গলাচিপায় অটোরিকশা-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে শিশুর মৃত্যু

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের বটতলা বাজার সংলগ্ন সড়কে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে আশাদুল সিকদার (৮) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। দুর্ঘটনায় তার বাবা রাশেদ সিকদার (৩৫) গুরুতর আহত হয়েছেন।

রবিবার সকাল ১০টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আশাদুল চরবিশ্বাস ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চর আগস্তী বেড়িবাঁধ এলাকার বাসিন্দা।

জানা গেছে, রাশেদ সিকদার তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ভোটার তালিকা হালনাগাদে ছবি তুলতে ইউনিয়ন পরিষদে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বটতলা বাজার সংলগ্ন খলিফা বাড়ির সামনে একটি তিন চাকার অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষ হলে তারা ছিটকে পড়ে যান। এতে আশাদুল গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে শিশুটি মারা যায়।

চরবিশ্বাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জেল হোসেন বাবুল মুন্সী বলেন, “পরিবারটি ভোটার তালিকার কাজের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে আসছিল। পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।”

এ বিষয়ে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, “নিহতের পরিবার এখনো কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় অটোরিকশার চাকার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অটোরিকশার চাকার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে রাদিয়া ইসলাম প্রিয়া (১৫) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে পৌর শহরের কলেজ রোড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

রাদিয়া ইসলাম প্রিয়া বাদুরতলী এলাকার পলাশ হাওলাদারের মেয়ে। সে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।

পারিবারিক সূত্র জানায়, কোচিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে অটোরিকশার চাকার সঙ্গে হঠাৎ প্রিয়ার ওড়না পেঁচিয়ে যায়। এতে তার গলায় ফাঁস লেগে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যায়। সঙ্গে থাকা সহপাঠীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ থানায় আনা হয়েছে। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে পৃথক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুইজনের

পটুয়াখালীর বাউফলে পৃথক দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এক কৃষক ও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার দাশপাড়া ও আতোষখালী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত কৃষক মানিক রাঢ়ী (৪০) দাশপাড়া গ্রামের আলতাফ রাঢ়ীর ছেলে। অন্যদিকে, নিহত শিশু মো. রিফাত (৩) গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. রাসেল মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৩টার দিকে কৃষক মানিক রাঢ়ী জমিতে কাজ করছিলেন। বীজতলার কাজের জন্য পাওয়ার টিলার চালানোর সময় সেটি হঠাৎ উল্টে যায়। এতে তিনি মাটির নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের আতোষখালী গ্রামে নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে মারা যায় শিশু রিফাত। সকালে বাড়ির উঠানে খেলছিল সে। অনেকক্ষণ দেখা না যাওয়ায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে বাড়ির পুকুরে তার নিথর দেহ ভাসতে দেখা যায়। দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, “দুটি মৃত্যুর ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরিবারগুলোর সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর চারটি আসনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী জেলার চারটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় পটুয়াখালী ইসলামী ফাউন্ডেশনের হলরুমে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন—

পটুয়াখালী-১ (সদর, মির্জাগঞ্জ, দুমকি): জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান

পটুয়াখালী-২ (বাউফল): ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা, দশমিনা): সাবেক জেলা আমির অধ্যাপক শাহ আলম

পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী): কলাপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল কাওয়ুম

মতবিনিময় সভায় বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, জামায়াতের বরিশাল অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা একেএম ফখরুদ্দিন খান রাযী, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা মোশাররফ হোসেনসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান এবং সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম আল কায়সারী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও জামায়াতে ইসলামী সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণ কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সকালে খালি পেটে দুধ চা – স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?

সকালে ঘুম থেকে উঠেই চা পানের অভ্যাস অনেকের। বিশেষ করে দুধ চায়ের প্রতি ভালোবাসা অনেকে ভুলতেও পারেন না। কিন্তু এই অভ্যাস কি আসলেই স্বাস্থ্যকর? বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি পেটে দুধ চা পান করা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

দুধ চা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

দুধ চা শরীরকে চাঙ্গা করলেও, খালি পেটে এটি পান করলে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। ভারতীয় পুষ্টিবিদ কোয়েল পাল চৌধুরির মতে, খালি পেটে দুধ চা পান করলে গ্যাস, অ্যাসিডিটি, হজমের সমস্যা এমনকি ক্রনিক গ্যাস্ট্রাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে। এটি পাকস্থলীর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে, ফলে খাবার হজমে সমস্যা হয় এবং বদহজম দেখা দেয়।

লিকার চা কতটা ভালো?

