ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে মৃত্যুফাঁদ! ৪৭ কিমি সড়কে ঝুঁকি চরমে!

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর অংশে ৪৭ কিলোমিটারজুড়ে ভয়াবহ গর্তের কারণে তৈরি হয়েছে প্রাণঘাতী ঝুঁকি। ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে মাদারীপুরের ভুরঘাটা পর্যন্ত সড়কজুড়ে কোথাও উঠে গেছে পিচ, কোথাও আবার তৈরি হয়েছে একাধিক বড় গর্ত। এসব গর্তে পড়ে প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা—এতে যাত্রী, চালক ও পথচারীদের দুর্ভোগের অন্ত নেই।

প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে প্রায় ২০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। সরেজমিনে দেখা গেছে, যানবাহনগুলো হেলেদুলে চলতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। সম্প্রতি বরইতলা এলাকায় একটি বাস খাদে পড়ে একজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন।

স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে সড়কটি সংস্কারের কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মাঝে মাঝে বালু, ইট ও সুরকি দিয়ে গর্ত ভরাট করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের সামগ্রী ও দুর্বল তদারকির কারণেই প্রতিনিয়ত এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

এক বাসযাত্রী জানান, “গর্তে গর্তে গাড়ির ঝাঁকুনিতে অসুস্থ হয়ে পড়ছি। যাত্রা আর আরামদায়ক নয়, এখন যেন আতঙ্কের নাম মহাসড়ক।”
এক পরিবহন চালক বলেন, “প্রতিদিন গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। সময় ও অর্থ দুইই নষ্ট হচ্ছে।”

মাদারীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, আপাতত নিজেদের অর্থায়নে কিছু অংশে জরুরি সংস্কার চলছে। পাশাপাশি বড় বাজেটের একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, অনুমোদন মিললে শুরু হবে টেকসই উন্নয়ন। মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

পদ্মা সেতু চালুর পর যান চলাচল অনেকগুণ বেড়েছে, অথচ সড়কের উন্নয়ন হয়নি। এজন্য স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ও টেকসই সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে প্রতিদিনের যাত্রা আর না হয় জীবনের ঝুঁকি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে বাস খাদে, আহত অন্তত ১০

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে আবারও ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই ২০২৫) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর এয়ারপোর্ট মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে যায়। এতে অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে বরিশালগামী অন্তরা পরিবহনের বাস (ঢাকা মেট্রো-ব ১২-১৩৮৫) ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দ্রুতগতিতে মোড় ঘোরার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ফলে বাসটি রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ নিকটস্থ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এ ঘটনায় সড়কের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, “মহাসড়কের এই অংশে বারবার দুর্ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে এখানে প্রায়ই জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ঘটছে।”

স্থানীয়দের দাবি
রহমতপুর মোড়সহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বসানো এবং নজরদারি জোরদারের দাবি জানান এলাকাবাসী।

উল্লেখ্য, বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের এ রুটটি প্রায়শই দুর্ঘটনার জন্য আলোচনায় আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুতগতির যানবাহন, অপরিকল্পিত মোড় এবং নজরদারির অভাবই এই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





বর্ষায় নাক বন্ধ ও শ্বাসকষ্ট? ঘরে বসেই মুক্তির ৫ কার্যকর উপায়

গ্রীষ্মের দাবদাহ শেষে বর্ষাকাল এনে দেয় স্বস্তি, কিন্তু সাথে নিয়ে আসে একগুচ্ছ সংক্রমণজনিত সমস্যা। এই সময় বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় ছত্রাক, ধুলাবালি ও জীবাণুর উপদ্রব বাড়ে। এর প্রভাব পড়ে সরাসরি শ্বাসনালী ও নাকের স্বাস্থ্যে, দেখা দেয় নাক বন্ধ, ঘুমের ব্যাঘাত, সাইনোসাইটিস এমনকি শ্বাসকষ্ট

তবে আতঙ্ক নয়—সতর্কতা ও ঘরোয়া কিছু অভ্যাসই পারে আপনাকে এই সমস্যাগুলো থেকে সুরক্ষা দিতে। নিচে থাকছে বর্ষাকালে নাক বন্ধসহ শ্বাসজনিত সমস্যাগুলো প্রতিরোধের ৫টি কার্যকর উপায়:


১️⃣ নাক বন্ধ হলে কী করবেন?

