বরিশালে গর্ভের সন্তান হত্যায় রুবেল গ্রেফতার

 

চাঁদার টাকা না পেয়ে গর্ভবতী নারীর পেটে লাথি মেরে গর্ভে থাকা সন্তানকে হত্যার ঘটনায় দায়ের মামলার প্রধান আসামি রুবেল শরীফকে গ্রেফতার করেছে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

শনিবার (৫ জুলাই) সকালে নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের খালেদাবাদ কলোনি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতার রুবেল শরীফ (৪০) পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পূর্ব কার্তিকপাশা গ্রামের মৃত আলতাফ শরীফের ছেলে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গর্ভবতী শিউলির বোন সিম্মী ৩০ জুন বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলায় রুবেলসহ মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। রুবেলকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে তাকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গর্ভবতী শিউলির স্বামী সোহাগ কাজীর কাছে আসামিরা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। গত ৩ এপ্রিল রাতে নগরীর খালেদাবাদ কলোনিতে রুবেলের দোকানের সামনে চাঁদা না দেওয়ায় সোহাগকে মারধর করা হয়। এসময় ঘটনাস্থলে ছুটে আসা গর্ভবতী শিউলিকে রুবেল পেটে লাথি মারেন। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মৃত সন্তান প্রসব করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




ঠাকুরগাঁওয়ে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ, হত্যাচেষ্টার আশঙ্কা

ঠাকুরগাঁওয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এনসিপির নেতাকর্মীদের দাবি, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা ছিল।

শুক্রবার (৪ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলায় কর্মসূচি শেষে পীরগঞ্জে যাওয়ার পথে ঠাকুরগাঁওয়ের টাঙ্গন ব্রিজ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও জেলা মডেল মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে একটি মাইক্রোবাসে করে এনসিপি নেতাকর্মীরা রওনা দেন পীরগঞ্জের উদ্দেশে। টাঙ্গন ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে একটি আন্তঃজেলা যাত্রীবাহী বাস তাদের বহরকে চাপা দেয়। এতে একটি গাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙে যায়। এরপর বহর থামিয়ে ঘটনার কৈফিয়ত চাইলে ৫-৬ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে গাড়িচালকসহ একজন এনসিপি কর্মী আহত হন।

এনসিপির ঠাকুরগাঁও জেলার মুখপাত্র অপু দাবি করেন, “এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্টভাবে হত্যা। বিশেষ করে নাহিদ বা সারজিসদের টার্গেট করা হয়েছিল বলে আমরা মনে করছি।”

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সারোয়ারে আলম খান বলেন, “বাসচাপার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করা হয়েছে, তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এনসিপি হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




মায়ের লাশ রেখে সকালে পরীক্ষাকেন্দ্রে দুই কন্যা, শোকের মাঝেও অটুট দৃঢ়তা

মায়ের মৃত্যুর শোক এখনও চোখে-মুখে। রাতে হারিয়েছেন জীবনদাত্রীকে, আর সকালে বুক ভরা কষ্ট নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে হাজির হয়েছেন দুই কিশোরী। এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায়। একদিকে চলছে দাফনের প্রস্তুতি, অন্যদিকে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশ নিতে কেন্দ্রে ছুটেছেন সায়মা আক্তার ও লাবনী আক্তার নামের দুই শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, সায়মা আক্তার উপজেলার হাতিয়া ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী এবং লাবনী আক্তার সানস্টার ইনস্টিটিউট অব টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ছাত্রী। বুধবার (২ জুলাই) দিবাগত রাতেই মারা যান তাদের মায়েরা—সায়মার মা শিল্পী আক্তার (৪০) কিডনি জটিলতায় রাত ৩টার দিকে নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন, আর লাবনীর মা সফিরন (৪৫) মারা যান রাত সাড়ে ৯টার দিকে।

বৃহস্পতিবার সকালে অশ্রুসিক্ত চোখে তারা হাজির হন পরীক্ষাকেন্দ্রে। সায়মা পরীক্ষায় অংশ নেয় সখীপুর সরকারি কলেজ কেন্দ্রে এবং লাবনী সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজ কেন্দ্রে। পরীক্ষার সময় তাদের পাশে ছিলেন শিক্ষক ও সহপাঠীরা। প্রিয়জন হারানোর বেদনা সয়ে মাথা উঁচু করে তারা লিখে যান ভবিষ্যতের যুদ্ধের উত্তরপত্র।

হাতিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রহিজ উদ্দিন বলেন, “সায়মা অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। একজন মেয়ের পক্ষে মায়ের মৃতদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দিতে আসা কতটা কষ্টের, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আল্লাহ যেন তাকে শক্তি দেন।”

পরিবার ও প্রতিবেশীদের ভাষ্য, এমন দৃশ্য শুধু শোকের নয়, বাঙালির মেয়েদের অসাধারণ মানসিক শক্তিরও প্রতীক। মায়ের মৃত্যু তাদের থামিয়ে দিতে পারেনি, উল্টো কাঁধে শোক নিয়ে তারা এগিয়ে গেছে শিক্ষা-জীবনের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




একদিনে ২৯৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত, বরিশাল ও চট্টগ্রামে অর্ধেকের বেশি

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার (৫ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৯৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি আক্রান্ত হয়েছেন বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে। যদিও এ সময়ের মধ্যে কোনো মৃত্যু হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে সর্বোচ্চ ১২৬ জন, চট্টগ্রামে ২৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৪৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ৩১ জন, ঢাকা বিভাগের সিটি এলাকার বাইরে ২৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩৯ জন ভর্তি হয়েছেন।

একদিনে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন আরও ৩৩৭ জন ডেঙ্গু রোগী। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ৯৫৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ হাজার ৬৭৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আর মৃত্যুবরণ করেছেন ৪৫ জন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার প্রজনন বেশি হওয়ায় সংক্রমণ হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। তাই দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নগরবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা, ফুলদানি, টব ও নির্মাণাধীন ভবনে পানি জমে না থাকতে দেওয়া, প্রতিদিন মশারি ব্যবহার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পরিবারে শোকের ছায়া

বরগুনার বেতাগী উপজেলায় মো. কাউসার (১৮) নামের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৫ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ঘরের চৌকাঠে নেটের রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দিলে বেতাগী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহত কাউসার হোসনাবাদ ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের বাবুল জমাদ্দারের ছেলে এবং সুবিদখালী সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন কাউসার। পরীক্ষা ভালো না হওয়ায় সেদিন থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তবে পরিবার বিষয়টি গুরুতর মনে করেনি। শুক্রবার রাতেও তিনি স্বাভাবিকভাবেই পরবর্তী পরীক্ষার জন্য পড়ালেখা শেষ করে খাবার খেয়ে ঘুমাতে যান।

পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে পরিবারের সদস্যরা তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন।

বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

এই অকাল মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কাউসারের বন্ধুবান্ধব, শিক্ষক এবং প্রতিবেশীরা এমন একটি ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




এক দিনে ২০৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত, অর্ধেকই বরিশাল বিভাগে

দেশজুড়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ২০৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগেই আক্রান্ত হয়েছেন অর্ধেক রোগী—১০১ জন।

শুক্রবার (৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন শনাক্ত রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১০১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৯ জন, ঢাকার বাইরে ঢাকা বিভাগে ২২ জন, চট্টগ্রামে ৯ জন, রাজশাহীতে ১০ জন এবং ময়মনসিংহে ৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে একই সময়ে ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে, গত এক দিনে ২৫৪ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১১ হাজার ৬৬০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ হাজার ৩৩৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তবে নিয়ন্ত্রণে আনতে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।




‘মাসুদ আমার মৃত্যুর জন্য তুমি দায়ী’— চিরকুট লিখে স্কুলশিক্ষিকার আত্মহত্যা

টাঙ্গাইলের মধুপুরে হৃদয়বিদারক এক ঘটনা ঘটেছে। প্রেমে প্রতারণা ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন লাকী আখতার (২৬) নামের এক স্কুলশিক্ষিকা। মৃত্যুর আগে তিনি লিখে গেছেন এক করুণ ডায়েরি, যেখানে সহকর্মী ইবনে মাসুদের বিরুদ্ধে তার জীবন ধ্বংসের অভিযোগ তুলেছেন।

লাকী আখতার মধুপুর উপজেলার কেউটাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। ২০২৩ সালে উচ্চশিক্ষা শেষ করে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন তিনি। পরিবার জানায়, ২০২৪ সালে প্রশিক্ষণের সময় ইবনে মাসুদের সঙ্গে পরিচয় হয় লাকীর। সেই পরিচয় ঘনিষ্ঠতায় গড়ায়। মাসুদ বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। কিন্তু যখন লাকী বিয়ের জন্য চাপ দেন, তখন মাসুদ জানান, তিনি আগে থেকেই বিবাহিত এবং তার সন্তান রয়েছে। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন লাকী।

গত ২৪ জুন রাতে তিনি নিজ ঘরে কীটনাশক পান করেন। পরে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ জুন তার মৃত্যু হয়।

লাকীর পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে তিনি পাঁচ পাতার একটি ডায়েরিতে স্পষ্টভাবে প্রতারণা ও মানসিক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্তের কথা লিখে যান। তার ডায়েরিতে লেখা ছিল, “তুমি চেয়েছো আমি মরে যাই, আর তুমি জগৎ সংসারে ভালো থাকো। আমি এখন পোকা মারার বিষ খাবো। আমার মৃত্যুর জন্য তুমি দায়ী।”

এ ঘটনায় ২৮ জুন লাকীর বাবা ইবনে মাসুদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই অভিযুক্ত মাসুদ পলাতক। সহকর্মীরা জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। লাকীর সহকর্মী শিক্ষক, এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমরানুল কবীর বলেন, অভিযুক্ত ইবনে মাসুদকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বরিশালে পুলিশ সদস্যদের জন্য অক্সিজেন ব্যাংক উদ্বোধন

