পটুয়াখালী জেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ দিনদিন উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে। সদর হাসপাতাল থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও রোগীর চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫ হাজার ১১২ জন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৭২ জন ডায়রিয়া রোগী। এর মধ্যে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২১ জন, গলাচিপায় ১৭ জন, বাউফলে ১৫ জন, মির্জাগঞ্জে ৮ জন, দশমিনায় ৭ জন, কলাপাড়ায় ৩ জন এবং দুমকিতে ৩ জন রোগী ভর্তি আছেন।
তবে হাসপাতালে ভর্তি ছাড়াও অনেকে ঘরে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। এক সপ্তাহেই জেলায় চিকিৎসা নিয়েছেন ৪৫৩ জন, আর গত এক মাসে এই সংখ্যা ১ হাজার ৫৯৮ জনে গিয়ে ঠেকেছে।
শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২১টি বেডে শুয়ে আছেন ৭১ জন রোগী। বেড সংকটের কারণে বারান্দা, চলাচলের পথ এমনকি টয়লেটের সামনেও রোগীদের রাখা হচ্ছে। কোথাও কোথাও এক বেডে দুই থেকে তিনজনকে শুয়ে থাকতে দেখা গেছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা জানান, “চিকিৎসক সংকট থাকা সত্ত্বেও আমরা ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছি। বেশিরভাগ রোগীই দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।”
তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালের নিজস্ব মজুতে রয়েছে ২ হাজার ব্যাগ কলেরা স্যালাইন। সিভিল সার্জনের দপ্তর থেকেও সরবরাহ করা হয়েছে ৪০০ ব্যাগ।”
পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মো. খালেদুর রহমান মিয়া জানান, “আমাদের হাতে বর্তমানে ১ হাজার সিসির ৩ হাজার ১৩৮ ব্যাগ এবং ৫০০ সিসির ৩ হাজার ৪০৬ ব্যাগ স্যালাইন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত পরিস্থিতির উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।”
জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন, “প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে সক্রিয় রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে স্থানীয়ভাবে ওষুধ সংগ্রহ করে চিকিৎসা দেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, “জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সবাইকে নিরাপদ পানি পান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামনে গরম আরও বাড়লে ডায়রিয়ার প্রকোপ আরও তীব্র হতে পারে। এখনই সচেতন না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
মো:আল-আমিন