পিরোজপুরে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের সংকট, ভোগান্তিতে হাজারো রোগী

পিরোজপুর জেলা সদর হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের চরম সংকটে পড়েছে রোগীরা। বিগত কয়েক মাস ধরে সরকারি ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনে নিতে হচ্ছে মূল্যবান ভ্যাকসিন, যা অনেকের সামর্থ্যের বাইরে।

পিরোজপুর জেলার সাতটি উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে প্রতিদিন শতাধিক রোগী আসে এই হাসপাতালে। কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্তদের জন্য জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন জীবন রক্ষাকারী হলেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় তা এখন অনুপস্থিত।

ভ্যাকসিন নিতে আসা রোগী ফয়সাল আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি হাসপাতালে এসে যদি টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কিনতে হয়, তাহলে এর উপকারিতা কোথায়? আমাদের বলা হচ্ছে, চারজন মিলে একটি ভ্যাকসিন কিনে নিতে!”

আরেক রোগী ফারজানা আক্তার বলেন, “বিড়ালের আঁচর খাওয়ার পর হাসপাতালে এসেছিলাম, কিন্তু এখানে ভ্যাকসিন নেই। বাধ্য হয়ে চারজন মিলে একটি ভ্যাকসিন কিনেছি। এতে করে সময়, অর্থ—সবই অপচয় হচ্ছে।”

তাসরিফ নামের আরেক রোগী বলেন, “সাধারণ মানুষ এই অতিরিক্ত খরচ কিভাবে চালাবে? সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সমস্যা আরও বাড়বে।”

জেলা হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সরা জানাচ্ছেন, প্রতিদিনই রোগী ও স্বজনদের অসন্তোষের মুখে পড়তে হচ্ছে। তারা বলেন, “আমাদের তো কিছু করার নেই। রোগীর জীবন বাঁচানো জরুরি। তাই আমরা বাইরে থেকে ভ্যাকসিন এনে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। তবে নিয়মিত ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকলে বড় বিপদ হতে পারে।”

পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান বলেন, “প্রতি মাসে যত ভ্যাকসিন দরকার হয়, সেই পরিমাণ সরবরাহ পাওয়া যায় না। স্বাস্থ্য অধিদফতরে নতুন চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, কয়েক দিনের মধ্যেই ভ্যাকসিন এসে পৌঁছাবে এবং সংকট কেটে যাবে।”

পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে অন্তত ৮ হাজার রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ থাকলে সামনের দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




পিরোজপুরে বিএনপির সদস্য ফরম বাছাইকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৬

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বিএনপির নতুন সদস্য ফরম যাচাই-বাছাইকে কেন্দ্র করে দলীয় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ছাত্রদল ও বিএনপির ছয় কর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৩০ জুন) রাতে মঠবাড়িয়া পৌর শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে। ওই ভবনে ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপির ৫০০ সদস্যের আবেদন ফরম যাচাই-বাছাই চলছিল। এ সময় দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

আহতদের মধ্যে তিনজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলেন—ধানীসাফা ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রদল সভাপতি মো. সজিব হাওলাদার, আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপি কর্মী মো. ছগির হোসেন (৪৫), সাবেক পৌর ছাত্রদল নেতা ইসতিহাক আহম্মেদ নিশাদ, গুলিসাখালী ইউনিয়ন বিএনপি কর্মী মো. সোহাগ তালুকদার (৪০) ও টিকিটা ইউনিয়ন বিএনপি কর্মী মো. ইউসুফ খান।

মঠবাড়িয়া পৌর বিএনপির সভাপতি কেএম হুমায়ূন কবীর বলেন, “সদস্য ফরম যাচাই চলাকালীন সময় কিছু কর্মীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়। এর জেরে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় থেকে হাতাহাতি এবং পরে সংঘর্ষ ঘটে। দলীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ধানীসাফা ইউনিয়নের ছাত্রদলের এক নেতা মারধরের শিকার হলে উত্তেজনা চরমে ওঠে এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়।

মঠবাড়িয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল হালিম বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম 




বরগুনায় ডেঙ্গুতে ২৬ মৃত্যু, আক্রান্ত ৩ হাজার ছাড়াল

উপকূলীয় জেলা বরগুনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২৬ জনের। এ অবস্থায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো।

বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১ জুলাই) পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ২৫ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৮শ ৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৯৩ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২১৭ জন।

সরকারি হিসেবে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ৬ জন। তবে জেলার বাইরে, বিশেষ করে ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সিভিল সার্জন অফিস।

সদর হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলো ঘুরে দেখা গেছে, শয্যার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বহু রোগীকে বারান্দা, করিডোর এমনকি মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। নারী ও শিশু ওয়ার্ড, মেডিসিন ইউনিট সবখানেই একই চিত্র। রোগীদের বেশিরভাগই বরগুনা পৌর শহর ও সদর উপজেলার বাসিন্দা।

২৫০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তাসকিয়া সিদ্দিকী বলেন, “প্রতিদিন রোগী বাড়লেও যেসব সুস্থ হয়ে ফিরছেন তাদের জায়গায় নতুন রোগীদের স্থান দেওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এ হার ধরে রাখা যাবে কিনা, তা এখন বলা মুশকিল।”

তিনি আরও জানান, হাসপাতালটি ডেঙ্গু জরুরি মোকাবিলায় ৮ জন চিকিৎসক ও ১০ জন নার্স বাড়তি নিয়োগ পেয়েছে। তবে শুধু চিকিৎসা নয়, স্থানীয়দের নিজ নিজ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।

ডেঙ্গু রোগ নিয়ে বরগুনায় কাজ করতে আসা আইইডিসিআর প্রতিনিধিদলের টিম লিডার ডা. মো. তারিকুল ইসলাম লিমন বলেন, “অনেকেই মনে করেন শুধু অপরিচ্ছন্নতায় মশা হয়, কিন্তু এডিস মশা পরিষ্কার পানিতেই জন্মে। বরগুনার উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানি সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত প্লাস্টিক পাত্রগুলোই এখন এডিসের প্রজননস্থল হয়ে উঠছে।”

বরগুনার প্রায় ১২ লাখ মানুষের জন্য ডেঙ্গু এখন বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন একে জেলার ‘হটস্পট’ হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, দীর্ঘ সময়ের পানি জমে থাকা এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অভাবেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। না হলে এটি ভবিষ্যতে মহামারির আকার ধারণ করতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম 




মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ে চালককে হত্যা, যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নেত্রকোনায় মোটরসাইকেল ছিনতাই করতে গিয়ে চালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করার ঘটনায় মো. সাদেকুল ইসলাম (২৩) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (৩০ জুন) বিকেলে নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। তবে রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত সাদেকুল ইসলাম নেত্রকোনা পৌর শহরের পূর্ব কাটলী এলাকার মো. আব্দুস সাত্তারের ছেলে। নিহত মোটরসাইকেল চালক ঝিনুক মিয়া (২৩) সদর উপজেলার পশ্চিম মেদনী গ্রামের বাসিন্দা ও সোহরাব হোসেনের ছেলে।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সাদেকুল মোটরসাইকেল ভাড়া করে মদন উপজেলায় ষাঁড়ের লড়াই দেখতে যান। ফেরার পথে নানা জায়গায় ঘুরিয়ে সে ঝিনুক মিয়াকে পূর্বধলার শ্যামগঞ্জ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে বাজারসংলগ্ন স্থানে গিয়ে সাদেকুল পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

স্থানীয় লোকজন আহত ঝিনুককে উদ্ধার করে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় শ্যামগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির চেকপোস্টের নিকটবর্তী এলাকায় হওয়ায় সাদেকুল পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় এবং মোটরসাইকেলটি ফেলে রেখে যায়।

নিহতের ভাই মো. টিটু মিয়া পূর্বধলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শেষে আসামি সাদেকুলকে গ্রেফতার করে। তবে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে সে পলাতক।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবুল হাসেম। তিনি রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে প্রাণ গেল হেলপার ও পথচারীর

বরিশালের উজিরপুরে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি টাইলসবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে বেপরোয়া গতির আমবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন ট্রাকের হেলপার সোহেল (২০) এবং পথচারী সবুজ হাওলাদার (৩০)।

সোমবার (৩০ জুন) ভোর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উজিরপুর উপজেলার পূর্ব ধামসর গ্রামের সোনার বাংলা স্কুলসংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা টাইলসবোঝাই ট্রাকটিকে পেছন থেকে দ্রুতগতির আমবোঝাই ট্রাকটি ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই আমবোঝাই ট্রাকের হেলপার সোহেল নিহত হন এবং পথচারী সবুজ হাওলাদার গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা সবুজকে উদ্ধার করে প্রথমে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালেই সবুজ মারা যান।

নিহত সবুজ হাওলাদার বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের মাদারশী এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য দুলাল হাওলাদারের ছেলে। হেলপার সোহেল কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বর্গির চর এলাকার বাসিন্দা।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উজিরপুর স্টেশনের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে এবং ট্রাকের ভেতর থেকে হেলপার সোহেলের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার এসআই মো. শরীফ জানান, দুর্ঘটনাকবলিত টাইলসবোঝাই ট্রাকটি ঢাকার মিরপুর থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল, আর আমবোঝাই ট্রাকটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বরিশালের দিকে আসছিল। ঘটনার পর উভয় ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। ট্রাক দুটি পরে মহাসড়ক থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি আমিনুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে একজনের মরদেহ পাওয়া গেছে এবং আহত অবস্থায় উদ্ধারকৃত পথচারী হাসপাতালে মারা যান।

এদিকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আবুল কালাম জানান, সবুজ হাওলাদারের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুতে তরুণরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে

বরিশাল বিভাগে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরা। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২,৬৮৪ জন ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্যে একাই ৬১২ জন ২১-৩০ বছর বয়সী, যা মোট আক্রান্তের প্রায় ২৩ শতাংশ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত বয়সসীমা ৩১-৪০ বছর—এই বয়সী ৫৫৭ জন (২১ শতাংশ) আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া ১১-২০ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীর সংখ্যা ৫৫২ জন (২১ শতাংশ)।
৪১-৬০ বছর বয়সীদের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮২ জন (১৮ শতাংশ)।
এক বছর থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে আক্রান্ত ৩৪২ জন (১৩ শতাংশ)।
অন্যদিকে, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে ১৩০ জন ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে, যা মোট আক্রান্তের ৪ শতাংশ।

বরগুনার কাকচিড়া গ্রামের ২৫ বছর বয়সী হাসান ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার বাড়ির আশেপাশে ছোট ছোট ডোবা ও মশার আধিক্যের কারণেই এই অবস্থা বলে তিনি জানিয়েছেন। হাসানের বাবা উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, “মশার কামড়ে হাত ফুলে গেছে, আমারও ডেঙ্গু হতে পারে।”

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের একজন চিকিৎসক জানান, তাদের হাসপাতালে বর্তমানে বেশি রোগীই তরুণ বয়সের। কিছু শিশু ও বৃদ্ধ থাকলেও মাঝ বয়সী আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।

এডিস মশার আক্রমণ এবং তরুণদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনার ব্যাখ্যা দিয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাজকিয়া সিদ্দিকাহ বলেন, “তরুণরা বেশি উন্মুক্ত স্থানে থাকে, খেলাধুলা করে, ঘোরাঘুরি করে। এসব জায়গায় এডিস মশার উপস্থিতি বেশি থাকায় তারা বেশি আক্রান্ত হয়।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের সাবেক সহকারী পরিচালক ডা. খান মোশতাক বলেন, “শিশু ও তরুণরা সাধারণত মশারি ছাড়া ঘুমায় এবং দিনের বেলায়ও বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে। ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা দিনের বেলায় কামড়ায়, তাই তারাই বেশি ঝুঁকিতে থাকে।”

বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী বরগুনায়—সংক্রমণের হার ৬২.৬০ শতাংশ। অন্য পাঁচ জেলার মোট রোগীর সংখ্যা ৩৭.৪০ শতাংশ।

চলতি বছরের শুরু থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ৪,৫৮২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৪১৬ জন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় তিন ভুয়া ডাক্তারকে জরিমানা, একজনের বিরুদ্ধে মামলা

বরগুনা শহরে ভুয়া ডাক্তারচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড এবং একজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করেছে প্রশাসন।

শনিবার (২৮ জুন) রাতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. শরিয়ত উল্লাহ্ এর নেতৃত্বে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানে চারজন ভুয়া ডাক্তারকে আটক করা হয়।

অভিযানে দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—

  • বিধান চন্দ্র সরকার
  • ইদ্রিস আলম
  • জাহাঙ্গীর হোসেন

তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে মোট তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া জহিরুল ইসলাম সৌরভ নামের একজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে, কারণ তার অপরাধের মাত্রা তুলনামূলক বেশি ছিল।

বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকরাম হোসেন জানান, অভিযুক্তরা কেউই বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)-এর স্বীকৃত ডাক্তার নন। তবুও তারা চিকিৎসকের পদবী ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন।

তিনি আরও বলেন, “আইন অনুযায়ী, তারা ডাক্তার পরিচয়ে কাজ করার যোগ্যতা রাখেন না। তাই তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং একজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

জনস্বাস্থ্য হুমকিতে, প্রশাসনের হুঁশিয়ারি

এ ধরনের প্রতারকচক্রের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে। প্রশাসন জানিয়েছে, সারাদেশে ভুয়া ডাক্তারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। বরগুনায় এই অভিযান তারই অংশ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




হাজারীবাগে পানির ট্যাংকি পরিষ্কারের সময় বিস্ফোরণ, শিশুসহ দগ্ধ ৪

রাজধানীর হাজারীবাগে ট্যানারি মোড় এলাকায় পানির ট্যাংকি পরিষ্কারের সময় গ্যাস জমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন দগ্ধ হয়েছেন।

শনিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের দ্রুত উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

দগ্ধরা হলেন—

  • বাসার মালিক জিয়াউর রহমান (৪৫)
  • তার মেয়ে ফারিয়া (৮)
  • ছোট মেয়ে রাইফা (৪)
  • পরিচ্ছন্নতা কাজে নিয়োজিত শ্রমিক বেলাল হোসেন (২৮)

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান—

  • বেলাল হোসেনের শরীরের ১৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে
  • ফারিয়ার দগ্ধতার পরিমাণ ৭ শতাংশ
  • জিয়াউর রহমানরাইফা দু’জনের ৩ শতাংশ করে দগ্ধ

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পানির ট্যাংকির নিচে জমে থাকা বিপজ্জনক গ্যাস (সম্ভবত মিথেন বা হাইড্রোজেন সালফাইড) পরিষ্কারের সময় কোনোভাবে স্ফুলিঙ্গ বা আগুনের সংস্পর্শে এসে বিস্ফোরণ ঘটায়। গ্যাসমিশ্রিত ট্যাংকির ঢাকনা খুলতেই ঘটতে পারে এই দুর্ঘটনা।

সতর্কতা জরুরি

এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন—

  • ট্যাংকি পরিষ্কারের আগে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে
  • ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখতে হবে
  • কাজের সময় সুরক্ষা গিয়ার ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 




বরিশালে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার অ্যাসিডদগ্ধ অন্তঃসত্ত্বা নারী

বরিশালে রীতিমতো ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক এক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে নগরবাসী। হাত-পা বাঁধা, মুখ ও শরীরে অ্যাসিডদগ্ধ অবস্থায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় সড়কের পাশে ফেলে যাওয়া হয়। পুলিশ রবিবার (২৯ জুন) ভোরে বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার বন্দর থানার তালুকদারহাট এলাকা থেকে তাঁকে জীবিত উদ্ধার করে।

বন্দর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দেলোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, আক্রান্ত নারীর নাম মারিয়া বেগম (২৩)। তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তাঁর স্বামীর নাম মশিউর, শ্বশুরবাড়ি ভোলায় হলেও বাবার বাড়ি বরিশালের দপদপিয়া গ্যাসটারবাইন এলাকায়। বর্তমানে মারিয়া বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, ভোরের আলো ফোটার আগেই কিছু ব্যবসায়ী তালুকদারহাট এলাকায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকা পলিথিনে মোড়ানো কিছু লক্ষ্য করে। এগিয়ে গিয়ে দেখতে পান, একজন নারীর হাত-পা বাঁধা এবং শরীরে অ্যাসিডদগ্ধ চিহ্ন রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা পুলিশে খবর দিলে বন্দর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে।

বন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম জানান, নারীটির শরীরে অ্যাসিডের পোড়া দাগ রয়েছে। এমন বর্বরোচিত ঘটনা যারা ঘটিয়েছে, তাদের খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, মারিয়ার শরীরের বিভিন্ন অংশে অ্যাসিডে ঝলসে যাওয়ার আলামত পাওয়া গেছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে গর্ভের সন্তানের অবস্থার ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী বলছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার মূল হোতাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 




পিরোজপুরে বিয়ের বাস ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অন্তত ৩০

পিরোজপুর সদর উপজেলার ব্রাহ্মণকাঠী এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে একটি বাস ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল একজনের, আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।

শুক্রবার (২৭ জুন) বিকেল ৫টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ব্যক্তি আব্দুল হান্নান হাওলাদার (৫৫) পিরোজপুর সদর উপজেলার মূলগ্রাম এলাকার বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্গাপুর চুঙ্গাপাশা থেকে বৌভাত শেষে মেয়ের পক্ষের আত্মীয়স্বজনরা বাসযোগে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে ব্রাহ্মণকাঠী এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে বাসটি উল্টে যায় এবং ইজিবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে পাঠান।

পিরোজপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান জানান, “একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। এ ছাড়া ২৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং ৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত ৪ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।”

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “বাস ও ইজিবাইকের সংঘর্ষে একজন নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। ঘটনাস্থলে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়।”

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর আশপাশের উপজেলার সব এম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। আহতদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