বরিশাল বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে পুলিশ সদস্যদের জরুরি চিকিৎসা সহায়তায় অক্সিজেন ব্যাংকের উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম, বিপিএম। বুধবার (২ জুলাই) দুপুরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীনের উদ্যোগে গঠিত এই অক্সিজেন ব্যাংকে প্রাথমিকভাবে ২২টি অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুত রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ সুপার জানান, শুধুমাত্র পুলিশ সদস্যদের জন্য নয়, প্রয়োজন হলে সাধারণ নাগরিকরাও এই অক্সিজেন ব্যাংক থেকে সেবা নিতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা সবসময় ঝুঁকিতে থাকেন। তাই সময়মতো অক্সিজেন সহায়তা নিশ্চিত করাই আমাদের উদ্দেশ্য।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনঞ্জুর মোরশেদ আলম, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম, এবং বরিশাল রেঞ্জের বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারগণ।

পরে বরিশাল পুলিশ লাইন্সের গ্র্যাটিটিউড হলে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন আইজিপি বাহারুল আলম। সভায় তিনি ৫ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং সততা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, পুলিশ বাহিনীর কেউই হেলমেট ছাড়া বাইক চালাবে না বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পুলিশের পোশাক পরে ভিডিও-ছবি আপলোড করবে না।’

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




রামদা বানাতে অস্বীকৃতি, কর্মকার অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার

রামদা তৈরিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বরিশালের দপদপিয়ায় বিশ্বজিৎ দাস নামে এক কর্মকারকে অপহরণ করে জিআই পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আহত অবস্থায় বিশ্বজিৎকে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন করে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত বিশ্বজিৎ দাসের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নে। তিনি বলেন, দপদপিয়ার সামনেই তাঁর একটি ধাতুবিদ্যা (কর্মকার) দোকান রয়েছে। সেখানে প্রায়ই রামদা ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র তৈরির জন্য আসতেন স্থানীয় যুবক রাকিব ও রাজিব, যারা সম্পর্কে ভাই এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেন তিনি।

বিশ্বজিৎ জানান, মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাতে তিনি বাড়ি ফেরার পথে দপদপিয়া ব্রিজের টোলঘরের সামনে থেকে রাকিব-রাজিবসহ কয়েকজন তাকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিতে তুলে অপহরণের চেষ্টা চালায়। চিৎকার করলে চালক তাদের নামিয়ে দেন। তখন তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বিশ্বজিৎকে রাস্তায় ফেলে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে।

তিনি অভিযোগ করেন, হামলার সময় রাকিব ও রাজিব প্রথমে তার মাথায় আঘাত করেন, এরপর শরীরের বিভিন্ন অংশে পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে আরও কয়েকজন মিলে গণপিটুনি দেয়।

ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ এসে বিশ্বজিৎকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি, তবে ভুক্তভোগী পরিবার আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এদিকে, হামলার পর থেকে অভিযুক্ত রাজিব, রাকিব ও তাদের সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ কারণে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 

 

 




বরিশালে আগুনে পুড়ল দুই দোকান ও দুই বসতবাড়ি

বরিশাল, ৩ জুলাই— নগরীর লাকুটিয়া সড়কের সাধুর বটতলা এলাকায় দুপুর ১২টার দিকে রফিক হাওলাদারের তেলের দোকান থেকে হঠাৎ দাউ‑দাউ করে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই পাশে থাকা শহিদুল ইসলামের চায়ের দোকান ও দু’টি কাঁচা বসতবাড়ি জ্বলতে থাকে। খবর পেয়ে বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট খাল থেকে দ্রুত পানি পাম্প করে এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে দোকান ও ঘরের মালামাল ছাই।

আগুনে মুখ, হাত পুড়ে আহত হয়েছেন দোকানির প্রতিবন্ধী ভাই। তাকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, মেয়ের বিয়ের আসবাব⁠‑পত্রসহ অন্তত ১০ লাখ টাকার সম্পদ পুড়ে গেছে।

ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক মো. লিটন আহম্মেদ জানান, সূত্রপাত তেলের ড্রামে মোটর দিয়ে তেল তোলার সময় স্পার্ক থেকেই হতে পারে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ ও ক্ষতির হিসাব সম্পন্ন হবে।

চায়ের দোকানদার শহিদুল ইসলাম বলেন, “আগুন দেখে পানি ছিটিয়ে নেভানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু লোহার ড্রামে থাকা তেলে আগুন লেগে আরো ছড়িয়ে যায়।” তেলের দোকানদার রফিক হাওলাদারের ভাই পারভেজ জানান, মোটরে আগুন ধরে গেলে নিজেদের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি, ফলে এত বড় ক্ষতি হয়েছে।

৯৯৯‑এ ফোন পেয়ে কাউনিয়া থানার এসআই আব্দুল আউয়াল ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধারকাজে যোগ দেন। পরিস্থিতি পরিদর্শন করে স্থানীয় সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় বিএনপির পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম