করোনায় স্বস্তির দিন: নতুন রোগী ৬, কেউ মারা যায়নি

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আরও ৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য স্বস্তির খবর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুক্রবার (২০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত এক দিনে মোট ১০৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এতে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

নতুন রোগীসহ দেশে মোট শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৫১ হাজার ৯৩৮ জনে। তবে মৃত্যুর সংখ্যা অপরিবর্তিত থেকে ২৯ হাজার ৫০৬ জনেই রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে করোনার শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ০৫ শতাংশ।

উল্লেখ্য, দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ এবং প্রথম মৃত্যু ঘটে ১৮ মার্চ। এরপর ২০২১ সালের ৫ ও ১০ আগস্ট করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ ২৬৪ জন করে মারা যান, যা এখন পর্যন্ত মৃত্যুর দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ দিন হিসেবে বিবেচিত।

স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।




একদিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৫১ জন হাসপাতালে ভর্তি, তবে মৃত্যু শূন্য

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে ১৫১ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এই সময়ের মধ্যে কারও মৃত্যু হয়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

শুক্রবার (২০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন বরিশাল বিভাগে, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৬ জন।
অন্যান্য বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রামে ১৫ জন, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ১৭ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৮ জন, দক্ষিণ সিটিতে ১০ জন, রাজশাহীতে ২ জন ও খুলনায় ৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

এদিকে গত একদিনে সারাদেশে ১১১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছর এ পর্যন্ত ৬ হাজার ২১৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০ জুন পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৭৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে মোট ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।




দেশে একদিনে নতুন করে ২৩৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ২৩৪ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এ সময়ে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

সোমবার (১৬ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন শনাক্তদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১১৯ জন, চট্টগ্রামে ২৯ জন, ঢাকা বিভাগের সিটি কর্পোরেশনের বাইরে ৩২ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ২৮ জন, খুলনায় ৫ জন, রাজশাহীতে ৫ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৬ হাজার ২২২ জন। একই সময়ে দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের।

এদিকে, গত একদিনে সারা দেশে ১৯০ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ৫ হাজার ৪৮৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২০২৪ সালে দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। তার আগের বছর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছিল ১ হাজার ৭০৫ জনের এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

বিশেষজ্ঞরা ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।




ডেঙ্গু-করোনার ঝুঁকি: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সতর্কতা জোরদারের নির্দেশ

দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি এবং করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

রোববার (১৫ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে মাউশি জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যৌথ নির্দেশনার আলোকে স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধানদের এসব নির্দেশনার বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী বিশেষ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় আলোচনা সভা, র‍্যালি, দেয়াল পত্রিকা, পোস্টার তৈরি, লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ‘ডেঙ্গু সচেতনতা: ভবিষ্যতে করণীয়’ শীর্ষক বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন হবে।

এছাড়া, করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী পাঁচটি স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো—

১. সাবান ও পানি দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা।
২. জনবহুল স্থানে যাওয়া এড়িয়ে চলা এবং বাইরে বের হলে মাস্ক পরা।
৩. আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরত্ব বজায় রাখা এবং অন্যদের থেকে অন্তত তিন ফুট দূরে থাকা।
৪. চোখ, নাক ও মুখে হাত দেওয়ার আগে হাত পরিষ্কার করা।
৫. হাঁচি বা কাশির সময় মুখ ঢাকতে টিস্যু, রুমাল বা কনুইয়ের ভাঁজ ব্যবহার করা।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের শুরুর দিকে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর কয়েক দফায় সংক্রমণ বেড়ে দেশে জনস্বাস্থ্য সংকট দেখা দেয়। পরবর্তীতে সরকার মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং জনসমাগম এড়ানোর নির্দেশ দেয়। সংক্রমণ হ্রাস পাওয়ায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব বিধিনিষেধ অনেকাংশে শিথিল করা হলেও সম্প্রতি আবারও কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার কিছুটা বেড়েছে। ফলে নতুন করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।




অবশেষে অচলাবস্থা কাটিয়ে স্বাভাবিক হলো চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের চিকিৎসাসেবা

দীর্ঘ ১৮ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা শনিবার (১৪ জুন) থেকে স্বাভাবিকভাবে চালু হয়েছে। সকাল থেকেই হাসপাতালের সব বিভাগে পুরোদমে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়।

হাসপাতাল ভবন সকাল থেকেই কর্মচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা যথারীতি তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে রোগী ও তাদের স্বজনদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। বহির্বিভাগ, ওয়ার্ড এবং জরুরি বিভাগে স্বাভাবিকভাবে চিকিৎসা প্রদান শুরু হয়েছে।

হাসপাতালের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “সকাল থেকেই আমরা হাসপাতালে উপস্থিত হয়েছি। রোগীরাও নিয়মিত আসছেন। যার যেটা প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেক রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে।”

হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ও আহতদের চিকিৎসা সমন্বয়ক ডা. যাকিয়া সুলতানা নীলা বলেন, “আজ সকাল থেকেই সব বিভাগে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেছি। চিকিৎসক ও নার্সরাও আগের মতোই কাজ করছেন। বর্তমানে সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। আশা করছি, আর কোনো বিভ্রান্তি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না। রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে আবারও আস্থা ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”

উল্লেখ্য, বিভিন্ন কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। ফলে বিপাকে পড়েছিলেন বহু রোগী। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।




বেড়েই চলছে ডেঙ্গুর প্রকোপ ; একদিনে পাঁচ জনের মৃত্যু

দেশে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে একদিনে সর্বোচ্চ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুইজন পুরুষ এবং তিনজন নারী। মৃতদের মধ্যে বরিশাল বিভাগের চারজন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একজন রয়েছেন। চলতি বছর এটি এখন পর্যন্ত একদিনে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ মৃত্যু। ২০২৫ সালে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগেই আক্রান্ত হয়েছেন ১২৪ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৮৮ জন পুরুষ এবং ৭১ জন নারী। একই সময়ে ১০৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৩ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ৫ হাজার ৫৭০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ নারী। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৫ হাজার ১১ জন রোগী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সকল নাগরিককে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সতর্কতা অবলম্বন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্বারোপ করার আহ্বান জানিয়েছে।




ভারতে বিমান দুর্ঘটনা ; যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা

ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা ঘটে।  যেখানে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশ্যে পাঠানো শোকবার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো বার্তায় জানানো হয়, আহমেদাবাদে ২৪২ জন যাত্রীবাহী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ড. ইউনূস অত্যন্ত মর্মাহত। শোকবার্তায় তিনি বলেন, “এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমার আন্তরিক সহানুভূতি ও সমবেদনা।”

তিনি আরও বলেন, “এই দুঃসময়ে আমরা ভারতের জনগণ ও সরকারের পাশে আছি। প্রয়োজনে সব ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।”

প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনার সময় বিমানটি ৮২৫ ফুট উচ্চতায় পৌঁছানোর পরই আকস্মিকভাবে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩৩ জন নিহত হয়েছেন।




ভারতের বিমান দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ পাকিস্তানের

ভারতের আহমেদাবাদে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। একই সঙ্গে ভারতের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।

বৃহস্পতিবার এক্স (সাবেক টুইটার)–এ দেওয়া এক বার্তায় পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “আজ আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান ভেঙে পড়ার ঘটনায় আমি গভীরভাবে বিষণ্ণ। আহত ও নিহতদের পরিবারগুলোর এই অপূরণীয় ক্ষতির সময় আমরা তাদের পাশে রয়েছি এবং সমবেদনা জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার প্রভাব যাদের ওপর পড়েছে, তাদের জন্য আমাদের প্রার্থনা রইল।”

এদিকে, দুর্ঘটনার পর এক বিবৃতিতে মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনাকে “বিমান চলাচলের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “কেউ বুঝতেই পারেনি কী ঘটল। বাইরে থেকে দেখে মনে হচ্ছিল, বিমানটি ঠিকভাবেই উড়ছিল।”

এর আগে ভারতীয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থল থেকে গণমাধ্যমকে তিনি জানান, বিধ্বস্ত হওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটিতে ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার লিটার জ্বালানি। তিনি বলেন, “অত্যধিক তাপমাত্রার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয় এবং কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।”

প্রসঙ্গত, আহমেদাবাদের আকাশে মাঝপথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার ওই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ।




পটুয়াখালীতে বিয়ে বাড়ি থেকে ফেরার পথে বাসচাপায় বৃদ্ধ নিহত

পটুয়াখালী সদর উপজেলায় বিয়ের দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে বাসচাপায় সাইদ মোল্লা (৬০) নামের এক বৃদ্ধ ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১০ জুন) বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের কালিকাপুর ইউনিয়নের করমজাতলা পায়রা ফিলিং স্টেশন এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত সাইদ মোল্লা সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীখালী গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা কুয়াকাটাগামী ‘ডলফিন পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস করমজাতলা এলাকায় পৌঁছালে একটি ব্যাটারিচালিত অটোকে ওভারটেক করার সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা সাইদ মোল্লাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি বাসের নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠিয়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় বাসটি আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

স্থানীয়দের দাবি, করমজাতলা এলাকায় প্রায়ই বেপরোয়া গতির যান চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। তারা সেখানে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



নির্বিঘ্ন চিকিৎসাসেবা বন্ধ, চক্ষুবিজ্ঞান হাসপাতালে চলছে শুধু জরুরি কার্যক্রম

দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের একমাত্র সরকারি জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা। ২৮ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির সকল বিভাগে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, যদিও এক সপ্তাহ পর সীমিত পরিসরে চালু করা হয়েছে জরুরি বিভাগ।

আজ মঙ্গলবার (১০ জুন) পর্যন্ত শুধুমাত্র জরুরি বিভাগ চালু থাকলেও অন্যান্য বিভাগগুলো এখনও বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. জানে আলম জানিয়েছেন, “আজ ৬৬ জন রোগীকে জরুরি সেবা দেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে ৮টি জরুরি অস্ত্রোপচারও করা হয়েছে।”

হাসপাতালের অচলাবস্থার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে জুলাই আন্দোলনে আহতদের অবস্থান। জানা গেছে, বর্তমানে ওই আন্দোলনে আহত তিনজন রোগী হাসপাতালের চতুর্থ তলায় অবস্থান করছেন। তারা ভেতর থেকে তালা লাগিয়ে রেখেছেন, ফলে চিকিৎসা কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা কথা বলতে চাইছেন না।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, জুলাই আহতদের আগমন-বহির্গমন সম্পর্কে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেওয়া হয়নি। তারা কারা আসছেন বা যাচ্ছেন, সেই তথ্যও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে নেই।

এদিকে এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে। হাসপাতালটি কার্যত রোগীশূন্য অবস্থায় থাকলেও জরুরি সেবার জন্য সীমিত পরিসরে চালু রাখা হয়েছে, যাতে গুরুতর রোগীরা অন্তত প্রাথমিক সেবা পেতে পারেন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন চিকিৎসক ও সাধারণ রোগীরা।