বরগুনা ডেঙ্গুর হটস্পটে পরিণত, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৯৩ জন

উপকূলীয় জেলা বরগুনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থাকলেও বরগুনা এখন একপ্রকার হটস্পটে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ জুন) দুপুরে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালজুড়ে রোগীর উপচে পড়া ভিড়, শয্যা সংকট এবং চিকিৎসাসেবায় চরম দুর্ভোগ।

স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ধস, মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা

বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার অন্যান্য হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। শয্যার সংকটে অনেক রোগী বারান্দা ও করিডোরে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। নারীদের ও শিশুদের ওয়ার্ডেও একই চিত্র।

২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৯৩, মৃত্যুও বাড়ছে

সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বরগুনায় নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৩ জন। এর মধ্যে বরগুনা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮০ জন এবং বাকি ১৩ জন জেলার অন্যান্য হাসপাতালে।
উপজেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী:

  • আমতলী: ১ জন
  • বেতাগী: ২ জন
  • বামনা: ৬ জন
  • পাথরঘাটা: ৪ জন

বর্তমানে বরগুনার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২৪২ জন। এ বছর জানুয়ারি থেকে ১১ জুন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,৪৯৫ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২,২৫৩ জন।

সরকারি হিসেবে বরগুনা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ৬ জন। তবে বেসরকারিভাবে জানা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার অন্তত ১৬ জন রোগী বরিশাল ও ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

সংকটে চিকিৎসাসেবা, সচেতনতার তাগিদ

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজোয়ানুর আলম বলেন, “চিকিৎসক ও নার্সরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ দ্রুত সরবরাহ না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”

বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ জানান, “ডেঙ্গু রোগী প্রতিদিনই বাড়ছে। স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। মশার উৎসস্থল ধ্বংস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও জানান, সংকট মোকাবেলায় ইতিমধ্যে ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ৮ জন চিকিৎসক ও ১০ জন নার্স পদায়ন করা হয়েছে। স্যালাইন ও রক্ত পরীক্ষার কিট সরবরাহে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

উপসংহার

ডেঙ্গুতে বরগুনার বিপর্যস্ত চিত্র স্বাস্থ্যখাতের চরম দুর্বলতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। দ্রুত সচেতনতা, জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জামের সংস্থান না হলে এই হটস্পট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পিরোজপুরে বেইলি ব্রিজ ধসে যান চলাচল বন্ধ, জনদুর্ভোগ চরমে

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নে একটি বেইলি ব্রিজ ধসে পড়েছে কয়লাবোঝাই একটি ট্রাকসহ। এতে করে কলারন-সন্ন্যাসী-মোড়েলগঞ্জ-পিরোজপুর সড়কে সকল ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও, হাজারো মানুষের যোগাযোগে বিপর্যয় নেমে এসেছে।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২০ জুন) ভোররাত ৪টার দিকে। ইন্দুরকানী উপজেলার মালবাড়ি এলাকার খালের উপর নির্মিত স্টিলের বেইলি ব্রিজ দিয়ে পার হচ্ছিল একটি অতিরিক্ত মালবোঝাই কয়লার ট্রাক। অতিরিক্ত ওজনের চাপে ব্রিজটি ভেঙে ট্রাকসহ খালের মধ্যে পড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহু পুরনো এই ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরেই দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বারবার সতর্ক করা হলেও যথাসময়ে সংস্কার না করায় এখন তার মূল্য দিচ্ছে সাধারণ মানুষ।

ব্রিজের ওজনসীমা উপেক্ষা করে বিপদ

স্থানীয় সূত্র জানায়, ব্রিজটির ওপর পাঁচ টনের বেশি ওজনের যান চলাচল নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় ট্রাকটিতে থাকা কয়লার ওজন সেই সীমা অনেকটাই ছাড়িয়ে যায়। ব্রিজের উপর উঠতেই সেটি ভেঙে পড়ে খালে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ

ঘটনার পরপরই সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পিরোজপুর সওজ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ জানান, “ব্রিজ ধসের খবর পেয়ে আমরা তৎপর হয়েছি। ট্রাকটি উদ্ধারের পর দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হবে।”

জনদুর্ভোগ চরমে

ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় ইন্দুরকানী, কলারন, সন্ন্যাসী, মোড়েলগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। বিকল্প কোনো সেতু বা রাস্তা না থাকায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।

উপসংহার

যথাসময়ে সংস্কার এবং নিয়মিত তদারকি না থাকায় এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। এ ঘটনায় দ্রুত ব্রিজ পুনঃনির্মাণ এবং ভবিষ্যতে ওজনসীমা নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্রের তিনদিনেও খোঁজ নেই

বরিশালের বাবুগঞ্জ থেকে মাদরাসায় যাওয়ার পথে নিখোঁজ হওয়া ১৪ বছর বয়সী এক হেফজ বিভাগের ছাত্রের তিনদিনেও কোনো সন্ধান মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীর নাম মাহমুদ ইসলাম রাফি। সে বাবুগঞ্জ উপজেলার ঠাকুরমল্লিক গ্রামের মাহবুব ফকিরের একমাত্র ছেলে। পরিবার জানায়, গত রবিবার (২২ জুন) বিকেলে গৌরনদী উপজেলার হোসনাবাদ দূরানী বাড়ি হাফিজিয়া মাদরাসায় ফেরার পথে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয় রাফি।

রাফির বাবা মাহবুব ফকির বলেন, “ঘটনার পর আত্মীয়স্বজনসহ আশেপাশে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছি, কিন্তু কোথাও তার কোনো সন্ধান পাইনি।” তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, “আমার একমাত্র ছেলের যেন কোনো ক্ষতি না হয়, এজন্য দ্রুত তাকে খুঁজে বের করার অনুরোধ করছি।”

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গৌরনদী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন মাহবুব ফকির।

গৌরনদী মডেল থানার এক কর্মকর্তা জানান, জিডির পরপরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে




বরিশালে প্রস্তুত করোনা ওয়ার্ড, পরীক্ষা শুরু হয়নি কিট না থাকায়

দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার জন্য ৩০ শয্যার ওয়ার্ড প্রস্তুত থাকলেও এখনো চালু হয়নি নমুনা পরীক্ষা। বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, কিট না থাকায় পরীক্ষা শুরু করা যায়নি। কিট পৌঁছালে দ্রুতই কার্যক্রম শুরু হবে।

সোমবার (১৬ জুন) সকালে শেবাচিম হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, করোনার জন্য প্রস্তুত আধুনিক ওয়ার্ডে চিকিৎসা নেওয়ার মতো পরিকাঠামো থাকলেও পরীক্ষার কোনো উপকরণ নেই। ফলে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন পরীক্ষা ছাড়াই।

চাঁদমারি এলাকার বাসিন্দা তানিম বলেন, “জ্বর, গলা ব্যথা, কাশি দেখা দেওয়ায় হাসপাতালে যাই, কিন্তু পরীক্ষা না করে দু-একদিন পরে আসতে বলেছে। এখন উপসর্গ নিয়ে কী করব বুঝতে পারছি না।”

মুলাদীর মোশারেফ হোসেন বলেন, “উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে তারা বলে করোনা পরীক্ষা হচ্ছে না। বরিশাল শেবাচিমেও একই কথা শুনেছি। এটা খুবই হতাশাজনক।”

শেবাচিম হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান জানান, “করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় আমাদের ওয়ার্ড প্রস্তুত রয়েছে। মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর ল্যাবও প্রস্তুত। কেবল কিট এলেই পরীক্ষা শুরু হবে।”

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, “বিভাগের সব সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে করোনা ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিট আসার বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। আশা করছি এক-দুই দিনের মধ্যেই কিট সরবরাহ সম্পন্ন হবে।

 

 




বরিশালের বাকেরগঞ্জে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় আসমা আক্তার (৪০) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাতে উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের কলসকাঠী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আসমা আক্তার ওই গ্রামের আবুল হোসেনের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে হঠাৎ চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা তাদের বাড়িতে ছুটে গিয়ে আসমা আক্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসক নাহিদ হাসান জানান, নিহতের শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ধারালো অস্ত্রের আঘাতকেই প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। বুধবার সকালে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “এটি একটি রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড। ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধ, জমিজমা সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব অথবা অন্য কোনো কারণে ঘটে থাকতে পারে। সব দিক বিবেচনায় তদন্ত চলছে।”

তিনি আরও জানান, অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে

 

 




কৃষি কর্মকর্তাকে বাঁশ দিয়ে ‘পেটালেন’ বিএনপি ও ছাত্রদল নেতা

বরিশালের হিজলা উপজেলায় এক কৃষি কর্মকর্তাকে বাঁশ দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির এক সাবেক নেতা ও তার ছেলে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। রোববার (২২ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার টেকেরবাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কৃষি কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন এবং রাতেই থানায় মামলা দায়ের করেন।

আহত ব্যক্তি হলেন ফখরুল ইসলাম, তিনি উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ফখরুল ইসলাম জানান, প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় নারিকেল চারা বিতরণের তালিকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা গিয়াস দেওয়ান একটি নামের তালিকা জমা দেন। তবে যাচাই-বাছাইয়ে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা চারা পাওয়ার যোগ্য না হওয়ায় তাদেরকে চারা দেওয়া হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এবং তার ছেলে রিয়াজুল ইসলাম জিসান (ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, হিজলা সরকারি কলেজ) রোববার রাতে ৪-৫ জন সহযোগী নিয়ে ফখরুলের ওপর হামলা চালান।

তিনি আরও বলেন, “টেকেরবাজারে অফিসের কাজ শেষে ফেরার পথে আমাকে একটি চায়ের দোকানে ধরে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়। আমি ইউএনও স্যারের নির্দেশে হিজলা থানায় অভিযোগ করি।”

রাতেই হিজলা থানায় দায়ের করা মামলায় গিয়াস দেওয়ান, তার ছেলে রিয়াজুল ইসলাম জিসান এবং আরেকজনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত গিয়াস দেওয়ান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা এই ঘটনায় জড়িত নই। কে বা কারা হামলা করেছে জানি না।”

তবে হিজলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল গাফফার তালুকদার বলেন, “গিয়াস দেওয়ান ও তার ছেলে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হয়েছে।”

হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, “ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি তাৎক্ষণিক এজাহারভুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”




চার বছরের শিশুর মাথায় ইটের আঘাত: জমি বিরোধে নির্মম হামলা

জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চার বছরের এক শিশুকন্যার মাথা ইট দিয়ে থেতলে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। মর্মান্তিক এই হামলার শিকার শিশুটি বর্তমানে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন শিশুটির মা হাসিনা বেগম।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকাল ৯টার দিকে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানার পূর্ব ভাঙ্গা গ্রামে।

আহত শিশুর বাবা সেলিম হাওলাদার জানান, “আমরা ভাইয়েরা ঢাকায় চাকরি করি। আজ সকালে বাড়ির সামনের দরজায় একটি সিঁড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করি। এ সময় একই বাড়ির মৃত মান্নান মুন্সির ছেলে আবু বক্কর, কবির মুন্সি ও তাদের মা ফাহিমা বেগম ওই জমি নিজেদের দাবি করে নির্মাণ কাজে বাধা দেন।”

তিনি আরও বলেন, “বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে তারা আমার স্ত্রীকে ইট দিয়ে মারধর করেন এবং আমার ছোট্ট মেয়ে সাফা খানমের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে। তার মাথা থেতলে যায় এবং সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।”

স্থানীয়রা আহত মা-মেয়েকে প্রথমে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে দ্রুত ঢাকায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

এ ঘটনায় কাজিরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিশুর মা হাসিনা বেগম। বিষয়টি নিশ্চিত করে কাজিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 




উজিরপুরে নিখোঁজ কৃষক, তিন দিনেও সন্ধান মেলেনি

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জয়শ্রী গ্রামের কৃষক কাজী আবু তালেব (৫০) নিখোঁজ রয়েছেন তিন দিন ধরে। এ ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২১ জুন রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে জয়শ্রী বাসস্ট্যান্ড থেকে স্থানীয় সাজু পাম্প এলাকায় যাওয়ার পথে তিনি নিখোঁজ হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পরিবারের দাবি, তাকে একটি মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পরপরই তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

📞 নিখোঁজের আগমুহূর্তে ফোন

নিখোঁজ আবু তালেবের স্ত্রী পলি বেগম জানান, ঘটনার দিন রাতে স্বামী তাকে কল না দিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য মো. ফেরদৌস হাওলাদারকে ফোন করেন। ফোনে তিনি জানিয়ে ছিলেন— “আমাকে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হচ্ছে।” এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

🛂 থানায় সাধারণ ডায়েরি

নিখোঁজের ঘটনায় পরদিন ২২ জুন উজিরপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পরিবার প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

🗣️ স্থানীয়দের বক্তব্য

সাবেক ইউপি সদস্য ফেরদৌস হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফোন কল পাওয়ার পরপরই তিনি আবু তালেবের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ঘটনাটি জানিয়ে দেন।

❗ পরিবারের আবেদন

আবু তালেবের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা অত্যন্ত আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন। তারা প্রশাসনের কাছে আবু তালেবকে উদ্ধার করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।


📌 নিখোঁজ ব্যক্তির নাম: কাজী আবু তালেব
বয়স: ৫০ বছর
পিতা: মৃত কাজী আহাম্মত আলি
গ্রাম: জয়শ্রী, উজিরপুর, বরিশাল
নিখোঁজের তারিখ: ২১ জুন ২০২৫
জিডি নম্বর: [জিডির নম্বর পাওয়া গেলে এখানে যোগ করা যেতে পারে]


প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৫
📰 বার্তা২৪.কম




ডেঙ্গুতে আরও দুই মৃত্যু, হাসপাতালে ৩৯২ রোগী

সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৯২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে—তাদের মধ্যে একজন বরিশালের এবং অপরজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা।

সোমবার (২৩ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিভাগভিত্তিক নতুন ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা:

  • বরিশাল বিভাগ: ১২৬ জন

  • চট্টগ্রাম বিভাগ: ৮০ জন

  • ঢাকা (সিটি করপোরেশনের বাইরে): ৩১ জন

  • ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন: ২২ জন

  • ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: ৬৪ জন

  • খুলনা বিভাগ: ২৫ জন

  • রাজশাহী বিভাগ: ৪১ জন

  • ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ: একজন করে

একই সময়ে ২৬০ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে মোট ৭ হাজার ৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

📊 ডেঙ্গু সংক্রমণের সামগ্রিক চিত্র

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,

  • ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ১৫০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

  • মোট মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের

পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনামূলক চিত্র:

  • ২০২৪ সালে: ১,০১,২১৪ জন আক্রান্ত, ৫৭৫ জন মৃত্যু

  • ২০২৩ সালে: ৩,২১,১৭৯ জন আক্রান্ত, ১,৭০৫ জন মৃত্যু

জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, আগাম প্রস্তুতি ও সচেতনতা না থাকলে এবছরও ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার নিতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




আশংকাজনক হারে বেড়েছে ডেঙ্গু, মৃত্যু ১ জন

ডেঙ্গু পরিস্থিতির ক্রমাবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩৫২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এটি চলতি বছরের একদিনে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্তের সংখ্যা। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন শনাক্ত ৩৫২ জন রোগীর মধ্যে সর্বাধিক ১৬৭ জনই বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রামে ৭৬ জন, ঢাকার বাইরে ঢাকা বিভাগে ১৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৯ জন, দক্ষিণ সিটিতে ৪৩ জন, রাজশাহীতে ২৪ জন এবং খুলনায় ৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

এদিকে, একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়েছেন ৪১৩ জন রোগী। ফলে এ বছর মোট ৬ হাজার ৫১৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২১ জুন পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৭ হাজার ৪২৯ জন। আর এই সময়ের মধ্যে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৩১ জনের।

বিশেষজ্ঞরা ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বরিশালসহ বেশ কয়েকটি বিভাগে আক্রান্তের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, যা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।