পুষ্টিবিদদের মতে, দুধ চায়ের বদলে লিকার চা (বিনা দুধের চা) খাওয়াই বেশি স্বাস্থ্যকর। সকালে খালি পেটে লিকার চা পান করলে গ্যাস্ট্রিকের ঝুঁকি কমে এবং শরীর সতেজ থাকে। তবে লিকার চায়ে অতিরিক্ত চিনি মেশানো উচিত নয়, কারণ এতে ডায়াবেটিস ও ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে।

কখন দুধ চা খাবেন?

যারা দুধ চা ছাড়া চলতেই পারেন না, তাদের জন্য একটি নিয়ম মেনে চলা ভালো। খাবার খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট পরে ১ কাপ দুধ চা পান করলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কম হবে। এছাড়া, লো-ফ্যাট দুধ ব্যবহার করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং কোলেস্টেরলের পরিমাণও বাড়ে না।

দিনে কত কাপ চা পান করা নিরাপদ?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, দিনে ৩-৪ কাপ রং চা পান করা যেতে পারে, তবে দুধ চা ২ কাপের বেশি খাওয়া উচিত নয়। এর বেশি চা পান করলে লিভার ও কিডনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অতিরিক্ত চা পান করলে উদ্বেগ ও অবসাদের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

 

সকালে খালি পেটে দুধ চা পানের অভ্যাস বাদ দেওয়া উচিত। এর বদলে লিকার চা বেছে নেওয়া যেতে পারে, যা শরীরের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ। আর দুধ চা পান করতে চাইলে খাবারের পর পান করাই ভালো। নিয়ম মেনে চা পান করলে শরীর সুস্থ ও সক্রিয় থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় মশার কয়েলের কাঁচামালের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মশার কয়েলের কাঁচামালের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুরো কারখানাটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, যার ফলে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালিক মো. রহিম।

রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে উপজেলার পাখিমাড়া বাজারের আ. রহিমের মা এন্টারপ্রাইজ নামের কারখানায় এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

আগুনের সূত্রপাত ও মালিকের ক্ষতির শঙ্কা

মালিক মো. রহিম জানান, শনিবার রাত ১০টার দিকে কাজ শেষ করে বাসায় চলে যান তিনি। তবে ভোররাতে খবর পেয়ে কারখানায় গিয়ে দেখেন, আগুনে সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “ধার-দেনা করে এতদিন মিলটি চালিয়ে আসছি। এখন পুড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়লাম।”

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য

প্রত্যক্ষদর্শী নাইমুর রহমান রনি জানান, ফজরের নামাজের সময় আ. রহিমের কারখানা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা

কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. ইলিয়াস হোসাইন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি।

ক্ষতির পরিমাণ

প্রাথমিকভাবে কারখানার মালিক ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন, তবে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ক্ষতির নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বুকে ব্যথা: সম্ভাব্য কারণ এবং তা কোন কোন সমস্যা নির্দেশ করতে পারে

বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি ছোট থেকে বড় নানা কারণে হতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের মতো সমস্যারও প্রাথমিক লক্ষণ বুকে ব্যথা। তবে বুকে ব্যথা হলেই কি ধরে নিতে হবে হৃদপিণ্ডে জটিলতা রয়েছে? তেমনটা নাও হতে পারে। বুকে অস্বস্তি হওয়া অন্য কোনো সমস্যার দিকেও নির্দেশ করতে পারে। নিচে বুকে ব্যথার কিছু সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরা হয়েছে:

গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যাঃ
বুকে ব্যথা একাধিক কারণে হতে পারে, এর মধ্যে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা অন্যতম। চিকিৎসকদের ভাষায় একে হার্টবার্ন বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স বলা হয়, যা সাধারণত বুকজ্বালা হিসেবে পরিচিত। অনেক সময় এ সমস্যাকে হার্ট অ্যাটাক মনে করা হয়, কিন্তু এটি ভিন্ন এক শারীরিক অবস্থা।

মাস্কুলোস্কেলেটাল সমস্যাঃ
পেশিগত সমস্যা বা পেশির সমস্যা থেকেও বুকে ব্যথা হতে পারে। যদি বুকের পেশি বা পাঁজরে কোনো আঘাত লাগে, তবে নির্দিষ্ট জায়গায় ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার সময়ও ব্যথা বৃদ্ধি পেতে পারে।

মানসিক সমস্যা বা উদ্বেগঃ
বুকে চাপ অনুভব করার সমস্যা মানসিক অস্বস্তির কারণেও হতে পারে। উদ্বেগ এবং আতঙ্কের কারণে অনেকে বুকে ব্যথা অনুভব করেন। এই সময় শ্বাসকষ্ট, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। তবে এই সমস্যা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না।

হার্টের সমস্যা এবং গুরুতর লক্ষণঃ
বুকে ব্যথা কখনো কখনো হার্টের সমস্যা বা জটিলতার লক্ষণ হতে পারে। যদি রক্তের প্রবাহ কমে যায়, তবে বুকে চাপ অনুভূত হয়। শারীরিক পরিশ্রম বা মানসিক চাপের কারণে রক্তের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যার ফলে হৃদপিণ্ড সংকুচিত হয়ে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের আগেও তীব্র বুকে ব্যথা অনুভূত হতে পারে, যা বুক ছাড়াও হাতে, পিঠে বা ঘাড়ে ছড়িয়ে যেতে পারে।

বুকে ব্যথা অনুভব হলে তা অবশ্যই গুরুত্বসহকারে নেয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। যদিও সবসময় এটি হার্টের সমস্যা নয়, তবে যেকোনো ক্ষেত্রে একে উপেক্ষা করা উচিত নয়।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চোখে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া: সাধারণ কারণ ও প্রতিকার

চোখ মানবদেহের সবচেয়ে সংবেদনশীল অঙ্গগুলোর একটি এবং সঠিকভাবে যত্ন নেয়া অত্যন্ত জরুরি। মাঝে মাঝে আমরা চোখে ব্যথা বা জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা অনুভব করি, যা সাধারণ হলেও উপেক্ষা করা উচিত নয়। চোখে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া হওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।

চোখের সংক্রমণ
চোখের ব্যথা ও জ্বালাপোড়ার অন্যতম কারণ হলো চোখের সংক্রমণ, যেমন কনজাংটিভাইটিস বা ইউভাইটিস। কনজাংটিভাইটিসের ফলে চোখে লালভাব, ফোলাভাব এবং পানি পড়া হতে পারে। ইউভাইটিস চোখের ভিতরের অংশে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যার কারণে চোখে ব্যথা এবং আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা দেখা দেয়। এসব সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত।

ড্রাই আই (শুষ্ক চোখ)
চোখে আর্দ্রতার অভাব, বা ড্রাই আই একটি সাধারণ সমস্যা। এই অবস্থায় অশ্রু উৎপাদন কম হয় অথবা খুব দ্রুত শুকিয়ে যায়, ফলে চোখে ব্যথা ও জ্বালা হয়। একে এয়ার কন্ডিশনার, হিটিং সিস্টেম বা ডিজিটাল ডিভাইসের দীর্ঘ ব্যবহারও বাড়িয়ে দেয়। ড্রাই আইয়ের চিকিৎসা সাধারণত কৃত্রিম অশ্রু ব্যবহার করে করা হয়, যা চোখকে আর্দ্র রাখে এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

চোখের অ্যালার্জি
ধুলাবালি, পরাগরেণু বা অন্যান্য অ্যালার্জেনের কারণে চোখে জ্বালা, ব্যথা ও চুলকানি হতে পারে। অ্যালার্জির কারণে চোখ লাল ও ফুলে যায়। অ্যালার্জির কারণে যদি আপনার চোখের সমস্যা হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

ডিজিটাল আই স্ট্রেন
কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, বা ট্যাবলেট ব্যবহারের অতিরিক্ত সময় চোখে শুষ্কতা ও জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। একে ডিজিটাল আই স্ট্রেন বলা হয়। এর প্রতিকার হিসেবে প্রতি ২০ মিনিট পর পর ২০ ফুট দূরের কিছুতে ২০ সেকেন্ডের জন্য তাকানো উচিত। এছাড়া স্ক্রিনের আলো কমানো, চোখ আর্দ্র রাখতে নিয়মিত পলক ফেলা এবং ব্লু লাইট চশমা ব্যবহার করাও উপকারী।

গুরুতর সমস্যার সতর্কতা
চোখের ব্যথা বা জ্বালাপোড়া সর্বদা ছোটখাটো সমস্যা নয়। কখনও কখনও এটি গ্লুকোমা বা রেটিনাল ডিস্ট্রফির মতো গুরুতর সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। তাই যদি হঠাৎ তীব্র ব্যথা, ঝাপসা দৃষ্টি বা দৃষ্টিশক্তিতে কোনো পরিবর্তন অনুভব করেন, তবে দ্রুত একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




টয়লেটে ফোন ব্যবহার: বিপদে ফেলতে পারে স্বাস্থ্যের নানা সমস্যা

আজকাল অনেকেই টয়লেটে বসে ফোন ব্যবহার করেন, তবে এটি একান্তই বিপজ্জনক অভ্যাস হতে পারে। টয়লেটের কাজ যত দ্রুত সেরে ফেলার কথা, তার চেয়ে অনেক বেশি সময় ফোন হাতে কাটিয়ে দেওয়ার ফলে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। আসুন জানি কেন টয়লেটে ফোন ব্যবহার করা স্বাস্থ্যসম্মত নয়।

ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের সংক্রমণ বৃদ্ধি
টয়লেটের আর্দ্র পরিবেশে নানা ধরনের জীবাণু, যেমন সালমোনেলা, অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক বংশবিস্তার করে। যখন আপনি ফোন নিয়ে টয়লেটে ঢোকেন, তখন এই জীবাণুগুলি ফোনেও স্থান পায়। ফোন ব্যবহারের মাধ্যমে এই জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে নানা ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

ঘাড় ও শিরদাঁড়ার ক্ষতি
টয়লেটে ফোন নিয়ে বসে থাকার কারণে অনেক সময় মনোযোগ ফোনের দিকে চলে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে ঘাড় ঝুঁকিয়ে ফোনে তাকিয়ে থাকা ঘাড় এবং শিরদাঁড়ার উপর চাপ সৃষ্টি করে, যা শরীরের এই অংশের ক্ষতি করতে পারে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদী যন্ত্রণা ও অস্বস্তি অনুভব হতে পারে।

পেটের সমস্যা: ডায়রিয়া ও বমি
টয়লেটে ফোন নিয়ে বসা শরীরের স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে পেটের বিভিন্ন সমস্যা যেমন ডায়রিয়া, বমি, এবং পেট খারাপের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফোনে মনোযোগ দেওয়ার ফলে পেটের সঠিক সংকেত উপেক্ষিত হয়, যা এসব সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

এ কারণে, টয়লেটে ফোন ব্যবহার এড়ানো উচিত এবং যথাসম্ভব সঠিক সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করা উচিত। এটা আপনার স্বাস্থ্যকে সুস্থ রাখবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ বসতঘর পুড়ে গেছে

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৬টি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে এবং আরও ২টি বসতঘর আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনাটি ঘটে গতকাল (২৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বগা ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায়। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে তাহার কাজী, সবুজ কাজী, রেজাউল কাজী, দুলাল কাজী, সোহেল কাজী, জসিম খান, রফিক খান ও ফজলুল খান রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডটি প্রথমে আতহার কাজীর বসতঘর থেকে শুরু হয়। দ্রুতই আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘরের লোকজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনের তীব্রতা বেড়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তবে, আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে একে একে ৬টি বসতঘর পুড়ে যায়, পাশাপাশি ২টি বসতঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, বাউফল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও দীর্ঘ সময় কেউ কল রিসিভ করেননি। এক ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

বাউফল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ওয়ার হাউজ ইন্সপেক্টর মো. সাব্বির আহম্মেদ জানান, এটি একটি চুলার আগুন থেকে শুরু হয়েছিল এবং নদীতীরবর্তী এলাকায় হওয়ায় পানি সরবরাহ ভালো থাকায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

তিনি আরও বলেন, “ভুক্তভোগীরা প্রথমে জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করেছিল, তবে সংযোগে বিলম্ব হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে আমাদের কোনো বিলম্ব হয়নি। নদীপথে ফেরি করে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম