বরিশালে সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিকল যন্ত্রে ভোগান্তিতে রোগী, ব্যহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা

বরিশাল অফিস : দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসাস্থল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল। তবে এ হাসপাতালের রেডিওলজি ও প্যাথলজি বিভাগের অধিকাংশ রোগ নির্ণয় যন্ত্র বিকল।
মেয়াদোত্তীর্ণ কিছু যন্ত্র চলছে জোড়াতালি দিয়ে। একই অবস্থা বরিশাল নগরীর জেনারেল হাসপাতালেরও। এতে ভোগান্তিতে রোগীরা। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ছুটছেন আশপাশের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
ঝালকাঠি জেলার নলছিটির দেলোয়ার হোসেন বলেন, হাসপাতালের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ভরসা পাই না । তাই বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করিয়েছি । ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মীরাই হাসপাতালে এসে ভিড় করেন। নানাভাবে বুঝিয়ে তাঁরা রোগীদের নিয়ে যান ওইসব সেন্টারে।
বরিশাল নগর উন্নয়ন ফোরামের সমন্বয়ক কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রগুলো বিকল থাকায় দক্ষিণাঞ্চলের রোগীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। শেবাচিম হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে তাঁরা সম্প্রতি অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন এবং স্মারকলিপি দিয়েছেন। জেনারেল হাসপাতালেও যন্ত্রপাতির সংকটে মানুষ সেবা পাচ্ছেন না। দুটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উচিত মন্ত্রণালয়ে দেনদরবার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব রোগ নির্ণয়ের যন্ত্র সচল করা।
জানা গেছে, শেবাচিম হাসপাতালের পাঁচটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনের তিনটি অচল দুই-তিন বছর ধরে। বাকি দুটি মেশিন দিয়ে রোগীদের চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। এক্স-রে বিভাগের ১৩টি মেশিনের মধ্যে বিকল ৮ টি।
শেবাচিমের টেকনিশিয়ান হাসেম আলী বলেন, ৫টি এক্স-রে মেশিন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। মাত্র ১ টি এমআরআই মেশিনটি ছয় বছর ধরে বিকল। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় মেশিনটি আর সচল হবে না। নতুন এমআরআই মেশিন দেওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়ে কয়েক দফা চিঠি দিয়েছে।
এ দিকে বরিশালের সরকারি জেনারেল হাসপাতালের দুটি সিটিস্ক্যান মেশিন অচল হওয়ায় আড়াই বছর সিটিস্ক্যান বন্ধ ছিল। ২০০৭ সালে স্থাপিত মেশিনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ২০ বছর আগে থেকে শেবাচিম হাসপাতালে বন্ধ ইকোকার্ডিওগ্রাম সেবা।ক্যাথল্যাব স্থাপন করা হয় ২০১৪ সালে। ক্যাথল্যাব বন্ধ থাকায় টানা ৩ বছর এনজিওগ্রাম বন্ধ ছিল।
টেকনিশিয়ান ইলিয়াস খান বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ মেশিনটি বারবার সার্ভিসিং করে সচল রাখতে হচ্ছে। ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কোবাল্ট-৬০ মেশিনটি অচল চার বছর ধরে।
জেনারেল হাসপাতালের ইনস্ট্রুমেন্ট কেয়ার টেকনোলজিস্ট মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রের যেগুলোর গ্যারান্টি মেয়াদ রয়েছে, সেগুলো মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে কোবাল্ট-৬০ ও এমআরআই মেশিন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন সিটিস্ক্যান, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন কেনার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হলেও সুফল মিলছে না। নতুন এমআরআই মেশিন পাওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়েছে।
অন্যদিকে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালেও একই অবস্থা। ভবনের ছাদ এবং দেয়াল চুইয়ে পানি প্রবেশ করায় গত সপ্তাহে বন্ধ হয়ে গেছে হাসপাতালটির রেডিওলজি বিভাগের এক্স-রে মেশিন। হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আবদুল জলিল জানান, এখানকার দুটি এক্স-রে মেশিনের ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনটি মাত্র তিন মাস চলে অচল হয়ে পড়েছে, যা আছে, তাও বেশ পুরোনো।
হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে উন্নতমানের অ্যানালাইজার (হরমোন পরীক্ষা) মেশিন নেই। এখানকার অপারেশন থিয়েটারও চলছে জোড়াতালি দিয়ে। আলট্রাসাউন্ড মেশিনটিও দীর্ঘদিন ধরে অচল। জানতে চাইলে জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, তাঁরা এক্স-রে মেশিন, আলট্রাসাউন্ড মেশিন পেতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, এমআরআই মেশিনের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রগুলো নতুন পেতে অথবা সচল করার জন্য মন্ত্রণালয়ে বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।








