বরিশালে সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিকল যন্ত্রে ভোগান্তিতে রোগী, ব্যহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা

বরিশাল অফিস : দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসাস্থল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল। তবে এ হাসপাতালের রেডিওলজি ও প্যাথলজি বিভাগের অধিকাংশ রোগ নির্ণয় যন্ত্র বিকল।

মেয়াদোত্তীর্ণ কিছু যন্ত্র চলছে জোড়াতালি দিয়ে। একই অবস্থা বরিশাল নগরীর জেনারেল হাসপাতালেরও। এতে ভোগান্তিতে রোগীরা। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ছুটছেন আশপাশের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।

ঝালকাঠি জেলার নলছিটির দেলোয়ার হোসেন বলেন, হাসপাতালের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ভরসা পাই না । তাই বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করিয়েছি । ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মীরাই হাসপাতালে এসে ভিড় করেন। নানাভাবে বুঝিয়ে তাঁরা রোগীদের নিয়ে যান ওইসব সেন্টারে।

বরিশাল নগর উন্নয়ন ফোরামের সমন্বয়ক কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রগুলো বিকল থাকায় দক্ষিণাঞ্চলের রোগীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। শেবাচিম হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে তাঁরা সম্প্রতি অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন এবং স্মারকলিপি দিয়েছেন। জেনারেল হাসপাতালেও যন্ত্রপাতির সংকটে মানুষ সেবা পাচ্ছেন না। দুটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উচিত মন্ত্রণালয়ে দেনদরবার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব রোগ নির্ণয়ের যন্ত্র সচল করা।

জানা গেছে, শেবাচিম হাসপাতালের পাঁচটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনের তিনটি অচল দুই-তিন বছর ধরে। বাকি দুটি মেশিন দিয়ে রোগীদের চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। এক্স-রে বিভাগের ১৩টি মেশিনের মধ্যে বিকল ৮ টি।

শেবাচিমের টেকনিশিয়ান হাসেম আলী বলেন, ৫টি এক্স-রে মেশিন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। মাত্র ১ টি এমআরআই মেশিনটি ছয় বছর ধরে বিকল। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় মেশিনটি আর সচল হবে না। নতুন এমআরআই মেশিন দেওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়ে কয়েক দফা চিঠি দিয়েছে।

এ দিকে বরিশালের সরকারি জেনারেল হাসপাতালের দুটি সিটিস্ক্যান মেশিন অচল হওয়ায় আড়াই বছর সিটিস্ক্যান বন্ধ ছিল। ২০০৭ সালে স্থাপিত মেশিনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ২০ বছর আগে থেকে শেবাচিম হাসপাতালে বন্ধ ইকোকার্ডিওগ্রাম সেবা।ক্যাথল্যাব স্থাপন করা হয় ২০১৪ সালে। ক্যাথল্যাব বন্ধ থাকায় টানা ৩ বছর এনজিওগ্রাম বন্ধ ছিল।

টেকনিশিয়ান ইলিয়াস খান বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ মেশিনটি বারবার সার্ভিসিং করে সচল রাখতে হচ্ছে। ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কোবাল্ট-৬০ মেশিনটি অচল চার বছর ধরে।

জেনারেল হাসপাতালের ইনস্ট্রুমেন্ট কেয়ার টেকনোলজিস্ট মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রের যেগুলোর গ্যারান্টি মেয়াদ রয়েছে, সেগুলো মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে কোবাল্ট-৬০ ও এমআরআই মেশিন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন সিটিস্ক্যান, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন কেনার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হলেও সুফল মিলছে না। নতুন এমআরআই মেশিন পাওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়েছে।

অন্যদিকে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালেও একই অবস্থা। ভবনের ছাদ এবং দেয়াল চুইয়ে পানি প্রবেশ করায় গত সপ্তাহে বন্ধ হয়ে গেছে হাসপাতালটির রেডিওলজি বিভাগের এক্স-রে মেশিন। হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আবদুল জলিল জানান, এখানকার দুটি এক্স-রে মেশিনের ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনটি মাত্র তিন মাস চলে অচল হয়ে পড়েছে, যা আছে, তাও বেশ পুরোনো।

হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে উন্নতমানের অ্যানালাইজার (হরমোন পরীক্ষা) মেশিন নেই। এখানকার অপারেশন থিয়েটারও চলছে জোড়াতালি দিয়ে। আলট্রাসাউন্ড মেশিনটিও দীর্ঘদিন ধরে অচল। জানতে চাইলে জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, তাঁরা এক্স-রে মেশিন, আলট্রাসাউন্ড মেশিন পেতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, এমআরআই মেশিনের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রগুলো নতুন পেতে অথবা সচল করার জন্য মন্ত্রণালয়ে বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।




ডেঙ্গুর ভয়াবহতা দেখতে পিরোজপুরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি দল

এস এম পারভেজ (পিরোজপুর): জেলায় বেড়ে চলেছে ডেঙ্গু রোগী। জেলা হাসপাতালসহ উপজলার স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছে রোগী। সবচেয়ে বেশি  আক্রান্তের সংখ্যা নেছারাবাদ উপজলায়। এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন  অর্ধ শতাধিক রোগী। গত ২৪ ঘটায় এ উপজেলা কমপ্লেক্সে আরও ভর্তি হয়েছেন ৩২ জন রাগী।

এদিকে, ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি প্রতিনিধি দল গতকাল মঙ্গলবার নছারাবাদ উপজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স  পরিদর্শন করেন।

উপজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারদল দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার কর্মকর্তারা গতকাল স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স  পরিদর্শনে আসেন এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ও  উপজলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদর সঙ্গ বিভিন বিষয় ব্রিফ করেন।

এসময় প্রতিনিধি দলর সঙ্গ ডা. ফিরাজ কিবরিয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তরা উপস্থিত ছিলেন।




ত্রিশের পর সুস্থ থাকতে করণীয়

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ত্রিশের পর থেকে শরীরের ভেতরে নানা সমস্যা শুরু হতে থাকে। কিছু নিয়ম মেনে না চললে সমস্যা বাড়তে থাকে। বয়সের চাকা যত সামনের দিকে এগোতে থাকে, ফিটনেসও তত কমতে থাকে। তাই আগে থেকেই লাগাম টানা জরুরি। বয়স ত্রিশ পেরোলেই শরীরের প্রতি বিশেষ যত্নের কথা বলে থাকেন চিকিৎসকেরা। ত্রিশের পর থেকে শরীরের ভেতরে নানা সমস্যা শুরু হতে থাকে। তাই কিছু নিয়ম মেনে না চললে সমস্যা বাড়তে থাকে।

পর্যাপ্ত ঘুম: সারা দিন তো বটেই, রাতেও কাজ নিয়ে বসেন অনেকে। ফলে ঘুম পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে না। দীর্ঘ দিনের এই অনিয়মে শরীর খারাপ হতে শুরু করে। ভেতর থেকে দুর্বল লাগে। ঘুমের ঘাটতি আরও নানা শারীরিক সমস্যার জন্ম দিতে পারে। তাই পর্যাপ্ত ঘুমানো জরুরি।

নিয়মিত শরীরচর্চা করা: বয়স ত্রিশ পেরিয়েছে মানেই ক্যারিয়ার নিয়ে তখন চিন্তা বেড়ে যায়। ফলে ব্যস্ততা, কাজের চাপ সবই বেড়ে যায়। নিজের জন্য সময় থাকে না বললেই চলে। তবে শত ব্যস্ততার মধ্যেও সময় বাঁচিয়ে শরীরের যত্ন নেওয়া জরুরি। তা নাহলে দীর্ঘ দিন ধরে সুস্থ থাকা সম্ভব নয়। ফিট থাকতে শরীরচর্চার বিকল্প নেই। নিয়ম করে যদি কার্ডিয়ো, স্ট্রেংথ ট্রেনিংয়ের মতো কিছু শারীরিক ব্যায়াম করতে পারেন, সত্যিই ভালো থাকবেন।

ডায়েট: ঘরোয়া খাবারের কোনো বিকল্প হতে পারে না। তাই বাইরের খাবারের প্রতি ঝোঁক কমিয়ে ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার বেশি করে খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। প্রতিদিন প্রোটিন, নানা রকম শস্য, দুগ্ধজাত খাবার বেশি করে খাবেন। সেই সঙ্গে লাগাম টানতে হবে প্রক্রিয়াজাত খাবার, মিষ্টি, নরম পানীয়ের মতো খাবার খাওয়ায়।

নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা: অসুস্থ না হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না অনেকেই। কিন্তু মাঝেমাঝেই চিকিৎসকের কাছে গিয়ে শারীরিক পরীক্ষা করানো জরুরি। অনেক সময়ে শরীরের ভেতরে নানা রোগ বাসা বাধে। কিন্তু বাইরে থেকে তা বোঝা যায় না। ভেতর থেকে সুস্থ আছেন কিনা, তা জানতে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।




ডেঙ্গু আক্রান্ত যে ১০ রোগীর চিকিৎসায় সর্তকতা প্রয়োজন

চন্দ্রদীপ ডেস্ক:  বিএসএমএমইউর ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১০ ধরনের মানুষের ব্যাপারে বিশেষ পর্যবেক্ষণের দরকার আছে। এই তালিকায় আছেন গর্ভবতী নারী, ছোট শিশু, বৃদ্ধ, স্থূলকায়, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত, কিডনি রোগী, থ্যালাসেমিয়ার রোগী এবং বিশেষ সামাজিক পরিস্থিতির রোগী (যেমন একা থাকা ব্যক্তি)।

মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে সব রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বা করার দরকার নেই। তবে কিছু রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি না করলে ঝুঁকি বাড়বে। ডেঙ্গু থাকা অবস্থায় রক্তক্ষরণ হলে, বারবার বমি হতে থাকলে বা কোনো কিছু পান করতে সমর্থ না হলে সেই রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। কারও তীব্র পেটে ব্যথা হলে, মাথা ঘোরালে, হাত বা পা ঠান্ডা হয়ে এলে বা ফ্যাকাশে হয়ে এলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।

যদি কোনো ডেঙ্গু রোগীর চার থেকে ছয় ঘণ্টা প্রস্রাব না হয়, কারও যকৃতের আকার যদি দুই সেন্টিমিটারের মতো বড় হয়ে যায়, তা হলে সেসব রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।




লক্ষণ ডেঙ্গু কিন্তু রিপোর্ট নেগেটিভ, অবহেলা করলে বাড়বে বিপদ

চন্দ্রদীপ নিউজ ডেস্ক : ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়েই চলছে। এসব মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালের বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে অধিকাংশ মৃত্যুর জন্য অবহেলাই দায়ী। রিপোর্ট নেগেটিভ হলেও ডেঙ্গুর লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা সেবা বাদ দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকেন অনেকে। পরবর্তীকালে জটিলতা হলে চিকিৎসক কিংবা হাসপাতালের শরণাপন্ন হন। ঐ সময় চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন, বিলম্বে আসার কারণে রোগীর অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ। আবার চিকিৎসকদেরও অবহেলা রয়েছে। ডেঙ্গু রোগীর রিপোর্ট নেগেটিভ হলে, অনেক চিকিৎসক গুরুত্ব দিতে চান না। অথচ সেবাপ্রত্যাশীর শরীরে লক্ষণ ডেঙ্গুর। এ কারণে ডাক্তাররা বলেন, উপসর্গই যথেষ্ট। ভুক্তভোগীকে চিকিৎসা সেবা থেকে যেন কোনো ধরনের বিলম্ব করা না হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ডেঙ্গু পরীক্ষায় নেগেটিভ রিপোর্ট আসলেই মনে করবেন না ডেঙ্গু হয়নি। এই ভেবেই বাসায় বসে থাকলে জটিলতা আরও বাড়বে এবং মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। রিপোর্ট নেগেটিভ হলেও যদি লক্ষণ ও উপসর্গ থাকে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা নিতে হবে। প্লাটিলেট কমছে কি না সেটা দেখতে হবে। অর্থাৎ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যেতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজীর আহমেদ বলেন, ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এনএস-১ পরীক্ষা করলে পজেটিভ হতে পারে। পাঁচ-ছয় দিন পর পরীক্ষা করলে নেগেটিভ আসে। সপ্তম দিনে আইজিএম পরীক্ষা করলে পজেটিভ রিপোর্ট আসবে। এর দুই দিন পর পরীক্ষা করলে নেগেটিভ আসবে। তখন আইজিজি পরীক্ষা করাতে হবে। এভাবে রোগীকে ধাপে ধাপে পরীক্ষা করে দেখতে হবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কি না। একই সঙ্গে প্লাটিলেট কাউন্ট পরীক্ষা করতে হবে। নিজেরা কোনো একটি পরীক্ষা করে নেগেটিভ রিপোর্ট পেয়ে বসে থাকলে হবে না। অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শে পরীক্ষা করতে হবে। এক্ষেত্রে খামখেয়ালি করলে বিপদ, মৃত্যুর ঝুঁকি আছে। অনেক সময় ডাক্তাররাও খামখেয়ালিপনা করেন। তবে এটা ঠিক নয়। রোগীর গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে জেনে চিকিৎসা সেবা দিতে হবে।




আজ বিশ্ব মশা দিবস

চন্দ্রদীপ নিউজ ডেস্ক : ১৮৯৭ সালের আজকের এই দিনে (২০ আগস্ট) মশাবাহিত ম্যালেরিয়া রোগের কারণ আবিষ্কার করেছিলেন চিকিৎসক রোনাল্ড রস অ্যানোফিলিস। পরবর্তী সময়ে এই আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন তিনি।

ব্রিটিশ চিকিৎসক রোনাল্ড রসকে সম্মান জানাতে ১৯৩০ সালে দিবসটি পালনের সূচনা করেছিল যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর ম্যালেরিয়ায় চার লাখ ৩৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। জনসাধারণকে সতর্ক করতে প্রতি বছর ২০ আগস্ট বিশ্ব মশা দিবস পালন করা হয়।

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী মশাবাহী ছয়টি রোগ হলো— ডেঙ্গু জ্বর, এনকেফালাইটিস, জিকা ভাইরাস, পীতজ্বর, চিকনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়া।

বিভিন্ন ভয়াবহ অসুখের মধ্যে মশাবাহিত ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু উল্লেখযোগ্য। তাই ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু ইত্যাদি মশাবাহিত রোগের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসাধারণকে বিশেষভাবে সচেতন করার জন্য বিশ্বজুড়ে ২০ আগস্ট বিশ্ব মশা দিবস পালিত হয়।

মশাবাহিত রোগ থেকে সাবধান হওয়ার জন্য এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এই দিনে সমগ্র বিশ্ব জুড়ে বেশ কিছু সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়।

মশা কীভাবে রোগ ছড়ায়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মশার কামড়ানোর একটি সময় এবং কৌশল রয়েছে। অন্য কথায় স্ত্রী মশা খাদ্য হিসেবে রক্ত ​​গ্রহণ করে। অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া হয়। তবে এই মশা কামড়ানোর একটা নির্দিষ্ট সময় আছে। সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের মধ্যে এই মশা কামড়ায়। এডিস মশা সূর্যোদয়ের আগে বা সন্ধ্যায় কামড়ায়। এছাড়া কিউলেক্স মশা অন্যদের থেকে আলাদা। এই মশাগুলো সারা রাত সক্রিয় থাকে এবং রাতে বাড়ির ভিতরে বা বাইরে যেকোনো জায়গায় কামড়াতে পারে।

মশা আকারে ক্ষুদ্র হলেও এটি মানবস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ। খুব সহজেই ঘাতক হিসেবে রূপ নিতে পারে ক্ষুদ্র এই জীবটি। অনেকের কাছে বর্ষাকাল প্রিয় হলেও মাথায় রাখতে হবে এই সময় এলেই বাড়তে থাকে মশার উপদ্রব। বর্তমানে বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে মশার উপদ্রবে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। বাংলাদেশে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় এক লাখ মানুষ। তাই আজকের এই দিনটি থেকে মশাবাহিত রোগ থেকে বাঁচতে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।




শিশুর ডেঙ্গু হলে কী করণীয়

ডা. সেলিনা সুলতানা: ডেঙ্গুর ভাইরাসবাহী এডিস মশা কামড় দেওয়ার পর সুস্থ শিশুর শরীরে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এর চার থেকে দশ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়। ডেঙ্গু যেহেতু ভাইরাসজনিত রোগ, তাই এ রোগে জ্বরের তাপমাত্রা সাধারণত ১০১ থেকে ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট হতে পারে। তবে ডেঙ্গু হলেই যে তীব্র জ্বর থাকবে, এমনটা নয়।

ডেঙ্গুর এ জ্বরকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:

১. ফেব্রাইলফেজ : শিশুর ডেঙ্গুজ্বর দুই থেকে তিন দিন বা এর চেয়ে বেশি সময় স্থায়ী হলে।

২.অ্যাফেব্রাইল ফেজ : এ সময় শিশুর আর জ্বর থাকে না। সাধারণত এর সময়কাল থাকে দুই-তিন দিন।

৩. কনভালসেন্ট ফেজ : যখন শিশুর শরীরে র‌্যাশ দেখা যায়। এর সময়কাল থাকে চার-পাঁচ দিন। অ্যাফেব্রাইল ফেজে অভিভাবকদের সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, এ ক্রিটিক্যাল ফেজে শিশুর জ্বর বা শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার পর শিশু সংকটপূর্ণ অবস্থায় চলে যেতে পারে। এ সময়ে শিশুর শরীরে প্লাজমা লিকেজ হয় এবং তা শরীরের বিভিন্ন অংশে জমা হয়ে থাকে। এ কারণে রোগীর পেট ফুলে যায় বা রক্তক্ষরণের মতো সমস্যা দেখা দেয়; যার কারণে শিশুর ডেঙ্গু শক সিনড্রোম হতে পারে। তাই জ্বর সেরে যাওয়ার দুই থেকে তিন দিন শিশুকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন।

শিশুরা এ সময় স্বাভাবিক চঞ্চলতা ভুলে প্রচুর কান্নাকাটি করে থাকে, নিস্তেজ হয়ে পড়ে। শিশুর মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়, কিছুই খেতে চায় না, বমি বমি ভাব হয়। ছয় থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে শিশুর প্রস্রাব না হওয়া ডেঙ্গুর মারাত্মক লক্ষণগুলোর একটি। শরীরে লালচে র‌্যাশ দেখা দিতে পারে। এছাড়া মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, পেটে ব্যথা হতে পারে। চোখ লাল হয়ে যাওয়া, কাশি বা শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এ লক্ষণগুলো সাধারণত অ্যাফেব্রাইল স্তরে বেশি হয়ে থাকে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে, ডেঙ্গুর কারণে শিশুর শকে যাওয়ার অবস্থা হলে তার পেট ফুলে যেতে পারে বা শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে যেমন-রক্তবমি হওয়া, মলের সঙ্গে বা নাক দিয়ে রক্ত পড়া।

মেডিকেল পরীক্ষায় যদি শিশুর ডেঙ্গু ধরা পড়ে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে ডেঙ্গু হলেই যে শিশুকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দিতে হবে তা নয়। বাড়িতে রেখে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে শিশুকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা সম্ভব। শিশুর মধ্যে গুরুতর লক্ষণ প্রকাশ পেলে চিকিৎসকরাই তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেবেন।

শিশুর মধ্যে ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকরা রক্তের পরীক্ষা দিয়ে থাকেন। এগুলো হলো-কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি), ডেঙ্গু এনএস ওয়ান অ্যান্টিজেন, এসজিপিটি ও এসজিওটি। এসব পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হলে প্রতিদিন একবার সিবিসি পরীক্ষার মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি নাকি অবনতি হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

শিশুর শরীরে যদি জ্বর থাকে, তাহলে পানি দিয়ে শরীর বারবার স্পঞ্জ করে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। শিশুর ডেঙ্গু শনাক্ত হলে বারবার তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। শিশুকে পানি ও মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি বেশি পরিমাণে তরল খাবার, বিশেষ করে খাওয়ার স্যালাইন, ডাবের পানি, ফলের শরবত, সুপ খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। ডেঙ্গুর ধরন ও লক্ষণ বুঝে চিকিৎসকরা শিশুদের প্যারাসিটামল বা অন্যান্য ওষুধ দিয়ে থাকেন। রক্তচাপ অস্বাভাবিক থাকলে স্যালাইন দিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। এক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রয়োজন। শিশুর শরীরে রক্তক্ষরণ শুরু হলে রক্ত দেওয়ারও প্রয়োজন হতে পারে। শিশুর রক্তে প্লাটিলেট যদি পাঁচ হাজার থেকে দশ হাজারের নিচে চলে আসে বা রক্তরক্ষণ হয়, তাহলে শিশুকে আইসিইউতে রেখে প্লাটিলেট দেওয়ার প্রয়োজন হয়। সাধারণত চারজন ডোনার থেকে এই প্লাটিলেট সংগ্রহ করা হয়। তাই শিশুর শারীরিক পরিস্থিতি গুরুতর হলে অন্তত রক্তের গ্রুপ মিলিয়ে কয়েকজন রক্তদাতাকে প্রস্তুত রাখতে হবে। রোগীর পরিস্থিতি গুরুতর হলে রক্ত পরীক্ষার পাশাপাশি বুকের এক্সরে, পেটের আলট্রাসনোগ্রাফি, ইলেকট্রোলাইটের মাত্রা পরিমাপ করা হয়। এছাড়া প্রস্রাব না হলে ক্রিয়াটিনিনের মাত্রাও দেখা হয়।

শিশুদের ফ্লুয়িড ম্যানেজমেন্ট ঠিকমতো না হলে ঝুঁকি বেড়ে যায়। দেরি হয়ে গেলে রোগীর পরিস্থিতি খারাপের দিকে চলে যায়। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে শিশুর মৃত্যুর পেছনে এটা একটা বড় কারণ। জ্বর এলে অভিভাবকরা দেরি করে হাসপাতালে আসছেন। শুরু থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না হওয়ায় রোগীর পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। তাই জ্বর হলে শিশুদের অতি দ্রুত হাসপাতালে আনার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

ডেঙ্গু প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। এক্ষেত্রে এডিস মশার উৎস ধ্বংস করতে হবে প্রথমে। এডিস মশা সাধারণত গৃহস্থালির পরিষ্কার পানিতে জন্মে থাকে; যেমন-ফ্রিজে জমে থাকা পানি, এসিতে জমে থাকা পানি, ফুলের টব, গাড়ির টায়ার বা ডাবের খোলে বৃষ্টির জমে থাকা পানি। তাই এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে এমন স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো নষ্ট করে ফেলতে হবে। বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। শিশুদের দিনে ও রাতে মশারির ভেতরে রাখতে হবে। বিশেষ করে নবজাতক শিশুকে সার্বক্ষণিক মশারির ভেতরে রাখতে হবে। ফুলহাতা জামা ও প্যান্ট পরিয়ে রাখতে হবে। এছাড়া হাসপাতালে কোনো শিশু যদি অন্য রোগের চিকিৎসাও নিতে আসে, তাহলে তাকেও মশারির ভেতরে রাখতে হবে। কারণ ডেঙ্গু আক্রান্ত কাউকে এডিস মশা কামড়ে পরে আবার অন্য কোনো সুস্থ শিশুকে কামড়ালে তার শরীরেও ডেঙ্গুর ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।

শিশুরা যে সময় বাইরে ছুটোছুটি বা খেলাধুলা করে, সে সময়টাতে তাদের শরীরে মসকুইটো রেপেলেন্ট অর্থাৎ মশা নিরোধীকরণ স্প্রে, ক্রিম বা জেল ব্যবহার করতে হবে। কয়েক ঘণ্টা পরপর এই রেপেলেন্ট প্রয়োগ করতে হবে।

ডা. সেলিনা সুলতানা : কনসালটেন্ট, নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার এবং চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পেডিয়াট্রিক ডিপার্টমেন্ট, বেটার লাইফ হসপিটাল




দেশে প্রথম মায়ের কিডনি কন্যার দেহে সফল প্রতিস্থাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে প্রথমবারের মতো মায়ের দেওয়া কিডনি কন্যার দেহে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে এই কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ৬ষ্ঠ তলায় এই কিডনি দাতা ও গ্রহীতার ছাড়পত্র প্রদান উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিষয়টি জানান বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

সময় উপাচার্য বলেন, রোগী যেন দেশের বাইরে না যায়, সে লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল কাজ করছে। দেশের মানুষ ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিশেষ করে কিডনি, লিভার, কর্নিয়া ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য বিদেশে যায়। আরও বিদেশে যায় ক্যান্সার, ইনফার্টিলিটি, জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট, আর্থোস্কপি, স্টেমসেল থেরাপি, রোবটিক সার্জারি, বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট, হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার প্রয়োজনে। আমরা এসব চিকিৎসা সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে শুরু করতে চাই। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকে আমাদের অন্যরকম একটি দিন। আমাদের সামনে কিডনি দাতা মা ও কিডনি গ্রহীতা মেয়ে হাসিমুখে বসে আছেন। এমন হাসিমাখা মুখ সব রোগীর ক্ষেত্রে আমরা দেখতে চাই।

সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল সূত্র জানায়, ফরিদপুরের বাসিন্দা ১৭ বছরের কিশোরী শ্রাবণী দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ফেইলর হয়ে অসুস্থ ছিলেন। তার মা ৪৫ বছর বয়সী মনোয়ারা মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে এসে নিজের একটি কিডনি দান করার সম্মতি প্রদান করেন। কিডনি দাতা ও গ্রহীতার সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। এ কিডনি প্রতিস্থাপনে নেতৃত্ব দেন বিএসএমএমইউ’র ইউরোলজি বিভাগের রেনাল ট্রান্সপ্ল্যান্ট ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল।

অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ডা. দেবব্রত বনিক, বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. দেবাশীষ বনিক, শিশু কিডনি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আফরোজা বেগম, ইউরোলজি বিভাগের রেনাল ট্রান্সপ্ল্যান্ট ইউনিটের অধ্যাপক ডা. তৌহিদ মো. সাইফুল হোসেন দিপু, সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারুক হোসেনসহ ৩১ জন চিকিৎসক এই কিডনি প্রতিস্থাপনের বিভিন্ন চিকিৎসাসেবার কার্যক্রমে অংশ নেন।

এ অনুষ্ঠানে কিডনি গ্রহীতা ও দাতাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা এবং কেক কেটে বিদায় জানানো হয়। হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাদের হাতে ওষুধও তুলে দেন উপাচার্য।




বিশ্বে সবচে কম ক্যান্সার রোগী মধ্যপ্রাচ্যে, কেনো? জানতে পড়ুন

বিশ্বে সবচে বেশি ক্যান্সার রোগী অষ্ট্রেলিয়ায়, কম  মধ্যপ্রাচ্যে, Dr. Eric Berg এর ভিডিও অবলম্বনে লিখেছেন মো. লতিফুর রহমান।

ডাক্তার বার্গ পরিসংখ্যান দিলেন, সবচেয়ে বেশি ক্যান্সার আক্রান্তের দেশ অস্ট্রেলিয়া। সেখানে প্রতি লাখে ৪৬৮ ব্যক্তি ক্যান্সার আক্রান্ত হয়। অন্যদিকে সৌদি আরবে মাত্র ৯৬ জন। অধিকাংশ মধ্যপ্রচ্যের দেশে ১০০ এর আশেপাশে।

এই কমের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানালেন..

০১.
মুসলিম দেশ হওয়ায় তারা বছরে এক মাস রোজা রাখে। রোজায় সারাদিন এক্সটারনাল ফুড না নিলেও শরীরে ঠিকই এনার্জির প্রয়োজন হয়। এসময় কোষগুলো টক্সিক ও ফ্যাট খেয়ে এনার্জির প্রয়োজন মেটায়। এতে সম্ভাব্য ক্যান্সার কোষগুলো খাওয়া হয়ে যায়।

এছাড়া এসময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। কিলার টি সেল উৎপাদন বেড়ে যায় যা ক্যান্সার ও অন্যান্য জীবানুর বিরুদ্ধে সরাসরি কাজ করে।

০২.
মধ্যপ্রাচ্যের দেশে ধুমপায়ীর সংখ্যা কম, বিশেষ করে নারী ধুমপায়ী। সারা পৃথিবীর ২০% মানুষ যেখানে ধুমপায়ী সেখানে এসব দেশে সেটা ৯% এরও কম। কিছু দেশে সেটা ২-৩%। আর ধুমপান ক্যান্সারের জন্য দায়ী।

০৩.
মুসলিম দেশ হওয়ায় তারা এ্যালকোহল পান করে না। এটাও ক্যান্সারে কম আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।
এই কারণগুলো বলে ডাক্তার সাহেব নিজেই ভাবছিলেন মধ্যপ্রাচ্যে ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা তো আরও কম হওয়ার কথা। কিন্তু কেনো তারা ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে? ডাক্তার সাহেব উত্তর দিয়েছেন।

কম হলেও যেকারণে তারা ক্যান্সার আক্রান্ত হচ্ছে

০১.
তারা অতিরিক্ত খাওয়া দাওয়া করে এবং পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুগার খায়।

০২.
রোদে কম বের হবার কারণে তারা ভিটামিন ডি এর অভাবে ভোগে। অথচ ভিটামিন ডি ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশে ক্যান্সার রোগের কী অবস্থা?

প্রথম আলোর ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ এর তথ্য মতে, বাংলাদেশে প্রতিবছর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় দেড় লাখ মানুষ। আর মারা যায় এক লাখের বেশি।




ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২১৪৯

চন্দ্রদীপ নিউজ ডেস্ক:  মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত (একদিনে) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও ২১৪৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৩৪ জন, আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩১৫ জন। একইসঙ্গে এই সময়ে ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ৯ হাজার ১৬৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। ঢাকার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ৪ হাজার ২ জন এবং অন্যান্য বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫ হাজার ১৬৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী।