলা জায়গায় যান: বদ্ধ স্থানে থাকলে অসুবিধা আরও বাড়তে পারে।

সিগারেট এড়িয়ে চলুন: বুক ধড়ফড় শুরু হলে ধূমপান থেকে বিরত থাকুন।

হালকা গরম পানিতে গোসল করুন: মাথার আগে হাত ও পা ভিজিয়ে গোসল করুন।

শরীরকে বিশ্রাম দিন: ভারী কাজ বা সিঁড়ি ভাঙা থেকে বিরত থাকুন।

চিকিৎসকের কাছে যান: শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক কোনো সমস্যা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে অভ্যাস পরিবর্তন

সঠিক জীবনধারা হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




লবঙ্গের মসলার গুণে শীতের কাশি কমবে!

শীতের কাশি আর গলা ব্যথা আমাদের অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা। এমন সময় লবঙ্গের ব্যবহার আপনাকে হতে পারে খুবই উপকারী। লবঙ্গের ছোট্ট উপকারিতা আপনার কাশি ও সর্দি সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করতে পারে। লবঙ্গ মুখে রাখলে খুসখুসে কাশি, সর্দি বা গলা ব্যথার সমস্যা দ্রুত কমে যায়।

লবঙ্গ এমন একটি মসলা, যা শুধুমাত্র খাবারের স্বাদ বাড়াতে কাজ করে না, বরং এটি একটি শক্তিশালী ভেষজও। লবঙ্গে প্রচুর ম্যাঙ্গানিজ থাকে, যা শরীরের এনজাইমগুলোর কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনায় সহায়ক। এর ফলে হাড় মেরামত এবং হরমোন তৈরিতেও সহায়তা করে।

এই মসলায় থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান শরীরকে ফ্রি র্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। এছাড়া লবঙ্গের মধ্যে ভিটামিন কে, পটাসিয়াম, বিটা-ক্যারোটিন এবং ইউজেনলও রয়েছে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গে এমন উপাদান রয়েছে যা কাশি ও শ্বাসনালির অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে। এর অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি প্রপার্টি শ্বাসনালির প্রদাহ কমাতে কার্যকরী। এতে থাকা অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিভাইরাল উপাদান শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ কমায়, ফলে কাশি, গলা ব্যথা এবং খুসখুসে ভাব থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।

তাছাড়া, লবঙ্গ মুখে রাখলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়, যা ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়ে থাকে। যারা হজমের সমস্যা ভোগেন, তাদেরও এটি সহায়ক হতে পারে। লবঙ্গের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান লিভারকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

শীতে পেশির ব্যথা এবং যন্ত্রণা বাড়ে, সেক্ষেত্রে লবঙ্গের ব্যবহার অনেকটা আরাম দিতে পারে। এই ভেষজটির গুণে শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা রক্ষা সম্ভব।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শীতে দাঁতের ব্যথা বৃদ্ধি পেলে কীভাবে যত্ন নেবেন?

শীতে অনেকেরই দাঁতে ব্যথা বৃদ্ধি পায়, বিশেষত পুরনো দাঁতের সমস্যা যা শীতের আক্রমণে আরও প্রকট হয়। ঠান্ডা পানি, শিরশিরানি বা বাতাসের কারণে দাঁতের ব্যথা ও মাড়ির সমস্যা বাড়তে পারে। এই সময়ে সেলুলোজ জাতীয় আঁশযুক্ত খাবার দাঁতের ফাঁকে আটকে গিয়ে ব্যাকটেরিয়ার কারণে দাঁতে ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।

শীতে দাঁতের যত্নে কী করবেন?

১. দু’বেলা দাঁত ব্রাশ করুন। বিশেষভাবে রাতে ঘুমানোর আগে এবং সকালে নাশতা খাওয়ার পর দাঁত ব্রাশ করা জরুরি।
২. সঠিক নিয়মে দাঁত ব্রাশ করুন, সামনে-পেছনে না করে, বরং আস্তে আস্তে ওপরে-নিচে ব্রাশ করুন।
৩. নিচের পাটির দাঁতের জন্য ব্রাশ দাঁতের গোড়ার দিক থেকে ওপরের দিকে এবং উপরের পাটির জন্য দাঁতের গোড়ার দিক থেকে নিচের দিকে করুন।
৪. দেড় থেকে দুই মিনিট দাঁত ব্রাশ করুন। এর বেশি করলে দাঁতের ক্ষয় হতে পারে।
৫. দুপুরে খাওয়ার পর কুলিকুচি করুন।
৬. দুই মাস পর পর ব্রাশ এবং তিন মাস পর পর টুথপেষ্ট পরিবর্তন করুন।

দাঁতের ব্যথা বাড়লে করণীয়

১. দাঁতের ব্যথা সাময়িকভাবে কমানো কোনো চিকিৎসা নয়। নিয়মিত দাঁতের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২. মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে স্কেলিং করানো প্রয়োজন।
৩. দাঁতে ব্যথা বা শিরশিরানির ক্ষেত্রে ডেন্টিস্টের কাছে দ্রুত যাওয়াই উত্তম।
৪. ফ্লোরাইড পেস্ট ব্যবহার করলে সেনসিটিভিটি কমে।
৫. অতিরিক্ত ব্রাশ বা অবহেলা দাঁতের ক্ষয় সৃষ্টি করতে পারে, যা ফিলিং ও কোটিংয়ের মাধ্যমে ঠিক করা যায়।
৬. বছরে অন্তত দু’বার ডেন্টিস্টের কাছে গিয়ে দাঁত দেখান।
৭. দাঁত ব্যথা হলে গরম সেঁক না দিয়ে বরফ লাগানো উচিত। তবে লবণ গরম পানি দিয়ে কুলকুচি করতে পারেন।
৮. কোমলপানীয়, পান, নেশা জাতীয় দ্রব্য পরিহার করতে হবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে জমি দখল ও হুমকির অভিযোগ থানায় দাখিল

পটুয়াখালীর লোহালিয়া ইউনিয়নে জোরপূর্বক জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগকারী মোসাম্মৎ শিউলি বেগম (৪৫), কুড়িপাইকা ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা গাজী মো. মাসুদুর রহমানের স্ত্রী। তিনি গত ২১ জানুয়ারি পটুয়াখালী সদর থানায় অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের নম্বর ৩৬।

অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা এলাকার বাসিন্দা মো. লোকমান হোসেন মাঝি (৩২), মো. হায়দার আলী মাঝি (৬৫), মোসাম্মৎ রুমা বেগম (৩৫) ও মোসাম্মৎ সুমাইয়া আক্তার (২৭) এর নাম।

বাদী অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তার জমি জোরপূর্বক দখল করতে চেয়েছেন এবং এতে বাধা দিলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে বেশ উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। থানায় অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

 

মো. আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক নিহত

পটুয়াখালীর বাউফলে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. তরিকুল ইসলাম শরীফ (৩৫) নামে এক ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে বাউফল-বগা আঞ্চলিক সড়কের রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে মানিক চৌকিদারের বাড়ির সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত তরিকুল উপজেলার কনকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কর শরীফের ছেলে। পেশায় তিনি একজন ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন।

বগা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেল বলেন, “ধারণা করা হচ্ছে, কোনো পরিবহন অথবা ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে গেছে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় মাথা থেঁতলে গেছে। দোষী যানবাহন শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”

স্থানীয়দের মতে, ভোরের সময় সড়কটি প্রায় জনশূন্য থাকে, ফলে দুর্ঘটনার সঠিক সময় নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধী যানবাহন শনাক্তে জোর দাবি জানান।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফাইবার সমৃদ্ধ ফল: স্বাস্থ্যকর হজম এবং ভালো ওজন বজায় রাখার জন্য

ফাইবার আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত হজম ভালো রাখতে, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে এবং রোগের ঝুঁকি কমাতে। কিছু ফল রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে ফাইবারের পরিমাণ অনেক বেশি, এবং এগুলো আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় যোগ করলে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক ফাইবারে ভরপুর কিছু ফল:

১. পেয়ারা
সহজলভ্য এবং ফাইবারে ভরপুর ফলগুলোর মধ্যে একটি হলো পেয়ারা। একটি মাঝারি আকারের পেয়ারা প্রায় ৫ গ্রাম ফাইবার সরবরাহ করতে পারে। এছাড়া, পেয়ারা ভিটামিন সি-তে সমৃদ্ধ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কাঁচা পেয়ারা চিবিয়ে খাওয়া যায় অথবা সালাদে ব্যবহার করা যায়। তবে, জুস তৈরি করলে ফাইবারের বড় অংশ বাদ পড়ে।

২. পেঁপে
পেঁপে ফাইবার এবং পাপাইন নামক এনজাইমের জন্য পরিচিত, যা হজমে সহায়তা করে। এক কাপ পেঁপেতে প্রায় ২.৫ গ্রাম ফাইবার থাকে। পেঁপে সকালের নাস্তায় খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।

৩. কলা
কলা সহজলভ্য এবং ফাইবারের একটি দুর্দান্ত উৎস। একটি মাঝারি কলায় প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে। এছাড়া, কলা পটাশিয়ামে সমৃদ্ধ, যা হৃদরোগের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। কলা দ্রুত নাস্তার জন্য উপযুক্ত এবং স্মুদি বা সিরিয়ালে যোগ করা যেতে পারে।

৪. আপেল
আপেল ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের দারুণ উৎস। একটি মাঝারি আপেলে প্রায় ৪ গ্রাম ফাইবার থাকে, বিশেষ করে যদি আপনি খোসা সহ খেতে পারেন। আপেল রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

৫. নাশপাতি
নাশপাতি রসালো এবং উচ্চ ফাইবারযুক্ত। একটি মাঝারি আকারের নাশপাতিতে প্রায় ৫-৬ গ্রাম ফাইবার থাকে। এটি হজমের জন্য বেশ উপকারী এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে, কারণ এতে ক্যালোরি কম থাকে।

৬. সফেদা
সফেদা একটি মিষ্টি ফল যা প্রায় ৫ গ্রাম ফাইবার সরবরাহ করে। এটি ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ-এও সমৃদ্ধ। সফেদা হজমশক্তি উন্নত করার জন্য উপকারী এবং খাদ্যতালিকায় সহজেই যোগ করা যায়।

৭. কমলা
কমলা ভিটামিন সি-এর জন্য জনপ্রিয়, তবে এতে প্রচুর ফাইবারও রয়েছে। একটি মাঝারি কমলায় প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে। এটি হাইড্রেটিং এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।

৮. আনারস
আনারস প্রচুর ফাইবারে সমৃদ্ধ। এক কাপ আনারসের টুকরায় প্রায় ২.৩ গ্রাম ফাইবার থাকে। ব্রোমেলাইন নামক এনজাইমটি হজমে সহায়তা করে এবং প্রদাহ কমায়। কাঁচা বা গ্রিল করে খাওয়া যায়, অথবা ফলের সালাদের সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করা যেতে পারে।

এই ফলগুলো আপনার খাদ্যতালিকায় যুক্ত করলে, আপনি পাবেন স্বাস্থ্যের অনেক উপকারিতা। তাই, এখন থেকেই এগুলো নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন!

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




লবঙ্গের চমৎকার স্বাস্থ্য উপকারিতা: প্রতিদিন একটি লবঙ্গ খান!

রান্নাঘরের পরিচিত এক ছোট কালো মসলার নাম লবঙ্গ। সবজি, ডাল বা মিষ্টি — প্রতিটি রান্নাতেই লবঙ্গের উপস্থিতি থাকে। তার সুগন্ধ ও স্বাদ খাবারের গুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে, এর শুধু রান্নার কাজ নয়, স্বাস্থ্য উপকারিতাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিদিন একটি লবঙ্গ খেলে নানা ধরনের উপকার পাওয়া যায়। চলুন, জেনে নেওয়া যাক এর কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা:

১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
লবঙ্গের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। এটি সর্দি, কাশি, ফ্লু সহ নানা সাধারণ রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। তাই প্রতিদিন একটুখানি লবঙ্গ খেলে শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে আরও কার্যকরীভাবে লড়াই করতে সক্ষম হয়।

২. রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে
ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্য লবঙ্গ হতে পারে এক কার্যকরী উপাদান। লবঙ্গের ডায়াবেটিস-বিরোধী বৈশিষ্ট্য টাইপ ২ ডায়াবেটিসের হাইপারলেপ্টিনেমিয়া নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে, এমনটাই এক গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে।

৩. দাঁতের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে
লবঙ্গের ব্যথানাশক বৈশিষ্ট্য দাঁতের ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে। অনেক টুথপেস্টে লবঙ্গের উপস্থিতি দেখা যায়, যা দাঁতের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে এবং মুখের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। দাঁতের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে লবঙ্গ তেলও ব্যবহার করা যেতে পারে।

৪. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর
লবঙ্গ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ, যা শরীরের কোষের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এটি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে, ফলে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমে এবং কোষের ক্ষতি হ্রাস পায়।

৫. হজম স্বাস্থ্য উন্নত করে
হজমের সমস্যা হলে লবঙ্গ একটি কার্যকরী উপাদান হতে পারে। এটি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে, পেট ফাঁপা, গ্যাস এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়তা করে। তাই হজমের সমস্যা সমাধানে লবঙ্গ খাওয়ার অভ্যাস করুন।

লবঙ্গের এই স্বাস্থ্য উপকারিতা নিশ্চিতভাবেই আপনার দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে আরও সুস্থ এবং উপকারী করে তুলবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম