ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৪৪৪

দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৪৪ জন।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক আক্রান্তদের মধ্যে বরিশালে সর্বোচ্চ ১২৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। চট্টগ্রামে ৫১ জন, ঢাকার সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ৬৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ৪০ জন, দক্ষিণ সিটিতে ৮১ জন, খুলনা বিভাগে ৩৩ জন, রাজশাহীতে ২৯ জন, ময়মনসিংহে ৮ জন, রংপুরে ৫ জন ও সিলেটে ২ জন নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৪০২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ১৬ হাজার ৬২৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত মোট ১৮ হাজার ২৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এসময়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৬৫ জন।

পূর্বের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। তার আগের বছর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন এবং আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, যদি না দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।




উদ্ধার ও চিকিৎসায় জনশক্তিকে মাঠে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বড় ধরনের প্রাণহানি ও হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান সোমবার (২১ জুলাই) বিকেলে দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে যান উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন জামায়াত আমির এবং চিকিৎসকদের আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার পরামর্শ দেন।

এক শোকবার্তায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনের ওপর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। এতে পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির এবং অনেক শিক্ষার্থী শাহাদাতবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। এখনো শতাধিক শিক্ষার্থী দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সর্বস্তরের জনশক্তি ও এলাকাবাসীকে উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণ এবং আহতদের চিকিৎসায় সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছি। নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং মহান রবের কাছে তাদের শহীদ হিসেবে কবুল করার প্রার্থনা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন এবং আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।




উত্তরা ট্র্যাজেডিতে তারেক রহমানের শোক, নেতাকর্মীদের সহায়তায় আহ্বান

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই শোক প্রকাশ করেন।

তারেক রহমান লেখেন, “মাইলস্টোন কলেজে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় আমরা শোকাহত। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—যেখানে একটি শিশু, কিশোর কিংবা তরুণ তার শিক্ষা, বিকাশ ও নিরাপত্তা নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠে—সেই পরিবেশে এমন ভয়াবহতা কখনো কাম্য নয়। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “এই দুঃসময়ে আমাদের জাতি হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে।”
তিনি বিএনপি নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ায় এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে।

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুর ১টার পর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গে ভবন ও বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। বিধ্বস্ত ভবনটিতে বিপুলসংখ্যক স্কুল শিক্ষার্থী অবস্থান করায় হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।

ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরে বিজিবি, সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীও অভিযানে যোগ দেয়। আহতদের হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় অন্তত ১৯ জন নিহত এবং আরও ১৬৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর দগ্ধ।




রিজভীর প্রশ্ন: ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমান প্রশিক্ষণ কীভাবে চলে?

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রশিক্ষণ বিমান পরিচালনার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জনবহুল অঞ্চলে বিমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সোমবার (২১ জুলাই) বিকেলে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, “এ এলাকাটা অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ। এখানে প্রশিক্ষণ বিমান দিয়ে উড্ডয়ন শিখবে—এটা রহস্যজনক। প্রশিক্ষণের জন্য যশোর, কক্সবাজারের মতো জায়গা রয়েছে, যেখানে সমুদ্র ও বিস্তীর্ণ খোলা এলাকা আছে। সেখানে এই ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত।”

তিনি বলেন, “নেভিগেশন বা টেকনিক্যাল বিষয়গুলো আমি না জানলেও, সাধারণভাবে যা বোঝা যায়, তা হলো—এত মানুষের ভিড়, চারপাশে এত ঘরবাড়ি থাকা সত্ত্বেও এখানে প্রশিক্ষণ বিমান চালানো মোটেই নিরাপদ নয়। প্রশাসন ও সরকারের এ বিষয়ে গুরুদায়িত্ব রয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা করলে ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হতে থাকবে।”

রিজভী আরও বলেন, “দুর্ঘটনা কখনো আগাম বলে আসে না। কিন্তু যদি আমরা যথাযথ পরিকল্পনা নিয়ে এগোই, তাহলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। বিমানবন্দরের পাশে কী ধরনের লোকালয় গড়ে উঠবে, তা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকা উচিত ছিল। আমার মনে হয়, উত্তরার মতো এলাকায় এমন ঘনবসতিপূর্ণ অবস্থা পরিকল্পনার বাইরে সৃষ্টি হয়েছে।”

তিনি জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। দলের নেতাকর্মীরা রক্তদান ও অন্যান্য সহযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে বিধ্বস্ত হয়। এতে ২০ জন নিহত এবং অন্তত ১৭১ জন আহত হয়েছেন।




উত্তরার বিমান দুর্ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ।

সোমবার (২১ জুলাই) এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই শোক প্রকাশ করেন।

পোস্টে শেহবাজ শরীফ লেখেন, “ঢাকায় মাইলস্টোন স্কুল বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমার হৃদয় নিংড়ানো সমবেদনা বাংলাদেশের মানুষের জন্য, বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের প্রতি।”

তিনি আরও বলেন, এই কঠিন সময়ে পাকিস্তান সরকার ও জনগণ বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে।

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে বিধ্বস্ত হয়। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জন নিহত ও অন্তত ১৭১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।




উত্তরার বিমান দুর্ঘটনায় মোদির শোক, বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস

রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা ও সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন।

সোমবার (২১ জুলাই) এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে দেওয়া এক শোকবার্তায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, “ঢাকায় মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত। যেখানে মৃতদের মধ্যে অনেকেই তরুণ শিক্ষার্থী—এই ট্র্যাজেডি হৃদয়বিদারক। নিহতদের পরিবারগুলোর প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা ও শোক। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।”

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “ভারত এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের পাশে রয়েছে এবং যেকোনো সম্ভাব্য সহায়তা ও সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে।”

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জন নিহত এবং অন্তত ১৭১ জন আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই শিক্ষার্থী। আহতদের ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।




উত্তরায় স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত : মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় সরকার আগামীকাল (মঙ্গলবার) একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এ দুর্ঘটনায় বহু হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার দেশের সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন এবং দেশের বাইরে বাংলাদেশি মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। পাশাপাশি দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে নিহত ও আহতদের জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সোমবার দুপুর ১টার কিছু পরে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে আছড়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে স্কুল ভবন ও বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। ভবনটিতে তখন অনেক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল, যাদের অনেকে দগ্ধ ও আহত হন।

দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ও উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরে উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বিমান বাহিনী যুক্ত হয়। আহতদের মধ্যে গুরুতরদের হেলিকপ্টারে করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ৫০ জনের বেশি দগ্ধ রোগী ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে আরও বহু আহত শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে।

বিকেল ৫টার দিকে ফায়ার সার্ভিস ১৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।




উত্তরায় এফ-৭ বিজিআই বিমান বিধ্বস্ত : প্রধান উপদেষ্টার কর্মসূচি স্থগিত

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানটির পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগর গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। দুর্ঘটনায় আরও বহু শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক আহত হন, যাদের অনেকেই দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে বিমানটি উড্ডয়ন করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উত্তরার মাইলস্টোন কলেজ ভবনে বিধ্বস্ত হয়।

দুর্ঘটনায় দগ্ধদের মধ্যে ৩৫ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে দ্রুত ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের ভাষায়, “সবার শরীরই পোড়া। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।”

ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শোকবার্তায় তিনি বলেন, “বিমান বাহিনীর এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় আমি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। এতে বিমানসেনা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-কর্মচারীসহ যে ক্ষতি হয়েছে, তা অপূরণীয়। জাতির জন্য এটি একটি গভীর বেদনার ক্ষণ।”

ঘটনার পর অন্তর্বর্তী সরকার মঙ্গলবার (২২ জুলাই) একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দেয়। রাষ্ট্রীয় শোক পালনের প্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টার পূর্বনির্ধারিত সকল কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল প্রধান উপদেষ্টার। তবে শোক পালনের কারণে অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে।




উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তে নিহত ১৯, আহত ৫০-এর বেশি

রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে কমপক্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৫০ জনের বেশি। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। আহতদের অনেকেই দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের সিনিয়র স্টাফ অফিসার মো. শাহজাহান শিকদার জানান, সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টার পর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে সঙ্গে সঙ্গে স্কুল ভবন ও বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার সময় ভবনটিতে বহু শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল, যাদের অনেকে হতাহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট এবং ৬টি অ্যাম্বুলেন্স উদ্ধারকাজে নিয়োজিত হয়। এখনো উদ্ধার তৎপরতা চলছে বলে জানানো হয়েছে।

ঘটনার পর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দগ্ধদের মধ্যে বেশিরভাগই শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

এদিকে, দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার এই ঘটনা উত্তরার একাধিক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয় এবং এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। সন্তানের খোঁজে অনেকে বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটছেন বলে জানা গেছে।




জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে রক্তদানের মহৎ উদ্যোগ বিএনপির

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে পটুয়াখালীতে স্বেচ্ছায় রক্তদান ও রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) পটুয়াখালী জেলা শাখার আয়োজনে এ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির নবনির্বাচিত সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান টোটন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক এবং পটুয়াখালী জেলার কৃতী সন্তান ডা. সাইফুল আজম রঞ্জু।

বক্তব্য দেন ড্যাব সদস্য ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডা. মো. মহিবুল্লাহ্ রুবেল।

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক ও সেবাপ্রার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

ড্যাব জানায়, জাতীয় সংকটে মানবিক সেবা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় তারা অবিচলভাবে কাজ করে যাবে।