ঘন কুয়াশায় ঢাকা–চাঁদপুর–বরিশাল নৌপথে লঞ্চ চলাচল স্থগিত

ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকা–চাঁদপুর–বরিশাল নৌরুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাত ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুরের উপ-পরিচালক (নৌ-নিট্রা) বাবু লাল বৈদ্য জানান, হঠাৎ করে নদীপথে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় নৌপথে দৃষ্টিসীমা অত্যন্ত কমে গেছে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু ঢাকা–চাঁদপুর–বরিশাল রুট নয়, একই সঙ্গে ভোলা–বরিশালসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন নৌরুটেও যাত্রীবাহী লঞ্চ ও অন্যান্য নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। চলাচলরত লঞ্চগুলোকে যে যেখানে রয়েছে, সেখানেই নিরাপদ স্থানে নোঙর করে অবস্থান নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, কুয়াশার কারণে রাতের বেলায় নদীতে নৌযান পরিচালনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বড় নদী ও মোহনায় দৃষ্টিসীমা কম থাকায় নৌদুর্ঘটনার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কুয়াশা কেটে গেলে এবং নৌপথে দৃষ্টিসীমা স্বাভাবিক হলে পুনরায় নৌযান চলাচল চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে হঠাৎ নৌযান চলাচল বন্ধ হওয়ায় বিভিন্ন লঞ্চঘাটে যাত্রীদের ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মুদি ব্যবসায়ী স্বপন হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবিতে ভাণ্ডারিয়ায় মানববন্ধন

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় মুদি ব্যবসায়ী স্বপন কুমার বল ওরফে কালু (৫৫) হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় উপজেলার বলবাড়ি সংলগ্ন বরিশাল–পিরোজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহত স্বপনের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় ব্যবসায়ী, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আলী বাহাদুর, প্রফেসর সলিল কুমার বল, স্বপন কুমার বেপারী, ছাত্রদল নেতা ইদ্রিস হাওলাদার, মহিউদ্দিন শামীম এবং নিহতের মেয়ে শম্পা রানী বলসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, একজন সাধারণ মুদি ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যা করে অপরাধীরা পার পেয়ে যেতে পারে না। দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত হত্যাকারীসহ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, স্বপন কুমার বল ছিলেন একজন সৎ ও পরিশ্রমী ব্যবসায়ী। তার হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো এলাকার মানুষকে আতঙ্কিত করেছে। তাই বিচার বিলম্বিত হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক বার্তা যাবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, গত ২১ ডিসেম্বর রবিবার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার নদমূলা ইউনিয়নের দক্ষিণ শিয়ালকাঠী গ্রামের নিজ মুদি দোকানে অবস্থান করছিলেন স্বপন কুমার বল। এ সময় চুরির উদ্দেশ্যে শুভজিৎ নামের এক কিশোর দোকানে প্রবেশ করে। বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দিলে অভিযুক্ত শুভজিৎ ইট দিয়ে স্বপনের মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহত করে এবং দোকান থেকে নগদ টাকা ও বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বরিশালের কেএমসি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার তিনি মারা যান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সেন্টমার্টিনগামী পর্যটন জাহাজে আগুন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :   কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনগামী ” দি আটলান্টিক কুরুজ “একটি বিলাসবহুল পর্যটকবাহী জাহাজ ।  সেন্টমার্টিনগামী  এ  পর্যটন জাহাজে  অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রার প্রস্তুতিকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে যাত্রী উঠানোর জন্য জাহাজটি ভিড়ানোর ঠিক আগ মুহূর্তে হঠাৎ করে ইঞ্জিন রুমে আগুন ধরে যায়। যাত্রী বোর্ডিং শুরুর আগেই আগুনের সূত্রপাত হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

এ বিষয়ে সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, যাত্রী ওঠানোর আগেই আগুন লাগায় কোনো যাত্রী হতাহত হননি। ওই জাহাজে থাকা প্রায় ১৮০ জন যাত্রীকে নিরাপদে অন্যান্য জাহাজে স্থানান্তর করা হয়েছে।




মেঘনায় লঞ্চ দুর্ঘটনা: অ্যাডভেঞ্চার-৯-এর রুট পারমিট বাতিল, মামলা প্রক্রিয়াধীন

বরিশাল অফিস :: চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী দুটি লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনায় ‘এমভি অ্যাডভেঞ্চার-৯’ লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক মো. সোলাইমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে দায়ের ইঙ্গিত পাওয়ায় অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটির রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতিও চলছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে মেঘনা নদীতে বরিশাল-ভোলা থেকে ঢাকাগামী ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ এবং ঝালকাঠিগামী ‘এমভি অ্যাডভেঞ্চার-৯’ লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। দুর্ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত হন এবং বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে কেউ ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতাল, কেউ জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল), আবার কেউ বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দুর্ঘটনার পর শুক্রবার সকালে নিজাম শিপিং লাইন্সের মালিকানাধীন অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটি ঝালকাঠি লঞ্চ টার্মিনালে পৌঁছালে বরিশাল নৌ-পুলিশ ও ঝালকাঠি থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে লঞ্চটি জব্দ করে। একই সঙ্গে লঞ্চের চার কর্মীকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন—ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মো. মিন্টু (২৮), মহিন হাওলাদার (২৫), পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার মো. সোহেল (৪০) এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মো. মনিরুজ্জামান (৪০)। তারা লঞ্চের কেবিন বয় হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, লঞ্চটি ঝালকাঠিতে নোঙর করার পর এর সারেং, সুকানি, সুপারভাইজার ও ইঞ্জিনচালক পালিয়ে যায়। তবে চারজন কর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর নদীপথে নিরাপত্তা ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় লঞ্চ চলাচলে বাড়তি সতর্কতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




দুমকীতে অটো ও টমটমের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুজনের, আহত আরও দুই

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলায় যাত্রীবাহী অটোরিকশা ও সিমেন্টবোঝাই টমটমের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লেবুখালী–বাউফল মহাসড়কের রাজাখালী এলাকায় (স্থানীয়ভাবে পিছাখালী ব্রিজ) এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগা এলাকা থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা রাজাখালী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা সিমেন্টবোঝাই টমটমের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই রবিউল নামে ছয় বছরের এক শিশু নিহত হয়। আহত অবস্থায় অন্যদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক ইব্রাহিম খান (৬০) নামের আরও একজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত সুমন সরদার (২৫) ও আব্দুল কাদের (৫০) কে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত আব্দুল কাদেরের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং সুমন সরদারের একটি হাত সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে।

নিহত ও আহতদের বাড়ি বাউফল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দীন বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশা ও টমটম উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা জানান, ওই সড়ক অংশে প্রায়ই দ্রুতগতির যান চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। তারা এ এলাকায় সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সাবেক স্বামীর নৃশংস ছুরিকাঘাতে তরুণীর মৃত্যু, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

পিরোজপুর সদর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে সাবেক স্বামীর ছুরিকাঘাতে এক তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার ঝাটকাঠি এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত তরুণীর নাম সুমনা আক্তার (১৮)। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা ফারুক শিকদারের মেয়ে। অভিযুক্ত অমিত হাসান সদর উপজেলার মধ্য রাস্তা এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতে সাবেক স্বামী অমিত হাসান হঠাৎ করে সুমনা আক্তারের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রাত ১০টার দিকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানান এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ২টার দিকে সুমনা আক্তার মারা যান। বর্তমানে তার মরদেহ পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) নিজাম উদ্দিন বলেন, আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু তার আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) তরিকুল ইসলাম জানান, নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




লালমোহন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ মাস বেতন বন্ধ, ভোগান্তিতে ডাক্তার-নার্সরা

ভোলার লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত দুই মাস ধরে ডাক্তার, নার্সসহ ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার (ইউএইচএফপিও) পদ শূন্য থাকায় এবং ডিডিওশিপ (আর্থিক ক্ষমতা) না দেওয়ায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলে হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

সরেজমিনে জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৈয়বুর রহমান বদলি হন। এরপরও নতুন কর্মকর্তার যোগদান হয়নি। এ কারণে দুই মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় প্রথম শ্রেণির ১২ জন, দ্বিতীয় শ্রেণির ৩২ জন ও তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির ৮৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী চরম বিপাকে পড়েছেন।

লালমোহন উপজেলার ভারপ্রাপ্ত পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মহসীন খান জানান, তিনি আরএমও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু ডিডিওশিপ না দেওয়ায় অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের বেতন প্রদান সম্ভব হয়নি। বিষয়টি উচ্চ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও এখনও কোনো সমাধান হয়নি।

উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার জাকিয়া সুলতানা বলেন, “দুই মাস ধরে বেতন-ভাতা পাইনি। তবুও প্রতিদিন রোগীদের সেবা দিচ্ছি। বেতন না পাওয়ায় সংসার চালানো ও পরিবারের চিকিৎসা করানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”

নার্স মুক্তা বেগম ও নন্দিতা হালদারও জানান, “দুই মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় সংসারে কষ্ট হচ্ছে। তারপরও আমরা প্রতিদিন রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি।”

ভোলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুল ইসলাম জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বদলির পর নতুন কর্মকর্তা যোগদান না হওয়ায় বেতন প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, দ্রুত সমাধান করা হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




চিকিৎসার নামে কি চলছে দেশে?

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : ২০১২ সালের মার্চ মাস। ফিরোজা খাতুনের জীবনের এক উল্লেখযোগ্য সময়। তার স্তনের সমস্যার জন্য চিকিৎসকের দ্বারস্ত হন  দেশের নামিদামি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বলা হয়েছে, আপনার ডান পাশের স্তনে ক্যানসার ধরা পড়েছে। ‘কথা শুনে আঁতকে উঠলেন তিনি ।

তিনি বলেন, স্লাইড পরীক্ষায় মেডিনোভা ও আনোয়ারা মেডিকেল সার্ভিসেস নামের দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকেই ক্যানসার থাকার কথা বলেছিল।

এরপর একটি নয়, দুটি নয়, চারটি ক্যামোথেরাপিও দেওয়া হয়। প্রস্তুতি চলে অপারেশনেরও। ডাক্তাররা বললেন, অপারেশন করে স্তন ফেলে দিতে হবে।

কিন্তু অপারেশন করার আগে ভারতে যাওয়ার পরামর্শ দেন আত্মীয়স্বজনরা। স্বজনদের কথায় ভারতের কলকাতায় পাড়ি দেন তিনি। ওখানেও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান ডাক্তাররা। কিন্তু এসব পরীক্ষায় ক্যানসারের কোনো উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বলা হয়েছে ক্যানসার আছে, ভারতের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বলেছে ক্যানসার নেই।

ফিরোজা এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। কিন্তু তাতে কী? পেশায় একজন শিক্ষক ফিরোজার প্রশ্ন না জানি আমার মতো কত মানুষ ভুল পরীক্ষায় অকালে জীবন হারাচ্ছে। কিংবা অপারেশন করে অঙ্গ হারাচ্ছে। ভুল চিকিৎসার ফাঁদে যেন কেউ না পড়েন সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

এরকম ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে আমাদের চারপাশে। অধিকাংশ মানুষেরই এ দেশের চিকিৎসার ওপর আস্থা নেই। যারা সুযোগ পান তারা চলে যান বিদেশে। কিন্তু যারা বিদেশে যেতে পারেন না, তারা চিকিৎসার নামে প্রতারিত হয়ে নিঃস্ব হন বটে সুস্থ হন না। অনেকে অসুস্থ হলেও চিকিৎসা নিতে আগ্রহী নন।

‘আমার স্ত্রী বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ। কষ্ট পাচ্ছে, তবুও সে ডাক্তারের কাছে যেতে রাজি না,’ বলছিলেন ঢাকার খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা ফখরুল আলম।

বছরখানেক আগে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে খতনা করাতে গিয়ে আলমের বড় ছেলে আহনাফ তাহমিদের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর শোকার্ত পরিবারটির সদস্যদের মধ্যে বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে এক ধরনের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। ‘আমার ছোট ছেলেরও খতনা করানোর সময় হয়েছে। কিন্তু তাকে যে হাসপাতালে নেবো, সেই সাহস পাচ্ছি না,’ বলেন তিনি।

সন্তানহারা এই বাবা এটাও জানিয়েছেন যে, তার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যেও বেশ কয়েকজন চিকিৎসক রয়েছেন।

ফখরুল আলমের মতো বাংলাদেশে অসংখ্য মানুষ রয়েছেন, বিভিন্ন কারণে যারা দেশটির চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর সেভাবে ভরসা রাখতে পারছেন না। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেবা পেতে ভোগান্তি, রোগ ধরতে না পারা, স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ভুল রিপোর্ট দেওয়া, রোগীকে যথেষ্ঠ সময় না দেওয়া, দায়িত্বে অবহেলায় মৃত্যু, স্বাস্থ্যসেবায় বাণিজ্যিক মনোভাব, জবাবদিহি ও নজরদারির অভাবসহ বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর থেকে সাধারণ মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলছে।

বেসরকারি হিসেবে, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রায় ৮ লাখের মতো মানুষ চিকিৎসা করাতে বিদেশে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে, চিকিৎসার নামে প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে। এতে অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

‘দেশে অন্তত ১০-১২জন ডাক্তারকে দেখাইছি। কিন্তু কেউ বলতে পারেনি যে, আমার ঠিক কী হয়েছে,’ বলছিলেন বজলুর রহমান। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী বজলুর রহমানের বছর দুই আগে অনেকটা হঠাৎ করেই পেটে ব্যথা শুরু হয়। শুরুর দিকে কিছুটা কম থাকলেও ক্রমেই ব্যথার তীব্রতা বাড়তে থাকে। তখন তিনি সমস্যার সমাধানে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞের কাছে যান। ‘তিনি আমাকে বেশকিছু টেস্ট দিলেন। সেগুলো করালাম, কিন্তু কিছুই ধরা পড়ল না। তখন ডাক্তার কিছু ওষুধ দিয়ে বলল, ওষুধগুলো খান, সব ঠিক হয়ে যাবে,’ নিজের ভোগান্তির কথা এভাবেই বলছিলেন এই ভুক্তভোগী। ওষুধগুলো খাওয়ার পর কিছুদিন ব্যথা ঠিকও হয়েছিল তার। কিন্তু মাস না পেরোতেই পুনরায় সেটি ফিরে আসে। এর পরের এক বছরে যে যেখানে রেফার করছে, সেখানে গিয়ে ডাক্তার দেখাইছি। কিন্তু কেউ বলতে পারে না যে, ঠিক কী রোগ হয়েছে, রোগ ধরা না পড়লেও ওই এক বছরে চিকিৎসক, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ওষুধ বাবদ এক লাখেরও বেশি টাকা খরচ করে ফেলেন বজলুর রহমান।

পরে পরিবারের সবার সঙ্গে আলোচনা করে রোগ নির্ণয়ে ভারতের চেন্নাইয়ে যান তিনি। ‘সেখানে গিয়ে দেখা গেল, আমার কোলনে আলসার। অথচ দেশের ডাক্তাররা এক বছরেও ধরতে পারল না। আমার টাকাও নষ্ট হলো, ভুগতেও হলো,’ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন তিনি।

সঠিকভাবে রোগ ধরা না পড়ার কারণে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বহু মানুষ বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতি বছর যত মানুষ বিদেশে ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছেন, তাদের প্রায় ৫৩ শতাংশই রোগ নির্ণয় ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে যাচ্ছেন বলে এক গবেষণায় জানা গেছে।

বাংলাদেশে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে রোগীদের পুরোনো একটি অভিযোগ হচ্ছে, ডাক্তাররা তাদের পর্যাপ্ত সময় দেন না। যুক্তরাজ্যভিত্তিক চিকিৎসা সাময়িকী ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সারা বিশ্বে যেসব দেশে চিকিৎসকরা রোগীদের সবচেয়ে কম সময় দেন, বাংলাদেশ সেগুলোরই একটি। দেশটিতে চিকিৎসকরা একজন রোগীর পেছনে গড়ে মাত্র ৪৮ সেকেন্ড সময় ব্যয় করে থাকেন।

সরকারি হিসেবে, দেশে বর্তমানে ১৫ হাজারের মতো নিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। যদিও বাস্তবে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এসব হাসপাতালের একটি বড় অংশেই প্রশাসনের নজরদারি নেই। জেলা পর্যায়ের অনেক হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও নেই বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া ঢাকার বাইরের অনেক বেসরকারি হাসপাতালে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলও নেই।

২০২৪ সালে ঢাকার সাঁতারকুলে অবস্থিত ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে খতনা করাতে গিয়ে মারা যায় পাঁচ বছর বয়সি শিশু আয়ান আহমেদ। ভুল চিকিৎসা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় আয়ানের মৃত্যু হয়েছে বলে তখন অভিযোগ তুলেছিল শিশুটি পরিবার।

ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর নির্মাণাধীন হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অনুমোদন ছাড়াই হাসপাতালটি চলছিল বলে তখন জানান সরকারের কর্মকর্তারা।

মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেয় হাই কোর্ট। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চলতি বছরের জানুয়ারিতে কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে শিশু আয়ানের মৃত্যুর জন্য ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সেখানকার দুই চিকিৎসককে দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন কমিটির সদস্যরা।

সেই সঙ্গে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে নিহত শিশুর পরিবারকে দেওয়ার সুপারিশও করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ওইসব সুপারিশের কোনোটাই বাস্তবায়ন করা হয়নি। সব অনিয়মের বিরুদ্ধে এরকমই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তদন্ত হয়, সুপারিশ দেওয়া হয়, কিন্তু সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয় না। ফলে জবাবদিহির অভাবে আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থা এখন অরাজকতায় পূর্ণ হয়েছে।

 




খুলনায় এনসিপি নেতাকে গুলির ঘটনায় সাতক্ষীরা সীমান্ত সিল, বিজিবির কঠোর নজরদারি

খুলনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে গুলির ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ঘটনার পর সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সাতক্ষীরা সীমান্ত কার্যত সিল করে দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয় একাধিক চেকপোস্ট। একই সঙ্গে সীমান্তজুড়ে তল্লাশি ও নজরদারি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সংঘটিত এই গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতিকারীদের আটক এবং তাদের সীমান্ত অতিক্রম রোধের লক্ষ্যে সাতক্ষীরা সীমান্তে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়মিত টহল ও চেকপোস্টের পাশাপাশি অতিরিক্ত টহল দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন চলাচলের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

বিজিবির সাতক্ষীরা ৩৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সীমান্ত এলাকায় যেন কোনোভাবেই অপরাধীরা পালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

বিজিবির দায়িত্বশীল সূত্র আরও জানায়, খুলনার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা যাতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে, সে লক্ষ্যে যশোর রিজিয়নের আওতাধীন সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাংগা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিচ্ছিদ্র নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে যশোর রিজিয়নের অধীনস্থ সাতটি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় মোট ৫৭টি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত টহলের সঙ্গে অতিরিক্ত ৮৭টি টহল পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে দুষ্কৃতিকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও আটক করা সম্ভব হয়।

এ ছাড়া সীমান্ত এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবির পক্ষ থেকে স্থানীয় জনসাধারণ, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হচ্ছে। বিশেষ প্রচার ও প্রচারণার মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং সন্দেহজনক কোনো তথ্য পাওয়া গেলে বিজিবিকে জানাতে স্থানীয়দের অনুরোধ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে সীমান্ত এলাকায় অপরাধ দমন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




এআই রোবটিক চিকিৎসায় নতুন যুগ, বিএমইউতে চালু আধুনিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার

দেশের চিকিৎসা খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। পক্ষাঘাতগ্রস্ত, দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত এবং হাড় ও জোড়ার জটিল সমস্যায় ভোগা রোগীদের উন্নত পুনর্বাসন চিকিৎসা দিতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার।

চীন সরকারের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্থাপিত এই অত্যাধুনিক সেন্টারটিতে ইতোমধ্যে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগী চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো—জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে আহত রোগীরা এখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিশ্বের সর্বাধুনিক রোবটিক চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন।

বিএমইউ’র ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের ফোকাল পারসন অধ্যাপক ডা. এম

 

৫৭টি রোবটের মধ্যে ২২টি সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর। এসব এআই রোবট নিউরোপ্লাস্টিসিটি বা মস্তিষ্কের ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ু পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করে, যা প্রচলিত ফিজিওথেরাপির তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর ও নির্ভুল বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

স্ট্রোক ও স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত রোগীদের স্বাভাবিক হাঁটার সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সেন্টারে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘জিপু এআই-১ ও ৯’ (ZEPU AI1 & AI9) নামের গেইট ট্রেনিং রোবট। একই সঙ্গে হাত ও পায়ের সূক্ষ্ম নড়াচড়া ও কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধারে ব্যবহৃত হচ্ছে ‘জিপু এআই-২’ (ZEPU AI2) ও ‘জিপু এআই-৩’ (ZEPU AI3)। এছাড়া মাল্টি জয়েন্ট কনস্ট্যান্ট স্পিড ট্রেনিং সিস্টেম ‘জিপু এআই-৪’ (ZEPU AI4)-সহ আরও উন্নত প্রযুক্তির রোবট রোগীদের অত্যন্ত স্বাভাবিক ও নিখুঁত ভঙ্গিতে চলাফেরা অনুশীলনে সহায়তা করছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই প্রকল্পে চীন সরকার প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের রোবটিক যন্ত্রপাতি অনুদান দিয়েছে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দিক থেকে এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

বিএমইউ কর্তৃপক্ষ জানায়, সেন্টারটি চালুর প্রস্তুতি হিসেবে চীনের সাত সদস্যের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের একটি বিশেষ

 

জ্ঞ দলের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে ২৯ জন চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্টকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ

এ শাকুর জানান, এই সেন্টারে মোট ৬২টি অত্যাধুনিক যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫৭টি রোবটিক ডিভাইস এবং পাঁচটি বিশেষ ফিজিক্যাল থেরাপি ট্রেনিং বেড।

প্রাপ্ত জনবল পূর্ণ দক্ষতা অর্জনের পর সেন্টারটি পুরোদমে চালু করা হবে।

এই সেন্টার থেকে স্ট্রোক, পক্ষাঘাত, স্নায়বিক বৈকল্য, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, নার্ভ ইনজুরি, ফ্রোজেন শোল্ডার, দুর্ঘটনাজনিত জটিলতা এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের দুর্বলতায় ভোগা রোগীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার উদ্বোধনকালে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, এই কেন্দ্রটি কেবল চিকিৎসাসে

বা প্রদানের স্থান নয়, বরং দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভোগা বহু মানুষের নতুন করে স্বপ্ন দেখার জায়গা। তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিরা অগ্রাধিকারভিত্তিতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন।

এছাড়া চীন সরকার বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য চীনে চিকিৎসাসেবা সহজ করতে ‘গ্রিন চ্যানেল’ চালু করেছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশিরা দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রোগ নির্ণয়ের সুযোগ পাবেন।

বিএমইউ কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সাধারণ রোগীরাও নামমাত্র খরচে এই আধুনিক সেবা নিতে পারবেন। ফলে স্নায়ু, হাড় ও জোড়া রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ভবিষ্যতে আর বিদেশমুখী হতে হবে না বলে তারা আশাবাদী।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