পিরোজপুরে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের সংকট, ভোগান্তিতে হাজারো রোগী

পিরোজপুর জেলা সদর হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের চরম সংকটে পড়েছে রোগীরা। বিগত কয়েক মাস ধরে সরকারি ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনে নিতে হচ্ছে মূল্যবান ভ্যাকসিন, যা অনেকের সামর্থ্যের বাইরে।
পিরোজপুর জেলার সাতটি উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে প্রতিদিন শতাধিক রোগী আসে এই হাসপাতালে। কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্তদের জন্য জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন জীবন রক্ষাকারী হলেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় তা এখন অনুপস্থিত।
ভ্যাকসিন নিতে আসা রোগী ফয়সাল আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি হাসপাতালে এসে যদি টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কিনতে হয়, তাহলে এর উপকারিতা কোথায়? আমাদের বলা হচ্ছে, চারজন মিলে একটি ভ্যাকসিন কিনে নিতে!”
আরেক রোগী ফারজানা আক্তার বলেন, “বিড়ালের আঁচর খাওয়ার পর হাসপাতালে এসেছিলাম, কিন্তু এখানে ভ্যাকসিন নেই। বাধ্য হয়ে চারজন মিলে একটি ভ্যাকসিন কিনেছি। এতে করে সময়, অর্থ—সবই অপচয় হচ্ছে।”
তাসরিফ নামের আরেক রোগী বলেন, “সাধারণ মানুষ এই অতিরিক্ত খরচ কিভাবে চালাবে? সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সমস্যা আরও বাড়বে।”
জেলা হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সরা জানাচ্ছেন, প্রতিদিনই রোগী ও স্বজনদের অসন্তোষের মুখে পড়তে হচ্ছে। তারা বলেন, “আমাদের তো কিছু করার নেই। রোগীর জীবন বাঁচানো জরুরি। তাই আমরা বাইরে থেকে ভ্যাকসিন এনে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। তবে নিয়মিত ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকলে বড় বিপদ হতে পারে।”
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান বলেন, “প্রতি মাসে যত ভ্যাকসিন দরকার হয়, সেই পরিমাণ সরবরাহ পাওয়া যায় না। স্বাস্থ্য অধিদফতরে নতুন চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, কয়েক দিনের মধ্যেই ভ্যাকসিন এসে পৌঁছাবে এবং সংকট কেটে যাবে।”
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে অন্তত ৮ হাজার রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ থাকলে সামনের দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /








