ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে মৃত্যুফাঁদ! ৪৭ কিমি সড়কে ঝুঁকি চরমে!

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর অংশে ৪৭ কিলোমিটারজুড়ে ভয়াবহ গর্তের কারণে তৈরি হয়েছে প্রাণঘাতী ঝুঁকি। ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে মাদারীপুরের ভুরঘাটা পর্যন্ত সড়কজুড়ে কোথাও উঠে গেছে পিচ, কোথাও আবার তৈরি হয়েছে একাধিক বড় গর্ত। এসব গর্তে পড়ে প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা—এতে যাত্রী, চালক ও পথচারীদের দুর্ভোগের অন্ত নেই।
প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে প্রায় ২০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। সরেজমিনে দেখা গেছে, যানবাহনগুলো হেলেদুলে চলতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। সম্প্রতি বরইতলা এলাকায় একটি বাস খাদে পড়ে একজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন।
স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে সড়কটি সংস্কারের কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মাঝে মাঝে বালু, ইট ও সুরকি দিয়ে গর্ত ভরাট করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের সামগ্রী ও দুর্বল তদারকির কারণেই প্রতিনিয়ত এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
এক বাসযাত্রী জানান, “গর্তে গর্তে গাড়ির ঝাঁকুনিতে অসুস্থ হয়ে পড়ছি। যাত্রা আর আরামদায়ক নয়, এখন যেন আতঙ্কের নাম মহাসড়ক।”
এক পরিবহন চালক বলেন, “প্রতিদিন গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। সময় ও অর্থ দুইই নষ্ট হচ্ছে।”
মাদারীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, আপাতত নিজেদের অর্থায়নে কিছু অংশে জরুরি সংস্কার চলছে। পাশাপাশি বড় বাজেটের একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, অনুমোদন মিললে শুরু হবে টেকসই উন্নয়ন। মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
পদ্মা সেতু চালুর পর যান চলাচল অনেকগুণ বেড়েছে, অথচ সড়কের উন্নয়ন হয়নি। এজন্য স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ও টেকসই সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে প্রতিদিনের যাত্রা আর না হয় জীবনের ঝুঁকি।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫








