যুক্তরাজ্যে অতি অল্প সময়ে ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন ইনজেকশন উদ্ভাবন

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ক্যান্সার চিকিৎসার দীর্ঘমেয়াদি সময় কমিয়ে আনতে নতুন এক ইনজেকশন উদ্ভাবন করেছেন যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা। মাত্র ৭ মিনিটেই রোগীর দেহে এই ইনজেকশন প্রয়োগ করা যাবে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ (এনএইচএস) জানিয়েছে, এর ফলে ক্যান্সারের চিকিত্সার সময় তিন চতুর্থাংশ পর্যন্ত কমে আসবে।

মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) নতুন এ ইনজেকশন যুক্তরাজ্যের মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথ কেয়ার প্রোডাক্ট রেগুলেটরি এজেন্সির (এমএইচআরএ) অনুমোদন পেয়েছে। আর এর পরপরই এনএইচএস জানিয়ে দেয়, এতদিন ইমিউনোথেরাপির মাধ্যমে যেসব ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, তাদের এখন অ্যাটেজোলিজুমাবের ইনজেকশন দেওয়া হবে।

এনএইচএসের মতে, এতদিন পর্যন্ত ক্যান্সারের ওষুধ শিরার মাধ্যমে রোগীর শরীরে পৌঁছে দেওয়া হতো। এটি প্রায় ৩০ মিনিট থেকে প্রায় এক ঘণ্টা সময় নিত। তবে নতুন ইনজেকশন মাত্র ৭ মিনিটে একই কাজ করবে।

অ্যাটেজোলিজুমাব সাধারণত ত্বকের নিচে দেওয়া হয়। এর আরেক নাম টেসেন্ট্রিক। মূলত, এটি একটি মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি ওষুধ, যা ক্যানসার রোগীদের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি একটি ড্রিপের (স্যালাইন) মাধ্যমে রোগীদের শিরায় দেওয়া হয়।

ওয়েস্ট সাফোল্ক এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের কনসালট্যান্ট অনকোলজিস্ট ড. আলেকজান্ডার মার্টিন ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, নতুন ইনজেকশনের মাধ্যমে রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা করা যাবে। আমরা আগের চেয়ে কম সময়ে আরও বেশি লোকের চিকিৎসা করতে পারবো। যুক্তরাজ্যের হাজার হাজার ক্যান্সার রোগী অ্যাটেজোলিজুমাবের আইভি পদ্ধতি থেকে উপকৃত হয়েছেন। এ চিকিৎসায় ক্যান্সার ফিরে আসার ঝুঁকি খুবই কম থাকে।

তিনি আরও বলেন, অ্যাটেজোলিজুমাব একটি ইমিউনোথেরাপি ওষুধ। এটি রোগীর দেহে ক্যান্সার কোষগুলি খুঁজে পেতে ও ধ্বংস করতে সক্ষম। এটি বর্তমানে ফুসফুস, স্তন, লিভার ও মূত্রাশয়সহ বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সায় ব্যবহৃত হয়।

যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর ৩ হাজার ৬০০ রোগীকে এই প্রক্রিয়ায় চিকিৎসা দেয়া হয়। এতে তাদের কষ্টও কম হয় বলে জানায় দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।

সূত্র: রয়টার্স




ফাস্টিং ব্লাড সুগার পরীক্ষার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স: ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা দরকার। আর এই পরীক্ষা দুই ধরনের হয়, একটি হলো ফাস্টিং ব্লাড সুগার টেস্ট এবং অন্যটি পোস্টপ্রান্ডিয়াল ব্লাড সুগার টেস্ট।

ফাস্টিং ব্লাড সুগার সকালে খালি পেটে পরীক্ষা করা হয়। রক্তে শর্করার পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রাক-ডায়াবেটিস, টাইপ ১ ডায়াবেটিস এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার মাত্রা শনাক্ত করা। অনেক সময় ফাস্টিং ব্লাড সুগারের পরিমাণ (ফাস্টিং ব্লাড সুগার টেস্ট) বেশি থাকে। সকালে খালি পেটে রক্ত পরীক্ষা করে এর অবস্থা জানা থাকলে ওষুধ ও খাবার দিয়ে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

যদি আপনি একটি ফাস্টিং রক্তের শর্করা পরীক্ষা করছেন, রাতে দুধ পান করবেন না। দুধে পেপটিন নামক একটি উপাদান থাকে যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

একইভাবে আপনি যদি ফাস্টিং সুগার টেস্ট করছেন, হাঁটা এড়িয়ে চলুন। হাঁটা এবং ব্যায়াম ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। এটি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এগুলো মেনে চললেই ফাস্টিং ব্লাগ সুগার পরীক্ষার রিপোর্ট সঠিক আসবে ও সঠিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা সম্ভব।

প্রায়শই লোকেরা ১২-১৪ ঘণ্টা কিছু না খেয়ে তারপরে সকালে রক্তে শর্করার পরীক্ষা করার দিকে মনোনিবেশ করে। এই পদ্ধতিতে তারা মনে করেন যে তাদের সুগার টেস্টের রিপোর্ট সঠিক আসবে। কিন্তু ফাস্টিং সুগার টেস্টে তখনই সঠিক রিপোর্ট আসে যখন রোগী রাতের ডায়েটে মনোযোগ দেন এবং সকালে কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখেন।

কেউ যদি ফাস্টিং সুগার চেক করেন, তাহলে তার সকালে পানিও পান করা উচিত নয়। ফাস্ট সুগার মানে ৮-১০ ঘণ্টা কিছু না খাওয়ার পরে রক্তের অবস্থা সম্পর্কে তথ্য নেওয়া। ফাস্টিং ব্লাড সুগার পরীক্ষা করার সময় মনে রাখতে হবে সকালে ঘুম থেকে ওঠার এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষাটি করতে হবে। যদি দুপুর ১২টায় একটি ফাস্টিং সুগার টেস্ট করা হয় তবে কখনই সঠিক ফলাফল পাওয়া যাবে না। এরজন্য সকালের ঘুম থেকে ওঠার ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই এই পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি।




পিরোজপুরে এডিস মশার প্রাদূর্ভাব, ২৪ ঘন্টায় একজনের মৃত্যু, নতুন রোগী ৪১

এস এম পারভেজ (পিরোজপুর): জেলায় এডিস মশার প্রাদূর্ভাব আবারও আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলায় আরও ১ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে ওই উপজেলায় ২ জন ও নেছারাবাদ উপজেলায় ১ জনসহ মোট ডেঙ্গুতে মৃত্যুবরন করেছে ৩ জন। জেলা হাসপাতাল ও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ ঘন্টায় ভর্তি আছেন আরও ৪১ জন রোগী। একই সময় জেলার ৭ টি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন মোট ১২০ জন রোগী। ডেঙ্গুর প্রাদূর্ভাব শুরু থেকে এ পর্যন্ত সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ২ হাজার ৬০ জন রোগী।

তবে ডেঙ্গুর হাত থেকে বাঁচতে হলে সচেতনতার কোন বিকল্প নেই বলে মনে করেন জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) নিজাম উদ্দিন। তিনি আরও বলেন, অভিভাবকদের এ বিষয় আরও সতর্ক থাকতে হবে এবং জ্বর অনুভব করলে কোন প্রকার অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরী। এদিকে, জেলায় বাজার মনিটরিং না থাকায় ডেঙ্গুর জন্য অতি প্রয়োজনীয় তরল পানীয় হিসাবে রোগীর ডাবের পানির কোন বিকল্প নেই। কিন্তু সেই ডাবের মূল্য বিভিন্ন হাট-বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ছোট একটি ডাবের মুল্য ৭০ টাকা থেকে বড়টির মূল্য ১২০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন রোগীর স্বজনরা।




বাংলাদেশে গড় আয়ু কমেছে ছয় বছর আট মাস

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: বায়ুদূষণে বাংলাদেশে বছরে মানুষের গড় আয়ু ছয় বছর আট মাস কমে গেছে। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর দেশ বাংলাদেশ। ১৯৯৮ সালের তুলনায় বায়ুদূষণ ৬৩ শতাংশ বেড়েছে। তবে ২০২০ ও ২০২১ সালের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত বায়ুদূষণবিষয়ক এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বের কোন দেশের অধিবাসীদের গড় আয়ু কী পরিমাণ কমছে, সেই হিসাব ধরে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বায়ুদূষণ বিশ্ববাসীর জন্য সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠেছে। বিশ্বের ছয়টি দেশে বায়ুদূষণ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, চীন, নাইজেরিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। সামগ্রিকভাবে দূষিত বায়ু মানুষের আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে। ধূমপানে মৃত্যুর চেয়ে তিনগুণ, সড়ক দুর্ঘটনার মৃত্যুর তুলনায় পাঁচগুণ মানুষ বায়ুদূষণে মারা যাচ্ছে।

বায়ুদূষণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানুষের গড় আয়ু কী পরিমাণে কমছে, তা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। বায়ুর মান অনুযায়ী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের আয়ু এক বছর থেকে ছয় বছর কমে যাচ্ছে। গত এক যুগে বিশ্বে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে চীন সবচেয়ে বেশি সফলতা দেখিয়েছে। দূষণ রোধে তাদের নেওয়া পদক্ষেপগুলো দেশটির বায়ুর মান ৪২ শতাংশ বেশি উন্নতি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের ১৬ কোটি ৪৮ লাখ মানুষ সারা বছর দূষিত বায়ুর মধ্যে বসবাস করছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত মান, বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে অতি ক্ষুদ্র বস্তুকণা ৫ মাইক্রোগ্রামের চেয়ে বেশি। তবে দেশের একেক এলাকার বায়ুর অবস্থা একেক রকম। বড় শহরগুলোর তুলনায় গ্রামের বায়ুর মান ভালো। বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্মল বায়ুর শহর সিলেটেও বায়ুদূষণ আন্তর্জাতিক মানের ১০ গুণ। সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর হলো গাজীপুর। রাজধানী ঢাকার সবচেয়ে কাছের শিল্প এলাকা গাজীপুরে মানুষের আয়ু আট বছর তিন মাস কমে গেছে। আর বাংলাদেশে বছরে গড় আয়ু কমেছে ছয় বছর আট মাস।

ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোয় ৭ কোটি ৪৭ লাখ মানুষ বসবাস করে। এসব শহরের অধিবাসীদের গড় আয়ু সাত বছর ছয় মাস কমে যাচ্ছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণ করে বায়ুর মান উন্নত করলে গড় আয়ু বাড়ানো যেতে পারে। ঢাকায় বায়ুর মান উন্নত করে গড় আয়ু আট বছর এক মাস বাড়ানো সম্ভব আর চট্টগ্রামে ছয় বছর নয় মাসের সঙ্গে পুরো দেশের গড় আয়ু বাড়তে পারে পাঁচ বছর আট মাস।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে বায়ুর মান বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সময়মতো তথ্য সরবরাহের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসব তথ্য যাতে দূষিত বায়ু থেকে রক্ষা পেতে নাগরিকরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে, তা-ও নিশ্চিত করার ব্যাপারে জোর দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি পলিসি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মিখাইন গ্রিনস্টোন বলেন, বিশ্বের গণমাধ্যমগুলো রাজনৈতিক সংবাদকে বেশি গুরুত্ব দেয়। কিন্তু জনস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করলে বায়ুদূষণসংক্রান্ত সংবাদ প্রতিদিন প্রকাশ করা উচিত। কারণ, অনেক দেশে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রাথমিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়নি। এক্ষেত্রে আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলো বিশ্বের মোট দূষিত বায়ুর ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ নির্গত করে। এশিয়ার ৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং আফ্রিকার ৩ দশমিক ৭ শতাংশ রাষ্ট্র তার জনগণের জন্য বায়ুর মানবিষয়ক নির্ভরযোগ্য তথ্য সঠিক সময়ে সরবরাহ করে থাকে।

একই সঙ্গে এশিয়ার ৩৫ দশমিক ৬ এবং আফ্রিকার ৪ দশমিক ৯ শতাংশ দেশে নিজেদের বায়ুর মানমাত্রা আছে। একই সঙ্গে বায়ুর মান নিয়ন্ত্রণে কোনো বৈশ্বিক তহবিল নেই। কিন্তু এইচআইভি/এইডস, ম্যালেরিয়া ও যক্ষ্মা বিষয়ে বৈশ্বিক তহবিল রয়েছে। এসব তহবিল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বছরে ৪০০ কোটি ডলার সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে পুরো আফ্রিকা মহাদেশ বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বছরে মাত্র তিন লাখ ডলার পেয়েছে। ওই অর্থের জোগান আসছে মূলত বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থেকে। ওই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরিবারের বার্ষিক ব্যয়ের সমান। আর এশিয়ার দেশগুলোয় যাচ্ছে ১৪ লাখ ডলার। আর ক্লিন এয়ার ফান্ড থেকে চীন, ভারত, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা মিলে ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র নানা উদ্যোগের মাধ্যমে বায়ুর মানের উন্নতি করেছে। দেশটি ১৯৭০ সালের তুলনায় বায়ুর মান ৬৫ শতাংশ উন্নতি করেছে। তবে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা এক বছর চার মাস বেশি বাঁচে। এর কারণ, দেশটি নির্মল বায়ু আইন করেছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে ওই আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো গড়ে তুলেছে।

বায়ুর মানের দিক থেকে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছে ইউরোপের দেশগুলো। এখানকার অধিবাসীরা ১৯৯৮ সালের তুলনায় ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ ভালো বায়ুর মধ্যে বসবাস করছে। এখানকার বেশির ভাগ দেশ এয়ার কোয়ালিটি ফ্রেমওয়ার্ক ডিরেক্টিভ তৈরি করেছে। ওই আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো সেখানকার ৯৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ ডব্লিউএইচও-এর মানমাত্রার চেয়ে খারাপ বায়ুর মধ্যে বাস করে। তবে তারা ২০৩০ সালের মধ্যে বায়ুর মান ওই মানমাত্রায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে চীনের সাফল্য : চীনের উদাহরণ টেনে প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটি বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এ ক্ষেত্রে তারা উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। তারা ২০১৩ সালের তুলনায় ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ বায়ুদূষণ কমিয়েছে। এতে তাদের নাগরিকদের গড় আয়ু দুই বছর দুই মাস বেড়েছে। তবে এখনো চীনে বায়ুর মান ডব্লিউএইচও-এর বায়ুমানের তুলনায় ছয়গুণ বেশি। একই সঙ্গে তাদের গড় আয়ু আড়াই বছর কমে যাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ বাতাস মানমাত্রার চেয়ে খারাপ বা দূষিত




বিএসএমএমইউতে শিশু কিডনি রোগীদের জন্য নতুন আইসিইউ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেক্স: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) শিশু নেফ্রোলোজি বিভাগে দুই শয্যাবিশিষ্ট ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) উদ্বোধন করা হয়েছে। নতুন এই আইসিইউ দুটি চালুর ফলে শিশু কিডনি জটিল রোগীদের অন্য কোনো হাসপাতাল বা বিভাগে নেওয়ার প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি ব্লকের তৃতীয় তলায় শিশু নেফ্রোলজি বিভাগের ওয়ার্ডে এই নতুন আইসিইউর উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনের সময় নেফ্রোলজি বিভাগের এ আইসিইউর সফলতা কামনা করে দোয়া করা হয়। এসময় বক্তারা জানান, এ আইসিইউ দুটি চালুর ফলে শিশু কিডনি জটিল রোগীদের অন্য কোথাও নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। ওয়ার্ডে ভর্তি করা কিডনি রোগে আক্রান্ত শিশুদের এখানেই সেবা দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। এসময় তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন স্বাস্থ্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণায় নতুনত্ব আনার জন্য কাজ করছে। এসব কাজে নিত্যনতুন প্রযুক্তি ও সুবিধা সংযোগ করাই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিরা বর্তমানে এ হাসপাতালের সেবা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা এ হাসপাতালের সেবার মান বৃদ্ধির জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন চিকিৎসাসেবা সংশ্লিষ্টদের।

এসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান খান, শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. রনজিত রঞ্জন রায়, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান, হল প্রোভোস্ট অধ্যাপক ডা. এসএম মোস্তাফা জামান, শিশু নেফ্রোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আফরোজা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে মঙ্গলবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিটোম্যার্টানাল বিভাগে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে অধ্যাপক ডা. তাবাসুম পারভীনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।




ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৩২৭

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ ডেক্স: দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪৮ জনে।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ৩২৭ জন। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ৫১১ জনে।
রোববার (২৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ মো. জাহিদুল ইসলাম সই করা ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।




ডেঙ্গু রোগীপ্রতি গড়ে ব্যয় ৫০ হাজার টাকা : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ: দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীপ্রতি সরকারের গড়ে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর চিকিৎসা বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ডেঙ্গু চিকিৎসায় ব্যয় করেছে সরকার।

রোববার বিকেলে রাজধানীর শেরাটন হোটেলে ডেঙ্গু মোকাবিলায় করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের সরকারি হাসপাতালে ৭০ শতাংশ রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। আর বাকি ৩০ শতাংশ রোগী বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিয়েছেন। সাধারণত দুই ধরনের ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। অনেকের প্লাটিলেট ও আইসিইউ প্রয়োজন হয়। আবার অনেকে শুধু ওষুধেই সুস্থ হয়।




সৌদি আরবে বয়স্কদের ৬০ শতাংশই স্থূলতায় ভুগছে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেক্স:  সৌদি আরবে বয়স্কদের মধ্যে ৬০ শতাংশই অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা সমস্যায় ভুগছে। দেশটির এক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর গাল্ফ নিউজের।

ডক্টর আবদুল রহমান আল কাহতানি বলেন, দেশটির প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে তিনজনেরই অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলকায়। ১০ বছরের গবেষণার পর সৌদি স্বাস্থ্য কাউন্সিলের সঙ্গে সমন্বয় করে এই তথ্য প্রকাশ করে।

সৌদি টেলিভিশন আল আখবারিয়াকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, এই পরিসংখ্যান খুবই উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার কারণে অন্যান্য রোগের প্রকোপ বাড়ছে, যা স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

স্থূলতার অর্থনৈতিক প্রভাব তুলে ধরে ড. আল কাহতানি বলেছেন, এ বিষয়ে ২০১৯ সালে খরচ হয়েছে ৭২ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল। ২০২৩ সারে স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে পাবলিক বাজেটের ৩৮ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য সচেতনতা বিশেষজ্ঞ উচ্চ-ক্যালোরি ও চর্বিযুক্ত খাবার সহ অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার জন্য স্থূলতাকে দায়ী করেছেন।




বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ ছাত্রী নিবাসের ব্যবস্থাপনা কমিটি বিলুপ্ত

বরিশাল অফিস: বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ ছাত্রী নিবাসের ব্যবস্থাপনা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। আবাসিক ছাত্রীদের নিয়ে গঠিত ওই কমিটি শনিবার বিকেলে বিলুপ্ত করা হয়েছে বলে উপাধ্যক্ষ ডা. জিএম নাজিমুল হক জানিয়েছেন। তিনি জানান, ছাত্রী নিবাসে কোন র‌্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটেনি। ছাত্রী নিবাসের একটি কক্ষে তিন ছাত্রীর মধ্যে একটু দ্বন্ধ হয়।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একটু ঝামেলা হয়েছিলো। এক পক্ষ ছাত্রী নিবাসের ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে বিচার দেয়। ব্যবস্থাপনা কমিটির বিচার করায় একজন ক্ষুদ্ধ হয়। তাই সে ক্ষুদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

উপাধ্যক্ষ আরো বলেন, ব্যবস্থাপনা কমিটির বিচার করার কোন এখতিয়ার নেই। তাই তাদের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এছাড়াও ছাত্রী নিবাসের আবাসিক ছাত্রীদের তাদের কক্ষের রদবদল করা হবে।

তিনি আরো জানান, অধ্যক্ষ ডা. ফয়জুল বাশার সকল শিক্ষার্থীদের হলে শান্তিপূর্ন অবস্থান করার নির্দেশনা দিয়েছেন। কেউ ভবিষ্যতে ঝামেলা করলে কিংবা শান্তিপূর্ন পরিবেশ নষ্ট করলে একাডেমিকভাবে কঠোর শাস্তি দেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছেন অধ্যক্ষ।

এদিকে র‌্যাগিংয়ের শিকার ওই ছাত্রী অভিযোগ করেন, বেশ কয়েক দিন ধরেই ছাত্রলীগের নেত্রী পরিচয় দেওয়া ওই ছাত্রীরা তাঁকে এবং তাঁর রুমমেটকে নানাভাবে গালাগাল দিয়ে মানসিক নির্যাতন করে আসছেন। এতে ভীতসন্ত্রস্ত ছিলেন তাঁরা। তাঁদের সঙ্গে যেন এ ধরনের আচরণ না করা হয়, সে জন্য নেতৃত্ব দেওয়া ওই ছাত্রীদের একজন সহপাঠীকে দিয়ে অনুরোধ করান তাঁরা। কিন্তু এতে অভিযুক্তরা ক্ষেপে যান। এর জেরে বুধবার রাত ১১টার দিকে নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী ও তাঁর রুমমেটকে হলের ৬০৬ নম্বর কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়।

এরপর তাঁদের দুজনকে দাঁড় করিয়ে অভিযুক্তদের সহপাঠীর কাছে কেন ‘নালিশ করা হয়েছে’, এ জন্য কৈফিয়ত চান এবং অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন। একপর্যায়ে তাঁদের মুঠোফোন নিয়ে তা তল্লাশি করার জন্য কয়েকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আধা ঘণ্টা নানাভাবে শাসিয়ে দুই ছাত্রীকে তাঁদের কক্ষে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কক্ষে ফিরে ভীতসন্ত্রস্ত এক ছাত্রী বিষয়টি অভিযুক্তদের ওই সহপাঠীকে জানালে তিনি ফোন করে ছাত্রলীগ পরিচয় দেওয়া নেত্রীদের কাছে উষ্মা প্রকাশ করেন। এরপর ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে আবার ডাকা হয়।

নির্যাতনের শিকার দুই ছাত্রীকে কলেজ প্রশাসন থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, “‘তোমরা চিকিৎসা চাও, নাকি বিচার চাও? যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে তোমাদের। বিচার চাইলে তোমাদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।” আমরা বলেছি, আমরা দুটোই চাই। নির্যাতনকারী ছাত্রীদের পক্ষে যায়, এমন প্রস্তাব কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসায় আমরা বিস্মিত হয়েছি।

র‌্যাগিংয়ের শিকার ছাত্রী আরও বলেন, রাত ১২টার দিকে দ্বিতীয় দফায় ডেকে নিয়ে দুই ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখে আবারও গালাগাল করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয় তাঁকে। এ সময় ওই ছাত্রী কান্নাকাটি করেন এবং তিনি অসুস্থতার কথা জানিয়ে তাঁকে বসতে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তবে তাঁকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে পুনরায় তল্লাশি করা হয়। দুই ঘণ্টা ধরে এভাবে মানসিক নির্যাতনে ওই ছাত্রী অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে কক্ষে পাঠানো হয়। এর পরপরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে গভীর রাতে তাঁকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে পড়া ছাত্রীর মা বলেন, এ ঘটনায় গতকাল দুপুর ১২টার দিকে কলেজ প্রশাসন তাঁর মেয়ে ও অন্য এক ছাত্রীকে ডেকে ঘটনা সম্পর্কে তাঁদের বক্তব্য নেয়। প্রশাসন তাঁর মেয়েকে মানসিক রোগের চিকিৎসকের কাছে পাঠায়। ওই ছাত্রীর মা অভিযোগ করেন, নির্যাতনের শিকার দুই ছাত্রীকে কলেজ প্রশাসন থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, “‘তোমরা চিকিৎসা চাও, নাকি বিচার চাও? যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে তোমাদের। বিচার চাইলে তোমাদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।” আমরা বলেছি, আমরা দুটোই চাই। নির্যাতনকারী ছাত্রীদের পক্ষে যায়, এমন প্রস্তাব কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসায় আমরা বিস্মিত হয়েছি।’

নির্যাতনের শিকার ছাত্রীর মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখন আমার মেয়েকে মানসিক ভারসাম্যহীন প্রমাণ করার চেষ্টা করছে তারা। কলেজ প্রশাসন যখন দুই ছাত্রীর বক্তব্য নিচ্ছিল, নির্যাতনকারীরা তখন বাইরে অবস্থান নিয়ে হাসাহাসি করছিল। কলেজ প্রশাসনের এমন আচরণে আমরা হতাশ হয়েছি। মেয়ের নিরাপত্তা নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন।’

অভিযোগ সম্পর্কে ছাত্রী জুই বলেন, এটা মিথ্যা অভিযোগ। এ বিষয় নিয়ে কথা বলার মতো মানষিক অবস্থা আমার নেই।




মস্তিষ্কে টিউমার হয়েছে কিনা বুঝবেন যে লক্ষণ দেখে

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : মাথাব্যথায় অনেকেই ভুগে থাকেন। এর পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। তবে মস্তিষ্কে টিউমারের প্রধান একটি উপসর্গ হলো মাথা যন্ত্রণা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ মস্তিষ্কের টিউমারে আক্রান্ত হন। তাই মাথা যন্ত্রণার সমস্যা এড়িয়ে না গিয়ে বরং কেন হচ্ছে, তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা জরুরি। কিন্তু মাথাব্যথা হচ্ছে মানেই তার টিউমার, তা নয়। টিউমারের কারণেই যদি মাথা যন্ত্রণা হয়ে থাকে, তা সহ্যের সীমা ছাড়াবে তো বটেই। সেই সঙ্গে আরও বেশ কিছু উপসর্গ দেখা দেবে। যে উপসর্গগুলো দেখা দিলে তড়িঘড়ি চিকিৎসকের কাছে ছুটতে হবে─

১)  টিউমারের ক্ষেত্রে মাথাব্যথার ধরনটা অন্য রকম হয়। এ ক্ষেত্রে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তীব্র মাথার যন্ত্রণা করে। তাই প্রায়ই যদি সকালের দিকে মাথা যন্ত্রণা শুরু করে, তা হলে ফেলে রাখা ঠিক হবে না।

২) শরীরে জ্বর নেই, তবুও কাঁপুনি শুরু হতে পারে। কিছুক্ষণ পর আপনা থেকেই কমে যায়। মাথাব্যথার সঙ্গে সারাক্ষণ বমি বমি ভাব হয়। মস্তিষ্কে টিউমারের আরও একটি অন্যতম লক্ষণ এটি।

৩) সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনার কথা বেমালুম ভুলে যাওয়া। ব্যস্ততা, মানসিক চাপ, নানা কারণে অনেক সময় ভুলে যাওয়ার সমস্যা হয়। তবে মাঝেমাঝেই যদি ভুলে যান, তা হলে এক বার চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারলে ভালো।

৪) ৪) রাতভর ঘুমানোর পরেও সারা দিন ঘুম ঘুম ভাব থাকে, ঘুম পাওয়া টিউমারের অন্যতম একটি লক্ষণ। অনেক সময়ে কাজ করতে একেবারেই ভালো লাগে না। আলস্য ঘিরে ধরে। মাথাব্যথার সঙ্গে যদি ক্লান্তিও থাকে, তা হলে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।