বরগুনা ডেঙ্গুর হটস্পটে পরিণত, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৯৩ জন

উপকূলীয় জেলা বরগুনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থাকলেও বরগুনা এখন একপ্রকার হটস্পটে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ জুন) দুপুরে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালজুড়ে রোগীর উপচে পড়া ভিড়, শয্যা সংকট এবং চিকিৎসাসেবায় চরম দুর্ভোগ।
স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ধস, মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা
বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার অন্যান্য হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। শয্যার সংকটে অনেক রোগী বারান্দা ও করিডোরে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। নারীদের ও শিশুদের ওয়ার্ডেও একই চিত্র।
২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৯৩, মৃত্যুও বাড়ছে
সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বরগুনায় নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৩ জন। এর মধ্যে বরগুনা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮০ জন এবং বাকি ১৩ জন জেলার অন্যান্য হাসপাতালে।
উপজেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী:
- আমতলী: ১ জন
- বেতাগী: ২ জন
- বামনা: ৬ জন
- পাথরঘাটা: ৪ জন
বর্তমানে বরগুনার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২৪২ জন। এ বছর জানুয়ারি থেকে ১১ জুন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,৪৯৫ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২,২৫৩ জন।
সরকারি হিসেবে বরগুনা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ৬ জন। তবে বেসরকারিভাবে জানা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার অন্তত ১৬ জন রোগী বরিশাল ও ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
সংকটে চিকিৎসাসেবা, সচেতনতার তাগিদ
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজোয়ানুর আলম বলেন, “চিকিৎসক ও নার্সরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ দ্রুত সরবরাহ না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”
বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ জানান, “ডেঙ্গু রোগী প্রতিদিনই বাড়ছে। স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। মশার উৎসস্থল ধ্বংস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।”
তিনি আরও জানান, সংকট মোকাবেলায় ইতিমধ্যে ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ৮ জন চিকিৎসক ও ১০ জন নার্স পদায়ন করা হয়েছে। স্যালাইন ও রক্ত পরীক্ষার কিট সরবরাহে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
উপসংহার
ডেঙ্গুতে বরগুনার বিপর্যস্ত চিত্র স্বাস্থ্যখাতের চরম দুর্বলতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। দ্রুত সচেতনতা, জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জামের সংস্থান না হলে এই হটস্পট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫








