গলাচিপায় ট্রলার ডুবিতে যুবকের মৃত্যু

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বুড়াগৌরাঙ্গ নদে ট্রলার ডুবির ১৮ ঘণ্টা পর জামাল (২৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত জামাল রতনদী-তালতলী ইউনিয়নের দক্ষিণ নিমহাওলা গ্রামের কালাম শরীফের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে একদল যুবক ফুটবল খেলতে পাশের উপজেলা দশমিনার পাতারচরে যান। খেলা শেষে ট্রলারে করে ফেরার পথে পাতাবুনিয়া গ্রামের কাছে নদীতে প্রবল ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা ২০-২৫ জন যাত্রীর মধ্যে সবাই সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও জামাল নিখোঁজ হন।

স্থানীয়রা প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করলেও রাতভর চেষ্টা করেও জামালের সন্ধান মেলেনি। বুধবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

রতনদী-তালতলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মাসুম জানান, ট্রলারটি অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছিল, যা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

গলাচিপা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হিরন শিকদার বলেন, “জামালের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গলাচিপায় সড়ক দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু

পটুয়াখালীর গলাচিপায় সড়ক দুর্ঘটনায় তামিম তালুকদার (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার দেওয়ানবাজার সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত তামিম তালুকদার কালিকাপুর মাটিভাঙ্গা এলাকার এনামুল তালুকদারের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, তামিম মোটরসাইকেলে করে দেওয়ানবাজার যাচ্ছিলেন। মোটরসাইকেলে আরও দু’জন আরোহী ছিলেন। দ্রুতগতির কারণে তারা সামনের টমটমটি দেখতে পেলেও গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি, ফলে সংঘর্ষ ঘটে।

দুর্ঘটনায় তিনজনই গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গলাচিপা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তামিমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গলাচিপা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হিরন শিকদার জানান, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালী গলাচিপায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, কোটি টাকার ক্ষতি

পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা পৌরসভার টল ঘরের মুদি দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৮ মার্চ) ভোররাত সাড়ে ৫টার দিকে আগুন লাগার পর তা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। এতে মুজাফফর খন্দকার ও রবি পালের মুদি দোকান এবং মনোহারি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে মুজাফফর খন্দকারের মালামাল বোঝাই গুদামও ভস্মীভূত হয়।

খবর পেয়ে গলাচিপা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে, আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত পানির কারণে শাহআলী প্যাদার মুদি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনটি দোকানের মালামাল নষ্ট হয়ে যায়।

মুজাফফর খন্দকারের ছেলে আতিকুর রহমান ও ভাগিনা মনির বলেন, “ভোররাতে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত দোকানে ছুটে আসি। এসে দেখি সব পুড়ে যাচ্ছে, কোনো মালামালই বের করতে পারিনি। ঈদ উপলক্ষে দোকান ও গুদামে প্রচুর মালামাল ছিল, এতে আমাদের প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

এসময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মুজাফফর খন্দকার ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম ঘটনাস্থলে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাদের গলাচিপা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে, একই রাতে উপজেলার চিকনিকান্দি ইউনিয়নের সুতাবাড়িয়া গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাসুদেব দাসের বাড়ি পুড়ে গেছে। রাত আনুমানিক ২টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে বসতঘরের আসবাবপত্র, পোশাক ও মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে যায়, যার ফলে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া একটি গাভীও আগুনে পুড়ে মারা গেছে।

গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন সাব অফিসার মো. কামাল হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলাচিপা পৌরসভার মুদি দোকানে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তদন্ত করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা হবে।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সুন্দরবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে জোয়ারই ভরসা




স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির জন্য প্রাকৃতিক উপায়

স্মৃতিশক্তি মানুষের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিনের কাজকর্ম থেকে শুরু করে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো স্মৃতির মধ্যে সংরক্ষিত থাকে। সাধারণত, বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্মৃতিশক্তি কিছুটা কমতে পারে, তবে অতিরিক্ত স্মৃতিভ্রম বা কম বয়সেই স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। বর্তমান যুগে আমরা প্রায়ই মাল্টিটাস্কিংয়ের শিকার হয়ে থাকি এবং বিভিন্ন বিষয় মনোযোগ দিয়ে মনে রাখতে হয়। তবে দুর্বল স্মৃতিশক্তি অনেকের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর জন্য কিছু প্রাকৃতিক পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে, যা বিশেষভাবে আপনার মস্তিষ্কের স্মৃতিধারণ ক্ষমতা উন্নত করতে সহায়ক।

নিয়মিত রুটিন অনুসরণ করুন:
প্রতিদিনের কাজের জন্য একটি পরিকল্পিত রুটিন তৈরি করুন। নিয়ম অনুযায়ী কাজ করলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্মরণ করা সহজ হয় এবং ভুলে যাওয়ার প্রবণতা কমে। ছোট নোটপ্যাডে কাজের তালিকা করে রাখতে পারেন, কারণ যেকোনো বিষয় লিখে রাখলে তা মনে রাখার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

ভালো ঘুম:
প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাতে ৬-৮ ঘণ্টার ঘুম স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। ঘুমানোর সময় আমাদের মস্তিষ্ক কিছুটা বিশ্রাম নেয় এবং ব্রেনের নিউরন কোষগুলো ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া শুরু করে। এতে তথ্য মনে রাখা এবং স্মরণ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

মানসিক চর্চা:
পাজল বা ধাঁধা সমাধান, নতুন কিছু শেখা বা পড়াশোনা করা, ইত্যাদি মস্তিষ্কের ব্যায়াম হিসেবে কাজ করে। এ ধরনের কাজ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং স্মৃতির ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

মানসিক চাপ কমানো:
মানসিক চাপ কমানোর জন্য বিভিন্ন প্রশান্তির পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত। যখন মস্তিষ্ক মানসিক চাপমুক্ত থাকে, তখন ক্ষতিকর হরমোনের নিঃসরণ কমে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

এখানে কিছু সহজ নিয়ম অনুসরণ করে আপনার স্মৃতিশক্তি শক্তিশালী করতে পারেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফুসফুসের ক্যানসারের আগাম সংকেত: অবহেলা নয়, সতর্ক হোন

ধূমপান, বায়ুদূষণসহ নানা কারণেই ফুসফুসে ক্যানসার বাসা বাঁধতে পারে। তবে অনেকেই একটানা কাশি বা শ্বাসকষ্টকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু জানেন কি? এসব লক্ষণ হতে পারে ফুসফুস ক্যানসারের প্রাথমিক সংকেত।

ফুসফুসের ক্যানসার দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, তাই আগেভাগে সতর্ক হওয়া জরুরি। যদিও ক্যানসারের লক্ষণ নির্ভর করে এটি শরীরের কোন অংশে ছড়াচ্ছে তার ওপর, তবে কিছু সাধারণ উপসর্গ রয়েছে যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

ফুসফুস ক্যানসারের ৫টি আগাম লক্ষণ

১. দীর্ঘস্থায়ী কাশি

সাধারণ ঠান্ডা বা সর্দি-কাশি কিছুদিন পর সেরে যায়। তবে যদি কোনো কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে কাশি থাকে এবং ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে, তবে এটি ফুসফুসের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

২. অতিরিক্ত ক্লান্তি

ফুসফুসের ক্যানসারের ক্ষেত্রে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়, ফলে ক্লান্তিভাব বেড়ে যায়। স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি দুর্বল বা ক্লান্ত অনুভব করলে এটি উপেক্ষা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

৩. শ্বাসকষ্ট

কোনো কারণ ছাড়াই যদি শ্বাস নিতে সমস্যা হয় বা আগের চেয়ে বেশি হাঁপিয়ে যান, তবে এটি হতে পারে ফুসফুস ক্যানসারের লক্ষণ। বিশেষ করে, শ্বাসপ্রশ্বাসে বাঁধা অনুভব করলে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত।

৪. গলার স্বরে পরিবর্তন ও গলাব্যথা

গলার স্বর ভেঙে যাওয়া, সবসময় গলাব্যথা থাকা বা স্বরের পরিবর্তন ফুসফুস ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে, দীর্ঘদিন ধরে গলা ভাঙা থাকলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

৫. বুক, পিঠ বা কাঁধে ব্যথা

দীর্ঘদিন ধরে বুক, পিঠ বা কাঁধের আশপাশে ব্যথা অনুভূত হলে এটি ফুসফুসের ক্যানসারের আগাম লক্ষণ হতে পারে। যদি ব্যথা নিয়মিত থাকে এবং তীব্র হয়, তবে দ্রুত পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

সতর্ক থাকুন, সুস্থ থাকুন

ফুসফুস ক্যানসার দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, তাই উপরের লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ধূমপান থেকে বিরত থাকা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এবং দূষণ এড়িয়ে চলা—এই অভ্যাসগুলো ফুসফুস ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আজ থেকে কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন বিসিএস চিকিৎসকরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : দুই দফা দাবিতে শনিবার থেকে কর্মবিরতি শুরু করতে যাচ্ছে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরাম। এদিন সকাল ১০টা থেকে টানা তিনদিন দুই ঘণ্টা করে চলবে এই কর্মসূচি।

শুক্রবার (৭ মার্চ) ফোরামের পক্ষে ডা. মোহাম্মদ আল আমিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি এক প্রেস কনফারেন্সে এই কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল সংগঠনটি।

বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরামের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালে কর্মরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ন্যায্য পদোন্নতি ও সব প্রকার বৈষম্য নিরসনের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। বিসিএস (স্বাস্থ্য) বিশেষজ্ঞ ফোরামের উদ্যোগে ও সব চিকিৎসা সোসাইটির সমর্থনে ৮, ৯ ও ১০ মার্চ প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালিত হবে।




পটুয়াখালীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ৫টি বসতঘর ও ২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই

পটুয়াখালী শহরের জুবিলী স্কুল সড়কে মনসা মন্দির সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি বসতঘর ও দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) ভোর পৌনে ৫টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা মুহূর্তের মধ্যেই ভয়াবহ রূপ নেয়।

এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে রয়েছেন জয়ন্তু রায় (৩০), নির্মল কর্মকার (৬০), রিপন কর্মকার (৪৬), ধিমান কর্মকার (৫১), বাবুল চন্দ্র শীল (৫০) ও বিকাশ চন্দ্র দাস (৪৫)। এছাড়াও, “নিকুঞ্জ সোনা ঘর” ও “শ্যামল আর্ট” নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। আগুনে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, মূল্যবান সামগ্রীসহ সবকিছু পুড়ে যায়, ফলে পরিবারগুলো চরম সংকটে পড়েছে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সদর থানা পুলিশ, আনসার ভিডিপি, রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিসের কমিউনিটি ভলান্টিয়ার এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও সহায়তা করেন। আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়, তবে ততক্ষণে ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুজন কুমার দাস বলেন, “এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড আগে দেখিনি। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনে সবকিছু পুড়ে গেছে। তবে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আসায় আরও বড় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।”

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাবুল চন্দ্র শীলের মেয়ে অর্পিতা রানী শীল বলেন, “আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। এই আগুন আমাদের স্বপ্ন, আশ্রয়—সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। এখন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবো, সেটাই বুঝতে পারছি না।”

পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তফা মোহসীন জানান, “এখনো আগুনের সূত্রপাত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্ত চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় প্রশাসন, মানবাধিকার সংস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন। তাদের পুনর্বাসনের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে সরকারি হাসপাতালেই বেশি যান মানুষ

এ বছর সরকারি হাসপাতালেই বেশি যাচ্ছেন বরিশালের মানুষ, তবে সেবার মান নিয়ে রয়েছে নানা সমস্যা

বরিশালের মানুষ সরকারি হাসপাতালকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন, একটি জরিপের ফলাফলে উঠে এসেছে এমন তথ্য। গত এক বছরে গড়ে ৬২ শতাংশ মানুষ সরকারি ও বেসরকারি উভয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে যাচ্ছে ৬২ শতাংশ মানুষ, এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৬১ শতাংশ মানুষ। তবে, ৩৯ শতাংশ জনগণ কখনোই বেসরকারি হাসপাতালে এবং ৩৮ শতাংশ মানুষ সরকারি হাসপাতালে যাননি। এই মানদণ্ডে, গ্রামের তুলনায় শহরের মানুষ বেশি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

বরিশালের গ্রামাঞ্চলের মানুষ সরকারি হাসপাতালেই বেশি চিকিৎসা নিচ্ছেন। গ্রামে সরকারি হাসপাতালে গিয়েছেন ৬৩ শতাংশ মানুষ, যেখানে শহরে এই হার ৫৯ শতাংশ। বয়সের হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন ১৮-২৯ বছর বয়সী মানুষ, এই বয়সী ৬৩ শতাংশ মানুষ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে ৩০-৪৯ বছরের ৬২ শতাংশ ও ৫০ বছরের বেশি বয়সী ৬২ শতাংশ মানুষ সরকারি হাসপাতালকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

এছাড়া, ২০২৫ সালের স্বাস্থ্য খাত সংস্কার বিষয়ে একটি জনমত জরিপ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৮,২৫৬টি পরিবারের ১৮ বছরের বেশি বয়সী সদস্যদের মতামত নেওয়া হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এই জরিপটি পরিচালনা করেছে। তবে জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসা পাচ্ছেন, কিন্তু সেবার মান তেমন সন্তোষজনক নয়। অন্যদিকে, বেসরকারি হাসপাতালে সেবার মান ভালো হলেও মূল্য বেশ বেশি, যা বেশিরভাগ মানুষকেই বাধাগ্রস্ত করছে।

বরিশালের মানুষের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৬৯ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন, যা দেশের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় সবচেয়ে বেশি। একইভাবে, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামেও সরকারি হাসপাতালের প্রতি আগ্রহের হার বেশি (৬৮% এবং ৬৭%)। ঢাকায় সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার হার সবচেয়ে কম, যা ৫৭ শতাংশ।

বরিশালের চট্টগ্রামের তুলনায় মানুষ বেশি বেসরকারি হাসপাতালে যায়। চট্টগ্রামে ৭৫% মানুষ বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পাশাপাশি, ঢাকায় ৬৬% ও বরিশালে ৬৬% মানুষ বেসরকারি হাসপাতালে গিয়েছেন।

দেশে সাত ধরনের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, যেখানে ৩৮% মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে, গ্রামে মানুষ প্রধানত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (৪২%) এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে (২৭%) চিকিৎসা নিচ্ছেন। শহরে বেশিরভাগ মানুষ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন, যার হার ৩৭%।

সার্বিকভাবে, সরকারি হাসপাতালগুলির সেবার গুণমান নিয়ে জনমনে এক ধরনের অসন্তোষ রয়েছে। তবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি হাসপাতালে সেবার মান উন্নত হলে, বেসরকারি হাসপাতালের চেয়ে সরকারি হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়বে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি হাসপাতালগুলিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সেবাদানকারীদের আচরণ এবং রোগীদের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার মাধ্যমে সেবার মান বাড়ানো সম্ভব।

জরিপের তথ্যানুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেওয়া ৮১% মানুষ কমপক্ষে একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের সেবা পেয়েছেন। গ্রামাঞ্চলে ৭৭% মানুষ এমবিবিএস চিকিৎসকের সেবা পেয়েছেন, তবে শহরে এই সংখ্যা ৮৯%। অন্যদিকে, ৪% মানুষ কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা দানকারী বা পল্লী চিকিৎসকের সেবা নিয়েছেন।

স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যার মোকাবিলা করতে হলে, হাসপাতালগুলির সেবার মান বৃদ্ধি করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং রোগীদের প্রতি ভালো আচরণ নিশ্চিত করা গেলে, সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বেশি আগ্রহী হবেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শিশুর প্রথম স্কুলজীবন: আনন্দময় শুরু নিশ্চিত করুন

নতুন বছরের এক মাস পেরিয়ে গেছে, এখন অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানের শিক্ষাজীবন নিয়ে চিন্তিত। বিশেষ করে যারা প্রথমবার সন্তানকে স্কুলে পাঠাচ্ছেন, তাদের জন্য এটি একদিকে আনন্দের, অন্যদিকে চ্যালেঞ্জেরও। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার সাম্প্রতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব এখন আরও বেশি।

শিশুর প্রথম স্কুলে যাওয়া তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি, বাবা-মায়েরও উচিত তাকে সঠিকভাবে প্রস্তুত করা। নতুন শিক্ষানীতি মুখস্থবিদ্যার চেয়ে বোধগম্যতা ও সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে, যা শিশুকে শেখার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।

শিশুকে স্কুলের জন্য প্রস্তুত করবেন যেভাবে

প্রথমত, শিশুর মধ্যে স্কুলের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করুন। তাকে বোঝান, স্কুল হলো আনন্দের জায়গা, যেখানে সে নতুন বন্ধু পাবে এবং অনেক কিছু শিখবে।

দ্বিতীয়ত, শিশুর দৈনন্দিন রুটিন গড়ে তুলুন। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো, খাবার খাওয়া এবং পড়াশোনার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

তৃতীয়ত, পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক করে তুলতে খেলাধুলার মাধ্যমে শেখানোর চেষ্টা করুন। বই পড়ার পাশাপাশি পাজল, শিক্ষামূলক গেম এবং চিত্রাঙ্কনের মতো কার্যক্রম শিশুর শেখার আগ্রহ বাড়াবে।

বিভিন্ন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে

জাপান: এখানে শিশুদের দায়িত্বশীলতা ও সামাজিক দক্ষতা গড়ে তুলতে স্কুলের কাজকর্মে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করা হয়। দলগত কাজ, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা শেখানোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ফিনল্যান্ড: পড়াশোনার চাপ কমিয়ে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের ওপর জোর দেওয়া হয়। শেখার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি খেলার মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া হয়।

সুইডেন: শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে শেখার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ বাড়িয়ে খেলাধুলা এবং অনুসন্ধানমূলক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জার্মানি: এখানে শিশুদের সৃজনশীলতা বাড়ানোর জন্য গল্প বলা, গান গাওয়া এবং হাতের কাজ শেখানো হয়। এটি তাদের আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীনতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

সন্তানের শিক্ষাজীবন আনন্দময় করুন

প্রাথমিক শিক্ষার সময়টুকু যেন শিশুর জন্য আনন্দদায়ক হয়, সে বিষয়ে বাবা-মায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন শিক্ষানীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিশুকে সঠিকভাবে গড়ে তুলুন। মনে রাখবেন, বাবা-মাই সন্তানের প্রথম শিক্ষক। সঠিক পদক্ষেপ নিলে আপনার শিশুর শিক্ষাজীবন হবে আরও সুন্দর ও গতিশীল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম