শিশুদের চোখে চশমা: সমাধানে করণীয়

লতিফুর রহমান : আমরা মনে করি, পুষ্টির অভাবে বাচ্চাদের চোখে সমস্যা হয় এবং চশমা পরতে হয়। একটু চিন্তা করলে দেখা যাবে, এটা সত্য নয়। কারণ বস্তি ও গ্রামের শিশুরা অপেক্ষাকৃত কম পুষ্টি পেলেও তাদের চোখে চশমা নেই। অথচ উচ্চ ও মধ্যবিত্তদের ঘরে ঘরে বাচ্চাদের চোখে চশমা পরতে হচ্ছে।

সুতরাং পুষ্টি নয়, বরং অন্য কিছুর কারণে এমন হচ্ছে। আর সেটা হচ্ছে- খেলাধুলা না করা এবং মোবাইলে আসক্তি। যেসব শিশুরা মোবাইলে বেশি সময় কাটাচ্ছে তাদের চোখে চশমা উঠছে। আসুন কারণটা একটু ঘেটে দেখি।

মূলত চোখে আলো প্রবেশ করলে আমরা দেখতে পাই। চোখের কালো মনিতে রয়েছে প্রথমে কর্নিয়া, অতপর লেন্স এবং সবশেষে রেটিনা। কর্নিয়া ও লেন্সের মধ্যে দিয়ে আলো রেটিনায় পড়লে আমরা দেখতে পাই। লেন্স পেশি দিয়ে আটকানো থাকে। পেশি লেন্সকে নড়াচাড়া করিয়ে কোনো বস্তুকে রেটিনায় ফোকাস করতে সাহায্য করে। দূরের বস্তু দেখার সময় পেশি প্রশারিত হয় এবং কাছের বস্তু দেখার সময় পেশি সংকুচিত হয়।

আমরা খুব কাছ থেকে মোবাইল চালাই। এতে লেন্সের পেশি দীর্ঘসময় সংকুচিত হয়ে থাকে। ফলে পেশি আগের মতো কাজ করে না এবং কাছের বস্তু ঠিক মতো ফোকাস করতে পারি না। আমরা তখন ঘোলা দেখি। ডাক্তার চশমা দেন।

অথচ চশমা মূলত সমাধান দেয় না। কিছুদিন পর আরও বেশি পাওয়ারের চশমা নিতে হয়। কারণ মূল সমস্যা তো রয়েই গেছে। চোখের পেশির যে সমস্যা হয়েছে সেটা তো ঠিক হচ্ছে না।

তাহলে সমাধান কী?

সমস্যা বুঝলে সমাধানও খুব সহজ। বলুন তো, মোবাইলে ফুটবল খেলা দেখা এবং মাঠে ফুটবল খেলার মধ্যে পার্থক্য কী? খুব সহজ উত্তর। মোবাইলে খেলা দেখলে একভাবে তাকিয়ে থাকতে হয়। আর মাঠে খেলা করলে বিভিন্ন দূরত্বে হাজার বার তাকানো হয়। চোখের পেশিকে এক জায়গায় স্থির থাকতে হয় না।

তাই সমাধান হচ্ছে বাচ্চা থেকে বড় সবাইকে বেশি বেশি দূরের দৃশ্য দেখতে হবে। নীল আকাশ, লেক-নদী-সাগর, পার্কের গাছগাছালি ইত্যাদি। আর খেলাধুলা করতে হবে।

একারণে বাচ্চাদের কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নেয়া সমাধান নয়। মূলত দূরে না তাকানোকে বেশি দায়ী মনে করতে হবে। আর খেলার সময় কাছে দূরের সব দিকেই তাকানো হয়। এজন্য চোখ থেকে চশমা দূর করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই।

এছাড়া কিছু চোখের ব্যায়াম করা যায়। যেমন- চোখের সামনে বুড়ো আঙ্গুল কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিতে হবে। এভাবে কাছ থেকে দূরে তাকানোর অনূশীলন করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।




ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভোলায় প্রথম মৃত্যু

মোঃ তৈয়বুর রহমান (ভোলা): চরফ্যাসন উপজেলার দুলারহাটে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাজেরা বেগম (৩৪) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এটাই ভোলায় ডেঙ্গুতে প্রথম মৃত্যু।

বুধবার রাত ৮টার দিকে চরফ্যাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে মারা যান তিনি।

নিহত হাজেরা উপজেলার দুলারহাট থানাধীন নীলকমল ইউনিয়ন চরযমুনা গ্রামের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ মাসুদের স্ত্রী।

বৃহস্পতিবার সকালে চরফ্যাসন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ শোভন বসাক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ভোলা জেলায় ডেঙ্গুতে এই প্রথম মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও চরফ্যাসন উপজেলাতে ৪৫জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।

নিহতের পরিবার ও হাসপাতাল সূত্র জানা যায়, ৩০ জুলাই নিহতের শরীরে জ্বর নিয়ে চরফ্যাসন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলে সেদিন ডেঙ্গু ধরা পড়ে। ওই দিন হাজেরা বেগম ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ীতে চলে যান। বুধবার হঠাৎ তার অবস্থার অবনতি দেখে পরিবারের লোকজন রাতে চরফ্যাসন হাসপাতালে নিয়ে আসে।




বরিশালে ২৪ ঘণ্টায় ৩১৪ নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি

বরিশাল বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩১৪ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের ছয় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৩১৪ রোগী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরিশালে ১৩১ জন, পটুয়াখালীতে ৫৯ জন, পিরোজপুরে ৫৭ জন, ভোলায় ৩৩ জন, বরগুনায় ২৮ জন ও ঝালকাঠিতে ৬ জন।

এছাড়া বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে বুধবার পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন আছেন বরিশালে ৩৫১ জন, পটুয়াখালীতে ১৯৪ জন, পিরোজপুরে ১৪০ জন, ভোলায় ৭৭ জন, বরগুনায় ৮৫ জন ও ঝালকাঠিতে ১২ জন।

এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৫ হাজার ৮৭০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার জন। মারা গেছেন ১১ জন।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল জানান, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুতে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বরিশালে ৮ জন, ভোলায় ২ জন ও বরগুনায় ১ জনের মৃত্যু হয়।




ডেঙ্গুতে ১২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ২৭১১

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭৩ জনে।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ৭১১ জন।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ৯ হাজার ৩২৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। ঢাকার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ৪ হাজার ৮৬৯ জন এবং অন্যান্য বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪ হাজার ৪৫৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন




কেনো এত ক্ষুধা লাগে? নিয়ন্ত্রণে করণীয়

পরিমিত খাওয়া দরকার আমরা সবাই বুঝি। কিন্তু ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে। ফলে বেশি খাওয়া হয়ে যায়। এখন নিয়ন্ত্রণের উপায় কী?

ক্ষুধা লাগলে অবশ্যই খেতে হবে। ক্ষুধার্ত অবস্থায় না খেয়ে থাকা যাবে না। তবে এই ছয়টি কারণ জানলে অকারণ ক্ষুধা লাগা বন্ধ হবে ইনশাআল্লাহ।

১. পিপাসার জন্য ক্ষুধা

আমরা দুইটা বাজে অভ্যাস করে ফেলেছি। এক- পানি কম খাই, দুই- পানিসমৃদ্ধ ফল ও সবজি কম খাই। উল্টো যেসব ফাস্টফুড খাই তাতে পানি থাকে না বললেই চলে। তাই শরীরে পানির অভাব দেখা দিলেই ক্ষুধা লাগে, যাতে শরীর একটু পানি পায়।

সমাধান- পর্যাপ্ত পানি পান করলে অপ্রয়োজনীয় ক্ষুধা লাগবে না।

২. পুষ্টির অভাবে ক্ষুধা

যেহেতু পুষ্টিসমৃদ্ধ ফল ও সবজি কম খাই তাই শরীরে পুষ্টির অভাব দেখা দেয়। শরীর তো পুষ্টি তৈরি করতে পারে না। শরীরে পুষ্টির উৎস হচ্ছে খাবার। তাই ক্ষুধা লাগে। কিন্তু পুষ্টিকর খাবার না খেয়ে যদি চকলেট, চিপস, আইসক্রিম, বিরিয়ানি ইত্যাদি খাই তাহলে পুষ্টির অভাব থেকেই গেল।

সমাধান- খাবার তালিকায় পুষ্টিসমৃদ্ধ ফল ও সবজি রাখলে বারে বারে ক্ষুধা লাগবে না।

৩. বৈচিত্র্যের অভাবে ক্ষুধা

জীবনটাকে বড়ই একঘেয়ে করে ফেলেছি। ডেইলি একই রুটিন। অথচ মানুষের মন বৈচিত্র্য তালাশ করে। কিন্তু পায় না। এজন্য ঘুরে ফিরে ক্ষুধা লাগে। খাবার খেয়ে একঘেয়েমি দূর করার চেষ্টা করি। অফিসে চা-কফি মূলত একঘেয়েমি দূর করে।

সমাধান- একঘেয়েমি দূর করার অন্য উপায় খুঁজে বের করতে হবে। যেমন- গল্প করা, একটু হেঁটে আসা, টিভি দেখা, পত্রিকা পড়া, মোবাইলে পরিবারের সাথে কথা বলা ইত্যাদি।

৪. শরীরে সুগার কমে যাওয়ার ক্ষুধা

আমরা সুগার বার্ন করে চলি। শরীরে প্রচুর চর্বি থাকলেও চর্বি বার্ন করে চলা শরীরকে শেখাইনি। ফলে সুগার কমে গেলেই ক্ষুধা লাগে।

সমাধান- প্রতিদিন যে সময়ে ক্ষুধা লাগে তার ৩০ মিনিট আগে হালকা ব্যায়াম করতে হবে। এতে কিছু দিনের মধ্যে ক্ষুধা কমে আসবে। চর্বি বার্ন করতে মূলত দুইটা জিনিস দরকার হয়। এক হচ্ছে- ব্যায়াম, দুই হচ্ছে- সুগার ফ্রি খাওয়া। এই দুইটার সমন্বয়ে চর্বি বার্ন হওয়া শুরু হয়।

সুগার ফ্রি মানে চিনি ছাড়া চা-কফি খেতে হবে। কেউ কেউ জিরো-ক্যাল খেয়ে থাকেন। এটা আরও ক্ষতিকর। শরীরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

৫. খালি পেটের ক্ষুধা

পেট খালি থাকলেই আমরা খেতে চাই। আমাদের পাকস্থলি আমাদের প্রত্যেকের মুষ্টিবদ্ধ কবজির সমান। কিন্তু পাকস্থলির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- এটা বেলুনের মতো ফুলতে পারে। অতিরিক্ত খেতে খেতে আমাদের পাকস্থলির আকার বড় হয়েগেছে।

সমাধান- পেট খালি থাকা আর ক্ষুধা লাগা দুটো ভিন্ন বিষয়। মূলত ক্ষুধা লাগলে খেতে হবে।

৬. আবেগের ক্ষুধা

মন খারাপ থাকলে আমরা আইসক্রিম, চা-কফি, ফাস্টফুড খেয়ে থাকি। আবার মন ভালো থাকলেও এগুলো খাই। এটা আমাদের কালচারে মিশে গেছে।

ফলে যেকোনো সেলিব্রেশনে খাওয়াটাই আমাদের কাছে মূখ্য। দাওয়াতে গেলে, ভালো রেজাল্ট করলে মিষ্টি নিতেই হবে। ঘুরতে গেলে আমাদের প্রধান আগ্রহ থাকে কী খাবো। সবাই মিলে বেড়ানো, গল্প করা, খেলাধুলা করা, প্রকৃতি দেখা ইত্যাদির মাধ্যমে আমরা সেলিব্রেশন করতে পারি না।

সামধান- বেড়াতে গিয়ে অবশ্যই আমরা কিছু খাবো। তবে সেলিব্রেশনের অন্য উপায়ে ফোকাস করতে হবে। যেমন- প্রকৃতি দেখা, ঘুরাঘুরির মজা, এডভেঞ্জার ইত্যাদি।

ব্যবসায়ী Eric Edmeades এর লেকচার অবলম্বনে ফিচারটি  লিখেছেন লতিফুর রহমান। এরিকের Wildfit নামেস্বাস্থ্যবিষয়ক কোর্স রয়েছে।