উজিরপুরে পিকআপ-নসিমন মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৮

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার নতুন শিকারপুরে পিকআপ ভ্যান ও নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। রবিবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পশ্চিম মুন্ডপাশা মুন্সিবাড়ির সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দুটি যানবাহনই দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন—হুমায়ুন, সাব্বির হোসেন, আবু বক্কর, রুহুল আমিন, নাহিদ, যুবায়ের, আবু মুসা ও মেহেদী হাসান। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে আহতদের উজিরপুর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কে বেপরোয়া গতির যানবাহন চলাচল এবং ওভারটেকিং প্রবণতার কারণেই এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। দুর্ঘটনার ফলে মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়।

উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বরিশালে ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি বেড়েই চলেছে

বরিশালে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে একজন হলেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার সাইফুল ইসলাম (৩৫) এবং অন্যজন বাবুগঞ্জ উপজেলার ১৮ বছর বয়সী ছনিয়া আক্তার।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান। তিনি জানান, গত একদিনেই নতুন করে ৩০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৯ জনে।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৫৬৩ জন। এর মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ১৩ জন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার না হলে সংক্রমণের হার আরও বাড়তে পারে। সচেতনতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে ডেঙ্গু মোকাবিলার একমাত্র পথ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বগুড়ায় ট্রেনের ধাক্কায় কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

বগুড়ায় ট্রেনের ধাক্কায় রাকিব হোসাইন মোস্তাকিম (২১) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৬ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে শহরের ওয়াপদা গেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রাকিব জয়পুরহাটের ক্ষেতলালের হিমাদ্রিপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও সরকারি আজিজুল হক কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি জয়পুরহাট স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বগুড়া (জেসাব)-এর ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বগুড়া রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শফিকুল ইসলাম জানান, সান্তাহার থেকে ছেড়ে আসা বগুড়াগামী কমিউটার নাইটি আপ ট্রেনটি ওয়াপদা গেট অতিক্রম করার সময় রাকিব তার মোটরসাইকেল নিয়ে রেললাইন পার হচ্ছিলেন। অসচেতনভাবে লাইনের খুব কাছাকাছি চলে যাওয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তার মোটরসাইকেলটিও দুমড়ে-মুচড়ে গেছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাকিবের সঙ্গে থাকা এক যুবক বাইক থামিয়ে দ্রুত সরে গিয়ে রক্ষা পান, কিন্তু রাকিব লাইন পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




আমতলীতে জমি বিরোধে শিক্ষক দম্পতিসহ তিনজনকে কুপিয়ে জখম

আমতলীতে জমি নিয়ে পুরনো বিরোধের জেরে হামলার শিকার হয়েছেন এক শিক্ষক দম্পতিসহ তিনজন। শনিবার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায় বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের চুনাখালী গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলেন—চুনাখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক মো. আবু জাফর (৫২), তার স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন (৪৫) এবং শ্বশুর সামসুল আলম (৭৫)।

স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, সকালে সামসুল আলম তার পৈত্রিক জমিতে আম গাছের চারা রোপণ করছিলেন। সন্ধ্যায় একই বাড়ির চাচাতো ভাই আব্দুল কাদের মৌলভির ছেলেরা জমির মালিকানা দাবি করে গাছগুলো উপড়ে ফেলে। এ সময় বাধা দিলে আমিনুল ইসলাম খোকা, হুমায়ুন কবির ও মো. আল আমিন ধারালো দা ও লাঠি নিয়ে হামলা চালায়।

হামলায় গুরুতর আহত হন শিক্ষক জাফর হোসেন, তার স্ত্রী ও শ্বশুর। আহতদের প্রথমে আমতলী হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় রাতেই জাফর হোসেন মাস্টার বাদী হয়ে আমিনুল ইসলাম খোকা, হুমায়ুন কবির ও মো. আল আমিনকে আসামি করে আমতলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম খোকা বলেন, “সামসুল আলম আমাদের জমি জোর করে দখল করেছে। মারামারি হয়েছে, তবে হামলা বা কুপিয়ে জখম করার কথা সত্য নয়।”

এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




ভোলায় সাপের খেলা দেখাতে গিয়ে কামড়ে প্রাণ গেল শাকিলের

ভোলার মনপুরায় সাপের খেলা দেখাতে গিয়ে বিষধর সাপের কামড়ে শাকিল (২৫) নামের এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৬ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

শনিবার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তালতলি মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাকিল ওই গ্রামের খোকন মাঝির ছেলে।

শাকিলের চাচা ফিরোজ মাঝি জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে শাকিল নদীতীরবর্তী এক বাড়ির সামনে থেকে সাপটি ধরে এনে বাড়িতে পালছিলেন। শনিবার তিনি সাপ নিয়ে নদীর পাড়ে খেলা দেখাতে গেলে হঠাৎ সাপটি তার বাম পায়ে কামড় দেয়।

স্থানীয়রা প্রথমে এক ওঝার কাছে নিয়ে গিয়ে বিষ নামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে রাত ৯টার দিকে শাকিলকে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার ভোররাতে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান কবীর।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




মসজিদের দ্বিতীয় তলা থেকে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার, এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে নিখোঁজের একদিন পর মসজিদের দোতলা থেকে ৯ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত শিশুটির নাম ময়না, তিনি শাহবাজপুর ইউনিয়নের ছন্দুমিয়া পাড়া এলাকার প্রবাসী আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার মেয়ে। ময়না হাবলিপাড়া জামে মসজিদের সংলগ্ন মাদ্রাসার ছাত্রী ছিলেন।

আজ রোববার সকালে উপজেলার হাবলিপাড়া জামে মসজিদের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা মরদেহটি দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে এলাকাবাসী জড়ো হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের মা মোসাম্মৎ লিফা আক্তার জানান, “গতকাল শনিবার বিকেলে ময়না বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। সন্ধ্যার পর থেকে আমরা খোঁজাখুঁজি শুরু করি। এলাকায় মাইকিং করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিখোঁজ সংবাদ ছড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু একদিন পর আজ সকালে এমন অবস্থায় তাকে পেলাম…”

এলাকাবাসীর ধারণা, ময়নাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ ফেলে রাখা হয়েছে মসজিদের নির্জন কক্ষে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, “এটি স্পষ্টত হত্যাকাণ্ড। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারব আরও কিছু। তদন্ত চলছে, আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।”

মসজিদের ইমাম হামিদুর রহমান বলেন, “আমি নিচতলায় শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছিলাম। হঠাৎ একজন ছাত্র এসে জানায়, ওপরে একটি মেয়ের মরদেহ পড়ে আছে। পরে স্থানীয়দের ডেকে বিষয়টি জানাই।”

পুলিশ জানায়, ইতিমধ্যে মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তপন সরকার বলেন, “রাতেই পরিবারের পক্ষ থেকে একটি নিখোঁজ জিডি করা হয়েছিল। এরপর পুলিশ খোঁজাখুঁজি করছিল। আজ সকালে শিশু ময়নার মরদেহ পাওয়ার পর আমরা তদন্ত আরও জোরদার করেছি।”

এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




সৌদিতে মৃত ভাইয়ের লাশ আনতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন ফটিকছড়ির দুই ভাই

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির তালুকদার পাড়ায় নেমে এসেছে এক হৃদয়বিদারক শোকের ছায়া। প্রবাসে মৃত্যুবরণ করা ভাইয়ের লাশ আনতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও দুই ভাই। পরিবার ও এলাকাজুড়ে বইছে আহাজারি আর কান্নার রোল।

২০২৪ সালে সৌদি আরবে জীবিকার তাগিদে পাড়ি দেন মোহাম্মদ রুবেল (২৭)। কিন্তু সেখানে এক মালিকের অনুমতি ছাড়াই বার্গার খাওয়ার অপরাধে তিনি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। পরে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হলে গত বছরের ১৭ জুলাই মৃত্যু হয় তাঁর। দীর্ঘ এক বছরের আইনি প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে গত শনিবার (৬ জুলাই) দেশে ফেরে তাঁর মরদেহ।

ভাই রুবেলের মরদেহ গ্রহণ করতে ঢাকায় যান বড় ভাই মোহাম্মদ বাবুল (৩৭) ও ফুফাত ভাই মো. ওসমান গণি (৩৫)। কিন্তু বিকেলে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাতিসা এলাকায় পৌঁছালে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় পড়ে যান তারা। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বাবুল ও ওসমান।

এই দুঃসংবাদের পর গোটা ফটিকছড়ির তালুকদার পাড়ায় নেমে আসে অশ্রু-নীরবতার ছায়া। নিহত রুবেল ও বাবুলের মা আনোয়ারা বেগম লাশ দেখার আগেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তিন ছেলে, তিন মেয়ের মধ্যে দুই উপার্জনক্ষম সন্তানকে একসঙ্গে হারিয়ে দিশেহারা তিনি। লাশের খাটিয়ায় ছুঁয়ে বলতে থাকেন—“বাবা, শুধু একবার কথা বলো…”

বাড়ির উঠোনজুড়ে শোকের মাতম, কান্নার রোল। বাবুলের স্ত্রী সাহেদা আক্তার বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়েন, আর দুই কন্যা সন্তানকে জড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকেন। বলেন, “আমি এখন সন্তানদের কী জবাব দেব? কী নিয়ে বাঁচব?”

ওসমান গণির স্ত্রী শিমা বলেন, “দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও কথা হয়েছিল। বলেছিল লাশ নিয়ে ফিরছি। অথচ সে নিজেই ফিরল লাশ হয়ে।” তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে কীভাবে চলবেন, সেই উৎকণ্ঠায় চোখ ভাসান।

শনিবার রাতেই তালুকদার পাড়ায় তিন ভাইয়ের মরদেহ পৌঁছে গেলে ভেঙে পড়ে গোটা জনপদ। শত শত মানুষ সাক্ষী হয় এই মর্মন্তুদ বিদায়ের। স্থানীয় মসজিদের পাশের কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় রুবেল, বাবুল ও ওসমানকে।

ফটিকছড়ির এই ঘটনা শুধুই একটি পারিবারিক বিপর্যয় নয়—এ যেন পুরো একটি সমাজের হৃদয়ে ক্ষত হয়ে রইল।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




ভাণ্ডারিয়ায় প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, ৫ লাখ টাকার বেশি লুট

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালী ইউনিয়নের হরিনপালা গ্রামে সৌদি প্রবাসী আল আমিন আকনের বাড়িতে এক ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় পরিবারের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতরা প্রায় ৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

প্রবাসী আল আমিন আকনের স্ত্রী জেসমিন বেগম জানান, রাতে খাবার খেয়ে তিনি ও তাঁর দুই সন্তান ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে ৭-৮ জনের একটি ডাকাতদল পেছনের জানালার গ্রিল কেটে একজনকে ভেতরে পাঠায় এবং পেছনের দরজা খুলে বাকিদের ঘরে ঢুকতে সহায়তা করে। ঘরের বাইরে আরও ২-৩ জন পাহারায় ছিল। ডাকাতরা সবাই শর্টপ্যান্ট পরে ছিল, খালি গায়ে এবং বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছিল।

পরিবারের সদস্যদের একটি কক্ষে আটকে রেখে ডাকাতরা ঘরের ওয়ার্ডরোব ও স্টিলের ট্রাংক ভেঙে নগদ ২ লাখ টাকা, প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, দুটি মোবাইল ফোন এবং সাতটি বিদেশি কম্বলসহ আনুমানিক ৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকার সম্পদ লুট করে নেয়। ডাকাতির সময় তারা ঘরের সমস্ত জিনিসপত্র তছনছ করে দেয়। পরে ডাকাতদল সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে পালিয়ে যায়।

ভাণ্ডারিয়া থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) আহমেদ আনোয়ার জানান, বিষয়টি তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




হজে ৪৩ বাংলাদেশির মৃত্যু, দেশে ফিরেছেন ৬৬ হাজারের বেশি হাজি

চলতি বছরের হজ পালন শেষে এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজার ৩৬২ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরে এসেছেন। অন্যদিকে, পবিত্র হজ পালনের সময় সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে মৃত্যুবরণ করেছেন ৪৩ জন বাংলাদেশি।

রবিবার প্রকাশিত হজ সম্পর্কিত সর্বশেষ বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়। হজ বুলেটিনের আইটি হেল্প ডেস্ক জানিয়েছে, ৫ জুলাই দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্ত দেশে ফিরে আসা হজযাত্রীর সংখ্যা ৬৬ হাজার ৩৬২ জন, যাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৫ হাজার ৭ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬১ হাজার ৩৫৫ জন।

দেশে ফেরা ১৮৫টি হজ ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৩১ হাজার ১৬৫ জন হাজিকে ফিরিয়ে এনেছে। সৌদি এয়ারলাইন্সে ফিরেছেন ২৬ হাজার ৪২১ জন, আর ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ফিরেছেন ৮ হাজার ৭৭৬ জন হাজি।

এদিকে, হজ পালনকালে ৪৩ জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ এবং ১১ জন নারী। মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ২৬ জন মক্কায়, ১৩ জন মদিনায়, ৩ জন জেদ্দায় এবং একজন আরাফায় মৃত্যুবরণ করেন।

পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে মৃত্যুবরণকারী সব হাজির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে বাংলাদেশ হজ অফিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা না পেলে আবারও ‘জুলাই আন্দোলন’ ঘটবে—আহতদের হুঁশিয়ারি

রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ চিকিৎসা বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছেন ‘জুলাই আন্দোলনে’ আহতরা। ঈদের ছুটির অজুহাতে তাদের চিকিৎসা বন্ধ এবং পুনরায় ভর্তি না নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। আহতদের দাবি, তারা সুচিকিৎসা না পেলে হাসপাতাল চত্বরেই ফের ‘জুলাই’ ঘটবে।

শনিবার (৫ জুলাই) বিকেলে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর নতুন কমিটি নিটোর পরিদর্শনে গেলে, সেখানে অবস্থানরত আহতরা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা জানান, বর্তমানে কেউ কেউ ফ্লোরে থেকেও চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করছেন।

আহত সৌরভ বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঈদের সময় আমাদের বাড়ি যেতে বলে। ফেরার পর তারা কথা রাখেনি, ভর্তি নেয়নি। অনেকের শরীরে পচন ধরেছে, কিন্তু সঠিক চিকিৎসা মিলছে না।”

আরেক আহত আশিক জানান, “১১ দিন পর বাড়ি থেকে ফিরে আসলেও আমাকে ভর্তি করা হয়নি। এখন ফ্লোরেই ঘুমাই, কোনো চিকিৎসা পাই না।”

গুলিবিদ্ধ আয়েশা বলেন, “চিকিৎসা ও সহায়তা পাওয়ার কথা থাকলেও আমি এখনও তা পাইনি।”

পরিদর্শন শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা বলেন, “একজন মা আমাদের জানিয়েছেন, তার ছেলেকে আর ভর্তি নেয়নি হাসপাতাল। তিনি বাসাবাড়িতে কাজ করে ওষুধ ও খাবারের টাকা জোগাড় করছেন। এটা অত্যন্ত অমানবিক।”

কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাসান বলেন, “মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে চিকিৎসা অন্যতম। অথচ আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। কেউ কেউ বলছে, আহতদের মধ্যে সিন্ডিকেট হয়েছে। অথচ আন্দোলনের সময় তারা সবাই একাট্টা ছিল। এখন তাদের সঠিক চিকিৎসা দরকার, প্রয়োজনে বিদেশে পাঠাতে হবে।”

তিনি আরও জানান, নিটোরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. আবুল কেনানের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বললেও তিনি বলেন, ‘আমি নিরুপায়’। কেন নিরুপায়—সে প্রশ্নে তিনি কোনো জবাব দেননি। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য নেতারা স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানান।

বক্তব্য শেষে উপস্থিত ছাত্রনেতারা ‘চিকিৎসা নিয়ে সিন্ডিকেট চলবে না, চলবে না’—এই স্লোগান দেন।