  • কুসুম গরম পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করুন (Neti pot বা Steam নিতে পারেন)।
  • প্রয়োজনে নাকের জন্য বিশেষ নাসাল স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন—যা শ্লেষ্মা তরল করে এবং বায়ু চলাচল স্বাভাবিক রাখে।
  • দিনে ২–৩ বার গরম পানির ভাপ নিলে শ্বাসনালীর রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং জীবাণু নষ্ট হয়

2️⃣ রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ান সুষম খাদ্যাভ্যাসে

  • প্রতিদিনের খাবারে রাখুন:
    • আদা, রসুন ও হলুদ – প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক
    • লেবু, আমলকি ও ফলমূল – ভিটামিন C সমৃদ্ধ
    • দই বা প্রোবায়োটিক – অন্ত্রের স্বাস্থ্য ঠিক রাখে, যা ইমিউন সিস্টেমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

3️⃣ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও শুষ্ক ঘর

  • বর্ষায় ঘরে ছত্রাক ও ধুলাবালি জমা হওয়া খুব স্বাভাবিক, বিশেষত জানালার কোণ, পর্দা ও বাথরুমে।
  • ঘর নিয়মিত পরিষ্কার করুন, ভেন্টিলেশন ঠিক রাখুন।
  • ভেজা কাপড় ঘরে শুকানো পরিহার করুন, কারণ এতে আর্দ্রতা বাড়ে এবং ছত্রাক জন্মায়—যা নাক বন্ধের বড় কারণ।

4️⃣ তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন এড়ান

  • এসি থেকে হঠাৎ বাইরে বের হওয়া বা ঠান্ডা বাতাসে বেশি সময় থাকলে নাক ও শ্বাসনালীতে চাপ পড়ে
  • বাইরে গেলে স্কার্ফ বা মাস্ক পরুন, ঘরে এসির নিচে সরাসরি বসা এড়িয়ে চলুন।

5️⃣ মাস্ক ব্যবহার করুন, বিশেষ করে বাইরে গেলে

  • বর্ষাকালে বাতাসে ধুলা, পরাগকণা ও জীবাণুর পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়
  • মাস্ক শুধু করোনা নয়, সাধারণ ঠান্ডা-কাশি ও অ্যালার্জিজনিত সমস্যা থেকেও রক্ষা করে
  • ঠান্ডা আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাছাকাছি গেলে মাস্ক না পরা মানে নিজেই ঝুঁকিতে পড়া।

বর্ষা মানেই শুধু বৃষ্টি ও ঠান্ডা নয়—সাথে আসে সংক্রমণ আর নানা ধরণের স্বাস্থ্যঝুঁকি। তবে এই ৫টি সহজ অভ্যাস মেনে চললে ঘরে বসেই আপনি থাকতে পারেন সুস্থ, সতেজ ও শ্বাসপ্রশ্বাসে স্বস্তিতে

আল-আমিন

 




অভ্যাসেই বিপদ: যেভাবে প্রতিদিনের জীবনযাত্রা নীরবে ক্ষতি করছে আপনার মস্তিষ্ককে

আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অনেক সাধারণ অভ্যাসই মস্তিষ্কের ওপর ধীরে ধীরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রযুক্তিনির্ভরতা, অলসতা, ভুল খাদ্যাভ্যাস এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ—এই চারটি বিষয় যেন ধীরে ধীরে আমাদের স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং সৃজনশীলতাকে অবশ করে দিচ্ছে


📱 স্ক্রিনটাইম: প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার মানসিক অলসতা বাড়ায়

ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট কিংবা টিভি—সবই আজকের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এসব স্ক্রিনের নীল আলো (Blue Light) মস্তিষ্কের ঘুমের চক্র নষ্ট করে, চোখে জ্বালা সৃষ্টি করে এবং মানসিক ক্লান্তি ও বার্নআউট ঘটায়।
দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে মস্তিষ্ক একাধিক বিষয়ে মনোযোগ দিতে গিয়ে বিভ্রান্ত হয়, এতে সৃজনশীলতা ও চিন্তাশক্তি কমে যায়।


🪑 অলস সময়: বসে থাকা মানে শুধু শরীর নয়, মস্তিষ্কও ঝুঁকিতে

অনেকক্ষণ বসে থাকা শুধু হৃদযন্ত্র নয়, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতারও শত্রু। কম শারীরিক সক্রিয়তায় মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ কমে, অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ ব্যাহত হয়। এর ফলে স্মৃতিশক্তি হ্রাস এবং হিপ্পোক্যাম্পাসের সংকোচন ঘটতে পারে, যা সময়ের সাথে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।


🍔 খারাপ খাদ্যাভ্যাস: চিনির সাথে মস্তিষ্কের শত্রুতা

প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি ও অপুষ্টিকর ডায়েট সরাসরি মস্তিষ্কের কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
পুষ্টির ঘাটতি যেমন ওমেগা-৩, বি-ভিটামিন বা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের অভাব স্নায়বিক সংকেত ও স্মৃতি দুর্বল করে দেয়। এছাড়া খারাপ খাদ্যাভ্যাস অন্ত্রের স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার প্রভাব পড়ে মেজাজ ও মানসিক স্বাস্থ্যে


⚠️ চাপ ও স্ট্রোক: নীরব ঘাতক চাপ

দীর্ঘস্থায়ী চাপ মানসিক বিষণ্নতা ছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ, ধমনীতে প্রদাহ এবং স্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
চাপের কারণে ধমনীগুলো দুর্বল হয়ে যেতে পারে, ব্লক হয়ে যেতে পারে কিংবা ফেটে গিয়ে ইস্কেমিক বা হেমোরেজিক স্ট্রোক ঘটাতে পারে। এটি নিঃশব্দে ঘটে, কিন্তু প্রভাব হতে পারে জীবনধ্বংসী।


কীভাবে বাঁচবেন মস্তিষ্কের এই ক্ষয় থেকে?

  • দৈনিক স্ক্রিনটাইম নিয়ন্ত্রণ করুন (বিশেষ করে রাতের বেলা)
  • প্রতিদিন কিছুটা সময় হাঁটুন বা শরীরচর্চা করুন
  • প্রাকৃতিক ও সুষম খাবার গ্রহণ করুন (ওমেগা-৩ ও বি-ভিটামিন সমৃদ্ধ)
  • ধ্যান, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন

 

মস্তিষ্ক আমাদের শরীরের নেতৃত্বদানকারী অঙ্গ। একে সতেজ, সক্রিয় এবং সুরক্ষিত রাখতে হলে জীবনযাত্রার অভ্যাসগুলোতে সচেতন পরিবর্তন আনতেই হবে। না হলে ‘আধুনিক জীবনের আরাম’ একদিন হয়ে উঠবে নীরব ঘাতক


আল-আমিন

 




পটুয়াখালীতে ডেঙ্গুতে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, জেলায় শোকের ছায়া

পটুয়াখালী জেলা শহরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। শহরের সবুজবাগ এলাকার একটি মর্মান্তিক ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। জেলার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে এবং এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ জনে।

মারা যাওয়া ছাত্রীটির নাম আরশী দেবনাথ জয়ত্রী, বয়স ১৪ বছর। সে পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী এবং শহরের সবুজবাগ ১ম লেন এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী বিপ্লব দেবনাথের কন্যা। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর জয়ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু পথেই বরিশালের চৌরাস্তা এলাকায় সে মৃত্যুবরণ করে। এই মৃত্যুর ঘটনায় জয়ত্রীর পরিবার, বিদ্যালয় এবং পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জয়ত্রীর বাবা বিপ্লব দেবনাথ জানান, তিন দিন আগে তার মেয়ের জ্বর দেখা দেয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রোববার রাতে স্থানীয় জনস্বাস্থ্য সেবা ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার আবু বকর সিদ্দিকের পরামর্শে জয়ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়ার পরই দেখা যায় তার রক্তে প্লাটিলেট মাত্র ২০ হাজারে নেমে এসেছে এবং রক্তচাপ ছিল খুবই নিচে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার তা আরও কমে ৭ হাজারে চলে আসে, সঙ্গে দেখা দেয় ফুসফুসে পানি জমা ও শ্বাসকষ্ট। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় বিকেল সাড়ে ৩টায় জয়ত্রীকে ঢাকায় রেফার করা হয়, কিন্তু পথেই তার মৃত্যু ঘটে।

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, জয়ত্রীর অবস্থা অত্যন্ত জটিল ছিল। রক্তচাপ ও প্লাটিলেট দুটোই ছিল মারাত্মকভাবে কম এবং শ্বাসকষ্টের কারণে তা আরও সংকটজনক হয়ে ওঠে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা জানান, চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও রোগীর প্রেসার স্বাভাবিক রাখতে পারেননি।

পটুয়াখালী শহরের সবুজবাগ এলাকাকে বর্তমানে ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। শহরের অধিকাংশ রোগীই এই অঞ্চল থেকে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১২১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২৩ জন, বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫৮ জন। এবং মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ৩ জনে।

জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক ও স্থানীয়দের মতে, দ্রুত সতর্কতা ও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, মশা নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে সর্বমহল থেকে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাউফলে সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় বাল্কহেডের শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় বালু বোঝাই একটি বাল্কহেডের শ্রমিক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। চলন্ত বাল্কহেডের উপর বসা অবস্থায় সেতুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে তার মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে আজ মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাউফলের কাছিপাড়া ইউনিয়নের পাকঢাল গ্রামের খানবাড়ি সংলগ্ন খালে।

নিহত শ্রমিকের নাম শাকিব, যিনি কালাইয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় একটি কারখানা থেকে বালু বোঝাই করে বাল্কহেডটি দেওপাশা এলাকার দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে খানবাড়ি সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়ার সময়, সেতুটির উচ্চতা কম হওয়ায় বাল্কহেডের উপর বসা শাকিবের মাথা সেতুর সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে তার মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পাশের খালে পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানালে, বাউফল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনাটি এলাকায় চরম শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।

আল-আমিন



ডাক্তার সংকটে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজে বন্ধ ২৪ ঘণ্টার অপারেশন

পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আধুনিক অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা থাকলেও শুধুমাত্র এনেস্থেশিয়া বিভাগের ডাক্তার সংকটের কারণে ২৪ ঘণ্টার জরুরি সার্জারি ও অপারেশন কার্যক্রম চালু রাখা যাচ্ছে না। এতে করে পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-পটুয়াখালী মহাসড়কে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের সময়মতো জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

প্রতিদিন গর্ভবতী দরিদ্র প্রসূতি মায়েদেরও পড়তে হচ্ছে সীমাহীন ভোগান্তিতে। সরকারি হাসপাতালের পরিবর্তে তাদের সিজারিয়ান করাতে হচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিকে অতিরিক্ত খরচে, যা অনেকের পক্ষেই বহনযোগ্য নয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়র কনসালটেন্ট এনেস্থেশিয়া (নবসৃষ্ট অস্থায়ী রাজস্ব) পদে এখনো কোনো জনবল নিয়োগ হয়নি। এনেস্থেটিস্ট পদে থাকা ৩টি পদের সবই শূন্য। শুধুমাত্র ১ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট এনেস্থেশিয়া কর্মরত রয়েছেন, যিনি এককভাবে পুরো হাসপাতালের এনেস্থেশিয়া সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সেলিম মাতব্বর। তিনি বলেন, “সার্জারি, গাইনি, অর্থোপেডিকস, চক্ষু, ইএনটি সহ প্রায় প্রতিটি বিভাগের কার্যক্রমে নিয়মিত এনেস্থেশিয়া সাপোর্ট প্রয়োজন। পুরো হাসপাতালে ৯ জন এনেস্থেলজিস্ট প্রয়োজন হলেও এখন কার্যকরভাবে আছেন মাত্র ২ জন, যার একজন মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. একে এম ফখরুল আলম কোনোভাবে সাপোর্ট দিচ্ছেন। ফলে সপ্তাহে মাত্র দুইদিন — রবিবার ও বুধবার — সাধারণ অপারেশন চালানো সম্ভব হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, গাইনী বিভাগে প্রতিদিনই ওটি থাকে, কিন্তু একজন মাত্র এনেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ থাকায় পুরোপুরি সাপোর্ট দেওয়া যাচ্ছে না। জরুরি ভিত্তিতে রোগীকে অপারেশনের জন্য অন্য জেলায় পাঠাতে হচ্ছে, যা রোগী ও স্বজনদের জন্য দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমীন লিজা জানান, “নবসৃষ্ট তিনটি এনেস্থেটিস্ট পদের বিপরীতে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। শুধু একজন জুনিয়র কনসালটেন্ট এনেস্থেশিয়া দিয়ে আমরা কোনোভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। যদি অন্তত তিনজন এনেস্থেলজিস্ট কর্মরত থাকতেন, তাহলে ২৪ ঘণ্টা ওটি চালু রেখে জরুরি সিজারিয়ানসহ অন্যান্য সার্জিকাল সেবা প্রদান সম্ভব হতো।”

পটুয়াখালী অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এবং চিকিৎসক মহল দাবি করছেন, দ্রুত এনেস্থেশিয়া বিভাগে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হোক। না হলে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও এলাকার হাজারো মানুষ চিকিৎসা বঞ্চিত থাকবে, বাড়বে মৃত্যু ঝুঁকি, বাড়বে চিকিৎসার খরচ।

এই সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে সরকারের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্য ও জনগণের আস্থার জায়গাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চার দিন ভেসে থাকা ৯ জেলে জীবিত উদ্ধার, নিখোঁজ ৬

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা উপকূলসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ভয়াবহ ট্রলারডুবির ঘটনায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন ৯ জেলে। গভীর সমুদ্রে চার দিন ধরে ভেসে থাকার পর সোমবার (২৮ জুলাই) রাতে তাদের উদ্ধার করা হয়। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ছয়জন জেলে, যাদের জীবনের সন্ধানে এখনো চলছে উদ্ধার অভিযান।

জানা গেছে, গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মহিপুর ঘাট থেকে রওনা হওয়া ‘এফবি সাগরকন্যা’ নামের ট্রলারটি বঙ্গোপসাগরের গভীরে পৌঁছালে আকস্মিক ঝড়ো হাওয়া ও বিশাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে মুহূর্তেই ডুবে যায়। ওই ট্রলারে মাঝি আবদুর রশিদের নেতৃত্বে মোট ১৫ জন জেলে ছিলেন।

উদ্ধার হওয়া জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণে বাঁচতে তারা ভেসে থাকার জন্য বাঁশ, প্লাস্টিকের ফ্লোট ও কাঠের বোর্ড ব্যবহার করেন। সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে প্রথমে একজন জেলে নিখোঁজ হন। এরপর ধাপে ধাপে আরও পাঁচজন সাগরে হারিয়ে যান।

চার দিন ধরে খোলা সাগরে অনাহারে-অর্ধাহারে ভেসে থাকার পর সোমবার রাতে বঙ্গোপসাগরের শেষ সীমান্ত বয়া এলাকায় থাকা দুটি মাছ ধরার ট্রলার তাদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে। পরে মঙ্গলবার ভোরে তাদের কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নিখোঁজ জেলেদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন: আবদুর রশিদ, নজরুল ইসলাম, রফিক, ইদ্রিস, হারুন ও কালাম। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েছেন শোকে, আর স্থানীয় মৎস্যজীবীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক।

উদ্ধার হওয়া জেলে হাসান বলেন, “ঝড়ের তাণ্ডব এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, কিছু বোঝার আগেই ট্রলার ডুবে যায়। আমরা প্রাণে বাঁচার জন্য যেভাবে পারি ভেসে ছিলাম। আল্লাহর রহমতেই আজ জীবিত ফিরে এসেছি।”

এদিকে, ট্রলারডুবির খবর পাওয়ার পর থেকেই স্থানীয় প্রশাসন ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে নামে। এখনো নিখোঁজ ছয় জেলেকে উদ্ধারে সমুদ্রপথে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা, ঝড়ের সতর্কতা উপেক্ষা না করা এবং প্রতিটি ট্রলারে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, নৌ-সুরক্ষা যন্ত্রপাতি রাখা অত্যাবশ্যক হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই ট্র্যাজেডি আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে—বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে কতটা অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি নিয়ে জেলেদের প্রতিদিন কাজ করতে হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বিমান বিধ্বস্তের সময় মাইলস্টোন ভবনে ছিল ৫৯০ শিক্ষার্থী: অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর খাঁন

ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের সময় প্রায় ৫৯০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর খাঁন।

সোমবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ এয়ার স্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

অধ্যক্ষ বলেন, “প্রতিদিন আমাদের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ৮০ থেকে ৮২ শতাংশ। সে অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ভবনে প্রায় ৫৯০ জন শিক্ষার্থী ছিল।”

তিনি জানান, ওই ক্যাম্পাসে মোট ৭৩৮ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত আসা-যাওয়া করে। দুর্ঘটনার পরপরই কর্তৃপক্ষের প্রথম কাজ ছিল শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রত্যেক অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করা।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অধ্যক্ষ বলেন, “ওই মুহূর্তে ফুটেজ দেখা আমাদের অগ্রাধিকার ছিল না। আমরা প্রথমেই নিশ্চিত করতে চেয়েছি, কোনো শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছে কি না এবং সবাই নিরাপদে অভিভাবকের কাছে পৌঁছেছে কি না।”

“গ্রিল শিশুদের নিরাপত্তার জন্যই”

ভবনের জানালায় গ্রিল থাকায় সমালোচনা ওঠার বিষয়ে জাহাঙ্গীর খাঁন বলেন, “ওই শ্রেণিকক্ষে ছোট ছোট বাচ্চারা ক্লাস করে। তাদের নিরাপত্তার জন্যই জানালায় গ্রিল দেওয়া ছিল।”

নিয়ম মেনেই নির্মাণ: অধ্যক্ষ

ভবন নির্মাণে রাজউক কিংবা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিয়ম মানা হয়নি— এমন অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, “মাইলস্টোন ছাড়াও আশপাশে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শুধু আমাদের প্রতিষ্ঠান আলাদা কোনো বিবেচনায় নির্মিত হয়নি। আমরা যথাযথ অনুমোদন নিয়েই ভবনটি নির্মাণ করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “এই এলাকায় আমাদের ভবনের চেয়েও উঁচু ভবন আছে, এমনকি মেট্রোরেলের অবকাঠামোও আমাদের ভবনের চেয়ে উঁচু। গোটা এলাকাটিই হাইরাইজ ভবনে ঘেরা। এখানে অনুমতি ছাড়া কিছু হয়নি।”

এদিকে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৩ জন আহত শিক্ষার্থী ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর তৃতীয় দফায় মাইলস্টোন কলেজের ক্লাস আগামী ২ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।




তরুণরাও ক্যান্সারের ঝুঁকিতে, উপসর্গ উপেক্ষা নয়

এক সময় মনে করা হতো ক্যান্সার কেবল প্রবীণদের রোগ, কিন্তু এখন আর তা নেই। আধুনিক জীবনের অনিয়ম, খাদ্যাভ্যাসের অবনতি এবং পরিবেশ দূষণের প্রভাবে এখন তরুণদের মধ্যেও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ক্যান্সার আক্রান্তের হার। বিশেষ করে হেমাটো-অনকোলজি বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী যুবসমাজের মধ্যে ক্যান্সারের যে প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা উদ্বেগজনক।

বিশেষজ্ঞ ডা. গোপীনাথ বলেন, আমরা এমন এক সময় পার করছি যেখানে দীর্ঘ ক্লান্তি, অল্পতেই ব্যথা, ক্ষুধামন্দা, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া কিংবা হজমের সমস্যাগুলোকে সাধারণভাবে নেয়া হচ্ছে। কিন্তু এ ধরনের লক্ষণ হতে পারে ক্যান্সারের প্রাথমিক সংকেত। এ অবস্থায় অধিকাংশ মানুষ নিজে নিজে ওষুধ সেবন করে সাময়িক স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা করেন, যা ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করে।

গত এক দশকে দেখা গেছে, ক্যান্সারের হার বহুগুণে বেড়ে গেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা না পড়ায় অনেকেই চিকিৎসকের কাছে পৌঁছান তখন, যখন ক্যান্সার শরীরের বড় একটি অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা জটিল হয়ে যায়। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে যদি রোগ নির্ণয় করা যেত, তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ আরোগ্য সম্ভব হতো।

ডা. গোপীনাথ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গের কথা বলেন, যেগুলো দীর্ঘদিন অবহেলা করা ঠিক নয়। যেমন:

  • ঘন ঘন রক্তপাত বা ছোট ক্ষত হওয়া ও সেগুলোর সহজে না শুকানো,
  • হঠাৎ শরীরে ফোলা মাংসপিণ্ড অনুভব হওয়া,
  • দীর্ঘ সময় ধরে আলসার থাকা বা মুখে ঘা না শুকানো,
  • খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া বা হঠাৎ শক্তি হারিয়ে যাওয়া।

এই উপসর্গগুলো সাধারণ মনে হলেও এগুলোর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে বড় কোনো বিপদ। তাই এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।

প্রতিরোধেই সমাধান ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে আগে থেকেই কিছু নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত প্রয়োজন। যেমন—

  • প্রতিদিন সুষম ও ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়া, যাতে থাকে প্রচুর শাকসবজি ও ফল,
  • ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা,
  • নিয়মিত হালকা থেকে মাঝারি ব্যায়াম করা, অন্তত ৩০ মিনিট প্রতিদিন হাঁটা বা দৌড়ানো,
  • বছরে একবার সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং
  • প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট বয়সে এইচপিভি বা হেপাটাইটিস-বি ভ্যাকসিন গ্রহণ করা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত—দুই দিক থেকে কাজ করা। একদিকে যেমন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে আনা যায়, অন্যদিকে যেন প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় করে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। সচেতনতা ও প্রতিরোধই হতে পারে আগামী প্রজন্মকে ক্যান্সারমুক্ত রাখার প্রধান অস্ত্র।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম