গলাচিপায় পাটখড়ির গুদামে অগ্নিকাণ্ড

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের আটখালী বাজার সংলগ্ন একটি পাটখড়ির গুদামে শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যার ফলে পাটখড়ি ব্যবসায়ী কুদ্দুস হাওলাদারের প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। গলাচিপা ও দশমিনা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা কাজ করে।

ঘটনার পর গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ফায়ার সার্ভিসের সাথে একযোগে কাজ করছেন গলাচিপা থানা পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দারা ও গ্রাম পুলিশ।

জানা গেছে, আটখালী গ্রামের পাটখড়ি ব্যবসায়ী কুদ্দুস হাওলাদার (৪৫) দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। তার গুদামের সঙ্গে বসবাসের ঘরও ছিল। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার স্ত্রী খাদিজা বেগম (৩৫) ও ছেলে নাহিদ ইসলাম (৭) ঘরে অবস্থান করছিলেন। প্রতিবেশী সুরাইয়া বেগম (২৫) গুদামে আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তার ডাক শুনে কুদ্দুস হাওলাদারের বাবা সেলিম হাওলাদার (৫০) ছুটে এসে গুদামে আগুন দেখতে পান এবং পরবর্তীতে গেইটের তালা ভেঙে পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করেন। তবে ততক্ষণে আগুন পুরো গুদামে ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিসের সাব-স্টেশন অফিসার কামরুল ইসলাম জাকির জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। আগুন নিভানোর কাজে স্থানীয়রা সহায়তা করেছে।

ব্যবসায়ী কুদ্দুস হাওলাদার জানান, তিনি সকালে পাটখড়ি বিক্রি করে গেইট তালা মেরে ভাত খাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে পাটখড়ি পোড়ার শব্দ শুনে চিৎকার করেন এবং তার প্রতিবেশী সেলিম হাওলাদার শাবল দিয়ে তালা ভেঙে তাকে, তার স্ত্রী ও ছেলেকে উদ্ধার করেন। তবে আগুনের তীব্রতায় পুরো গুদামঘরে ছড়িয়ে পড়ে।

কুদ্দুস হাওলাদার বলেন, আগুনে ৪৮ লক্ষ টাকার ৮ বোর্ড পাটখড়ি ও ঘরের আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। তার ধারণা, বিদ্যুৎ লাইন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় জনতা সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর দশমিনায় ট্রলির চাপায় নারীসহ দুই নিহত, আহত তিন

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ট্রলির চাপায় দুই জন নিহত হয়েছেন এবং তিন জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার দুপুরে উপজেলার দশমিনা-রনগোপালদী সড়কের কাপুরিয়াকাচারি নামক স্থানে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত তানজিলা (২৮) উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আরোজবেগী গ্রামের বাসিন্দা জিয়া প্যাদার স্ত্রী। একই দুর্ঘটনায় ট্রলির চালক রাকিব খান (২০)ও নিহত হন। রাকিব দশমিনা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মান্নান খানের ছেলে।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলিম জানায়, দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে তানজিলার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। অন্যদিকে, ট্রলির চালক রাকিবকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান। রাকিবের মরদেহ থানায় আনা হচ্ছে এবং পরবর্তী কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তানজিলা (২৮) তার দুই ছেলে আবদুল্লাহ (৪) ও আবু বকর (২)-কে চিকিৎসা শেষে রিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন। কাপুরিয়াকাচারি এলাকায় ট্রলির সামনের চাকা পাংচার হয়ে রিকশাটিকে ধাক্কা দেয় এবং সেটি পাশের কুয়ায় পড়ে যায়। এতে রিকশায় থাকা তানজিলা ট্রলির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে আবদুল্লাহর বাঁ হাত ভেঙে যায় এবং আবু বকরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। রিকশাচালকের বাঁ পা ভেঙে যায়। আহত আবদুল্লাহ, আবু বকর ও রিকশাচালককে দ্রুত দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ট্রলির চালক রাকিবকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে, পথিমধ্যে বাউফল উপজেলার বগা এলাকায় তিনি মারা যান।

প্রত্যক্ষদর্শী টিটু প্যাদা বলেন, “এই ধরনের দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আসছে না। ট্রলির লাইসেন্স নেই এবং চালকের লাইসেন্সও নেই। ট্রলিগুলি যখন রাস্তায় চলে, তখন মনে হয় রাস্তাটি তাদের নিজস্ব জায়গা। দশমিনায় অনেক মানুষ ট্রলির চাপায় মারা গেছে এবং আহত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের কাছে এই ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান দাবি করছি।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাউফলে পাঠাগারের পরিত্যক্ত ভবনে অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতি পাঁচ লাখ টাকা

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় পরিত্যক্ত পাঠাগারের ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় কয়েকজন ভাসমান ব্যবসায়ীর প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।

বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে পৌর শহরের পাবলিক মাঠ সংলগ্ন ভবনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার নতুন ভবনে নতুন নামে পাঠাগারটির উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল, তবে এই অগ্নিকাণ্ডের কারণে তা স্থগিত করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, পৌরসভার পাবলিক মাঠের পূর্ব পাশে অবস্থিত বাউফল সাধারণ পাঠাগারের পরিত্যক্ত ভবনটি প্রায় দেড় যুগ ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। স্থানীয় কয়েকজন ভাসমান ব্যবসায়ী সেখানে রাতে মালামাল সংরক্ষণ করতেন। ভবনটিতে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ না থাকায় সন্দেহ করা হচ্ছে, মাদকসেবীদের ফেলে দেওয়া আগুন থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে।

এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ ওঠে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বাউফল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর (সংযুক্ত) মো. সাব্বির আহম্মেদ বলেন, “খবর পাওয়ার পর আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং পানি বাহী গাড়ি সেট করি। তবে খাল থেকে পাম্প সেট করতে কিছুটা সময় লেগেছে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “পরিত্যক্ত ভবনটি বখাটেদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছিল। এখানে প্রায়ই মাদকসেবীদের আনাগোনা দেখা যেত। ধারণা করা হচ্ছে, তারা ধূমপানের পর অবশিষ্টাংশ ফেলে যাওয়ার কারণেই আগুন লেগেছে।”

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্রতিদিনের যে ৫ অভ্যাস আপনার লিভারের ক্ষতি করছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : লিভার আমাদের শরীরের সবচেয়ে পরিশ্রমী অঙ্গের মধ্যে একটি। এটি বিষাক্ত পদার্থ ফিল্টার করে, খাবার হজমে সাহায্য করে এবং বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে। লিভারের রোগ প্রতি বছর দুই মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু ঘটায়, যা সমস্ত মৃত্যুর ৪% (বিশ্বব্যাপী প্রতি ২৫ জনের মধ্যে ১ জন)। নিজেকে নিরাময় করার অসাধারণ ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও, ক্ষতিকারক অভ্যাসের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ ধীরে ধীরে এই অঙ্গকে দুর্বল করে দিতে পারে। আমাদের অনেকে অজান্তেই দৈনন্দিন কার্যকলাপের মাধ্যমে লিভারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, প্রতিদিনের কোন কাজগুলো লিভারের জন্য ক্ষতিকর-

১. অত্যধিক প্রক্রিয়াজাত চিনি খাওয়া

অতিরিক্ত চিনি কেবল আপনার দাঁতের ক্ষতি বা ওজন বৃদ্ধি করে না- এটি লিভারের ওপর ভারী বোঝাও ফেলে। যখন খুব বেশি পরিশোধিত চিনি (বিশেষ করে ফ্রুক্টোজ) গ্রহণ করবেন, তখন লিভার সেটিকে চর্বিতে রূপান্তরিত করবে। এভাবে ধীরে ধীরে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে।
২. অতিরিক্ত ব্যথানাশক ব্যবহার

আমরা প্রায়ই মাথাব্যথা, পেশী ব্যথা বা জ্বরের জন্য দুইবার চিন্তা না করে ব্যথানাশক গ্রহণ করি। অ্যাসিটামিনোফেন (প্যারাসিটামল) এর নিয়মিত বা অতিরিক্ত ব্যবহার লিভারের জন্য বিষাক্ত হতে পারে। এমনকী সামান্য মাত্রাও লিভারের গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। তাইডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ খাওয়া এড়িয়ে চলুন। যদি ব্যথা উপশমের প্রয়োজন হয়, তাহলে আদা বা হলুদের মতো প্রাকৃতিক বিকল্প বেছে নিন।

৩. কম পানি পান করা

ডিহাইড্রেশনের ফলে লিভারের পক্ষে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শরীরে বিষাক্ত পদার্থ জমা হয়, যা লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস করুন। লেবু পানির মতো ভেষজ চা এবং ডিটক্স পানীয়ও লিভারের কার্যকারিতায় সহায়তা করতে পারে।

৪. অনেক বেশি প্রক্রিয়াজাত এবং ভাজা খাবার খাওয়া

জাঙ্ক ফুড, ডিপ ফ্রাই এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারে ট্রান্স ফ্যাট এবং প্রিজারভেটিভ বেশি থাকে, যা লিভারের ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেয়। এই অস্বাস্থ্যকর চর্বি জমা হয় এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা ফ্যাটি লিভার রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। রান্না বা খাবার তৈরিতে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ব্যবহার করুন। ফাস্ট ফুড গ্রহণ সীমিত করুন এবং পুষ্টিকর খাবারের দিকে মনোযোগ দিন।
এই অস্বাস্থ্যকর চর্বি জমা হয় এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা ফ্যাটি লিভার রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। রান্না বা খাবার তৈরিতে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ব্যবহার করুন। ফাস্ট ফুড গ্রহণ সীমিত করুন এবং পুষ্টিকর খাবারের দিকে মনোযোগ দিন।

৫. খাবার এড়িয়ে যাওয়া

খাবার এড়িয়ে যাওয়ার অভ্যাস বিপাককে ধীর করে দিতে পারে এবং লিভারে চর্বি জমার কারণ হতে পারে। প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবে ধীরে ধীরে লিভারের কার্যকারিতাও দুর্বল হয়ে যায়। সারাদিন অল্প অল্প করে সুষম খাবার খান। প্রোটিন, ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি সমৃদ্ধ খাবার লিভারের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।




পটুয়াখালীতে ইটবোঝাই ট্রলির চাপায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া

পটুয়াখালীর সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নে ইটবোঝাই ট্রলির চাপায় মো. বাপ্পী হোসেন (১৬) নামের এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে ফকির বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বাপ্পী শারিকখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ইটবাড়িয়া গ্রামের মো. শাহাদাত হোসেনের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, সোমবার বিকেলে খালার বিয়ের জন্য চুল কাটতে সেলুনে গিয়েছিলেন বাপ্পী। ফেরার পথে বাড়ির সামনের সড়কে পৌঁছালে মুজাহিদ মিয়ার ইটভাটা থেকে আসা ইটবোঝাই ট্রলিটি তাকে চাপা দেয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।

স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রলিচালক মো. ইলিয়াস ও তার সহকারী হেলপার ট্রলিটি ফেলে পালিয়ে যান। ট্রলিটি একই এলাকার বাসিন্দা ইলিয়াস চালাচ্ছিলেন।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। সদর থানার এসআই মো. রাসেল বলেন, “ট্রলিটি রাস্তার পাশে পড়ে আছে, তবে চালক ও হেলপার পলাতক। নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অকাল এই মৃত্যুতে বাপ্পীর পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি পেতে সহজ ডায়েট টিপস

আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষই অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগে থাকেন। খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রায় কিছু ছোট পরিবর্তন আনলেই এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। ওষুধের উপর নির্ভরশীল না হয়ে কিছু সহজ কৌশল মেনে চললেই অ্যাসিডিটি থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। আসুন জেনে নিই অ্যাসিডিটি প্রতিরোধে কার্যকরী কিছু ডায়েট টিপস—

১. অল্প পরিমাণে বারবার খান

একবারে বেশি খাওয়ার বদলে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে খান। এই অভ্যাস হজমশক্তি উন্নত করে এবং অ্যাসিডিটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। ছোট প্লেট ও বাটি ব্যবহার করলে খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয় এবং এটি ওজনও নিয়ন্ত্রণে রাখে।

২. আদা চা পান করুন

সকালের কফির পরিবর্তে আদা চা বা ভেষজ চা পান করুন। আদা হজমে সহায়ক এবং পেট ফাঁপা, গ্যাস ও বদহজম দূর করতে সাহায্য করে। খাবারের পর এক কাপ আদা চা পান করলে হজম শক্তি আরও উন্নত হয়।

৩. স্বাস্থ্যকর ফ্যাট গ্রহণ করুন

ভাজা ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে বাদাম ও বীজ খান। কাজু, তিসির বীজ এবং আখরোটের মতো স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার অ্যাসিডিটি কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সামান্য পরিমাণ গ্রহণ করলে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়।

৪. সাইট্রিকবিহীন ফল খান

কমলা ও আঙুরের মতো সাইট্রাস ফল বেশি অ্যাসিডিক হওয়ায় এগুলো এড়িয়ে চলুন। এর পরিবর্তে কলা, আপেল ও তরমুজ খান, যেগুলো ফাইবার সমৃদ্ধ এবং হজমে সহায়ক।

৫. উদ্ভিদ-ভিত্তিক দুধ ব্যবহার করুন

গরুর দুধে থাকা কেসিন হজম করা কঠিন হতে পারে এবং অ্যাসিডিটি বাড়াতে পারে। তাই দুধের বিকল্প হিসেবে বাদাম দুধ বা নারিকেল দুধ বেছে নিতে পারেন। এটি চা ও কফির জন্যও ভালো বিকল্প হতে পারে।

এই সহজ টিপসগুলো মেনে চললে অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব এবং দৈনন্দিন জীবনে আরামদায়ক অনুভূতি বজায় থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে ডায়াবেটিস চিহ্নিতকরণ সভায় আলোচনার ঝড়

পটুয়াখালী ডায়াবেটিক হাসপাতালে তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে ডায়াবেটিস চিহ্নিতকরণ সভার আয়োজন করেছে ডায়াবেটিক সমিতি। এতে জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিনের সঙ্গে স্থানীয় নাগরিকেরা অংশ নেন।

জেলা প্রশাসক ও ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন সভাপতিত্ব করেন। তার বাঁ পাশে মঞ্চে বসেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন এস এম কবির হাসান, জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক পৌর মেয়র মোশতাক আহমেদ পিনু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়া ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. শফিকুর রহমান চাঁন।

অনুষ্ঠানের মঞ্চে আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুর রহমান চাঁনের উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই তার অনুষ্ঠানে থাকার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তবে ডায়াবেটিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শফিকুর রহমান চাঁন সমিতির আজীবন সদস্য হিসেবে দাওয়াত পেয়েছেন।

ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর শিকদার বলেন, “অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র সমিতির আজীবন সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর বাইরে কেউ উপস্থিত ছিলেন না। এখানে কোনো প্রধান অতিথি বা বিশেষ অতিথির আসন রাখা হয়নি। জেলা প্রশাসক সভাপতি হিসেবে সভা পরিচালনা করেছেন।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই ২৫টি ঘর

পটুয়াখালী শহরের চরপাড়ার স্বনির্ভর সড়কের পাশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে অন্তত ২৫টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকাংশই খেটে খাওয়া মানুষ বলে জানা গেছে।

আজ, মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, দুপুর দেড়টার দিকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়, এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এই উদ্ধার অভিযানে পুলিশ ও সেনাবাহিনীও অংশ নেয়।

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে আগুনের সঠিক উৎস এখনও নিশ্চিত করা যায়নি, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করার কাজ চলছে। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোঃ আরেফীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান ও পুনর্বাসনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্কিত স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কিছুই বাঁচাতে পারেননি তারা। ক্ষতিগ্রস্ত মোতাহার হোসেন বলেন, “দুপুর দেড়টার দিকে আগুন লাগতে দেখার পর এলাকা জুড়ে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়, আর কিছুই বাঁচানো সম্ভব হয়নি।” অন্য ক্ষতিগ্রস্ত শ্যামল কর্মকারও জানান, “আগুনের কারণে তার ভাইয়ের দোকানও পুড়ে গেছে, সব কিছু শেষ হয়ে গেছে।” কিছু নারী এই বিভীষিকার শিকার হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. মোহসিন জানান, তাদের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। তবে এক ফায়ারম্যান আহত হয়েছেন।

এদিকে, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোঃ আরেফীন বলেন, “এই ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ২০-২২টি পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত কিছু নগদ অর্থ, খাদ্য সহায়তা ও শীতবস্ত্র পেয়েছে, এবং সরকারী সহায়তা নিয়ে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।” তিনি জানান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকারকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা পরে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে।

মো:  আল আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পানি পান করার সহজ উপায়, যা আপনার সুস্থতা নিশ্চিত করবে!

ব্যস্ত জীবনে অনেক সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আমাদের দৈনন্দিন স্বাস্থ্যের জন্য পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু শরীরকে সুস্থ রাখে না, শক্তি ও উদ্যমও বৃদ্ধি করে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। তবে যদি আপনি পানির পরিমাণ ঠিকমতো মনে রাখতে না পারেন, তবে কিছু সহজ কৌশল অনুসরণ করে আপনি আপনার হাইড্রেশন বজায় রাখতে পারেন। চলুন, জেনে নিন কিছু উপায় যা আপনাকে পর্যাপ্ত পানি পান করতে সহায়তা করবে।

প্রথমেই পানি পান করুন:
প্রতিদিন সকালে, কফি খাওয়ার আগে এক গ্লাস পানি পান করুন। এটা দিনের শুরুটা একটি হাইড্রেটেড অবস্থায় তৈরি করতে সহায়তা করবে। যদি আপনি চাচ্ছেন আরও স্বাস্থ্যকর হোক, তাহলে একে লেবু দিয়ে পান করতে পারেন, যা হজমে সহায়তা করবে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সকাল সকাল পানি পান করেন তারা বেশি সক্রিয় এবং জাগ্রত থাকেন।

পানির বোতল সঙ্গে রাখুন:
সারাদিনের কাজকর্মের মাঝে পানি পান করার কথা ভুলে যেতে হয় অনেক সময়। এজন্য আপনার সঙ্গেই একটি পানির বোতল রাখুন। এটি আপনাকে মনে করিয়ে দেবে কখন পানি পান করতে হবে। একটি সহজ এবং কার্যকরী পদ্ধতি, যা আপনাকে দিনে বেশি পানি খেতে সহায়তা করবে।

পানির পরিমাণ বাড়ান:
আপনি প্রতিদিন কতটা পানি পান করতে চান সেটি লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করুন। পানির পরিমাণ ছোট ছোট চুমুক দিয়ে বণ্টন করুন এবং প্রতি ঘণ্টায় অ্যালার্ম বা ফোন অ্যাপের মাধ্যমে মনে করিয়ে দিন। এটি আপনাকে সহজেই লক্ষ্য পূরণ করতে সাহায্য করবে।

৩০ মিনিট আগে পানি পান করুন:
খাওয়ার আগে ৩০ মিনিট পানি পান করা হজমের জন্য খুবই উপকারী। এতে খাবারের পরিপাক প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং আপনি হাইড্রেটেড থাকতে পারবেন। খাওয়ার সময় পানি পান করলে পাকস্থলীর কাজ ব্যাহত হতে পারে, তাই খাওয়ার আগে পানি পান করা ভাল।

পানিযুক্ত খাবার খান:
অনেক খাবার রয়েছে যা স্বাভাবিকভাবেই পানি ধারণ করে। তরমুজ, শসা, টমেটো ইত্যাদি খাবারে প্রচুর পানি থাকে, যা আপনাকে হাইড্রেটেড রাখতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি, এসব খাবার শরীরের জন্য পুষ্টিকরও।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বদলে গেলো বিএসএমএমইউ’র নাম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) আগের নামের বদলে টানানো হয়েছে নতুন নামের ব্যানার। নতুন ব্যানারে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) নাম দেওয়া হয়েছে। শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে এই নামের ব্যানার দেখা যায়।
এর আগে, বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে বিএসএমএমইউর সি ব্লক ভবনে টানানো সাইনবোর্ড খুলে ফেলা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও বেশ কিছু স্থান থেকে খুলে ফেলে হয় বঙ্গবন্ধুর নাম সংবলিত সাইনবোর্ড।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বিএসএমএমইউয়ে কর্মরত চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন নামের এই ব্যানার টানিয়েছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়, নাম পরিবর্তন নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলমান। আগামী দুই থেকে তিন কর্ম দিবসের মধ্যে এ নিয়ে দাফতরিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলদার বলেন, ‘অনেকগুলো নাম আমাদের প্রস্তাবনায় রয়েছে। ছাত্রদের দেওয়া নামের সঙ্গে আমাদের দ্বিমত নেই। তবে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দ্রুত নতুন প্রজ্ঞাপন আসবে।’