ছুরিকাঘাতে ঢাবি শিক্ষার্থী নিহত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে শাহরিয়ার আলম সাম্য (২৫) নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ মে) দিবাগত রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ১২টায় মৃত ঘোষণা করেন।

মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় অন্য আরেকটি মোটরসাইকেলে ধাক্কা লাগায় কথা কাটাকাটির জেরে দুর্বৃত্তরা শাহরিয়ার আলমকে ছুরিকাঘাত করে বলে জানা গেছে।

নিহত শাহরিয়ার আলম সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন।




চিকিৎসা সেবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

চিকিৎসা সেবার পরিবেশকে নিরাপদ, জনবান্ধব ও অনুকূল রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

আজ (১৩ মে) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত দুই দিনব্যাপী সিভিল সার্জন সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “সিভিল সার্জনরা জেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যখাতের চালিকাশক্তি। তাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে।”

চিকিৎসা খাতে জনবান্ধবতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন, যেমন:

  • পোস্টমর্টেম সেবা থানা পর্যায়ে নেওয়া,
  • মহিলাদের জন্য মহিলা ডাক্তার দ্বারা পোস্টমর্টেম ও ধর্ষণ সংক্রান্ত পরীক্ষা,
  • মানহীন বেসরকারি মেডিকেল কলেজ বন্ধ করা,
  • ইন্টার্ন চিকিৎসকদের গ্রামে ৬ মাস প্রশিক্ষণ ও ভাতা বৃদ্ধি।

তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে জনগণ দ্রুত সেবা পাবে ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নীত হবে।

মাদকবিরোধী অভিযানে চিকিৎসকদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, “থানা বা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে মাদক পুনর্বাসন ও কাউন্সেলিং কার্যক্রম চালাতে হবে।”

চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি নিয়ে জনগণের অভিযোগের বিষয়েও তিনি স্পষ্টভাবে কথা বলেন। বলেন, “অনেক সরকারি চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে থাকেন না, যা জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করছে।”

প্রশ্নোত্তর পর্বে সিভিল সার্জনরা জেলা হাসপাতালে কেপিআই (Key Point Installation) স্বীকৃতি, পোস্টমর্টেম সেন্টার আধুনিকীকরণ, নিরাপত্তার জন্য গানম্যান প্রভৃতি দাবি উত্থাপন করেন। উপদেষ্টা এসব যৌক্তিক দাবির ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব ডা. মো. সারোয়ার বারী।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম।

 




কুয়াকাটা সৈকতে ঢেউয়ের তোড়ে প্রাণ গেল পর্যটকের

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে ঢেউয়ের তোড়ে ডুবে গিয়ে রাজেশ কুমার পাল (৪০) নামে এক পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বেলা আনুমানিক এগারোটার দিকে সৈকতের জিরো পয়েন্টের পশ্চিম পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত রাজেশ রাজশাহী জেলার পুটিয়া উপজেলার শরৎ কুমার পালের ছেলে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রাজেশ কুমার পাল তার এক চাচাতো ভাই ও ভগ্নিপতিকে সঙ্গে নিয়ে কুয়াকাটা ঘুরতে এসেছিলেন। তারা কুয়াকাটার হোটেল সাগর নীড়ে অবস্থান করছিলেন। সকালে সকলে মিলে সৈকতে গোসল করতে নামেন।

গোসলের সময় ঢেউয়ের প্রচণ্ড তোড়ে রাজেশ কিছুটা গভীরে চলে যান এবং হঠাৎ করেই ডুবে যেতে থাকেন। সঙ্গে থাকা আত্মীয়দের চিৎকারে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং লাশ উদ্ধার করি। এরপর আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।”

এই ঘটনায় সৈকতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রশ্ন তুলেছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা। কুয়াকাটার মতো জনপ্রিয় একটি পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষকে আরও সক্রিয় হওয়ার দাবি উঠেছে।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী অংশ যেন মৃত্যুফাঁদ

ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী অংশ যেন মৃত্যুফাঁদ দুই বছরে অর্ধশতাধিক দুর্ঘটনায় নিহত ২৫, আহত শতাধিক

ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের বরগুনার আমতলী অংশে সড়ক দুর্ঘটনার প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাত্র ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে গত দুই বছরে ঘটেছে ৫০টিরও বেশি দুর্ঘটনা। প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৫ জন, আহত হয়েছেন শতাধিক।

বাঁক, বাজার ও থ্রি-হুইলারের কারণে বিপজ্জনক অবস্থা :
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন চালকদের মতে, সড়কের একাধিক বাঁক, যত্রতত্র বাজার বসা এবং থ্রি-হুইলারের অবাধ চলাচল মহাসড়কটিকে কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত করেছে। যদিও মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল নিষিদ্ধ, বাস্তবে আমতলী উপজেলার চৌরাস্তা থেকে পটুয়াখালী ও কুয়াকাটার দিকে প্রতিনিয়ত অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রা চলাচল করছে।

সড়ক পরিদর্শনে দেখা গেছে, মহাসড়কের পাশে অবৈধ দোকানপাট, ট্রাক্টর ও টমটমের দৌরাত্ম্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি কোনো গ্রামীণ সড়ক বলেই মনে হয়।

বরিশাল থেকে কুয়াকাটাগামী বাসচালক মিজান বলেন, “অবৈধ দোকানপাটের কারণে পথচারীরা রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।”

শ্যামলী পরিবহনের চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “থ্রি-হুইলারগুলো হঠাৎ রাস্তা পার হয়। তখন আমাদের গাড়ি বাঁচাতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।”
চালক সোহেল জানান, “রাস্তায় প্রচুর বাঁক রয়েছে। কুয়াশার সময় এগুলো দেখা যায় না। চিহ্নিত করার জন্য লাইট বসানো হলে দুর্ঘটনা কমবে।”

আমতলী থানার ওসি আরিফুল ইসলাম বলেন, “বাঁক, বাজার ও থ্রি-হুইলার—তিনটির সম্মিলিত কারণেই দুর্ঘটনা ঘটছে।”
বরগুনার পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, “আমতলী থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত হাইওয়ে পুলিশের ব্যবস্থা নেই। তারপরও আমরা ট্রাফিক পুলিশ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

সড়ক ও জনপথ বিভাগের বরিশাল অফিস জানিয়েছে, মহাসড়কের এই অংশকে চার লেনে উন্নীত করতে জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এস এল টি /




নতুন  ৭টি আইন সুপারিশ করা হয়েছে স্বাস্থ্যখাতে 




গরমে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপযুক্ত ও নিরাপদ পানীয়

প্রচণ্ড গরমে শরীর হাইড্রেটেড রাখা যেমন জরুরি, তেমনি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ পানীয় নির্বাচন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রীষ্মের দাবদাহে তৃষ্ণা মেটাতে অনেকেই ঠান্ডা পানীয়ের দিকে ঝুঁকেন, তবে প্যাকেটজাত জুস বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য হতে পারে মারাত্মক ক্ষতির কারণ। তাই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য কিছু প্রাকৃতিক, চিনিমুক্ত ও পুষ্টিকর পানীয়ের বিকল্পই হতে পারে সেরা সমাধান।

নিচে এমন কয়েকটি পানীয়ের তালিকা দেওয়া হলো, যেগুলো গরমে ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য উপযোগী:

🔹 ঘোল:
প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ এই পানীয় হজমে সহায়তা করে এবং শরীর ঠান্ডা রাখে। দুধ বা পাতলা দই দিয়ে তৈরি ঘোলে থাকে কম শর্করা এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়া। এতে ভাজা জিরা গুঁড়া, এক চিমটি লবণ, ধনেপাতা বা গোলমরিচ মিশিয়ে স্বাদে ভিন্নতা আনা যায়।

🔹 ডাবের পানি:
স্বল্প ক্যালোরি এবং স্বাভাবিকভাবে চিনিমুক্ত এই পানীয় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ। এতে থাকা পটাশিয়াম ও ইলেক্ট্রোলাইট শরীরকে ঠান্ডা রাখে ও হাইড্রেটেড থাকতে সহায়তা করে। তবে দিনে পরিমিত পরিমাণেই পান করা উচিত।

🔹 আমলকির রস:
ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর আমলকি রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তাজা আমলকি থেকে রস বের করে পানি মিশিয়ে পান করলে শরীর থাকবে সতেজ। চাইলে সামান্য লবণ ও পুদিনা পাতা মিশিয়ে স্বাদ বাড়ানো যায়।

🔹 শসা-পুদিনা ডিটক্স ওয়াটার:
এক জগ পানিতে পাতলা করে কাটা শসা ও পুদিনা পাতা দিয়ে ঘণ্টাখানেক রেখে দিন। এই ডিটক্স ওয়াটার শরীরকে শীতল রাখবে, হজমে সাহায্য করবে এবং গ্লুকোজ মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখবে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পানীয় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তা যেন চিনিমুক্ত, প্রাকৃতিক এবং শরীরের জন্য উপকারী হয়। তাই সতেজ ফল বা ভেষজ উপাদান দিয়ে ঘরেই তৈরি করুন স্বাস্থ্যকর পানীয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




পটুয়াখালীতে ফোরলেন সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সাবেক শিক্ষক নিহত

পটুয়াখালীর ফোরলেন মহাসড়কের বিশকানি এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. রুহুল আমিন। শুক্রবার (২ মে) সকাল ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেল ও মাহেন্দ্রর মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান তিনি। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন মাহেন্দ্রর যাত্রী তানিয়া বেগম, ইদ্রিস মৃধা, আল-আমিন ও দুলাল আকন। তাদের প্রথমে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহত মো. রুহুল আমিনের বাড়ি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর গ্রামে। তার স্বজনরা জানান, সকালবেলা আমতলী থেকে যাত্রী নিয়ে একটি মাহেন্দ্র কলাপাড়ার দিকে আসছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল ফোরলেন মহাসড়কে উঠতে গিয়ে দ্রুতগামী মাহেন্দ্রর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতায় দুটি যানই রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। স্থানীয়রা আহতদের তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যান। গুরুতর আহত রুহুল আমিনকে বরিশাল নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে একই দিনে আরও এক দুঃসংবাদে শোকের ছায়া নেমে এসেছে কলাপাড়ায়। বুধবার রাতে কলাপাড়ার লোন্দা গ্রামে বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন আইনজীবী সহকারী এনামুল হক সাগর মৃধা। ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। সহকর্মী ও পরিচিতজনদের মধ্যে এ ঘটনায় শোকের আবহ বিরাজ করছে।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পটুয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনার হার দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। নিরাপদ মহাসড়ক এবং সঠিক ট্রাফিক ব্যবস্থা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছেন সচেতন নাগরিকরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীতে গভীর রাতে আগুন, তিন ঘর ছাই

পটুয়াখালী শহরের ফৌজদারি পুল এলাকায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অ্যাডভোকেট চন্দন সোমাদ্দার ও তার পরিবারের তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে হঠাৎ করেই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে একের পর এক ঘরে। ঘুমন্ত মানুষ আগুনের লেলিহান শিখা দেখে ঘর থেকে বেরিয়ে প্রাণ বাঁচালেও কিছুই রক্ষা করতে পারেননি।

স্থানীয়দের তৎপরতায় শুরু হয় পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা, কিন্তু আগুনের ভয়াবহতায় তা নিয়ন্ত্রণে আসছিল না। পরে খবর পেয়ে পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই তিনটি ঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায় এবং ঘরের আসবাব, কাপড়চোপড়, বৈদ্যুতিক সামগ্রী থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র পর্যন্ত সবই আগুনে ভস্মীভূত হয়।

অ্যাডভোকেট চন্দন সোমাদ্দারের ভাই গৌতম সোমাদ্দার বলেন, “আমরা ঘুমাচ্ছিলাম, হঠাৎ আগুন দেখে প্রাণ নিয়ে বের হয়ে আসি। কিছুই বের করতে পারিনি। আমার বিশ্বাস, পরিকল্পিতভাবে কেউ আমাদের ক্ষতি করার জন্য চারপাশে আগুন দিয়েছে।”

ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার দেওয়ান মোহাম্মদ রাজিব বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। তবে ঘরের সব মালামালই পুড়ে গেছে। আগুনের সূত্রপাত এখনো নিশ্চিত নয়, তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।”

এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর না থাকলেও, চন্দন সোমাদ্দার ও তার পরিবার মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে জানা গেছে। আগুনের ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ

পটুয়াখালী জেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ দিনদিন উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে। সদর হাসপাতাল থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও রোগীর চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫ হাজার ১১২ জন।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৭২ জন ডায়রিয়া রোগী। এর মধ্যে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২১ জন, গলাচিপায় ১৭ জন, বাউফলে ১৫ জন, মির্জাগঞ্জে ৮ জন, দশমিনায় ৭ জন, কলাপাড়ায় ৩ জন এবং দুমকিতে ৩ জন রোগী ভর্তি আছেন।

তবে হাসপাতালে ভর্তি ছাড়াও অনেকে ঘরে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। এক সপ্তাহেই জেলায় চিকিৎসা নিয়েছেন ৪৫৩ জন, আর গত এক মাসে এই সংখ্যা ১ হাজার ৫৯৮ জনে গিয়ে ঠেকেছে।

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২১টি বেডে শুয়ে আছেন ৭১ জন রোগী। বেড সংকটের কারণে বারান্দা, চলাচলের পথ এমনকি টয়লেটের সামনেও রোগীদের রাখা হচ্ছে। কোথাও কোথাও এক বেডে দুই থেকে তিনজনকে শুয়ে থাকতে দেখা গেছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা জানান, “চিকিৎসক সংকট থাকা সত্ত্বেও আমরা ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছি। বেশিরভাগ রোগীই দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।”

তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালের নিজস্ব মজুতে রয়েছে ২ হাজার ব্যাগ কলেরা স্যালাইন। সিভিল সার্জনের দপ্তর থেকেও সরবরাহ করা হয়েছে ৪০০ ব্যাগ।”

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মো. খালেদুর রহমান মিয়া জানান, “আমাদের হাতে বর্তমানে ১ হাজার সিসির ৩ হাজার ১৩৮ ব্যাগ এবং ৫০০ সিসির ৩ হাজার ৪০৬ ব্যাগ স্যালাইন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত পরিস্থিতির উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।”

জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন, “প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে সক্রিয় রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে স্থানীয়ভাবে ওষুধ সংগ্রহ করে চিকিৎসা দেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, “জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সবাইকে নিরাপদ পানি পান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামনে গরম আরও বাড়লে ডায়রিয়ার প্রকোপ আরও তীব্র হতে পারে। এখনই সচেতন না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

 

মো:আল-আমিন



পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিতে কর্মবিরতি ও মানববন্ধন

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ তিন দফা দাবিতে কর্মবিরতি, একাডেমিক শাটডাউন এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক, মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। শনিবার (১৯ এপ্রিল) সকাল থেকে একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা এই কর্মসূচি শুরু করেন।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—হাসপাতাল ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ১৪ এপ্রিলের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করে দোষীদের শাস্তি দেওয়া এবং ৫০০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল দ্রুত চালু করে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. সবুর সুমন, ডা. সুমাইয়া সাইমা শর্মী, ডা. স্বর্ণা মজুমদারসহ আরও অনেকে। তারা অভিযোগ করে বলেন, “নিরাপত্তার অভাবে চিকিৎসা ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হামলার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অথচ এখনও তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ হয়নি, বরং একজন শিক্ষককে আগেই ওএসডি করা হয়েছে, যা অপ্রত্যাশিত।”

আন্দোলনকারীরা জানান, দাবি বাস্তবায়নে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে হাসপাতালের আউটডোর বন্ধ এবং কর্মবিরতি আরও কঠোর করা হবে।

পরে তারা কলেজ অধ্যক্ষ বরাবর স্মারকলিপি দেন।

এ বিষয়ে মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. এ এফ এম আতিকুর রহমান বলেন, “তাদের দাবিগুলো যৌক্তিক। নিরাপত্তা ও দোষীদের শাস্তির বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ৫০০ শয্যার হাসপাতালের কাজ শেষ হয়েছে এবং আগামী জুলাই মাসেই এটি চালু করার প্রস্তুতি চলছে। জনবল নিয়োগের বিষয়েও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম