বেশিরভাগই মৌসুমি কসাই ও সাধারণ মানুষ; আহতের সংখ্যা অনেক

পবিত্র ঈদুল আজহার প্রথম দিনে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় কোরবানির পশু জবাই এবং মাংস কাটাকাটির সময় অসাবধানতাবশত আহত হয়েছেন শতাধিক ব্যক্তি। আহতদের অধিকাংশই মৌসুমি কসাই, তবে সাধারণ মানুষও রয়েছেন এই তালিকায়।

শনিবার (৭ জুন) সকাল থেকে বিকেল সোয়া ৩টা পর্যন্ত আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মুশতাক আহমেদ জানান, “সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ১০০ জনের বেশি ব্যক্তি হাসপাতালে এসেছেন কোরবানির সময় ছুরিকাঘাত কিংবা কাটাকাটির কারণে আহত হয়ে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ভর্তি করা হয়েছে, তবে সবাই শঙ্কামুক্ত। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আহতদের অনেকেই মৌসুমি কসাই, যাদের পেশাগত অভিজ্ঞতা কম। আবার অনেক সাধারণ মানুষও আছেন যারা নিজেরাই কোরবানি দিতে গিয়ে আহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

প্রতিবছর ঈদুল আজহার দিন এমন দুর্ঘটনা ঘটার নজির রয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন না করলে এমন ঘটনা ঘটতেই পারে।

সচেতনতা এবং অভিজ্ঞ কসাইয়ের সহায়তায় কোরবানির কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।




ওজন বাড়াতে সাহায্য করবে ৫ ধরনের বীজ

ওজন কমানো যেমন অনেকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, ঠিক তেমনি অনেকেই স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। শুধু ওজন বাড়ানোই নয়, বাড়তি ওজন শরীরের শক্তি বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। যারা ওজন বাড়াতে চান, তাদের জন্য প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও ফাইবারে ভরপুর কিছু বীজ অত্যন্ত কার্যকর। নিচে ৫ ধরনের বীজের কথা উল্লেখ করা হলো, যা নিয়মিত খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে ওজন বাড়াতে সাহায্য করবে।

প্রথমেই কথা বলা যায় কুমড়ার বীজের। এই বীজ মুখরোচক ও স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন, জিঙ্ক ও ম্যাগনেসিয়ামের উৎকৃষ্ট উৎস। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই বীজ হজম শক্তি বাড়াতেও ভূমিকা রাখে। ২৮ গ্রাম কুমড়ার বীজে প্রায় ৫ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়।

দ্বিতীয়ত, সূর্যমুখী বীজও খুবই জনপ্রিয়। এটি ভিটামিন ই, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটে পরিপূর্ণ। ত্বকের যত্ন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এটি বিশেষভাবে উপযোগী। প্রতি ২৮ গ্রাম সূর্যমুখী বীজে প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ৬ গ্রাম।

তৃতীয়ত, চিয়া সিডের কথা বলা যায়, যা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের পাশাপাশি প্রোটিন ও ফাইবারে ধনী। হজমে সহায়তা করা এবং পুষ্টি শোষণ বাড়ানো এই বীজের প্রধান গুণাবলী। ২৮ গ্রাম চিয়া সিডে ৪-৫ গ্রাম প্রোটিন থাকে।

চতুর্থত, তিসির বীজও প্রোটিন ও ফাইবারের ভালো উৎস। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করে। পিষে খেলে এর কার্যকারিতা আরো বাড়ে। প্রতি ২৮ গ্রাম তিসির বীজে প্রায় ৫ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়।

উপসংহারে বলা যায়, ওজন বাড়ানোর জন্য শুধুমাত্র খাবারের পরিমাণ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, বরং স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া বেশি জরুরি। এসব বীজের সঙ্গে নিয়মিত ব্যায়াম এবং পরিমিত বিশ্রাম ওজন বাড়াতে সাহায্য করবে এবং শরীরকে সুস্থ রাখবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



হাড় মজবুত রাখার সেরা খাবার

শরীর সুস্থ রাখতে হাড়ের যত্ন নেওয়া খুবই প্রয়োজন। যদিও হাড় দেখা যায় না, তবে সঠিক পুষ্টি গ্রহণের মাধ্যমে হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখা সম্ভব। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় এমন কিছু খাবার থাকা উচিত যা হাড়কে শক্তিশালী করে এবং বিভিন্ন সমস্যা থেকে রক্ষা করে।

পাতাযুক্ত সবুজ শাক-সবজি যেমন পালং শাক, মোলাই শাক ইত্যাদিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা হাড় গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া এই শাকগুলোতে ভিটামিন কে থাকে, যা ক্যালসিয়ামের শোষণ বাড়িয়ে হাড়কে মজবুত করে। তাই প্রতিদিন নিয়মিত এসব শাক খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

দুধ, দই ও পনির জাতীয় দুগ্ধজাত খাবারও হাড়ের জন্য অতি উপকারী। এগুলো প্রোটিন এবং ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে দুগ্ধজাত খাবার নিয়মিত খাওয়া উচিত। আপনি চাইলে কম চর্বিযুক্ত বা পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত পণ্য বেছে নিতে পারেন।

চর্বিযুক্ত মাছ যেমন স্যামন, ম্যাকেরেল ও সার্ডিনে ভিটামিন ডি এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা হাড়ের টিস্যুকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ বাড়ায়, আর ওমেগা-৩ প্রদাহ কমিয়ে হাড়ের সমস্যায় সহায়তা করে।

বাদাম, চিয়া বীজ ও তিলের মতো বীজ জাতীয় খাবারগুলোতে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা হাড়ের গঠন ও শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের বাদাম-বীজ খাওয়ার অভ্যাস করলে হাড় সুস্থ থাকে এবং যেকোনো ধরনের দুর্বলতা থেকে বাঁচা যায়।

এই খাবারগুলো নিয়মিত গ্রহণ করলে আপনার হাড় সুগঠন ও স্বাস্থ্যবান থাকবে, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরকে নানা অসুখ থেকে রক্ষা করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



গরমে কিডনি সুরক্ষায় যা করবেন

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহ, ঘাম এবং অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। এই অবস্থায় শরীরের যেসব অঙ্গ বেশি চাপে পড়ে, তার মধ্যে অন্যতম হলো কিডনি। শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল বেরিয়ে যাওয়ায় রক্ত পরিশোধন এবং ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করতে কিডনিকে বাড়তি কাজ করতে হয়।

তাই এই গরমের দিনে কিডনির কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখতে হলে হাইড্রেশনের দিকে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ঠিক কীভাবে আপনি আপনার কিডনিকে সুস্থ রাখতে পারেন, চলুন জেনে নেওয়া যাক—

প্রথমেই নজর দিন প্রস্রাবের রঙের দিকে। এটি শরীরে পানির ঘাটতি বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায়। ফ্যাকাশে হলুদ রঙ স্বাভাবিক হলেও গাঢ় হলুদ বা কমলা রঙের প্রস্রাব আপনার শরীরের পানিশূন্যতা নির্দেশ করে। এমন পরিস্থিতিতে পানি পানের পরিমাণ বাড়াতে হবে।

দিন শুরু করুন এক গ্লাস বিশুদ্ধ পানি দিয়ে। এটি শরীরকে ভিতর থেকে পরিষ্কার করতে সহায়তা করে এবং কিডনির কার্যক্রম সক্রিয় করে তোলে। প্রতিবার খাবারের আগে এক গ্লাস করে পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুললে সারাদিন হাইড্রেট থাকা সহজ হবে।

শুধু পানি খেয়ে অনেক সময় বিরক্ত লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে পানি সমৃদ্ধ খাবার যেমন তরমুজ, শসা, কমলা, স্ট্রবেরি, টমেটো ইত্যাদি খাদ্যতালিকায় রাখুন। এতে শরীরে পানির ঘাটতি কমবে এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও পাওয়া যাবে।

পাশাপাশি পানিশূন্যতা বাড়ায় এমন পানীয় যেমন কফি, চা এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন বা খুব সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করুন। এগুলো মূত্রবর্ধক হওয়ায় শরীর থেকে দ্রুত পানি বেরিয়ে যায়, ফলে কিডনির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।

তবে অতিরিক্ত পানি পান করাও বিপজ্জনক হতে পারে। শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পানি পান করলে পেটে অস্বস্তি, হৃৎপিণ্ডের ওপর চাপ এবং সোডিয়ামের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে পানি পানই কিডনির জন্য উপকারী।

সবশেষে, আপনার অবস্থান ও আবহাওয়া অনুযায়ী পানির পরিমাণ ঠিক করুন। প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতায় শরীর দ্রুত পানি হারায়, তাই ঘন ঘন পানি পান করতে হবে। অন্যদিকে শীতকালে পানির চাহিদা কিছুটা কমে আসে। তবে বছরের যেকোনো সময়ই শরীরের সংকেত বুঝে পানি গ্রহণ করা বুদ্ধিমানের কাজ।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে সহায়ক দেশি খাবারগুলো

আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি হলো থাইরয়েড, যা খুবই অবহেলিত একটি অঙ্গ হলেও শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া, হজমশক্তি, হাড়ের সুস্থতা এবং শক্তি উৎপাদনে সরাসরি ভূমিকা রাখে। এই প্রজাপতি-আকৃতির গ্রন্থির ভারসাম্য নষ্ট হলে দেখা দেয় নানা সমস্যা, বিশেষ করে ওজন বেড়ে যাওয়া, ক্লান্তি, চুল পড়া কিংবা মনঃসংযোগের অভাব। যদিও থাইরয়েড পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য নয়, তবে দৈনন্দিন খাবারের মাধ্যমেই অনেকাংশে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আশার কথা হচ্ছে, রান্নাঘরে থাকা সাধারণ কিছু দেশি খাবারই হতে পারে বড় সমাধান।

যেমন সজনে ডাটা, যা আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এটি শরীরের প্রদাহ হ্রাস করে এবং হরমোন উৎপাদনকে উৎসাহ দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সজনে থাইরয়েড রোগীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য হতে পারে।

অন্যদিকে অশ্বগন্ধা নামের একটি ভেষজ রয়েছে যা কর্টিসলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে থাইরয়েড-অ্যাড্রিনাল ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে যাদের হাইপারথাইরয়েড রয়েছে তাদের জন্য এটি সঠিক বিকল্প নাও হতে পারে।

আমলকী, ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ একটি শক্তিশালী ফল। এটি হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং শরীরের ডিটক্সিফিকেশনে সহায়তা করে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় আমলকী অন্তর্ভুক্ত করাই হতে পারে সুস্থ থাইরয়েডের চাবিকাঠি।

এছাড়াও রান্নাঘরের সাধারণ উপাদান জিরাও গুরুত্বপূর্ণ। জিরা হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং থাইরয়েড হরমোনের কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞরা জিরা পানি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন, যা সহজেই বাড়িতেই তৈরি করা যায়।

সবশেষে হলুদের কথা না বললেই নয়। হলুদে থাকা কুরকুমিন উপাদান দেহের প্রদাহ হ্রাস করে এবং লিভারকে সক্রিয় করে তোলে, যা T4 থেকে কার্যকর T3 হরমোনে রূপান্তর করতে সাহায্য করে। সকালে খালি পেটে হলুদের পানি খাওয়া থাইরয়েড সুস্থ রাখতে দারুণ কার্যকর হতে পারে।

সঠিক জীবনযাপন ও স্বাস্থ্যকর দেশি খাবারই হতে পারে থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণের সেরা সমাধান। ওষুধের পাশাপাশি খাবারের ওপরও জোর দিলে দীর্ঘমেয়াদে মিলতে পারে কাঙ্ক্ষিত ফল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পুরানা পল্টনে বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ড, ১৭ মিনিটে নিয়ন্ত্রণে

রাজধানীর পুরানা পল্টনে একটি ১০তলা ভবনের ৬তলায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ২ জুন সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলেও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাত্র ১৭ মিনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম রনি জানান, সড়ক ফাঁকা থাকায় খবর পাওয়ার মাত্র ছয় মিনিটের মধ্যে—সকাল ৭টা ১ মিনিটে—ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস। এরপর সকাল ৭টা ১৮ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

ঘটনার সময় ভবনের অন্যান্য তলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।




অল্প বয়সেই হার্ট অ্যাটাক! এই ৫টি অভ্যাস আপনাকে বাঁচাতে পারে

হার্ট অ্যাটাক

বর্তমানে অল্প বয়সেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। আগের মতো শুধুমাত্র ৫০ বা ৬০ বছরের মানুষ নয়, এখন ৩০ বা ৪০ বছর বয়সীরাও হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসক ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনযাত্রার ধরন ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে এই ঝুঁকি বাড়ছে। তবে কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে অকালে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

নিচে এমন ৫টি জরুরি অভ্যাস তুলে ধরা হলো, যা প্রতিদিনের জীবনে পালন করলে হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে:

১. নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, জগিং, সাইক্লিং বা হালকা ব্যায়াম করলে হৃদপিণ্ড সুস্থ থাকে। ব্যায়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমায়।

২. সুষম ও হৃদয়বান্ধব খাদ্যাভ্যাস
ফাস্টফুড, ট্রান্স ফ্যাট, বেশি লবণ ও চিনি এড়িয়ে চলা জরুরি। এর পরিবর্তে বেশি করে সবজি, ফল, বাদাম, ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ এবং পূর্ণ শস্য (whole grains) খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

৩. ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন
ধূমপান হৃদপিণ্ডের রক্তনালীগুলো সরু করে তোলে, ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যায়। একইভাবে অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনও রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল বৃদ্ধির জন্য দায়ী।

৪. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা হৃদপিণ্ডের উপর চাপ সৃষ্টি করে। নিয়মিত মেডিটেশন, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক স্বস্তি বজায় রাখা হৃদরোগ প্রতিরোধে কার্যকর।

৫. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
বয়স ৩০ পেরোলেই বছরে অন্তত একবার রক্তচাপ, রক্তে কোলেস্টেরল ও ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা উচিত। প্রয়োজন হলে ইসিজি বা ইকোকার্ডিওগ্রাম করানোও জরুরি। এতে প্রাথমিক অবস্থাতেই হৃদরোগ শনাক্ত করে প্রতিকার সম্ভব।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, উপরের অভ্যাসগুলো রক্ষা করলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৮০% পর্যন্ত কমানো সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন সচেতনতা ও নিয়মিত জীবনযাপন। হৃদপিণ্ড সুস্থ থাকলে সারাজীবন কর্মক্ষম ও উজ্জ্বল জীবন উপভোগ করা সম্ভব।

 




মহিপুরে সেতু ধসে যানচলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

পটুয়াখালীর মহিপুরে হঠাৎ বিকট শব্দে ধসে পড়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। মঙ্গলবার (২০ মে) সকালবেলা লতাচাপলী ইউনিয়নের আজিমপুর-তাহেরপুর গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া লক্ষীর খালের ওপর নির্মিত সেতুটি হঠাৎ করে ভেঙে খালের মধ্যে দেবে যায়।

সেতুটি ধসে পড়লেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছে অন্তত ১৫টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। একইসাথে চরম বিপাকে পড়েছেন কুয়াকাটায় আগত দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও। কারণ এই সেতু ছিল মহিপুর-কুয়াকাটা যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

২০০৪ সালে এলজিইডি’র অর্থায়নে নির্মিত এই সেতুটির অবস্থা বিগত ৫ বছর ধরেই ছিল অত্যন্ত নাজুক। স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিকবার মেরামতের জন্য আবেদন করলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেতুর নিচের পিলার ও উপরের ঢালাইয়ের অবস্থাও দুর্বল হতে থাকে।

সেতুটি ধসে যাওয়ার পর পুরো এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আজিমপুর, তাহেরপুর, হরিণঘাটা, চালিতাবুনিয়া, লতাচাপলীসহ একাধিক গ্রামের মানুষ এখন হাঁটাপথে বা নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। কৃষক, শ্রমজীবী, শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন শতশত মানুষ ও যানবাহন এই সেতু ব্যবহার করত। এখন বিকল্প কোনো পথ না থাকায় প্রায় ৮-১০ কিলোমিটার ঘুরে চলতে হচ্ছে। কেউ কেউ স্থানীয় বাঁশের সাঁকো তৈরি করে অস্থায়ীভাবে পারাপার করার চেষ্টা করছেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুর অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ হলেও স্থানীয় প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধিরা সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি। তাদের দাবি, দ্রুত এই সেতুটি পুনর্নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে হবে।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সাদেকুর রহমান সাদীক জানিয়েছেন, শুধু এই সেতুই নয়, উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ আরও ৫টি সেতুর তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলেই সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে বলেও তিনি জানান।

তবে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন—ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও কেন সময়মতো সংস্কার হয়নি? কে নেবে এই অবহেলার দায়? তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



তুরস্কগামী টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আগুন, জরুরি অবতরণে রক্ষা পেল ২৯০ যাত্রী

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছু সময় পরই ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায় টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে। মঙ্গলবার সকালে ইস্তাম্বুলগামী TK713 ফ্লাইটটি জরুরি পরিস্থিতিতে অবতরণ করতে বাধ্য হয়। তবে ফ্লাইটে থাকা ২৯০ যাত্রীর সবাই নিরাপদ রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় এয়ারবাস A330-303 মডেলের TK713 ফ্লাইটটি শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ইস্তাম্বুলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। উড্ডয়নের ১৫ মিনিট পর পাইলট ইঞ্জিনে স্পার্ক বা আগুনের ফুলকি লক্ষ্য করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি প্লেনটি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন।

ঘটনার বিষয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ জানান, উড্ডয়নের সময় উড়োজাহাজটি একটি পাখির সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে। এতে একটি ইঞ্জিনে আগুনের আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্লাইটটি প্রায় দেড় ঘণ্টা আকাশে চক্কর দিয়ে জ্বালানি পোড়ানোর পর সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে নিরাপদে অবতরণ করে।

ঘটনার পর টার্কিশ এয়ারলাইন্স এক বিবৃতিতে জানায়, উড্ডয়নের পর দ্বিতীয় ইঞ্জিনে পাখির আঘাত লাগে, যার ফলে ফ্লাইটটি ফিরে আসতে বাধ্য হয়। তারা আরও জানায়, যাত্রী, ক্রু এবং উড়োজাহাজটি সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে। মেরামতের প্রয়োজন হওয়ায় উড়োজাহাজটি রানওয়েতে রাখা হয়েছে এবং যাত্রীদের জন্য হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এমতাবস্থায় এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফ্লাইটটি চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছে।




দুমকিতে আগুনে ঘর ছাই, পুড়ে গেল সাত ছাগল

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের শিকদার বাড়িতে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। ১৪ মে রাতে আনুমানিক ১১টার দিকে এই বাড়িতে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়, আর মুহূর্তের মধ্যেই তা ভয়াবহ রূপ নিয়ে পুরো বসতবাড়ি গ্রাস করে ফেলে। আগুনে সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায় একটি বসতঘর। ঘরের ভেতরে থাকা সাতটি ছাগল পুড়ে মারা যায়। আশ্চর্যজনকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছে বাড়ির সবাই, কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, আগুন প্রথমে বাড়ির রান্নাঘর থেকে শুরু হয়। কিন্তু কেউ ঠিক সময়ে টের না পাওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসে ফোন না করেই স্থানীয় লোকজন বালতি ও টিউবওয়েলের পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। কিন্তু প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আগুনের তীব্রতায় তারা কোনো কিছুই রক্ষা করতে পারেনি। ঘরে থাকা আসবাবপত্র, পোশাক, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র—সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ঘটনার সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক ছিল ঘরের ভেতর থাকা সাতটি ছাগলের মৃত্যু। যেগুলো ছিল পরিবারটির একমাত্র উপার্জনের ভরসা। মৃত শাজাহান শিকদারের স্ত্রী মোসা: রাহেলা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সাতটা ছাগলই ছিল আমার সংসারের ভরসা। এখন তো কিছুই রইল না। সব পুড়ে গেল। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল, কিছুই বাঁচাতে পারলাম না।”

এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, আগুনের এমন দৃশ্য এর আগে তারা কখনও দেখেননি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি এখন চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছে। নেই মাথার ছায়া, নেই খাবারের সংস্থান—সব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন রাহেলা বেগম ও তার পরিবার।

এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। নইলে এই পরিবারের পক্ষে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম