মির্জাগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

 

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতের শিকার হয়ে হালিম হাওলাদার (৬২) নামের এক কৃষকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির সময় উপজেলার দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের পূর্ব সুবিদখালী গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত হালিম হাওলাদার ওই গ্রামের মৃত সাদেম হাওলাদারের ছেলে। প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে হালিম হাওলাদার মাঠে গরুর জন্য ঘাস কাটতে বের হন। কিছু সময়ের মধ্যেই আকাশে মেঘ জমে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় মাঠে অবস্থানরত অবস্থাতেই বজ্রপাতের প্রবল আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তিনি প্রাণ হারান। চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়নি।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রাথমিক তদন্ত শেষে নিশ্চিত হয় বজ্রপাতেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, হালিম হাওলাদার একজন শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। নিয়মিত কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় এক ধরনের বিষণ্ণতা বিরাজ করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বজ্রপাতে প্রাণ হারানো পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা প্রদানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একইসাথে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই ভয়াবহতার মাঝে স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছেন, বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় অবস্থান না করে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে কৃষক, গবাদি পশুর রাখাল এবং খোলা মাঠে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য এ ধরনের সচেতনতা জীবন রক্ষা করতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গলাচিপায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই ১০টি দোকান, ক্ষতি ২০ লাখ টাকার বেশি

পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়া এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০টি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আজ শনিবার (১২ এপ্রিল) ভোররাত ৪টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে ছিল ফলের দোকান, মুদি, সেলুন, বাস কাউন্টার, স্টেশনারি, খাবার ও চায়ের দোকান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গলাচিপা সরকারি কলেজের পূর্ব পাশে কলেজ রোডসংলগ্ন দোকানগুলোতে প্রথমে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তারা ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী এবং পুলিশের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালান।

গলাচিপা ফায়ার সার্ভিসের সাব-স্টেশন অফিসার মো. কামাল হোসেন বলেন, “সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। প্রায় ৮০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা গেলেও আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. নাসিম রেজা। তিনি বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে দ্রুতই সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মো: আল-আমিন।

 




সড়ক সংস্কারের দাবিতে নলছিটিতে খোজাখালি-পোলেরহাট সড়ক অবরোধ

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়া খোজাখালি-পোলেরহাট সড়ক অবশেষে জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সড়কটির সংস্কারের দাবিতে স্থানীয় ভ্যান, ইজিবাইক চালক ও এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

প্রায় ১,৬৫০ মিটার দীর্ঘ এই সড়কটির সিসি নির্মাণের জন্য ২০২০ সালে নলছিটি পৌরসভার পক্ষ থেকে ‘গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-০২’ এর আওতায় ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুগন্ধা এন্টারপ্রাইজ কেবল মাত্র ৩০০ মিটার রাস্তার কাজ সম্পন্ন করে বাকি কাজ ফেলে রাখে। এরপর গত পাঁচ বছরেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পের অধিকাংশ বিল উঠিয়ে নিলেও কাজ সম্পন্ন করেনি। সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা, আহত হচ্ছেন পথচারী ও যাত্রীরা।

নলছিটি পৌরসভা থেকে সহকারী প্রকৌশলী মিজানুজ্জামানের স্বাক্ষরে দুই দফা চিঠি পাঠানো হলেও তাতেও কাজ শুরু হয়নি। পূর্বে একাধিকবার মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেও কোনো সাড়া না পেয়ে অবশেষে সড়ক অবরোধের পথ বেছে নেন স্থানীয়রা।

প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা অবরোধে সড়কের দুই পাশে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট, যার দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় এক কিলোমিটার। পরে আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এলাকাবাসী দ্রুত সড়ক সংস্কার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ডেঙ্গু প্রকোপ বাড়ছে, আরও আক্রান্ত ২৯




পেটে ব্যথা হতে পারে ক্যানসারের লক্ষণ! জানুন সতর্কতার উপায়

পেটে ব্যথা হলে বেশিরভাগ মানুষই একে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বলে ধরে নেন। এজন্য স্বাভাবিকভাবেই গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেন। তবে জানেন কি? প্রায়ই পেটে ব্যথা হওয়া মারাত্মক রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে! বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার: নীরব ঘাতক

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার তুলনামূলকভাবে দেরিতে ধরা পড়ে। সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ে এটি শনাক্ত করা কঠিন, ফলে যখন ধরা পড়ে, তখন শরীরে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (NHS) তথ্য অনুযায়ী, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের অন্যতম কারণ।

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের লক্ষণ

১. তীব্র পেটে ব্যথা

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগী প্রথমে তীব্র পেটে ব্যথার অভিযোগ করেন। খাবার খাওয়ার পর বা শুয়ে থাকার সময় ব্যথা বাড়তে পারে এবং এটি ধীরে ধীরে পিঠ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

২. ঘন ঘন জন্ডিস

বারবার জন্ডিস হওয়া বা চোখ-মুখ হলুদ হয়ে যাওয়া অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের অন্যতম লক্ষণ।

৩. বদহজম ও খাওয়ার অরুচি

প্রতিনিয়ত বদহজম হওয়া, খাওয়ার প্রতি অনীহা, বমি বমি ভাব—এসব উপসর্গ অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে।

৪. মলের রঙ পরিবর্তন

মলের রঙ স্বাভাবিকের তুলনায় হালকা বা অতিরিক্ত গাঢ় হয়ে গেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে ওজন কমতে থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কী করবেন?

প্রাথমিক পর্যায়ে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার ধরা পড়লে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই উপরের লক্ষণগুলোর যে কোনোটি থাকলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




লিভার সুস্থ রাখতে এই ৫টি ফল খান!

ব্যস্ত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কারণে লিভারের সমস্যা বাড়ছে। লিভারের কার্যকারিতা ঠিক রাখতে আমাদের প্রচুর পানি পান করা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার প্রয়োজন। ফ্লোরিডার গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডঃ জোসেফ সালহাব লিভারের সুস্থতায় বিশেষ কিছু ফলের কথা বলেছেন। আসুন, জেনে নিই লিভার হাইড্রেট ও সুস্থ রাখতে ৫টি উপকারী ফল—

১. ডালিম

টক-মিষ্টি স্বাদের ডালিম অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহ-বিরোধী উপাদানে ভরপুর। এতে থাকা পুনিক্যালাজিন ও এলাজিক অ্যাসিড লিভারের রক্ত ​​সঞ্চালন বাড়িয়ে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহে সাহায্য করে। এটি লিভারের কার্যকারিতা বাড়াতে ও বিষাক্ত পদার্থ অপসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২. বেরি জাতীয় ফল

ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি ও রাস্পবেরির মতো বেরি জাতীয় ফল লিভারের জন্য দারুণ উপকারী। এগুলোতে থাকা প্রোঅ্যান্থোসায়ানিডিন রক্তনালীকে শিথিল করতে ও রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করতে সহায়তা করে, যা লিভারকে কার্যকরভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।

৩. আঙুর

আঙুর ফ্ল্যাভোনয়েড সমৃদ্ধ, যা লিভারের রক্ত ​​সঞ্চালন বাড়ায় ও ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়া উন্নত করে। এটি লিভারের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে, ফলে লিভার আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে।

৪. তরমুজ

রসালো ও পানিতে ভরপুর তরমুজ লিভারকে প্রাকৃতিকভাবে হাইড্রেটেড রাখে। এতে থাকা নাইট্রিক অক্সাইড রক্তনালীকে শিথিল করে ও রক্ত ​​সঞ্চালন বাড়ায়, যা লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করে।

৫. বিট

বিটে প্রচুর নাইট্রেট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা রক্ত ​​প্রবাহ উন্নত করে, লিভারকে ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে এবং প্রদাহ কমায়। এটি লিভারের কোষকে রক্ষা করে ও সুস্থতা বজায় রাখে।

 

লিভার সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন ও এই পাঁচটি ফল নিয়মিত খান। এগুলো লিভার হাইড্রেটেড রাখবে, রক্ত সঞ্চালন বাড়াবে ও লিভারের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ডিমের চেয়ে বেশি প্রোটিন যেসব শাক-সবজিতে

প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস হিসেবে ডিম বেশ জনপ্রিয়। তবে কিছু শাক-সবজি প্রোটিনের দিক থেকে ডিমকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এগুলো শুধু প্রোটিন সমৃদ্ধই নয়, বরং ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের দিক থেকেও স্বাস্থ্যকর। আসুন জেনে নিই এমন কিছু শাক-সবজি, যেগুলোতে ডিমের চেয়েও বেশি প্রোটিন রয়েছে।

১. পালং শাক

পুষ্টিগুণে ভরপুর পালং শাক প্রোটিনের চমৎকার উৎস। প্রতি ১০০ গ্রাম পালং শাকে ২.৯ গ্রাম প্রোটিন থাকে, আর রান্না করা অবস্থায় এক কাপ পালং শাকে থাকে প্রায় ৫.৪ গ্রাম প্রোটিন। এটি আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন এ, সি ও কে-সমৃদ্ধ, যা হাড়ের স্বাস্থ্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

২. সজনে ডাটা

সজনে ডাটায় প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে। প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৯ গ্রাম প্রোটিন থাকে, যা অনেক উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিনের তুলনায় বেশি। এটি আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টেও সমৃদ্ধ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

৩. ব্রোকলি

ব্রোকলির পুষ্টিগুণ অসাধারণ! প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ২.৮ গ্রাম প্রোটিন থাকে, আর এক কাপ রান্না করা ব্রোকলিতে থাকে ৫.৭ গ্রাম প্রোটিন, যা একটি ডিমের চেয়েও বেশি। এটি হৃদরোগ প্রতিরোধ, হজমশক্তি বৃদ্ধি এবং প্রদাহ কমাতে সহায়ক।

৪. মাশরুম

মাশরুমেও উচ্চমাত্রার প্রোটিন রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা মাশরুমে প্রায় ৩.১ গ্রাম প্রোটিন থাকে, তবে রান্নার পর এই ঘনত্ব আরও বেড়ে যায়। এক কাপ রান্না করা মাশরুমে প্রায় ৫-৭ গ্রাম প্রোটিন থাকতে পারে। এটি বি ভিটামিন, সেলেনিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সমৃদ্ধ উৎস, যা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

৫. মটরশুঁটি

প্রতি ১০০ গ্রামে মটরশুঁটিতে প্রায় ৫ গ্রাম প্রোটিন থাকে, আর এক কাপ রান্না করা মটরশুঁটিতে থাকে প্রায় ৮ গ্রাম প্রোটিন, যা ডিমের তুলনায় বেশি। এটি ফাইবার, ভিটামিন কে এবং ফোলেটের সমৃদ্ধ উৎস, যা হজম, হৃদরোগের স্বাস্থ্য এবং রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

এই শাক-সবজিগুলো ডায়েটে রাখলে প্রোটিনের ঘাটতি দূর হবে এবং শরীর সুস্থ থাকবে!

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভিটামিনের খাদ্য উৎস ও প্রয়োজনীয়তা

ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ হলো এমন একটি জৈব উপাদান যা শরীরের পুষ্টি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিনের অভাবে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। ১৯১২ সালে বিজ্ঞানী ক্যাশিমির ফ্রাঙ্ক ভিটামিন আবিষ্কার করেন। বিভিন্ন ভিটামিন শরীরের প্রয়োজন মেটাতে ভূমিকা রাখে। তবে, কোন ভিটামিন কীভাবে কাজ করে এবং কোন খাবারে পাওয়া যায়, তা জানা জরুরি।

ভিটামিন এ

চোখের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করা এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধে কার্যকর। এর উৎস: দুধ, ডিম, গাজর, মিষ্টিকুমড়া, পেঁপে, কচুশাক ইত্যাদি।

ভিটামিন সি

দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখা, রক্তকণিকা তৈরি এবং ক্ষত সারাতে সহায়ক। উৎস: আমড়া, পেয়ারা, লেবু, আনারস, বাঁধাকপি।

ভিটামিন ডি

হাড় মজবুত করা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। উৎস: সূর্যালোক, ডিমের কুসুম, দেশীয় ছোট মাছ।

ভিটামিন ই

দেহকোষ সুরক্ষা ও লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়ক। উৎস: বাদাম, সয়াবিন তেল, সূর্যমুখীর তেল।

ভিটামিন বি-১ থেকে বি-১২

প্রতিটি বি-ভিটামিনের রয়েছে আলাদা ভূমিকা। যেমন: শক্তি উৎপাদন, স্নায়ুতন্ত্র সুস্থ রাখা, ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য রক্ষা। এর উৎস: ফুলকপি, মাশরুম, লাল চাল, শিম, কলা, মাংস, ডিম।

ভিটামিন কে

রক্ত জমাট বাঁধা ও বিপাক প্রক্রিয়ায় সহায়ক। উৎস: সবুজ শাক, সয়াবিন, ফুলকপি।

আয়রন

রক্তস্বল্পতা দূর করে ও রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ করে। উৎস: মেথি শাক, শিমের বীজ, খেজুর, ছোলা।

ক্যালসিয়াম

হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত রাখে। উৎস: দুধ, দই, পনির, বাঁধাকপি।

পটাসিয়াম

হৃদযন্ত্র ও মাংসপেশির কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। উৎস: কলা, ডাব, মিষ্টি আলু।

জিংক

শরীরের বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধে কার্যকর। উৎস: চিংড়ি, ছোলা, কাজুবাদাম।

আয়োডিন

গলগণ্ড রোগ প্রতিরোধ এবং শরীরের পুষ্টি পরিবহনে ভূমিকা রাখে। উৎস: সামুদ্রিক মাছ, আয়োডিনযুক্ত লবণ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে ট্রলির ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু, আহত ১

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় দ্রুতগতির ট্রলির ধাক্কায় মো. নিজাম রাঢ়ি (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় তরিকুল নামে আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

রোববার (৬ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার কাছিপাড়া-বাহেরচর সড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নিজাম রাঢ়ি কাছিপাড়া গ্রামের নাজেম রাঢ়ির ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিজাম ও তরিকুল মোটরসাইকেলে করে কাছিপাড়া বাজার থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে রাঢ়ি বাড়ির সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা দুটি ট্রলি একসঙ্গে সড়ক ক্রস করতে গিয়ে তাদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে তারা দুজনেই ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক নিজামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তরিকুলের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, ট্রলির চালকদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মো. আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর দুমকিতে মাইক্রোবাসচাপায় নারী নিহত

পটুয়াখালীর দুমকিতে মাইক্রোবাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে আছিয়া খাতুন (৫৮) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে লেবুখালী ইউনিয়নের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র সংলগ্ন পটুয়াখালী-বরিশাল মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আছিয়া খাতুন উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা গ্রামের মৃত হারুন হাওলাদারের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আছিয়া খাতুন পায়রা পয়েন্ট এলাকা থেকে ঔষধ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে দ্রুতগতির একটি মাইক্রোবাস তাকে সজোরে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার পর মাইক্রোবাসটি দ্রুত পালিয়ে যায়।

ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া মাইক্রোবাসটি শনাক্তে চেষ্টা চলছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।”

স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কে দ্রুতগতির যানবাহন এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার অভাবে এমন দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম