বিদেশি জাহাজের ধাক্কায় বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবে, ১৩ জেলে উদ্ধার

বঙ্গোপসাগরের গভীরে ‘মায়ের দোয়া’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার বিদেশি জাহাজের ধাক্কায় ডুবে গেছে। প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন ট্রলারে থাকা ১৩ জেলে। সোমবার (৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ডুবুরে উদ্ধার হওয়া জেলেরা পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার ঢেপসাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে সমুদ্রে ভেসে থাকা অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে অপর একটি মাছ ধরার ট্রলার। পরে তাদের উপকূলে এনে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ট্রলার মালিক হেলাল মৃধা জানান, গত শুক্রবার (১ আগস্ট) সকালে মাঝি শাহাজাহান হাওলাদার ট্রলারটি নিয়ে ১৩ জন জেলেকে সঙ্গে নিয়ে ডুবলার চর এলাকায় মাছ ধরতে পাঠান। সোমবার বিকেলে ডুবলার চর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার গভীরে জাল ফেলার পরই একটি বিদেশি জাহাজ এসে ট্রলারটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

তিনি বলেন, “জাহাজের ধাক্কায় ট্রলারটি উল্টে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গেই ডুবে যায়। তবু জেলেরা বাঁশ ও ফ্লোট ধরে ভেসে থাকার চেষ্টা করে। ভাগ্য ভালো, একটি ট্রলার তাদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে।” ইন্দুরকানী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফাহাদ হোসেন জানান, “উদ্ধার হওয়া জেলেদের খোঁজ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা সবাই নিরাপদ ও সুস্থ রয়েছে। ট্রলার ডুবির ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

টানা ২২ ঘণ্টা সাগরে ভেসে থাকার পর জীবিত ফিরে আসায় জেলেদের পরিবার ও গ্রামজুড়ে স্বস্তির পাশাপাশি গভীর সমুদ্রে নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, বিদেশি জাহাজের চলাচল নির্দিষ্ট নিয়ম না মানলে এমন দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





শোভাযাত্রা শেষে ফেরার পথে বাসচাপায় ইসলামী আন্দোলনের নেতা নিহত, বিক্ষোভে উত্তাল সড়ক

বরগুনার আমতলীতে গণ-অভ্যুত্থান দিবসের শোভাযাত্রা ও সমাবেশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বাসচাপায় রেজাউল করিম (৪০) নামের ইসলামী আন্দোলনের এক স্থানীয় নেতা নিহত হয়েছেন। একই দুর্ঘটনায় আবদুল হক নামের আরও একজন আহত হন।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের ঘটখালী গ্যাসপাম্প–সংলগ্ন এলাকায়। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত স্থানীয়রা ও দলীয় নেতা-কর্মীরা মরদেহ নিয়ে সড়ক অবরোধ করলে মহাসড়কে প্রায় পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বাস আটক হওয়ার খবরে রাত ৯টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

নিহত রেজাউল করিম আমতলী উপজেলার ডালাচারা এলাকার বাসিন্দা। তিনি আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গুলিশাখালী ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসলামী আন্দোলনের আমতলী শাখার আয়োজনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ দিবসের কর্মসূচি শেষ করে সন্ধ্যার দিকে রেজাউল করিম আবদুল হককে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা কুয়াকাটাগামী ছন্দা পরিবহনের একটি বাস তাদের বহনকারী মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই রেজাউল করিম প্রাণ হারান এবং আবদুল হক গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে দলীয় নেতা-কর্মীরা মরদেহ নিয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে যান চলাচল। এতে উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট দেখা দেয়। পরে বাস ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের মহিপুর থানায় আটক করা হয়েছে—এমন খবর পাওয়ার পর রাত পৌনে ৯টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

ইসলামী আন্দোলনের আমতলী উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা ওমর ফারুক জেহাদী বলেন,
“আমরা এ দুর্ঘটনার বিচার চাই। ঘাতক চালককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, এটি দায়িত্বহীনতার জঘন্য উদাহরণ।”

এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানান,
“ঘটনার পর বাসটি আটক করা হয়েছে। চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে রেজাউলের মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় এলাকাজুড়ে। দলীয় নেতাকর্মী ও সহপাঠীরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও ন্যায়বিচারের আহ্বান জানিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গৌরনদীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খালে, আহত ১০

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের দোকানঘর ভেঙে খালের মধ্যে উল্টে পড়েছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।

এর মধ্যে গুরুতর আহত চারজনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (৪ আগস্ট) ভোর ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।


গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুর রহমান জানান, ময়মনসিংহ থেকে বরিশালগামী শামিম এন্টারপ্রাইজ (ময়মনসিংহ ব-১৫-০১৭৮) নামের বাসটি বেপরোয়াভাবে চলার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে থাকা দোকানঘর ভেঙে পাশের খালে পড়ে যায়।

খবর পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। বাসটি উদ্ধারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি আমিনুর রহমান।

এ দুর্ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে যানবাহনের গতিরোধক বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এমন দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




প্রবল বর্ষণে ধ্বসে পড়লো দুই সড়ক, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

টানা বৃষ্টিতে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ধ্বস দেখা দিয়েছে। সৃষ্ট বিশাল গর্ত ও ভাঙনের কারণে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে করে হাজারো যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।

সড়ক ধ্বসের দুটি পয়েন্ট:

  • গৌরনদী-সরিকল সড়ক (মোল্লার খালপাড় এলাকা)

  • গৌরনদী হ্যালিপ্যাড সড়ক

গত ২ আগস্ট দিবাগত রাতে নলচিড়া ইউনিয়নের মোল্লার খালপাড় এলাকায় গৌরনদী-সরিকল সড়ক ধ্বসে বিশাল গর্ত তৈরি হয়। এ গর্তের কারণে ওই পথে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে, গৌরনদী উপজেলার হ্যালিপ্যাড সড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য বিশালাকার গর্ত তৈরি হওয়ায় সড়কটি এখন পায়ে হেঁটে চলার জন্যও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

ইজিবাইক চালক জসিম সরদার বলেন,
“সড়ক ধ্বসের ফলে শতাধিক চালকের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে।”

পিকআপ চালক রবিউল শরীফ জানান,
“টরকী বন্দর থেকে মালামাল নিয়ে এসে গর্তে আটকা পড়েছি। সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে পারছি না।”

গৌরনদী উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. অহিদুর রহমান বলেন,
“একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক সড়কের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় ধ্বস নামে। খবর পেয়ে এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক রিফাত আর মৌরি বলেন,
“হ্যালিপ্যাড সড়কটি বর্ষা শেষে পূর্ণাঙ্গভাবে সংস্কার করা হবে। দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়া শুরু করা হবে শিগগিরই।”

ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও যাত্রীরা দ্রুত উভয় সড়কের মেরামত ও যান চলাচল স্বাভাবিক করার জোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও উঠেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





সুন্দরবন স্কয়ারে ভয়াবহ আগুন, ১১টি ইউনিট কাজ করছে নিয়ন্ত্রণে

রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের পঞ্চম তলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট কাজ করছে, তবে এখনও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ১১টি ইউনিট পৌঁছেছে। আগুন পঞ্চম তলায় লাগলেও, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় বহু দোকানদার ও কর্মচারী আটকে রয়েছেন। তাদের দ্রুত নিচে নামতে বারবার মাইকিং করা হলেও তারা নির্দেশ উপেক্ষা করছেন, যা তাদের জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

দোলন বলেন, “আমরা বারবার মাইকিং করছি, তাদের নিচে নামার অনুরোধ করছি। সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরাও একইভাবে চেষ্টা করছেন। কিন্তু কেউ কথা শুনছে না। ধারণা করছি, এসব কর্মচারীরা ভবনের ভেতরে থাকা দোকানগুলোর স্টাফ, যারা হয়তো সেখানেই থাকেন বা কাজ করেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।”

ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও মোতায়েন রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের আরেক কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বলেন, “সকাল ১০টায় আমাদের কাছে আগুন লাগার খবর আসে। এরপর একে একে ১১টি ইউনিট সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এখনো আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এছাড়া এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।”

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে ভবনের ওপরের তলাগুলোতে উপস্থিত মানুষের অব্যাহত অবাধ্যতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার আপডেট জানার জন্য সর্বসাধারণকে সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।




পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, কালাইয়ায় শোকের ছায়া

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় মো. রাফসান (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাফসান ওই এলাকার বাসিন্দা মো. সুমন ও ফারজানা বেগম দম্পতির ছেলে। তার বাবা-মা ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত থাকায় সে নানাবাড়িতেই থাকত।

পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিশু রাফসান বাড়ির উঠানে খেলছিল। দীর্ঘ সময় তার কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে ভাসমান অবস্থায় রাফসানকে দেখতে পান স্থানীয়রা। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে কালাইয়া বাজারের শাহেদা গফুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশুটি মৃত্যুবরণ করে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ধারণা, খেলতে খেলতে পুকুর পাড়ে গিয়েছিল রাফসান। কোনোভাবে পা পিছলে সে পানিতে পড়ে যায় এবং সাঁতার না জানার কারণে ডুবে যায়। এমন আকস্মিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শিশুটির মৃত্যুতে প্রতিবেশীরা ভেঙে পড়েছেন এবং পরিবারটি শোকসন্তপ্ত অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হাওলাদার। তিনি বলেন, “এই শিশুর করুণ মৃত্যু আমাদের সবাইকে নাড়া দিয়েছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।”

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, “কালাইয়া ইউনিয়নে শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।”

পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর মতো ঘটনা বাংলাদেশে বারবার ঘটছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে ও গ্রামীণ এলাকায় পুকুর, ডোবা কিংবা খাল-বিলের পাশে শিশুদের যথাযথ তত্ত্বাবধানের অভাবে এমন ঘটনা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুরা খেলাধুলা করার সময় তাদের প্রতি বাড়তি নজরদারি ও সচেতনতা জরুরি।

একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণহানির ঘটনা যেমন পরিবারকে চিরতরে শোকাহত করে তুলেছে, তেমনি এটি সমাজের জন্যও সতর্কবার্তা। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজপতিদের এগিয়ে আসা দরকার।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরগুনায় ডেঙ্গুতে দুই নারীর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৩৯

বরগুনায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন—সাবেক ইউপি সদস্য পারভীন বেগম (৫০) ও গৃহবধূ লাকী বেগম (৪০)। দুজনের অবস্থাই গত দুইদিন আগে গুরুতর হওয়ায় দ্রুত বরগুনা থেকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে দুজনেরই মৃত্যু হয়।

এই দুই মৃত্যুর মাধ্যমে বরগুনা জেলায় ডেঙ্গুতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বরগুনায় এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৯০৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৪২ জন।

বর্তমানে জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১৬২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এরমধ্যে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১১৪ জন রোগী।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সচেতনতা ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলেও জানান তারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মাইলস্টোন ট্রাজেডি: মালদ্বীপে বাংলাদেশ দূতাবাসে শোকবইয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাক্ষর

ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজসংলগ্ন এলাকায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় মালদ্বীপে বাংলাদেশ দূতাবাসে খোলা শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল্লাহ খালিল।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দূতাবাসে উপস্থিত হয়ে তিনি শোকবইতে স্বাক্ষর করেন এবং এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় লেখেন, “এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবার-পরিজনের প্রতি আমাদের সহানুভূতি রইল।”

শোকবইটিতে এরই মধ্যে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর প্রতিনিধি এবং মালদ্বীপে অবস্থানরত জাপান, চীন, সৌদি আরব ও শ্রীলঙ্কার কূটনীতিকরাও স্বাক্ষর করেছেন।

বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মো. সোহেল পারভেজ জানান, শোকবইটি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মালদ্বীপে বসবাসরত যে কেউ স্বাক্ষরের মাধ্যমে শোক ও সহানুভূতি জানাতে পারবেন।

দূতাবাসের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, প্রবাসী সাংবাদিক, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও ইতোমধ্যে শোকবইতে স্বাক্ষর করেছেন।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ঢাকার উত্তরা এলাকায় একটি সামরিক প্রশিক্ষণ বিমানের দুর্ঘটনায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটে, যা দেশের ভেতর ও বাইরে ব্যাপকভাবে শোকের ছায়া ফেলেছে।




কুয়াকাটা সৈকত থেকে জেলের লাশ উদ্ধার

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোজ ৫ জেলের মধ্যে নজরুল ইসলাম (৬০) নামের এক জেলের লাশ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ।

শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টায় সৈকতের মিরা পয়েন্ট থেকে ওই জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিকাশ মন্ডল। এখনো ৪ জেলের কোন সন্ধান মেলেনি।

নৌ পুলিশ জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে লাশের খবর পেয়ে সৈকত থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। এরমধ্যে মীরাবাড়ি পয়েন্টে কালো রংয়ের রেইনকোট পরিহিত ব্যক্তির পরিচয় তার ছেলে সনাক্ত করেছে। এছাড়া গঙ্গামতি এলাকায় একটি লাশ ভেসে আসার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠালেও সেখানে কোন লাশের সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকৃত লাশটি মহিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ জুলাই বঙ্গোপসাগরের শেষ বয়ার ৭৫ কিলোমিটার গভীরে ১৫ জেলে সহ এফবি সাগরকন্যা নামের একটি মাছধরা ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। সমুদ্রে ৪ দিন ভেসে থাকার পর ১০ জেলেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পাঁচ জেলে নিখোঁজ ছিলেন। তাদের মধ্যে আজ সকালে নজরুল ইসলাম এর লাশ পাওয়া গেছে।

আল-আমিন



ভোলায় নিউমোনিয়ার হানা, শিশু ওয়ার্ডে তীব্র সংকট

ভোলায় হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে নিউমোনিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। বর্ষার সময়কালে তীব্র আবহাওয়ার প্রভাবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। এর ফলে ভোলা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। দেখা দিয়েছে বেড ও ওষুধের সংকট। অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে সন্তানদের মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা করাচ্ছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডের প্রতিটি বেডে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছে দুই থেকে তিনজন শিশু। ওয়ার্ডের আশপাশের মেঝেতেও অন্তত অর্ধশতাধিক শিশু চিকিৎসাধীন। এরা বেশিরভাগই নিউমোনিয়া, ঠান্ডা ও জ্বরে আক্রান্ত।

শিশু রোগীর অভিভাবক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “বেড না পেয়ে আমার সন্তানকে একদিন মেঝেতে রেখে চিকিৎসা করাতে হয়েছে। পরদিন একটা বেড পেলেও সেখানে অন্য এক শিশুর সাথেই রাখতে হচ্ছে।”

এমন অভিজ্ঞতা জানিয়ে আরেক অভিভাবক জান্নাত বেগম বলেন, “হাসপাতালে বেড না থাকায় অন্য শিশুর সঙ্গে বেড শেয়ার করতে হচ্ছে। চিকিৎসার এই অবস্থা কষ্টদায়ক।”

রোগীর স্বজন মো. ফরিদ বলেন, “ডাক্তার দিনে একবার আসেন। নার্সদের ডাকলেও পাওয়া যায় না। আমাদেরই গিয়ে ধরে আনতে হয়।”

আরেক শিশু রোগীর মা তানিয়া আক্তার ও বাবা মো. জাকীর হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ, ইনজেকশন বা ক্যানুলা দেওয়া হয়নি। সবকিছু বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়েছে।”

এই সংকট নিয়ে কথা বলেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ সুফিয়ান রুস্তম। তিনি জানান, “আবহাওয়াজনিত কারণে নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে রোগী বেশি হওয়ায় বেড সংকট হচ্ছে। এছাড়া ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর কিছুটা সংকট রয়েছে, যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